অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩২২ সালে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, আর সেলুকাস নিকাটরের কাছ থেকে সিন্ধুর তীরের ভূমি পান, যার বিনিময়ে সেলুকাস নেন ৫০০ হাতি। তাঁর সম্পর্কে যা টিকে আছে তা এসেছে গ্রিক ও রোমান লেখকদের কাছ থেকে, একটা শ্রীলঙ্কান বৌদ্ধ ইতিবৃত্ত, জৈন ঐতিহ্য আর একজন রাষ্ট্রদূতের একটা বই থেকে, যা শুধু উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে জানা যায়। প্যাট্রিক অলিভেল অর্থশাস্ত্রের, যা দীর্ঘদিন তাঁর মন্ত্রী চাণক্যের সঙ্গে জুড়ে আছে, টিকে থাকা রূপের তারিখ দেন ১৭৫ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দ, আর সন্ন্যাসী হিসেবে তাঁর মৃত্যুর জৈন কাহিনির পেছনের সবচেয়ে পুরোনো শিলালিপির তারিখ মুখার্জির মতে প্রায় ৬০০ খ্রিস্টাব্দ।
১৭৯৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, বাংলার এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি স্যর উইলিয়াম জোন্স সোসাইটির দশম বার্ষিক ভাষণ দিলেন। শেষের দিকে তিনি এলেন ‘এমন একটা আবিষ্কারে, যা দৈবক্রমে আমার পথে এসে পড়েছিল।’ গ্রিক লেখকেরা এক ভারতীয় রাজার কথা লিখেছিলেন যাঁকে তাঁরা বলতেন স্যান্ড্রাকোটাস, যিনি শাসন করতেন পালিবোথ্রা নামের একটা শহর থেকে, এরান্নোবোয়াস নামের একটা নদীর তীরে, আর যিনি সেলুকাস নিকাটরের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। এই নামগুলো কোন ভারতীয় নামের প্রতিরূপ তা কেউ ঠিক করতে পারেননি। জোন্স একটা সংস্কৃত বইয়ে, যাকে তিনি প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো বলেছিলেন, পেয়েছিলেন যে হিরণ্যবাহু নদী সোনের আরেক নাম, যাকে গ্রিকেরা এরান্নোবোয়াস বানিয়ে ফেলেছিল।
নদী থেকে তিনি গেলেন রাজার কাছে। চন্দ্রগুপ্ত উঠে এসেছিলেন ‘একজন সামরিক দুঃসাহসী থেকে’ উত্তর হিন্দুস্তানের সার্বভৌম হয়ে, আর পাটলিপুত্রে নিজের রাজধানী গড়েছিলেন, বললেন জোন্স, আর ‘ইনি সেই স্যান্ড্রাকোটাস ছাড়া আর কেউ নন, যিনি সেলুকাস নিকাটরের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন।’
জে. ডব্লিউ. ম্যাকক্রিন্ডল, যিনি ১৮৭৭ সালে মেগাস্থিনিসের টুকরোগুলো অনুবাদ করেন, লিখেছিলেন এই মিল গ্রিক সাহিত্যকে সংস্কৃত সাহিত্যের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ‘প্রথমবারের মতো প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসকে একটা তারিখ দিল, যার নিজের একটাও কালানুক্রমিক ভিত্তিবিন্দু ছিল না।’ তাঁর নাতি অশোককে নিয়ে tuput-এ আলাদা একটা লেখা আছে। এই লেখা থাকছে প্রতিষ্ঠাতা আর তাঁর গল্প বলা সূত্রগুলোর সঙ্গে, যার প্রায় সবই লিখেছেন বাইরের লোকেরা, কিংবা পরবর্তী কালের হাতে।
পাঁচশো হাতি, চারটি বিবরণ
স্ট্র্যাবো সিন্ধুর তীরের সেই ভূমির কথা বলেন যা ভারতীয়দের দখলে ছিল যদিও একসময় পারসিকদের ছিল। এইচ. এল. জোন্সের লোয়েব অনুবাদে, আলেকজান্ডার ‘এগুলো আরিয়ানদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নিজের বসতি স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু সেলুকাস নিকাটর সেগুলো দিয়েছিলেন স্যান্ড্রোকোটাসকে, বৈবাহিক সম্পর্ক আর বিনিময়ে পাঁচশো হাতি পাওয়ার শর্তে।’
