Skip to content
আইআইটি দিল্লিতে গড়ে ওঠা একটি স্টার্ট-আপের ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর ওড়ানো মহীশূর দশেরার ৩,৪৭৩ ড্রোনের ময়ূর এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে পাখির সবচেয়ে বড় আকাশ-প্রদর্শনী
শিল্প ও চলচ্চিত্র

আইআইটি দিল্লিতে গড়ে ওঠা একটি স্টার্ট-আপের ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর ওড়ানো মহীশূর দশেরার ৩,৪৭৩ ড্রোনের ময়ূর এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে পাখির সবচেয়ে বড় আকাশ-প্রদর্শনী

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাতে বান্নিমণ্টপের টর্চলাইট প্যারেড গ্রাউন্ডের আকাশে ভারতে তৈরি ৩,৪৭৩টি ড্রোন একটি নাচের ময়ূর গড়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস শিরোনামটি রেখেছে রাজ্যের বিদ্যুৎ সংস্থা সিইএসসি আর কর্ণাটক জ্বালানি দপ্তরের নামে, শো ওড়িয়েছে বটল্যাব ডায়নামিকস।

· · 4 মিনিটের পাঠ

২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রবিবার রাতে মহীশূরের বান্নিমণ্টপের টর্চলাইট প্যারেড গ্রাউন্ডের ওপর ৩,৪৭৩টি ড্রোন উঠে একটি নাচের ময়ূর গড়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ফলাফলটিকে মাল্টিরোটর বা ড্রোন দিয়ে গড়া পাখির সবচেয়ে বড় আকাশ-প্রদর্শনী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, আর শিরোনামটি দিয়েছে চামুণ্ডেশ্বরী ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেড (সিইএসসি) এবং কর্ণাটক সরকারের জ্বালানি দপ্তরকে। ড্রোনগুলি ওড়িয়েছে বটল্যাব ডায়নামিকস, আইআইটি দিল্লিতে গড়ে ওঠা একটি সংস্থা, মহীশূর দশেরার সন্ধ্যার ড্রোন শোয়ের অংশ হিসেবে।

গিনেসের পাতা কী বলছে

রেকর্ডের পাতায় সংখ্যা ৩,৪৭৩, জায়গা মহীশূর আর তারিখ ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর। এর টীকায় বলা হয়েছে ময়ূরের আকৃতিটি “২০ সেকেন্ডের বেশি সময় দৃশ্যমান ছিল” আর প্রচেষ্টাটি মহীশূরের দশেরা উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে করা হয়েছিল। ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি।

স্টার অব মাইসোর আর ইটিভি ভারত দুজনেই জানিয়েছে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আধিকারিকেরা লন্ডন থেকে উড়ে এসেছিলেন, শো-এর পর আকৃতিটি প্রত্যয়ন করেছেন এবং শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন সিইএসসির কারিগরি অধিকর্তা এল লোকেশ আর তাঁর দলের হাতে। শংসাপত্রের লেখা, স্টার অব মাইসোর আর ডেকান ক্রনিকল যেভাবে উদ্ধৃত করেছে, অনলাইন পাতার সঙ্গে মেলে: শিরোনামটি সিইএসসি ও জ্বালানি দপ্তর অর্জন করেছে “মহীশূরে ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর।”

রাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী, ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলেছেন রেকর্ডটি “সিইএসসির আধিকারিক ও কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম আর সমন্বিত চেষ্টার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।”

মাটিতে শোটি

দশেরার সরকারি পোর্টালে ড্রোন শো তালিকাভুক্ত আছে ১৭, ১৮, ২০ ও ২১ অক্টোবর রাত ৮টায়, বান্নিমণ্টপের পাঞ্জিনা কাভায়াথু মাঠে, অর্থাৎ টর্চলাইট প্যারেড গ্রাউন্ডে। রেকর্ডের প্রচেষ্টা ছিল ১৮ অক্টোবরের শো, চারটির মধ্যে দ্বিতীয়টি।

