ছবি: Sarvajanik Puralekh / Wikimedia Commons, CC BY-SA 2.0 (ছাঁটা)
বাংলা
বড় জলবিদ্যুৎ ধরে ভারতের স্থাপিত পুনর্নবীকরণযোগ্য ক্ষমতা ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল ২৯৯.২৫ GW, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগ হয়েছে ২৪.৫৬ GW, নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের তথ্যে, এনার্জেটিকা ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী। পারমাণবিক ধরলে অ-জীবাশ্ম ক্ষমতা ৩১ জুলাই ৩০০ GW পেরিয়েছে, মন্ত্রক ৯ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের (এমএনআরই) তথ্য অনুযায়ী, যা এনার্জেটিকা ইন্ডিয়া ১৪ অক্টোবর প্রকাশ করেছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের স্থাপিত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষমতা ছিল ২৯৯.২৫ GW। এক গিগাওয়াট (GW) মানে ১,০০০ মেগাওয়াট। মোট ক্ষমতার মধ্যে ২৪.৫৬ GW বসেছে এপ্রিল থেকে ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে।
মন্ত্রক বড় জলবিদ্যুৎকে পুনর্নবীকরণযোগ্য ধরে আর পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাদ রাখে। ফলে এই গণনা আগস্টে ঘোষিত ৩০০ GW মাইলফলকের চেয়ে সংকীর্ণ, যেটি সব অ-জীবাশ্ম উৎস ধরে। দুটোই তারিখসহ নিচে সাজানো আছে। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই লেখার জন্য পাওয়া এমএনআরইয়ের সবচেয়ে সাম্প্রতিক সারণি ৩০ সেপ্টেম্বরের।
২৯৯.২৫ GW কী দিয়ে তৈরি
এনার্জেটিকার প্রতিবেদন, যা এমএনআরইয়ের সারণি থেকে নেওয়া, তিনটি বড় অংশ দেয়: ১৭১.০৫ GW সৌর, ৫৯.২০ GW বায়ু আর ৫২.০৬ GW বড় জলবিদ্যুৎ। সৌর মোটের প্রায় ৫৭ শতাংশ, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের ১৬২.১৫ GW থেকে বেশি, যে সংখ্যা মন্ত্রী ২২ জুলাই লোকসভায় দিয়েছিলেন। বাকিটা, সরল বিয়োগে প্রায় ১৬.৯ GW, জৈব বিদ্যুৎ আর ছোট জলবিদ্যুৎ। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিলের একটি পিআইবি বিজ্ঞপ্তি মার্চে সেগুলোকে গুনেছিল যথাক্রমে ১১.৭৫ GW আর ৫.১৭ GW।
সৌর ভাগ হয় ভূমিতে বসানো কেন্দ্রের ১২৫.৬৫ GW, গ্রিডে যুক্ত ছাদের ব্যবস্থার ৩৩.৪১ GW, বায়ু-সৌর সংকর কেন্দ্রের সৌর অংশের ৫.৩৬ GW আর গ্রিডের বাইরের ব্যবস্থার ৬.৬৩ GW-এ। সৌর ক্ষমতার লেখাটি বছরের পর বছর এই বিভাগগুলো অনুসরণ করে আর উৎপাদনের দিকটিও ধরে।
ছয় মাসে ২৪.৫৬ GW
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরে যোগ হয়েছে ২০.৭৯ GW সৌর, ৩.১১ GW বায়ু আর ৬৫০ মেগাওয়াট বড় জলবিদ্যুৎ। শুধু সেপ্টেম্বরে যোগ হয়েছে ৩,৬৯২ মেগাওয়াট, তার মধ্যে ৩,০১১ মেগাওয়াট সৌর আর ৬৮১ মেগাওয়াট বায়ু। তুলনার জন্য, পুরো ২০২৫-২৬ সালে যোগ হয়েছিল ৪৪.৬১ GW সৌর আর ৬.০৫ GW বায়ু। মন্ত্রকের এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি বায়ুর সংখ্যাকে এক বছরের সর্বোচ্চ বলেছে, আর ওই বছর যোগ হওয়া ৫৫.২৯ GW অ-জীবাশ্ম ক্ষমতাকে যেকোনো বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
একই বিজ্ঞপ্তি একটি মিলিয়ে দেখার সুযোগ দেয়, কারণ তাতে ২০২৬ সালের মার্চের অবস্থান আছে: ১৫০.২৬ GW সৌর, ৫৬.০৯ GW বায়ু, ৫১.৪১ GW বড় জলবিদ্যুৎ আর সব মিলিয়ে ২৭৪.৬৮ GW পুনর্নবীকরণযোগ্য। ছয় মাসের সংখ্যাগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ১৭১.০৫ GW, ৫৯.২০ GW, ৫২.০৬ GW আর প্রায় ২৯৯.২৪ GW। এগুলো সেপ্টেম্বরের সারণির সঙ্গে মেলে, অর্থাৎ যোগ হওয়া ক্ষমতা আর মোট পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গত।
