Skip to content
মাদার টেরেসা ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতরত্ন পান, আর ১৯৫০ সালে কলকাতায় তাঁর গড়া সংঘের ২০২৫ সালের মধ্যে ১৩৮টি দেশে ৭৫৪টি মিশন ছিল
আধুনিক ভারত

মাদার টেরেসা ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতরত্ন পান, আর ১৯৫০ সালে কলকাতায় তাঁর গড়া সংঘের ২০২৫ সালের মধ্যে ১৩৮টি দেশে ৭৫৪টি মিশন ছিল

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

তিনি কলকাতায় পৌঁছন ১৯২৯ সালের ৬ জানুয়ারি, মিশনারিজ অফ চ্যারিটি গড়েন ১৯৫০ সালের ৭ অক্টোবর এবং ১৯৬২ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতরত্ন পান। সংঘের ওয়েবসাইট ২০২৫ সালে ১৩৮টি দেশের ৭৫৪টি মিশনে ৫,০৭৬ জন সিস্টারের হিসাব দিয়েছে।

· · 7 মিনিটের পাঠ

মাদার টেরেসা জন্মেছিলেন অ্যাগনেস গনজা বোয়াজিউ নামে, ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট স্কোপিয়েতে। লরেটো সন্ন্যাসিনী হয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছন ১৯২৯ সালের ৬ জানুয়ারি, আর সেখানে মিশনারিজ অফ চ্যারিটি গড়েন ১৯৫০ সালের ৭ অক্টোবর। ভারতের ১৯৬২ সালের পদ্মশ্রী তালিকায় তাঁর নাম ছিল, নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাঁকে ১৯৭৯ সালে শান্তি পুরস্কার দেয়, আর ভারত সরকার ১৯৮০ সালে ভারতরত্ন প্রদান করে। পোপ ফ্রান্সিস তাঁকে সন্ত ঘোষণা করেন ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। ২০২৫ সালে সংঘের নিজের ওয়েবসাইট ১৩৮টি দেশের ৭৫৪টি মিশনে ৫,০৭৬ জন সিস্টারের কথা বলেছে।

তিনি কলকাতায় মারা যান ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, ৮৭ বছর বয়সে। নিজেকে তিনি এভাবে বর্ণনা করেছিলেন, ভ্যাটিকানের জীবনী যে কথাগুলি উদ্ধৃত করেছে: “রক্তে আমি আলবেনীয়। নাগরিকত্বে ভারতীয়। বিশ্বাসে আমি ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী।”

১৯২৯ সালের জানুয়ারিতে কলকাতায় পৌঁছনো এক লরেটো শিক্ষিকা

নোবেল ফাউন্ডেশনের মতে তাঁর জন্ম উস্কুপে, তখন অটোমান সাম্রাজ্যে, এখন উত্তর মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়েতে, আলবেনীয় বংশের এক পরিবারে। ১৮ বছর বয়সে ১৯২৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি বাড়ি ছেড়ে সিস্টার্স অফ লরেটোয় যোগ দেন, ভারতে মিশন থাকা একটি আইরিশ সংঘ, ভ্যাটিকানের জীবনী বলছে। সেই ডিসেম্বরে তিনি ভারতের জাহাজে ওঠেন, আর জীবনীতে কলকাতায় তাঁর পৌঁছনোর তারিখ ১৯২৯ সালের ৬ জানুয়ারি।

তাঁর সংঘের নিজের বিবরণ যোগ করেছে, দার্জিলিংয়ে দুই বছরের নভিশিয়েট (সন্ন্যাসিনীর প্রথম ব্রতের আগের প্রশিক্ষণকাল)। ১৯৩১ সালের মে মাসে প্রথম ব্রত নেওয়ার পর কলকাতার এন্টালিতে লরেটো সম্প্রদায়ে নিয়োগ আসে, যেখানে তিনি সেন্ট মেরিজ মেয়েদের স্কুলে পড়ান। চূড়ান্ত ব্রত আসে ১৯৩৭ সালের ২৪ মে, আর তখন থেকে তিনি মাদার টেরেসা নামে পরিচিত হন। ১৯৪৪ সালের মধ্যে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা।