স্টার অব মাইসোর সেই সন্ধ্যায় ১২টি আকাশ-প্রদর্শনী গুনেছে। তারা তালিকা দিয়েছে অভিনেতা ডঃ বিষ্ণুবর্ধনের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, সৌরজগৎ, ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে এক সৈনিক, একটি প্রজাপতি, একটি সিংহ, সুদর্শন চক্র, শিবতাণ্ডব, নন্দী, সোনার হাওদাসহ হাতি, ময়ূর আর শেষে দেবী চামুণ্ডেশ্বরী। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আর সিয়াসত একই সিংহ, প্রজাপতি, সৈনিক ও চামুণ্ডেশ্বরীর আকৃতির নাম করেছে। গায়ক মণিকান্ত খাদ্রি, অনুরাধা ভট্ট আর হংসিকা আইয়ার ড্রোন ওঠার আগে গান গেয়েছেন, স্টার অব মাইসোর ও ইটিভি ভারত অনুযায়ী।

স্টার অব মাইসোর ২৫,০০০-এর বেশি দর্শকের কথা জানিয়েছে। বটল্যাবের নিজের বিবৃতি বড় সংখ্যা দিয়েছে, বলেছে প্রথম দুই সন্ধ্যায় ৩৩,৫০০-র আনুষ্ঠানিক বসার ধারণক্ষমতার বিপরীতে উপস্থিতি ৪০,০০০ ছাড়িয়েছিল, আর আরও ২০,০০০-এর বেশি মানুষ মাঠের বাইরে থেকে, ছাদ আর বারান্দা থেকে দেখেছেন। দুটি গণনা আলাদা জিনিস ধরে, আর এগুলি মেলানো হয়নি।

যে সংস্থা ওড়াল

বটল্যাব ডায়নামিকস ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আর আইআইটি দিল্লিতে গড়ে ওঠা। আইআইটি দিল্লির প্রযুক্তি হস্তান্তর সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার (এফআইটিটি) একে বর্ণনা করেছে একটি ড্রোন ঝাঁকের স্টার্ট-আপ হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের দুজন ইঞ্জিনিয়ারিং ফিজিক্সের প্রাক্তনী যার প্রতিষ্ঠাতা, হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার ঘরেই তৈরি। ইলেকট্রনিক্স ফর ইউ সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডঃ সারিতা অহলাওয়াতের একটি সাক্ষাৎকারে তিনজন প্রতিষ্ঠাতার নাম করেছে (অনুজ কুমার বার্নওয়াল, সারিতা অহলাওয়াত আর তন্ময় বুনকার) এবং বলেছে, পোখরানে মাঠ পরীক্ষায় তাপ, ধুলো আর হাওয়ায় আমদানি করা শখের মানের যন্ত্রাংশ ব্যর্থ হওয়ার পর দলটি ২০১৯ সালে তাদের ফ্লাইট কন্ট্রোলার, মোটর কন্ট্রোলার আর জিপিএস মডিউল নতুন করে নকশা করেছিল।

২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি সংস্থাটি নতুন দিল্লিতে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠানে প্রায় ১,০০০ ড্রোন ওড়ায়। অনুষ্ঠানের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকেরা দ্য প্রিন্টকে বলেছিলেন, ওই আকারের দেশীয়ভাবে নকশা ও পরিকল্পনা করা ড্রোন শো করা চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত হবে চতুর্থ দেশ। এফআইটিটির পাতাও একই ১,০০০ ড্রোনের ওড়ানোর কথা লিখেছে, যা একজন ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।

অহলাওয়াত বটল্যাবের বিবৃতিতে বলেছেন, “কর্ণাটকের মানুষের জন্য ভারতে তৈরি ড্রোন” দিয়ে জাতীয় পাখি গড়া দলের কাছে গর্বের মুহূর্ত ছিল।

