অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
ইউনেস্কো ২০০৩ সালে ভোপাল থেকে ৪৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে ভীমবেটকার শিলাশ্রয়গুলোকে মানদণ্ড (iii) আর (v) অনুযায়ী ১,৮৯৩ হেক্টরের একটি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ভি. এস. ওয়াকানকর স্থানটি চিহ্নিত করেন ১৯৫৭ সালে, আর ভারতের মনোনয়ন নথি শুধু ভীমবেটকা পাহাড়েই গোনে ২৪৩টি শিলাশ্রয়, তার ১৩৩টিতে চিত্র আছে। নথি বলছে চিত্রগুলোর কোনো সরাসরি তারিখ নেই, আর ধরন, ওপরে ওপরে বসা রঙের স্তর আর খননে পাওয়া রঙ-উপাদানের ভিত্তিতে সেগুলোকে মধ্যপ্রস্তর যুগ থেকে পরের দিকে বসানো হয়েছে।
ইউনেস্কো ২০০৩ সালে ভীমবেটকার শিলাশ্রয়গুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তুলেছিল। সংরক্ষিত এলাকা মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলায় বেলেপাথরের পাহাড়ের ১,৮৯৩ হেক্টর জুড়ে, আর ভারতের মনোনয়ন নথি শুধু ভীমবেটকা পাহাড়েই গোনে ২৪৩টি শিলাশ্রয়, তার ১৩৩টিতে চিত্র আছে। নথিতে সবচেয়ে কাছের গ্রাম ভিয়ানপুরা, ভোপাল থেকে ৪৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে।
ইউনেস্কোর নিজের বিবরণ সংক্ষিপ্ত। শিলাশ্রয়গুলো মধ্য ভারতীয় মালভূমির দক্ষিণ কিনারায় বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে, তুলনামূলক ঘন বনের ওপরে বিশাল বেলেপাথরের উঁচু অংশে। প্রাকৃতিক শিলাশ্রয়ের পাঁচটি গুচ্ছ আছে, আর ইউনেস্কো বলছে চিত্রগুলো মনে হয় মধ্যপ্রস্তর যুগ থেকে একেবারে ঐতিহাসিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। স্থানটির পাশের একুশটি গ্রাম এমন সব ঐতিহ্য ধরে রেখেছে, যা দেয়ালের ছবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলে। আমাদের মধ্যপ্রদেশ প্রোফাইল একে রাজ্যের অন্য দুটি বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল খাজুরাহো আর সাঁচির সঙ্গে তালিকাভুক্ত করেছে।
২০০৩ সালে ইউনেস্কো কী তালিকাভুক্ত করেছিল
বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি তার ২৭তম অধিবেশনে সাংস্কৃতিক মানদণ্ড (iii) আর (v) অনুযায়ী ভীমবেটকাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। মানদণ্ড (iii)-এ কমিটির ভাষা হলো, ভীমবেটকা মানুষ আর তাদের চারপাশের ভূমির দীর্ঘ মিথস্ক্রিয়া প্রতিফলিত করে, যা দেখা যায় ‘এর শিলাচিত্রের পরিমাণে ও গুণে’। মানদণ্ড (v)-এ তারা বলেছে, স্থানটি শিকার ও সংগ্রহভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যা দেখা যায় চিত্রগুলোতে আর সম্পত্তির কিনারার আদিবাসী গ্রামগুলোয় সেই ঐতিহ্যের টিকে-থাকা চিহ্নে।
