ছবি: Reflectionsbyprajakta / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (ছাঁটা)
বাংলা
ভারতের সেনাবাহিনী অপারেশন বিজয়ের অধীনে চড়াই বেয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়, আর বিমান বাহিনী ১৯৯৯ সালের ২৬ মে থেকে চালায় অপারেশন সফেদ সাগর। তোলোলিংয়ে আক্রমণ হয় ১২ জুন রাতে, টাইগার হিলে ওঠা হয় ৩ জুলাই, আর প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর হিসাবে যুদ্ধটির জন্য চারটি পরম বীর চক্র দেওয়া হয়েছে।
৩ মে প্রথম নজরে আসা থেকে ১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনী জাতীয় সড়ক ১এ-র, অর্থাৎ শ্রীনগর থেকে লেহ যাওয়ার সড়কের ওপরের শৈলশিরাগুলো পাকিস্তানি সেনাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেয়। তারা নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে আসা সেনা ছিল, আর ভারত এই কাজ করেছে নিজে রেখা পার না হয়েই। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) যুদ্ধটির জন্য চারটি পরম বীর চক্র গণনা করে, যা ভারতের সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার, সঙ্গে নয়টি মহা বীর চক্র আর ৫৫টি বীর চক্র।
অনুপ্রবেশ কীভাবে ঘটল আর লড়াই কীভাবে ওয়াশিংটনে শেষ হলো, সে কথা আছে যুদ্ধের মূল বিবরণে। এই লেখা অনুসরণ করে লড়াইটিকেই: তোলোলিং, কামান, টাইগার হিল, বিমান অভিযান আর এর জন্য সম্মানিত চারজন সেনা।
এক রাখালের খবর থেকে পূর্ণ সতর্কতা
১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই সরকার যে কার্গিল পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে, তার প্রতিবেদনে সময়রেখাটি আছে। ৩ মে রাখালরা অনুপ্রবেশ টের পান, ৭ মে টহলদল তা নিশ্চিত করে। ১১ মে ১৫ কোরের একটি পরিস্থিতি-প্রতিবেদনে বাটালিক এলাকায় আটটি অনুপ্রবেশের কথা গোনা হয়, যাতে ১৬০ থেকে ২৪০ জন অনুপ্রবেশকারী জড়িত ছিল। পরের দিন উত্তর কমান্ড জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো রণাঙ্গনকে সতর্ক অবস্থায় রাখে।
২৪ মে নাগাদ আরও দুটি ব্রিগেড পৌঁছে যায়। ২৫ মে নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি আকাশশক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এই শর্তে যে বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করবে না, যা ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়ার (ইউএসআই) লেখায় নথিভুক্ত আছে। কমিটি এও লিখেছে যে প্রতিরোধের সংকেত হিসেবে নৌবাহিনীর পশ্চিম ও পূর্ব বহরকে উত্তর আরব সাগরে জড়ো করা হয়েছিল।
প্রথম কয়েক সপ্তাহ নিয়ে কমিটির নিজের রায় সোজাসাপ্টা। তারা পেয়েছে, অনুপ্রবেশ “ভারত সরকার, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত বিস্ময় হয়ে এসেছিল।“
তোলোলিং, ১ জুন থেকে ১২ জুনের রাত
তোলোলিং আর তার পাশের একটি চূড়া, পয়েন্ট ৪৫৯০, দ্রাস এলাকা ও মহাসড়কের একটি দীর্ঘ অংশের ওপর নজর রাখত। শহীদ সেনাদের স্মৃতিস্থান হনার পয়েন্ট তোলোলিংকে বর্ণনা করে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে।
পিআইবির ২০২৫ সালের টীকায় আগের একটি প্রচেষ্টার কথা আছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতি ছিল ভারী। ১ জুন ১৮ গ্রেনেডিয়ার্সের মেজর রাজেশ অধিকারী কামান ও ছোট অস্ত্রের গুলির মধ্যে তাঁর কোম্পানি নিয়ে তোলোলিংয়ের দিকে এগোন। নিজের লোকদের থেকে গুলি সরিয়ে আনতে তিনি খোলা জায়গা পার হন আর নিহত হওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙ্কার নীরব করে দেন। মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার মহা বীর চক্র পান।
