অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
প্রণবী উরস একটি ট্রিপল বোগি সামলে এক স্ট্রোকের ব্যবধানে এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত গলফ সোনা জিতলেন, গুলভীর সিং চার দশকে প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হলেন যিনি একটি এশিয়ান গেমসেই তিনটি মেডেল জিতলেন, এবং অসমের একটি মেথানল বোঝাই বার্জ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে এমন একটি নদীপথে রওনা দিল যা স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশি ব্যবসায় ভারত আর ব্যবহার করেনি।
প্রণবী উরস ফাইনাল রাউন্ডের তৃতীয় হোলে তিন শটের লিড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর সেখানেই করে ফেললেন একটা ট্রিপল বোগি। তারপরও দিনের শেষে তাঁর হাতে উঠল গলফে এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত সোনা, জিতলেন মাত্র এক স্ট্রোকের ব্যবধানে।
একটা ট্রিপল বোগি, একটা প্রত্যাবর্তন, আর ভারতীয় গলফের একটা প্রথম
২৩ বছর বয়সী মহীশূরের উরস আইচি-নাগোয়া ২০২৬-এর নারী ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনাল রাউন্ডে নেমেছিলেন আগের দিনের বোগিহীন সাত-আন্ডার ৬৩ স্কোরের জোরে ফিল্ডের চেয়ে তিন শট এগিয়ে থেকে। তৃতীয় হোলই এক ঝটকায় সেই বাড়তি সুবিধার বেশিরভাগটা কেড়ে নিল। তিনি এর জবাব দিলেন বাকি রাউন্ডে তিনটি বার্ডি দিয়ে, দিনটা শেষ করলেন সমান-পার ৭০ স্কোরে, এবং চূড়ান্তভাবে শেষ করলেন ১৫-আন্ডার ২৬৫ স্কোরে, সিঙ্গাপুরের Shannon Tan এবং চীনের Yin Ruoning-এর চেয়ে এক শট এগিয়ে, যাঁরা ১৪-আন্ডারে যুগ্মভাবে রুপো জিতেছেন।
এটি গলফে কোনো ভারতীয় নারীর জেতা প্রথম এশিয়ান গেমস সোনা, এবং এই খেলায় ২০০২ সালে Shiv Kapur পুরুষদের ব্যক্তিগত শিরোপা জেতার পর ভারতের প্রথম সোনা। ভারত এই ইভেন্টে টিম রুপোও জিতেছে, যেখানে উরস তাঁর নিজের ব্যক্তিগত রাউন্ডের পাশাপাশি দলের ফাইনাল রাউন্ডের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
উরস বড় হয়েছেন মহীশূরের Jayachamaraja Wadeyar গলফ কোর্সে খেলতে খেলতে, যার ফেয়ারওয়ের পেছনে ছিল চামুন্ডি পাহাড়, বাবা ছোটবেলায় তাঁকে সেই কোর্সে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই। তিনি ২০২০ সালে পেশাদার হন এবং ২০২২ সালে এক মরশুমে পাঁচটি জয় নিয়ে Hero Women’s Pro Golf Tour-এর শীর্ষে ওঠেন। এই গেমসের দিকে তাঁর যাত্রা মে মাসে প্রায় থমকে গিয়েছিল, এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালের ঠিক আগে কাঁধের একটা মাসল ছিঁড়ে যাওয়ায়। তাঁর প্রথম এশিয়ান গেমস, ২০২৩ সালের হাংজু-তে, তিনি ব্যক্তিগত ইভেন্টে শেষ করেছিলেন ১৩তম স্থানে। তিন বছর এবং সেই কাঁধ সুস্থ হওয়ার পর, তিনি সেই অবস্থান থেকে পৌঁছে গেলেন এক স্ট্রোকে জেতা একটা সোনায়।
চার দশকে প্রথম ভারতীয়, এক গেমসে তিনটি মেডেল
তিন দিন আগেই দূরপাল্লার দৌড়বীর গুলভীর সিং চার দশকের মধ্যে প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হয়ে উঠলেন যিনি একটি এশিয়ান গেমসেই তিনটি মেডেল জিতলেন।
গুলভীর শুরু করেছিলেন পুরুষদের ১০,০০০ মিটারে রুপো জিতে, সময় করেছিলেন ২৮:২৯.৩৮। তারপর তিনি নেমে এলেন ১৫০০ মিটারে এবং আরেকটা রুপো জিতলেন ব্যক্তিগত সেরা ৩:৩৬.৭২ সময়ে, এমন একটা দূরত্ব যা স্বাভাবিকভাবে লম্বা দূরত্বের ইভেন্টে থাকা একজন দৌড়বীরের জন্য অস্বাভাবিক। তিনি হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে, শেষ করলেন ১৩:৩২.৭৫ সময়ে, বাহরাইনের Birhanu Balew এবং জাপানের Tomonori Yamaguchi-র পেছনে।
১৯৮৬ সালে সিওলে P.T. Usha চারটি সোনা ও একটি রুপো জেতার পর থেকে ভারতে জন্ম নেওয়া কোনো অ্যাথলিট একটি এশিয়ান গেমসে তিনটি ব্যক্তিগত মেডেল জিততে পারেননি। গুলভীর, যিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মরত সুবেদার, এমন একটা পরিসর জুড়ে দৌড়েছেন যেখানে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ দৌড়বীরই একটা গেমসে হাত দেওয়ার কথা ভাবেন না, মেডেল জেতা তো দূরের কথা, তিনি তিনটিতেই মেডেল জিতলেন।