ইউনেস্কোর তালিকার পাতা সম্পত্তিটিকে ১,৮৯৩ হেক্টর আর বাফার অঞ্চল ১০,২৮০ হেক্টর বলেছে। মনোনয়ন নথি মূল এলাকা দিয়েছে ১,৮৯২ হেক্টর, আর পরামর্শদাতা সংস্থা ইকোমসের মূল্যায়ন ১,৮৯৩ আর ১,৮৯২ দুটিই ব্যবহার করেছে। ইকোমসের মূল্যায়ন শিলাশ্রয়গুলোকে বর্ণনা করেছে শিলাচিত্রের সবচেয়ে ঘন পরিচিত সমাবেশগুলোর একটি হিসেবে।
শিলাশ্রয়ের গণনা কেন আলাদা
সূত্রগুলো আলাদা আলাদা জিনিস গোনে, তাই তাদের সংখ্যা বিনিময়যোগ্য নয়। ইউনেস্কো বলছে পাঁচটি গুচ্ছের কথা। ইকোমসের প্রতিবেদন সেই পাঁচ গুচ্ছে ৪০০টি চিত্রিত শিলাশ্রয়ের তালিকা দিয়েছে, বাফার অঞ্চলে আরও একটি বড় সমষ্টি সহ, আর লক্ষ করেছে যে মনোনয়ন নিজেই নথিভুক্ত করেছে ১৩৩টি চিত্রিত শিলাশ্রয়। মনোনয়ন নথি বলছে, ওয়াকানকরের জরিপ অঞ্চলে ৭০০-এর বেশি শিলাশ্রয় পেয়েছিল। ভীমবেটকা দলের ২৪৩টির মধ্যে ১৩৩টিতে চিত্র আছে, আর পাশের লাখা জুয়ার দলে দুটি পাহাড় জুড়ে ১৭৮টি শিলাশ্রয়।
পর্যটন মন্ত্রকের ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়ার পাতা দিয়েছে আরও একটি বিবরণ: সাতটি পাহাড় আর ১০ কিমি জুড়ে ছড়ানো ৭৫০-এর বেশি শিলাশ্রয়। ভোপালের গবেষক মীনাক্ষী দুবে-পাঠক মূল এলাকার পাঁচটি পাহাড়ের নাম দিয়েছেন বিনায়কা, ভোঁরাওয়ালি, ভীমবেটকা, লাখাজুয়ার পূর্ব আর লাখাজুয়ার পশ্চিম। তিনি লিখেছেন, কেবল ভীমবেটকা পাহাড়েই সহজে যাওয়া যায়, আর প্রতিদিন কুড়িটিরও কম চিত্রিত শিলাশ্রয় খোলা থাকে।
মনোনয়ন নথি বলছে, ভীমবেটকা নামটি ঐতিহ্যগতভাবে এসেছে ভীমবৈঠকা থেকে, অর্থাৎ মহাভারতের পাঁচ পাণ্ডবের একজন ভীমের আসন।
১৯৫৭ সালে ওয়াকানকরের চিহ্নিতকরণ, আর তার পরের খনন
ভারতের মনোনয়ন নথি আর ইকোমসের প্রতিবেদন দুটিই বলেছে, স্থান-সমষ্টিটি আবিষ্কার করেছিলেন ভি. এস. ওয়াকানকর ১৯৫৭ সালে। দুবে-পাঠক লিখেছেন, ওয়াকানকর বলতেন তিনি ট্রেন থেকে বেলেপাথরের গঠনগুলো লক্ষ করেছিলেন, নেমে অনুসন্ধান করেছিলেন আর ভীমবেটকা খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ১৯৮৮ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি শিলাশ্রয়গুলো নিয়ে পড়েছিলেন।
মনোনয়ন ১৯৭১ সালকে গোনে প্রথম পদ্ধতিগত অনুসন্ধানের সাল হিসেবে, যখন সাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে. ডি. বাজপেয়ী আর এস. কে. পাণ্ডে দুটি শিলাশ্রয় পড়েছিলেন। ১৯৭২ থেকে ওয়াকানকর কারি তালাই থেকে জাওরা পর্যন্ত অঞ্চলটি জরিপ করেন, সাতটি ভূসংস্থানিক এলাকায় ভাগ করে, গুচ্ছগুলোকে অক্ষর দিয়ে আর প্রতিটি শিলাশ্রয়কে নম্বর দিয়ে, যে ব্যবস্থা এখনও চলে বলে নথি জানায়। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ওয়াকানকর, ডেকান কলেজের ভি. এন. মিশ্র আর বাসেল জাদুঘরের সুসান হাস ভীমবেটকায় খনন করে অ্যাশুলীয় যুগের শেষ থেকে মধ্যপ্রস্তর যুগের শেষ পর্যন্ত প্রস্তর যুগের সংস্কৃতির একটানা পরম্পরা পেয়েছিলেন, সঙ্গে পেয়েছিলেন, মনোনয়নের ভাষায়, বিশ্বের প্রাচীনতম কিছু পাথরের মেঝে আর দেয়াল। সর্বেক্ষণের প্রাগৈতিহাস শাখার কে. ডি. ব্যানার্জি সেখানে খনন করেন ১৯৮১ ও ১৯৮২ সালে। সর্বেক্ষণ স্থানটির দায়িত্ব নেয় ১৯৯০ সালে, আর প্রাচীন স্মারক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও অবশেষ আইন, ১৯৫৮-এর অধীনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি আসে ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
চিত্রগুলো কী দেখায়
ইকোমস চিত্রগুলোকে বর্ণনা করেছে মূলত সাদা আর লাল বলে, আশপাশের বনের প্রাণিজগতের আর অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নথি। এর মধ্যে আছে বিলুপ্ত প্রাণী, গৃহপালিত পশু, গাড়ি ও রথ, নকশা, লিপি আর ঐতিহাসিক যুগের বৌদ্ধ প্রতীক, আর সাজ-পরা ঘোড়া ও হাতিতে চড়া পুরুষের শোভাযাত্রা এবং যুদ্ধের দৃশ্য। মাপ পাঁচ সেন্টিমিটার থেকে শুরু করে III C-6 শিলাশ্রয়ের ছাদে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া একটি প্রাণী পর্যন্ত, যা প্রায় পাঁচ মিটার লম্বা আর দুই মিটার চওড়া। কিছু শিলাশ্রয়ে রঙের পনেরোটি স্তর পর্যন্ত একটির ওপর আরেকটি আছে।
দুবে-পাঠক ১৯৮৪ সালে ওয়াই. মাথপালের করা গণনার সারসংক্ষেপ দিয়েছেন। তার মধ্যে ২,৩৩০টি মানুষের আকৃতি আর প্রায় ২৯টি প্রজাতির ১,৩৭৭টি প্রাণীর ছবি, যার মধ্যে ১৫টি বাঘ, ৮৮টি বুনো মহিষ আর ১১৩টি চিতল (ছিটেফোঁটা হরিণ)। ৫৬১টি ঘোড়ার সবকটিই ঐতিহাসিক যুগের, আর তার ৫১০টিতে সওয়ার আছে। তিনি আরও তালিকা দিয়েছেন ১৬১ জন নর্তক, ২৮৫ জন শিকারি আর ২২২টি হাতের, যার বেশির ভাগ হাতের ছাপ। III C-50 শিলাশ্রয় তার প্রাণীদের জন্য জনপ্রিয়ভাবে পরিচিত জু রক নামে। III C-19 শিলাশ্রয়ে, তাঁর মতে শূকর, ষাঁড় আর হাতির বৈশিষ্ট্য মেশানো ১.২৬ মিটার লম্বা একটি কাল্পনিক প্রাণী একটি ছোট মুখোশ-পরা মানুষ আর একটি বড় কাঁকড়াকে তাড়া করছে বলে মনে হয়।
মনোনয়ন খোদাই করা ও আঁকা লিপির কাল দিয়েছে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর, শুঙ্গ আমলের ব্রাহ্মী অক্ষরের, থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী।
চিত্রগুলোর কাল কীভাবে নির্ণয় হয়
মনোনয়ন স্পষ্টই বলেছে, চিত্রগুলোর কোনো চূড়ান্ত তারিখ নেই। ভারতের নথি কালক্রমের ভিত্তিগুলোর তালিকা দিয়েছে: খননে পাওয়া রঙের নিদর্শন, বেশির ভাগই খনিজ গুটি আর প্রাচীনতম মধ্যপ্রস্তর স্তরের ঘষা হেমাটাইট-লাল পিণ্ড, সঙ্গে পাতিনা, সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তু, গাছপালা ও প্রাণী, ওপরে ওপরে বসানো স্তর আর ধরন।
