Skip to content
লক্ষদ্বীপে জীবন্ত প্রবালের আচ্ছাদন ১৯৯৮ সালের ৩৭.২৪ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ১৯.৬ শতাংশে নেমেছে, আর সরকার ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের ব্লিচিং সেখানে ৮৪.৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে
পরিবেশ

লক্ষদ্বীপে জীবন্ত প্রবালের আচ্ছাদন ১৯৯৮ সালের ৩৭.২৪ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ১৯.৬ শতাংশে নেমেছে, আর সরকার ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের ব্লিচিং সেখানে ৮৪.৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

লক্ষদ্বীপের একটি পর্যবেক্ষণ-নথি দেখাচ্ছে প্রবালের আচ্ছাদন ১৯৯৮ সালের ৩৭.২৪ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ১৯.৬ শতাংশে নেমেছে। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রক সংসদকে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের ব্লিচিংয়ের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে লক্ষদ্বীপে ৮৪.৬ শতাংশ, মান্নার উপসাগরে ২৭ শতাংশ আর দক্ষিণ আন্দামানে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ, কোনো পদ্ধতির উল্লেখ ছাড়া। এনওএএ বলছে, ভারতে পৌঁছনো বিশ্বব্যাপী ব্লিচিংয়ের ঘটনাটি সম্ভবত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শেষ হয়েছে।

· · 9 মিনিটের পাঠ

লক্ষদ্বীপে ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা একটি পর্যবেক্ষণ-নথি দেখাচ্ছে প্রবালের আচ্ছাদন ৩৭.২৪ শতাংশ থেকে ১৯.৬ শতাংশে নেমেছে, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনস-এ ২০২৫ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রক লোকসভাকে জানায়, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে ব্লিচিং ছিল লক্ষদ্বীপে ৮৪.৬ শতাংশ, মান্নার উপসাগরে ২৭ শতাংশ আর দক্ষিণ আন্দামানে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ।

ব্লিচ হওয়া প্রবাল সেই ক্ষুদ্র শৈবাল হারিয়েছে, যার নাম জুক্সানথেলি, যা প্রবালকে রঙ আর খাদ্য দেয়, তবু সে তখনও বেঁচে থাকে। কারেন্ট সায়েন্সে জে. কে. প্যাটারসন এডওয়ার্ড ও সহকর্মীরা লিখেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে এলে প্রবাল সেরে ওঠে, আর চাপ চলতে থাকলে মরে যায়। তাই ব্লিচ হওয়া প্রবালের ভাগ, মরে যাওয়া প্রবালের ভাগ আর সমুদ্রতলের জীবন্ত প্রবালে ঢাকা অংশের ভাগ, এই তিনটি আলাদা সংখ্যা, আর নিচের ভারতীয় জরিপগুলো আলাদা আলাদা সংখ্যা জানিয়েছে।

১৯৯৮ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই: ভারতের প্রথম জরিপ

নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের রোহন আর্থার ১৯৯৮ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে তিনটি প্রবাল অঞ্চল জরিপ করেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে চরম এল নিনো ঘটনাগুলোর একটির সময়ে। এল নিনো হল ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পর্যায়ক্রমিক উষ্ণ হওয়া, আমাদের বর্ষা-ব্যাখ্যা যাকে ভারতের শুষ্ক বছরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে কারেন্ট সায়েন্সে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাপত্রে পরিমাণগত দ্রুত-মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।

কচ্ছ উপসাগরের প্রবালপ্রাচীরে গড়ে ১১ শতাংশ প্রবাল ব্লিচ হয়েছিল, ব্লিচিংয়ের কারণে মৃত্যুর স্পষ্ট কোনো চিহ্ন ছিল না। লক্ষদ্বীপের উপহ্রদ প্রাচীরে ব্লিচ হওয়া প্রবাল ছিল মোট প্রবাল আচ্ছাদনের ৮২ শতাংশ, আর মান্নার উপসাগরে ৮৯ শতাংশ। ব্লিচিংজনিত মৃত্যু ছিল লক্ষদ্বীপে ২৬ শতাংশ আর মান্নারে ২৩ শতাংশ। আর্থার যোগ করেছেন, রবীন্দ্রন ও অন্যদের জরিপে ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে ভারী ব্লিচিংয়ের খবর পাওয়া গিয়েছিল।