দার্জিলিংয়ের ট্রেন আর ১৯৪৮ সালের সাদা শাড়ি

১৯৪৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বার্ষিক নির্জনবাসের জন্য কলকাতা থেকে দার্জিলিংয়ের ট্রেনে তিনি পান যাকে তিনি বলেছিলেন “আহ্বানের ভেতরে আহ্বান”, ভ্যাটিকানের জীবনী জানায়। তাঁর বিবরণে খ্রিস্ট তাঁকে দরিদ্রতমদের মধ্যে দরিদ্রদের প্রতি নিবেদিত একটি সম্প্রদায় গড়তে বলেন। সংঘের ইতিহাস অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি তাঁর আধ্যাত্মিক পরিচালক ও কলকাতার আর্চবিশপ ফের্দিনান্ড পেরিয়ারকে জানান, এবং শুরু করার অনুমতি পাওয়ার আগে প্রায় দুই বছর পরীক্ষা ও বিবেচনা চলে।

নীল পাড়ের সাদা শাড়ি প্রথমবার পরে তিনি লরেটো কনভেন্টের ফটক পেরিয়ে বেরোন ১৯৪৮ সালের ১৭ আগস্ট, ভ্যাটিকান অনুযায়ী। এরপর পাটনায় মেডিক্যাল মিশন সিস্টার্সের সঙ্গে একটি ছোট চিকিৎসা কোর্স, আর ডিসেম্বরে তিনি কলকাতায় ফিরে লিটল সিস্টার্স অফ দ্য পুওরের কাছে থাকেন। ২১ ডিসেম্বর তিনি প্রথমবার বস্তিতে যান। নোবেল ফাউন্ডেশনের জীবনী বলছে, কোনও অর্থ ছাড়াই তিনি বস্তির শিশুদের জন্য একটি খোলা আকাশের স্কুল শুরু করেন। সংঘের বিবরণ তাঁর প্রথম বস্তির স্কুল ও ডিসপেনসারির স্থান বলেছে মতিঝিল বস্তি।

প্রাক্তন ছাত্রীরা তাঁর সঙ্গে যোগ দেয়। বারোজন তরুণী, বেশির ভাগই তাঁর পুরনো ছাত্রী, তাঁর পিছু নেয়, সংঘের ইতিহাস বলছে, আর কলকাতা শিগগির তাঁদের চিনত “ছুটে চলা সংঘ” নামে।

১৯৫০ সালের ৭ অক্টোবর আর তার পরের আশ্রয়গুলি

মিশনারিজ অফ চ্যারিটি বলছে, ৭ অক্টোবর ১৯৫০ সেই দিন যেদিন আর্চবিশপ পেরিয়ার কলকাতা আর্চডায়োসিসে সংঘটিকে প্রতিষ্ঠা (আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন) করেন। ভ্যাটিকানের জীবনী ও নোবেল ফাউন্ডেশনের জীবনী একই তারিখ দেয়, আর রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ২০১৬ সালের বার্তা বছর দিয়েছে ১৯৫০। ১৯৭৯ সালের উপস্থাপনা বক্তৃতায় নোবেল কমিটির সভাপতি সংঘের স্বীকৃতির তারিখ ধরেছেন ১৯৪৮, যে বছর তিনি কনভেন্ট ছাড়েন। সূত্রগুলি এখানে আলাদা, আর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘ ও ভ্যাটিকান ১৯৫০ সালের তারিখটি নথিভুক্ত করে।

সেই বক্তৃতা চতুর্থ ব্রতের নামও করেছে যা সিস্টাররা স্বাভাবিক তিনটির ওপর নেন: “সম্পূর্ণ মন দিয়ে, বিনামূল্যে দরিদ্রতমদের সেবা করা”।

সংঘের ইতিহাস পরের ধাপগুলি সাজিয়েছে:

  • ১৯৫২: নির্মল হৃদয়, নিঃস্ব মুমূর্ষুদের জন্য প্রথম আশ্রয়, খোলে। হোলি সি-র সঙ্গে সম্পর্কের ওপর বিদেশ মন্ত্রকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ একে রাখে কালীঘাটে।
  • ১৯৫৫: শিশু ভবন, পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য প্রথম আশ্রয়।
  • ১৯৫৭: কুষ্ঠরোগীদের জন্য প্রথম ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক।
  • ১৯৫৯: কলকাতার বাইরে প্রথম মিশন, রাঁচিতে।
  • ১৯৬৫: বিদেশে প্রথম মিশন, ভেনেজুয়েলার কোকোরোটেতে।

