অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
কনিষ্ক কুষাণ সাম্রাজ্য শাসন করেছেন প্রায় ১২৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে, হ্যারি ফক এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকায় যে কালনির্ণয় দিয়েছেন সেই অনুযায়ী, আর ব্রিটানিকা এর বিস্তার দিয়েছে পশ্চিমে বুখারা থেকে পূর্বে পাটনা পর্যন্ত। রাজত্বের গোড়ায় তাঁর টাঁকশালগুলি গ্রিক ছেড়ে বাক্ট্রীয় ভাষায় সরে আসে, আর ব্রিটিশ মিউজিয়ামে তাঁর একটি সোনার মুদ্রা আছে যার পেছনে বুদ্ধ। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ১৯০৮ থেকে ১৯০৯ সালের প্রতিবেদনে তাঁর বলে শনাক্ত করা পেশোয়ার স্তূপের বিস্তার মেপেছিল ২৮৬ ফুট।
কনিষ্ক ছিলেন সেই কুষাণ সম্রাট, ব্রিটানিকার বর্ণনায় যাঁর রাজ্য পশ্চিমে বুখারা থেকে পূর্বে গঙ্গার তীরের পাটনা পর্যন্ত, আর উত্তরে পামির থেকে দক্ষিণে মধ্য ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাঁর রাজধানী ছিল সম্ভবত পুরুষপুর, আজকের পেশোয়ার। ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাঁর সোনার মুদ্রা তালিকাভুক্ত করেছে প্রায় ১২৭ থেকে ১৫০ খ্রিস্টাব্দের তৈরি বলে, যা হ্যারি ফক এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকায় যে কালনির্ণয় দিয়েছেন তার সঙ্গে মেলে, আর এই লেখা সেটিই অনুসরণ করেছে। পরের একটি অংশে ব্যাখ্যা আছে তারিখটি কীভাবে স্থির হল এবং অন্যরা কোন কোন তারিখের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
তিনি তাঁর যুগের বেশির ভাগ শাসকের চেয়ে বেশি বস্তুগত প্রমাণ রেখে গেছেন। তাঁর মুদ্রায় দুটি ভাষায় তাঁর নাম আর বুদ্ধের মূর্তি আছে। একটি স্তূপ (গম্বুজ আকৃতির বৌদ্ধ স্মারক, যার ভেতরে দেহাবশেষ রাখা হয়) থেকে পাওয়া একটি ব্রোঞ্জের পাত্রে তাঁর বিহারের নাম আছে। একটি বাক্ট্রীয় লিপি, প্রাচীন বাক্ট্রিয়ার একটি ভাষায় গ্রিক হরফে লেখা, বলে তিনি একটি নতুন বর্ষগণনা শুরু করেছিলেন। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ১৯০৮ থেকে ১৯০৯ সালে স্তূপের ভিত খুঁড়ে বের করে এবং ভারতে জানা অন্য যেকোনো স্তূপের চেয়ে তা বড় বলে পায়।
বুখারা থেকে পাটনা পর্যন্ত এক সাম্রাজ্য
নিকোলাস সিমস-উইলিয়ামস ও হ্যারি ফক এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকায় লিখেছেন, রাবাতক লিপি কনিষ্কের বংশধারা টেনে নিয়ে যায় তাঁর পিতা বিম কদফিসেস, পিতামহ বিম তাকতু হয়ে প্রপিতামহ কুজুল কদফিসেস পর্যন্ত। ব্রিটানিকা বংশটির মূল খুঁজেছে ইউয়েজিদের মধ্যে, যে জনগোষ্ঠী খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে বাক্ট্রিয়া জয় করেছিল। রাবাতক লেখাটিতে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার কথা আছে, যেখানে কনিষ্ক ও তাঁর পূর্বপুরুষদের মূর্তি ছিল, এবং তাতে তাঁর রাজত্বের প্রথম কয়েক বছর আর উত্তর ভারতে তাঁর ক্ষমতার বিস্তারের বর্ণনা আছে।
