অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের মাসিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বেকারত্বের হার ৫.০ শতাংশ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৫.২ শতাংশ। গ্রামীণ নারীদের কাজে অংশগ্রহণ বেড়েছে, আর শহুরে নারীদের অংশগ্রহণ ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে উঁচুতে পৌঁছেছে।
ভারতের বেকারত্বের হার ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৫.০ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৫.২ শতাংশের চেয়ে ০.২ শতাংশ পয়েন্ট কম। জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (এনএসও) ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর এই হিসাব প্রকাশ করেছে। এটি পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষার (পিএলএফএস) আঠারোতম মাসিক বুলেটিন। কাজ ও বেকারত্ব নিয়ে এটিই সরকারের প্রধান সমীক্ষা, আর এতে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী সবাই ধরা হয়।
ওই বয়সীদের মধ্যে যাঁরা কাজ করছেন বা কাজ খুঁজছেন, তাঁদের অনুপাত, অর্থাৎ শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার, ছিল ৫৫.৫ শতাংশ, এক বছর আগে ছিল ৫৫.৩ শতাংশ। গ্রামীণ নারীদের মধ্যে তা পুরো এক পয়েন্ট বেড়ে ৩৭.৯ থেকে ৩৮.৯ শতাংশ হয়েছে। নিচের সংখ্যাগুলি মন্ত্রকের নিজের, তাদের প্রেস নোট থেকে নেওয়া, আর ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সেপ্টেম্বরের বুলেটিনই সবচেয়ে সাম্প্রতিক।
জুনের ৫.৫ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে ৫.০ শতাংশ
সাম্প্রতিক চারটি বুলেটিনে হার ধাপে ধাপে নামছে। এনএসও-র ১৫ জুলাই, ১৭ আগস্ট, ১৫ সেপ্টেম্বর ও ১৫ অক্টোবরের প্রেস নোট অনুযায়ী মোট বেকারত্বের হার জুনে ছিল ৫.৫ শতাংশ, জুলাইয়ে ৫.১ শতাংশ, আর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই ৫.০ শতাংশ। জুলাইয়ের নোটে বলা হয়েছিল, হার আগের মাসের তুলনায় যেমন কম, তেমনি ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায়ও কম।
নামায় এগিয়ে ছিল গ্রামীণ ভারত। গ্রামীণ বেকারত্বের হার জুনে ছিল ৫.০ শতাংশ, জুলাইয়ে ৪.৫, আগস্টে ৪.১ আর সেপ্টেম্বরে ৪.২ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৪.৬ শতাংশের তুলনায় এটি ০.৪ পয়েন্ট কম।
লিঙ্গ ধরে সেপ্টেম্বরের প্রেস নোটে পুরুষদের বেকারত্ব ৪.৯ শতাংশ, এক বছর আগের চেয়ে ০.২ পয়েন্ট কম, আর নারীদের ৫.২ শতাংশ, ০.৩ পয়েন্ট কম। গ্রামীণ পুরুষদের বেকারত্ব এক বছরে ৪.৭ থেকে নেমে ৪.৪ শতাংশ হয়েছে।
গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণ এক পয়েন্ট বেড়েছে
সেপ্টেম্বরে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের মোট হার ছিল ৩৪.৬ শতাংশ, এক বছর আগে ছিল ৩৪.১ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে তা ছিল ৩৮.৯ শতাংশ, আগে ছিল ৩৭.৯ শতাংশ। এনএসও-র নোট আরও বলছে, গ্রামীণ নারীদের বেকারত্ব ৩.৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত নথিভুক্ত সর্বনিম্ন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ০.৪ পয়েন্ট কম।
কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত, অর্থাৎ ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে যাঁরা সত্যিই কাজে আছেন তাঁদের অনুপাতও একই দিকে গেছে। মোট অনুপাত ছিল ৫২.৭ শতাংশ, বছরে ০.৩ পয়েন্ট বেশি। পুরুষদের ৭৩.৬ শতাংশ, ০.৪ পয়েন্ট বেশি, আর নারীদের ৩২.৮ শতাংশ, ০.৫ পয়েন্ট বেশি। গ্রামীণ কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত ছিল ৫৫.৫ শতাংশ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৫৪.৮ শতাংশ থেকে ০.৭ পয়েন্ট বেশি।
