অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
ইউনেস্কোর কমিটি কলকাতার দুর্গাপুজোকে মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভারতের এটি ১৪তম উপাদান। নারী ও প্রান্তিক গোষ্ঠীকে যুক্ত করার কাজের প্রশংসাও করেছে কমিটি। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের জন্য করা একটি সমীক্ষা ২০১৯ সালের উৎসবকে ঘিরে সৃজনশীল অর্থনীতির মূল্য ধরেছে ৩২,৩৭৭ কোটি টাকা।
কলকাতার দুর্গাপুজো ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভারত সরকারের প্রেস অফিস প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এটিকে তালিকায় ভারতের ১৪তম উপাদান বলে গণনা করেছে, যোগ (২০১৬) এবং কুম্ভ মেলা-র (২০১৭) মতো প্রবিষ্টির পরে। সিদ্ধান্তটি এসেছে আন্তঃসরকারি কমিটির ১৬তম অধিবেশনে, পিআইবির মতে যা প্যারিসে ২০২১ সালের ১৩ থেকে ১৮ ডিসেম্বর চলেছিল।
ভারতের মনোনয়ন, ক্রমিক সংখ্যা ০০৭০৩, উৎসবটিকে বর্ণনা করেছে হিন্দু মাতৃদেবী দুর্গার আরাধনা হিসেবে, বাংলায় যা তাঁর বার্ষিক বাপের বাড়ি ফেরাও। নথির বিবরণে তিনি হিমালয়ে স্বামী শিবের গৃহ থেকে নেমে আসেন বাবা-মায়ের ঘরে, সঙ্গে তাঁর চার সন্তান গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। নথিটি একে শহরের ধর্ম ও শিল্পের গণ-প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত বলেছে।
কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর কোন পাঁচটি মানদণ্ড যাচাই করেছে
কমিটির সিদ্ধান্ত (১৬.COM ৮.B.১৫) মনোনয়নটি বিবেচনায় নিয়েছে এবং উপাদানটিকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০০৩ সালের কনভেনশনের অধীনে একটি মনোনয়নকে পাঁচটি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।
নথির ভিত্তিতে কমিটি দেখেছে যে উপাদানটি কনভেনশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী অধরা ঐতিহ্য, যার ধারকদের মধ্যে আছে পরিবার, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকি, শিল্পী ও কারিগররা (মানদণ্ড R.১)। কমিটি দেখেছে যে ক্ষেত্রসমীক্ষা ও একটি প্রকাশ্য অংশীজন সভার মাধ্যমে সম্প্রদায়গুলো সম্মতি দিয়েছে (R.৪), এবং উৎসবটি ভারতের জাতীয় তালিকায় আছে, যেটি সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি রাখে ও প্রতি বছর হালনাগাদ করে (R.৫)। নথিতে তালিকাভুক্তির তারিখ দেওয়া আছে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ।
অধিবেশনে ভারত সরকার যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতে কমিটি দেখেছে যে তালিকাভুক্তি সচেতনতা বাড়াবে (R.২) এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা চালু আছে (R.৩)। সিদ্ধান্তে এর মধ্যে তালিকাভুক্ত আছে যানবাহন, ভিড়, শব্দ ও দূষণের ব্যবস্থাপনা, সঙ্গে কর্মশালা, ডিজিটাল সংগ্রহশালা ও স্থায়িত্বের নির্দেশিকা।
সিদ্ধান্তটি উৎসব সুরক্ষায় প্রান্তিক গোষ্ঠী ও নারীদের যুক্ত করার জন্য কলকাতার সংগঠনগুলোর প্রশংসাও করেছে। পিআইবির ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তি সেই প্রশংসার পুনরাবৃত্তি করেছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডির একটি বার্তা বহন করেছে, যিনি তালিকাভুক্তিকে নারীত্বের দেবত্ব ও নারীসত্তার চেতনার উদ্যাপন বলেছেন।
নথি কে লিখেছিল, কীভাবে
সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি, ভারতের সংগীত, নৃত্য ও নাটকের জাতীয় অ্যাকাডেমি, মনোনয়নের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্ধারিত সংস্থা। তার সচিব ২০২০ সালের ২৮ মার্চ ফর্মে সই করেছিলেন, ২০২১ সালে তালিকাভুক্তির সময়সীমার তিন দিন আগে।
