Skip to content
নেচার-এর একটি গবেষণাপত্রে গুগল ডিপমাইন্ডের এআই ঘূর্ণিঝড় মডেলের পাঁচ দিনের গড় গতিপথ-ত্রুটি দাঁড়িয়েছে ২৩০ কিলোমিটার, ইউরোপীয় এনসেম্বলের ৩৭০, আর লেখকেরাই বলছেন দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি এখনও অমীমাংসিত সমস্যা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

নেচার-এর একটি গবেষণাপত্রে গুগল ডিপমাইন্ডের এআই ঘূর্ণিঝড় মডেলের পাঁচ দিনের গড় গতিপথ-ত্রুটি দাঁড়িয়েছে ২৩০ কিলোমিটার, ইউরোপীয় এনসেম্বলের ৩৭০, আর লেখকেরাই বলছেন দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি এখনও অমীমাংসিত সমস্যা

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

২০২৬ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশিত একটি নেচার গবেষণাপত্র জানাচ্ছে, ২০২৩ আর ২০২৪ সালের ঝড়ে গুগল ডিপমাইন্ডের ওয়েদারনেক্সট সাইক্লোনস মডেলের পাঁচ দিনের গড় গতিপথ-ত্রুটি ছিল ২৩০ কিলোমিটার, ইউরোপীয় এনসেম্বলের ৩৭০ কিলোমিটার। ৩২ জন লেখকের ২২ জন গুগলের কর্মী; তাঁরা লাভটাকে এক দিন বা তার বেশি আগাম সময় বলে ধরেছেন, আর মডেল এখনও যা পারে না তার তালিকাও দিয়েছেন।

· · 7 মিনিটের পাঠ

২০২৬ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশিত একটি নেচার গবেষণাপত্র জানাচ্ছে, গুগল ডিপমাইন্ডের একটি এআই মডেল পাঁচ দিন আগে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পূর্বাভাস দিয়েছে গড়ে ২৩০ কিলোমিটার ত্রুটি নিয়ে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের এনসেম্বল ব্যবস্থা, যার নাম ইএনএস (ENS), একই ঝড়ে গড়ে ৩৭০ কিলোমিটার ত্রুটি করেছে, আর ডিপমাইন্ডের আগের জেনকাস্ট (GenCast) মডেল করেছে গড়ে ৩৩৫ কিলোমিটার। এই স্কোরগুলো ২০২৩ আর ২০২৪ সালের ঝড়ের। ২০২৫ পর্যন্ত চলা পুরো মূল্যায়নের সারকথা লেখকেরা দিয়েছেন এভাবে: শীর্ষস্থানীয় অপারেশনাল মডেলের তুলনায় গড়ে এক দিন বা তার বেশি আগাম সময়ের সুবিধা।

মডেলটির নাম ওয়েদারনেক্সট সাইক্লোনস (WeatherNext Cyclones)। ডিপমাইন্ডের আরও পরিচিত বিজ্ঞান-ব্যবস্থা আলফাফোল্ড নিয়ে নোবেল পুরস্কারের উপর আমাদের লেখা আছে, আর এটি তৈরি করে এমন পূর্বাভাস যা কী ঘটল তার সঙ্গে মিলিয়ে নম্বর দেওয়া যায়। গবেষণাপত্রে সই করেছেন বত্রিশ জন। তাঁদের ২২ জনকে গুগলের কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের আলফাবেটের শেয়ার আছে, আর পাঁচজন লেখক মূল সম্ভাবনাভিত্তিক আবহাওয়া মডেলের উপর পেটেন্টের আবেদন করেছেন, তবে ঘূর্ণিঝড়-নির্দিষ্ট অংশের উপর নয়। বাকিরা এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি), কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের মেট অফিস আর ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু থেকে। নেচার পাণ্ডুলিপিটি পেয়েছিল ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর আর গ্রহণ করেছিল ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই।