একই চারটি বুলেটিনে নারীদের অংশগ্রহণের গতিপথ ছিল জুনে ৩২.৭ শতাংশ, জুলাইয়ে ৩৪.৪ শতাংশ, আগস্টে ৩৪.৮ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে ৩৪.৬ শতাংশ।
শহুরে নারীদের অংশগ্রহণ ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে উঁচুতে
প্রেস নোটের নিজের শিরোনামে বলা হয়েছে, শহুরে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ “২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে”। অঙ্কটি ২৫.৯ শতাংশ, আগস্টে ছিল ২৫.৪ শতাংশ। শহুরে কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত ৪৭.২ শতাংশ, সেটিও ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। শহুরে পুরুষদের অনুপাত ৭০.৭ থেকে বেড়ে ৭১.০ শতাংশ আর শহুরে নারীদের ২৩.২ থেকে বেড়ে ২৩.৫ শতাংশ হয়েছে।
আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শহুরে মোট অংশগ্রহণ ৫০.৪ থেকে বেড়ে ৫০.৭ শতাংশ হয়েছে। বছর ধরে তুলনা করলে ছবিটা অনেক সমতল: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শহুরে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ২৬.১ শতাংশ, ফলে এই বৃদ্ধি পরের কয়েক মাসের তুলনায়, গত বছরের তুলনায় নয়। নোটে লেখা আছে, বছরে শহুরে মোট অংশগ্রহণ সামান্য কমে ৫০.৯ থেকে ৫০.৭ শতাংশ হয়েছে।
সমীক্ষা কীভাবে ঠিক করে কে বেকার
মাসিক বুলেটিনে মন্ত্রক যে পদ্ধতি ব্যবহার করে, তার নাম বর্তমান সাপ্তাহিক অবস্থা (Current Weekly Status)। সাক্ষাৎকারের আগের সাত দিনে একজনের কী কাজ ছিল, তা দেখে বিচার করা হয়। মন্ত্রকের সংজ্ঞায় কেউ ওই সপ্তাহে বেকার ধরা হন, যদি তিনি কোনো দিন এক ঘণ্টাও কাজ না করে থাকেন, কিন্তু অন্তত এক ঘণ্টার জন্য কাজ খুঁজে থাকেন বা কাজের জন্য তৈরি থাকেন।
পদ্ধতিটি বদলেছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এমওএসপিআই-এর নকশা-নোট অনুযায়ী এখন নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারে পরপর চার মাসে চারবার যাওয়া হয়, ফলে মন্ত্রক এক মাস থেকে পরের মাসে ৭৫ শতাংশ নমুনা মিলিয়ে মাসিক হিসাব প্রকাশ করতে পারে। প্রথম মাসিক বুলেটিন, ২০২৫ সালের এপ্রিলের, বেরিয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ মে, তাতে বেকারত্ব ছিল ৫.১ শতাংশ।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের হিসাব দাঁড়িয়ে আছে ৩,৭০,৫১৩ জনের সাক্ষাৎকারের ওপর (প্রায় ৩.৭ লক্ষ), যাঁদের ২,১১,৩৩৩ জন গ্রামীণ আর ১,৫৯,১৮০ জন শহুরে এলাকার। সব অঙ্কই এই নমুনা থেকে করা অনুমান।
৫.০ শতাংশ আর ৩.১ শতাংশ দুটোই কেন খবরে
২০২৫ সালের বার্ষিক অঙ্ক মাসিকটির চেয়ে কম। ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ পিটিআই জানিয়েছিল, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ জুড়ে পিএলএফএস-এর বার্ষিক সমীক্ষায় বেকারত্ব ৩.১ শতাংশ।
দুটি সংখ্যা আলাদা মাপকাঠিতে মাপা। এমওএসপিআই-এর নকশা-নোট বলছে, বার্ষিক হিসাব করা হয় “সাধারণ অবস্থা” (usual status) ধরে, যাতে ৩৬৫ দিন পেছনে তাকানো হয়; আর মাসিক ও ত্রৈমাসিক হিসাবে ধরা হয় সাত দিনের সপ্তাহ। যেমন, বছরের বেশির ভাগ সময় কাজ করেছেন কিন্তু সমীক্ষার সপ্তাহে এক কাজ ছেড়ে অন্য কাজের মাঝামাঝি ছিলেন, এমন একজন সাপ্তাহিক মাপে বেকার আর বার্ষিক মাপে কর্মরত গণ্য হতে পারেন। তাই ৫.০ শতাংশকে ৩.১ শতাংশের সঙ্গে তুলনা করা সমানে সমান তুলনা নয়।
