Skip to content
১৯৯২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর ২৩৯AA অনুচ্ছেদ দিল্লিকে দিয়েছে ৭০ আসনের সরাসরি নির্বাচিত বিধানসভা, আর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ২০২৩ সালের ১১ আগস্টের একটি আইন নির্বাচিত সরকার ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মধ্যে রেখা টেনেছে
ভারতের শাসন ও রাজ্য

১৯৯২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর ২৩৯AA অনুচ্ছেদ দিল্লিকে দিয়েছে ৭০ আসনের সরাসরি নির্বাচিত বিধানসভা, আর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ২০২৩ সালের ১১ আগস্টের একটি আইন নির্বাচিত সরকার ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মধ্যে রেখা টেনেছে

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

দিল্লিই একমাত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার আইনসভা ও মন্ত্রিপরিষদ সংবিধান নিজেই বাধ্যতামূলক করেছে। নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান বেঞ্চ রায় দিয়েছে ২০১৮ সালের ৪ জুলাই আর ২০২৩ সালের ১১ মে, আর দ্বিতীয় রায়ের জবাবে সংসদ এনেছে এমন একটি আইন, যা কার্যকর হয়েছে ২০২৩ সালের ১৯ মে থেকে।

· · 9 মিনিটের পাঠ

দিল্লিই একমাত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার নির্বাচিত বিধানসভা ও মন্ত্রিপরিষদ সংবিধান নিজেই বাধ্যতামূলক করেছে, একথা সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চ বলেছিল ২০২৩ সালের ১১ মে। সেই বাধ্যবাধকতা ২৩৯AA অনুচ্ছেদ, কার্যকর ১৯৯২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলো ভারতের এমন অংশ, যা রাজ্য সরকারের বদলে কেন্দ্র চালায়, আর ২৩৯ অনুচ্ছেদ বলে, সংসদ অন্যভাবে ব্যবস্থা না করলে রাষ্ট্রপতি প্রতিটিকে একজন প্রশাসকের মাধ্যমে শাসন করেন, ভারতের রাজ্যসংঘ-র মধ্যে। দিল্লিতে সেই প্রশাসক লেফটেন্যান্ট গভর্নর, আর তাঁর ক্ষমতা ও নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতার মধ্যে রেখাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে ২০১৮, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে।

নিচে প্রতিটি পক্ষের যুক্তি এসেছে রায়গুলো, ২০২৩ সালের সংসদীয় আইন আর তার উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতি থেকে।

২৩৯AA অনুচ্ছেদ দিল্লিকে কী দেয়, আর কী কেন্দ্রের হাতে রাখে

আইন বিভাগের সংবিধান সংস্করণ অনুযায়ী, ৬৯তম সংশোধনী ২৩৯AA ও ২৩৯AB অনুচ্ছেদ বসিয়েছিল ১৯৯২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করে। (১) ক্লজ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির নাম দিয়েছে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লি আর তার প্রশাসককে নির্ধারণ করেছে লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে। (২) ক্লজ একটি বিধানসভার ব্যবস্থা করে, যার সদস্যরা সরাসরি নির্বাচনে বাছাই হন, আসনসংখ্যা সংসদ আইন করে ঠিক করে। আজ তাতে ৭০টি আসন, তার ১২টি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত, আর নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারির চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার ছিলেন ১,৫৫,৩৭,৬৩৪ জন, প্রায় ১.৫৫ কোটি। দিল্লি লোকসভায় পাঠায় সাতজন আর রাজ্যসভায় তিনজন সদস্য, আর ৫৪ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তার নির্বাচিত বিধানসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন।