ভারতের ভেতরের লিপিতে তাঁর নামের ভ্রমণ দেখা যায়। বারাণসীর কাছে সারনাথে একটি বিশাল দাঁড়ানো বোধিসত্ত্ব (ভাবী বুদ্ধ) ও একটি ছত্রদণ্ডে তাঁর তৃতীয় বর্ষের তারিখ আছে। ই. হুলৎস, যিনি এগুলি এপিগ্রাফিয়া ইন্ডিকায় সম্পাদনা করেছেন, বলেছিলেন কনিষ্কের নাম আছে এমন তখনকার আবিষ্কৃত প্রাচীনতম নথি এগুলিই। ভিক্ষু বল প্রধান দাতা, আর ক্ষত্রপ (আঞ্চলিক শাসনকর্তা) খরপল্লান ও বনস্পরের নাম তাঁর সঙ্গে আছে। হুলৎস একটি সতর্কবার্তা যোগ করেছিলেন: দাতারা সম্ভবত তীর্থযাত্রায় মথুরা থেকে এসেছিলেন, তাই লেখাটি দিয়েই প্রমাণ হয় না যে কনিষ্ক বারাণসী শাসন করতেন। সিমস-উইলিয়ামস ও ফক “মহারাজ কনিষ্কের x বর্ষে” সূত্র ব্যবহার করা প্রায় ১৫টি তারিখযুক্ত লিপি গুনেছেন। তাঁরা এও বলেন, সুর্খ কোতলের বিশাল বাক্ট্রীয় লিপি তাঁকে সেখানকার মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা করেছে।
কাশ্মীর দেয় মুদ্রা আর একটি স্থাননাম। অরেল স্টাইন ১৯০০ সালে দ্বাদশ শতকের কলহণের ইতিবৃত্ত অনুবাদ করতে গিয়ে লিখেছিলেন, কনিষ্ক ও তাঁর উত্তরসূরি হুবিষ্কের তামার মুদ্রা সেখানকার পুরোনো স্থানগুলিতে “উল্লেখযোগ্য প্রাচুর্যে” মেলে। তিনি যোগ করেছিলেন, ইতিবৃত্ত যে কনিষ্কপুর শহরকে কনিষ্কের বলে উল্লেখ করেছে তা তখনও টিকে ছিল।
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং, যিনি সপ্তম শতকে ভারতে পৌঁছেছিলেন, একটি ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ করেছিলেন যে কনিষ্ক ৎসুং-লিং পর্বতমালার পূর্বেও বিস্তৃত ভূখণ্ড শাসন করতেন। স্যামুয়েল বিলের অনুবাদে, একটি নদীর পশ্চিমের উপজাতিরা জামিন পাঠাত, আর কনিষ্ক তাদের ঋতু অনুযায়ী আলাদা আবাস দিয়েছিলেন: শীতে ভারতে, গ্রীষ্মে কাপিসায়, বসন্তে ও শরতে গান্ধারে। ব্রিটানিকা শুধু বলে, তিনি সম্ভবত পামির পার হয়ে খোটান, কাশগর ও ইয়ারকন্দের নগর-রাষ্ট্রগুলিকে বশ করেছিলেন। রেশম পথ ধরে রোমের সঙ্গে যোগাযোগকে ব্রিটানিকা তাঁর রাজত্বকালে বাণিজ্য বৃদ্ধির কৃতিত্ব দেয়।
আরও উত্তর-পশ্চিমে, তক্ষশিলার প্রাচীরঘেরা শহর সিরসুখ কুষাণদের কাজ, আর কনিষ্ক না বিম কদফিসেস সেটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা নিয়ে সূত্রগুলি আলাদা কথা বলে, যেমনটা tuput-এর তক্ষশিলা নিয়ে লেখায় আছে।
রাজত্বের গোড়াতেই ভাষা বদলানো মুদ্রা
রবার্ট ব্রেসি, এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকায় লিখতে গিয়ে, কনিষ্কের প্রথম সোনার মুদ্রার বর্ণনা দিয়েছেন এই বলে যে তাতে তাঁর নাম ও উপাধি গ্রিকে ছিল। রাজত্বের প্রথম বছরের পর টাঁকশালগুলি তার বদলে বাক্ট্রীয় ব্যবহার করে, তবে হরফ তখনও গ্রিক। ব্রেসি মুহূর্তটি চিহ্নিত করেছেন একটি ছাঁচের ওপর, যে ছাঁচ মুদ্রায় ছাপ দেয়, যাতে গ্রিক লেখা হেরাক্লিস কেটে বাক্ট্রীয় ওয়েশো করা হয়েছিল। সিমস-উইলিয়ামস ও ফকের মতে কুষাণ লিপিতে গ্রিক আগে থেকেই বিরল ছিল, এবং সম্ভবত প্রায় একই সময়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।
