ছবি: Davidvraju / Wikimedia Commons, CC0 (ছাঁটা)
বাংলা
১৯৭০-এর দশকে কেরলের বিদ্যুৎ পর্ষদ কুন্থিপুঝা নদীতে ১২০ মেগাওয়াটের একটি বাঁধ পরিকল্পনা করেছিল। বিজ্ঞানী, গণবিজ্ঞান আন্দোলন আর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি এর বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করানোর পর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৩ সালের ১৮ অক্টোবর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, আর ৮৯.৫২ বর্গকিলোমিটারের মূল বনটি সুরক্ষিত হয়।
কেরলের পালাক্কাড় জেলার সাইলেন্ট ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের মূল অংশ প্রায় ৮৯.৫২ বর্গকিমি ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বন, আর তা টিকে আছে কারণ কুন্থিপুঝা নদীতে পরিকল্পিত একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ বাতিল হয়েছিল। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর একটি ফিচার বলছে, কেরল রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ (কেএসইবি) বাঁধ বানানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে ১৯৭৬ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন ১৯৮৩ সালে, আর উদ্যানটি জাতিকে উৎসর্গ করা হয় ১৯৮৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর।
উদ্যানটি কোন সালে ঘোষিত হয়েছিল তা নিয়ে সরকারি পাতাগুলো একমত নয়, আর নিচের অংশগুলো প্রতিটি সূত্রের সংখ্যা নাম ধরে দিয়েছে।
বাঁধ কী করত
কেএসইবি-র প্রকল্পের স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ১২০ মেগাওয়াট এবং তা ১০,০০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার কথা ছিল, যেভাবে মঙ্গাবে ইন্ডিয়া বর্ণনা করেছে। পিআইবি-র ফিচার বলছে, পর্ষদ উপত্যকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয় ১৯৭৩ সালে। পরিবেশ-পত্রিকা ডাউন টু আর্থ কেএসইবি-র প্রস্তাবের জন্য একই সাল দিয়েছে এবং যোগ করেছে, ১৯২৯ সালের গোড়াতেই এক ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার উপত্যকাটিকে কেরলের জলবিদ্যুতের জন্য সেরা জায়গাগুলোর একটি বলে চিহ্নিত করেছিলেন।
ডাউন টু আর্থ এম. জি. কে. মেনন কমিটিকে উদ্ধৃত করেছে, প্রকল্প পর্যালোচনা করতে কেন্দ্র যে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গড়েছিল, যা পেয়েছিল যে বাঁধ ৮৩০ হেক্টর অক্ষত নদীতীরবর্তী বন ডুবিয়ে দেবে, যাকে উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে রিপেরিয়ান। ২০০৭ সালে উদ্যানের কাছে পরবর্তী একটি প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার সময় কেএসইবি বাতিল প্রকল্পের জন্য একই সংখ্যা, ৮৩০ হেক্টর, উল্লেখ করে।
যুক্তি দাঁড় করালেন কারা
অনোরমা প্রথম সতর্কবার্তার সূত্র খুঁজেছে দুজন মানুষের কাছে। রোমুলাস হুইটেকার, যিনি ১৯৭০-এর দশকের গোড়ায় সাপ নিয়ে পড়াশোনা করতে উপত্যকায় আসেন, জানতে পারেন বাঁধ বন্যপ্রাণীর জন্য কী বোঝাবে, আর মার্কিন বিজ্ঞানী স্টিভেন গ্রিন ১৯৭৩ সালে সিংহলেজি ম্যাকাক নিয়ে গবেষণা করতে এলাকায় চলে আসেন। অনোরমা বলছে, ম্যাকাকটি অভিযানের মাসকট হয়ে ওঠে।
