Skip to content
রাসবিহারী বসু ১৯১৫ সাল থেকে জাপানে নির্বাসনে ছিলেন, ব্যাংককে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগের সভাপতিত্ব করেন, ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরের পর ভারতীয় জাতীয় সেনা নতুন করে গড়েন এবং ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ে দুটিই সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে তুলে দেন
ব্রিটিশ রাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

রাসবিহারী বসু ১৯১৫ সাল থেকে জাপানে নির্বাসনে ছিলেন, ব্যাংককে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগের সভাপতিত্ব করেন, ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরের পর ভারতীয় জাতীয় সেনা নতুন করে গড়েন এবং ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ে দুটিই সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে তুলে দেন

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

ব্রিটিশেরা সে বছর ২১ ফেব্রুয়ারির পরিকল্পিত পাঞ্জাব অভ্যুত্থান নিয়ে তাঁকে খুঁজছিল, আর রাসবিহারী বসু ১৯১৫ সালের ৫ জুন কোবেতে পৌঁছান। ১৯৪২ সালের জুনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গঠনের সময় ব্যাংককে তিনি চেয়ারে বসেছিলেন, আর ২৯ ডিসেম্বর মোহন সিংকে বরখাস্ত করার পর তিনি সেনাবাহিনী পুনরুজ্জীবিত করেন। পিটার ফে লিখেছেন, ১৯৪৩ সালের ৪ জুলাই সিঙ্গাপুরের ক্যাথে সিনেমায় সুভাষচন্দ্র বসু দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনিই প্রথম বক্তৃতা করেন।

· · 9 মিনিটের পাঠ

রাসবিহারী বসু ছিলেন এক বাঙালি বিপ্লবী, যিনি ১৯১৫ সালের জুন থেকে জাপানে থাকতেন, ১৯৪২ সালের জুনে ব্যাংককে গঠিত ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগের সভাপতিত্ব করেন, এবং ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে লিগ ও ভারতীয় জাতীয় সেনা সুভাষচন্দ্র বসুকে দিয়ে দেন। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি, ৫৮ বছর বয়সে, টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়।

নথিটি ছড়িয়ে আছে কয়েক জায়গায়। ১৯১৮ সালের সিডিশন কমিটির প্রতিবেদনে আছে দিল্লির বোমা ও পাঞ্জাবের অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা। দিল্লিতে হামলার দিন ছাপা একটি তারবার্তা দেয় ঘটনাস্থলের ছবি। লিগের সবচেয়ে পূর্ণ বিবরণ আছে পিটার ফের দ্য ফরগটন আর্মি-তে। রামচন্দ্র গুহের দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রবন্ধ, যা তাকেশি নাকাজিমার জীবনীর উপর ভর করে, ভরে দেয় জাপানের বছরগুলি। যেখানে সূত্রেরা একমত নন, লেখায় তা বলা আছে। ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ের পর সুভাষচন্দ্র বসু কী করেছিলেন, তার কাহিনি আছে আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে আগের লেখায়।

দেরাদুনের এক হেড ক্লার্ক

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর পত্রিকা তাঁর জন্ম দিয়েছে ১৮৮৬ সালের ২৫ মে, বর্ধমান জেলার সুবলদহ গ্রামে। ফে তাঁকে রাখেন সেই প্রজন্মের বাঙালিদের মধ্যে, যারা বঙ্গভঙ্গের পর সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকেছিল।

১৯১২ সালে তাঁর ছিল একটি সরকারি টেবিলের চাকরি। সিডিশন কমিটি তাঁকে বলে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হেড ক্লার্ক, এবং বলে তিনি দীননাথ, আবাদ বিহারী ও বালমুকুন্দ নামে তিন তরুণ হিন্দুকে বিপ্লবী রাজনীতিতে দীক্ষা দেন, রাজদ্রোহমূলক ইশতেহার ছড়ানোর ব্যবস্থা করেন, আর তাঁর চাকর বসন্ত কুমার বিশ্বাস নামে এক তরুণ বাঙালিকে দলের সঙ্গে পরিচয় করান।