নথিটি তৈরি করেছিল কলকাতার যদুনাথ ভবন মিউজিয়াম অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারের একটি গবেষণা দল, নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক তপতী গুহঠাকুরতা। নথি বলছে, দলটি উৎসবের আগে ও পরে চার মাস ক্ষেত্রসমীক্ষা করেছে, মূর্তি গড়া ও প্যান্ডেল নকশা (প্যান্ডেল হল অস্থায়ী মণ্ডপ) কাছ থেকে দেখেছে, আর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ইছামতী নদীর তীরে টাকিতে বিসর্জন নথিভুক্ত করেছে, যেখানে নথির কথায় দুই দেশের মানুষ একসঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেন।
২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দলটি জাদুঘরে একটি প্রকাশ্য সভা করেছিল। নথিতে উপস্থিতদের মধ্যে তালিকাভুক্ত আছেন মূর্তিকার, নকশাকার, পরিবারের পৃষ্ঠপোষক, পাড়ার ক্লাব, কাউন্সিলর, পৃষ্ঠপোষক সংস্থা, গবেষক ও কর্মকর্তারা। তাঁদের সম্মতিপত্র কাগজে সই করা হয়েছিল, কিছু বাংলায়, সঙ্গে অনুবাদ জোড়া ছিল।
দশ দিন, আর কেন্দ্রের পাঁচ দিন
মনোনয়ন দুর্গাপুজোকে দশ দিনের আরাধনা বলেছে। এটি শুরু হয় মহালয়ায়, যখন চোখ আঁকার মধ্য দিয়ে মাটির প্রতিমায় প্রাণ আবাহন করা হয়, আর শেষ হয় দশম দিন বিজয়া দশমীতে, যখন প্রতিমা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। পর্যটন মন্ত্রকের সাইট ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া বলছে, দশ দিনের আচার শেষ পাঁচ দিনে, ষষ্ঠী থেকে দশমী, চূড়ায় পৌঁছয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ২০১৯ সালের সমীক্ষা ওই পাঁচ দিনকে গুনেছে ২০১৯ সালের ৪ থেকে ৮ অক্টোবর।
মহালয়ার একটি সম্প্রচার-ঐতিহ্যও আছে। অল ইন্ডিয়া রেডিওর কলকাতা কেন্দ্র সেদিন ভোরের আগে প্রচার করে মহিষাসুরমর্দিনী, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পাঠ করা চণ্ডীর (চণ্ডীপাঠ) প্রায় ৯০ মিনিটের শ্লোক, সুর পঙ্কজ মল্লিকের। নিউজলন্ড্রি প্রথম সম্প্রচারের সাল দিয়েছে ১৯৩৬ আর ওয়ায়ন (WION) ১৯৩১।
আউটলুক ট্রাভেলারের নির্দেশিকা পরের দিনগুলো সাজিয়েছে। ষষ্ঠীতে দেবীর মুখ উন্মোচিত হয় এবং উৎসবের বড় বাদ্য ঢাক বাজতে শুরু করে। সপ্তমীতে নয়টি গাছের একটি গুচ্ছকে কলা বউ স্নান নামের আচারে স্নান করানো হয়, শাড়ি পরানো হয় এবং গণেশের পাশে বসানো হয়।
অষ্টমীতে আসে পুষ্পাঞ্জলি, যাতে ভক্তরা পুরোহিতের মন্ত্রের সঙ্গে ফুল ও বেলপাতা অর্পণ করেন, আর কুমারী পূজা, যাতে একটি ছোট মেয়েকে দেবী রূপে পূজা করা হয়। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজো হয়, ১০৮টি প্রদীপ দিয়ে।
নবমীতে আসে ধুনুচি নাচ, যাতে নর্তকরা ঢাকের তালে নারকেলের ছোবড়া ও ধুনো জ্বলা মাটির পাত্র হাতে নাচেন। দশমীতে বিবাহিত মহিলারা দেবীর ও পরস্পরের কপালে সিঁদুর পরান (সিঁদুর খেলা), আর প্রতিমাগুলোকে শোভাযাত্রা করে জলে বিসর্জন দেওয়া হয় (বিসর্জন)। তারপর মানুষ বিজয়া নামের শুভেচ্ছায় গুরুজনদের আশীর্বাদ নেন।
কুমোরটুলির মাটি
মনোনয়ন বলেছে, উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি বংশানুক্রমিক মাটির মূর্তিকার, মৃৎশিল্পীদের, সবচেয়ে পুরোনো ও প্রধান কেন্দ্র। ইউনেস্কোর উপাদান-পাতা বলছে, প্রতিমা গড়া হয় গঙ্গা থেকে আনা না-পোড়ানো মাটিতে। সহপিডিয়া বলছে, কুমোরটুলির জোগান আসে উলুবেড়িয়ার নদীতীরের পলি থেকে, কাজের তিনটি ধাপ বাঁশের কাঠামো, মাটির প্রলেপ আর তারপর রং।
