Skip to content
গার্ডেন রিচ ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার ইয়ার্ড থেকে নৌবাহিনীর তৃতীয় নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেয়স জলে নামাল, পাঁচ মাসেরও কম সময়ে তিনটি জলে নামানো
যুদ্ধ ও বীরত্ব

গার্ডেন রিচ ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার ইয়ার্ড থেকে নৌবাহিনীর তৃতীয় নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেয়স জলে নামাল, পাঁচ মাসেরও কম সময়ে তিনটি জলে নামানো

ছবি: Soumava2002 / Wikimedia Commons, CC0 (ছাঁটা)

বাংলা

শ্রেয়স (ইয়ার্ড ৩০৪০) ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সে জলে নামল, এই শ্রেণিতে ইয়ার্ডটির প্রথম জলে নামানোর ১৪৩ দিন পর। ১১টি জাহাজের কর্মসূচিটি ভারতের দুটি ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে, কলকাতার জিআরএসই আর গোয়া শিপইয়ার্ড।

· · 4 মিনিটের পাঠ

গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর তাদের কলকাতার ইয়ার্ডে নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেয়স জলে নামাল। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য জিআরএসই এই শ্রেণির যে চারটি জাহাজ বানাচ্ছে, এটি তার তৃতীয়, আর ১৪৩ দিনে স্লিপওয়ে ছেড়ে নামা তৃতীয় জাহাজও: সংঘমিত্রা নেমেছিল ২০ মে, শ্রুতি ১১ আগস্ট আর শ্রেয়স ১০ অক্টোবর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জাহাজটিকে ইয়ার্ড ৩০৪০ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

জাহাজটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১১৩ মিটার, ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন। মন্ত্রক এই শ্রেণিকে দেশেই নকশা করা ও দেশেই তৈরি বলে বর্ণনা করেছে।

১০ অক্টোবর কী হয়েছিল

সরকারের বিজ্ঞপ্তি-পরিষেবা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) জানাচ্ছে, ইয়ার্ড ৩০৪০ জলে নামিয়েছেন নৌসেনার ভাইস চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল অজয় কোচারের স্ত্রী রেম্যান কোচার, যিনি নিজেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নৌবাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, জিআরএসই আর শিল্প-অংশীদারদের বরিষ্ঠ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে নামটির সংস্কৃত অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘সর্বোত্তম’ বা ‘শ্রেষ্ঠ’। জাহাজটিকে বলা হয়েছে এমন এক শ্রেণির অংশ, যা ‘একই সঙ্গে’ দুটি ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে, কলকাতার জিআরএসই আর গোয়ার গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (জিএসএল)।

সেদিনের প্রতিবেদনে স্বরাজ্য ভাইস অ্যাডমিরাল কোচারকে প্রধান অতিথি বলেছে। ইন্ডিয়া শিপিং নিউজ আর পিএসইউ কানেক্ট জানাচ্ছে, তিনি জিআরএসইর কাজের গতি আর দেশীয় জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।

আকার, গতি ও পাল্লা

উদ্বোধনের খবর দেওয়া চারটি সংবাদমাধ্যম জিআরএসইতে তৈরি জাহাজগুলোর একই পরিমাপ দিয়েছে: দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৩ মিটার, বিম (প্রস্থ) ১৪.৬ মিটার, ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন আর সর্বোচ্চ গতি ২৩ নট। ১৪ নট ক্রুজিং গতিতে পাল্লা ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল। বেয়ার্ড মেরিটাইম, দ্য উইক, স্বরাজ্য আর ইন্ডিয়া শিপিং নিউজ এই সংখ্যাগুলোয় একমত। পিআইবির আগের কিল বসানোর বিজ্ঞপ্তিগুলোতেও টনেজ প্রায় ৩,০০০ বলা আছে।

মন্ত্রক কাজের তালিকায় রেখেছে সামুদ্রিক নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, সমুদ্রে স্থাপনা রক্ষা, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ আর জলদস্যু-দমন। স্বরাজ্য ও ইন্ডিয়া শিপিং নিউজ যোগ করেছে মাইন যুদ্ধ, বোর্ডিং ও জব্দ অভিযান, বিশেষ অভিযান আর নিজ এলাকার বাইরের জরুরি পরিস্থিতি। ২০২৩ সালের চুক্তির বিজ্ঞপ্তি যোগ করেছে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার রোধ আর বিপদগ্রস্ত এলাকা থেকে বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে আনা।

বেয়ার্ড মেরিটাইম জিআরএসইর নিজের বর্ণনা জানিয়েছে: নৌবাহিনীর বর্তমান অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের চেয়ে বড়, ফায়ারপাওয়ার বেশি। আমরা যেসব উদ্বোধন-বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন খুলে দেখেছি, তার কোনওটিতে বসানো অস্ত্রের তালিকা নেই, তাই এই লেখাতেও তা নেই।