চাঁদনি চক, ২৩ ডিসেম্বর ১৯১২

অ্যাশভিল গেজেট-নিউজ সেদিন দিল্লি থেকে যে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তারবার্তা ছাপে, তাতে বলা আছে ভাইসরয়ের হাতির শোভাযাত্রা রেলস্টেশন থেকে সবে বেরিয়ে চাঁদনি চকের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটি বাড়ির ছাদ থেকে একজন বোমা ছোড়ে। সেটি আঘাত করে হাওদায়, হাতির পিঠের ঝুড়ি-আসনে, যাতে বসে ছিলেন লর্ড ও লেডি হার্ডিঞ্জ।

তাঁদের মাথায় বড় ছাতা ধরে থাকা পরিচারক তৎক্ষণাৎ মারা যায়, আরেকজন পরিচারক গুরুতর আহত হয়। লর্ড হার্ডিঞ্জ কাঁধে আহত হন, হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকেরা দেখেন ক্ষত সামান্য। লেডি হার্ডিঞ্জ অক্ষত ছিলেন কিন্তু খুবই বিচলিত। গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিলের অর্থ সদস্য স্যার গাই ফ্লিটউড উইলসন শোভাযাত্রায় ভাইসরয়ের জায়গা নেন, আর দরবার শিবিরে হার্ডিঞ্জের একটি বার্তা পড়ে শোনান যাতে ছিল তিনি সামান্যই আহত।

সিডিশন কমিটি ১৯১৮ সালে লিখেছিল, বোমা ছোড়া ব্যক্তিকে “খুঁজে পাওয়া যায়নি” এবং হার্ডিঞ্জের একজন পরিচারক নিহত হয়েছিল। পাঁচ মাস পরে, ১৯১৩ সালের ১৭ মে, লাহোরের লরেন্স গার্ডেনসে একটি বোমা এক ভারতীয় আর্দালিকে মারে, যে অন্ধকারে সাইকেল চালিয়ে তার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। কমিটি বলে বসন্ত কুমার বিশ্বাস সেটি রেখেছিলেন। চারজন দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসিতে ঝোলেন: আমির চাঁদ, আবাদ বিহারী, বালমুকুন্দ ও বিশ্বাস। পঞ্চম জন, দীননাথ, রাজসাক্ষী হন। দিল্লির আসামিদের নিয়ে প্রতিবেদন বলে, তাদের বিচারের সাক্ষ্য “নিজেরাই দিল্লির কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রবল সন্দেহ” জাগিয়েছিল। যোগ করে: “রাসবিহারী পালিয়ে যায়।” ১৯২৯ সালে আইনসভার ভেতরে দিল্লিতে ছোড়া দ্বিতীয় বোমার কাহিনি আছে ভগৎ সিংকে নিয়ে লেখায়।

বোমাটি কে ছুড়েছিল, সেটিই বিতর্কিত বিষয়। নাকাজিমাকে পড়ে গুহ লিখেছেন, বসন্ত কুমার বিশ্বাস ছুড়েছিলেন, আর বসু সেদিনই সন্ধ্যার ট্রেনে দেরাদুনে ফিরে নিজের কাজে লেগে যান। জাপান কলিংয়ের কাবেরী জৈন বসুকে বলেছেন হামলার প্রধান স্থপতি, আর ফে লিখেছেন কেবল যে তিনি জড়িত থাকার সন্দেহভাজন ছিলেন। এই লেখায় ব্যবহৃত কোনো নথি বসুকে নিক্ষেপকারী বলে নাম করেনি।