পাড়াটি কীভাবে শুরু হয়েছিল সে বিষয়ে বিবরণগুলো খুঁটিনাটিতে আলাদা। পিপলস আর্কাইভ অফ রুরাল ইন্ডিয়া বলছে, প্রথম কুমোররা প্রায় ৩০০ বছর আগে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর থেকে এসে বাগবাজার ঘাটের কাছে বসতি গেড়েছিলেন। সহপিডিয়া বলছে, শোভাবাজার রাজবাড়ির রাজা নবকৃষ্ণ দেব প্রায় ১৭৫৭ সালে নিজের বাড়িতে পুজো শুরু করেন এবং কৃষ্ণনগর থেকে মূর্তিকারদের এনেছিলেন, যাকে তারা কুমোরটুলির সূচনা বলে বর্ণনা করেছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সমীক্ষা কুমোরটুলি এলাকায় প্রায় ১৫০টি প্রতিমা স্টুডিও, মোটামুটি ৫০০ কারিগর ও প্রায় ৩,০০০ দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক গুনেছে এবং দেখেছে যে ৪০ শতাংশ স্টুডিও ৬০ বছরের বেশি পুরোনো।
নথিটিতে এরপর কী সুরক্ষিত করতে চায় তারও তালিকা আছে। কুমোরটুলির জন্য সে একটি বিশেষ আর্থিক মঞ্চের প্রস্তাব দিয়েছে, কারণ তার কথায় পুজো কমিটিগুলোর বাড়তে থাকা বাজেট থেকে মূর্তিকাররা সামান্যই লাভ পেয়েছেন।
বারোয়ারি পুজো কীভাবে প্যান্ডেলে পৌঁছল
মনোনয়ন বলেছে, ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলো ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে নিজেদের অট্টালিকায় দুর্গাপুজো করে আসছে। পর্যটন মন্ত্রক কলকাতার প্রথম পুজোর সাল দিয়েছে ১৬১০, করেছিলেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার।
পাড়ার পুজো এসেছে পরে। মনোনয়ন বলছে, কলকাতার বহু সর্বজনীন পুজো বিশ শতকের গোড়ায় ও মাঝামাঝি শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সমীক্ষা গুহঠাকুরতার দেওয়া বারোয়ারির সংজ্ঞা উদ্ধৃত করেছে, বারো বন্ধুর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সংগঠিত অনুষ্ঠান, এবং বলছে কলকাতায় এর বিবর্তনের সূত্র প্রায় ১০০ বছর পিছিয়ে পাওয়া যায়, জমিদারবাড়ি থেকে গৃহস্থ পুজো, তারপর পাড়ার গলি ও পার্কে।
প্রথম বারোয়ারি পুজো নিয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে। লাইভ হিস্ট্রি ইন্ডিয়া লিখেছে, সেটি হয়েছিল গুপ্তিপাড়ায় আঠারো শতকের শেষ দিকে, এবং জানিয়েছে কিছু সূত্র ১৭৬১ বলে, কিছু ১৭৯০। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদীপ্ত গরাইয়ের লেখা অভিজ্ঞা ই-মিউজিয়াম বলছে, হুগলি জেলার শহর গুপ্তিপাড়ার বারো বন্ধু সেটি করেছিলেন ১৭৯০ সালে। কলকাতার ক্ষেত্রে সহপিডিয়া প্রথম সর্বজনীন পুজোর সাল দিয়েছে ১৯১০ আর জায়গা বলরাম বসু ঘাট রোড। লাইভ হিস্ট্রি ইন্ডিয়া সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০০৬ সালের বইয়ের সূত্রে বলছে, সেটি সম্ভবত ১৯১০ সালে একই রাস্তায় হয়েছিল, আয়োজক সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা। অভিজ্ঞা ই-মিউজিয়াম ওই সভার পুজোকে বাগবাজারে বসিয়েছে এবং যোগ করেছে যে কিছু বিবরণে ভবানীপুরের বসু ঘাট রোডের একটি পুজোকে প্রথম বলা হয়। একই সূত্র সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজোর সাল দিয়েছে ১৯২৬, শুরু করেছিলেন অতীন্দ্রনাথ বসু, শরৎচন্দ্র বসু ও ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।
এখন যে প্যান্ডেলগুলো ভিড় টানে, সেগুলো থিমভিত্তিক। মনোনয়ন বলছে, মণ্ডপগুলো স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রত্নস্থল থেকে অনুপ্রেরণা নেয় এবং লোক ও আদিবাসী শিল্প দেখায়। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া বলছে, প্রতিমার নকশা ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। মনোনয়ন আরও তালিকা দিয়েছে অবিবাহিত নারী, বিধবা, যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামী মানুষকে আচারে যুক্ত করার উদ্যোগের।
কতগুলো পুজো, আর তাদের ঘিরে অর্থনীতির মূল্য কত