কেরল শাস্ত্র সাহিত্য পরিষদ (কেএসএসপি), ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে কেরলে জনপ্রিয় একটি গণবিজ্ঞান আন্দোলন, বাঁধের বিরুদ্ধে যুক্তি দেয় সংখ্যা দিয়ে। ড্যারিল ডি’মন্টের এই ঘটনার বিবরণ থেকে নিয়ে মঙ্গাবে ইন্ডিয়া বলছে, কেএসএসপি দেখিয়েছিল কেরল নিজের উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে রপ্তানি করত আর প্রকল্পটি রাজ্যের সরবরাহে যোগ করত মাত্র ৭ শতাংশ। আন্দোলনটি আরও যুক্তি দেয় যে সেচ ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের জল থেকে সস্তায় দেওয়া যায়।
বাইরের সংস্থাও যোগ দেয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) সোভিয়েত ইউনিয়নের আশখাবাদে অনুষ্ঠিত তার ১৪তম সাধারণ পরিষদে সাইলেন্ট ভ্যালি রক্ষার প্রস্তাব পাস করে। কৃষি-বিজ্ঞানী এম. এস. স্বামীনাথন ১৯৭৮ সালের অক্টোবরে উপত্যকা ঘুরে দেখেন এবং সরকারকে প্রতিবেদন দেন। মঙ্গাবে ইন্ডিয়া বলছে, তাঁর প্রতিবেদনে বনটির বিবর্তনীয় বয়স ৫ কোটি বছরেরও বেশি এবং ২৩টি স্তন্যপায়ী প্রজাতির উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে তিনটি বিপন্ন: বাঘ, সিংহলেজি ম্যাকাক ও নীলগিরি হনুমান। অনোরমার তথ্য অনুযায়ী পক্ষিবিদ সালিম আলি ১৯৮০ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে আবেদন করেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ, যিনি ২০১৭ সালে তাঁর রেকর্ড নিয়ে একটি বই লেখেন, প্রকল্পের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের তারিখ দিয়েছেন ১৯৭৯ থেকে, মঙ্গাবে ইন্ডিয়া জানাচ্ছে।
সিদ্ধান্ত
মঙ্গাবে ইন্ডিয়া নথিভুক্ত করেছে, প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ১৯৭৮ সালে বাঁধকে শর্তসাপেক্ষ ছাড়পত্র দেন। মঙ্গাবে ইন্ডিয়ার ২০২০ সালের প্রতিবেদন বলছে, ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে ইন্দিরা গান্ধী ঘোষণা করেন সাইলেন্ট ভ্যালি ও তার জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত হবে। একই প্রতিবেদন বলছে, এম. এস. স্বামীনাথন ১৯৭৯ সালে প্রায় ৩৯০ বর্গকিমির একটি জাতীয় বর্ষাবন জীবমণ্ডল সংরক্ষিত অঞ্চলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এরপর কেন্দ্র মেনন কমিটি গড়ে, যার সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বাস্তুবিজ্ঞানী মাধব গাডগিল। ডাউন টু আর্থ এর প্রতিবেদনের তারিখ দিয়েছে ১৯৮২, আর অনোরমা বলছে তা জমা পড়ে ১৯৮৩ সালে। মঙ্গাবে ইন্ডিয়া সিদ্ধান্তের তারিখ দিয়েছে ১৮ অক্টোবর ১৯৮৩, যখন ইন্দিরা গান্ধী প্রকল্পে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ডাউন টু আর্থ বলছে প্রকল্পটি ঠান্ডা ঘরে যায় ১৯৮৩ সালের নভেম্বরে।
উদ্যান ঘোষণার জায়গায় এসেই নথি ভাগ হয়ে যায়:
- পিআইবি-র ফিচার বলছে ১৯৮৩ সালের ১৫ নভেম্বর বনগুলো জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়।
- মঙ্গাবে ইন্ডিয়া বলছে সাইলেন্ট ভ্যালি বিজ্ঞপ্তিভুক্ত হয় ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর, ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার প্রায় পনেরো দিন পরে।
- কেরল বন ও বন্যপ্রাণী দপ্তরের ইংরেজি পাতা বলছে উদ্যানটি ঘোষিত হয় ১৯৮৫ সালে, আর কয়েক লাইন পরেই বলছে তা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- ডাউন টু আর্থ ও অনোরমা দুটিই দিয়েছে ১৯৮৪।
পরের দুটি তারিখ সূত্রগুলোর মধ্যে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী উদ্যানটি উৎসর্গ করেন ১৯৮৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, আর সৈরন্ধ্রীতে ইন্দিরা গান্ধীর একটি স্মৃতিফলক উন্মোচিত হয়। উদ্যানটি নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত অঞ্চলের মূল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয় ১৯৮৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
