অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, ফরাসি তৈরি বিমানটি ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর দেশীয় রণতরীতে নেমেছে এবং স্কি-জাম্প থেকে আবার উড়েছে। আগে গোয়ায় ডাঙার পরীক্ষা হয়েছে, আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বলছে ২০২৫ সালের এপ্রিলে অর্ডার করা ২৬টি বিমানের সবই ২০৩০ সালের মধ্যে সরবরাহ হবে।
ভারতের প্রথম দেশে তৈরি বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তে বৃহস্পতিবার ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর প্রথম চেষ্টাতেই একটি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান নেমেছে এবং পরে জাহাজ থেকে আবার উড়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পরদিন এক্স-এ খবরটি জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের পোস্টে বলা হয়েছে: “চলমান পরীক্ষাগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীতে বিমানটিকে কর্মক্ষম করার প্রথম ধাপগুলো চিহ্নিত করছে।”
বিমানটি ফরাসি রাফালের রণতরী সংস্করণ, যে ধরনের ২৬টির অর্ডার নৌবাহিনী দিয়েছে। এটি তৈরি হয়েছে ক্যাটাপল্ট দিয়ে বিমান উড়ানো জাহাজের জন্য, বিক্রান্তে সেটি নেই, তাই নৌবাহিনী পরীক্ষা করছে বিমানটি জাহাজের স্কি-জাম্প আর অ্যারেস্টার তারের সঙ্গে কেমন মানিয়ে নেয়।
নৌবাহিনী কী ঘটেছে বলেছে
নৌবাহিনীর পোস্টে দুটি তথ্য আছে: ২৯ অক্টোবর একটি রাফাল মেরিন “প্রথম চেষ্টায়” জাহাজে নেমেছে, আর পরীক্ষা চলছে। বিমানচালনা-বিষয়ক সাইট দ্য অ্যাভিয়েশনিস্ট এবং নৌ-জাহাজ নিয়ে লেখা বেয়ার্ড মেরিটাইম যোগ করেছে যে অবতরণটি ছিল তার-ধরা অবতরণ: বিমানের টেইলহুক ডেকের ওপর আড়াআড়ি টানা ইস্পাতের একটি তার ধরেছে। দুটিই জানিয়েছে, এরপর বিমানটি রণতরীর স্কি-জাম্প র্যাম্প থেকে উড়েছে।
দ্য অ্যাভিয়েশনিস্ট বলছে, বিমানটি সম্ভবত ডাসল্টের একজন টেস্ট পাইলট চালিয়েছেন। নৌবাহিনীর পোস্টে পাইলটের নাম নেই। অ্যারোস্পেস গ্লোবাল নিউজ ও দ্য অ্যাভিয়েশনিস্ট দুটিই জানিয়েছে, নৌবাহিনী অবতরণের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
স্কি-জাম্প ডেকে কেন আলাদা পরীক্ষা
সরকারের সংবাদ সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) ২০২২ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিক্রান্তের কমিশনের সময় জাহাজটিকে বর্ণনা করেছিল শর্ট টেক অফ বাট অ্যারেস্টেড রিকভারি, সংক্ষেপে স্টোবার, পদ্ধতিতে চলা হিসেবে। জাহাজের সামনে একটি স্কি-জাম্প র্যাম্প বিমানকে উড়িয়ে দেয়, আর ডেকের অ্যারেস্টার তার অবতরণের সময় সেগুলোকে থামায়। পিআইবির মতে, এর এয়ার উইংয়ে মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমানসহ ৩০টি পর্যন্ত বিমান থাকতে পারে। জাহাজটির নিজের কাহিনি আইএনএস বিক্রান্ত নিয়ে আমাদের নিবন্ধে বলা আছে।
আউটলুক ও বেয়ার্ড মেরিটাইমের মতে, রাফাল মেরিন তৈরি হয়েছিল ফ্রান্সের পারমাণবিক-চালিত রণতরী শার্ল দ্য গলের জন্য, যেখানে ক্যাটাপল্ট বিমানকে সামনে ছুড়ে দেয় আর ফেরার সময় তার সেটিকে ধরে। তারগুলো বিমানটির পরিচিত। র্যাম্পটাই নতুন, তাই নৌবাহিনী আগে ডাঙায় সেটি পরীক্ষা করেছে।
সেই ডাঙার পরীক্ষা গোয়ার আইএনএস হংসে, যেখানে একটি শোর-বেসড টেস্ট ফ্যাসিলিটি রণতরীর স্কি-জাম্প ও অ্যারেস্টার তার তৈরি করে দেয়, রক্ষা অনির্বেদ যেভাবে বর্ণনা করেছে। মেরিন ইনসাইটের মতে, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা রণতরীতে অবতরণের কয়েক দিন আগে সেখানে পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করেছেন, আর দ্য অ্যাভিয়েশনিস্ট গোয়ায় বিমানটির প্রথম ছবির তারিখ বলেছে ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর।
এই ধরনের বিমানের জন্য এটি গোয়ার দ্বিতীয় অভিযান। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে একটি রাফাল মেরিন আইএনএস হংসে ২৮৩ মিটারের নকল স্কি-জাম্প ব্যবহার করে ১২ দিন পরীক্ষা করা হয়েছিল, ফরাসি রাষ্ট্রদূত ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী। তিনি বলেছিলেন উড়ানের পরীক্ষাগুলো খুব ভালো হয়েছে। একই প্রতিবেদন বলছে, বোয়িংয়ের এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেটও একই রকম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে বলে আশা করা হয়েছিল।