ব্রেসি লিখেছেন, কনিষ্ক ও হুবিষ্কের রাজত্ব জুড়ে মুদ্রার উল্টো পিঠের নকশায় ২০টিরও বেশি দেবতা ছিলেন, তার মধ্যে প্রায় ছয়জন প্রধান। পণ্ডিতেরা এই সমাহারকে গ্রিক, ইরানীয় ও ভারতীয় দেবতার মিশ্রণ বলেছেন। ব্রেসি বলেন, ছবিগুলি সম্ভবত কোনো ধর্মতত্ত্বের চেয়ে ছবির দিক দিয়ে বেশি বহুমুখী, আর সাম্প্রতিক গবেষণা দেবমণ্ডলীটিকে ধারণায় ইরানীয় বলে পড়ে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কনিষ্কের সোনার মুদ্রাগুলিতে রাজা বেদির পাশে দাঁড়িয়ে, উল্টো পিঠে মাও বা মিইরো। সেগুলির ওজন প্রায় ৭.৯ গ্রাম ও ব্যাস ১৯ মিলিমিটার, যা ব্রেসি যে প্রায় ৮ গ্রামের সোনার দিনারকে আদর্শ বলেছেন তার কাছাকাছি। নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টে কনিষ্কের একটি সোনার মুদ্রা আছে, যার তারিখ তারা বলছে প্রায় ১৩০।
ব্রেসি রাজত্বের শেষ দিকে ছাপা তামা ও সোনার বুদ্ধ মুদ্রারও বর্ণনা দিয়েছেন। তাতে দাঁড়ানো শাক্যমুনি, ঐতিহাসিক বুদ্ধ, আর উপবিষ্ট মৈত্রেয়, ভবিষ্যতের বুদ্ধ। মোট উৎপাদনের খুবই ছোট একটি অংশ এগুলি, আর তিনি ধারণা করেন মুদ্রাগুলি কোনো বিশেষ ঘটনার জন্য বানানো হয়েছিল। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সোনার নমুনাটি, ক্যাটালগ নম্বর IOC.289, ওজনে ৭.০৬ গ্রাম, তাতে রাজা বেদির পাশে, আর পেছনে বোদ্দো লেখা একটি দাঁড়ানো মূর্তি। এর প্রাপ্তিস্থান নথিভুক্ত আছে আহিন পোশ।
শাহজি-কি-ঢেরির স্তূপ
চীনা পরিব্রাজকেরা ভবনটি নিয়ে লিখেছিলেন কেউ সেটি খুঁড়ে বের করার আগেই। ফা-হিয়েন, জেমস লেগের অনুবাদে, বলেন কনিষ্ক একটি স্তূপ (লেগের শব্দে tope) তুলেছিলেন “চারশো হাতেরও বেশি উঁচু” সেই জায়গায় যেখানে বুদ্ধ আনন্দকে একটির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এবং যোগ করেন যে একটি প্রচলিত কথায় তাকে বলা হত “জম্বুদ্বীপের শ্রেষ্ঠ স্তূপ”। হিউয়েন সাং, বিলের ভাষান্তরে, দেন ৪০০ ফুট এবং দেড় লি ঘেরের ভিত, আর এক সাদা খরগোশ রাজাকে নিয়ে যায় এক রাখাল বালকের কাছে যে একটি ছোট স্তূপ বানাচ্ছিল।
ডি. বি. স্পুনার ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের জন্য পেশোয়ারের কাছে শাহজি-কি-ঢেরিতে খনন করেন। ১৯০৭ থেকে ১৯০৮ মরসুমে নিশ্চিত কিছু মেলেনি। সর্বেক্ষণের ১৯০৮ থেকে ১৯০৯ সালের প্রতিবেদন বলে, খনন দেহাবশেষের কক্ষে পৌঁছেছিল এবং স্মারকটির বিস্তার মাপা হয়েছিল ২৮৬ ফুট, প্রক্ষেপণ ধরে। তুলনা করা হয়েছে সাঁচি ১০৬ ফুট এবং মানিকিয়ালা স্তূপ ১৫৯ ফুট ২ ইঞ্চির সঙ্গে। সর্বেক্ষণের মহাপরিচালক জন মার্শাল প্রতিবেদনের ভূমিকায় একে বলেছেন “উত্তর ভারতের বৃহত্তম স্তূপ”। দেহাবশেষের কক্ষের পাশে কনিষ্কের একটি তামার মুদ্রা পড়ে ছিল।
