অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
বতসোয়ানার কাসানেতে ২০২৩ সালের ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বর কমিটির অধিবেশনে ইউনেস্কো গুজরাটের গরবাকে মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ভাদোদরায় যে গরবা হয়েছিল, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাতে ৪৬,১২৮ জন অংশগ্রহণকারীকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইউনেস্কো গুজরাটের গরবাকে মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বতসোয়ানার কাসানেতে ২০২৩ সালের ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকারি কমিটির ১৮তম অধিবেশনে। ইউনেস্কোর ঘোষণার তারিখ ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর, আর ইউনেস্কো এবং ভারত সরকারের প্রেস অফিস প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) দুই পক্ষই গরবাকে তালিকায় ভারতের ১৫তম উপাদান গুনেছে। কলকাতার দুর্গাপুজো, যা নিয়ে আছে তার তালিকাভুক্তি নিয়ে আমাদের লেখা, তালিকায় ঢুকেছিল ২০২১ সালে।
গরবা নবরাত্রির বৃত্তনৃত্য। নবরাত্রি হিন্দু পঞ্জিকার নয় রাত, যা দেবীকে দেওয়া হয় শক্তিরূপে, নারীশক্তি হিসেবে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ভাদোদরা শহরে গরবার আয়োজন হয়েছিল, যাকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস একটি মাঠে ৪৬,১২৮ জন অংশগ্রহণকারীর নাচ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া সেই বছরের উৎসবের তারিখ দিয়েছে ১১ থেকে ১৯ অক্টোবর, অর্থাৎ রেকর্ড হয়েছিল নবরাত্রি শুরুর চার দিন আগে।
গরবা কী, ইউনেস্কোর প্রবিষ্টি কী বলে
ইউনেস্কোর উপাদান-পাতা গরবাকে বলেছে ‘হিন্দু উৎসব নবরাত্রি উপলক্ষে পরিবেশিত একটি আচারমূলক ও ভক্তিমূলক নৃত্য’। নর্তকেরা ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে ঘোরেন তেলের প্রদীপ জ্বালানো একটি ছিদ্রওয়ালা মাটির হাঁড়ির চারপাশে, কিংবা মাতৃদেবী অম্বার প্রতিমার চারপাশে। তাঁরা একসঙ্গে গান গেয়ে তালি দেন, শুরু হয় ধীর বৃত্তাকার পদক্ষেপে আর গড়ে ওঠে ঘূর্ণির গতিতে।
ইউনেস্কোর ঘোষণা যোগ করেছে, গরবা নাচা হয় নয় দিন ধরে, আর তা হয় ঘরে, মন্দিরের উঠোনে, গ্রামের জনপরিসরে, শহরের চত্বরে, পথে আর বড় খোলা মাঠে। উপাদান-পাতা ধারক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে নর্তক, বাদক, সামাজিক গোষ্ঠী, কারিগর আর ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের, আর বলেছে অনুশীলনটি ‘বিভিন্ন ও প্রান্তিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছে’।
ইউনেস্কোর ভাষায়, হস্তান্তর ঘটে অনুশীলন, পরিবেশনা, অনুকরণ আর পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট দক্ষতা শেখায়, নাচ আর গান থেকে পোশাক নকশা পর্যন্ত, আর বেসরকারি সংস্থা, সরকারি সংস্থা, নৃত্য-পরিচালক, সংগীতশিল্পী এবং গণমাধ্যমও তা পৌঁছে দেয়। পাতাটি গরবাকে বেঁধেছে আহমেদাবাদ ঐতিহাসিক শহরের সঙ্গেও, যাকে ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
নথি কীভাবে প্যারিসে পৌঁছল