১৯১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পরিকল্পিত অভ্যুত্থান

সিডিশন কমিটি জানায়, ১৯১৪ সালের গোড়ার দিকে বসু বেনারসে এসেছিলেন এবং সেখানকার একটি বিপ্লবী চক্রের “কার্যত দায়িত্ব নিয়েছিলেন”। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষিত ছিল এবং তাঁর ছবি ছড়ানো হয়েছিল, কিন্তু ১৯১৪ সালের বেশির ভাগ সময় তিনি বাঙালি পাড়ায় ছিলেন, পুলিশের অজান্তেই বলে মনে হয়। ১৯১৪ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে পরীক্ষা করার সময় দুটি বোমার ক্যাপ ফেটে তিনি এবং এক কনিষ্ঠ সহযোগী শচীন্দ্রনাথ সান্যাল আহত হন।

সেই মাসে বিষ্ণু গণেশ পিঙ্গলে আমেরিকা থেকে ফেরেন গদর পার্টির শিখদের নিয়ে। গদর, মানে বিদ্রোহ, নামটি কমিটি দিয়েছে আমেরিকার ভারতীয় প্রবাসীদের একটি দলকে এবং তাদের পত্রিকাকে। এক রাজসাক্ষী, যে ষড়যন্ত্রকারী ক্রাউনের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, বলে পিঙ্গলে বেনারস চক্রকে জানিয়েছিলেন আমেরিকা থেকে চার হাজার লোক ইতিমধ্যে এসে গেছে। ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে সেখানকার একটি সভায় বসু ঘোষণা করেন সাধারণ বিদ্রোহ আসছে।

এর পর তিনি যান অমৃতসরে, যেখানে তাঁর জন্য একটি বাড়ি পাওয়া যায়। কমিটি বলে, তিনি সেখানে শিখ বিপ্লবীদের সঙ্গে কাজ করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির জন্য একটি সাধারণ অভ্যুত্থানের ব্যবস্থা করেন, সদর দপ্তর লাহোরে। উত্তর ভারতের সেনানিবাসে দূত পাঠানো হয়। একটি যুদ্ধঘোষণা লেখা হয়, সঙ্গে পতাকা, বোমা, আর রেললাইন ও টেলিগ্রাফের তার কাটার সরঞ্জাম। কমিটির ট্রাইব্যুনাল নথিভুক্ত করে যে বসু চারটি রিভলভার দিয়েছিলেন।

একজন গুপ্তচর সরকারকে খবর দিয়েছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি লাহোরের সদর দপ্তরে হানা হয়। মোট তেরোজনকে ধরা হয় এবং বারোটি বোমা বাজেয়াপ্ত হয়। লাহোরের ষড়যন্ত্রকারীরা ততক্ষণে তারিখ সরিয়ে ফেলেছিল, কারণ তারা নিজেদের একজনকে খবর পাচারের সন্দেহ করছিল। বেনারসের দল পরিবর্তনটি কখনও জানতে পারেনি, এবং ২১ তারিখ সন্ধ্যায় কুচকাওয়াজের মাঠে অপেক্ষা করে। মিরাট, কানপুর, এলাহাবাদ, বেনারস, লখনউ ও অন্যত্র সৈনিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, আর কমিটি বলে অর্জিত সাফল্য “অত্যন্ত সামান্য”, কিন্তু অভ্যুত্থান “কুঁড়িতেই বিনষ্ট” না হলে যে বীজ বোনা হয়েছিল তা বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটাত।

বসু ও পিঙ্গলে দুজনেই লাহোর থেকে পালান। ২৩ মার্চ পিঙ্গলে মিরাটে ১২তম অশ্বারোহী বাহিনীর সারিতে দশটি বোমার একটি বাক্সসহ গ্রেপ্তার হন এবং মৃত্যুদণ্ড পান। বসু কলকাতায় কয়েকজন শিষ্যের সঙ্গে দেখা করেন, তাদের বলেন তিনি “কোনো পাহাড়ে” যাচ্ছেন এবং দুবছর অনুপস্থিত থাকবেন, আর দেশ ছাড়েন। হারুন খালিদ লিখেছেন, প্রথম লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার রায় বেরোয় ১৯১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, ২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ২৭ জনের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর। ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া আইনে আলাদা বিচারে সান্যালের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর হয়।