ব্রিটানিকা যোগ করেছে শান্তি নগর, আসানসোলের কাছে কুষ্ঠরোগীদের জন্য গড়া একটি বসতি। পোপ ষষ্ঠ পল ১৯৬৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘকে প্রশংসা-ডিক্রি দেন, আর ১৯৮০ সাল থেকে মাদার টেরেসা প্রায় সব কমিউনিস্ট দেশে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া ও কিউবা-সহ, আশ্রয় খোলেন, ভ্যাটিকানের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছে। সংঘের পাশাপাশি কাজ করা সাধারণ সহায়ক সহকর্মীরা ১৯৬৯ সালের ২৯ মার্চ আন্তর্জাতিক সংগঠন হয়, নোবেল ফাউন্ডেশনের জীবনী অনুযায়ী, যা ১৯৯০-এর দশকে তাঁদের সংখ্যা বলেছে ৪০টিরও বেশি দেশে দশ লক্ষের বেশি।

১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে অসলো

নোবেল ফাউন্ডেশন নথিভুক্ত করেছে, ১৯৭৯ সালের শান্তি পুরস্কার একা মাদার টেরেসা পান, “দুর্দশাগ্রস্ত মানবতার কাছে সাহায্য পৌঁছনোর কাজের জন্য”। তিনি ১৯৭৯ সালের ১০ ডিসেম্বর অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আউলায় গ্রহণ-বক্তৃতা এবং পরদিন নোবেল বক্তৃতা দেন।

কমিটির সভাপতি জন সানেস শ্রোতাদের বলেন, কমিটি কাজের চেতনাকে নির্ণায়ক গুরুত্ব দিয়েছে, পরিসংখ্যানকে নয়। তবু বক্তৃতা কাজের বিস্তার জানায়: সংঘ সাম্প্রতিক বছরে বিশটি নতুন দেশে শুরু হয়েছে, মূল জোর এখনও ভারত ও বাংলাদেশে, আর কয়েক মিলিয়ন মানুষ এর কাজে উপকৃত হয়েছে। সানেস বলেন, খবর শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল: “আমি গরিবদের নামে পুরস্কারটি গ্রহণ করছি।”

সানেস যোগ করেন, ১৯৭২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: “মাদার টেরেসা সেই মুক্ত আত্মাদের একজন যাঁরা জাতি, ধর্ম ও জাতীয়তার সব বাধা পেরিয়ে গেছেন।” কলকাতার আরেক ব্যক্তিত্বের নোবেল-কাহিনি আছে ঠাকুর, নোবেল পুরস্কার ও ফিরিয়ে দেওয়া নাইটহুড লেখায়।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, কলকাতার মুমূর্ষুদের আশ্রয় শহরের রাস্তা থেকে ৩৬,০০০-এরও বেশি মানুষকে নিয়েছে, আর তাঁদের ১৮,০০০-এরও বেশি সেখানে মারা গেছেন। পুরস্কার নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা, তিনি যোগ করেন, যাঁদের ঘর নেই এমন বহু মানুষের জন্য একটি ঘর গড়ার চেষ্টা। আগের পুরস্কারগুলি, নোবেল ফাউন্ডেশনের জীবনীর তালিকা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে পোপ ত্রয়োবিংশ জন শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ার জন্য নেহরু পুরস্কার, এর সঙ্গে ১৯৭৯ সালে বালজান পুরস্কার এবং টেম্পলটন ও ম্যাগসেসে পুরস্কার।

পদ্মশ্রী, ভারতরত্ন আর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য

১৯৬২ সালের ২৬ জানুয়ারির একটি গেজেট অফ ইন্ডিয়া এক্সট্রাঅর্ডিনারি পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপকদের মধ্যে “মাদার বোয়াজিউ মেরি টেরেসা, সমাজকর্মী, কলকাতা”-র নাম তালিকাভুক্ত করেছে। ভ্যাটিকানের জীবনী একে গণনা করেছে পরে আসা বহু পুরস্কারের প্রথমটি হিসেবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভারতরত্ন প্রাপকদের তালিকায় ১৯৮০ সালের অধীনে তিনি ১৮তম নাম। একই তালিকায় ১৯৯২ সালের অধীনে আছেন সত্যজিৎ রায় এবং ২০০১ সালের অধীনে লতা মঙ্গেশকর, যাঁর কর্মজীবনের কথা এই গায়িকার প্রোফাইলে।

রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বলেন, মাদার টেরেসা ভারতে প্রায় সাত দশক বাস করেছেন এবং “ভারতের একটি অংশ হয়ে উঠেছেন”। সংঘের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে তিনি নাম করেন নির্মল হৃদয়, শান্তি নগরের আশ্রয় ও শিশু ভবনের।

বিদেশ মন্ত্রকের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছে, পোপ দ্বিতীয় জন পল ১৯৮৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নির্মল হৃদয় দেখতে যান, এবং মাদার টেরেসা সেই সফরকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন বলেছিলেন। সব ধর্মের মানুষ দমদম থেকে ১০ কিলোমিটার পথের দুই ধারে দাঁড়িয়েছিলেন, বিবরণ বলছে।