উদ্যানে কী আছে
পিআইবি-র ফিচার উচ্চতা দিয়েছে ৬৫৮ মিটার থেকে অঙ্গিন্দা চূড়ায় ২,৩২৮ মিটার, উদ্যানের বেশির ভাগ অংশ ৮৮০ থেকে ১,২০০ মিটারের মধ্যে। কেরল পর্যটন দিয়েছে ৭২৫ মিটার থেকে ২,৩৮৩ মিটার। কুন্থিপুঝা নদী উদ্যানের পুরো ১৫ কিমি দৈর্ঘ্য জুড়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে গিয়ে নিলা বা ভারতপ্পুঝায় মেশে। মঙ্গাবে ইন্ডিয়া উল্লেখ করেছে, ২০১৭ সালের শুকনো গ্রীষ্মে, যখন ভারতপ্পুঝা শুকিয়ে যায়, কুন্থি বইতেই থাকে।
বৃষ্টি প্রচুর আর অসম। পিআইবি জানাচ্ছে, পশ্চিমের নীলিক্কাল এলাকায় বছরে গড় বৃষ্টিপাত ৫,০০০ মিমির বেশি আর পূর্ব দিকে প্রায় ৩,২০০ মিমি, যার ৮০ শতাংশ পড়ে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। পিআইবি বৃষ্টিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা আমাদের মৌসুমি বায়ুর ব্যাখ্যায় আছে। কেরল বন দপ্তরের পাতা বলছে উদ্যানটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যক্ষেত্র পশ্চিমঘাটের অংশ, আর পশ্চিমঘাটের তালিকা নিয়ে আমাদের নিবন্ধে সাইলেন্ট ভ্যালি তার উপাদানগুলোর মধ্যে আছে।
প্রাণ নিয়ে পিআইবি-র ফিচারে ১৩৪টি গোত্রের ৯৬৬ প্রজাতির ফুলের গাছ, প্রায় ১০৮ প্রজাতির অর্কিড আর অন্তত ৩৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ীর কথা আছে, যার মধ্যে সিংহলেজি ম্যাকাক, নীলগিরি হনুমান, নীলগিরি তাহর ও মালাবার দৈত্যাকার কাঠবিড়ালি। এতে বর্ণিত ২০০৬ সালের একটি শীতকালীন পাখি-জরিপে ১৩৮ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়, তার ১৭টি উপত্যকায় নতুন, আর পিআইবি বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের তালিকায় বিপন্ন বা সীমিত-অঞ্চলের ১৬ প্রজাতি গুনেছে। কেরল পর্যটনের পাতা দিয়েছে ১৭০টিরও বেশি পাখির প্রজাতি আর প্রায় ৯৫ প্রজাতির প্রজাপতি, ফলে পাখির মোট সংখ্যা নির্ভর করে কোন জরিপ উদ্ধৃত হচ্ছে তার ওপর।
নামটি নিয়ে একটি টীকা দরকার। পিআইবি বলছে, ঝিঁঝিঁ পোকার অনুপস্থিতি বোঝা যেত বলে সাইলেন্ট ভ্যালি নামটি, এবং আরও দুটি ব্যাখ্যা তালিকাভুক্ত করেছে: সৈরন্ধ্রী নামের ইংরেজি রূপ, আর সিংহলেজি ম্যাকাকের বৈজ্ঞানিক নাম Macaca silenus। মালয়ালমে বনটির নাম সৈরন্ধ্রী বনম। সৈরন্ধ্রী মহাভারতে দ্রৌপদীকে দেওয়া সেই নাম, যা পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের শেষ বছরে ব্যবহৃত, যে বছর মহাকাব্য তাঁদের রাখে রাজা বিরাটের সভায় (দেখুন মহাভারত কী)। পিআইবি যোগ করেছে, বিশ্বাস করা হয় পাণ্ডবেরা নদীর তীরের এক গুহায় থেকেছিলেন। উপজাতীয় বন-সুরক্ষা কর্মী মারি ২০২০ সালে মঙ্গাবে ইন্ডিয়াকে বলেন, ঝিঁঝিঁ পোকা উপত্যকায় ফিরে এসেছে।
ম্যাকাকের গণনা
উপত্যকার সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী সিংহলেজি ম্যাকাক। জার্নাল অফ থ্রেটেনড ট্যাক্সায় মেওয়া সিংহ ও সহকর্মীদের একটি পর্যালোচনা সাইলেন্ট ভ্যালিকে সম্ভাব্য টেকসই জনসংখ্যার চারটি অঞ্চলের একটি বলেছে। এটি উপত্যকায় দিয়েছে প্রায় ১৪টি দল আর মোটামুটি ২৭৫টি প্রাণী, রামচন্দ্রন ও জোসেফের ২০০০ সালের একটি গবেষণা উদ্ধৃত করে, এবং বলেছে সংখ্যাটি বছরের পর বছর স্থিতিশীল থেকেছে বলে মনে হয়। পর্যালোচনাটি বন্য জনসংখ্যা মোট ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০টি ধরেছে, ৪৯টি উপ-জনসংখ্যায়, এবং বলেছে আইইউসিএন প্রজাতিটিকে বিপন্ন (Endangered) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