কোবে, ৫ জুন ১৯১৫

নাকাজিমাকে উদ্ধৃত করে গুহ বলেন, বসু ১৯১৫ সালের এপ্রিলে ছদ্মনামে জাহাজে রওনা হয়ে ৫ জুন কোবে বন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে ট্রেনে টোকিও যান। কাবেরী জৈন বলেন তিনি পি. এন. ঠাকুর ছদ্মনামে ভ্রমণ করেছিলেন। কোনো লেখকই জাহাজের নাম বলেননি, এবং এই লেখার জন্য খোলা অন্য কোনো সূত্রও বলে না, তাই এখানে কোনো নাম দেওয়া হল না।

জাপান তখন ব্রিটেনের মিত্র। আজিজুল জলিল দ্য ডেইলি স্টার-এ লিখেছেন, বসু কিছুকাল ছদ্মবেশে ছিলেন। জাপান সেন্টার ফর এশিয়ান হিস্টরিক্যাল রেকর্ডস, যা জাপানের জাতীয় আর্কাইভসের অংশ, বলে ১৯১৫ সালে তিনি তখন নির্বাসনে থাকা সান ইয়াত-সেনের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেই বছরের অক্টোবরে ব্রিটেন তাঁর প্রত্যর্পণ চায়। তিনি টোকিওর শিনজুকুতে নাকামুরায়া বেকারিতে মালিক পরিবারের কাছে আশ্রয় নেন। গুহ যোগ করেন, জাপান ও ব্রিটেনের সম্পর্ক শীতল হতে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ পরে প্রত্যাহার করা হয়।

গুহ লিখেছেন, ১৯১৮ সালের জুলাইয়ে তিনি মালিকের কন্যা তোশিকোকে বিয়ে করেন। ১৯২৫ সালে নিউমোনিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। নাকামুরায়া ১৯২৭ সালে তাঁর দেওয়া রেসিপিতে ভারতীয় কারি মেনুতে যোগ করে, আর গুহের বিবরণে খাবারটি বেকারির কাস্টার্ড বান ছাড়িয়ে বেশি বিক্রি হত। ফে লিখেছেন বসু জাপানি শেখেন, এক জাপানিকে বিয়ে করেন এবং জাপানের নাগরিকত্ব নেন, আর জৈন সালটি দিয়েছেন ১৯২৩। দ্য প্রিন্টে নীরা মজুমদার বলেন, সোমা পরিবার তাঁকে বেকারির মাটির নিচের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিল।

টোকিও ও ব্যাংকক, ১৯৪২

ফে লিখেছেন, জাপানের জয় ছড়ালে মালয়ে ভারতীয় লিগ বেড়ে চলে, কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব এল টোকিও থেকে, কারণ বসু সেখানে থাকতেন। জাপানের জেনারেল স্টাফ, মেজর ফুজিওয়ারা ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে যা করছিলেন তা বাড়ানোর পথ খুঁজতে গিয়ে, তাঁর দিকে ফিরল। তাঁর পরামর্শ ছিল মোহন সিংয়ের সেনাবাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, কিন্তু তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ভারতীয়দের হয়ে কথা বলা একটি রাজনৈতিক সংস্থার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া, যেটি তিনি চালাবেন। জাপানি সামরিক মাধ্যমে তাঁর নামে টোকিওর একটি সম্মেলনের আমন্ত্রণ যায়।

১৯৪২ সালের মার্চের গোড়ায় আইনজীবী এস. সি. গোহোর সিঙ্গাপুরের বাড়িতে প্রায় কুড়িজন বিষয়টি ভাবতে বসেন, এবং পেনাংয়ের ব্যারিস্টার এন. রাঘবনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মার্চের শেষে টোকিওর পথে রওনা হয়। ফে বলেন প্রতিনিধিরা বসুকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতেন না, যিনি “জাপানিদের মাঝে বড় বেশি দিন কাটিয়েছেন”। টোকিও সম্মেলন কিছু ঠিক করেনি। প্রতিনিধিরা এপ্রিলে বসুকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন, তিনি একটি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, যেখানে সর্ব-মালয় ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগের ঘোষণা হয়।