ভারতের অধরা ঐতিহ্যের জাতীয় তালিকায় গরবা আছে ২০২২ সাল থেকে। সংস্কৃতি মন্ত্রকের জাতীয় সংগীত, নৃত্য ও নাটক একাডেমি সংগীত নাটক অকাদেমি সেই তালিকা রাখে, সহায়তা পায় বরোদার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্টস অনুষদের। কমিটির সিদ্ধান্তে মনোনয়ন তৈরির সংস্থা হিসেবে নাম আছে বিশ্ববিদ্যালয়, অকাদেমি আর মন্ত্রকের, আর ইউনেস্কোর ২০২৩ সালের তালিকাভুক্তিতে মনোনয়ন ফর্মের তারিখ ২০২২ সালের ৩০ মার্চ।
২০২২ সালের ২৭ আগস্ট নতুন দিল্লির জাতীয় জাদুঘরের একটি অনুষ্ঠান থেকে ট্রিবিউন জানিয়েছিল, ভারত গরবাকে মনোনীত করেছে আর নথিটি ইউনেস্কোর সচিবালয়ে কারিগরি পর্যালোচনায় আছে। সেলভেজ ম্যাগাজিন বলছে, নথিটি সহ-রচনা করেছেন গুজরাটের লোকঐতিহ্যের গবেষক উৎপলা দেশাই।
কমিটির সিদ্ধান্ত (১৮.COM ৮.B.৩২) পেয়েছে যে মনোনয়ন ২০০৩ সালের কনভেনশনের পাঁচটি মানদণ্ডই পূরণ করে। প্রথমটি নিয়ে সিদ্ধান্ত বলছে, গরবা ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে এগিয়ে নেয় এবং সামাজিক সমতাকে লালন করে’। টিকে থাকার ক্ষমতা নিয়ে বলছে, অনুশীলনটি ‘পোশাক তৈরি, সংগীত, মৃৎশিল্প আর নৃত্যের দিক থেকে তার টিকে থাকা নিশ্চিত করে’। পরিকল্পিত সুরক্ষা-ব্যবস্থার মধ্যে আছে গবেষণা আর গরবাকে বিশ্বের নানা জায়গায় দেখানো। নথির সঙ্গে ছিল সরকারি কর্মকর্তা, নর্তক, বাদক, পণ্ডিত আর বেসরকারি সংস্থার সম্মতিপত্র, আর কমিটি সহায়ক ভিডিওটির জন্য ভারতের প্রশংসা করেছে।
পিআইবির ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বরের বিবৃতি যোগ করেছে যে কনভেনশনের মূল্যায়ন সংস্থা নথির সহায়ক উপকরণের প্রশংসা করেছে, আর ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের আটজন নর্তকের একটি দল সভাস্থলে গরবা দেখিয়েছে। বিবৃতি আরও বলছে, তালিকাভুক্তি উদযাপনে গুজরাট সরকার (যার পরিচয় আছে আমাদের রাজ্য-নির্দেশিকায়) রাজ্যের জেলায় জেলায় গরবার আয়োজন করছিল।
হাঁড়ি, শব্দ আর দেবী
হাঁড়িটির নাম গরবো। পণ্ডিত জ্যোতীন্দ্র জৈন, সহপিডিয়ায় রাখা একটি প্রবন্ধে, একে বর্ণনা করেছেন ছিদ্র করা একটি মাটির হাঁড়ি হিসেবে, যাতে সলতে-প্রদীপ রাখা, বসানো হয় মাঝখানে আর মেয়েরা গরবো-গান গেয়ে তাকে ঘিরে নাচে। হাঁড়ির নামেই গান আর নাচের নাম। জৈন লিখেছেন, গরবা গুজরাটের নিজস্ব, বেশিরভাগ নাচেন মেয়েরা বৃত্তে, তালি দিয়ে তাল রেখে, আর টীকায় যোগ করেছেন, সৌরাষ্ট্রে পুরুষেরাও নাচেন।
শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে তর্ক আছে। দেশাইয়ের সঙ্গে সেলভেজের সাক্ষাৎকার বলছে, নামটি এসেছে গর্ভাশয়ের সংস্কৃত শব্দ থেকে। জৈন বলেছেন, পণ্ডিতেরা গর্ভদীপ, অর্থাৎ ভেতরের প্রদীপ বা ভেতরে প্রদীপওয়ালা হাঁড়ির প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু একে তিনি অনুমান বলেছেন আর ভাবেন শব্দটি সম্ভবত সংস্কৃতে নয়, স্থানীয় ভাষায় শুরু হয়েছিল।
জৈন গরবি-র কথাও লিখেছেন, বহু প্রদীপের তাকওয়ালা একটি কাঠের কাঠামো, কোনো কোনো অঞ্চলে যা মাঝখানে বসানো থাকে। ছন্দ উঠে এলে, কিংবা দেবী কোনো নর্তকের উপর ভর করেছেন বলে বিশ্বাস করা হলে, কয়েকজন পুরুষ তা মাথায় তুলে নাচ চালিয়ে যান। জৈন লিখেছেন, রাস কৃষ্ণ-উপাসনার সঙ্গে বেশি যুক্ত আর গরবা দেবীর সঙ্গে, যদিও দুটি মিলেও যায়, আর তিনি কবি নরসী মেহতার কিছু পদ উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে কৃষ্ণ গরবা নাচেন।