অ্যাপিয়ান, লিভিয়াস ডটঅর্গে এম. এম. অস্টিনের অনুবাদে, বলেন সেলুকাস ‘সিন্ধু পার হয়ে স্যান্ড্রাকোটাসের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন, যিনি সেই নদীর আশপাশে ভারতীয়দের রাজা, আর শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব আর বৈবাহিক মৈত্রীর ব্যবস্থা করলেন।’ সেই পাতার একটা সম্পাদকীয় টীকা শান্তির তারিখ দেয় খ্রিস্টপূর্ব ৩০৪ সাল আর বলে সেলুকাস ‘হিন্দুকুশের পূর্বের সমস্ত ভূমি ছেড়ে দিলেন আর অনেক যুদ্ধের হাতি পেলেন।’
প্লুটার্ক, বার্নাডট পেরিনের আলেকজান্ডারের জীবনীর অনুবাদে, বলেন অ্যান্ড্রোকোটাস ‘সেলুকাসকে পাঁচশো হাতি উপহার দিয়েছিলেন।’ জাস্টিন, জে. এস. ওয়াটসনের অনুবাদে পম্পেইউস ট্রোগাসের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার করে, বলেন সেলুকাস ‘তাঁর সঙ্গে একটা মৈত্রী করে, পূর্বে নিজের ব্যাপারগুলো ঠিক করে, অ্যান্টিগোনাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে এগিয়ে গেলেন।’
চুক্তিটা কী ধরনের ছিল তা নিয়ে চারজন একমত নন। স্ট্র্যাবোর কাছে এটা বৈবাহিক বন্ধনসহ বিনিময়, অ্যাপিয়ানের কাছে বন্ধুত্ব আর বৈবাহিক মৈত্রী, প্লুটার্কের কাছে উপহার আর জাস্টিনের কাছে একটা মৈত্রী। কেউ চুক্তির পাঠ সংরক্ষণ করেননি, আর স্ট্র্যাবোর ‘বিনিময়’ বা প্লুটার্কের ‘উপহার’, কোনটা শর্তের কাছাকাছি তা এঁদের লেখায় ঠিক হয় না।
সেলুকাস যে যুদ্ধে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তা শেষ হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩০১ সালে ইপসাসে, লিভিয়াস ডটঅর্গের কালপঞ্জি অনুযায়ী। পেরিনের ডেমেট্রিয়াসের জীবনীতে প্লুটার্ক অ্যান্টিগোনাসকে পঁচাত্তরটা হাতি আর তাঁর বিরোধীদের চারশোটা দেন, আর বলেন শত্রুর হাতিগুলো ডেমেট্রিয়াসকে তাঁর নিজের পদাতিক বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। সেগুলো কোথা থেকে এসেছিল তা তিনি বলেন না।
আলেকজান্ডারকে দেখা এক কিশোর
পেরিনের অনুবাদের একটা টীকা অনুসারে, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আলেকজান্ডারের বাহিনী হাইফেসিস নদীতে পৌঁছায়, পাঞ্জাবের আজকের বিয়াস, আর এগোতে অস্বীকার করে। প্লুটার্ক বলেন সৈন্যরা জেনেছিল গাঙ্গারিডি আর প্রাসিইদের রাজারা গঙ্গার ওপারে অপেক্ষা করছেন ‘আশি হাজার ঘোড়সওয়ার, দুই লক্ষ পদাতিক, আট হাজার রথ আর ছয় হাজার যুদ্ধের হাতি’ নিয়ে। ডিওডোরাস সিকুলাস, সি. ব্র্যাডফোর্ড ওয়েলেসের লোয়েব অনুবাদে, সেই একই রাজাকে, যাঁকে তিনি জান্ড্রামেস বলেন, দেন বিশ হাজার অশ্বারোহী, দুই লক্ষ পদাতিক, দুই হাজার রথ আর চার হাজার হাতি। দুই লেখক একমত কেবল পদাতিকের সংখ্যায়।
ডিওডোরাস বলেন বাহিনী ‘প্রায় আট বছর কষ্ট আর বিপদের মধ্যে’ কাটিয়েছিল, আর আলেকজান্ডারের তৈরি করা বক্তৃতা ব্যর্থ হয়: ‘ম্যাসিডোনিয়ানরা তা মানল না, আর তিনি অভিযান ছেড়ে দিলেন।’ তার আগে, তিনি বলেন, আলেকজান্ডার পোরাসকে, যে ভারতীয় রাজাকে তিনি হারিয়েছিলেন, জিজ্ঞেস করেছিলেন খবরগুলো সত্যি কিনা। পোরাস বাকি সব নিশ্চিত করেছিলেন, ‘কিন্তু গান্ডারিদাইয়ের রাজা ছিলেন একেবারেই সাধারণ আর অখ্যাত চরিত্র, আর ধারণা করা হত তিনি নাপিতের ছেলে।’
এরপর প্লুটার্ক তরুণ চন্দ্রগুপ্ত সম্পর্কে একটা লাইন যোগ করেন: ‘অ্যান্ড্রোকোটাস, যখন কিশোর ছিলেন, নিজেই আলেকজান্ডারকে দেখেছিলেন, আর আমাদের বলা হয় তিনি পরবর্তী কালে প্রায়ই বলতেন, আলেকজান্ডার দেশটার প্রভু হতে হতে অল্পের জন্য ফসকে গেছেন, কারণ তার রাজা নীচতা আর নিচু জন্মের কারণে ঘৃণিত ও অবজ্ঞাত ছিল।’ ‘আমাদের বলা হয়’ কথাটা একে শোনা কথা বলে চিহ্নিত করে।