মূল আক্রমণ শুরু হয় ১২ জুন রাতে। হনার পয়েন্টের বর্ণনা অনুযায়ী ২ রাজপুতানা রাইফেলস রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ব্যাটালিয়নের আক্রমণ শুরু করে, নির্দেশ ছিল ১৩ জুন ভোর ৬টার মধ্যে চূড়া দখলের, আর ১৮ গ্রেনেডিয়ার্সের দুটি কোম্পানি পেছনে দৃঢ় ঘাঁটি ধরে রাখে। মেজর বিবেক গুপ্তের চার্লি কোম্পানি সামনে ছিল, এমন সময় প্রথম সেকশনের তিনজন গুলিবিদ্ধ হলে অগ্রযাত্রা থেমে যায়। প্রশংসাপত্রে আছে, গুপ্ত অবস্থানটির দিকে রকেট লঞ্চার ছোড়েন আর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর গায়ে দুটি গুলি লাগে, তবু হাতাহাতি লড়াইয়ে তিনি তিনজন রক্ষীকে মারেন, তারপর কোম্পানি অবস্থানটি দখল করে। তিনি আবার গুলিবিদ্ধ হন আর সেখানেই মারা যান, এবং মরণোত্তর মহা বীর চক্র পান।
কানওয়াল তোলোলিং দখলের তারিখ বলেন ১৩ জুন, কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের পর।
মহাসড়কের ওপর বোফর্স কামান
তোলোলিংয়ে যে কামানগুলো পথ পরিষ্কার করেছিল, সেগুলো দাঁড়িয়ে ছিল জাতীয় সড়কের ওপরেই। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক গুরমীত কানওয়াল ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই ডেইলিও-তে লিখেছেন, ১৫৫ মিমি বোফর্স মাঝারি কামান আর ১০৫ মিমি ফিল্ড কামান সরাসরি ভূমিকায় গুলি চালিয়েছিল, অর্থাৎ কামানচালকেরা শৈলশিরার ওপর দিয়ে গোলা না ছুড়ে নিজেরা দেখতে পাওয়া বাঙ্কারে নিশানা করেছিলেন। তাঁর হিসাবে তোলোলিংয়ে গুলি চালিয়েছিল একশোর বেশি কামান, মর্টার ও রকেট লঞ্চার। টাইগার হিলে তিনি যোগ করেন ১২২ মিমি গ্র্যাড রকেট লঞ্চার, সেগুলোও সরাসরি গুলি চালিয়েছিল।
উত্তর কমান্ডের কর্নেল এস ডি গোস্বামী ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই ডিএনএ-কে সেনাবাহিনীর যে সংখ্যা দেন, তা বিশাল। যুদ্ধে কামানবাহিনী ছুড়েছিল আড়াই লক্ষেরও বেশি গোলা, বোমা ও রকেট, দিনে প্রায় ৫,০০০ করে ৩০০টি কামান, মর্টার ও রকেট লঞ্চার থেকে, আর টাইগার হিল পুনর্দখলের দিনে প্রায় ৯,০০০। প্রতিটি ব্যাটারি ১৭ দিন ধরে মিনিটে একটির বেশি গোলা ছুড়েছিল। একই প্রতিবেদন ১৫৫ মিমি এফএইচ ৭৭-বি বোফর্সকে কামানবাহিনীর প্রধান ভরসা বলেছে, যার পাল্লা ৩০ কিমি, আর বলেছে সেনাবাহিনীতে এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি ভালো কাজ করেছে।
কানওয়াল লিখেছেন কামানবাহিনীর তিনজন অফিসার ও ৩৪ জন সৈনিক মারা যান, আর তিনটি কামান রেজিমেন্ট সেনাপ্রধানের ইউনিট প্রশংসাপত্র পায়। পিআইবি বলছে, ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার কার্গিলের প্রথম লক্ষ্য পয়েন্ট ৫১৪০-এর নাম রেখেছে গান হিল, কামান রেজিমেন্টগুলোকে সম্মান জানাতে।
টাইগার হিল, ৩ জুলাইয়ের চড়াই
৩ জুলাই প্রচণ্ড গোলাবর্ষণের মধ্যে ১৮ গ্রেনেডিয়ার্সের একটি প্লাটুন টাইগার হিলের বরফে ঢাকা খাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে উঠতে শুরু করে। পিআইবির বিবরণ অনুযায়ী গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব প্রথম বাঙ্কারটি ধ্বংস করেন, যা প্লাটুনকে আরও ওপরে উঠতে দেয়, আর কাঁধ ও পেটে গুলি লাগার পরও তিনি এগিয়ে চলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রতিকৃতি-গ্যালারি পরম বীর দীর্ঘা নিয়ে পিআইবির পরবর্তী টীকা বলছে, অভিযানের পথ ছিল প্রায় ১৬,৫০০ ফুট উঁচুতে, আর তিনি স্বেচ্ছায় আরোহী দলের নেতৃত্ব নিয়েছিলেন।
