অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
জিএসটি নেটওয়ার্কের ২০২৬ সালের ১ নভেম্বরের অস্থায়ী প্রতিবেদনে অক্টোবরের মোট আদায় ২,৩১,২৯০ কোটি টাকা, এক বছর আগে ছিল ১,৮৮,১২৫ কোটি টাকা। ফেরতের পর নিট আদায় ২,০৩,৩৫৬ কোটি টাকা, বৃদ্ধি ২৫.৬ শতাংশ। পিটিআইয়ের খবর, ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর এটি রেকর্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাস এবং চলতি অর্থবছরের দ্রুততম বৃদ্ধি।
২০২৬ সালের অক্টোবরে ভারতের মোট পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় ছিল ২,৩১,২৯০ কোটি টাকা (প্রায় ২.৩১ ট্রিলিয়ন টাকা), যা ২০২৫ সালের অক্টোবরের ১,৮৮,১২৫ কোটি টাকার চেয়ে ২২.৯ শতাংশ বেশি। জিএসটি নেটওয়ার্ক ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর যে অস্থায়ী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এই হিসাব তার। ২৭,৯৩৪ কোটি টাকা ফেরতের পর নিট রাজস্ব ২,০৩,৩৫৬ কোটি টাকা, আগের ১,৬১,৯০০ কোটি টাকা থেকে ২৫.৬ শতাংশ বেশি। সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে পিটিআই একে বলেছে টানা দ্বিতীয় মাস, যখন আদায় ২ লক্ষ কোটি টাকার ওপরে থেকেছে, আর চলতি অর্থবছরের দ্রুততম বৃদ্ধির হার। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, শুধু এপ্রিলের আদায় (প্রায় ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা) এর চেয়ে বেশি ছিল। ডেকান হেরাল্ডও একই ক্রম দিয়েছে।
অক্টোবরের মোট আদায় সেপ্টেম্বরের ২,০৩,৫২১ কোটি টাকার চেয়েও ১৩.৬ শতাংশ বেশি। জিএসটি পোর্টালের দুটি মাসিক প্রতিবেদন থেকে তুলনাটি tuput নিজে কষেছে। অক্টোবরের প্রতিবেদনের তারিখ ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর, আর তাতে বলা আছে সংখ্যাগুলো অস্থায়ী, চূড়ান্ত করার সময় সামান্য বদলাতে পারে। নিচের সব তথ্য ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর অনুযায়ী।
২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা কীসে কীসে গড়া
প্রতিবেদন মোট অঙ্ককে চার ভাগে ভেঙেছে। কেন্দ্রীয় জিএসটি (সিজিএসটি) ৪২,৯৩৫ কোটি টাকা, আর রাজ্য জিএসটি (এসজিএসটি) ৫১,৩৪০ কোটি টাকা। ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি (আইজিএসটি), অর্থাৎ রাজ্যগুলির মধ্যে বাণিজ্যের ও আমদানির ওপর কর, দেশের ভেতরের লেনদেনে এসেছে ৬৪,৭৬৯ কোটি টাকা আর আমদানিতে ৭২,২৪৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে হয় ২,৩১,২৯০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে সেসের কোনো সারি নেই। সেস হলো তামাকের মতো কয়েকটি পণ্যে জিএসটির ওপর একসময় বসানো বাড়তি কর, আর সেই সেস শেষ হওয়ার কথা আছে জিএসটি কীভাবে কাজ করে লেখায়।
দেশের ভেতরের মোট রাজস্ব ১৫.৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১,৫৯,০৪৪ কোটি টাকা, আগে ছিল ১,৩৭,৩২৮ কোটি টাকা। আমদানি থেকে রাজস্ব ৪২.২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭২,২৪৬ কোটি টাকা, আগে ছিল ৫০,৭৯৬ কোটি টাকা।
আদায়ের চেয়ে ফেরত বেড়েছে ধীরে
অক্টোবরে ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৭,৯৩৪ কোটি টাকা, আগের ২৬,২২৫ কোটি টাকা থেকে ৬.৫ শতাংশ বেশি। দেশের ভেতরের ফেরত ১৪,০০৭ কোটি টাকা, বৃদ্ধি ৯.৮ শতাংশ, আর শুল্ক ব্যবস্থা আইসিইজিএটের মাধ্যমে দেওয়া ফেরত ১৩,৯২৭ কোটি টাকা, বৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ। মোট আদায়ের বৃদ্ধির হারের তিন ভাগের এক ভাগেরও কম হারে ফেরত বেড়েছে, তাই নিট রাজস্ব মোট রাজস্বের চেয়ে দ্রুত, ২৫.৬ শতাংশ হারে বেড়েছে।