মাদার টেরেসা মারা যান মাদার হাউসে, ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তাঁর দেহ নেওয়া হয় সেন্ট টমাস গির্জায়, লরেটো কনভেন্টের পাশে, যেখানে তিনি ১৯২৯ সালে প্রথম পৌঁছেছিলেন, এবং সংঘের বিবরণ বলছে কয়েক লক্ষ মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য দেয়, আর তাঁকে মাদার হাউসে সমাধিস্থ করা হয়।

২০০৩ সালে ধন্য, ২০১৬ সালে সন্ত

ভ্যাটিকানের জীবনী বলছে, তাঁর মৃত্যুর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় জন পল তাঁর সন্তপদের প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেন। ২০০২ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর ওপর আরোপিত অলৌকিক ঘটনা সম্পর্কিত ডিক্রি অনুমোদন করেন। ধন্য ঘোষণা আসে ২০০৩ সালের ১৯ অক্টোবর, বিদেশ মন্ত্রকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী আনুমানিক ৩,২৫,০০০ মানুষের সামনে, আর ব্রিটানিকা একে তখনকার চার্চের ইতিহাসে ধন্য ঘোষণার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ বলেছে। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পি. সি. টমাস।

পোপ ফ্রান্সিস তাঁকে সন্ত ঘোষণা করেন ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে এক খ্রিস্টযাগে। বিদেশ মন্ত্রক জানাচ্ছে, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ১১ সদস্যের সরকারি ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন, আর পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং ১৩ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সিস তাঁর ধর্মোপদেশে বলেন, তাঁর পবিত্রতা মানুষের এতই কাছের ছিল যে তাঁরা তাঁকে মাদার টেরেসা বলে ডেকে যেতেন, আর তিনি মেনে নেন যে সন্ত টেরেসা বলা তাঁদের কাছে কঠিন ঠেকতে পারে।

রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের বার্তা বলে, ভারতের প্রত্যেক নাগরিক এই স্বীকৃতিতে গর্ব বোধ করবেন। ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর কলকাতার এক অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি বলেন: “ভারতের মানুষের কাছে তিনি আগেই সন্ত ছিলেন।” আনসারি তাঁর বার্তাকে মহাত্মা গান্ধির বার্তার সঙ্গেও যুক্ত করেন, যাঁর জন্মবার্ষিকী পড়েছিল একই দিনে।

তাঁর কাজ নিয়ে ওঠা প্রশ্ন

নোবেল ফাউন্ডেশনের সারাংশ নথিভুক্ত করেছে যে তিনি সমালোচিতও হয়েছিলেন। এতে নাম আছে এই অভিযোগের যে আশ্রয়গুলিতে মুমূর্ষুদের ব্যথার ওষুধ দেওয়া হত না অথচ তিনি নিজে হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছেন, আর গর্ভপাত নিয়ে তাঁর রক্ষণশীল মতের। দ্বিতীয় বিষয়টি তাঁর নোবেল বক্তৃতায় তাঁর নিজের কথায় দেখা যায়: তিনি গর্ভপাতকে শান্তির সবচেয়ে বড় ধ্বংসকারী বলেছিলেন।

১৯৯৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ল্যানসেট রবিন ফক্সের একটি লেখা ছাপে “মাদার থেরেসার মুমূর্ষুদের সেবা” শিরোনামে, এবং ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর উত্তর ছাপে, পাবমেডের নথি অনুযায়ী। tuput পূর্ণ পাঠ খুলতে পারেনি, তাই এই লেখা সেগুলির যুক্তির সারাংশ দেয় না।

তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশ পায় যে তিনি কয়েক দশক ধরে ঈশ্বরের কাছ থেকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণাদায়ক বোধ নিয়ে বেঁচেছিলেন, যাকে তিনি বলতেন “অন্ধকার”, ভ্যাটিকানের জীবনী বলছে। ব্রিটানিকা তাঁর চিঠি প্রকাশের তারিখ দিয়েছে ২০০৭।

২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, “প্রতিকূল তথ্যের” কারণ দেখিয়ে তারা মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইনে নিবন্ধনের নবায়ন অনুমোদন করেনি। ভ্যাটিকান নিউজের খবর, মন্ত্রক ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়।