দিল্লির বিধানসভা রাজ্য তালিকা ও যুগ্ম তালিকার বিষয়ে আইন করতে পারে, তিনটি বিষয় বাদে: ১ নম্বর এন্ট্রি (জনশৃঙ্খলা), ২ নম্বর এন্ট্রি (পুলিশ) আর ১৮ নম্বর এন্ট্রি (জমি), সঙ্গে ৬৪ থেকে ৬৬ নম্বর এন্ট্রি (অপরাধ, আদালত ও ফি), যতটা ওই তিনটির সঙ্গে সম্পর্কিত। সপ্তম তফসিল নিয়ে আমাদের লেখা তালিকাগুলো ব্যাখ্যা করে। অঞ্চলটির জন্য যেকোনো বিষয়ে আইন করার ক্ষমতা সংসদ রেখে দেয়। বিধানসভার আইন সংসদের আইনের সঙ্গে সংঘাতে গেলে সংসদের আইনই প্রাধান্য পায়, যদি না বিধানসভার আইন রাষ্ট্রপতির জন্য সংরক্ষিত হয়ে তাঁর সম্মতি পায়, আর তখনও সংসদ পরে একই বিষয়ে আইন করতে পারে ((৩) ক্লজ)।

(৪) ক্লজ নির্বাহী বিভাগ নিয়ে। বিধানসভার সদস্যসংখ্যার দশ শতাংশের বেশি নয় এমন একটি মন্ত্রিপরিষদ, অর্থাৎ ৭০-এর মধ্যে সাত, যার মাথায় মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভা যে বিষয়ে আইন করতে পারে তাতে লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে সহায়তা ও পরামর্শ দেয়, “কোনো আইনের দ্বারা বা অধীনে তাঁকে নিজের বিবেচনায় কাজ করতে বাধ্য করা হলে তা ছাড়া”। (৫) ও (৬) ক্লজের অধীনে রাষ্ট্রপতি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন, আর মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্য মন্ত্রীদের, এবং পরিষদ বিধানসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ।

লেফটেন্যান্ট গভর্নর ও মন্ত্রীরা কোনো বিষয়ে ভিন্নমত হলে তিনি তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান আর রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করেন। কোনো বিষয় জরুরি মনে করলে তিনি পাঠানো অবস্থায়ও তৎক্ষণাৎ কাজ করতে পারেন। ২৩৯AB অনুচ্ছেদ যোগ করে, রাষ্ট্রপতি ২৩৯AA অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিত করতে পারেন যদি তার অধীনে অঞ্চলটির প্রশাসন চালানো না যায়, বা স্থগিতকরণ “প্রয়োজনীয় বা সমীচীন” হয়; রাজ্যের ক্ষেত্রে এর সমতুল্য ৩৫৬ অনুচ্ছেদ।

দিল্লিতে নির্বাচিত সরকার কীভাবে এল

২০২৩ সালের রায় অনুযায়ী, দিল্লি ছিল একটি পার্ট সি রাজ্য, গভর্নমেন্ট অব পার্ট সি স্টেটস অ্যাক্ট ১৯৫১-এর অধীনে, আইনসভা ও মন্ত্রিপরিষদসহ। সংবিধান (সপ্তম সংশোধনী) আইন ১৯৫৬ পার্ট সি-র সমাপ্তি ঘটায় আর রাষ্ট্রপতির প্রশাসকদের মাধ্যমে চালানো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করে। ২০১৮ সালের রায় যেমন নথিভুক্ত করেছে, ১৯৬৬ সালে দিল্লি প্রশাসন আইন ৫৬ জন নির্বাচিত সদস্যের একটি মেট্রোপলিটন কাউন্সিল তৈরি করে, সঙ্গে কেন্দ্রের মনোনীত পাঁচজন, বিষয় আলোচনা ও সুপারিশের অধিকারসহ।