পুরো অঞ্চলের জন্য একক লিগটি গঠিত হয় জুনে ব্যাংককে। শীর্ষে ছিল একটি কাউন্সিল অব অ্যাকশন এবং প্রায় এক ডজন ভারতীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিদের একটি কমিটি, জনসংখ্যার অনুপাতে আসন নিয়ে, তার মধ্যে বার্মা ২১, মালয় ১৪ এবং থাইল্যান্ড ৬। সেনাবাহিনী তার কাছে জবাবদিহি করত, ফে বলেন, এবং বসু কাউন্সিলের চেয়ারে ছিলেন। ব্যাংকক প্রস্তাবগুলিতে জাপানের কাছে চাওয়া হয় মুক্ত ভারতের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে, তার ভূখণ্ডকে সম্মান করতে, ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে এবং তাকে মিত্রশক্তি হিসেবে গণ্য করতে। একটি প্রস্তাবে জাপানিদের কাছে সুভাষচন্দ্র বসুর যাতায়াতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ ছিল।

ফে লিখেছেন, আজাদ ভারত সভা, ফ্রি ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন, যাতে লক্ষ্মী স্বামীনাথন সিঙ্গাপুরে যোগ দেন, চার মাসে ১,০০,০০০ সদস্য ছাড়ায়, এবং ইংরেজি ও জাপানিতে ছাপা তার কার্ড রেশন তুলতে ও চেকপয়েন্ট পার হতে ব্যবহার করা হত।

১৯৪২ সালের ডিসেম্বর, আর যে সেনাবাহিনী বসুকে নতুন করে গড়তে হল

শরৎ নাগাদ ভারতীয় ও জাপানিরা স্বীকৃতি, বার্মায় উদ্বাস্তুদের সম্পত্তি এবং ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার নিয়ে ঝগড়া করছিল। ৮ ডিসেম্বর জাপানিরা সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা গিলকে গ্রেপ্তার করে। বসু ছাড়া কাউন্সিল অব অ্যাকশনের প্রতিটি সদস্য সেই সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন। মোহন সিং কাউন্সিলকে অকার্যকর ধরে নেন এবং জাপানকে তাঁর সঙ্গেই সরাসরি লেনদেন করতে দাবি জানান।

বসু তিন সপ্তাহ তাঁকে বুঝিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। ২৯ ডিসেম্বর মোহন সিংকে ডাকা হয় ফুজিওয়ারার উত্তরসূরি কর্নেল ইওয়াকুরো হিদেওর বাংলোয়, এবং কোন শর্তে তিনি কমান্ডে থাকতে পারেন তা জানানো হয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বসুর সই করা একটি বরখাস্তের চিঠি হাতে পান। জাপানিরা তাঁকে হেফাজতে নেয়, আর যুদ্ধের বাকি সময় তিনি কাটান সুমাত্রায়।

মোহন সিং চলে যাওয়ায়, ফে বলেন, বসু “মাঠ একা পেয়ে যান”। তিনি শিবির থেকে শিবিরে গিয়ে অফিসার ও সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলেন, আর বেশির ভাগই ফিরে আসে। জামান কিয়ানি আবার সেনাদের কমান্ড নেন, প্রেম সায়গল নতুন একটি মিলিটারি ব্যুরোর সামরিক সচিব হন, আর শাহ নওয়াজ খান নেন অপারেশন শাখা। বসু লিগের সদর দপ্তর ব্যাংকক থেকে নামিয়ে আনেন এবং পুনরুজ্জীবিত সেনাবাহিনীকে তার সঙ্গে বাঁধেন। বাহিনী ছোট হয়ে গিয়েছিল। কয়েক ডজন অফিসার ও কয়েক হাজার সৈনিক আবার যোগ দিতে অস্বীকার করে, আর জাপানিরা তাদের অনেককে দূরের শ্রম-ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়।