ভারত ৪ অক্টোবর গেমস শেষ করেছে মোট ৮৫টি মেডেল নিয়ে, ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ, যা তাদের চূড়ান্ত তালিকায় চতুর্থ স্থানে বসিয়েছে। উজবেকিস্তানও ২১টি সোনা জিতেছে ভারতের সমান, কিন্তু তাদের রুপো দুটি কম ছিল, যা টাইব্রেকটা ভারতের দিকে মিটিয়ে দিল। এটি ভারতের ইতিহাসে এশিয়ান গেমসে তাদের দ্বিতীয় সেরা সংগ্রহ, ২০২৩ সালে হাংজু-তে জেতা ১০৭টি মেডেলের পরেই।
বাংলাদেশের দিকে এমন একটা নদীপথ, স্বাধীনতার আগে থেকে যা আর কেউ ব্যবহার করেনি
গেমসের বাইরে, ১,০৮০ টন মেথানল বোঝাই দুটি জলযান উজান অসমের Bogibeel অন্তর্দেশীয় জলপরিবহন টার্মিনাল থেকে রওনা দিল ঢাকার কাছের Pangaon বন্দরের দিকে, ১৯৪৭ সালের আগে থেকে এই অঞ্চল থেকে নদীপথে বিদেশে পণ্য যাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
এই মেথানল তৈরি করেছে Assam Petrochemicals, নামরূপে, এবং তা তোলা হয়েছিল প্রায় ৩০ বছরের পুরনো দুটি জলযানে, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে ৭৮৩ কিলোমিটারের যাত্রার জন্য, যাতে সময় লাগার কথা প্রায় এক সপ্তাহ। প্রতিটি জলযানে আছে প্রায় ২৭টি মেথানল কন্টেনার, প্রতি কন্টেনারে প্রায় ২০ টন। Bogibeel টার্মিনালটি একদম নতুন তৈরি, যেখানে কাস্টমস সুবিধা, একটা জেটি আর একটা গুদাম ইতিমধ্যে চালু, আর একটা লাইটহাউস এবং একটা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এখনো তৈরি হচ্ছে।
উজান অসমের চা বাগান আর তেলক্ষেত্র এক সময় নদীপথে দেশের বাইরে পণ্য পাঠাত আর আনত, এটা ছিল খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, যখন ব্রহ্মপুত্র ছিল এই অঞ্চলের মূল বাণিজ্যপথ, ব্রিটিশ শাসনের সময়। ১৯৪৭ সালের পর আন্তর্জাতিক নদী বাণিজ্যের সেই সংযোগ হারিয়ে যায়, যখন সীমানা তৈরি হলো পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং আরও পরে বাংলাদেশে পরিণত হওয়া অঞ্চলের সঙ্গে, আর তাতেই সেই পথ কেটে যায়। এই চালান চলছে India-Bangladesh Protocol on Inland Water Transit and Trade-এর অধীনে, যা দুই দেশের জলযানকে একে অপরের নদীর নির্ধারিত অংশ ব্যবহার করতে দেয়, আর Bogibeel টার্মিনালটা তৈরিই হয়েছিল উজান অসমকে ফের সেই মানচিত্রে ফিরিয়ে আনতে।
শিল্পে ব্যবহৃত মেথানলের একটা চালান, নিজে থেকে কোনো নাটকীয় পণ্য নয়। কিন্তু এটা যে পথ ফের খুলে দিল, তা অসমের নদী বাণিজ্যের কাছে প্রায় আশি বছর ধরে ছিল না, এবং পরিকল্পনাকারীরা আশা করছেন এটা ইতিহাসের পাতায় লেখা একটা একক ঘটনা না হয়ে বরং রোজকার একটা বিষয় হয়ে উঠবে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Asian Games 2026: Pranavi Urs becomes first Indian woman golfer to strike gold, team wins silver
- Pranavi Urs becomes first Indian woman golfer to win gold at Asian Games
- Asian Games - 2026: Mysuru's Pranavi Urs wins India's first gold in golf
- Asian Games 2026: Pranavi Urs scripts history by securing gold in women's individual golf, bags silver in team event
- Asian Games: Gulveer completes medal hat-trick with 5000m bronze
- Gulveer Singh creates history with Asian Games 2026 medal hat-trick, becomes only 2nd Indian to do so
- Queen of Seoul: how P.T. Usha's five-medal haul at the 1986 Asian Games left a mark on Indian athletics
- India at Asian Games 2026 final medal tally: IND finish 4th with 85 medals
- Curtains down on Aichi-Nagoya 2026: Asian Games close in dazzling ceremony as baton passes to Doha
- Dibrugarh set to resume overseas river trade with methanol shipment to Bangladesh
- First cargo vessel since independence to sail abroad via Brahmaputra
- India's Dibrugarh to re-enter river trade almost 80 years after independence
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।