কেন্দ্র বালাকৃষ্ণন কমিটি গঠন করে ১৯৮৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর। কমিটি সুপারিশ করেছিল, দিল্লি বিধানসভা ও তার কাছে দায়বদ্ধ মন্ত্রিপরিষদসহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই থাকুক, আর ব্যবস্থাটি সংবিধানে ঢুকুক রাজধানীকে “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে বিশেষ মর্যাদা” দিতে। ৬৯তম সংশোধনীর উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতি সেই সুপারিশগুলো নথিভুক্ত করেছে। আদালত ২০২৩ সালে লক্ষ করেছিল, পুদুচেরি নিয়ে ২৩৯A অনুচ্ছেদ বলে, সংসদ সেখানে আইনসভা “তৈরি করতে পারে”, আর ২৩৯AA অনুচ্ছেদ দিল্লির আইনসভা সংবিধানেই তৈরি করে।

২০১৮ সালের রায় কী মীমাংসা করেছিল

পাঁচ বিচারপতির একটি সংবিধান বেঞ্চ ২০১৮ সালের ৪ জুলাই জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লি সরকার বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (Government of NCT of Delhi v. Union of India) মামলায় তিনটি মত দেয়। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের লেখা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত, নিজের ও দুই সহকর্মীর হয়ে, দিল্লির মর্যাদাকে বলেছিল “সুই জেনেরিস, এক আলাদা শ্রেণি”। সেটি ধরেছিল, দিল্লিকে রাজ্য হিসেবে গণ্য করা যায় না, আর লেফটেন্যান্ট গভর্নর রাজ্যপাল নন কিন্তু “সীমিত অর্থে” প্রশাসকই থাকেন।

দুজন কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন, সে প্রসঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধরেছিল, লেফটেন্যান্ট গভর্নর মন্ত্রিপরিষদের সহায়তা ও পরামর্শে বাঁধা, যতক্ষণ না তিনি কোনো বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান, আর (৪) ক্লজের শর্তাংশের “যেকোনো বিষয়” শব্দ দুটিকে “প্রতিটি বিষয়” অর্থে অনুমান করা যায় না। মন্ত্রীদের তাঁকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে রাখতে হবে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ধরেছিল, তাঁর সম্মতি জরুরি নয়। বাদ দেওয়া তিনটি বিষয়ে নির্বাহী ক্ষমতা একান্ত কেন্দ্রের, আর বাকিগুলোয় পরিষদের।

রাজ্যপাল পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন, সংবিধান যেখানে বিবেচনার ক্ষমতা চায় সেখানে ছাড়া, যেমন রাজ্যপাল কী করেন নিয়ে আমাদের লেখা ব্যাখ্যা করে। লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বিবেচনার ক্ষমতা আসে যেখানেই “কোনো আইন” তা চায়, যে বিষয়টি আদালত ২০২৪ সালে আবার বলেছে।

সার্ভিসেস প্রশ্ন, ২০১৫ থেকে ২০২৩

“সার্ভিসেস” রাজ্য তালিকার ৪১ নম্বর এন্ট্রি, “রাজ্য সরকারি চাকরি; রাজ্য সরকারি কর্ম কমিশন”, আর এটাই ঠিক করে কে কর্মকর্তাদের পোস্টিং, বদলি ও শৃঙ্খলা দেখবে, আইএএস ও অন্য সর্বভারতীয় সেবার কর্মকর্তাসহ, যা সিভিল সার্ভিস নিয়ে আমাদের লেখা বর্ণনা করে। ২০১৫ সালের ২১ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তি নির্দেশ দিয়েছিল, জনশৃঙ্খলা, পুলিশ, জমি ও সার্ভিসেস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা লেফটেন্যান্ট গভর্নর প্রয়োগ করবেন, রাষ্ট্রপতির অর্পণ অনুযায়ী। তার যুক্তি ছিল, দিল্লির নিজস্ব কোনো রাজ্য সরকারি চাকরি নেই। দিল্লি হাইকোর্ট সেটি বহাল রাখে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট। দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ আপিলগুলো সংবিধান বেঞ্চে পাঠায় ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।