মনোনয়ন নথি বলছে, কলকাতায় প্রায় ৫,০০০টি দুর্গাপুজো হয়। ২০১৯ সালের সমীক্ষা গুনেছে অন্য মাপে। তারা কলকাতা পুলিশে নিবন্ধিত পুজো ধরেছে ২,২০০টি, আর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ২৮,০০০-এর বেশি, সঙ্গে আবাসন সমিতির চালানো প্রায় ১০,০০০ এবং আরও ১০,০০০ অনিবন্ধিত, আর রাজ্যের মোট ধরেছে প্রায় ৫০,০০০। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সিইএসসি ২০১৯ সালে কলকাতায় পুজোর সংযোগের জন্য ৪,৪৮৭টি আবেদন পেয়েছিল, সমীক্ষার বিবরণ অনুযায়ী যেগুলো মিলিয়ে ৫২ মেগাওয়াট ব্যবহার করেছে।
সমীক্ষাটি করানো হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের হয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে, রাজ্য ও কাউন্সিল ২০১৮ সালের জুলাইয়ে যে সমঝোতাস্মারক সই করেছিল তার অধীনে। এর নেতৃত্ব দিয়েছে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, সঙ্গে আইআইটি খড়্গপুর, আর পরিমাণগত প্রতিবেদন তৈরি করেছে স্মার্ট কিউব। পৃষ্ঠপোষকতা বাদ দিয়ে ২০১৯ সালের উৎসবকে ঘিরে সৃজনশীল শিল্পের মূল্য ধরেছে ৩২,৩৭৭ কোটি টাকা (৩.২৯ বিলিয়ন পাউন্ড), যাকে তারা ২০১৯-২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির ২.৫৮ শতাংশের সমান বলেছে।
খুচরা বিক্রি সবচেয়ে বড় অংশ, ২৭,৩৬৪ কোটি টাকা, তারপর খাদ্য ও পানীয় ২,৮৫৪ কোটি টাকা, প্যান্ডেল ও সাজসজ্জার কাজ ৮৬০ কোটি টাকা এবং প্রতিমা তৈরি ২৬০ থেকে ২৮০ কোটি টাকা। সমীক্ষা পাঁচ দিনে কলকাতায় পর্যটকের আগমন অনুমান করেছে ১৪,৮৭,৬৮৮ (প্রায় ১৪.৯ লক্ষ)। ২৪০ জন উত্তরদাতার জরিপে ৩৫ শতাংশ তাঁদের বার্ষিক আয়ের ৮১ থেকে ১০০ শতাংশ আয় করেছিলেন উৎসব থেকে। এগুলো মহামারীর আগের ২০১৯ সালের হিসাব, আর সমীক্ষা বলছে, দ্বিতীয় ধাপে লজিস্টিকস ও ব্যাংকিংয়ের মতো খাত যোগ করা যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী করে
মনোনয়ন উৎসবের ধারকদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পরিচিতিতে যার পরিচয় আছে) কয়েকটি দপ্তরের নাম তালিকাভুক্ত করেছে। সে কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভাকে রসদ-সহায়তার প্রধান জোগানদার বলেছে, এবং বলেছে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর প্রতি বছর আয়োজন করে বিসর্জন শোভাযাত্রা, বা দুর্গাপুজো কার্নিভাল, বিসর্জনের আগে রেড রোডে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিমার একটি মিছিল।
রাজ্য দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনেও এনেছে। তার পর্যটন দপ্তর ও ব্রিটিশ কাউন্সিল ২০১৮ সালে লন্ডনের টোটালি টেমস উৎসবে বেঙ্গলস দুর্গা নামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছিল, ব্রিটিশ কাউন্সিল বলছে যা ৪৩ দিনে ২,৭০,৯৬০ জন দেখেছেন।
নথিটি প্রতিমা বিসর্জনের নিয়ম এবং তার অব্যবহিত পরে নদী থেকে প্রতিমার অবশেষ সরানোর নিয়মকে রাজ্যের নাগরিক বিধির প্রধান সাফল্য বলে ধরেছে। নদীর কথা জানতে দেখুন আমাদের গঙ্গা পরিষ্কার অভিযানের প্রতিবেদন।
আয়োজকদের সহায়তা আর্থিক। পিটিআই ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার পুজো কমিটিগুলোর অনুদান প্রতিটির জন্য ৮৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১.১০ লক্ষ টাকা করেছে, প্রায় ৪০,০০০ কমিটির জন্য, এবং বলেছিল দমকল, কলকাতা পুরসভা, পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলো তাদের কাছ থেকে কর বা পরিষেবা-মাশুল নেবে না। আউটলুক ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার আবেদনকারী কমিটিগুলোর জন্য ১ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছে।