২০১৪ সালের মার্চ থেকে, যখন পিআইবি পুনর্নবীকরণযোগ্য ক্ষমতা ৭৬.৩৮ GW বলে, এই লেখার অঙ্ক অনুযায়ী গণনাটি বেড়েছে প্রায় ৩.৯ গুণ। সৌর ২.৮২ GW থেকে হয়েছে ১৭১.০৫ GW, আর বায়ু ২১.০৪ GW থেকে ৫৯.২০ GW।
কেন ৩০০ GW-এর দুটি সংখ্যা
২০২৬ সালের ২৪ জুলাই নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেছিলেন অ-জীবাশ্ম ক্ষমতা বেড়ে ২৯৭.৩৬ GW হয়েছে আর “আগামী কয়েক দিনে” ৩০০ GW পেরোবে, দ্য ট্রিবিউনের বিবরণ অনুযায়ী। ৬ আগস্ট সিআইআইয়ের এক জ্বালানি সম্মেলনে তিনি বলেন সেই রেখা পেরোনো হয়ে গেছে, আর পিআইবি ৯ আগস্ট বিশদ প্রকাশ করে।
মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই ৩০০.৫০ GW গুনেছে: ১৬৪.৫৯ GW সৌর, ৫৮.১৪ GW বায়ু, ৫৭.২৪ GW বড় ও ছোট জলবিদ্যুৎ, ১১.৭৫ GW জৈব বিদ্যুৎ আর ৮.৭৮ GW পারমাণবিক। এটিকে বিজ্ঞপ্তি ভারতের প্রায় ৫৫২ GW স্থাপিত বিদ্যুৎ ক্ষমতার ৫৪ শতাংশের বেশি বলেছে, আর ২০৩০ সালের ৫০০ GW লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি।
শুধু পুনর্নবীকরণযোগ্যের গণনা পারমাণবিকের ৮.৭৮ GW বাদ রাখে, তাই ৩০ সেপ্টেম্বর তা ছিল ২৯৯.২৫ GW, যখন অ-জীবাশ্ম গণনা দুই মাস আগেই ৩০০ GW পেরিয়েছে। সেপ্টেম্বরের সংখ্যায় পারমাণবিক যোগ করলে এই লেখার অঙ্ক অনুযায়ী অ-জীবাশ্ম ক্ষমতা হয় ৩০৮.০৩ GW। মন্ত্রক ওই শ্রেণিকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করে আর ২০১৪ সাল থেকে ভাগটি কীভাবে সরেছে, তা অ-জীবাশ্ম মাইলফলকের লেখায় আছে।
কেন্দ্রগুলো কোথায়
৩০ সেপ্টেম্বরের জন্য এনার্জেটিকার রাজ্য-সারণি মোট পুনর্নবীকরণযোগ্য ক্ষমতায় প্রথম রেখেছে গুজরাটকে ৫৫,৫১১ মেগাওয়াট নিয়ে, তার পরে রাজস্থান ৫১,৫৯৬ মেগাওয়াট, মহারাষ্ট্র ৩৩,৩১৬ মেগাওয়াট, তামিলনাড়ু ৩০,০৭০ মেগাওয়াট আর কর্ণাটক প্রায় ২৮,২১৩ মেগাওয়াট।
প্রযুক্তি অনুযায়ী শীর্ষ রাজ্য আলাদা। সৌরে ক্রম রাজস্থান ৪৫,১২১ মেগাওয়াট, গুজরাট ৩৬,২৩৫ মেগাওয়াট, মহারাষ্ট্র ২০,৪০০ মেগাওয়াট, তামিলনাড়ু ১৪,৩৫৪ মেগাওয়াট আর কর্ণাটক ১২,৩৪৮ মেগাওয়াট। বায়ুতে গুজরাট ১৭,০৪৪ মেগাওয়াট, তামিলনাড়ু ১২,৩৩৫ মেগাওয়াট, কর্ণাটক ৮,৯৭৪ মেগাওয়াট, মহারাষ্ট্র ৬,৪৮৫ মেগাওয়াট আর রাজস্থান ৫,৮১৫ মেগাওয়াট।
নতুন ক্ষমতাও একই রাজ্যগুলোয় কেন্দ্রীভূত। জেএমকে রিসার্চের গণনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে যোগ হওয়া সৌর ও বায়ুর মধ্যে গুজরাট প্রায় ১২.৯ GW আর রাজস্থান প্রায় ৯ GW। মহারাষ্ট্র যোগ করেছে প্রায় ৩ GW। তামিলনাড়ু আর অন্ধ্রপ্রদেশ সহ শীর্ষ পাঁচ রাজ্য মোট যোগ হওয়া ক্ষমতার প্রায় ৭৬ শতাংশ নিয়েছে।
জেএমকে রিসার্চের পঞ্জিকাবর্ষের হিসাব
ওপরের এমএনআরই সারণি অর্থবছর ধরে চলে, এপ্রিল থেকে মার্চ। জেএমকে রিসার্চ তার বদলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর গোনে, আর তাদের মোট সংখ্যা মন্ত্রকের সংখ্যার সঙ্গে যোগ করা উচিত নয়। তারা সৌরে যোগ হওয়া ক্ষমতা ধরেছে প্রায় ৩৫.২ GW, ২০২৫ সালের একই মাসগুলোর চেয়ে ১৯.৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বড় আকারের কেন্দ্র প্রায় ২৪.৪ GW, ছাদের ব্যবস্থা প্রায় ৯.৮ GW আর গ্রিডের বাইরের ও বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবস্থা প্রায় ১.০৪ GW।