ভেতরে ছিল ১৮ সেন্টিমিটার উঁচু একটি সোনালি পাতমোড়া ব্রোঞ্জের পাত্র। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্করণে পাত্রের লেখার বিবরণ আছে: ঢাকনায় ইন্দ্র ও ব্রহ্মার মাঝখানে উপবিষ্ট বুদ্ধ, আর পাশে দাঁড়ানো এক কুষাণ রাজা, যাঁর কাঁধের ওপরে মাও ও মিইরো। লিপিতে স্থপতি মহাসেন ও সঙ্ঘরক্ষিতের কনিষ্কপুরে কনিষ্ক বিহারে দেহাবশেষ দানের কথা আছে। পাত্রের ভেতরে ছিল একটি ছয় পাশের একটি স্ফটিক, তাতে হাড়ের তিনটি ছোট টুকরো, যাকে স্পুনার বলেছেন “নিঃসন্দেহে কনিষ্কের স্তূপে রাখা মূল দেহাবশেষ”। প্রতিবেদন বলে, সর্বেক্ষণ দেহাবশেষ তুলে দিয়েছিল বর্মার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাতে মান্দালয়ে একটি নতুন প্যাগোডার জন্য, আর সিডনির সংস্করণ বলে সেগুলি সেখানেই আছে। পাত্রটি গেছে পেশোয়ার মিউজিয়ামে।
এক রাজত্বে বৌদ্ধ শিল্পের দুটি ধারা
ব্রিটানিকা দুটি রীতির বর্ণনা দেয়, উত্তর-পশ্চিমের গান্ধারের এবং গঙ্গা সমভূমির মথুরার। গান্ধার রীতি গ্রিক-রোমান নকশা ধার করেছিল, আর ব্রিটানিকা বলে প্রতিটি ধারা মনে হয় প্রায় প্রথম শতক নাগাদ স্বাধীনভাবে নিজের বুদ্ধমূর্তি গড়ে তুলেছিল। ব্রেসি যোগ করেন, বুদ্ধের সবচেয়ে প্রাচীন তারিখযুক্ত ভাস্কর্য কনিষ্কের রাজত্ব থেকে আসে।
স্পুনার সর্বেক্ষণের প্রতিবেদনে পাত্রটি থেকে একটি সিদ্ধান্ত টেনেছিলেন। মার্শালকে উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছিলেন, এর কারিগরিতে শৈল্পিক অবনতি দেখা যায়, তাই কনিষ্কের আমলে গান্ধার বৌদ্ধ শিল্পের শুরু বা চূড়া হয়েছিল, এই ধারণা আর ধরে রাখা যায় না, এবং ধারাটি যথেষ্ট প্রাচীনতর। সারনাথের বোধিসত্ত্ব একই রাজত্বের, এর তৃতীয় বর্ষে, যা ফকের গণনায় ১২৯ বা ১৩০ খ্রিস্টাব্দে পড়ে। হুলৎস লক্ষ করেছিলেন, ভিক্ষু বল আবার দেখা দেন হুবিষ্কের ৩৩ বর্ষের তারিখের একটি মথুরার মূর্তিতে, ঠিক ৩০ বছর পরে।
যে সঙ্গীতি হিউয়েন সাং কাশ্মীরে বসিয়েছিলেন
হিউয়েন সাং একটি সঙ্গীতির কথা বলেন। বিলের অনুবাদে, গান্ধারের রাজা কনিষ্ক রোজ বৌদ্ধ গ্রন্থ পড়তেন এবং দেখলেন সম্প্রদায়গুলি পরস্পরের বিরোধিতা করছে। ভিক্ষু পার্শ্ব তাঁকে বললেন সংঘগুলি বিভক্ত, আর রাজা দূর-দূরান্ত থেকে আচার্যদের ডাকলেন। পরপর আদেশে ভিড় কমিয়ে ৪৯৯ জনে আনা হল, আর বসুমিত্রকে সভাপতি করে যোগ করা হল, ফলে সংখ্যা হল ৫০০।
তাঁরা ত্রিপিটকের তিন ভাগের ওপর ভাষ্য লিখলেন, প্রতিটির জন্য দশ অযুত শ্লোক। কনিষ্ক তারপর গ্রন্থগুলি লাল তামার পাতে খোদাই করালেন, একটি পাথরের সিন্দুকে সিলমোহর করে রাখলেন, আর তার ওপর একটি স্তূপ গড়লেন। হিউয়েন সাং গল্পটি বসিয়েছেন এমন এক কাশ্মীরে যা, তাঁর বিবরণে, অশোক আগে ৫০০ বিহারসহ ভিক্ষুদের দিয়েছিলেন; সেই রাজার কথা tuput-এর অশোক নিয়ে লেখায় আছে।
