অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
২০২৬ সালের ১ নভেম্বর রবিবার সারল্যান্ডহালেতে ফাইনালে লক্ষ্য সেন ইন্দোনেশিয়ার জোনাতান ক্রিস্টিকে ২১-১৭ ২১-১০ গেমে আর পি. ভি. সিন্ধু ডেনমার্কের লিন কিয়ার্সফেল্টকে ২১-১২ ২১-১৪ গেমে হারিয়েছেন। সুপার ৫০০ প্রতিযোগিতার দুটি এককের মুকুটই গেছে ভারতে। বিডব্লিউএফের পডিয়াম পাতায় দুই বিজয়ীর প্রত্যেকে পেয়েছেন ৯,২০০ র্যাংকিং পয়েন্ট।
লক্ষ্য সেন ও পি. ভি. সিন্ধু ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর রবিবার জার্মানির সারব্রুকেনে হাইলো ওপেনে নিজেদের এককের ফাইনাল জিতেছেন। সপ্তম বাছাই সেন হারিয়েছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন ও চতুর্থ বাছাই ইন্দোনেশিয়ার জোনাতান ক্রিস্টিকে, ২১-১৭ ২১-১০। দ্বিতীয় বাছাই সিন্ধু (বিডব্লিউএফ তাঁকে লেখে পুসারলা ভি. সিন্ধু) হারিয়েছেন ডেনমার্কের অষ্টম বাছাই লিন কিয়ার্সফেল্টকে, ২১-১২ ২১-১৪। বিডব্লিউএফের ম্যাচ-তথ্য অনুসারে দুটি ফাইনালই ৩৯ মিনিটের।
সুপার ৫০০ হল প্রতিযোগিতাটির জন্য বিশ্ব ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের (বিডব্লিউএফ) মান, যার পুরস্কারমূল্য ৫,০০,০০০ মার্কিন ডলার। বিডব্লিউএফের পডিয়াম পাতায় প্রত্যেক বিজয়ী পেয়েছেন ৯,২০০ র্যাংকিং পয়েন্ট আর প্রত্যেক রানার-আপ ৭,৮০০। অল ইন্ডিয়া রেডিওর সংবাদ বিভাগ আকাশবাণী নিউজও জানিয়েছে, ভারত এককের দুটি মুকুটই জিতেছে।
সিন্ধু পাঁচটি ম্যাচ জিতেছেন একটি গেমও না হেরে
বিডব্লিউএফের দিনভিত্তিক ফলাফল থেকে নেওয়া তাঁর পথ গেছে পাঁচ রাউন্ড ধরে। ২৮ অক্টোবর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রকৃতি ভরতকে হারিয়েছেন ২১-১০ ২১-১০ গেমে ২৮ মিনিটে, তারপর ২৯ অক্টোবর রোজি অক্তাভিয়া পাঞ্চসারিকে ২১-৯ ২১-৬ গেমে ২৬ মিনিটে। ৩০ অক্টোবর তিনি হারিয়েছেন ডেনমার্কের আমালি শুলৎসকে ২১-১২ ২১-১০, যে জয়কে বিডব্লিউএফের প্রতিবেদন বলেছে স্বচ্ছন্দ। ৩১ অক্টোবর সেমিফাইনালে সতীর্থ ভারতীয় অনমোল খরবের বিপক্ষে ফল ২১-১৩ ২১-১৬, ৩৮ মিনিটে। ফাইনালে লেগেছে ৩৯, আর বিডব্লিউএফের নথিভুক্ত পাঁচটি সময় যোগ করলে সপ্তাহটির জন্য দাঁড়ায় ১৫৯ মিনিট, মানে ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।
এক সপ্তাহ আগে, ২৫ অক্টোবর প্যারিসে ফ্রেঞ্চ ওপেনে, তিনি বিশ্বের এক নম্বর আন সে ইয়ংয়ের বিপক্ষে প্রথম গেম জিতেছিলেন আর হেরেছিলেন ১৬-২১ ২১-১১ ২১-১২। বিডব্লিউএফ বলছে, সারব্রুকেন ছিল ২০২৬ সালে তাঁর তৃতীয় ফাইনাল, আর জাপান ওপেনের পর প্রথম শিরোপা, যা তিনি জিতেছিলেন ১৯ জুলাই আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭ ২১-১৭ গেমে হারিয়ে। তাঁর এ মরশুমের কথা আছে tuput-এর সিন্ধুর প্রোফাইলে।
“কিছু দিন থাকে যখন তুমি একদম নিচে, কিন্তু দল আছে তোমাকে চাঙ্গা করতে,” বিডব্লিউএফের প্রতিবেদনে বলেছেন সিন্ধু।
হলটি তাঁর চেনা মাঠ। আয়োজকদের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে তিনি সেখানে কয়েক সপ্তাহ অনুশীলন করেছিলেন, আর তাঁদের বলেছেন ফিরে এসে ভালো লাগছে।
একটি সুপার ৫০০ শিরোপা, আর একটি তারিখ যা যাচাই করার মতো