পরের একটি গবেষণাপত্র লক্ষদ্বীপের একই ঘটনাকে অন্যভাবে গুনেছে। যাদব, আলকভেরো ও আর্থার দুই দশক ধরে ছয়টি অগভীর প্রাচীর পর্যবেক্ষণ করে ১৯৯৮-র পর প্রবালের মৃত্যু ৮৭ শতাংশ বলেছেন। সারসংক্ষেপে বলা নেই গণনাটি কখন হয়েছিল, তাই ৮৭ শতাংশকে ১৯৯৮ সালের জরিপের ২৬ শতাংশের পাশে বসানো যায় না।

২০১০ সালের মে: আন্দামান থেকে স্থান ধরে ধরে সংখ্যা

সাহিত্যে আন্দামানের সবচেয়ে ভালোভাবে নথিবদ্ধ ঘটনাটি ২০১০ সালের মে মাসের। পি. কৃষ্ণন ও সহকর্মীরা ২০১১ সালে কারেন্ট সায়েন্সে লিখতে গিয়ে বাছাই করা জায়গায় লাইন-ইন্টারসেপ্ট ট্রানসেক্ট ব্যবহার করেছিলেন (প্রাচীর বরাবর একটা ফিতে বিছিয়ে তার নিচের প্রতিটি প্রবাল নথিভুক্ত করা)। মোট প্রবাল আচ্ছাদনের মধ্যে পুরোপুরি ব্লিচ হওয়া প্রবালের ভাগ ছিল হ্যাভলক দ্বীপে ৬৯.৪৯ শতাংশ, সাউথ বাটন দ্বীপে ৬৭.২৮, নিকলসন দ্বীপে ৫৬.৪৫, রেড স্কিন দ্বীপে ৪৩.৩৯, নর্থ বে-তে ৪১.৬৫ আর চিড়িয়াটাপুতে ৩৬.৫৪। শাখাযুক্ত প্রবাল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল, আর বিশাল আকারের প্রবাল ভালো টিকেছিল। গবেষণাপত্রে আন্দামানে ১৯৯৮, ২০০২ আর ২০০৫ সালের আগের ব্লিচিংয়ের কথাও আছে।

মান্নার উপসাগরও একই বছর আচ্ছাদন হারিয়েছিল। তুতিকোরিনের সুগন্ধী দেবদাসন মেরিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (এসডিএমআরআই) প্যাটারসন এডওয়ার্ডের দল ২০০৯ সালে জীবন্ত প্রবালের আচ্ছাদন ৪২.৮৫ শতাংশ আর ২০১০ সালে ৩৩.২ শতাংশ নথিভুক্ত করেছে, যার কারণ তারা ব্লিচিংজনিত মৃত্যুকে বলেছে। লক্ষদ্বীপে যাদব ও সহকর্মীরা ২০১০-এর পর প্রবালের মৃত্যু ৪৪ শতাংশ বলেছেন। রামেশ্বরম আর মান্নারের মধ্যবর্তী চড়া নিয়ে আমাদের রাম সেতু ও আদমের সেতুর ভূতত্ত্ব লেখায় আলোচনা আছে, ২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্র উদ্ধৃত করে সেটি জানাচ্ছে সেখানে জীবন্ত প্রবাল আছে।

২০১৬: লক্ষদ্বীপে জরিপ করা প্রতিটি প্রাচীর ব্লিচ হয়েছিল

নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের ছয়জন জীববিজ্ঞানীর একটি দল ২০১৬ সালে লক্ষদ্বীপের ১১টি অ্যাটল জরিপ করে। মঙ্গাবে ২০১৬ সালের ১১ মে জানিয়েছিল, তাঁরা যত প্রাচীর জরিপ করেছেন প্রতিটিতে ব্লিচিং দেখা গেছে, আর আর্থার মৃত প্রবাল ও মৃত প্রবালবাসী মাছ নথিভুক্ত করেছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে মে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ছিল প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৫ বছরের গড়ের চেয়ে মোটামুটি এক ডিগ্রি বেশি। যাদব ও সহকর্মীরা ২০১৬-র ঘটনার পর প্রবালের মৃত্যু ৩১ শতাংশ বলেছেন।