২০১৮ সালের রায়ের পরে দুজন বিচারপতি আপিলগুলোর নিষ্পত্তি করেন ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, আর সার্ভিসেস বিধানসভা ও সরকারের এখতিয়ারের বাইরে পড়ে কি না, সে নিয়ে তাঁরা ভিন্নমত দেন। ২০২১ সালের মার্চে সংসদ ১৯৯১ সালের আইন সংশোধন করে, যাতে বিধানসভার যেকোনো আইনে “সরকার” মানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর, পিআরএস নথিভুক্ত করেছে। তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ সেই একটিমাত্র প্রশ্ন বড় বেঞ্চে পাঠায় ২০২২ সালের ৬ মে, আর পাঁচ বিচারপতি তা নিষ্পত্তি করেন ২০২৩ সালের ১১ মে।

রায়ে যেমন নথিভুক্ত, কেন্দ্রের যুক্তি ছিল দুই অংশের। প্রথমত, ৪১ নম্বর এন্ট্রি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রযোজ্য হতে পারে না, কারণ তার রাজ্য সরকারি চাকরি বা রাজ্য সরকারি কর্ম কমিশন থাকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, জাতীয় রাজধানী হিসেবে দিল্লির অবস্থান মানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রকে সার্ভিসেস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিল্লির পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, নামোল্লেখিত তিনটি ছাড়া রাজ্য তালিকার প্রতিটি এন্ট্রিতে বিধানসভা আইন করতে পারে, “যতটা এমন বিষয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য” শব্দগুচ্ছ এন্ট্রিগুলোকে বন্ধ করে না, খুলে দেয়, আর সংবিধানের চতুর্দশ ভাগ, যা সার্ভিসেস নিয়ন্ত্রণ করে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও প্রসারিত।

পাঁচ বিচারপতি একটি রায়ে সই করেন। সেটি ধরেছিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কোনো অভিন্ন শ্রেণি নেই আর দিল্লি সুই জেনেরিস, বাদ-পড়া এন্ট্রিগুলো ছাড়া বিধানসভার ক্ষমতা রাজ্য ও যুগ্ম তালিকা জুড়ে, আর নির্বাহী ক্ষমতা আইনি ক্ষমতার সমব্যাপ্ত। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট ১৮৯৭-এর “রাজ্য”-র সংজ্ঞা সংবিধানের চতুর্দশ ভাগে প্রযোজ্য হওয়ায় সার্ভিসেস নিয়ে চতুর্দশ ভাগ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৌঁছায়, আর ৪১ নম্বর এন্ট্রিতে দিল্লির আইনি ও নির্বাহী ক্ষমতা আছে। সেই ক্ষমতা জনশৃঙ্খলা, পুলিশ বা জমির সঙ্গে যুক্ত সার্ভিসেস পর্যন্ত যায় না। সার্ভিসেস নিয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর দিল্লি সরকারের সিদ্ধান্তে বাঁধা, আর সর্বভারতীয় সেবা ও যৌথ ক্যাডার বিধিতে “রাজ্য সরকার” মানে দিল্লি সরকার।

সংসদের নাগাল অটুট থাকে। রায় ধরেছিল, দিল্লির জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালিকার প্রতিটি এন্ট্রিতে সংসদের এখতিয়ার আছে, আর দিল্লি সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা সংবিধান বা সংসদের কোনো আইন কেন্দ্রকে যে নির্বাহী ক্ষমতা দেয় তার অধীন। আদালতের ভাষায়, “জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লির প্রশাসনে ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার জড়িত থাকা সাংবিধানিক বিধানে সীমিত”।