দেশের ভেতরের নিট রাজস্ব ১,৪৫,০৩৭ কোটি টাকা, আগের ১,২৪,৫৬৭ কোটি টাকা থেকে ১৬.৪ শতাংশ বেশি। শুল্কবিভাগের নিট জিএসটি রাজস্ব, অর্থাৎ ফেরতের পর আমদানির আইজিএসটি, ৫৮,৩১৯ কোটি টাকা, আগের ৩৭,৩৩৩ কোটি টাকা থেকে ৫৬.২ শতাংশ বেশি।
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর
২০২৬-২৭ সালের প্রথম সাত মাসে মোট আদায় ১৪,৭৭,৫৬৯ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবরের ১৩,০৫,২১৩ কোটি টাকা থেকে ১৩.২ শতাংশ বেশি। একই সময়ের নিট রাজস্ব ১২,৬৯,৪৮৬ কোটি টাকা, আগের ১১,২৭,৩৫৫ কোটি টাকা থেকে ১২.৬ শতাংশ বেশি। এই মাসের বৃদ্ধির হারের পাশে রয়েছে সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ১৪.৭ শতাংশ, আর এপ্রিলের ৮.৭ শতাংশ, যে এপ্রিলের আদায় গুডরিটার্নস রেকর্ড ২,৪২,৭০২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছিল।
পিটিআইয়ের উদ্ধৃত পরামর্শদাতারা মাসটিকে উৎসবের মরসুমের মাস হিসেবে পড়েছেন। গ্রান্ট থর্নটন ভারতের মনোজ মিশ্র বলেছেন, অক্টোবর ধরা পড়ে উৎসবের চাহিদার চক্র, যেখানে খরচ আর পণ্য চলাচল বাড়ে। ইওয়াই ইন্ডিয়ার সৌরভ আগরওয়াল বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অর্থনীতির সহনশীলতা এই সংখ্যায় ফুটে উঠেছে। ডেলয়েটের মহেশ জাইসিং বলেছেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের হারকমানোর পরেও রাজস্ব টিকে আছে। জিএসটির প্রতিবেদন নিজে মোট অঙ্কের একটি সারণি, তাতে কারণ বলা নেই, তাই এগুলো পরামর্শদাতাদের পাঠ। আরও বড় অর্থনৈতিক ছবির জন্য দেখুন ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনের প্রবৃদ্ধির হিসাব।
২২.৯ শতাংশ কীভাবে মাপা হয়
তুলনার মাসটির হিসাব নতুন করে করা হয়েছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বরের ব্যাকগ্রাউন্ডারে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মোট আদায় ছিল ১,৯৫,৯৩৬ কোটি টাকা, তখনকার বৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ, যার মধ্যে ৭,৮১২ কোটি টাকা ছিল সেস। বাকি তিন অংশ (সিজিএসটি ৩৬,৫৪৭ কোটি টাকা, এসজিএসটি ৪৫,১৩৪ কোটি টাকা, আইজিএসটি ১,০৬,৪৪৩ কোটি টাকা) যোগ করলে হয় ১,৮৮,১২৪ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন ভিত্তি ধরেছে ১,৮৮,১২৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ দুই মাসই সেস বাদ দিয়ে গোনা হয়েছে। এক কোটি টাকার এই ফারাকটি ইকোনোটাইমস লক্ষ করেছে, প্রকাশিত অঙ্কে তার ব্যাখ্যা নেই।
মূল প্রকাশিত ১,৯৫,৯৩৬ কোটি টাকার সঙ্গে মেপে ২০২৬ সালের অক্টোবর ১৮.০ শতাংশ বেশি, ইকোনোটাইমসও এই হিসাব করেছে। সেটা এমন দুই মাসের তুলনা, যাদের সেসের ব্যবস্থা আলাদা, তাই জিএসটি নেটওয়ার্কের ২২.৯ শতাংশই সমান ভিত্তির হিসাব। ২০২৫ সালের ভিত্তি মাসটি আবার এসেছিল ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের হার পরিবর্তনের পর, যাকে পিআইবির ব্যাকগ্রাউন্ডার তখন চলমান হার যৌক্তিকীকরণ বলে বর্ণনা করেছে।
আমদানির বৃদ্ধি দেশি বিক্রির চেয়ে দ্রুত
আমদানির আইজিএসটি বেড়েছে ৪২.২ শতাংশ, দেশের ভেতরের রাজস্ব বেড়েছে ১৫.৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে পণ্যওয়ারি ভাগ নেই, আর এই লেখার জন্য যেসব প্রতিবেদন খোলা হয়েছে তার কোনোটিতে আমদানির অঙ্কের সরকারি কারণ উদ্ধৃত নেই, তাই tuput কোনো কারণ দেয়নি। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাইস ওয়াটারহাউসের নিতিন বিজয়বর্গীয় দেশের ভেতরের ১৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে সুস্থ ভোগ ও অর্থনৈতিক কাজকর্মের লক্ষণ হিসেবে পড়েছেন।