ফে উদ্ধৃত করেছেন কে. আর. পালতাকে, যিনি ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরে রেঙ্গুনে বসুর সঙ্গে দেখা করেন এবং দেখেন এক “কুঁচকে যাওয়া বৃদ্ধ”কে, যিনি তখনও ত্রিশ বছর আগের বাংলার বোমাবাজদের জগতে বাস করছেন। পালতা ভেবেছিলেন ব্যাটালিয়নগুলি প্রতীকী বাহিনী মাত্র। তিনি সেনাবাহিনীর পুনরুজ্জীবন-সহ বসুর বহু অবদানেরও স্বীকৃতি দেন। ফে যোগ করেন, রেঙ্গুন, ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরের বহু ভারতীয় আরেকজন বসুর অপেক্ষায় ছিল।

ক্যাথে সিনেমা, সিঙ্গাপুর, ১৯৪৩ সালের জুলাই

সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে পৌঁছান ১৯৪৩ সালের ২ জুলাই শুক্রবার, বৃষ্টির মধ্যে, আর বিমানঘাঁটিতে প্রায় কেউই ছিল না। পিআইবি-র প্রোফাইল বলে, তিনি টোকিওতে আসেন ২০ জুন রাসবিহারীর আমন্ত্রণে, আর গুহ বলেন জুনে দুজনের দেখা হয় এবং তাঁরা বাংলায় কথা বলেন।

ফে লিখেছেন, ৪ জুলাই রবিবার ক্যাথে বিল্ডিংয়ের সিনেমা হল লিগ সদস্যদের ভিড়ে ঠাসা ছিল এবং দুজন মঞ্চে বসেন। রাসবিহারী প্রথমে বলেন, ক্লান্ত ও অসুস্থ চেহারায়, সংক্ষেপে এবং ইংরেজিতে। ফে এটিকে বলেছেন তাঁর শেষ ভাষণ, এবং লিখেছেন, বৃদ্ধ বাঙালি মর্যাদার সঙ্গে তাঁর লিগ ও তাঁর সেনাবাহিনী তরুণতর মানুষটির হাতে তুলে দেন। সুভাষ বলেন তার পর, এবং ফের মতে শেষে যাঁর জায়গা তিনি নিচ্ছিলেন তাঁকে প্রায় ভুলেই যাওয়া হল। ৫ জুলাই সোমবার সুভাষ ভারতীয় জাতীয় সেনার সৈনিকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন, ফের বিবরণে যারা রাসবিহারীকে কখনও পুরোপুরি মেনে নেয়নি, কারণ তিনি ছিলেন বেসামরিক এবং বাঙালি। পিআইবি-র প্রোফাইল কমান্ড হস্তান্তরের তারিখ দিয়েছে ৫ জুলাই। জলিল লিখেছেন, সুভাষ তাঁকে বলেছিলেন পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের জনক এবং তাঁকে অস্থায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করেছিলেন।