তিনটি জাহাজ, তিন রকম সময়সূচি

পিআইবির কিল বসানোর বিজ্ঞপ্তি থেকে মেলানো যায় তিনটি জাহাজ স্লিপওয়েতে কত সময় কাটিয়েছে।

ইয়ার্ডনামকিল বসানোজলে নামানোকিল থেকে জলে নামানো
৩০৩৭শ্রুতি৫ নভেম্বর ২০২৪১১ আগস্ট ২০২৬প্রায় ২১ মাস
৩০৩৯সংঘমিত্রা১১ এপ্রিল ২০২৫২০ মে ২০২৬প্রায় ১৩ মাস
৩০৪০শ্রেয়স২৪ এপ্রিল ২০২৫১০ অক্টোবর ২০২৬প্রায় ১৭ মাস

জলে নামানোর ক্রম কিল বসানোর ক্রম মেনে চলেনি। ইয়ার্ড ৩০৩৮-এর কিল বসেছিল ৩০৩৭-এর সঙ্গে একই দিনে, আর আমরা পিআইবির যে বিজ্ঞপ্তিগুলো খুলে দেখেছি তাতে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সেটির জলে নামানোর কোনও নথি নেই। কর্মসূচিতে জিআরএসইর বাকি জাহাজ সেটিই।

পিআইবি আরও নথিভুক্ত করেছে যে সংঘমিত্রার নাম সম্রাট অশোকের কন্যার নামে, আর শ্রুতি বলতে বোঝানো হয়েছে চার বেদ, হিন্দু ঐতিহ্যের মূল শাস্ত্র। শ্রেণির প্রতীকে আছে সপ্তর্ষিমণ্ডল (Ursa Major) তারাপুঞ্জ আর একটি লাল-সাদা বাতিঘর।

জাহাজগুলোর পেছনের চুক্তি

২০২৩ সালের ৩০ মার্চ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জিএসএল ও জিআরএসইর সঙ্গে ১১টি নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের চুক্তি সই করে, মোট ব্যয় ৯,৭৮১ কোটি টাকা, ‘বাই (ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম)’ বিভাগে, যার আওতায় পড়ে দেশেই নকশা, উন্নয়ন ও নির্মাণ করা সামগ্রী। জিএসএল বানায় সাতটি জাহাজ, জিআরএসই চারটি। মন্ত্রক জানিয়েছিল, নির্মাণে সাড়ে সাত বছরে ১১০ লাখ (১১ মিলিয়ন) কর্মদিবসের কাজ তৈরি হবে।

গোয়াতেও জাহাজ নামছে। জিএসএল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ নামিয়েছে শচী (ইয়ার্ড ১২৮০), পিআইবি যাকে এগারোটির প্রথম বলে বর্ণনা করেছে। শ্রেয়সের দুই সপ্তাহ পরে, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, তারা নামিয়েছে ইয়ার্ড ১২৮৩, সৃষ্টি। পিআইবির সৃষ্টি-বিজ্ঞপ্তিতে নামটির অর্থ দেওয়া আছে ‘সৃজন’।

নৌবাহিনীর জন্য এই জাহাজগুলো তার বর্তমান অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের সঙ্গে যুক্ত হবে। পিআইবির শচী-বিজ্ঞপ্তি সেই সংখ্যা দশ বলে গুনেছে।

জলে নামা মানেই কমিশন নয়

শ্রেয়স এখন জলে ভাসা একটি হাল, চালু জাহাজ নয়। মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি তাকে শুধু শ্রেয়স বলেছে, আর বেয়ার্ড মেরিটাইম বলেছে ভবিষ্যতের আইএনএস শ্রেয়স।

২০২৩ সালের মন্ত্রক-বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হস্তান্তর শুরু হবে। শ্রেয়স নিয়ে পিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে হস্তান্তর বা কমিশনের কোনও তারিখ নেই, সংঘমিত্রা, শ্রুতি, শচী ও সৃষ্টির বিজ্ঞপ্তিতেও নেই। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই শ্রেণির কোনও জাহাজ হস্তান্তর হয়েছে এমন ঘোষণা আমরা পাইনি।

জিআরএসইর স্লিপে আর কী আছে

দ্য উইক আর পিএসইউ কানেক্ট দুটিই জানাচ্ছে, জিআরএসইর হাতে নির্মাণাধীন যুদ্ধজাহাজ ন’টি, তার চারটি এই প্যাট্রোল ভেসেল। ইতিমধ্যে চালু জাহাজগুলোর তালিকা আছে নৌবাহিনীর ২০২৬ সালের কমিশনিং নিয়ে আমাদের লেখায়, আর একটি বেসরকারি ইয়ার্ডের প্রথম বড় যুদ্ধজাহাজ নিয়ে লেখা আছে আইএনএস সমর্থক-এর প্রবন্ধে। এই অঞ্চলে নৌবাহিনীর বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে কথা হয়েছে ভারত মহাসাগর ও নৌবাহিনীর এই লেখায়।

