অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নতুন ক্যাম্পাস, জাটনির ইনফো ভ্যালি-২-এ, উদ্বোধন হল ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তিন বছর সাত মাস পরে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানাচ্ছে, সেখানকার চারটি ডেটা সেন্টারে থাকবে ব্যাংকের পেমেন্ট ও সেটলমেন্ট ব্যবস্থা, আর স্থাপনাটি আপটাইম ইনস্টিটিউটের টিয়ার ফোর মানে প্রত্যয়িত।
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর ভুবনেশ্বরের কাছে খোরদা জেলার জাটনির ইনফো ভ্যালি-২-এ একটি নতুন ডেটা সেন্টার ও একটি সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু করেছে। সেদিনের আরবিআই-র প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দুটিরই উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পিটিআই আর ডেকান ক্রনিকলের হিসাবে ডেটা সেন্টারের খরচ ১৬৯ কোটি টাকা (প্রায় ১.৬৯ বিলিয়ন রুপি), জমির পরিমাণ ১৮.৫৫ একর।
ভিত্তিপ্রস্তর বসিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্নর শক্তিকান্ত দাস, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ। অর্থাৎ পাথর বসানো থেকে ফিতে কাটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসটির লেগেছে সাড়ে তিন বছরের একটু বেশি। আরবিআই-র ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তি এটিকে বলেছিল “গ্রিনফিল্ড ডেটা সেন্টার”, অর্থাৎ কোনো পুরোনো ভবনের ভেতরে নয়, ফাঁকা জমিতে গড়া।
জাটনিতে কী চালু হল
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) ২৪ অক্টোবরের এক বিবৃতিতে স্থাপনাগুলোর বর্ণনা দিয়েছিল। বিবৃতি অনুযায়ী সেগুলো “ব্যাংকের কম্পিউটিং চাহিদা মেটানোর জন্য নকশা করা” এবং ব্যাংক ও বৃহত্তর আর্থিক খাতকে নিরাপদ, সহনশীল, সম্প্রসারণযোগ্য ও ভবিষ্যতের উপযোগী কম্পিউটিং দেবে। চারটি ডেটা সেন্টারে থাকবে ব্যাংকের অতি গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট ও সেটলমেন্ট ব্যবস্থা, সঙ্গে অন্যান্য প্রধান উদ্যোগ।
২৫ অক্টোবরের আরবিআই-র বিজ্ঞপ্তিতে ওই ব্যবস্থাগুলোর দুটির নাম আছে: আরটিজিএস ও এনইএফটি, অর্থাৎ রিয়েল-টাইম গ্রস সেটলমেন্ট আর ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার, যে দুটি আরবিআই চালায় ব্যাংকে ব্যাংকে লেনদেনের জন্য। পিটিআই-র তথ্য অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা, ওড়িশার রাজ্যপাল ব্রজমোহন রাম, মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং দুজন উপমুখ্যমন্ত্রী।
চারটি ডেটা সেন্টার, একটি সনদ আর জায়গা বাছাইয়ের কারণ
পিএমও-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থাপনাটি “আপটাইম ইনস্টিটিউটের টিয়ার ফোর মানে প্রত্যয়িত”, যাকে বিবৃতি কার্যকরী সহনশীলতার সর্বোচ্চ স্তর বলেছে। পিএমও আরও বলছে, ব্যাংকিং, আর্থিক পরিষেবা ও বিমা খাতে বিশ্বে টিয়ার ফোর প্রত্যয়িত সবচেয়ে বড় স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। এই ক্রম সরকারের নিজের দাবি, আর তুলনাটি কে তৈরি করেছে তা বিবৃতিতে বলা নেই।
ফ্রি প্রেস জার্নাল জানাচ্ছে, আরবিআই কেন্দ্রটিকে টিয়ার ফোর প্রত্যয়িত বলছে তার নকশার জন্য, যা তৈরি হয়ে যাওয়া ভবনের প্রত্যয়নের চেয়ে সংকীর্ণ কথা। একই প্রতিবেদন আরবিআই-র বক্তব্য হিসেবে বলছে, কেন্দ্রটি উচ্চ রিডান্ডান্সি, ব্যবস্থার প্রাপ্যতা আর অন্তর্নির্মিত ত্রুটি-সহনশীলতার কথা ভেবে বানানো।
ওড়িশা বাছার প্রসঙ্গে পিটিআই-র উদ্ধৃত এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভৌগোলিক স্থিতিশীলতার কারণে জায়গাটি বাছা হয়েছে: এটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল থেকে এবং উচ্চ ঝুঁকির আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা থেকে দূরে। ফ্রি প্রেস জার্নাল বলছে, বিশ্লেষকেরা আরও কিছু কারণ দিয়েছেন, যেমন পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত থেকে দূরত্ব, তবে আরবিআই মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি, তাই ওগুলো বিশ্লেষকদের মত, ব্যাংকের নয়।