বিক্রান্তে স্থির-ডানার জেট নামছে ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে, যেদিন একটি মিগ-২৯কে আর হালকা যুদ্ধবিমান (এলসিএ)-এর নৌ সংস্করণ প্রথম অবতরণ করেছিল, দ্য অ্যাভিয়েশনিস্ট ও ইন্ডিয়া সেন্টিনেলস দুটিই জানিয়েছে। মিগ-২৯কে ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতের অবতরণ যোগ করেছিল। ইন্ডিয়া সেন্টিনেলস রাফাল মেরিনকে জাহাজটিতে নামা তৃতীয় স্থির-ডানার ধরন হিসেবে গুনেছে।
ট্রায়ালের পেছনের অর্ডার
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কেনাকাটার সংস্থা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই ২৬টি রাফাল মেরিন বিমানের জন্য অ্যাক্সেপ্টেন্স অব নেসেসিটি দিয়েছে। এটি নীতিগত অনুমোদন, আর পিআইবির বিবৃতি বলছে দাম ও শর্ত ফরাসি সরকারের সঙ্গে তখনও আলোচনার বাকি ছিল।
২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল দুই সরকার একটি আন্তঃসরকার চুক্তি সই করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীমন্ত্রী তাতে সই করেছেন, আর নতুন দিল্লির নৌসেনা ভবনে কাগজপত্র বিনিময় হয়েছে, পিআইবি জানিয়েছে। চুক্তিটি ২৬টি বিমানের জন্য, ২২টি একক-আসনের ও চারটি দুই-আসনের, সঙ্গে প্রশিক্ষণ, একটি সিমুলেটর, আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, অস্ত্র ও কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক সহায়তা সরবরাহ। এতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিদ্যমান রাফাল বহরের জন্য বাড়তি সরঞ্জামও আছে।
পিআইবির ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিলের ব্যাখ্যায় মূল্য প্রায় ₹৬৩,০০০ কোটি (₹৬৩০ বিলিয়ন)। দ্য ট্রিবিউন দিয়েছে ₹৬৪,০০০ কোটি। বেয়ার্ড মেরিটাইম চারটি দুই-আসনের বিমানকে ডাঙাভিত্তিক প্রশিক্ষণ বিমান বলে বর্ণনা করেছে। বৃহত্তর সম্পর্কটি ভারত ও ফ্রান্স নিয়ে আমাদের লেখায় আছে।
ভারতে কী তৈরি হবে আর থাকবে
পিআইবির বিবৃতি বলছে, চুক্তিতে আছে বিমানে দেশীয় অস্ত্র সংযোজনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে রাফালের ফিউজেলাজ তৈরির একটি উৎপাদন কেন্দ্র, এবং বিমানের ইঞ্জিন, সেন্সর ও অস্ত্রের জন্য ভারতে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের সুবিধা। মন্ত্রক আশা করছে চুক্তিটি হাজার হাজার কর্মসংস্থান এবং বহু অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য আয় তৈরি করবে।
নৌবাহিনীর বিমানের সঙ্গে বিমানবাহিনীর বিমানের মিলও অনেক। পিআইবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভারত ২০১৬ সালের চুক্তিতে বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬টি রাফাল কিনেছে, আর প্রথম পাঁচটি এসেছে ২০২০ সালের জুলাইয়ে। বিবৃতি বলছে, একই ধরনের বিমান দুই বাহিনীর যৌথ অভিযান-সক্ষমতা উন্নত করবে এবং প্রশিক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সর্বোত্তম করবে।
বিমানটি ডেকে কী যোগ করে
পিআইবির ব্যাখ্যা রাফাল মেরিনের কাজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আকাশ প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক আঘাত, নজরদারি ও তীরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত। এতে সর্বোচ্চ গতি মাখ ১.৮ আর সার্ভিস সিলিং ৫০,০০০ ফুট। সেন্সর হলো থ্যালেস আরবিই২ এইএসএ রাডার (যার অ্যান্টেনা নড়ে না, বৈদ্যুতিকভাবে দিক ঠিক হয়) আর স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা। তালিকাভুক্ত অস্ত্রের মধ্যে আছে মিকা ও মেটিওর আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, স্ক্যাল্প-ইজি স্থল-আঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক্সোসেট এএম৩৯ জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
বিমানগুলো নৌবাহিনীর দুটি রণতরী, আইএনএস বিক্রান্ত ও আইএনএস বিক্রমাদিত্য, দুটি থেকেই উড়বে বলে ধরা হয়েছে। নৌবাহিনীর বর্তমান রণতরী-যুদ্ধবিমান রুশ-তৈরি মিগ-২৯কে, আর রক্ষা অনির্বেদ বলছে রাফাল মেরিন এয়ার উইংয়ে সেটির সঙ্গে যোগ দেবে। পিআইবির ব্যাখ্যা রাফাল মেরিনকে বলেছে ভারতের নিজস্ব টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার তৈরি না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী সমাধান।