মডেল কী থেকে শিখেছে, আর মানুষ কী জুগিয়েছে

ওয়েদারনেক্সট সাইক্লোনস শিখেছে দুটি তথ্যভান্ডার থেকে। একটি ইউরোপীয় সেন্টারের বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া বিশ্লেষণের প্রায় ২০ টেরাবাইট, অর্থাৎ অতীতের নানা মুহূর্তে বায়ুমণ্ডলের সেরা পুনর্গঠন। অন্যটি আইবিট্র্যাকস (IBTrACS), প্রায় ৫,০০০ পর্যবেক্ষিত ঘূর্ণিঝড়ের একটি ডেটাবেস, গবেষণাপত্র যাকে বলেছে বিশেষজ্ঞদের যত্নে সাজানো, আর যাতে প্রতিটি ঝড়ের গতিপথ, সর্বোচ্চ বাতাসের গতি আর প্রবল বাতাসের ব্যাসার্ধ লেখা আছে। এই দ্বিতীয় ফাইলটি মাত্র ১০ মেগাবাইটের মতো, আর গবেষণাপত্র বলছে এর সেরা-গতিপথের রেকর্ড সংকলন করেন অপারেশনাল পূর্বাভাস কেন্দ্রগুলোর কিউরেটররা। মডেল ঝড়গুলো আবিষ্কার করেনি। সে সেগুলো থেকে শিখেছে।

মডেলটি কাজ করে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরত্বে গ্রিড বিন্দুওয়ালা একটি আবহাওয়ার মানচিত্রে, ১৩টি উচ্চতায় ছয়টি চলক আর ভূপৃষ্ঠে আরও ছয়টি নিয়ে, আর ১৫ দিন পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা করে এগিয়ে যায়। চ্যাটবটের পেছনের ভাষা মডেলের মতো না হয়ে সে শব্দ নয়, মানচিত্রের উপর সংখ্যা পূর্বাভাস করে। ঘূর্ণিঝড় খুঁজে পেতে লেখকেরা প্রশিক্ষণের সময় প্রতিটি ঝড়ের কেন্দ্রকে মানচিত্রে ছোট একটি উঁচু বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, আর তার শক্তি ও আকারের জন্য স্তর যোগ করেছেন। তৈরি পূর্বাভাস থেকে ঝড়ের অবস্থান আবার পড়ে নেয় নিয়মভিত্তিক একটি আলাদা ট্র্যাকিং প্রোগ্রাম।

প্রতিটি চালনায় একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ তৈরি হয়, আর ব্যবস্থাটি বানায় ৫০টি, বা ১,০০০টি পর্যন্ত। ডিপমাইন্ডের ব্লগ বলছে, ১৫ দিনের পূর্বাভাসে একটি টিপিইউ, গুগলের এআই চিপ, এক মিনিটেরও কম সময় নেয়। এমন কম্পিউটিংয়ে বিদ্যুতের খরচ কত, তা আছে এআইয়ের শক্তি ব্যবহার নিয়ে আমাদের লেখায়।

২৩০ কিলোমিটারের হিসাব কীভাবে যাচাই হয়েছিল

লেখকেরা ২০২২ সালের ঝড় দিয়ে তাঁদের নকশার সিদ্ধান্ত স্থির করেছেন, তারপর মডেলকে পরখ করেছেন ২০২৩ আর ২০২৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে। প্রতিটি পরীক্ষার বছরের জন্য তাঁরা মডেলটিকে আবার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন শুধু আগের বছরের শেষ পর্যন্ত তথ্য দিয়ে, যাতে পরীক্ষা করা কোনো ঝড় তার প্রশিক্ষণে না থাকে। ২০২৫ সালের জন্য মডেলের একটি সংস্করণ সরাসরি চালু ছিল, আর সেই বছরের যাচাই শুধু উত্তর আটলান্টিক ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ধরে।

তুলনা হয়েছে এনএইচসির নিয়মে, যে নিয়মে কোনো পূর্বাভাস তখনই গোনা হয় যখন তুলনায় থাকা প্রতিটি মডেল সেই ঝড়ের জন্য সেই আগাম সময়ে পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইএনএস, তীব্রতার পক্ষপাত শুধরে নেওয়া জেনকাস্ট, আর নোয়ার এইচএএফএস-এ (HAFS-A), একটি উচ্চ-রেজোলিউশনের আঞ্চলিক মডেল যার পূর্বাভাস গবেষণাটি ব্যবহার করেছে শুধু উত্তর আটলান্টিক ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য। গবেষণাপত্র ১,০০০ বার পুনর্নমুনায়নের বুটস্ট্র্যাপ পরীক্ষা ব্যবহার করেছে এবং বলছে প্রায় সব উন্নতিই ৫ শতাংশ স্তরে তাৎপর্যপূর্ণ।