এই কর্মীরা যে অর্থনীতিতে আছেন, তা ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনে ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা আমাদের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি প্রকাশ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর বৃহত্তর অঙ্কগুলি আছে ভারতের জিডিপি র্যাঙ্ক ও তার পেছনের সংখ্যা লেখায়। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক গোনে অন্য জিনিস, গ্রামীণ কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্পে মজুরি-দেওয়া কর্মদিবস, যা নিয়ে আমাদের মনরেগা ও তার উত্তরসূরি লেখাটি আলোচনা করেছে।
বুলেটিনে যা বাড়তে দেখা যায়নি
সেপ্টেম্বরে শহুরে বেকারত্ব ছিল ৬.৯ শতাংশ, আগস্টে ছিল ৬.৮ আর এক বছর আগেও ৬.৮ শতাংশ; এনএসও একে মোটামুটি স্থিতিশীল বলেছে। মাসিক নোটগুলি পরপর পড়লে শহুরে হার মে-তে ৬.৪, জুনে ৬.৬, জুলাইয়ে ৬.৭, আগস্টে ৬.৮ আর সেপ্টেম্বরে ৬.৯ শতাংশ। শহুরে নারীদের বেকারত্ব ছিল ৯.২ শতাংশ, আগস্টে ছিল ৮.৯ শতাংশ।
মোট অংশগ্রহণ আগস্টের ৫৫.৬ শতাংশ থেকে সামান্য নেমে ৫৫.৫ হয়েছে, আর গ্রামীণ কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত মাসের মধ্যে ৫৫.৮ থেকে নেমে ৫৫.৫ শতাংশ। বছর ধরে বেকারত্ব কমার ছবিও প্রতি মাসের তথ্যে নেই: ২০২৬ সালের এপ্রিলের বুলেটিনে হার ছিল ৫.২ শতাংশ, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৫.১ শতাংশ।
সমীক্ষা মাসে মাসে চলে বলে ২০২৬ সালের অক্টোবরের অঙ্ক সেই মাস শেষ হওয়ার আগে বেরোতে পারে না।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- MoSPI, National Statistics Office: Press note on the Periodic Labour Force Survey Monthly Bulletin, September 2026 (15 October 2026)
- MoSPI, National Statistics Office: Press note on the PLFS Monthly Bulletin, August 2026 (15 September 2026)
- MoSPI, National Statistics Office: Press note on the PLFS Monthly Bulletin, July 2026 (17 August 2026)
- MoSPI, National Statistics Office: Press note on the PLFS Monthly Bulletin, June 2026 (15 July 2026), as published by the Press Information Bureau
- MoSPI, National Statistics Office: Press note on the PLFS Monthly Bulletin, April 2026 (15 May 2026), as published by the Press Information Bureau
- Press Information Bureau: PLFS Monthly Bulletin, September 2025 (15 October 2025)
- MoSPI: Monthly Bulletin, Periodic Labour Force Survey, April 2025, the first in the series (15 May 2025)
- MoSPI: Changes in the Periodic Labour Force Survey from 2025 (May 2025)
- DD India: Urban workforce participation improves in September, female LFPR reaches highest level since October 2025 (15 October 2026)
- Adda247 Current Affairs: PLFS September 2026, urban female labour force participation reaches highest level since October 2025
- NationPath India: India unemployment rate at 5% in September 2026, PLFS data (19 October 2026)
- Millennium Post (PTI): Unemployment dips to 3.1% in 2025, survey (28 March 2026)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।