বিডব্লিউএফের জাপান ওপেন প্রতিবেদন তাঁর আগের সুপার ৫০০ শিরোপা বসিয়েছে ২০২২ সালের মে মাসের সিঙ্গাপুর ওপেনে। দ্য প্রিন্টে ছাপা এএনআইয়ের ম্যাচ প্রতিবেদন ওই ফাইনালকে তারিখ দিয়েছে ২০২২ সালের ১৭ জুলাই, যেদিন তিনি চীনের ওয়াং ঝি ঈকে হারিয়েছিলেন ২১-৯ ১১-২১ ২১-১৫ গেমে। মাস নিয়ে বিবরণ মেলে না। বিডব্লিউএফ যদি ঠিক হয় যে সারব্রুকেনের আগে সিঙ্গাপুরই ছিল তাঁর শেষ সুপার ৫০০ জয়, তাহলে হাইলো ওপেন ওই স্তরে চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে তাঁর প্রথম। মাঝের জাপান ওপেনের জয় ছিল সুপার ৭৫০ স্তরের।
সেন তিনবার এক গেম পিছিয়ে থেকে জিতেছেন
বিশ্বের ১৪ নম্বর সেন তাঁর শেষ ছয়টি টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিলেন, বিডব্লিউএফের প্রতিবেদন বলছে, আর তাঁর আগের ফাইনাল ছিল মার্চের অল ইংল্যান্ড। ৮ মার্চ সেই ফাইনালে তিনি চীনা তাইপের লিন চুন-ইয়ির কাছে হেরেছিলেন ২১-১৫ ২২-২০, দ্য ট্রিবিউনে এএনআইয়ের মতে। ২০২২ সালের পর এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় অল ইংল্যান্ড ফাইনাল; প্রকাশ পাডুকোন শিরোপা জিতেছিলেন ১৯৮০ সালে। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ছিল তাঁর সর্বশেষ শিরোপা, জাপানের ইউশি তানাকাকে ৩৮ মিনিটে ২১-১৫ ২১-১১ গেমে হারিয়ে।
২৮ অক্টোবর সারব্রুকেনে তাঁর প্রথম ম্যাচ গেছে তিন গেমে: ফিনল্যান্ডের জোয়াকিম ওল্ডর্ফ প্রথম গেম নিয়েছিলেন, আর সেন জিতেছেন ১৬-২১ ২১-৯ ২১-১৩ গেমে ৬১ মিনিটে। ২৯ অক্টোবর শেষ ষোলোর ম্যাচ ছিল পুরোটাই ভারতীয়দের, আর তিনি কিরণ জর্জকে হারিয়েছেন ২১-১৫ ১৮-২১ ২১-১২। ৩০ অক্টোবর কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম গেম জিতেছেন ফিনল্যান্ডের কালে কোলজোনেন, আর সেন পরের দুটি নিয়েছেন, ১৪-২১ ২১-১৭ ২১-১৩ গেমে ৬৬ মিনিটে। এতে তিনি অল ইংল্যান্ডের পর তাঁর প্রথম সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন, যেমন ৩১ অক্টোবরের বিডব্লিউএফ প্রতিবেদনে বলা আছে।
৩১ অক্টোবরের সেমিফাইনাল ছিল ছোট: ফ্রান্সের ষষ্ঠ বাছাই তোমা জুনিয়র পপভ হেরেছেন ২১-১৭ ২১-১৩ গেমে ৪১ মিনিটে। ফাইনালে, বিডব্লিউএফ বলছে, প্রথম গেমে তিনি ক্রিস্টির বিপক্ষে ১৮-১০ এগিয়ে ছিলেন, ইন্দোনেশীয় খেলোয়াড়কে টানা সাত পয়েন্ট জিততে দেখেছেন, এবং সময়মতো সামলে নিয়ে গেমটি নিয়েছেন ২১-১৭। দ্বিতীয় গেম সেন নিয়েছেন ২১-১০।
বিডব্লিউএফের হিসাবে পাঁচটি ম্যাচে সেনের লেগেছে ২৬১ মিনিট, মানে ৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট। “অনেক দিন হয়ে গেল কোনো টুর্নামেন্ট জিতিনি, তাই এত ভালো খেলতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে,” বলেছেন সেন। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম থমাস কাপ জেতা দলের অংশ, ২০২২ সালে ব্যাংককে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে, আর এটি ছিল ২০২৬ সালে তাঁর প্রথম শিরোপা।
শেষ আটে তিনজন ভারতীয় নারী
শেষ আটের তিনটি জায়গা ভরেছিলেন ভারতীয় নারীরা। বিডব্লিউএফের গণনায় বিশ্বের ৫৩ নম্বর খরব কোয়ার্টার ফাইনালে স্বদেশী ও ষষ্ঠ বাছাই উন্নতি হুডাকে হারিয়েছেন ২১-১৭ ১৮-২১ ২১-১৬ গেমে ৬৮ মিনিটে, বিডব্লিউএফ ৩১ অক্টোবর জানিয়েছে। তার আগের রাউন্ডে, ম্যাচ-তথ্য দেখায় তিনি প্রথম গেম হেরেছিলেন ১১-২১ এবং তারপর তৃতীয় বাছাই ডেনমার্কের লিন ক্রিস্টোফারসেনকে হারিয়েছেন ২১-১৮ ২৫-২৩ গেমে। তিনজন ছিলেন সিন্ধু, খরব ও হুডা, আর খরব শেষে সেমিফাইনালে সিন্ধুর মুখোমুখি হয়েছেন।
“প্রথম”গুলো নিয়ে নথি কী বলে