অন্য বিবরণ উপত্যকাকে বেশি কৃতিত্ব দেয়। পিআইবি বলছে, উদ্যানে প্রজাতিটির সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা, আর মঙ্গাবে ইন্ডিয়ার ২০২০ সালের প্রতিবেদন বলছে বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নাকি এই বনগুলোতে থাকে বলে অনুমান, কোনো সংখ্যা না দিয়ে। জার্নাল অফ থ্রেটেনড ট্যাক্সার পর্যালোচনা কর্ণাটকের সিরসি-হোনাভারা বনে ২০০৪ সালে ৩২টি দলে প্রায় ৭৯০টি ম্যাকাকের কথা জানিয়েছে, যা সাইলেন্ট ভ্যালির সংখ্যার চেয়ে বেশি। এই নিবন্ধের জন্য খোলা সূত্রগুলোতে উপত্যকার দলগুলোর কোনো নতুন গণনা পাওয়া যায়নি।
বাফার অঞ্চল আর পাত্রক্কাডাভু প্রস্তাব
মঙ্গাবে ইন্ডিয়ার ২০২০ সালের প্রতিবেদন বলছে, বনটি ১৯১৪ সাল থেকে সংরক্ষিত বন ছিল। বাফার অঞ্চল এসেছে অনেক পরে। ওয়ানইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী কেরল মন্ত্রিসভা ২০০৭ সালের ৬ জুন ১৪৮ বর্গকিমির একটি বাফার অঞ্চল অনুমোদন করে, মান্নার্কাড় ও নিলাম্বুর দক্ষিণ বন-বিভাগের জমি জুড়ে। পিআইবি সংখ্যাটি দিয়েছে ১৪৭.২২ বর্গকিমি, আর মঙ্গাবে ইন্ডিয়া বলছে কেন্দ্র ও কেরল ২০০৯ সালের নভেম্বরে প্রায় ১৪৭ বর্গকিমি যোগ করে। ৮৯.৫২ বর্গকিমির মূল অঞ্চলের সঙ্গে ১৪৮ বর্গকিমি যোগ করলে হয় ২৩৭.৫২ বর্গকিমি, যা কেরল পর্যটন এলাকা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
২০২০ সালের আগস্টে দ্য নিউজ মিনিট জানায়, কেরলের বনমন্ত্রী রাজ্য বন্যপ্রাণী পর্ষদের সুপারিশ ঘোষণা করেন, বাফার অঞ্চলকে ভবানী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পরিণত করার। মঙ্গাবে ইন্ডিয়া বলেছে এটি হবে কেরলের ২৫তম সংরক্ষিত এলাকা এবং এর ভেতরে ছয়টি জনবসতিতে প্রায় ৫৬০টি উপজাতীয় পরিবার থাকে। অভয়ারণ্যের কোনো বিজ্ঞপ্তি এখানে খোলা সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।
একই নদীতে এরপর এসেছিল একটি ছোট বাঁধের প্রস্তাব। ডাউন টু আর্থের ২০০৭ সালের প্রতিবেদন পাত্রক্কাডাভু প্রকল্পের বর্ণনা দিয়েছে, ৬৪.৫ মিটার বাঁধ, ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতা আর ২৪৭ কোটি টাকা খরচ, যা কেরল সরকার প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন করে ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল। কেএসইবি বলে স্থানটি উদ্যানের সীমানা থেকে ৫০০ মিটার দূরে, আর পরিবেশকর্মী এম. কে. প্রসাদ বলেন তা বাফার অঞ্চলের ভেতরে। ইন্ডিয়া এনভায়রনমেন্ট পোর্টাল ২০০৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর জানায়, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী লোকসভায় বলেছেন ছাড়পত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ের সামনে এমন কোনো প্রস্তাব নেই। দ্য হিন্দু ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর জানায়, কেএসইবি ওই বছরের আগেই প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করেছিল এবং বন দপ্তর রাজ্যকে জানিয়েছিল তাদের আপত্তি আছে, বলেছিল স্থানটি সীমানা থেকে আধ কিলোমিটারের কম দূরে এবং আগের পরিবেশগত মূল্যায়ন আইনত বৈধ ছিল না। এই নিবন্ধের জন্য খোলা সূত্রগুলোতে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত দেখা যায়নি।
মুক্কালি থেকে যাওয়া