চিত্রগুলো থেকেই নথি যুক্তি দিয়েছে যে অনেকগুলো আঁকা হয়েছিল যখন মাইক্রোলিথ, অর্থাৎ ছোট পাথরের ফলা, তিরের কাঁটা হওয়ার মতো ছোট হয়ে গিয়েছিল আর গৃহপালিত পশু ছিল না, যা ইঙ্গিত দেয় মধ্যপ্রস্তর যুগের দিকে। মালওয়া মৃৎপাত্রের নকশার মতো জ্যামিতিক নকশা ইঙ্গিত দেয় তাম্রপ্রস্তর যুগের, তামা-ব্যবহারের কালের দিকে। ইকোমস লিখেছিল, শিলাচিত্রের কাল অ্যাক্সিলারেটর মাস স্পেক্ট্রোমেট্রি দিয়ে সরাসরি নির্ণয় হয়নি, আর অস্ট্রেলীয় গবেষকদের সঙ্গে সরাসরি কাল-নির্ণয় চলছিল। বর্তমান জ্ঞান অনুযায়ী, তারা বলেছিল, শিল্পটির কাল মধ্যপ্রস্তর যুগ, প্রায় ১০,০০০ বছর আগে, থেকে ঐতিহাসিক ও সাম্প্রতিক কাল। আমরা যে সূত্রগুলো খুলেছি, তাতে ভীমবেটকার কোনো চিত্রের প্রকাশিত সরাসরি তারিখ পাইনি।
দুবে-পাঠক ওয়াকানকরের নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন আর. আর. আর. ব্রুকসের সঙ্গে তাঁর ১৯৭৬ সালের বই থেকে, যাতে পাঁচটি পর্ব। পর্ব ১ মধ্যপ্রস্তর যুগ বা তার আগের, ৮০০০ (অনিশ্চিত বলে চিহ্নিত) থেকে ২৫০০ খ্রিস্টপূর্ব। পর্ব ২ ২৫০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব, পর্ব ৩ ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ, আর পর্ব ৪ ও ৫ ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান। সবুজ আকৃতিগুলোকে তিনি রেখেছিলেন উচ্চ পুরাপ্রস্তর যুগে, এই পরিকল্পনার বাইরে।
পর্যটন মন্ত্রকের পাতা একটি আলাদা পরিসর দিয়েছে। সেটি বলছে, চিত্রগুলো যায় মধ্যপ্রস্তর, পুরাপ্রস্তর আর নবপ্রস্তর যুগ পর্যন্ত, আর কিছুকে বলেছে ৩০,০০০ বছর পর্যন্ত পুরোনো। ইউনেস্কোর ভাষা, ‘মনে হয় মধ্যপ্রস্তর যুগের’, আরও সংকীর্ণ, আর মনোনয়ন নথির নিজের সতর্কতা আরও জোরালো।
ওয়াকানকরের পর্ব ২ শুরু হয় সেই শতাব্দীগুলোতে, যখন লোথাল আর ধোলাভিরার হরপ্পা শহরগুলোয় বসতি ছিল। আমরা যে সূত্রগুলো পড়েছি, সেগুলো শিলাশ্রয়গুলোকে ওই শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেনি। মনোনয়ন নথি বলছে, তাম্রপ্রস্তর যুগের মৃৎপাত্র-সহ স্তরবদ্ধ জমা সমভূমির তাম্রপ্রস্তর যুগের মানুষ আর শিলাশ্রয়গুলোর যোগাযোগ দেখায়।
অডিটোরিয়াম গুহার চিহ্ন
অডিটোরিয়াম গুহা ভীমবেটকার সবচেয়ে বড় গুহা। পর্যটন মন্ত্রক গথিক খিলান আর ‘ক্যাথেড্রালের মতো’ অনুভূতির কথা বলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট বেডনারিক যে পাথরের মিনারে গুহাটি, তাকে রেখেছেন শৈলশ্রেণির সর্বোচ্চ বিন্দুতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬১৯ মিটার ওপরে। গুহার কেন্দ্রের কাছের একটি বোল্ডার চিফস রক নামে পরিচিত, যে নাম ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিকেরা দিয়েছিলেন আর যার জন্য আচার-ব্যবহারের কোনো প্রমাণ বেডনারিক পান না।