মান্নার উপসাগরে এসডিএমআরআই ২০১৬ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১টি দ্বীপের সবকটি জরিপ করে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ব্লিচিং গড়ে ছিল ২৩.৯২ শতাংশ (বাড়তি-কমতি ১০.৫৫)। জীবন্ত প্রবালের আচ্ছাদন ২০১৫ সালের ৩৮.৮৬ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবরে ২২.৬৯ শতাংশে নামে, মৃত্যুর হার ১৬.১৭ শতাংশ। মণ্ডপম দ্বীপগুচ্ছ সবচেয়ে বেশি হারিয়েছিল, ২২.১৭ শতাংশ মৃত্যু। ব্লিচিংয়ের সময় জলের তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ থেকে ৩২.৬ ডিগ্রি। দ্রুত বাড়া অ্যাক্রোপোরা, মন্টিপোরা আর পোসিলোপোরা প্রবাল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল, আর পোরাইটিস, ফাভিয়া ও ফাভাইটিসের মতো গোলাকার প্রবাল টিকে গিয়েছিল।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সংখ্যাগুলো এসেছে জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জেডএসআই) থেকে, যা ২০২২ সালের ২৭ মে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল। জেডএসআই ২০১৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বে আইল্যান্ডসজুড়ে ৮৩.৬ শতাংশ শক্ত প্রবাল ব্লিচ হওয়ার কথা নথিভুক্ত করে, সর্বোচ্চ ৯১.৫ শতাংশ দক্ষিণ আন্দামানের আন্দামান সাগর উপকূলে আর সর্বনিম্ন ৮৩.২ শতাংশ উত্তর আন্দামানে। তারা জীবন্ত প্রবাল আচ্ছাদনের ২৩.৫৮ শতাংশ হারানোর কথা জানিয়েছে। জেডএসআইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদন আমরা খুলতে পারিনি, তাই এই সংখ্যাগুলো দ্বিতীয় হাতের।

২০১৯ আর ২০২০: আবার মান্নার, আর দুটি বিবরণের লক্ষদ্বীপ

ন্যাশনাল সেন্টার ফর কোস্টাল রিসার্চের (এনসিসিআর) কৌশিক সাধুখাঁ, রমেশ চট্টরাজু, টি. শুনমুগরাজ ও এম. ভি. রমণ মূর্তি ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত মান্নার উপসাগর আর পক বে জরিপ করেন। তাঁদের ২০২২ সালের গবেষণাপত্রে ২০১৯ ও ২০২০ সালের গ্রীষ্মে দুই জায়গাতেই তীব্র ব্লিচিংয়ের কথা আছে। জরিপগুলোজুড়ে জীবন্ত প্রবালের গড় আচ্ছাদন ছিল মান্নার উপসাগরে ৩৯.৫৫ শতাংশ (বাড়তি-কমতি ১৫.৪৫) আর পক বে-তে ২৮.৪০ শতাংশ (বাড়তি-কমতি ১৪.৬০)।

লক্ষদ্বীপ নিয়ে দুটি বিবরণ মেলে না। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানী ইদ্রিস বাবু কে. কে. ২০২৪ সালের জুনে ডাউন টু আর্থকে বলেছেন ২০২০ সালে ব্লিচিং ছিল ৪১.৯ শতাংশ, ১৯৯৮ সালের ৮১ শতাংশ আর ২০১০ সালের ৬৫ শতাংশের তুলনায়। পরিবেশ মন্ত্রক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট লোকসভাকে জানায়, ২০২০, ২০২১, ২০২২ আর ২০২৩ সালে লক্ষদ্বীপে ব্লিচিংয়ের ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্য ছিল না। উত্তরে ‘উল্লেখযোগ্য’ শব্দটির কোনো সংজ্ঞা নেই, আর ডাউন টু আর্থও ৪১.৯ শতাংশের পেছনের জরিপটির বর্ণনা দেয়নি।