নেচার যে রেফারির প্রতিবেদন নাম ছাড়া প্রকাশ করেছে, তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমন নিয়ম এমন একটি সতর্ক ব্যবস্থার পক্ষে যেতে পারে যা বহু ঝড় এড়িয়ে যায়। লেখকেরা জবাব দিয়েছেন যে দ্বিতীয় একটি পরীক্ষা, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে লাগার দিক থেকে পূর্বাভাসের মূল্য দেয় এবং কোনো ঝড় বাদ দেয় না, না-ধরার ঘটনাগুলোও ধরে।

গবেষণাপত্র যে সংখ্যাগুলো জানায়

পাঁচ দিনের গতিপথ-ত্রুটি ওয়েদারনেক্সট সাইক্লোনসের ২৩০ কিলোমিটার, ইএনএসের ৩৭০ কিলোমিটার আর জেনকাস্টের ৩৩৫ কিলোমিটার। ইএনএস ২৩০ কিলোমিটার ত্রুটিতে পৌঁছায় প্রায় ৩.৭৫ দিনে, আর এখান থেকেই লেখকেরা ওই নির্ভুলতায় ৩০ ঘণ্টার কিছু বেশি বাড়তি সতর্কতা পাচ্ছেন, আর জেনকাস্টের তুলনায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা।

তীব্রতার ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ বাতাসের তিন দিনের পূর্বাভাস এইচএএফএসের চেয়ে ৩.৭৫ নট (প্রায় ৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা) বেশি নির্ভুল ছিল, যা লেখকদের কথায় প্রচলিত মডেলের প্রায় এক দশকের অগ্রগতির সমান। সম্ভাবনাভিত্তিক তীব্রতার স্কোরে মডেলটি ইএনএস ও জেনকাস্টের তুলনায় বহু আগাম সময়ে ত্রুটি ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়েছে।

দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি মানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ বাতাসের গতিতে ৩০ নট বা তার বেশি বৃদ্ধি। আটলান্টিক আর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মডেলটি সঠিক ডাক, ভুল সতর্কসংকেত আর না-ধরার ওজন মেপে যে স্কোর হয়, সেই ক্রিটিক্যাল সাকসেস ইনডেক্স, তা প্রায় ০.৩-এর নিচ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ০.৫-এ তুলেছে। লেখকেরা দ্রুত শক্তিবৃদ্ধিকে একটি মূল অমীমাংসিত সমস্যা বলেছেন এবং লিখেছেন এতে কোনো একটি মডেলই সেরা নয়।

২০২২ সালের ঝড়ে সামঞ্জস্য করা ওজন নিয়ে একটি সিমুলেশনে, মডেলটি এনএইচসির গতিপথ-ঐকমত্যে, অর্থাৎ বেশ কয়েকটি মডেলের গড়ে, যোগ করলে সেই ঐকমত্য আগাম সময় অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৮ শতাংশ উন্নত হয়েছে, গড়ে ২৮ শতাংশ। তীব্রতার ঐকমত্য উন্নত হয়েছে ৫ থেকে ১৪ শতাংশ, গড়ে ৬ শতাংশ। লেখকেরা লিখেছেন, এ থেকে বোঝা যায় তীব্রতার ক্ষেত্রে প্রচলিত মডেল এখনও যথেষ্ট মূল্য যোগ করে।

ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের ২০২৫ সালের স্কোরকার্ড কী বলছে