পরীক্ষাগুলোকে এখনও কী মীমাংসা করতে হবে
পিআইবির ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিলের বিবৃতি বলছে, বিমান সরবরাহ ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে, ক্রুদের প্রশিক্ষণ হবে ফ্রান্স ও ভারতে। এতে শুরুর কোনো তারিখ নেই। দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে সরবরাহ শুরু হবে ২০২৮ সালে, আর মেরিন ইনসাইট, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সূত্রে, এবং অ্যারোস্পেস গ্লোবাল নিউজ শুরুর সময় বলেছে ২০২৮ সালের শেষ বা ২০২৯ সালের শুরু। পরীক্ষাগুলো সেই সরবরাহ থেকে আলাদা।
নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আউটলুক ও বেয়ার্ড মেরিটাইমের মাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মাপের সমস্যা হ্যাঙ্গারের দিকে। রাফাল মেরিনের ডানা ভাঁজ হয় না, আর এর ১০.৯ মিটার ডানার বিস্তার বিক্রান্তের বিমান-লিফটের চেয়ে চওড়া, যেগুলো প্রায় ১০ মিটার চওড়া এবং ভাঁজ-হওয়া-ডানার মিগ-২৯কে-কে ঘিরে তৈরি। ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাফাল এম-এর ডানার বিস্তার বলেছে ১০.৮ মিটার। পত্রিকাটির মতে, লিফটগুলো বদলানো হবে, ডেক বদলের সময় ডানার ডগার পাইলন খুলে ফেলা হতে পারে, এবং জাহাজে বিশেষ সরঞ্জাম বসানো হচ্ছে।
রক্ষা অনির্বেদ লিখেছে, সফল অবতরণ নিজে থেকে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র বা সমুদ্রে টানা অভিযানের প্রশ্ন মেটায় না। সূত্রগুলো যে একমাত্র পরীক্ষার ফলের কথা জানায় তা অবতরণ আর উড়ান। নৌবাহিনীর ৩০ অক্টোবরের পোস্ট পরীক্ষাগুলোকে চলমান বলেছে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Press Information Bureau, Ministry of Defence: Inter-Governmental Agreement inked with France for 26 Rafale-Marine aircraft for Indian Navy (28 April 2025)
- Press Information Bureau explainer: Rafale-Marine, Enhancing India's Naval Strength (29 April 2025)
- Press Information Bureau, Ministry of Defence: DAC approves proposals for procurement of 26 Rafale Marine aircraft from France (13 July 2023)
- Press Information Bureau, Ministry of Defence: Prime Minister commissions India's first indigenous aircraft carrier INS Vikrant in Kochi (2 September 2022)
- The Tribune: Watch, Rafale Marine jet makes maiden landing on INS Vikrant (Ajay Banerjee, 30 October 2026), quoting the Indian Navy's post on X
- The Aviationist: Rafale M Conducts Trials Aboard Indian Navy's INS Vikrant Aircraft Carrier (31 October 2026)
- Baird Maritime: Rafale M integration begins on Indian Navy aircraft carrier Vikrant (2 November 2026), citing The New Indian Express
- Outlook India: Rafale-M Lands On INS Vikrant, How French Fighter Jet Will Boost Indian Navy (2 November 2026)
- Raksha Anirveda: Rafale-M Lands on INS Vikrant, Begins Carrier Trials (1 November 2026)
- India Sentinels: Indian Navy, Rafale Marine fighter makes maiden landing on INS Vikrant (30 October 2026)
- Aerospace Global News: Rafale Marine achieves first carrier landing aboard India's INS Vikrant (30 October 2026)
- India TV News: Rafale Marine jet successfully lands on INS Vikrant in first attempt (30 October 2026)
- Marine Insight: Indian Navy Begins Trials For Its First Rafale Marine Jets To Fly From INS Vikrant (October 2026), citing defence officials
- Business Standard (PTI): India successfully flight-tests marine version of Rafale for INS Vikrant (2 February 2022)
- French Ministry of the Armed Forces: Rafale M, technical data
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।