২০২৩ সালের আইন কী করে

আট দিন পরে, ২০২৩ সালের ১৯ মে, রাষ্ট্রপতি ১২৩ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। ২০২৩ সালের ২০ জুলাইয়ের আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তার ৩A ধারা বিধানসভার এখতিয়ার থেকে ৪১ নম্বর এন্ট্রি সরিয়ে দেয়। সংসদ অধ্যাদেশের জায়গায় আনে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লি সরকার (সংশোধনী) আইন, ২০২৩। পিআরএস লেজিসলেটিভ রিসার্চ অনুযায়ী, বিলটি লোকসভায় উত্থাপিত হয় ১ আগস্ট, সেখানে পাস হয় ৩ আগস্ট আর রাজ্যসভায় ৭ আগস্ট। সম্মতি আসে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট, ২০২৩ সালের ১৯ নম্বর আইন হিসেবে, আর আইনটি ১৯ মে ২০২৩ থেকে কার্যকর ধরা হয়। পাস হওয়া আইনে ৩A ধারা নেই, আর পিআরএস-এর তুলনামূলক সারণি দিল্লির সার্ভিসেস নিয়ে এখতিয়ার সরানোকে অধ্যাদেশের এমন একটি বিধান হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, যা বিল বাদ দিয়েছে।

১৯৯১ সালের আইনে বসানো IV-A ভাগ একটি জাতীয় রাজধানী অসামরিক সেবা কর্তৃপক্ষ গড়ে, যার চেয়ারপার্সন মুখ্যমন্ত্রী আর সদস্য মুখ্য সচিব ও প্রধান স্বরাষ্ট্র সচিব। কর্তৃপক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত নেয়, কোরাম দুজন। আইন মুখ্য সচিবকে সংজ্ঞায়িত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার যাঁকে নিয়োগ করে সেই কর্মকর্তা হিসেবে, আর পিআরএস লক্ষ করেছে, কেন্দ্র দুই সচিবকেই নিয়োগ করে। কর্তৃপক্ষ লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে সুপারিশ করে ভারতীয় পুলিশ সেবা ছাড়া সর্বভারতীয় সেবার গ্রুপ এ কর্মকর্তাদের বদলি, পোস্টিং, ভিজিল্যান্স ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে, এবং ড্যানিকস (DANICS)-এর কর্মকর্তাদের জন্য, যা দিল্লি ও আরও কয়েকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অভিন্ন একটি সিভিল সার্ভিস। জনশৃঙ্খলা, পুলিশ বা জমিতে কর্মরত কর্মকর্তারা তার এখতিয়ারের বাইরে।

লেফটেন্যান্ট গভর্নর উপকরণ চাইতে পারেন আর, লিখিতভাবে কারণ নথিভুক্ত করে, একটি সুপারিশ পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন; “মতভেদ হলে”, আইন বলছে, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ৪১ ধারা এখন বলে “একান্ত বিবেচনা”, আর আইন কিছু বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দিল্লি সরকারের সম্পর্কসহ, তালিকাভুক্ত করেছে, যা আদেশ জারির আগে মন্ত্রীদের তাঁর মতামতের জন্য জমা দিতে হয়।

কেন্দ্র তার যুক্তি দিয়েছিল বিলের উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতিতে। রাজধানীতে আছেন রাষ্ট্রপতি, সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট ও বিদেশি মিশনগুলো, বিবৃতি বলছে, আর “জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লির শাসনে গোটা জাতির গভীর আগ্রহ আছে”। “স্থানীয় ও জাতীয় উভয় স্বার্থের ভারসাম্য” রাখতে একটি সংসদীয় পরিকল্পনা দরকার ছিল, আর বিবৃতিতে উল্লেখ আছে ২৩৯AA(৩)(b) ও (৭) ক্লজের, যার অধীনে সংসদ অনুচ্ছেদটি কার্যকর করতে বা তার পরিপূরক আইন করতে পারে।

দিল্লি সরকারের আপত্তি, আদালত ২০২৩ সালের জুলাইয়ে যেমন নথিভুক্ত করেছে, ছিল এই যে অধ্যাদেশ কার্যত ২৩৯AA(৩)(a) সংশোধন করেছে, নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে প্রতিদিনের প্রশাসন কেড়ে নিয়েছে, আর (৭)(b) ক্লজ সংসদকে ২৩৯AA অনুচ্ছেদের শাসনপরিকল্পনা বিলোপ করার কোনো বিস্তৃত ক্ষমতা দেয় না। স্বাধীন সংস্থা পিআরএস লেজিসলেটিভ রিসার্চ লিখেছিল, কর্তৃপক্ষের দুই কেন্দ্রীয় নিযুক্ত সদস্য মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে হারাতে পারেন এবং এতে হয়তো ভাঙতে পারে ২০২৩ সালের রায়ে বর্ণিত “জবাবদিহির ত্রিস্তর শৃঙ্খল”: কর্মকর্তারা মন্ত্রীদের কাছে, মন্ত্রীরা আইনসভার কাছে, আইনসভা ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ।