ভারত সরকারও উৎসবটিকে বিদেশে প্রচার করে। পিআইবির ২০২৬ সালের ৯ মার্চ প্রকাশিত একটি লোকসভা উত্তরে সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেছেন, ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া ২.০ প্রচারাভিযান আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের দুর্গাপুজোয় টানতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। উত্তরে যোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ থেকে ১৩ ডিসেম্বর আন্তঃসরকারি কমিটির যে বৈঠক হয়, যেখানে ইউনেস্কো দীপাবলিকে তালিকাভুক্ত করেছিল, আমাদের দীপাবলি-নির্দেশিকা যেমন জানিয়েছে, সেখানে ১৯০টির বেশি অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিদের সামনে লালকেল্লায় একটি ধুনুচি নাচ পরিবেশিত হয়েছিল।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO Intangible Cultural Heritage: Decision 16.COM 8.B.15, Durga Puja in Kolkata
- UNESCO Intangible Cultural Heritage: Durga Puja in Kolkata (element 00703, inscribed 2021)
- Government of India, nomination file ICH-02-2021 for Durga Puja in Kolkata, signed by the Secretary of the Sangeet Natak Akademi on 28 March 2020 (UNESCO web archive copy)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: UNESCO inscribes Durga Puja in Kolkata on the Representative List (15 December 2021)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: International recognition and promotion of Durga Puja (Lok Sabha reply, 9 March 2026)
- British Council, for the Department of Tourism, Government of West Bengal: Mapping the Creative Economy around Durga Puja 2019
- Incredible India (Ministry of Tourism): Durga Puja, an incomparable celebration of devotion and art
- Abhijna e-Museum, Sudipta Garai (JNU): Origin and Evolution of Durga Puja in Bengal
- Live History India, Amitabha Gupta: Guptipara, Birthplace of the People's Durga Puja (22 October 2020)
- Sahapedia, Aaheli Sen: Kolkata's Potters' Colony, Kumortuli
- People's Archive of Rural India, Sinchita Parbat: Journey through Kumartuli (12 September 2016)
- Outlook Traveller, Sharmistha Chaudhuri: Durga Puja decoded, all you need to know (updated 26 September 2017)
- Newslaundry, Deepanjana Pal: Mahalaya and AIR, keeping it together for generations of Bengalis (30 September 2016)
- WION, Shomini Sen: Mahalaya, how a 1931 All India Radio programme became a tradition for Bengalis (1 October 2024)
- The Week (PTI): West Bengal government hikes grant for Durga Puja committees to Rs 1.10 lakh (31 July 2025)
- Outlook India: West Bengal Durga Puja changes, aid of Rs 1 lakh and new rules (8 September 2026)
পর্দায় ও বইয়ে
- Durga Puja in Kolkata (2011) , পরিচালনায় Meghdut Rudra and Ramprashad Gain , English . ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের জন্য তৈরি নয় মিনিটের একটি তথ্যচিত্র, যা ইউনেস্কোর অডিওভিজ্যুয়াল সংগ্রহশালায় রাখা আছে
এই তালিকা তাঁদের জন্য যাঁরা পর্দায় দেখা গল্পের পিছনের ইতিহাস খুঁজছেন। কোনো নাট্যরূপ সূত্র নয়, এবং এই কাজগুলির কোনোটির সঙ্গে tuput যুক্ত নয়।
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।