বেডনারিক জানিয়েছেন, ১৯৯০ সালে গুহাটিতে এগারোটি পেট্রোগ্লিফ, অর্থাৎ পাথরে কাটা চিহ্ন, লক্ষ করা গিয়েছিল। ওয়াকানকর আগে সেগুলোকে রক গং-এর চিহ্ন ভেবেছিলেন। তার দুটি, একটি কাপ-গর্ত (গোল পেয়ালার মতো গর্ত) আর একটি আঁকাবাঁকা খাঁজ, ওয়াকানকর খনন করেছিলেন একটি অ্যাশুলীয় স্তর থেকে, যা সরাসরি সেগুলোকে ঢেকে ছিল। বেডনারিক লিখেছেন, ওয়াকানকর সেগুলো লক্ষ করেননি। বাকি নয়টি, সবই কাপ-গর্ত, চিফস রকের পূর্ব দিকে। বেডনারিক ১৯৯৬ সালে প্রস্তাব করেছিলেন যে সেগুলো একই বয়সের, আর মাইক্রো-ক্ষয় বিশ্লেষণে একটির কাল নির্ণয়ের চেষ্টা পদ্ধতিটির পরিসর ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার ভিত্তিতে ১,০০,০০০ বছরের বেশি বয়সের প্রস্তাব এসেছে।
বেডনারিক পরে সেই প্রস্তাব সংশোধন করেছেন। কাপ-গর্ত নিয়ে তাঁর ২০০৮ সালের প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, অডিটোরিয়াম গুহার কাপ-গর্তগুলো বরং দুটি অ্যাশুলীয় স্তরের নিচে পাওয়া একটি চপিং-টুল ঐতিহ্যের হতে পারে। একই বছর কেভ আর্ট রিসার্চ নিউজলেটারে তিনি বলেছেন, মধ্য ভারতের চম্বল অববাহিকার একটি কাপ-গর্তের গুহা দারাকি-চট্টানের তুলনায় ভীমবেটকার প্রমাণ ‘অনেক দুর্বল’। কুমার, কৃষ্ণ আর বেডনারিক ২০১৯ সালে লিখেছিলেন, অডিটোরিয়াম গুহায় আছে দারাকি-চট্টানের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে একই প্রাচীনতার একমাত্র অন্য শিলাচিত্র-সমষ্টি। ফরাসি বিশেষজ্ঞ মিশেল লরব্লাঁশে ১৯৯৩ সালে যে চিহ্ন দেখেছিলেন তা প্রাকৃতিক বলে মনে করেছিলেন, আর বেডনারিক উত্তর দেন যে তিনি অন্য গর্তগুলো পরীক্ষা করেছিলেন।
ইকোমস বলছে, অডিটোরিয়াম গুহার III F পরিখা জনসাধারণের দেখার জন্য সংরক্ষিত হয়েছিল। বেডনারিক লিখেছেন, সর্বেক্ষণ ১৯৯১ সালে পরিখা বড় করার সময় মাটিচাপা দুটি পেট্রোগ্লিফ আবার ঢেকে দিয়েছিল আর ইস্পাতের রেলিং সহ একটি গাঁথা দেয়াল তুলেছিল, আর চিফস রকের নয়টি কাপ-গর্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।
কমিটি ভারতের কাছে কী চেয়েছিল