১৮ গ্রেনেডিয়ার্সের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার কুশল ঠাকুর ২০২০ সালে ট্রিবিউনকে স্মরণ করেন যে লেফটেন্যান্ট বলওয়ান সিংয়ের ঘাতক কমান্ডো প্লাটুনের আকস্মিক আক্রমণ, যাতে হাবিলদার মদন ও যাদব ছিলেন, পথ খুলে দেয়, আর ক্যাপ্টেন শচীন নিম্বালকর নিজের কোম্পানিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং ৮ শিখ সহায়তা করে। ট্রিবিউন তেরঙ্গা তোলার তারিখ বলে ৪ জুলাই। কানওয়াল পুনর্দখলের তারিখ বলেন ৫ জুলাই, তাই চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করে কোন বিবরণ অনুসরণ করা হচ্ছে তার ওপর।
ট্রিবিউন ওই দুই লড়াইয়ে ব্যাটালিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দিয়েছে: এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড লেফটেন্যান্ট কর্নেল আর বিশ্বনাথন, মেজর অধিকারী, দুজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার আর ২১ জন অন্য পদের সৈনিক। ব্যাটালিয়নটি ৫২টি বীরত্ব পুরস্কার পায়, তার মধ্যে একটি পরম বীর চক্র, দুটি মহা বীর চক্র আর ছয়টি বীর চক্র।
অপারেশন সফেদ সাগর
ইউএসআইয়ের লেখা অনুযায়ী সেনাবাহিনী ৮ মে আক্রমণকারী হেলিকপ্টার চেয়েছিল, কিন্তু উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি থাকায় সরকার তা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৫ মে মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের পর বিমান বাহিনী পরদিন অপারেশন সফেদ সাগর শুরু করে। প্রথম আক্রমণ ২৬ মে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে উড়ান দেয়, উড়িয়েছিল মিগ-২১, মিগ-২৭ ও মিগ-২৩ যুদ্ধবিমান, তাদের আড়াল দিচ্ছিল মিগ-২৯।
প্রথম কয়েক দিনে বিমান হারাতে হয়। ২৭ মে একটি মিগ-২৭-এ যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে তার পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে নচিকেতা ইজেক্ট করেন। তাঁকে খুঁজতে চক্কর দেওয়া স্কোয়াড্রন লিডার অজয় আহুজার মিগ-২১ গুলিতে নামানো হয়, আর আহুজা মৃত্যুর পর বীর চক্র পান। ২৮ মে একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার হারিয়ে যায়। এয়ার ভাইস মার্শাল দেব গণেশ লিখেছেন, এরপর সশস্ত্র হেলিকপ্টার সরিয়ে নেওয়া হয় আর যুদ্ধবিমান উড়ে স্টিঙ্গার ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার বাইরে পরিবর্তিত পথে।
দুটি তারিখ বদলটিকে চিহ্নিত করে। ইউএসআইয়ের বিবরণে ১৬ ও ১৭ জুন মিগ-২৭ ও মিরাজ ২০০০ মুন্থো ধালো সরবরাহ ডিপোতে আঘাত হানে। ফিলিপ ক্যাম্পের মতে ২৪ জুন দুটি মিরাজ ২০০০ টাইগার হিলে শত্রুর ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরে প্যাভওয়ে লেজার-নির্দেশিত বোমা ফেলে, যা বিমান বাহিনীর এমন বোমার প্রথম অভিযানগত ব্যবহার। দেব গণেশ সেনাবাহিনীর একটি বার্তা উদ্ধৃত করেন, যা ওই আক্রমণে পাঁচজন পাকিস্তানি অফিসারের মৃত্যুর কথা বলে, আর পাহাড়ের চারটি লক্ষ্যগুচ্ছের মধ্যে তিনটিতে পরিকল্পিত আক্রমণকে তিনি টাইগার হিল পতনের সরাসরি কারণ বলেন। এটি একজন বিমান বাহিনী অফিসারের বিচার, চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়।