আকাশবাণী নিউজ জানিয়েছে সিন্ধু হাইলো ওপেনের মহিলা এককে শিরোপা জেতা প্রথম ভারতীয় নারী হয়েছেন, আর সেন হয়েছেন প্রতিযোগিতাটিতে দুটি শিরোপা জেতা প্রথম ভারতীয়। দুটি দাবির কোনোটিই বিডব্লিউএফের প্রতিবেদনে নেই, তাই দুটিকেই আয়োজকদের চ্যাম্পিয়নদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, যা ১৯৯৮ থেকে ২০২৫ সাল ধরে।
ওই তালিকাগুলোর মহিলা এককের কলামে কোনো ভারতীয় বিজয়ীর নাম নেই। কোথাও মোট সাতটি ভারতীয় নাম আছে, প্রতিটি একবার করে (পাতাগুলোতে দুটি জাতীয়তা ভুল ছাপা, তাই গণনা চলেছে নাম ধরে): চেতন আনন্দ (পুরুষ একক, ২০০৮), দিজু ভালিয়াভীটিল ও জ্বালা গুট্টা (মিশ্র ডাবলস, ২০০৮), রূপেশ কুমার ও সনাভে থমাস (পুরুষ ডাবলস, ২০০৯), শুভঙ্কর দে (পুরুষ একক, ২০১৮) এবং সেন (পুরুষ একক, ২০১৯)। ওই ২৮টি আসরে কোনো ভারতীয় নারী এককে জেতেননি, আর সেন এখন একমাত্র ভারতীয় নাম যা দুবার আছে, যা ওই সময়ের জন্য আকাশবাণীর প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলে। আগের আসরগুলো তালিকায় নেই, তাই সেগুলোর জন্য দাবিগুলো অযাচাইকৃত।
সেনের প্রথম জয় এসেছিল ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর, যখন প্রতিযোগিতাটির নাম ছিল সারলরলাক্স ওপেন আর মান সুপার ১০০। ১৮ বছর বয়সে অষ্টম বাছাই হিসেবে তিনি চীনের ওয়েং হং ইয়াংকে হারিয়েছেন ১৭-২১ ২১-১৮ ২১-১৬ গেমে ৫৯ মিনিটে, স্ক্রল ও দ্য ট্রিবিউনে পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে।
ইওসু ভিক্টর কোরিয়া ওপেন, আরেকটি সুপার ৫০০ আসর, বিডব্লিউএফের টুর্নামেন্ট পাতা অনুসারে জিন্নাম স্টেডিয়ামে ২০২৬ সালের ৩ থেকে ৮ নভেম্বর চলবে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- BWF: HYLO Open: Lakshya Sen Regains Winning Touch (2 November 2026)
- BWF: HYLO Open: Kjaersfeldt Prevails in Sensational Semifinal (1 November 2026)
- BWF: HYLO Open: Hoo, Lai's Form Holds (31 October 2026)
- BWF: HYLO Open 2026, podium
- BWF: HYLO Open 2026, results by day (1 November)
- BWF: YEOSU VICTOR Korea Open 2026, tournament page
- BWF: Japan Open: Pusarla Breaks Title Drought (19 July 2026)
- BWF: French Open: Iconic Triple Triumphs (26 October 2026)
- Akashvani News (All India Radio): Hylo Open 2026: Lakshya Sen and PV Sindhu win men's and women's singles titles
- HYLO Open organisers: Title holders 2025 to 2018
- HYLO Open organisers: Title holders 2017 to 2008
- HYLO Open organisers: Title holders 2007 to 1998
- HYLO Open organisers: Titelverteidiger und Weltmeister im HYLO-Finale (1 November 2026)
- Scroll.in (PTI): SaarLorLux Open, Lakshya Sen scripts come-from-behind win to lift second straight Super 100 title (3 November 2019)
- The Tribune (PTI): Lakshya on a roll, grabs third title (3 November 2019)
- The Tribune: Lakshya Sen wins Australian Open Badminton final (23 November 2025)
- The Tribune (ANI): All England Open 2026, Lakshya Sen goes down against Lin in final (8 March 2026)
- ThePrint (ANI): PV Sindhu captures Singapore Open 2022 women's singles title (17 July 2022)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।