একটি রূপ পাথরে ধরা আছে। জৈন লিখেছেন, আহমেদাবাদের কাছে আদালজ বাওলির একটি কুলুঙ্গিতে নয়টি খোদাই করা গরবা-হাঁড়ি আছে, যা নবদুর্গা, অর্থাৎ দেবী দুর্গার নয় রূপের প্রতীক। তিনি জানিয়েছেন, গ্রামবাসীরা সেখানে বিয়ের আচার শেষ করতে আসতেন আর তারপর প্রবেশমণ্ডপে গরবা নাচতেন। তাঁর ছবির ক্যাপশন খোদাইটির সময় দিয়েছে ১৪৯৯। পাটনের রানি কি ভাভ নিয়ে আমাদের লেখায় আছে গুজরাটের আরেকটি বাওলির কথা।
সেলভেজের সাক্ষাৎকারে দেশাই বলেছেন, হাঁড়ি ‘মন্দির বলে গণ্য আর নাচ প্রার্থনা’, আর নর্তকেরা খালি পায়ে নাচেন। তিনি গরবাকে বর্ণনা করেছেন ভালো ফসলের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হিসেবে, আর বলেছেন, বছরের চারটি নবরাত্রির মধ্যে আসো (আশ্বিন) মাসেরটি সবচেয়ে শুভ। বিয়ে আর সাধভক্ষণের অনুষ্ঠানে, এবং সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছে জন্মাষ্টমীতেও গরবা নাচা হয়।
রাসের পাশে গরবা
গরবা একই মরসুম ভাগ করে নেয় রাসের সঙ্গে, যে লাঠি-নাচকে সাধারণত ডান্ডিয়া রাস বলা হয়। সহপিডিয়ায় দেশাইয়ের বিবরণে রাস বীজ বোনা আর ফসল তোলার সঙ্গে জড়িত, প্রথা অনুযায়ী ১৬ থেকে ২০ জনের দলে পুরুষেরা নাচেন, আর কাঠের দুটি কাঠি (ডান্ডিয়া) তাল দেয়। ব্যতিক্রম মিশ্র বা গোপ রাস, যা পুরুষ ও নারী একসঙ্গে নাচেন, আর তিনি লিখেছেন সেটি এসেছিল ১৯৬০-এর দশকের গোড়ায়, যখন ১৯৬১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে নাচার জন্য ভাবনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি ছাত্রদল গড়ে।
রাসের শিকড় কাগজেও পুরোনো। জৈন উদ্ধৃত করেছেন শারদাতনয়ের দ্বাদশ শতকের ভাবপ্রকাশন, যাতে দণ্ডরাসক নামে একটি লাঠি-রূপের তালিকা আছে, আর গুজরাটের মন্দিরচিত্র, কাঠের খোদাই ও বস্ত্রে তিনি লাঠি-নাচের নিদর্শন পেয়েছেন। দেশাই লিখেছেন, ‘রাস-গরবা গুজরাটের একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয়’, আর প্রতিটি রূপ নিজের চরিত্র রেখেছে।
আহমেদাবাদের পুরোনো শহরের গলি
আহমেদাবাদের পুরোনো শহর ভাগ করা পোল নামের পাড়ায়। পিটিআই ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর জানিয়েছিল, সাধু মাতা নি পোল পুরোনো শহরের ১৮৪টি পোলের একটি, আর সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ থাকেন। নবরাত্রির অষ্টম রাতে, অষ্টমীতে, বারোট সম্প্রদায়ের পুরুষেরা, যাঁরা প্রথা অনুযায়ী পরিবারের ইতিহাসের রক্ষক, শাড়ি পরে সেখানে গরবা নাচেন।
পিটিআই বলছে, প্রথাটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। তারা জানিয়েছে, সম্প্রদায়টি একে দেখে তাদের পূর্বপুরুষদের উপর নেমে আসা অভিশাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে, আর সন্তান, সুস্বাস্থ্য বা ব্যবসায় সাফল্যের মতো পূরণ হওয়া প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতেও পুরুষেরা যোগ দেন। একজন অংশগ্রহণকারী পাঁচ বছর ধরে শাড়ি পরেছেন, সংস্থাটি বলছে, আর এই কাজকে বর্ণনা করেছে ‘বিনয় ও শ্রদ্ধার একটি প্রতীকী ভঙ্গি’ বলে।
