অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর আস্তানায় মনীষা ভানওয়ালা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবিগেল নেটের কাছে ০-৬ পিছিয়ে ছিলেন, আর ৫৯ কেজির ফাইনাল জিতেছেন ৮-৬। ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিং তাঁকে ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বলেছে, আর ২০১০ সালে সুশীল কুমারের পর সিনিয়র বিশ্ব খেতাব জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় কুস্তিগির। নীলম সিরোহি ও কাজল ধোচক রুপো, তনু শর্মা ব্রোঞ্জ জিতেছেন।
মনীষা ভানওয়ালা ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর কাজাখস্তানের আস্তানায় সিনিয়র বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের ৫৯ কেজির খেতাব জিতেছেন। ০-৬ পিছিয়ে থেকেও তিনি ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবিগেল নেটকে ৮-৬ হারান। খেলাটির পরিচালক সংস্থা ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিং (ইউডব্লিউডব্লিউ) তাঁকে ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বলেছে। ২০১০ সালে ৬৬ কেজিতে সুশীল কুমারের পর তিনি সিনিয়র বিশ্ব খেতাব জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় কুস্তিগিরও।
চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের জন্য এএনআই যে চারটি পদকের তালিকা দিয়েছে, তাঁর সোনা তার একটি। ২৮ অক্টোবর নীলম সিরোহি (৫০ কেজি) ও কাজল ধোচক (৭৬ কেজি) রুপো জেতেন, আর ২৯ অক্টোবর তনু শর্মা ৭২ কেজিতে ব্রোঞ্জ নেন।
০-৬ থেকে টানা আট পয়েন্ট
ইউডব্লিউডব্লিউর ফাইনালের প্রতিবেদন বলছে, শুরুতেই নেট মনীষাকে ম্যাটে ফেলে চার পয়েন্ট নেন। ভারত রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে, চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হয়, আর নেট পঞ্চম পয়েন্ট পান। মনীষার বিরুদ্ধে একটি সতর্কতায় স্কোর হয় ৬-০। পিটিআই যোগ করেছে, চার পয়েন্টের ওই চালটি এসেছিল নেট শক্ত গ্রিপ নিয়ে মনীষার পা তুলে ফেলার পর, আর মনীষাকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল ম্যাটের প্রান্তের কাছ থেকে।
বিরতির আগে মনীষা একটি স্টেপ-আউট করেন, প্রতিপক্ষকে সীমার বাইরে ঠেলে দেওয়ার জন্য একটি পয়েন্ট, স্কোর হয় ৬-১। দ্বিতীয় পর্বে নেট একটি পা আক্রমণ করেন আর মনীষা তাঁর পেছনে সরে গিয়ে টেকডাউন করেন। মার্কিন কর্নার চ্যালেঞ্জ করে, যুক্তি দিয়ে যে রেফারি কাজ থামাতে বাঁশি বাজিয়েছিলেন। চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হয়, ফলে মনীষা আরও এক পয়েন্ট পান আর নেটকে পার তেরে অবস্থানে ফেলা হয়, অর্থাৎ মাটিতে হাত-হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে এক কুস্তিগির নিচে থাকার অবস্থানে। স্কোর হয় ৬-৪।
সেখান থেকে গাট র্যাঞ্চ দিয়ে নেটকে ঘুরিয়ে দুই পয়েন্টে তিনি ৬-৬ সমান করেন। টাই-ব্রেক মানদণ্ডে তখনও এগিয়ে ছিলেন নেট। মনীষা তারপর একটি প্রেশার টেকডাউনে ৮-৬ এগিয়ে যান, আর পিটিআই বলছে ক্লান্ত নেটের বিরুদ্ধে শেষ ২৭ সেকেন্ড তিনি সেই লিড ধরে রাখেন।
“ভারান্দাজ [গাট র্যাঞ্চ] আমার প্রিয় চাল,” তিনি ইউডব্লিউডব্লিউকে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ঘোরানোর সুযোগ পেয়ে তাঁর মনে হয়েছিল ১০ পয়েন্ট পর্যন্ত যাওয়া বা নেটকে পিন করাও সম্ভব, আর নেট বেরিয়ে গেলে তিনি অবাক হন। পুনরায় শুরুর পর তিনি আবার নেটকে নামিয়ে দেন।
ফাইনালের পথ
ইউডব্লিউডব্লিউর ফল অনুযায়ী ৫৯ কেজির ব্র্যাকেটে এন্ট্রি ছিল ১৮টি। মনীষার সেমিফাইনাল ছিল বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর। তিনি কাজাখস্তানের আলতিন শাগায়েভাকে ৪:২৬-এ পিনে হারান, আর এই পিনে বাউট শেষ হয় ১০-০তে। অন্য সেমিফাইনালে নেট ইউক্রেনের মারিয়া ভিনিককে পিন করেন, ২:১৩-এ ৬-০, তাই ফাইনাল হয় পিনে সেমিফাইনাল শেষ করা দুই কুস্তিগিরের মধ্যে।