জিআরএসইর যে প্যাট্রোল ভেসেলটি এখনও জলে নামেনি, সেই ইয়ার্ড ৩০৩৮-এর কিল বসেছিল ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর, পিআইবির তথ্য অনুযায়ী।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Launch of Next Generation Offshore Patrol Vessel (Yard 3040, Shreyas) at M/s GRSE, Kolkata (10 October 2026)
  2. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Launch of Next Generation Offshore Patrol Vessel (Yard 3037, Shruti) at M/s GRSE, Kolkata (11 August 2026)
  3. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Launch of Sanghmitra, Yard 3039, at M/s GRSE, Kolkata (20 May 2026)
  4. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Launch of the first Next Generation Offshore Patrol Vessel (Yard 1280, Shachi) at M/s GSL, Goa (31 March 2026)
  5. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Launch of Next Generation Offshore Patrol Vessel (Yard 1283, Srishti) at GSL, Goa (27 October 2026)
  6. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Keel laying of first and second NGOPV, Yards 3037 and 3038 (5 November 2024)
  7. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Keel laying of third Next Generation Offshore Patrol Vessel, Yard 3039 (11 April 2025)
  8. Press Information Bureau, Ministry of Defence: Keel laying of fourth Next Generation Offshore Patrol Vessel, Yard 3040 (24 April 2025)
  9. Press Information Bureau, Ministry of Defence: MoD signs Rs 19,600 crore contracts with Indian shipyards for 11 Next Generation Offshore Patrol Vessels and six Next Generation Missile Vessels (30 March 2023)
  10. Baird Maritime: Indian Navy's newest offshore patrol vessel hits the water (13 October 2026)
  11. Swarajya: GRSE launches Shreyas, third Next Generation Offshore Patrol Vessel for Indian Navy (11 October 2026)
  12. The Week: GRSE launches third NGOPV Shreyas in five months (10 October 2026)
  13. PSU Connect: GRSE launches Shreyas, third NGOPV in under five months
  14. India Shipping News: GRSE launches Shreyas, third of four NGOPVs for the Indian Navy

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#shreyas#ngopv#grse#indian navy#offshore patrol vessel#indigenous shipbuilding#garden reach#goa shipyard

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: যুদ্ধ ও বীরত্ব
আইএনএস সমর্থক ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, ভারতের কোনো বেসরকারি জাহাজ কারখানায় তৈরি প্রথম বড় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে, কাট্টুপল্লিতে লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর হাতে
২০২২ সালের মার্চে ₹৮৮৭ কোটির চুক্তি থেকে কারওয়ারে চালুর অনুষ্ঠান পর্যন্ত, কোনো বেসরকারি ভারতীয় ইয়ার্ডের নৌবাহিনীর জন্য বানানো প্রথম বড় যুদ্ধজাহাজ। তারিখগুলো, পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে জাহাজটির কাজ, আর সহোদর জাহাজ কয়টি তা নিয়ে সরকারি বিবৃতি ও সংবাদ প্রতিবেদন কোথায় আলাদা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর নৌবাহিনীর নিজের নকশা করা আটটি নেক্সট জেনারেশন কর্ভেটের জন্য ₹৫৩,৮৬৬.৫০ কোটির চুক্তি সই করেছে, পাঁচটি গার্ডেন রিচের, তিনটি গোয়া শিপইয়ার্ডের
আটটি কর্ভেট, দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা আর নৌবাহিনীর নিজের আঁকা নকশা। সই-হওয়া মূল্য, তার আগে প্রতিবেদনে আসা অনুমোদনের অঙ্ক, আর জাহাজের আকার ও গতি নিয়ে দুটি বেশ ভিন্ন বিবরণ।
ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিন বাহিনীর জন্য ড্রোন, হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামানের প্রায় ₹২.১২ লক্ষ কোটির প্রস্তাব ছাড়পত্র দিয়েছে, যার প্রায় ৮২ শতাংশ ক্রয় ভারতীয় শিল্প থেকে হওয়ার কথা
সেনাবাহিনীর দশটি ব্যবস্থা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিভ্রান্ত করার একটি টোপ, সম্মুখ বিমানঘাঁটির জন্য একটি আবহাওয়া রাডার ও দুই ধরনের হেলিকপ্টার। মন্ত্রকের তালিকা, যে খুঁটিনাটি শুধু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আর কিছু কেনার আগে যে ধাপগুলো বাকি।
← সব লেখা