এনএইচসির ২০২৫ সালের যাচাই প্রতিবেদন, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চের, সরাসরি পরীক্ষাটির একটি সরকারি পাঠ দেয়। আটলান্টিকের ক্ষেত্রে এতে বলা আছে, সরকারি পূর্বাভাস সাধারণত বেশির ভাগ মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে, তবে গুগল ডিপমাইন্ড এনসেম্বল গড় (লেবেল জিডিএমআই, GDMI) স্বল্প পাল্লায় কিছুটা ভালো করেছে, ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টায় এনএইচসির গতিপথ পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে জিডিএমআই ৪৮ থেকে ১২০ ঘণ্টায় সরকারি গতিপথ পূর্বাভাস আর প্রতিটি ঐকমত্য-সহায়ককে হারিয়েছে, এবং ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তীব্রতার সেরা একক মডেল ছিল। মরসুমের শুরুতে মডেলটি ছিল না, তাই সেই তুলনাগুলোতে আটলান্টিকের প্রথম দুটি আর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের প্রথম পাঁচটি ঝড় বাদ গেছে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, মরসুমের বহু দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির ঘটনায় আটলান্টিকের তীব্রতার ত্রুটি পাঁচ বছরের গড়ের উপরে ছিল, আর সেগুলোতে সরকারি পূর্বাভাস মডেল-নির্দেশনার চেয়ে ভালো করেছে। সিএনএন ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে হারিকেন মেলিসা যখন ৮০ মাইল প্রতি ঘণ্টার ক্যাটাগরি ১ ছিল, তখনই এনএইচসি তাকে ক্যাটাগরি ৫ ঝড় বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল, প্রধানত ডিপমাইন্ডের প্রক্ষেপণের ভিত্তিতে। এনএইচসির পরিচালক মাইকেল ব্রেনান সিএনএনকে বলেছেন, এআই মডেলগুলো এক চালনা থেকে আরেক চালনায় বেশি সামঞ্জস্য দেখিয়েছে।

লেখকেরা যে সীমাবদ্ধতা বলেছেন

গবেষণাপত্র বলছে, মডেলটি উচ্চমানের বিশ্লেষণ-তথ্যের উপর নির্ভর করে, আর ভবিষ্যতের ব্যবস্থার উচিত কাঁচা পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করা। সে এখনও বৃষ্টি, ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস বা বাতাসের দমকা পূর্বাভাস দেয় না। তীব্রতার এনসেম্বল কিছুটা অল্প-বিস্তৃত, অর্থাৎ এর সদস্যরা বাস্তব ত্রুটির চেয়ে কম ছড়ায়, আর এর বাতাসের সম্ভাবনা উঁচু সীমায় কিছুটা অতি-আত্মবিশ্বাসী। দীর্ঘ আগাম সময়ে সে এনএইচসির তীব্রতা-ঐকমত্যের চেয়ে খারাপ স্কোর পায়। পরিশিষ্ট যোগ করছে, তীব্রতায় এইচএএফএসের সঙ্গে তুলনা আরও মিশ্র, এইচএএফএসের ত্রুটি কম হওয়ার ঘটনা সেখানে বেশি।

একজন পূর্বাভাসদাতার সতর্ক পাঠ

মাইকেল লাউরি, মায়ামির ডব্লিউপিএলজি-টিভির হারিকেন বিশেষজ্ঞ এবং এনএইচসির সাবেক সিনিয়র বিজ্ঞানী, ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মরসুমের এ পর্যন্ত নিয়ে লিখেছেন। এনএইচসির সাবেক শাখাপ্রধান জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনের যাচাই-তথ্য ব্যবহার করে তিনি জানিয়েছেন, আটলান্টিক, পূর্ব প্রশান্ত আর মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে সাধারণের জন্য পাওয়া সব নির্দেশনার মধ্যে ডিপমাইন্ডের গতিপথ-ত্রুটি ছিল সবচেয়ে কম, পাঁচ দিনে এনএইচসির চেয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এগিয়ে। লাউরি নেচার গবেষণাপত্রের লেখক নন।