জেএমকের ত্রৈমাসিক সংখ্যায় বড় আকারের সৌর প্রথম ত্রৈমাসিকে ১২.১২ GW, দ্বিতীয়টিতে ৬.৮৭ GW আর তৃতীয়টিতে ৫.৪ GW। নয় মাসের মোটের প্রায় ৩৪ শতাংশ ছাদের সৌর তৃতীয় ত্রৈমাসিকে নিয়েছে। ছাদের সৌরের মোট জমা ক্ষমতা পৌঁছেছে প্রায় ৩৩.৪ GW, যা এমএনআরইয়ের সংখ্যার সঙ্গে মেলে।
নয় মাসে বায়ু যোগ করেছে প্রায় ৪.৬৯ GW, এক বছর আগের চেয়ে প্রায় ৫.৫ শতাংশ কম। জেএমকে আশা করে ২০২৬ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে আরও ১০ থেকে ১২ GW সৌর ও বায়ু যোগ হবে। সিআইআই সম্মেলনে জোশী বলেছেন ৫০ লক্ষেরও বেশি পরিবার পিএম সূর্য ঘর ছাদ-সৌর প্রকল্পের আওতায় এসেছে। পিএম সূর্য ঘরের লেখায় স্থাপনার সংখ্যা আর ভর্তুকির নিয়ম আছে।
এরপর কী
লক্ষ্য আর অগ্রগতির মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ফারাক বায়ুতে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফো রিসোর্সেস ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে এমএনআরই ২০২৬-২৭ সালে ৭.৫ থেকে ৮ GW বায়ু ক্ষমতা আশা করে, আর ছয় মাসের ৩.১১ GW সেই পরিসরের মোটামুটি ৩৯ থেকে ৪১ শতাংশ। ৩১ আগস্ট বায়ুর মোট ক্ষমতা ছিল ৫৮.৫২ GW।
ক্ষমতা আর সরবরাহ করা বিদ্যুৎ আলাদা মাপ। পিআইবির এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি বলে ২০২৫-২৬ সালে অ-জীবাশ্ম উৎস ভারতের উৎপাদনের ২৯.২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৩৮.৯৭ বিলিয়ন ইউনিট দিয়েছে, যদিও স্থাপিত ক্ষমতার ৫৪ শতাংশের বেশি ছিল তাদের।
২০৩০ সালের ৫০০ GW লক্ষ্যের বিপরীতে ৩০৮.০৩ GW অ-জীবাশ্ম গণনা এই লেখার অঙ্ক অনুযায়ী বসানো বাকি রাখে প্রায় ১৯২ GW।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- PIB: India Ranks third globally in Renewable Energy Installed Capacity (Ministry of New and Renewable Energy, 8 April 2026)
- PIB: India Achieves Landmark 300 GW Non-Fossil Fuel Power Capacity (Ministry of New and Renewable Energy, 9 August 2026)
- Lok Sabha Starred Question No. 58, Growth in Solar Capacity (Ministry of New and Renewable Energy, answered 22 July 2026)
- Energetica India: India adds 3.69 GW RE capacity in September 2026, total addition in FY27 reaches 24.56 GW (14 October 2026)
- Energetica India: India crosses 300 GW of non-fossil fuel capacity, achieves over 60 percent of 2030 target (10 August 2026)
- JMK Research: India Added 35.2 GW of Solar and 4.69 GW of Wind Capacity in the First Nine Months of 2026 (9 October 2026)
- TaiyangNews: JMK, India Installed 35.2 GW Solar During 9M 2026
- News On AIR: India crosses 300 GW of installed non-fossil fuel power capacity (8 August 2026)
- Outlook Business (PTI): India crosses 300 GW non-fossil fuel capacity, on track to achieve 500 GW by 2030, Pralhad Joshi (6 August 2026)
- The Tribune: India to cross landmark 300 GW non-fossil fuel capacity soon, Union Minister Pralhad Joshi (24 July 2026)
- Industrial Info Resources: India targets 7.5 to 8 GW wind power capacity addition in FY2026-27 (30 September 2026)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।