ডিগ্রি হিটিং উইক কী মাপে, আর চতুর্থ ঘটনা নিয়ে এনওএএ কী বলে

এনওএএ কোরাল রিফ ওয়াচ তাপের চাপ মাপে ডিগ্রি হিটিং উইকে। একটি ডিগ্রি হিটিং উইক ধারাবাহিক ১২ সপ্তাহ ধরে যোগ করে, উপগ্রহে মাপা সমুদ্রের তাপমাত্রা স্থানীয় সর্বোচ্চ মাসিক গড়ের, অর্থাৎ গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ গড়ের, কতটা ওপরে ছিল, আর গোনা হয় শুধু সেই মাপগুলো যা তার চেয়ে অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এককটি লেখা হয় °C-সপ্তাহ। এনওএএ বলছে, ৪ °C-সপ্তাহে প্রাচীরজুড়ে ব্লিচিং আশা করা যায়, বিশেষত সংবেদনশীল প্রজাতিতে। ৮ বা তার বেশিতে প্রাচীরজুড়ে ব্লিচিং আর তাপ-সংবেদনশীল প্রবালের মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।

এনওএএ আর ইন্টারন্যাশনাল কোরাল রিফ ইনিশিয়েটিভ ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল চতুর্থ বিশ্বব্যাপী ব্লিচিং ঘটনা নিশ্চিত করে, আর সেদিনের এনওএএ বিজ্ঞপ্তি বলছে ২০২৩ সালের শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ব্লিচিং নিশ্চিত হয়েছে। এনওএএর অবস্থা-পাতা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাচীর এলাকার প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ ব্লিচিং-মাত্রার তাপ চাপ পেয়েছে, অন্তত ৮৩টি দেশ ও ভূখণ্ডে ব্যাপক ব্লিচিং নথিভুক্ত হয়েছে। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের ঘটনা, প্রাচীর এলাকার ৬৮.২ শতাংশ নিয়ে। ২০২৬ সালের ২ জুনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এনওএএ বলেছে ঘটনাটি সম্ভবত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শেষ হয়েছে, কারণ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মে ব্যাপক ব্লিচিংয়ের কোনো খবর আসেনি।

লক্ষদ্বীপ নিয়ে আইসিএআর-সেন্ট্রাল মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিএমএফআরআই) বিজ্ঞানীরা ২০২৪ সালের ৬ মে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) প্রচারিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রির বেশি ওপরে ছিল আর ডিগ্রি হিটিং উইকের সংখ্যা ৪ °C-সপ্তাহ পেরিয়েছে। সিএমএফআরআইয়ের ড. কে. আর. শ্রীনাথ যোগ করেন, ১২ °C-সপ্তাহের বেশি হলে বহু প্রবাল প্রজাতির মৃত্যু হতে পারে।

২০২৪: তিনটি অঞ্চল, তিনটি হিসাব

মন্ত্রকের ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বরের সারণিতে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ আছে শুধু দক্ষিণ আন্দামানে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ নিয়ে, মান্নার উপসাগর ২৭ শতাংশে আর লক্ষদ্বীপ ৮৪.৬ শতাংশে। এতে আন্দামানের ব্লিচিংকে ছোট মাপের, মান্নারকে বিক্ষিপ্ত এলাকায় ছোট মাপের আর লক্ষদ্বীপেরটিকে ব্যাপক বলা হয়েছে, আর তিনটিরই কারণ এল নিনোজনিত সমুদ্রপৃষ্ঠের বাড়তি তাপমাত্রা। সারণিতে কোনো জরিপ-পদ্ধতি দেওয়া নেই, আর শতাংশগুলোর জন্য কোনো সংস্থার নামও নেই। একই ৮৪.৬ শতাংশ বাবু ডাউন টু আর্থকে বলেছিলেন বিভাগের শেষ জরিপের ফল হিসেবে, কাভারাত্তি অ্যাটলে, আর মন্ত্রকের সারণি বলে না তাদের সংখ্যা কোথায় মাপা।

সিএসআইআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির বি. মণিকন্দন, পি. সাওয়ান্ত, টি. লাদ ও জে. সিং কাভারাত্তি দ্বীপের একটি আলাদা জরিপ করেছেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে ১৩টি জায়গায়। ৫০ মিটার লম্বা আর ২ মিটার চওড়া বেল্ট ট্রানসেক্ট ব্যবহার করে তাঁরা ১৫টি গণের ১,২৫২টি কলোনি নথিভুক্ত করেন। এর মধ্যে ৮০.৭ শতাংশ তীব্রভাবে আর ১০.৯ শতাংশ মাঝারিভাবে ব্লিচ হয়েছিল। জোয়ার-ভাটার অঞ্চলে আর উপহ্রদে ৮০ শতাংশের বেশি কলোনি তীব্রভাবে ব্লিচ হয়েছিল, আর বাইরের প্রাচীরে ৭৮.৪ শতাংশ। ৬০ শতাংশের বেশিতে অন্তত একটি বাড়তি চাপ ছিল, যেমন টার্ফ শৈবাল, সায়ানোব্যাকটেরিয়ার স্তর (ব্যাকটেরিয়ার পিচ্ছিল আবরণ) বা ক্রাউন-অব-থর্নস তারামাছ। লেখকেরা একে ১৯৯৮, ২০১০ আর ২০১৬-র তুলনায় সবচেয়ে তীব্র ঘটনা বলেছেন, আর লিখেছেন পর্যবেক্ষণ ছাড়া লক্ষদ্বীপে ব্লিচিং মোকাবিলার কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেই।

আন্দামানে দক্ষিণ ফাউন্ডেশনের তন্ময় ওয়াঘ ২০২৪ সালের মে মাসে ডাউন টু আর্থকে বলেছিলেন, হ্যাভলক দ্বীপের ব্লিচিং দক্ষিণ আন্দামানে ওয়ান্ডুরের কাছে ছড়িয়ে গেছে। মন্ত্রকের সারণিতে আক্রান্ত অঞ্চলের মধ্যে কচ্ছ উপসাগরের নাম আছে, কোনো সংখ্যা ছাড়া। ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার সাজন জন ২০২৪ সালের মে মাসে বলেছিলেন, কচ্ছ উপসাগরের পাশের মিঠাপুরে প্রবালে এখনও কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দুই মন্ত্রক সংসদকে কী জানিয়েছে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংয়ের মাধ্যমে উত্তর দেয়। তারা ব্যাপক ব্লিচিংকে উষ্ণতর সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা বলেছে, জানিয়েছে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরলে প্রবাল সেরে উঠতে পারে, আর তালিকা দিয়েছে লক্ষদ্বীপ প্রশাসনের প্রবাল প্রতিস্থাপন, জেডএসআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ আর ২০১১ সাল থেকে দেওয়া আইএনসিওআইএস-এর ব্লিচিং সতর্কবার্তার। তারা আরও বলেছে, প্রবাল ব্লিচিং ‘ভারতে একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা’, পর্যটন আর মৎস্যজীবীদের ওপর ‘এখন পর্যন্ত’ বড় প্রভাব ফেলেনি।

পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রক ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের মাধ্যমে ওপরের আঞ্চলিক সারণি সহ উত্তর দেয়। তারা জানায়, ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাসটেইনেবল কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট ভারতের ১,৪৩৯ বর্গকিলোমিটার প্রবালপ্রাচীরের মানচিত্র করেছে আর ডেটা বয়া সহ একটি প্রাচীর পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক চালায়। ইসরোর স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার ২০০৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মহারাষ্ট্রের মালভানে, আর মানচিত্রে আনা মান্নার উপসাগরের এগারোটি প্রাচীরের চারটিতে ১২ থেকে ১৪ বছরে, প্রাচীর এলাকার আপাত ক্ষয় খুঁজে পেয়েছে। উত্তরে আরও আছে, কচ্ছ উপসাগরে ১৬,০০০-এর বেশি প্রবাল নতুন জায়গায় সরানো হয়েছে।