তীব্রতায়, লাউরি লিখেছেন, ডিপমাইন্ড এনএইচসির সঙ্গে তাল রেখেছে কিন্তু এগিয়ে যায়নি, আর এইচসিসিএ (HCCA) নামের একটি ঐকমত্য-সহায়ক সবচেয়ে ভালো করেছে। হারিকেন লোয়েল প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মডেলের গতিপথ পূর্বাভাস ‘শুরুতে এলোমেলোভাবে লাফিয়েছে’ যেখানে এনএইচসির নিজেরটা ধীরে ধীরে সরেছে, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন এনএইচসি ‘জানে সামঞ্জস্যের জন্য সে কিছুটা পূর্বাভাসের নির্ভুলতা ছাড়বে।’ তাঁর সংখ্যা একটি মরসুমের এ পর্যন্ত অংশের।

ম্যাট ল্যানজা, আবহাওয়া ব্লগ দ্য আইওয়াল-এর ম্যানেজিং এডিটর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এবিসি নিউজকে বলেছিলেন যে মডেলটি দ্রুত শক্তিবৃদ্ধিতে শক্তিশালী, কিন্তু ‘যা প্রত্যাশার সীমার বাইরে, তেমন ঘটনা ঘটবে’ এবং ‘প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক মডেলিং হয়তো অপরিহার্য থেকে যাবে।‘

বঙ্গোপসাগর কোথায় আসে

নেচার গবেষণাপত্র শুরু হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের মানবিক ক্ষতি দিয়ে, ৫০ বছরে ৭,০০,০০০-এর বেশি মৃত্যু আর ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সূত্র ধরে। ডব্লিউএমওর অ্যাটলাস গুনেছে ১৯৭০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ে ৭,৭৯,৩২৪ জনের মৃত্যু। বাংলাদেশে ৪,৬৭,৪৮৭, মিয়ানমারে ১,৩৮,৯০৯ আর ভারতে ৪৬,৭৮৪ জন, যা মিলিয়ে বিশ্বের মোটের ৮৪ শতাংশ।

নেচার নিবন্ধটি নিজে উত্তর ভারত মহাসাগরের নাম কোথাও নেয়নি, যার মধ্যে বঙ্গোপসাগর আর আরব সাগর পড়ে, আর ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের কথাও কোথাও বলেনি। এতে বলা হয়েছে ফলাফল সব সমুদ্র অববাহিকায় সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর সম্প্রসারিত তথ্য এবং পরিশিষ্টের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পরিশিষ্ট বলছে, দক্ষতা কোনো সমুদ্র অববাহিকা বা স্থলভাগ থেকে দূরত্বের উপর স্পষ্টভাবে নির্ভর করে না, আর তীব্রতা-ত্রুটির একটি মানচিত্রের একটি প্যানেলে লেবেল দিয়েছে উত্তর ভারত মহাসাগর। এনএইচসির রেকর্ডে এইচএএফএসের পূর্বাভাস আছে শুধু আটলান্টিক আর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের, তাই অন্য অববাহিকাগুলোর জন্য কোনো আঞ্চলিক-মডেলের তুলনা নেই।