হেরে যাওয়া দুই সেমিফাইনালিস্ট ব্রোঞ্জ ম্যাচে যান। ভিনিক তাঁর ম্যাচে স্ভেতলানা লিপাতোভাকে ৭-৬ হারান, আর শাগায়েভা মঙ্গোলিয়ার বলোরতুয়া খুরেলখুর কাছে ২:৫৯-এ পিনে হেরে যান, যিনি অন্য ব্রোঞ্জটি নেন।
নীলম ও কাজলের রুপো, তনুর ব্রোঞ্জ
মনীষার ফাইনালের দুই দিন আগে, টুর্নামেন্টের পঞ্চম দিন বুধবার ২৮ অক্টোবর, নীলম ও কাজল দুজনেই বিশ্ব ফাইনালে পৌঁছন। ইউডব্লিউডব্লিউর প্রতিবেদন বলছে, এই সংস্করণের আগে সিনিয়র বিশ্ব ফাইনালে পৌঁছনো একমাত্র ভারতীয় মহিলা ছিলেন আনশু মালিক, যিনি ২০২১ সালে ৫৭ কেজিতে রুপো জেতেন। নীলম ও কাজল হলেন দ্বিতীয় ও তৃতীয়, আর মনীষা চতুর্থ, ফলে একটি সংস্করণে তিনজন ভারতীয় মহিলা প্রথমবার বিশ্ব সোনার জন্য লড়লেন, যা পিটিআই ও অল ইন্ডিয়া রেডিও দুজনেই উল্লেখ করেছে।
নীলম ৫০ কেজির ফাইনালে জাপানের ইউই সুসাকির কাছে হারেন, যিনি তাঁকে ২:১৫-এ পিন করে নিজের পঞ্চম বিশ্ব খেতাব জেতেন। কাজল, প্রথম সিনিয়র বিশ্ব প্রতিযোগিতায় এক কিশোরী আর ৭২ কেজিতে ২০২৫ সালের বিশ্ব অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন, ৭৬ কেজির ফাইনাল ৮-৬-এ হারেন ইউক্রেনের আনাস্তাসিয়া আলপিয়েভার কাছে। ইউডব্লিউডব্লিউ বলছে, কাজল দুবার মানদণ্ডে এগিয়ে ছিলেন আর ছয় সেকেন্ড বাকি থাকতে একটি টেকডাউন করেছিলেন, কিন্তু যে ঘোরানো জেতাতে পারত তার চেষ্টায় সময় ফুরিয়ে যায়। “আমি ওদের সবাইকে হারাতে পারি,” কাজল ইউডব্লিউডব্লিউকে বলেছেন।
২৯ অক্টোবর তনু শর্মা ৭২ কেজির ব্রোঞ্জ পদক ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেশাস বেলকে ৯-৫ হারান, চার পয়েন্টের হেডলক ছোঁড়ায় ৭-০ এগিয়ে থেকে। ইউডব্লিউডব্লিউর ষষ্ঠ দিনের ফলে তিনি আর জাপানের মাহিরো ইয়োশিতাকে ৭২ কেজির দুই ব্রোঞ্জজয়ী।
সময় নিয়ে একটি টীকা: ৩০ অক্টোবরের পিটিআই ও অল ইন্ডিয়া রেডিওর প্রতিবেদনে রুপো পদকের ফাইনাল “গতকাল” বা বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে। ইউডব্লিউডব্লিউর নিজের প্রতিবেদনের তারিখ বুধবার ২৮ অক্টোবর, আর এই লেখায় সেই তারিখই ব্যবহার করা হয়েছে।
অলিম্পিক তালিকার বাইরের একটি ওজন বিভাগ
দ্য ব্রিজ ও খেল নাউয়ের মতে, মনীষা ২০২৫ সালে জর্ডনের আম্মানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ৬২ কেজিতে জিতেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কিম ওক-জুকে ২-৭ পিছিয়ে থেকে ৮-৭ হারিয়ে। আস্তানায় তিনি কুস্তি লড়েছেন ৫৯ কেজিতে, যে বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য তালিকাভুক্ত মহিলাদের ছয়টি ফ্রিস্টাইল ওজনের মধ্যে নেই: ৫০, ৫৩, ৫৭, ৬২, ৬৮ ও ৭৬ কেজি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের বাউট ৫৫, ৬৫ ও ৭২ কেজিতেও হয়, যার একটিও ওই তালিকায় নেই।
মনীষা ইউডব্লিউডব্লিউকে বলেছেন, তিনি আগামী বছর লাস ভেগাসে ৫৭ কেজিতে খেতাব ধরে রাখতে চান, যাকে তিনি অলিম্পিক ওজন বিভাগ বলেছেন।
আগে যা ঘটেছিল
মস্কোতে সুশীল কুমারের ৬৬ কেজির সোনাই ভারতের একমাত্র আগের সিনিয়র বিশ্ব খেতাব। ইউডব্লিউডব্লিউর ২০১৯ সালের পুনরালোচনায় ফাইনালের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১০, আর রাশিয়ার আলান গোগায়েভের বিরুদ্ধে স্কোর ৩-১, যাকে তারা বলেছে প্রতিকূল ঘরোয়া দর্শকের সামনে। তারা বলছে, তার আগে ভারত বিশ্বস্তরের কোনো কুস্তি প্রতিযোগিতায় সোনা জেতেনি, আর তাঁর জয় আরও শিশুকে, মেয়েদেরও, গ্রামের আখড়ায়, কুস্তি প্রশিক্ষণের ঐতিহ্যবাহী কক্ষে, পাঠিয়েছে।
মনীষার আগেও ভারতীয় মহিলারা বিশ্ব পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছেন। স্ক্রোলের ২০১৯ সালের ভারতীয় বিশ্ব পদকজয়ীদের সারণিতে আছে ২০০৬ সালে ৫৯ কেজিতে আলকা তোমরের, ২০১২ সালে ৫৫ ও ৫১ কেজিতে গীতা ও ববিতা ফোগাটের এবং ২০১৮ সালে ৫৭ কেজিতে পূজা ধান্ডার ব্রোঞ্জ, আর আনশু মালিকের ২০২১ সালের রুপো ছিল কোনো ভারতীয় মহিলার সোনার সবচেয়ে কাছে আসা। গীতা ফোগাটের আগের কমনওয়েলথ গেমসের সোনা আর তাঁর পরিবারকে নিয়ে বানানো ছবির কথা আছে ফোগাট বোনেদের প্রবন্ধে, আর ভারতীয় কুস্তির প্রথম ব্যক্তিগত অলিম্পিক পদক, ১৯৫২ সালের ব্রোঞ্জ, আছে খাশাবা জাধবের প্রবন্ধে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে ভারতীয় কুস্তিগিররা এশিয়ান গেমসেও ছয়টি পদক জিতেছেন, তার দুটি সোনা, যা এশিয়ান গেমসের প্রতিবেদনে নথিভুক্ত।