আরবিআই-র দুটি ডেটা সেন্টারের একটি
পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মাঝি নতুন কেন্দ্রটিকে নবি মুম্বইয়ের কেন্দ্রের পরে এই ধরনের দ্বিতীয়টি বলেছেন। ফ্রি প্রেস জার্নাল প্রাথমিক স্থানটির নাম দিয়েছে নবি মুম্বইয়ের খারঘর। ডেকান ক্রনিকলও জাটনিকে আরবিআই-র দ্বিতীয় ডেটা সেন্টার বলেছে।
কিছু প্রতিবেদন, যার মধ্যে ২২ অক্টোবরের দ্য উইকের লেখা আছে, জাটনিকে নবি মুম্বইয়ের সহায়ক ব্যাকআপ বলেছে। এই লেখার জন্য পড়া আরবিআই ও পিএমও-র নিজস্ব পাঠে ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি, তাই এই লেখা একে দ্বিতীয় স্থাপনা বলছে।
একই ক্যাম্পাসের প্রতিষ্ঠানটি
সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির অন্য অর্ধেক। পিএমও বলছে, এটি খাতটিকে সাইবার নিরাপত্তা ও এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও সক্ষমতা গড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ দেবে। এর মনোযোগ থাকবে ব্যাংকিং, আর্থিক পরিষেবা ও বিমার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিতে, যার মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।
২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তি লক্ষ্যটি আরও বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছিল: ব্যাংকের বিদ্যমান কম্পিউটিং পরিকাঠামোয় যোগ করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং, প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা যেখানে মেলে সেখানে গবেষণা ও সক্ষমতা গড়ায় সাহায্য করা। বিজ্ঞপ্তি বলেছিল, ক্যাম্পাসটি রিজার্ভ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের “উদীয়মান চাহিদা” মেটাবে। ২০২৩ সালে এর ঘোষিত নাম ছিল এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটিং ও সাইবার সিকিউরিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।
যে লেনদেনের ভার ভবনটি বইবে
আরবিআই-র বিজ্ঞপ্তি বলছে, ডেটা সেন্টারে থাকবে আরটিজিএস ও এনইএফটির মতো ব্যবস্থা। গভর্নরের স্বাগত ভাষণে উদীয়মান প্রযুক্তির আরও ব্যবহার, আরও শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং স্বনির্ভর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অঙ্গীকার ছিল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সীতারামন বলেছেন, সহনশীল পরিকাঠামো আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করে।
ডেকান ক্রনিকল জানাচ্ছে, সীতারামন বলেছেন ইউপিআই, অর্থাৎ ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস, মাসে ২,৪০০ কোটির বেশি লেনদেন সামলায়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য আউটলুক মানির প্রতিবেদনে দেওয়া এনপিসিআই-র হিসাবও এর সঙ্গে মেলে: ২৪.০৭ বিলিয়ন লেনদেন, মূল্য ২৯.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা, দৈনিক গড় প্রায় ৮০২ মিলিয়ন। আরবিআই বা পিএমও কেউই বলেনি যে নতুন কেন্দ্র ইউপিআই-ই চালাবে; এর ঘোষিত দায়িত্ব ব্যাংকের নিজস্ব পেমেন্ট ও সেটলমেন্ট ব্যবস্থা। ইউপিআই কীভাবে এত বড় হল তা আছে ভারত গড়েছে বিশ্বের ব্যস্ততম পেমেন্ট ব্যবস্থা লেখায় এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ইউপিআই সংখ্যা লেখায়।
প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর যা বলেছেন
পিএমও-র দেওয়া ভাষণের বিবরণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত দশক ছিল বাদ পড়া মানুষের কাছে ব্যাংকিং পৌঁছে দেওয়ার, আর আগামী দশক ব্যাংকিংকে আরও দক্ষ ও আরও নির্ভরযোগ্য করার। তিনি জনধন প্রকল্পে খোলা প্রায় ৬০ কোটি অ্যাকাউন্টের কথা বলেছেন; জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা tuput-এর অন্য জায়গায় দেওয়া আছে।