সূত্রেরা যা মীমাংসা করে না

তিনটি বিষয় খোলা থেকে যায়: ১৯১৫ সালের জাহাজ ও রওনার তারিখ, চাঁদনি চকে বোমা ছোড়া লোকটির নাম, আর হস্তান্তর ১৯৪৩ সালের ৪ না ৫ জুলাই ঘটেছিল। তাঁর মৃত্যুর তারিখ গুহ, জলিল, জৈন ও পিআইবি-র প্রোফাইল দিয়েছে ২১ জানুয়ারি ১৯৪৫, আর জাপান সেন্টার ফর এশিয়ান হিস্টরিক্যাল রেকর্ডসের শব্দকোষ দিয়েছে ১৯৪৪ সালের জানুয়ারি। গুহ লিখেছেন, ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর ফুসফুস বসে যায়। জলিল লিখেছেন, মৃত্যুর আগে জাপান সরকার তাঁকে অর্ডার অব দ্য রাইজিং সানের দ্বিতীয় শ্রেণির সম্মান দেয় এবং তাঁর দেহ বহনের জন্য একটি রাজকীয় গাড়ি পাঠায়।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Report of the Sedition Committee, 1918 (Calcutta: Superintendent, Government Printing), paragraphs 56, 121, 130, 138 and 143, Internet Archive
  2. Asheville Gazette-News, 23 December 1912, page 1 (Associated Press dispatch from Delhi on the bomb thrown at Lord Hardinge), Digital NC
  3. Peter Ward Fay, The Forgotten Army: India's Armed Struggle for Independence, 1942 to 1945 (University of Michigan Press, 1993), Internet Archive
  4. Ramachandra Guha, The Bose Whom Japan Still Remembers, The Telegraph, 13 June 2015
  5. Azizul Jalil, article on Rash Behari Bose, The Daily Star Magazine (Retrospect), 1 November 2007
  6. Japan Center for Asian Historical Records (National Archives of Japan), glossary entry: Rash Behari Bose
  7. New India Samachar (Press Information Bureau, Government of India), 16 to 31 January 2022, page 48: profile of Rash Behari Bose
  8. Kaveri Jain, Rash Behari Bose: The Revolutionary Who Globalised India's Freedom Struggle, Japan Calling
  9. Neera Majumdar, Rash Behari Bose: The Indian freedom fighter Japan remembers as its beloved chef, ThePrint, 25 May 2018
  10. Haroon Khalid, The 1915 Ghadar plan to free India from the British was a failure, Dawn (from Scroll), 4 May 2018

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#rash behari bose#indian independence league#indian national army#delhi conspiracy case#ghadar#mohan singh#japan#biography

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ব্রিটিশ রাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
সুভাষচন্দ্র বসু ভারতীয় জাতীয় সেনা গড়েছিলেন দুবার, ১৯৪৪ সালের ১৮ মার্চ তাকে মণিপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন, আর ১৯৪৫ সালের বিমান দুর্ঘটনাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে তিনটি সরকারি তদন্ত একমত হতে পারেনি
সিঙ্গাপুরের পতনের দুদিন পর একজন শিখ ক্যাপ্টেন হাজার হাজার ভারতীয় বন্দিকে একটি সেনায় যোগ দিতে বলেছিলেন। তার কাহিনি গেছে মণিপুর, লাল কেল্লা আর তার নেতার মৃত্যু নিয়ে তিনটি তদন্তের ভেতর দিয়ে।
১৭৮০, ১৭৯২ আর ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশ অফিসারদের লেখায় টিপু সুলতানের রকেট বাহিনী, আর সেই বাহিনীর নেতাকে নিয়ে তর্ক
টিপু সুলতানের রকেটবাহিনীর সংখ্যা সাধারণত বলা হয় ৫,০০০। যে অফিসারেরা তাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাঁরা লিখে গেছেন অন্য সংখ্যা, আর যে শাসক তাদের মাঠে নামিয়েছিলেন তাঁকে নিয়ে ঐতিহাসিকেরা আজও একমত নন।
রানি ভিক্টোরিয়ার ১৮৫৮ সালের ক্ষমাঘোষণার জবাব বেগম হজরত মহল দিয়েছিলেন নিজের পাঁচ দফার ঘোষণায়, আর তা না মেনেই নেপালে মারা যান
লখনউয়ের এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা ১৮৫৮ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁর ঘোষণার একটি অনুবাদ পররাষ্ট্র বিভাগে পাঠিয়েছিলেন। তাতে চুক্তি, ধর্ম আর ক্ষমা নিয়ে রানির প্রতিশ্রুতিগুলো একটা একটা করে ছিঁড়ে দেখানো হয়েছিল।
← সব লেখা