রাজ্যগুলি কত পেয়েছে
জিএসটি ভাগ করে নেওয়া কর, তাই প্রতিবেদনে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে কত পৌঁছেছে তারও হিসাব আছে। সরাসরি আদায় হওয়া এসজিএসটি ৫১,৩৪০ কোটি টাকা, আগের ৪৫,১৩৪ কোটি টাকা থেকে ১৪ শতাংশ বেশি। কেন্দ্র প্রতিটি রাজ্যের আইজিএসটির অংশ মিটিয়ে দেওয়ার পর অক্টোবরে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি পেয়েছে ১,০৩,৩৪১ কোটি টাকা, আগের ৯১,৩৫৮ কোটি টাকা থেকে ১৩ শতাংশ বেশি। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির পরের মোট ৬,৮২,১৪২ কোটি টাকা, আগের ৫,৯১,৩৫৩ কোটি টাকা থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। এই ভাগ কীভাবে ঠিক হয় তা ব্যাখ্যা করা আছে অর্থ কমিশনের লেখায়।
রাজ্যওয়ারি সারণিতে শুধু দেশের ভেতরের রাজস্ব গোনা হয়, আমদানির আইজিএসটি বাদ থাকে। সেখানে বেশির ভাগ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বৃদ্ধি দেখা যায়। মহারাষ্ট্র আদায় করেছে ৩৫,১৫০ কোটি টাকা (১৩ শতাংশ বেশি), কর্ণাটক ১৫,৯২২ কোটি টাকা (১৮ শতাংশ বেশি), গুজরাট ১৩,৫১৬ কোটি টাকা (১৬ শতাংশ বেশি), তামিলনাড়ু ১১,৬৬১ কোটি টাকা (৩ শতাংশ বেশি) আর হরিয়ানা ১১,৫২৯ কোটি টাকা (১৭ শতাংশ বেশি)। উত্তরপ্রদেশ ২৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০,২৩৫ কোটি টাকা, বিহার ২৪ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশ ২৪ শতাংশ আর অসম ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১,৯৩৪ কোটি টাকা। চারটি ছোট অঞ্চলে দেশের ভেতরের রাজস্ব আগের বছরের চেয়ে কম: সিকিম (২৮ শতাংশ কম), লাদাখ (২০ শতাংশ কম), পুদুচেরি (৭ শতাংশ কম) আর হিমাচল প্রদেশ (২ শতাংশ কম)।
তার আগের কাউন্সিল বৈঠক
৫৭তম জিএসটি কাউন্সিল বসেছিল ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিজ্ঞপ্তি বলছে, ২০২৫ সালের ৫৬তম বৈঠকের হারকমানোর পর এই বৈঠকে সুপারিশ করা হয়েছে প্রক্রিয়া নিয়ে: নিবন্ধন, রিটার্ন, ফেরত আর বিচারিক নিষ্পত্তি, যার মধ্যে আছে ফেরতের দ্রুততর, ব্যবস্থানির্ভর প্রক্রিয়াকরণ।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- GST portal (GSTN): GST Gross and Net Collections as on 31/10/2026, monthly revenue report, provisional
- GST portal (GSTN): GST Gross and Net Collections as on 30 September 2026, monthly revenue report, provisional
- Press Information Bureau: PIB Backgrounder, GST Revenue Soars in October 2025, 3 November 2025
- Press Information Bureau, Ministry of Finance: Recommendations of the 57th Meeting of the GST Council, 8 October 2026
- Business Standard (PTI): Gross GST collections rise 23% to Rs 2.31 trillion in October on strong sales, 1 November 2026
- Rediff.com (PTI): India's GST collections surge 23% to Rs 2.31 lakh crore in October amid festive demand, 1 November 2026
- The Tribune (ANI): Gross GST collections rise 22.9% to Rs 2.31 lakh crore in October, net revenue up 25.6%, 1 November 2026
- Business Today: Gross GST collections hit Rs 2.31 lakh crore in October, 22.9% YoY rise, 1 November 2026
- Deccan Herald: GST collections, festive demand and imports push October revenue up 23%
- EconoTimes: India's October GST receipts rise 22.9% on a base excluding cess
- Goodreturns: GST collection April 2026 reaches record high of Rs 2.43 lakh crore
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।