মহীশূরের ড্রোনের বহর কীভাবে বেড়েছে

বটল্যাবের বিবৃতি বলছে তারা ২০২২ সাল থেকে দশেরার ড্রোন শো ওড়াচ্ছে, ফলে ২০২৬ তাদের টানা পঞ্চম বছর, আর বহরের আকার দিয়েছে: ২০২২ ও ২০২৩ সালে ২৫০টি ড্রোন, ২০২৪ সালে ১,৫০০, আর ২০২৫ সালে ২,৯৮৩টি ড্রোনে গড়া একটি বাঘ। ২০২৫ সালের বাঘটিও ছিল একটি গিনেস শিরোনাম, স্তন্যপায়ীর সবচেয়ে বড় আকাশ-প্রদর্শনীর বিভাগে। ওই শো নিয়ে বটল্যাবের নিজের বিবরণ বলছে, ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো সংখ্যা ছিল ১,৯৮৫টি ড্রোন, আর রেকর্ডের প্রচেষ্টায় ৫ শতাংশের বেশি ড্রোন ব্যর্থ হওয়ার অনুমতি ছিল না।

২০২৬ সালের জন্য পরিকল্পনা ছিল আরও বড়। স্টার অব মাইসোর বলছে আধিকারিকেরা ৩,৫০০ ড্রোন ওড়ানোর ইচ্ছা করেছিলেন আর ২৭টি কম পড়েছে, যা ৩,৫০০ আর ময়ূর গড়া ৩,৪৭৩-এর মধ্যে ফারাক।

মহীশূরের আগেও পাখির শিরোনামের একজন ধারক ছিল। স্টার অব মাইসোর ও ডেকান ক্রনিকল আগের পাখির রেকর্ডকে লিবিয়ায় প্রায় ৩,০০০ ড্রোন বলে জানিয়েছে, যার তারিখ তারা দিয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। তাদের তারিখ লিবিয়ার এন্ট্রির জন্য গিনেসের কোনো পাতার সঙ্গে মেলানো যায়নি, তাই এখানে সেটি তাদের প্রতিবেদন হিসেবেই আছে।

যেখানে উৎসগুলি আলাদা

ডেকান ক্রনিকলের প্রতিবেদন তার লেখায় ৩,৪৭৬টি ড্রোন দিয়েছে, যেখানে গিনেসের পাতা, বটল্যাব, স্টার অব মাইসোর, ইটিভি ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আর সিয়াসত দিয়েছে ৩,৪৭৩। এই লেখা গিনেসের পাতার সংখ্যা ব্যবহার করেছে। ডেকান ক্রনিকল ৩,৫০০ থেকে ঘাটতি ২৪ বলেছে, যা তার নিজের গণনা থেকে আসে। তাদের প্রতিবেদন একটি বটল্যাব পোস্টও উদ্ধৃত করেছে, যাতে ৩,৪৭৩ আছে।

বটল্যাবের বিবৃতি ময়ূরকে সংস্থার অষ্টম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বলে গুনেছে। ওই গণনা সংস্থার নিজের। বিবৃতিতে ড্রোন শোগুলির ২০২৫ সালের তুলনায় দর্শক সমাগমে ১৫৪ শতাংশ বৃদ্ধির কথাও আছে। এই লেখার জন্য খোলা আর কোনো উৎস এটি পুনরাবৃত্তি করেনি, তাই সংখ্যাটি উপরের বিবরণে রাখা হয়নি।