সাইবার হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন “যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে লড়া হয় না” এবং বাড়তে থাকা অর্থনীতিকে তার ব্যাংকিং ব্যবস্থা রক্ষা করতে হবে, আর নতুন প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা আছে পুরোনো প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের জায়গায় আধুনিকগুলো আনায়। পিএমও তাঁর এই কথাও নথিভুক্ত করেছে যে ওড়িশা খনিজ শিল্পের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, ডেটা সেন্টার ও উন্নত কম্পিউটিং যোগ করে “খনি থেকে মাইক্রোচিপ”-এ যাবে।
গভর্নর মালহোত্রা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং আরবিআই-র প্রযুক্তির কাজকে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, আরবিআই-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী। ব্যাংকের সিদ্ধান্ত কীভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মেলে তা জানতে দেখুন সুদের হার ও টাকার মূল্য কে ঠিক করে। রাজ্যটির পটভূমির জন্য আছে ওড়িশার সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
যে সংখ্যাগুলো প্রতিবেদনভেদে আলাদা
পিটিআই-র প্রতিবেদনে খরচ ১৬৯ কোটি টাকা, ডেকান ক্রনিকলও তা-ই লিখেছে; অল ইন্ডিয়া রেডিওর প্রতিবেদনে ও দ্য উইকে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা। ২৫ অক্টোবরের আরবিআই-র নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিতে খরচ, মেঝের আয়তন বা প্রযুক্তিগত বিবরণ কিছুই নেই।
বিজ্ঞপ্তি আর পিএমও-র বিবৃতি দুটিই ভবিষ্যৎ কালে লেখা: ডেটা সেন্টারগুলো পেমেন্ট ব্যবস্থা “চালাবে”। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই লেখার জন্য পড়া কোনো নথিতেই আরটিজিএস, এনইএফটি বা অন্য ব্যবস্থা জাটনি থেকে কবে চলতে শুরু করবে তার তারিখ নেই।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Reserve Bank of India press release 2026-2027/1384: Prime Minister inaugurates the Reserve Bank's Data Centre and Cybersecurity Training Institute in Bhubaneswar (25 October 2026)
- Reserve Bank of India press release 2022-2023/1898: Governor lays the foundation stone of a new Greenfield Data Centre and Enterprise Computing & Cybersecurity Training Institute (22 March 2023)
- Prime Minister's Office: PM to visit Uttar Pradesh and Odisha on 25 October (24 October 2026)
- Prime Minister's Office: PM inaugurates RBI's newly established Data Centre and Cybersecurity Training Institute in Bhubaneswar, Odisha (25 October 2026)
- All India Radio (News on AIR): PM Modi inaugurates RBI data centre and Cybersecurity Training Institute in Odisha (25 October 2026)
- ThePrint (PTI): PM inaugurates RBI's Rs 169-cr data centre, Cybersecurity Training Institute in Odisha (25 October 2026)
- ThePrint (PTI): PM to inaugurate RBI's data centre in Bhubaneswar (October 2026)
- Deccan Chronicle: Modi inaugurates RBI's Rs 169 crore data centre in Odisha (25 October 2026)
- The Week: PM Modi to inaugurate RBI data centre in Odisha (22 October 2026)
- Free Press Journal: RBI builds high-security data centre in Odisha (October 2026)
- Swarajya: PM Modi to inaugurate RBI's new data centre and Cybersecurity Training Institute in Bhubaneswar on 25 October
- Outlook Money (NPCI data): UPI processes 24.07 billion transactions worth Rs 29.37 lakh crore in September 2026
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।