আক্রমণ অভিযান শেষ হয় ১২ জুলাই। ইউএসআইয়ের লেখা গোনে ৫৫০টি আক্রমণ অভিযান, ১৫০টি পর্যবেক্ষণ অভিযান, ৫০০-র বেশি পাহারা-উড়ান আর ২,১৮৫টি হেলিকপ্টার অভিযান। দেব গণেশ ১২ জুলাই পর্যন্ত গুনে দেন প্রায় ৫৮০টি আক্রমণ অভিযান আর প্রায় ২,৫০০ হেলিকপ্টার অভিযান। ইউএসআই একে বলেছে ১৫,০০০ ফুটের উঁচু পাহাড়ে যুদ্ধ-আকাশশক্তির প্রথম ব্যবহার।
চারটি পরম বীর চক্র
পিআইবির দেওয়া চারটি পুরস্কারের সারসংক্ষেপ, তাদের দেওয়া তারিখসহ, এরকম।
১/১১ গোর্খা রাইফেলসের লেফটেন্যান্ট মনোজ কুমার পান্ডে বাটালিকের খালুবার শৈলশিরা পরিষ্কার করেন। হনার পয়েন্ট আক্রমণের তারিখ দেয় ২ থেকে ৩ জুলাইয়ের রাত, আর বলে প্রশংসাপত্রে তাঁকে লেফটেন্যান্ট নামে ডাকা হয়েছে, যদিও পিআইবি ও পরবর্তী নথি তাঁকে ক্যাপ্টেন বলে। পিআইবি বলে তিনি দুটি বাঙ্কার ধ্বংস করেন আর কাঁধে ও পায়ে আহত হয়েও আরও অবস্থানের বিরুদ্ধে এগিয়ে যান। হনার পয়েন্ট যোগ করে, চতুর্থ বাঙ্কারটিতেই তিনি প্রাণঘাতী গুলি খান।
গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদবের টাইগার হিলের চড়াইয়ের কথা ওপরে বলা হয়েছে। ট্রিবিউন ২০০০ সালের জানুয়ারিতে জানায়, তাঁর বয়স ছিল ১৯ আর প্রায় ১৫টি গুলি তাঁকে লেগেছিল, অন্য বিবরণে এই গণনা ভিন্ন আছে।
১৩ জেএকে রাইফেলসের রাইফেলম্যান সঞ্জয় কুমার ৪ জুলাই মুশকোহ উপত্যকায় একটি সমতল-শীর্ষ চূড়ার দিকে অগ্রবর্তী স্কাউট ছিলেন। একটি বাঙ্কারের গুলিতে আহত হয়ে তিনি ভেতরের লোকদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়েন আর তিনজনকে মারেন, তারপর তাদের ফেলে যাওয়া মেশিনগান তুলে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া বাকিদের দিকে ঘুরিয়ে ধরেন।
১৩ জেএকে রাইফেলসের ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা পয়েন্ট ৫১৪০ আর তারপর ৭ জুলাই পয়েন্ট ৪৮৭৫ দখল করেন, যেখানে তিনি নিহত হন। তাঁর কথা বলা আছে বাত্রা ও শেরশাহ সিনেমা নিয়ে লেখায়।
ট্রিবিউন ২০০০ সালের ২৩ জানুয়ারি জানায়, চারটিই প্রজাতন্ত্র দিবসে দেওয়া হবে, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম পরম বীর চক্র, যা মোট সংখ্যা ১৭ থেকে ২১-এ নিয়ে যায়। আগের ১৭-র মধ্যে পাঁচটি ছিল ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালের প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধের জন্য। পূর্ণ তালিকা আছে পুরস্কারটির নকশা নিয়ে লেখায়।
ভারতের নিহতদের সংখ্যা
সরকারি উপকরণে তিনটি সংখ্যা দেখা যায়। কার্গিল পর্যালোচনা কমিটি, যুদ্ধ তখনও টাটকা থাকতে লিখে, ১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ৪৭৪ জন সেনা ও বিমান বাহিনীর নিহত আর ১,১০৯ জন আহতের কথা নথিভুক্ত করেছিল। পিআইবির ২০২০ সালের বিজ্ঞপ্তি দেয় ৫২৭ জন ভারতীয় সৈনিক নিহত। ২০২৫ সালে সেনাবাহিনী বলে তারা ৫৪৫ জন নিহতের পরিবারের কাছে গেছে, যে দলটিকে পিআইবির টীকা ভাগ করে সেনাবাহিনীর ৫৩৭, বিমান বাহিনীর পাঁচ, সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর একজন আর দুজন বেসামরিক। পিআইবির ২০২৫ সালের টীকাও বলে এক হাজারের বেশি আহত হয়েছিলেন।
এখানে ব্যবহৃত কোনো সরকারি টীকা ৫২৭ আর ৫৪৫-এর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে না। ২০২০ সালের একই বিজ্ঞপ্তি বলে ১,০৪২ জন পাকিস্তানি সৈনিক নিহত হয়েছে, যা ভারতের দাবি। কার্গিল পর্যালোচনা কমিটি বলে পাকিস্তানের ক্ষতি ভারতের চেয়ে বেশি ছিল। ২০১০ সালের ১৮ নভেম্বর পিটিআই জানায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে ৪৫৩ জন সৈনিক ও অফিসারের নাম দিয়েছে।