একজন রেফারি জানতে চেয়েছিলেন, আটলান্টিকের উচ্চমানের তথ্যে প্রশিক্ষণ নিলে উত্তর বা দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ঝড়ে ভুলভাবে তা প্রয়োগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে কিনা, এবং উল্লেখ করেছিলেন যে আইবিট্র্যাকস যুক্তরাষ্ট্রের জানানো মানের উপর ঝুঁকে আছে, যা মার্কিন অববাহিকার বাইরে তথ্যের মানকে প্রভাবিত করে। লেখকেরা জবাব দিয়েছেন যে বায়ুমণ্ডলীয় ইনপুটের মান সারা বিশ্বে সমান, আইবিট্র্যাকসে প্রতিটি অববাহিকার ডব্লিউএমও-মানের প্রতিবেদনও আছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের মান নিয়ে বিষয়টিতে একাধিক সংস্থা তাঁদের প্রশ্ন করেছিল। ২০২৫ সালের সরাসরি মরসুমের যাচাই শুধু আটলান্টিক আর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সীমিত ছিল, কারণ, লেখকেরা লিখেছেন, এনএইচসি-বহির্ভূত অববাহিকাগুলোর ২০২৫ সালের তথ্য তখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গবেষণাপত্রের মডেলগুলোর কোড আর ওজন গিটহাবে আছে google-deepmind/weathernext নামে। রিপোজিটরি বলছে, মডেলগুলো কোনো সরকারি আবহাওয়া সংস্থার অনুমোদন পায়নি।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Alet and others, Operational tropical cyclone forecasting with AI, Nature 657, 680 to 688 (published 6 August 2026)
  2. Supplementary Information for the Nature paper (extended results, basin maps, methods)
  3. Peer Review File for the Nature paper (referee reports and author replies)
  4. Google DeepMind: AI model achieves breakthrough in forecasting cyclones (6 August 2026)
  5. Google DeepMind: weathernext code and model weights (GitHub repository)
  6. Alet and others, Skillful joint probabilistic weather forecasting from marginals (arXiv:2506.10772, 12 June 2025)
  7. National Hurricane Center: Forecast Verification Report, 2025 Hurricane Season (Cangialosi, Martinez, Reinhart and Papin, 30 March 2026)
  8. World Meteorological Organization: Atlas of Mortality and Economic Losses from Weather, Climate and Water Extremes (1970 to 2019), full PDF
  9. Michael Lowry, Eye on the Tropics: The AI Hurricane Model that Continues to Blow Away the Competition (10 September 2026)
  10. Michael Lowry, Eye on the Tropics: about the author
  11. ABC News: Can AI help forecasters better predict destructive hurricanes? (6 December 2025)
  12. CNN via ABC 17 News: Why the National Hurricane Center bet big on AI to forecast Isaias (Andrew Freedman, 8 October 2026)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#weathernext cyclones#google deepmind#tropical cyclones#ai weather forecasting#national hurricane center#rapid intensification#bay of bengal#nature

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
এআই-কে নিরাপদ রাখার দায়িত্বে থাকা মানুষরাই চাকরি ছেড়ে দিলেন, যাতে বাইরে থেকে নজর রাখতে পারেন
তিনজন সুরক্ষা গবেষক বিশ্বের দুটি বৃহত্তম এআই ল্যাব ছেড়ে বাইরে থেকে নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। মাইক্রোসফ্ট এআই ধীর করার বিতর্কের জবাব দিল একটি প্রকাশ্য আচরণবিধি দিয়ে। দুই ডজন ফিল্ডস মেডেলজয়ী বললেন এআই কোম্পানিগুলো এত দ্রুত চলছে যে গণিত তা যাচাই করতে পারছে না। আর ভারতের ধীরাজ বোম্মাদেভারা এমন সোনা জিতলেন যা আগে কোনো ভারতীয় পুরুষ জেতেননি।
ছয়টি চীনা এআই কোম্পানি আমেরিকার সেরা মডেল নকল করতে ধরা পড়ল। আমেরিকার সমাধান: চুপচাপ তাদের উত্তর খারাপ করে দাও।
একটি মার্কিন নিরাপত্তা পরামর্শে ছয়টি চীনা এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে মার্কিন মডেল নকলের অভিযোগ এবং চুপচাপ তাদের খারাপ উত্তর দেওয়ার পরামর্শ। সঙ্গে মানব ডিএনএ-র প্রতিটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ডিপমাইন্ডের অ্যাটলাস, অ্যাপলের এআই-কেন্দ্রিক আইফোন লঞ্চ, আর ভারতের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় রেল সম্প্রসারণ।
IEA আশা করছে ২০৩০ সালে বিশ্বে ডেটা সেন্টার প্রায় ৯৫০ TWh বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, বার্কলে ল্যাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ধরছে ৬৪৯ TWh, আর যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে দুজনের ফারাক ২০০ TWh-এর বেশি
দুজন সম্মানিত পূর্বাভাসদাতা একমত যে AI বিদ্যুতের চাহিদা টেনে তুলছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের কত লাগবে তা নিয়ে তাঁদের হিসাব ২০০ TWh-এর বেশি আলাদা। তাঁদের সংখ্যা, নতুন বিদ্যুৎ চুক্তি, দুটি গ্রিডের অপেক্ষা-তালিকা আর ভারতের গণনা।
← সব লেখা