যা আবার গজিয়েছে

আর্থার ২০১৬ সালে মঙ্গাবেকে বলেছিলেন, লক্ষদ্বীপ ১৯৯৮ সালের ধাক্কা থেকে তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো সেরে উঠেছিল, অনেক নতুন প্রবাল শিশু এসেছিল আর এক দশকের মধ্যে বহু প্রাচীর সুস্থ দেখাচ্ছিল। ২০১০-এর পর, তাঁর কথায়, ২০১৬ নাগাদ সেরে ওঠা প্রায় অর্ধেক পথে পৌঁছেছিল।

যাদব ও সহকর্মীরা পার্থক্যটা মেপেছেন। মৃত্যু ১৯৯৮-র পর ৮৭ শতাংশ থেকে ২০১০-এর পর ৪৪ শতাংশ আর ২০১৬-র পর ৩১ শতাংশে নেমেছে, অথচ প্রথম দুই সময়ের মধ্যে সেরে ওঠার হার চার গুণ কমেছে। তাঁদের ছয়টি অগভীর প্রাচীরে প্রবালের আচ্ছাদন ১৯৯৮ সালের ৫১.৬ শতাংশ থেকে ২০১৭ সালে ১১ শতাংশে নেমেছে। ডে ও সহকর্মীরা ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সালের জরিপ নিয়ে পুরো দ্বীপপুঞ্জে একই ধরন পেয়েছেন, এবং লিখেছেন ব্লিচিংহীন ছয় বছরের পর সেরে ওঠার হার তীব্রভাবে বেড়েছে।

মান্নার উপসাগরে এসডিএমআরআই ও তামিলনাড়ু বন বিভাগ জীবন্ত প্রবালের আচ্ছাদন ২০০৫ সালে ৩৭.০ শতাংশ আর ২০২১ সালে ২৭.৩ শতাংশ বলেছে, দ্য হিন্দু জানিয়েছিল। এটা ২০১৬ সালের অক্টোবরের ২২.৬৯ শতাংশের ওপরে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের উত্তর বলছে, আন্দামান ও মান্নারের বেশিরভাগ প্রাচীর ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের ব্লিচিং থেকে সেরে উঠেছে, লক্ষদ্বীপের কিছু প্রাচীরও, আর গবেষণা চলছে। লক্ষদ্বীপে ২০২৪ সালের ঘটনায় প্রবাল মরার কোনো প্রকাশিত হিসাব আমরা পাইনি।

এনওএএর সমন্বয়ক ডেরেক ম্যানজেলো ২০২৬ সালের ২ জুনের বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন: ‘আমরা এখন সেই যুগে, যেখানে প্রবালপ্রাচীর প্রায় প্রতি বছরই ব্লিচ হবে।’