কাপড়, আয়না আর যাঁরা সেলাই করেন
ইউনেস্কোর সিদ্ধান্ত পোশাক তৈরি আর মৃৎশিল্পকে গরবার টিকে থাকার অংশ ধরেছে। সেলভেজের সাক্ষাৎকার দেখায় কতটা কাপড় জড়িত। মেয়েরা পরেন চানিয়া, লম্বা স্কার্ট, সঙ্গে চোলি বা ব্লাউজ আর ওড়না, প্রায় ২.৫ মিটার লম্বা আঁচল, আর পুরুষেরা পরেন কেদিয়া-চোর্নি, গায়ে এঁটে বসা ঘেরওয়ালা উপরের পোশাক আর ঢিলে নিচের পোশাক, কখনো পাগড়ি সমেত।
গুজরাটের সম্প্রদায়গুলো নাচের জন্য আলাদা পোশাক পরে। সাক্ষাৎকারের তালিকায় আছেন পোরবন্দরের মের, লাল স্কার্ট আর সবুজ ব্লাউজে, বান্ধনি (বাঁধা-রঙ) ওড়নায়, ঠাকোর, যাদের স্কার্টে লাগে ১২ থেকে ১৫ মিটার কাপড়, ভারওয়াড মেষপালক, জড়ানো পশমি স্কার্টে, আর রাবারি, গোলাপি সুচিকর্মওয়ালা পারসিক নীল স্কার্টে। সাক্ষাৎকার বলছে, এখন বেশিরভাগ পোশাক কারিগর বা দোকান থেকে কেনা হয়, পরিধানকারী নিজে সুচিকর্ম করেন না, আর চাহিদা রঙকার, সুচিকর্মী আর সাজসজ্জার উপকরণ-নির্মাতাদের কাজে রাখে।
শেখানোর দিক থেকে সাক্ষাৎকার আহমেদাবাদের গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে গরবার একটি স্বল্পমেয়াদি পাঠক্রমের উল্লেখ করেছে, ইউনেস্কোর বিবরণে যে ধরনের পাঠক্রমের কথা আছে।
নয় রাত কত মানুষ টানে
বিজ্ঞাপন-শিল্পের সাইট সোশ্যাল সামোসা ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেই বছরের নবরাত্রি নিয়ে এক লেখায় জানিয়েছিল, গুজরাট পর্যটন নিগম লিমিটেড ৪ মিলিয়নের বেশি পর্যটক আশা করছে, আর এজেন্সি জিরো গ্র্যাভিটি কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা খুশবু সোলাঙ্কি শর্মাকে উদ্ধৃত করেছিল, যিনি বলেছেন বড় ভেন্যুগুলোয় প্রতি রাতে ৩০,০০০-এর বেশি আনন্দকারী আসেন।
দেশগুজরাট ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আহমেদাবাদে টিকিটওয়ালা গরবা অনুষ্ঠান নিয়ে জানিয়েছিল। তাদের তালিকায় বেশ কয়েকটির জন্য এক রাতের পাস ৪৯৯ টাকা, মরসুমি পাস ২,৭৯৯ থেকে ১০,৮২৪ টাকা, আর একটি অনুষ্ঠানে দলগত পাস ১৮,৯৯৯ টাকা। লেখাটি এও উল্লেখ করেছে যে জনসাধারণের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ প্রশ্ন তুলছে, এই দাম কি গরবাকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।
ভাদোদরার রেকর্ড
ভাদোদরার বড় গরবা মাঠ ইউনাইটেড ওয়ে অফ বরোদার, যে সংস্থা ১৯৮৬ সালে গড়েছিল বরোদা সিটিজেনস কাউন্সিল, ইউনাইটেড ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ও ইউনিসেফের সহায়তায়। পর্যটন মন্ত্রকের সাইট ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া আতলাদরার এম এম ফার্মে তাদের গরবা মহোৎসবের কথা লিখেছে, যা ২০২৬ সালের ১১ থেকে ১৯ অক্টোবর নয় রাত চলবে, আর বলেছে অনুষ্ঠানটি লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে বিশ্বের বৃহত্তম গরবা মাঠ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ভাদোদরা পুর নিগম আর ইউনাইটেড ওয়ে সেখানে বিকশিত ভারত সংকল্প গরবার আয়োজন করে, লোকশিল্পী অতুল পুরোহিতের পরিবেশনায়। বিজনেস টুডে জানিয়েছে, গিনেসের একজন বিচারক উপস্থিত ছিলেন, চেষ্টাটির জন্য ৩০,০০০ অংশগ্রহণকারী লাগত, আর প্রায় ৩,০০০ ছাত্র ঐতিহ্য, পরিচ্ছন্নতা, নারীশক্তি আর বিকশিত ভারত, উন্নত ভারতের জাতীয় লক্ষ্য, নিয়ে ব্যানার দেখায়। দেশগুজরাট যোগ করেছে, সন্ধ্যা শুরু হয় মা অম্বের আরতি দিয়ে আর রেকর্ডের নাচ শুরু হয় রাত ১১টার পরে, সেই ছন্দে যাকে তারা বলেছে ত্রান তালি।
