আল জাজিরার মালিক কাতারের আমির, চেয়ারম্যান এক শেখ, আর অর্থের প্রায় পুরোটা আসে তাঁর সরকার থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগ একে কাতারের 'নিয়ন্ত্রণাধীন' বলেছে
সংবাদ

আল জাজিরার মালিক কাতারের আমির, চেয়ারম্যান এক শেখ, আর অর্থের প্রায় পুরোটা আসে তাঁর সরকার থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগ একে কাতারের 'নিয়ন্ত্রণাধীন' বলেছে

ছবি: GooseB / Pixabay

বাংলা

আল জাজিরা নিজেকে স্বাধীন বলে। এর আইনি মালিক কাতারের আমির, এর পর্ষদ নিয়োগ করেন কাতারের মন্ত্রীরা, এর চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক দুজনই শাসক পরিবারের সদস্য, আর বাইরের মূল্যায়নে এর অর্থায়নের ৯০ শতাংশের বেশি আসে রাষ্ট্রের টাকা থেকে। ২০২০ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ লেখে, নেটওয়ার্কটি কাতার সরকারের নিয়ন্ত্রণে ও অর্থায়নে চলে।

tuput সম্পাদকীয় দল · · 4 মিনিটের পাঠ

২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, মার্কিন বিচার বিভাগের কাউন্টারইন্টেলিজেন্স ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রধান জে ব্র্যাট যুক্তরাষ্ট্রে আল জাজিরার সোশ্যাল মিডিয়া শাখা AJ+-কে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে AJ+-কে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন করার আদেশ দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে AJ+ কাতারের নেতাদের “নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে” কাজ করে। একটি বাক্য AJ+-কে ছাড়িয়েও গিয়েছিল: “সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবি সত্ত্বেও, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক ও এর সহযোগী সংস্থাগুলি কাতার সরকারের নিয়ন্ত্রণে ও অর্থায়নে চলে।”

আল জাজিরা প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়। তারা বলে তারা “গভীরভাবে হতাশ” এবং এই সিদ্ধান্ত “আমাদের দেওয়া বিস্তৃত তথ্যভিত্তিক নথির পরিপন্থী, যা দেখায় যে AJ+-এর ক্ষেত্রে FARA নিবন্ধন প্রযোজ্য নয়।” তাদের বিবৃতি আরও বলে: “AJ+-এর আইনি কাঠামো, সম্পাদকীয় কাঠামো, সম্পাদকীয় নীতি, বাজেট প্রক্রিয়া ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে এর স্বাধীনতা প্রমাণ করে।” আল জাজিরা এ-ও উল্লেখ করে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই সংবাদমাধ্যমটিকে বন্ধ করে দিতে “অবিরাম লবিং প্রচেষ্টা” চালিয়েছে। দুটি বক্তব্যই প্রকাশ্য নথিতে আছে। এই নিবন্ধের বাকি অংশে সেই নথির যে অংশগুলো যাচাই করা যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে।

একজন মালিকের একটি বেসরকারি কর্পোরেশন

আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক ২০১১ সালের ১০ নম্বর কাতারি আইনের অধীনে “জনকল্যাণের জন্য একটি বেসরকারি কর্পোরেশন” হিসেবে পরিচালিত হয়। মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম রিসার্চ সেন্টারের প্রকল্প স্টেট মিডিয়া মনিটরের মতে, এটি এখনও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পূর্ণ মালিকানাধীন। এর পর্ষদ নিয়োগ করে মন্ত্রিপরিষদ, অর্থাৎ কাতারের কেবিনেট, এবং আমির তা অনুমোদন করেন।

খরচ জোগায় কে

স্টেট মিডিয়া মনিটর জানায়, নেটওয়ার্কটির অর্থায়নের বিপুল অংশ আসে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ থেকে, যা প্রায়ই মোট অর্থায়নের ৯০ শতাংশের বেশি। এই সংখ্যার একটি সীমাবদ্ধতা মনিটর নিজেই উল্লেখ করেছে: আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক বিস্তারিত আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে না, ফলে এই অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায় না। নেটওয়ার্কের বাইরের কেউ দেখতে পারে না এর কত টাকা একটি সরকারের কাছ থেকে আসে।