২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত গিনেসের পাতা রেকর্ড হিসেবে ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর অর্জিত ৩,৪৭৩ ড্রোনই তালিকাভুক্ত রেখেছে।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Guinness World Records: Largest aerial display of a bird formed by multirotors/drones (record page, 3,473, Mysuru, 18 October 2026)
  2. Mysuru Dasara 2026 official portal (Government of Karnataka): daily programme, with the drone show at the Panjina Kavayathu ground, Bannimantap
  3. BotLab Dynamics press release, distributed by NewsVoir and published by The Tribune (PTI), 19 October 2026
  4. BotLab Dynamics: Mysuru Dasara Drone Light Show Guinness World Record 2026
  5. BotLab Dynamics: BotLab Dynamics Breaks 6th Guinness World Record at Mysore Dasara Drone Show (2025 tiger formation)
  6. Foundation for Innovation and Technology Transfer, IIT Delhi: Success stories, BotLab Dynamics
  7. Star of Mysore: 3,473-drone peacock enters Guinness record (19 October 2026)
  8. Deccan Chronicle: Mysuru's Aerial Peacock Formation Using Drones Enters Guinness World Records (18 October 2026)
  9. ETV Bharat: Mysuru Dasara 2026, Peacock Formation Using 3,473 Drones Sets Guinness World Record
  10. The Indian Express: Mysuru Dasara 2026, 3,473 drones create giant dancing peacock, sets Guinness Record
  11. bdnews24 (citing NDTV): India's Mysuru Dasara drone show sets Guinness world record with 3,473-drone peacock
  12. Siasat: Mysuru Dasara drone show sets Guinness World Record with 3473 drones
  13. ThePrint: Nearly 1,000 drones by IIT-Delhi startup to feature during Beating Retreat ceremony (January 2022)
  14. Electronics For You: BotLab Dynamics, Engineering India's Drone Swarm Breakthrough

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#mysuru dasara#drone show#guinness world records#botlab dynamics#peacock#cesc#iit delhi#karnataka

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: শিল্প ও চলচ্চিত্র
কোপ্পালের হিরে বেনকালে গ্রানাইট পাহাড়ের প্রায় ২০ হেক্টর জুড়ে আছে গোল ছিদ্রওয়ালা ডলমেন, আর ভারত ২০২১ সালে এই লৌহযুগের সমাধিক্ষেত্রকে ইউনেস্কোর অস্থায়ী তালিকায় তুলেছে
স্থানীয়েরা মোরেরা পাহাড়ের পাথরের কুঠুরিগুলোকে বলেন মোরেরা বাড়ি। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এগুলোকে পড়েন সমাধি হিসেবে, যা বানানো হয়েছিল খনন করা এক বৃষ্টির জলাশয়ের পাশে, আর সংখ্যা ও তারিখ নিয়ে এক সূত্র থেকে আরেক সূত্রে এখনও অমিল আছে।
আইহোলে প্রায় ১২৫টি মন্দির আছে যেখানে চালুক্য নির্মাতারা পাথরে মন্দিরের গড়ন পরখ করেছিলেন, আর তার একটি, মেগুতির জৈন মন্দির, নিজের শিলালিপি দিয়েই ৬৩৪ বা ৬৩৫ সালের বলে নির্ধারিত
পেছনের দেয়ালে ঠেসে বসানো গর্ভগৃহসহ একটি হলঘর, হিন্দু উপাসনার জন্য নতুন করে গড়া বৌদ্ধ প্রার্থনাগৃহের নকশা, আর জৈন মন্দিরের দেয়ালে এক কবির শ্লোক: যে গ্রামে এক রাজবংশের নির্মাতারা সেই গড়নগুলো ঝালিয়ে নিয়েছিলেন, যা পরে নদীর ভাটিতে পূর্ণতা পায়।
বাদামির ৩ নম্বর গুহা চালুক্য রাজধানীর চারটি শিলাখোদিত গুহার মধ্যে সবচেয়ে বড়, আর একটি স্তম্ভলিপিতে শক ৫০০ বা ৫৭৮ থেকে ৫৭৯ সালে বিষ্ণু মন্দির হিসেবে এর সমাপ্তির তারিখ লেখা
একটি স্তম্ভগাত্রের ক্ষয়ে যাওয়া ফলকে আছে এক রাজার নাম, একটি পূর্ণিমার দিন, একটি গ্রাম আর ষোলোজন ব্রাহ্মণ, আর এটিই গুহাটির প্রধান লিপি। ১৮৭০-এর দশকে দুজন সম্পাদক এটি পড়েছিলেন আর খুঁটিনাটিতে তাঁদের মত আলাদা।
← সব লেখা