রোহতক, বাবার ইচ্ছা আর ফেডারেশনের শিবির
দ্য ব্রিজ মনীষাকে বর্ণনা করেছে রোহতকের কুস্তিগির হিসেবে, যাঁকে তাঁর বাবা প্রথমে আরও ফিট হওয়ার জন্য হোস্টেলে পাঠিয়েছিলেন। খেল নাউ বলছে, তিনি কুস্তি শুরু করেন ২০১৩ সালে আর সার ছোটু রাম স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নেন মনদীপ সিংয়ের কাছে, যাঁকে দ্য ব্রিজও তাঁর প্রশিক্ষক বলে উল্লেখ করেছে। ২০২২ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে উড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর বাবা মারা যান। তবু তিনি কুস্তি লড়েন এবং ব্রোঞ্জ জেতেন, দ্য ব্রিজকে তিনি বলেছেন। আস্তানায় তিনি ফাইনালে বাবার ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন, ইউডব্লিউডব্লিউ জানিয়েছে, আর বলেছেন সোনা তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেছে।
জয়ের পর তিনি টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিমের (টপস) অধীনে শিবির চালানোর জন্য ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের কৃতিত্ব দিয়েছেন, এএনআই জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়া ৩০ অক্টোবর অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেছেন, আর এএনআই জানিয়েছে ১ নভেম্বর দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত এএনআইয়ের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে পদক সংখ্যা একটি সোনা, দুটি রুপো ও একটি ব্রোঞ্জ।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- United World Wrestling: Manisha Becomes India's First-Ever Women's World Champion (30 October 2026)
- United World Wrestling: Long Steps Up to Win 68kg Gold as China Grabs 2 World Titles, with Day 6 results (29 October 2026)
- United World Wrestling: Susaki Snatches Fifth World Gold at Expense of History-Chasing India, with Day 5 results (28 October 2026)
- United World Wrestling: Sushil Kumar Wins World Championship, Awakens Wrestling Powerhouse in India (24 December 2019)
- News On AIR (Akashvani): Manisha scripts history, becoming first Indian woman to win gold at Wrestling World Championships (30 October 2026)
- DT Next (PTI): Manisha scripts history, becomes India's first woman wrestling World Champion (30 October 2026)
- Republic World (ANI): Manisha Bhanwala Scripts History, Becomes India's First Woman World Champion in Wrestling (30 October 2026)
- The Tribune (ANI): World Wrestling Championships, Mandaviya hails Manisha Bhanwala as she creates history with gold (31 October 2026)
- The News Mill (ANI): Manisha Bhanwala wins historic gold at 2026 World Wrestling Champs (1 November 2026)
- The Bridge: From an unfit child to Asian champion, Manisha Bhanwala's journey in wrestling (7 April 2025)
- Khel Now: Who is Manisha Bhanwala? All you need to know about India's first ever women's world champion (31 October 2026)
- NBC Olympics: Olympic wrestling, Los Angeles 2028 event guide, with the 2028 weight classes
- Scroll: At Wrestling Worlds, a look at Sushil Kumar's historic gold and other medallists (12 September 2019)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।