সংঘ আজ

১৯৯৭ সালে মাদার টেরেসা যখন মারা যান, তখন ১২৩টি দেশের ৫৯৪টি মিশনে ৩,৯১৪ জন সিস্টার ছিলেন, সংঘের ইতিহাস-পাতা বলছে। ভ্যাটিকানের জীবনী দিয়েছে ১২৩টি দেশে ৬১০টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪,০০০ সিস্টার, আর ব্রিটানিকা দিয়েছে ৯০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪,০০০ সন্ন্যাসিনী। ২০১৬ সালে উপরাষ্ট্রপতি আনসারি ১৩৯টি দেশে ৫,৫০০-এরও বেশি সদস্যের কথা বলেন, আর সংঘের ২০২৫ সালের সংখ্যা শুধু সিস্টারদের গোনে: ১৩৮টি দেশের ৭৫৪টি মিশনে ৫,০৭৬ জন সিস্টার।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Nobel Foundation: Mother Teresa, Facts (Nobel Peace Prize 1979)
  2. Nobel Foundation: Mother Teresa, Biographical
  3. Nobel Foundation: Mother Teresa, Acceptance Speech, 10 December 1979
  4. Nobel Foundation: Mother Teresa, Nobel Lecture, 11 December 1979
  5. Nobel Foundation: The Nobel Peace Prize 1979, Presentation Speech by John Sanness
  6. The Holy See: Mother Teresa of Calcutta (1910-1997), biography
  7. The Holy See: Homily of Pope Francis, Canonization of Mother Teresa of Calcutta, 4 September 2016
  8. Missionaries of Charity: Our History
  9. Missionaries of Charity: Mother Teresa, Our Foundress
  10. Ministry of Home Affairs, Government of India: List of recipients of the Bharat Ratna
  11. The Gazette of India, Extraordinary, 26 January 1962: Padma awards notification
  12. Press Information Bureau, 3 September 2016: President's message on the eve of canonization of Mother Teresa
  13. Press Information Bureau, 2 October 2016: Vice President on the canonization of Mother Teresa
  14. Press Information Bureau, 30 August 2010: President's speech at the birth centenary celebrations of Mother Teresa
  15. Ministry of External Affairs, Government of India: India - The Holy See Relations
  16. Encyclopaedia Britannica: Mother Teresa
  17. Vatican News, 8 January 2022: India government allows Missionaries of Charity to continue receiving foreign donations
  18. PubMed: Fox R, Mother Theresa's care for the dying, The Lancet, 17 September 1994

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#mother teresa#missionaries of charity#kolkata#nobel peace prize#bharat ratna#padma shri#nirmal hriday#biography

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: আধুনিক ভারত
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯ মাসে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতকে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নিয়ে যান, যে ডেয়ারি বোর্ড আমুলের মডেল দেশজুড়ে ছড়ায় তার পাশে দাঁড়ান, আর দেশকে দেন জয় জওয়ান জয় কিষান
রেল দুর্ঘটনার দায় নিয়ে ইস্তফা দেওয়া এক ক্ষীণকায় চেহারার মন্ত্রী ১৯৬৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী হন, আর এক বছরের মধ্যে তাঁর টেবিলে আসে একটি যুদ্ধ, একটি ব্যর্থ ফসল ও একটি দুধ-কর্মসূচি। সরকারি নথি দেখায় সেগুলি নিয়ে তিনি কী করেছিলেন।
বিনোবা ভাবে ১৯৫১ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত হেঁটে ভারত ঘুরেছেন, ভূদান আন্দোলনে ভূমিহীনদের জন্য প্রায় ৪০ লাখ একর দান-করা জমি সংগ্রহ করেছেন, এবং ম্যাগসেসে পুরস্কার ও ভারতরত্ন পেয়েছেন
১৯৫১ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পদযাত্রায় থাকা এক গান্ধীবাদী নালগোন্ডার এক গ্রামের কথাবার্তাকে পরিণত করেন নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছা-জমিদানের একটিতে। এখানে সংখ্যাগুলি, কোন সংখ্যা কে দিচ্ছে, আর তার পরের সম্মানগুলি।
রাজেন্দ্র প্রসাদ গণপরিষদের সভাপতিত্ব করেন, ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১২ বছর ১০৭ দিন দায়িত্বে ছিলেন, আর ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে দুবার নির্বাচিত একমাত্র রাষ্ট্রপতি
পাটনার দরজায় গান্ধীকে চিনতে না পারা এক ভৃত্য, সৎ মানুষ আর প্রাণহীন যন্ত্র নিয়ে একটি সমাপনী ভাষণ, আর ১৯৫৭ সালের একটি ভোট, যা এ পর্যন্ত বিজয়ীর সর্বোচ্চ ভোটের অংশ। প্রসাদের জীবনের তারিখ-মিলিয়ে নথি।
← সব লেখা