২০২৩ সালের আগস্টের পরে নথি কী দেখায়

তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ ২০২৩ সালের ২০ জুলাই অধ্যাদেশে স্থগিতাদেশের দিল্লি সরকারের আবেদন খারিজ করে। বেঞ্চ লক্ষ করেছিল, সার্ভিসেসের উপর কেন্দ্রের নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার সংসদের ক্ষমতা বিতর্কিত ছিল না, আর বাকি ছিল ক্ষমতার এই প্রয়োগ বৈধ কি না। সেটি দুটি প্রশ্ন সংবিধান বেঞ্চে পাঠায়: ২৩৯AA(৭) অনুচ্ছেদে সংসদের ক্ষমতার রূপরেখা, আর সেই ক্ষমতা দিল্লির জন্য নির্ধারিত শাসননীতিগুলো বাতিল করতে পারে কি না। লাইভ ল রিপোর্ট করেছিল, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই দিল্লি সরকার দ্রুত শুনানি চেয়েছে, বলেছে আইনটি মাঠপর্যায়ে সমস্যা তৈরি করছে।

লেফটেন্যান্ট গভর্নর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর ৩০ জনের বেশি আইএএস কর্মকর্তার বদলি ও পোস্টিংয়ের আদেশ দেন, যা, প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, সার্কুলেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের একটি সভার পরে ঘটে।

আদালত একটি আলাদা প্রশ্নে রায় দেয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। লেফটেন্যান্ট গভর্নর ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি দিল্লি পুর নিগম আইন ১৯৫৭-এর ৩(৩)(b)(i) ধারার অধীনে মন্ত্রীদের পরামর্শ ছাড়া দিল্লি পুর নিগমে দশজন সদস্য মনোনীত করেছিলেন। দিল্লি সরকারের আবেদন খারিজ করে আদালত ধরেছিল, এটি সংসদের একটি আইনে তাঁকে দেওয়া সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব, তাই এটি (৪) ক্লজের সেই ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে যেখানে “কোনো আইন” তাঁকে নিজের বিবেচনায় কাজ করতে বলে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৩ মে দিল্লি সরকারকে সাতটি আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়, ২০২৩ সালের আইনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জসহ। দিল্লি সরকারের হয়ে হাজির অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল আদালতকে জানিয়েছিলেন, নতুন গঠিত সরকার সেগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যোগ করে বলেছিলেন, “এই বিষয়গুলো আর এই আদালতকে বিব্রত করা উচিত নয়”, লাইভ ল রিপোর্ট করেছিল। যে আবেদনটি দুটি পাঠানো প্রশ্ন বহন করছিল, সেটি দুটির কোনোটির উত্তর ছাড়াই শেষ হয়।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. The Constitution of India, Government of India pocket edition as on May 2022, incorporating amendments up to the 105th (Legislative Department)
  2. Supreme Court of India, Government of NCT of Delhi versus Union of India, Civil Appeal No. 2357 of 2017, Constitution Bench judgment of 4 July 2018
  3. Supreme Court of India, Government of NCT of Delhi versus Union of India, two-judge bench judgments of 14 February 2019
  4. Supreme Court of India, Government of NCT of Delhi versus Union of India, Constitution Bench judgment of 11 May 2023 on services
  5. Supreme Court of India, Government of NCT of Delhi versus Union of India, Writ Petition (Civil) No. 678 of 2023, order of 20 July 2023 referring the challenge to the 2023 Ordinance to a Constitution Bench (2023 INSC 635)
  6. Supreme Court of India, Government of NCT of Delhi versus Office of Lieutenant Governor of Delhi, Writ Petition (Civil) No. 348 of 2023, judgment of 5 August 2024 (2024 INSC 578)
  7. Government of National Capital Territory of Delhi (Amendment) Act, 2023 (No. 19 of 2023), Gazette of India Extraordinary, 11 August 2023 (copy hosted by PRS Legislative Research)
  8. Government of National Capital Territory of Delhi (Amendment) Bill, 2023, text with Statement of Objects and Reasons (copy hosted by PRS Legislative Research)
  9. PRS Legislative Research: The Government of National Capital Territory of Delhi (Amendment) Bill, 2023, summary, passage dates and analysis
  10. PRS Legislative Research: The Government of National Capital Territory of Delhi (Amendment) Bill, 2021
  11. Press Information Bureau, Election Commission of India, 7 January 2025: General Election to Legislative Assembly of NCT of Delhi, 2025
  12. Press Information Bureau, Election Commission of India, 16 March 2024: schedule for General Elections 2024, table of parliamentary constituencies by State and Union Territory
  13. LiveLaw, 9 July 2024: Delhi Government requests the Supreme Court to hear its challenge to the 2023 Act urgently
  14. Press Trust of India via The Week, 17 October 2024: Delhi LG orders transfer and posting of over 30 IAS officers
  15. LiveLaw, 24 May 2025: Supreme Court allows Delhi Government to withdraw petitions, including the challenge to the Services Act
  16. All India Radio News, 23 May 2025: Supreme Court allows Delhi government to withdraw 7 cases against Centre, LG