চালায় কে

শেখ হামাদ বিন থামের আল থানি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান, এবং তিনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক কাতার মিডিয়া কর্পোরেশনেরও চেয়ারম্যান। স্টেট মিডিয়া মনিটরের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শাসক পরিবারের সদস্য ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত শেখ নাসের বিন ফয়সাল বিন খলিফা আল থানি মহাপরিচালক হন।

ওয়াদাহ খানফার ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে আট বছর পর মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন, এনপিআর জানিয়েছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের সিনিয়র ফেলো এলিয়ট অ্যাব্রামস ২০১৩ সালে লেখেন, খানফারের জায়গায় আসেন শাসক পরিবারের সদস্য শেখ আহমেদ বিন জাসিম আল থানি, সাংবাদিকতায় যাঁর কোনো পটভূমি ছিল না।

তারবার্তাগুলি

খানফারের বিদায়ের আগে উইকিলিকস মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা প্রকাশ করেছিল। দ্য হলিউড রিপোর্টার তখন সেগুলোর সারসংক্ষেপ দিয়েছিল: দোহায় মার্কিন দূতাবাসের ২০১০ সালের একটি তারবার্তায় খানফারকে বর্ণনা করা হয়েছিল মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং আমেরিকার অভিযোগের পর নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইটের কিছু বিষয়বস্তু নরম করতে রাজি থাকা একজন হিসেবে। একটি তারবার্তায় ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে একটি প্রতিবেদনের কথা বলা হয়েছিল। বিবরণ অনুযায়ী, খানফার সেটি দেখে দুটি ছবি সরিয়ে দেন, একটি হাসপাতালের বিছানায় আহত শিশুদের, আরেকটি মুখে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক নারীর।

খানফার অস্বীকার করেন যে বাইরের চাপে তাঁর বিদায় ঘটেছে। তিনি বলেন, এটি ছিল পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং নেটওয়ার্ক তখন তার শীর্ষ অবস্থানে। তারবার্তা অনুযায়ী, একটি বিদেশি সরকার অভিযোগ করার পর একজন সম্পাদক ছবিগুলো সরিয়ে নেন। এই নিবন্ধের জন্য দেখা কোনো সূত্র বলে না যে কাতার সরকার সেই সিদ্ধান্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

কাতার নিয়ে সংবাদ পরিবেশন কেমন

অ্যাব্রামস ২০১৩ সালের লেখায় একটি পরীক্ষা ঠিক করেন: কাতারের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আল জাজিরা খোলাখুলি প্রতিবেদন করতে পারে কি না। তাঁর উত্তর ছিল, না। তিনি গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেন, যাতে বলা হয়েছিল আল জাজিরার “সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যখন এর সংবাদ বিভাগের পরিচালক নিশ্চিত করেন যে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের সংবাদ পরিবেশনে ইংরেজি চ্যানেলে কাতারের আমিরের জাতিসংঘে দেওয়া বক্তৃতাই প্রাধান্য পাবে।” অ্যাব্রামস আরও উল্লেখ করেন যে আল জাজিরার ওয়েবসাইট নেটওয়ার্কটিকে “আরব বিশ্বের প্রথম স্বাধীন সংবাদ চ্যানেল” বলে বর্ণনা করত, অথচ এটি কাতারের শাসক পরিবারের মালিকানাধীন, সে কথা বলত না। তিনি লেখেন, ফ্রান্স ২৪ ও ডয়চে ভেলে তাদের সাইটে স্পষ্ট করে বলে যে তারা রাষ্ট্রের অর্থে চলে।

স্টেট মিডিয়া মনিটর নেটওয়ার্কের সম্প্রচার থেকে একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। মনিটর ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যবেক্ষণ চক্রে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ককে “State-Controlled” (রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত) শ্রেণিতে রেখেছে, এবং লেখে যে “কাতারের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও শাসক অভিজাতরা কার্যত নাগালের বাইরে থেকে যায়,” যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিবেশন অপেক্ষাকৃত জোরালো।