বৌদ্ধ সঙ্গীতি নিয়ে ব্রিটানিকার ভুক্তি বলে, সর্বাস্তিবাদ সম্প্রদায়ের, যার নামের অর্থ “সবকিছুই বাস্তব”, ইতিবৃত্তগুলি কনিষ্কের অধীনে জলন্ধরে, বা অন্য সূত্রে কাশ্মীরে, বসুমিত্রের সভাপতিত্বে একটি সঙ্গীতির কথা বলে। এটি যোগ করে, থেরবাদী সূত্রগুলি এ নিয়ে নীরব, আর কনিষ্কের তারিখ অনিশ্চিত বলে সঙ্গীতির তারিখও তাই, হয়তো প্রায় ১০০ খ্রিস্টাব্দ।
তারিখ কীভাবে স্থির হল
এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকায় ফকের যুক্তির শুরু একটি সংস্কৃত জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রন্থ দিয়ে, স্ফুজিধ্বজের যবনজাতক, যা চতুর্থ শতকে লেখা। তাতে একটি নিয়ম আছে যে কুষাণ বর্ষসংখ্যার সঙ্গে ১৪৯ যোগ করলে শকাব্দের বর্ষ মেলে, যার শুরু ৭৮ খ্রিস্টাব্দে। তা থেকে ২২৭ খ্রিস্টাব্দ হয় কুষাণ শতকের প্রথম বছর। কুষাণ তারিখে শতকের অঙ্ক বাদ যেত, তাই ১৮ বর্ষ লেখা একটি গ্রন্থের অর্থ হতে পারত ১৮ বা ১১৮। এক শতক পিছিয়ে গুনলে কনিষ্ক যে বছর তাঁর অব্দ শুরু করেছিলেন তা হয় ১২৭ খ্রিস্টাব্দ।
রাবাতক লিপি বলে কনিষ্ক “এক নম্বর বছর চালু করেছিলেন”। এতে তাঁর তৃতীয় ও ষষ্ঠ বর্ষেরও উল্লেখ আছে বলে মনে হয়, তাই সিমস-উইলিয়ামস ও ফক সিদ্ধান্ত নেন এটি ১৩২ খ্রিস্টাব্দের আগে খোদাই হয়নি। ফক যোগ করেন, ১২৭ খ্রিস্টাব্দ রাজত্বের প্রথম বছর হওয়া জরুরি নয়, তা তার প্রথম দিকের একটি বছর মাত্র। ক্রিস্টোফার বেনেটের কাজ, যা ফক উদ্ধৃত করেন, কনিষ্কের ১ম বর্ষকে মেলায় পুরোনো যবন অব্দের ৩০১ বর্ষের সঙ্গে, যেন তিনি একটি নতুন শতকে গণনা নতুন করে শুরু করেছিলেন।
এখনও যা নিয়ে তর্ক
ব্রিটানিকা তাঁর সিংহাসনারোহণ দিয়েছে ৭৮ থেকে ১৪৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোথাও, রাজত্ব প্রায় ২৩ বছরের, এবং টীকা দিয়েছে যে ৭৮ শকাব্দের শুরু। ১৯০০ সালে স্টাইন একটি পুরোনো বিভাজনের সারসংক্ষেপ দিয়েছিলেন, যাঁরা কনিষ্ককে ৭৮ খ্রিস্টাব্দে বসাতেন তাঁদের এবং সিলভ্যাঁ লেভির মধ্যে, যিনি তাঁকে খ্রিস্টীয় সালের শুরুর কাছে বসিয়েছিলেন। রিচার্ড সালোমন ২০০২ সালে ইন্দোলজি মেইলিং লিস্টে লিখেছিলেন, নতুন প্রমাণ “বিশ্বাসযোগ্য, কিন্তু চূড়ান্ত নয়”, এবং ৭৮ খ্রিস্টাব্দ একেবারে বাতিল হয়নি। সিমস-উইলিয়ামস ও ফক ২০১৪ সালে লিখেছিলেন, ফক অব্দটিকে ১২৭/৮ খ্রিস্টাব্দে বসিয়েছেন প্রত্যয়জনকভাবে।
আরও প্রশ্ন খোলা আছে। মথুরা মিউজিয়ামের একটি মাথাহীন মূর্তিতে কনিষ্কের নাম লেখা একটি লিপি আছে। সিমস-উইলিয়ামস ও ফক ইরানিকায় লক্ষ করেছেন, “রাজাধিরাজ” উপাধিটি আগের একটি “কনিষ্ক”-এর ওপর লেখা, এবং ধারণা দিয়েছেন মূর্তিটি হয়তো বিম কদফিসেসকে দেখায়, মন্দির পুনর্নির্মাণের সময় নতুন মাথা ও নাম পেয়েছে। একই প্রবন্ধে বলা আছে, জি. ফুসম্যান মনে করেন সিমস-উইলিয়ামসের রাবাতক পাঠ অযথা অনুমাননির্ভর, আর সিমস-উইলিয়ামস যুক্তি দিয়েছেন ফুসম্যান বেশি সংশয়ী। সিডনির সংস্করণ বলে, পরবর্তী গবেষণা স্পুনারের সেই যুক্তিকে নরম করেছে যে শাহজি-কি-ঢেরি ছিল কনিষ্কের নিজের স্তূপ।