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#article 239aa#delhi government#lieutenant governor#union territories#services judgment 2023#gnctd act#69th amendment#centre-state relations

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ভারতের শাসন ও রাজ্য
ভারতের আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট লোকসভা আসন ১৯টি, নিজের বিধানসভা বেছে নেয় মাত্র তিনটি, আর প্রতিটি চলে ২৩৯, ২৩৯A, ২৩৯AA ও ২৪০ অনুচ্ছেদের নিজস্ব মিশ্রণে
দিল্লি, পুদুচেরি, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, চণ্ডীগড়, আন্দামান ও নিকোবর, লাক্ষাদ্বীপ এবং দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ কে চালায় আর কোন আইনে, অঞ্চল ধরে ধরে তার তুলনা।
ভারতের জিএসটিতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আদায় হয়েছে ২.০৪ লক্ষ কোটি টাকা, আর তা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ভাগ হয় এমন এক কাউন্সিলের অধীনে, যেখানে রাজ্যগুলোর হাতে ভোটের দুই-তৃতীয়াংশ
একটি কর, তিনটি নাম, আর এমন এক কাউন্সিল যেখানে কেন্দ্র বা রাজ্য কেউই একা হার পাস করতে পারে না। সংবিধানের পাঠ, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের টাকার অঙ্ক, শেষ হয়ে যাওয়া ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি, আর ষোড়শ অর্থ কমিশনকে প্রতিটি পক্ষ কী বলেছিল।
ভারত কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইন প্রণয়ন ভাগ করেছে সপ্তম তফসিলের ৯৮, ৫৯ ও ৫২টি বিষয়ের তিনটি তালিকায়, আর তিন তালিকার কোনোটিতেই না থাকা সবকিছু সংসদের
রেলওয়ে, পুলিশ আর স্কুল প্রত্যেকে আলাদা তালিকায়। তিন তালিকায় কী আছে, সংঘাত হলে কোন আইন জেতে, সংসদ যে চার পথে রাজ্যের বিষয়ে পা রাখতে পারে, আর সরকারিয়া ও পুঞ্ছি কমিশন কী পরামর্শ দিয়েছিল, এখানে তা আছে।
← সব লেখা