যাওয়া হয় ঘাঁটি-শিবির মুক্কালি দিয়ে। কেরল পর্যটন বলছে উদ্যানটি পালাক্কাড় থেকে মান্নার্কাড় হয়ে মুক্কালি পর্যন্ত ৬০ কিমি, পালাক্কাড় রেলস্টেশন থেকে ৬৯ কিমি আর কোয়েম্বাটোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৯১ কিমি। সৈরন্ধ্রী ভ্রমণ, কেরল পর্যটনের দিনের কর্মসূচি, বন উন্নয়ন সংস্থার গাড়িতে বনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার, কুন্থির তীর পর্যন্ত হাঁটা আর ১০০ ফুটের একটি নজরমিনার সহ, আর দর্শনের সময় এক পাতায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা, অন্য পাতায় সকাল ৭:৩০ থেকে দুপুর ১টা। উদ্যানের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা নেই, আর নদীতে স্নান নিষিদ্ধ। মুক্কালি থেকে প্রায় ১৩ কিমি দূরে বোম্মিয়াম্পাডির একটি বন-কটেজ রাতের অতিথিদের জন্য। কেরল পর্যটনের দুটি পাতাই যোগাযোগ হিসেবে দিয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন, সাইলেন্ট ভ্যালি ডিভিশন, মান্নার্কাড়কে, আর ট্রেক-পাতা দর্শনার্থীদের আগে থেকে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বলেছে। পাতাগুলো পড়া হয়েছিল ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর, আর একটি ২০১৭ সালের এপ্রিলের নিউজলেটার, তাই যাত্রার আগে সময়, মূল্য ও বুকিংয়ের নিয়ম ডিভিশনের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Press Information Bureau, PIB Features: The Silent Valley National Park (23 November 2009)
- Kerala Forest and Wildlife Department: National Parks of Kerala (English page)
- Kerala Tourism: Silent Valley National Park
- Kerala Tourism: Explore the Eco-Tourism Packages of Silent Valley National Park (Newsletter 284, April 2017)
- Kerala Tourism: Trek at Silent Valley National Park (eco-tourism programmes, access and booking)
- Mongabay India: Silent Valley, a controversy that focused global attention on a rainforest (S. Gopikrishna Warrier, 1 February 2018)
- Down To Earth: Kerala celebrates silver jubilee of the Silent Valley project, but dismisses conservation measures (15 December 2009)
- Mongabay India: Silent Valley to soon get a conservation ring around it (4 August 2020)
- Onmanorama: How Silent Valley was saved (28 December 2020)
- Singh, Kaumanns, Singh, Sushma and Molur, Journal of Threatened Taxa 1(3), 2009: The Lion-tailed Macaque Macaca silenus, conservation history and status
- OneIndia: Cabinet approves 'Buffer Zone' status to Silent Valley (6 June 2007)
- The News Minute: Kerala to get new wildlife sanctuary in Silent Valley National Park's buffer zone (6 August 2020)
- Down To Earth: Kerala clears Pathrakkadavu hydroelectric project near national park (M. Suchitra, 31 May 2007)
- India Together: Biodiversity, Energy, Kerala (May 2007)
- India Environment Portal, from The Hindu: Forest Department not keen on KSEB plan (27 December 2012)
- India Environment Portal: No project in Silent Valley (17 December 2004, Lok Sabha reply of the Minister for Environment and Forests)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।