হিসাবের অন্য পাতা

নথিতে আল জাজিরার বক্তব্যের পক্ষের প্রমাণও আছে। ২০১৭ সালের জুনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং ১৩ দফা দাবির একটি তালিকা দেয়। একটি দাবি ছিল, কাতার আল জাজিরা ও এর সহযোগী সংস্থাগুলিকে, সঙ্গে “কাতারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অর্থায়নে চলা” অন্য সংবাদমাধ্যমগুলিকেও বন্ধ করে দেবে। জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ আল জাজিরা বন্ধ করার দাবিকে “গণমাধ্যমের বহুত্বের ওপর একটি বড় আঘাত” বলেন। কাতার নেটওয়ার্কটি বন্ধ করেনি।

এই দাবি দেখায় যে অঞ্চলের অন্য সরকারগুলো তাদের সম্পর্কে আল জাজিরার সংবাদ পরিবেশনে আপত্তি করেছিল। নেটওয়ার্কের সংবাদ পরিবেশন তার মালিক সরকারের থেকে স্বাধীন কি না, সেটা আলাদা প্রশ্ন, আর স্টেট মিডিয়া মনিটরের শ্রেণিবিন্যাস ও বিচার বিভাগের চিঠি তার উত্তর দিয়েছে উল্টো দিকে। আল জাজিরা সেই উত্তর মানে না।

স্টেট মিডিয়া মনিটরের সর্বশেষ শ্রেণিবিন্যাস, যা ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত, আবারও “State-Controlled।”

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. State Media Monitor: Al Jazeera Media Network (AJMN), Media and Journalism Research Center (2026)
  2. U.S. Press Freedom Tracker: Al Jazeera's AJ+ ordered to register as foreign agent (September 2020)
  3. Elliott Abrams, Is al-Jazeera a News Network?, Council on Foreign Relations (3 January 2013)
  4. NPR: Al-Jazeera Director Announces Resignation (20 September 2011)
  5. The Hollywood Reporter: Al Jazeera Chief Resigns After Wikileaks Reveals Close U.S. Ties (2011)
  6. Arab Center Washington DC: Saudi, UAE Demands to End Qatar Crisis, Commands, Diktats, and Ultimatums
  7. UN Human Rights Office: Demand for Qatar to close Al-Jazeera 'a major blow to media pluralism', UN expert (June 2017)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#al jazeera#qatar#media ownership#state media#press freedom#foreign agents registration act

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: সংবাদ
কাশ্মীরের মানচিত্র নিয়ে আল জাজিরাকে ভারতে সম্প্রচার থেকে সরানো হয়, কাশ্মীরের এক তথ্যচিত্রের জন্য তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল হয়, আর একটি পাইলট ধরা পড়ার খবর সে দেয় যা পাকিস্তানের নিজের সেনাবাহিনী অস্বীকার করেছিল
২০১৫ সালে মানচিত্র নিয়ে পাঁচ দিন সম্প্রচার বন্ধ, ২০১৮ সালে প্রত্যাহার হওয়া নিরাপত্তা ছাড়পত্র, আর ২০২৫ সালের মে মাসের এক পাইলট-ধরা-পড়ার খবর যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অস্বীকার করেন। ভারতে আল জাজিরার প্রকাশ্য নথি, তার জবাবসহ।
গুগল চারটি AI চিপ কক্ষপথে পাঠাল, দেখতে চায় মহাকাশে ডেটা সেন্টার ভালো চলে কিনা
গুগল মহাকাশে ডেটা সেন্টার পরীক্ষা করতে AI চিপ পাঠাল, FTC ওপেনএআই আর অ্যানথ্রপিকের তদন্ত শুরু করল, অ্যানথ্রপিকের IPO ফাইলিংয়ে নিজের চিপ সরবরাহকারীর কাছ থেকে ৪২ বিলিয়ন ডলার ঋণের কথা জানা গেল, আর ভারত এশিয়ান গেমসে এক বিকেলে চারটি সোনা জিতল।
চীনের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী ভারতের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রিড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের চারটিকে লক্ষ্য করেছিল। মুম্বইয়ের আলো তারাই নিভিয়েছিল, এমন প্রমাণ কেউ দেয়নি।
Recorded Future দেখতে পায়, চীনের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী ভারতের ১০টি বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল, তার চারটি আঞ্চলিক গ্রিড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। মুম্বইয়ের ব্ল্যাকআউটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে প্রশ্নে মহারাষ্ট্র, দিল্লি আর সংস্থাটি নিজে তিন রকম উত্তর দিয়েছে।
← সব লেখা