সংখ্যায় অমিল আছে। বিজনেস টুডে দিয়েছে ৪৬,৮১৮ যাচাই-করা অংশগ্রহণকারী, দেশগুজরাট জানিয়েছে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ, আর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিজের বিবরণ, ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত, দিয়েছে ৪৬,১২৮ জন নর্তক। গিনেসের লেখা স্থানটির নাম দিয়েছে এম এম প্যাটেল ফার্ম আর রেকর্ডটিকে বৃহত্তম গরবা নাচ। তাদের বিচারক ঋষি নাথ বলেছেন, গরবা ‘পরিবার, বন্ধু আর গোটা সম্প্রদায়কে একসঙ্গে আনে, প্রজন্মের পর প্রজন্মে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দেয়’।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO Intangible Cultural Heritage: Garba of Gujarat (element 01962, inscribed 2023)
- UNESCO Intangible Cultural Heritage: Decision 18.COM 8.B.32, Garba of Gujarat
- UNESCO Intangible Cultural Heritage: Examination of nominations for inscription in 2023 on the Representative List (item 8.b)
- UNESCO: Garba of Gujarat inscribed on the UNESCO Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity (6 December 2023)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: 'Garba of Gujarat' declared as Intangible Cultural Heritage by UNESCO (6 December 2023)
- Tribune (New Delhi, 27 August 2022): India nominates Garba of Gujarat for UNESCO intangible heritage tag
- Ministry of Culture (PIB), Intangible Cultural Heritage of India: Beyond Monuments and Landscapes (15 July 2024)
- Jyotindra Jain, Rasa and Garba in the Arts of Gujarat (Sahapedia library PDF)
- Sahapedia, Utpala Desai: Raas Traditions of Gujarat
- Selvedge, Brinda Gill interviews Utpala Desai: Garba of Gujarat, India's longest and largest dance festival (15 February 2024)
- National Herald (PTI, 3 October 2024): Why men in Ahmedabad dress up as women for Garba performance
- Guinness World Records, Craig Glenday: More than 46,000 dancers celebrate the Indian tradition of Garba (16 October 2026)
- Business Today: Viksit Bharat Sankalp Garba in Vadodara creates Guinness World Record with 46,818 participants (8 October 2026)
- DeshGujarat: Vadodara sets Guinness Record for Largest Garba Dance (8 October 2026)
- Incredible India (Ministry of Tourism): United Way of Baroda Garba Mahotsav
- Social Samosa (23 September 2025): Navratri 2025 to draw 30K nightly footfalls, boosting Gujarat's ad spends
- DeshGujarat (2 September 2025): Garba pass prices soar up to Rs 10k in Ahmedabad
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।