পর্যালোচনা আর স্মারক
কার্গিল পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ছিলেন চারজন: চেয়ারম্যান কে সুব্রহ্মণ্যম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে কে হাজারি (অবসরপ্রাপ্ত), বি জি ভার্গিজ আর সতীশ চন্দ্র। এর সারসংক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বাহিনী সদরদপ্তরগুলো নতুন করে সাজানোর, একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার আর একজন পূর্ণ সময়ের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সুপারিশ করে। নাম ধরে প্রতিরক্ষা প্রধানের পদের কথা এতে বলা নেই।
সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের আশু মান লিখেছেন তারপর কী হয়েছিল। যুদ্ধের অল্প পরেই সমন্বিত প্রতিরক্ষা স্টাফ গঠিত হয়, ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন আর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা তৈরি হয়, আর ২০১৯ সালে প্রথম প্রতিরক্ষা প্রধান নিযুক্ত হন।
ভারত প্রতি বছর ২৬ জুলাইকে কার্গিল বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। ২০২৫ সালে ২৬তম পালনে দ্রাসের কার্গিল যুদ্ধ স্মারকে ৫৪৫টি প্রদীপ জ্বালানো হয়, অপারেশন বিজয়ে মারা যাওয়া প্রতিটি সৈনিকের জন্য একটি করে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Press Information Bureau, 25 July 2025: Kargil Vijay Diwas 2025, Honouring 26 Years of Valour and Victory
- Press Information Bureau, 26 July 2025: Indian Army commemorates 26th anniversary of Kargil Vijay Diwas
- Press Information Bureau, 26 July 2020: Kargil Vijay Diwas celebrations at Pune
- Press Information Bureau, 21 December 2025: A Gallery of Eternal Courage, Inauguration of Param Vir Dirgha at Rashtrapati Bhavan
- Kargil Review Committee, From Surprise to Reckoning: executive summary of the report, 25 February 2000 (hosted copy)
- United Service Institution of India: Role of the Indian Air Force During the Kargil War (Nutan Singh, 2024)
- Bharat Rakshak: Operation Safed Sagar, Air Vice Marshal Dev Ganesh, 15 October 2009
- Bharat Rakshak: The Mirage 2000 in Kargil, Phillip Camp, 15 October 2009
- Gurmeet Kanwal, DailyO, 26 July 2019: Shooting Fire in Kargil, the artillery in the 1999 war
- DNA, 26 July 2016: Indian Army fired 2.5 lakh shells to bomb enemy positions in Kargil war
- The Tribune, 23 January 2000: Four Armymen to get Param Vir Chakra (UNI)
- The Tribune, 4 July 2020: 21 years on, Kargil veteran recalls Tiger Hill's capture
- Honour Point: Major Vivek Gupta, Maha Vir Chakra, 2 Rajputana Rifles, with the text of the citation
- Honour Point: Captain Manoj Kumar Pandey, Param Vir Chakra, 1/11 Gorkha Rifles, with the text of the citation
- Centre for Land Warfare Studies: 26 Years Since Kargil, How a Crisis Fueled India's Comprehensive Military Transformation (Ashu Maan, 21 July 2025)
- Press Trust of India via Deccan Herald, 18 November 2010: Pak Army quietly names 453 soldiers killed in Kargil War
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।