ইকোমস মনোনয়ন স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছিল, যাতে ভারত সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ, সীমানা আর চিত্রিত সংগ্রহের পরিধি স্পষ্ট করতে পারে। কমিটি বদলে স্থানটি তালিকাভুক্ত করেছিল। তার সিদ্ধান্ত ভারতকে বলেছে মনোনীত এলাকার শিলাচিত্র জরিপ করতে আর তার সংরক্ষণ মূল্যায়ন করতে, সম্ভব হলে এক বছরের মধ্যে। এটি ভবিষ্যতে আদিবাসী গ্রামগুলোর চারপাশের বৃহত্তর এলাকার একটি অংশ ধরে সীমানা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছে। ভারতের নথি জানিয়েছিল, চিত্রগুলোর কোনো সম্পূর্ণ তালিকা ছিল না, আর ক্ষতির কারণ হিসেবে তালিকা দিয়েছিল রোদে ফ্যাকাশে হওয়া, জলের ধারা, শ্যাওলা আর ভাঙচুর।
ভীমবেটকায় যাওয়া
পর্যটন মন্ত্রক শিলাশ্রয়গুলোকে বলেছে ভোপাল থেকে ৪৫ কিমি, ভিয়াপুরা গ্রামের কাছে, ভোপাল-হোশঙ্গাবাদ মহাসড়ক ধরে। এর দেওয়া সময় ৭:০০ থেকে ১৮:০০। মনোনয়ন নথি লক্ষ করেছে যে স্থানটি রাতাপানি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের উত্তর কিনারার ভেতরে।
দুবে-পাঠক লিখেছেন, খোলা শিলাশ্রয়গুলোয় সারা বছর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাওয়া যায়, আছে বাঁধানো পথ, চিত্রিত দেয়ালের সামনে রেলিং, তথ্য-ফলক, রক্ষী আর বিনামূল্যের পুস্তিকা। ছবি তোলা অনুমোদিত। আমরা যে সরকারি পাতাগুলো খুলতে পেরেছি, তার কোনোটিতে টিকিটের দাম নেই, তাই ভোপাল সার্কেলে সর্বেক্ষণের কাছে বা গেটে নিশ্চিত হয়ে নিন। দুবে-পাঠক বছরে গড়ে ৪০,০০০-এর বেশি দর্শনার্থীর কথা বলেছেন, আর মনোনয়ন নথির অনুমান ছিল নভেম্বর থেকে মার্চের চরম মরসুমে মাসে প্রায় ২,০০০।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO World Heritage Centre: Rock Shelters of Bhimbetka (list entry 925: description, criteria, property and buffer zone areas)
- UNESCO World Heritage Committee, Decision 27 COM 8C.21: Rock Shelters of Bhimbetka (India), 2003
- ICOMOS evaluation of the Bhimbetka nomination, No 925 (Advisory Body Evaluation, March 2003)
- Government of India, nomination dossier: Rock Shelters of Bhimbetka (UNESCO nomination file 925, prepared with the Archaeological Survey of India)
- Ministry of Tourism, Incredible India: Bhimbetka Rock Shelters (Bhopal)
- Meenakshi Dubey-Pathak, The Rock Art of the Bhimbetka Area in India, Adoranten 2014 (Scandinavian Society for Prehistoric Art)
- Robert G. Bednarik, Auditorium Cave: oldest known cave art in the world, Cave Art Research 8 (2008)
- Robert G. Bednarik, Cupules, Rock Art Research 25(1), 2008, pp. 61 to 100
- Giriraj Kumar, Ram Krishna and Robert G. Bednarik, Scientific study of the cupules in Daraki-Chattan Cave, India, Rock Art Research 36(2), 2019
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।