তাঁর পরের ধারা
ব্রেসি বংশের আধুনিক তালিকায় ১৩ জন রাজা গোনেন, প্রথম শতকের মাঝামাঝি থেকে চতুর্থ শতকের শেষ পর্যন্ত। তিনি প্রথম কনিষ্ককে বসান ১২৭ থেকে ১৫০ খ্রিস্টাব্দে, হুবিষ্ককে ১৫০ থেকে ১৯০, বাসুদেবকে ১৯০ থেকে ২৩০, আর দ্বিতীয় কনিষ্ককে প্রায় ২৩০ থেকে ২৪৭। দ্বাদশ রাজা শক গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ স্তম্ভলিপিতে দেখা দেন, যে স্তম্ভের কথা tuput-এর গুপ্ত স্বর্ণযুগ নিয়ে লেখায় আছে। লেখাটি তাঁকে কুষাণ উপাধি দৈবপুত্র, শাহি ও শাহানুশাহি দেয়, ফলে শেষ চার রাজার মধ্যে তিনিই একমাত্র, যাঁর নাম কোনো লিপিতে আছে বলে ব্রেসি বলেন।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Encyclopaedia Britannica: Kanishka
- Encyclopaedia Britannica: Kushan dynasty
- Encyclopaedia Britannica: Buddhist council
- Encyclopaedia Britannica: Gandhara art
- Nicholas Sims-Williams and Harry Falk, Kushan Dynasty ii, Inscriptions of the Kushans, Encyclopaedia Iranica (2014)
- Harry Falk, Kushan Dynasty iii, Chronology of the Kushans, Encyclopaedia Iranica (2014)
- Robert Bracey, Kushan Dynasty iv, Coinage of the Kushans, Encyclopaedia Iranica (2016)
- British Museum: gold coin of Kanishka I with the Buddha (IOC.289)
- British Museum: gold coin of Kanishka I with Mao (1879,0501.4)
- British Museum: gold coin of Kanishka I with Miiro (1879,0501.2)
- Metropolitan Museum of Art: Coin of Kanishka, about 130 CE (99.35.3024)
- Archaeological Survey of India, Annual Report 1908-09 (Archive.org)
- University of Sydney, Gandharan Buddhist Texts: Gilded Bronze Reliquary Casket, Shah-ji-ki-Dheri, Peshawar
- E. Hultzsch, Epigraphical Discoveries at Sarnath, Epigraphia Indica vol. 8 (Archaeological Survey of India)
- Samuel Beal (translator), Si-yu-ki: Buddhist Records of the Western World, from Xuanzang (1884), Internet Archive
- James Legge (translator), A Record of Buddhistic Kingdoms, Faxian (1886), Project Gutenberg
- M. A. Stein (translator), Kalhana's Rajatarangini, vol. 1 (1900), Internet Archive
- Richard Salomon, message on the Dating of Kaniska, Indology mailing list, 30 July 2002
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।