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Arthur, Coral bleaching and mortality in three Indian reef regions during an El Nino southern oscillation event, Current Science 79(12) (25 December 2000)
  2. Krishnan and others, Elevated sea surface temperature during May 2010 induces mass bleaching of corals in the Andaman, Current Science 100(1) (2011)
  3. Patterson Edward and others, Coral mortality in the Gulf of Mannar, southeastern India, due to bleaching caused by elevated sea temperature in 2016, Current Science 114(9) (10 May 2018)
  4. Yadav, Alcoverro and Arthur, Coral reefs respond to repeated ENSO events with increasing resistance but reduced recovery capacities in the Lakshadweep archipelago, Coral Reefs 37 (2018)
  5. Dey and others, Local environmental filtering and frequency of marine heatwaves influence decadal trends in coral composition, Diversity and Distributions 31(7) (July 2025)
  6. Manikandan, Sawant, Lad and Singh (CSIR-National Institute of Oceanography), Coral reefs in Lakshadweep: an ecosystem in peril?, Ocean Digest 11(1), Ocean Society of India
  7. Sadhukhan, Chatragadda, Shunmugaraj and Ramana Murthy (National Centre for Coastal Research), Health monitoring status of corals in Gulf of Mannar and Palk Bay with special reference to coral bleaching event, Indo-Pacific Journal of Ocean Life 6(2) (2022)
  8. PIB, Ministry of Earth Sciences: Parliament Question, Fourth Global Coral Bleaching Event (Lok Sabha written reply, 4 December 2024)
  9. PIB, Ministry of Environment, Forest and Climate Change: Coral Bleaching (Lok Sabha written reply, 5 August 2024)
  10. PIB Thiruvananthapuram: Marine heatwaves, intense coral bleaching recorded in Lakshadweep (ICAR-CMFRI, 6 May 2024)
  11. NOAA NESDIS: World's fourth mass coral bleaching event likely ended in 2025 (2 June 2026)
  12. NOAA Coral Reef Watch: Current global bleaching status update
  13. NOAA Coral Reef Watch: Degree Heating Week (DHW) product tutorial
  14. Down To Earth: Lakshadweep worst-affected by coral bleaching on India's coastline, scientists tell DTE (26 June 2024)
  15. Down To Earth: Coral bleaching grips Indian coasts; Lakshadweep, Andamans most affected (8 May 2024)
  16. Mongabay: India's coral reefs experiencing widespread bleaching, scientist says (11 May 2016)
  17. Press Trust of India via EastMojo: Massive coral bleaching in coastal Andaman Sea (27 May 2022, Zoological Survey of India figures)
  18. ICSF, reproducing The Hindu: Tamil Nadu, stepping up efforts to conserve coral reefs that face many threats in coast

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#coral bleaching#lakshadweep#andaman and nicobar islands#gulf of mannar#degree heating weeks#noaa coral reef watch#marine heatwave#coral reefs india

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: পরিবেশ
গুজরাটের এশিয়াটিক সিংহ ২০১৫ সালের ৫২৩ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮৯১ হয়েছে এবং এখন ১১টি জেলায় থাকে, কিন্তু ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত একটি সিংহও কুনোতে যায়নি, যে দ্বিতীয় বাসস্থান সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালের এপ্রিলে আদেশ দিয়েছিল
সিংহ এখন বারদায় আর ভাবনগরের উপকূল বরাবর দেখা যাচ্ছে। জনগণনার সংখ্যা, ২০১৩ সালের আদালতের আদেশ, ২০১৮ সালের ভাইরাস-প্রাদুর্ভাব, আর ২০২৬ সালে আটটি শাবকের মৃত্যুর একটি বিতর্কিত ব্যাখ্যা।
২০১৩ সালের ফাইলিন ঘূর্ণিঝড় সরাসরি ২১ জনের প্রাণ নিয়েছিল, যেখানে ১৯৯৯ সালের ওড়িশা সুপার সাইক্লোন নিয়েছিল প্রায় ৯,৯০০ জনের, আর ভালো পূর্বাভাস ছিল কারণের একটি অংশ মাত্র
১৯৯৯ সালে ৪৮ ঘণ্টার বেশি আগে সতর্কবার্তা গেলেও প্রায় ৯,৯০০ জন মারা গিয়েছিলেন। তারপর কী বদলাল, আর কোন কোন ঝড় এর পরেও কয়েক ডজন প্রাণ নিয়েছে।
২০২৫ সালে দিল্লির পিএম২.৫ গড়ে ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৯৭ মাইক্রোগ্রাম, ২০১৮ সালের ১১৪ থেকে কম, কিন্তু নভেম্বরে গড় তবু ছিল ২১৫, আর কারণ নিয়ে উৎস-সমীক্ষাগুলো একমত নয়
আট বছরের সরকারি গড়, ২০২৫ সালে জুলাইয়ের একিউআই ৭৮ থেকে নভেম্বরের ৩৫৪-তে লাফ, আর উৎসগুলোকে আলাদা ক্রমে সাজানো সমীক্ষাগুলো।
← সব লেখা