জাস্টিনের বিবরণ বিরূপ। ওয়াটসনের অনুবাদে, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর ভারত ‘যেন ঘাড় থেকে দাসত্বের জোয়াল ঝেড়ে ফেলেছিল, আর তাঁর শাসকদের হত্যা করেছিল’, আর স্যান্ড্রোকোটাস ছিলেন ‘এই মুক্তির কর্তা’ যিনি পরে ‘তাদের স্বাধীনতার ভানকে দাসত্বে পরিণত করলেন।’ জাস্টিন বলেন যুবকটি আলেকজান্ডারকে বিরক্ত করেছিলেন ‘কথার সাহসিকতায়’ আর তাঁকে মেরে ফেলার আদেশ এড়িয়েছিলেন ‘পায়ের গতিতে।’ ঘুমন্ত অবস্থায় একটা সিংহ তাঁর গা থেকে ঘাম চেটে নিয়েছিল, আর সেই লক্ষণে উৎসাহিত হয়ে তিনি ‘একদল ডাকাত জড়ো করলেন, আর তাঁর নতুন সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করতে ভারতীয়দের আহ্বান জানালেন।’ একটা বুনো হাতি পরে তাঁকে পিঠে তুলে নেয়। সিংহ আর হাতি দৈব লক্ষণ, আর এখানে ব্যবহৃত অন্য কোনো বিবরণ সেগুলো পুনরাবৃত্তি করে না।
শেষ নন্দ রাজা আর তারিখগুলো
মহাবংস, শ্রীলঙ্কার একটা পালি ইতিবৃত্ত যা পঞ্চম শতকে মহানামের লেখা বলে ধরা হয়, গল্পটা বলে কয়েক লাইনে। ১৯১২ সালের ভিলহেলম গাইগারের অনুবাদে, ‘ব্রাহ্মণ চাণক্য’ অভিষিক্ত করলেন ‘চন্দ্রগুপ্ত নামে পরিচিত এক গৌরবময় যুবককে, সমগ্র জম্বুদ্বীপের রাজা হিসেবে, মৌর্য নামের এক সম্ভ্রান্ত বংশে জন্ম, যখন তিনি তিক্ত ঘৃণায় পূর্ণ হয়ে নবম (নন্দ) ধননন্দকে বধ করেছিলেন।’ জম্বুদ্বীপ ইতিবৃত্তে ভারতীয় ভূমির নাম। ‘চব্বিশ বছর তিনি রাজত্ব করলেন,’ সেখানে চলে, ‘আর তাঁর ছেলে বিন্দুসার রাজত্ব করলেন আঠাশ।’
রাধাকুমুদ মুখার্জি, ১৯৪৩ সালের তাঁর গবেষণা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য অ্যান্ড হিজ টাইমসে, জানান এফ. ডব্লিউ. টমাস রোমান ইতিহাসকার কার্টিয়াসের আগ্রামেস আর ডিওডোরাসের জান্ড্রামেসকে শেষ নন্দ রাজা ধননন্দ বলে পড়েছিলেন। নন্দদের নিচু জন্মের কথা ব্রাহ্মণ্য আর জৈন ঐতিহ্যেও আছে, মুখার্জি বলেন, যদিও বৌদ্ধ ঐতিহ্য তাঁদের তা দেয় না।
মুখার্জি চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসনে বসার সময় ধরেছিলেন খ্রিস্টপূর্ব ৩২২। তাঁর যুক্তি ছিল, ৩২১ সালে ত্রিপারাদিসোসে আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য ভাগ করা সেনাপতিরা সিন্ধুর পূর্বের ভারতকে ভাগবাঁটোয়ারার বাইরে রেখেছিলেন, যার অর্থ তাঁর কাছে এই যে চন্দ্রগুপ্ত ততদিনে নিজেকে পাঞ্জাব আর মগধের শাসক করে তুলেছিলেন। কৌটিল্য নিয়ে ইবিএসসিও রেফারেন্স এন্ট্রি তাঁর রাজত্বকাল দেয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ থেকে প্রায় ২৯৮ পর্যন্ত। শেষের তারিখ আসে ২৪ বছর থেকে, যে সংখ্যা শ্রীলঙ্কান আর ভারতীয় ঐতিহ্য একই দেয় বলে গাইগার উল্লেখ করেন।
চাণক্য নন্দদের বোকা বানানোর বিস্তারিত গল্পগুলো আসে পরের সাহিত্য থেকে। সবচেয়ে পরিচিত বিশাখদত্তের সংস্কৃত নাটক মুদ্রারাক্ষস, ইবিএসসিও এন্ট্রি যাঁকে বসায় চতুর্থ শতক বা তার পরে। রিচার্ড ডেভিস, প্যাট্রিক অলিভেলের অর্থশাস্ত্র অনুবাদের সমালোচনায়, তাঁকে বলেন গুপ্ত যুগের নাট্যকার। তাতে নাটকটা চন্দ্রগুপ্তের ছয় শতকেরও বেশি পরে পড়ে।
পাটলিপুত্রে রাষ্ট্রদূত
সেলুকাস চন্দ্রগুপ্তের দরবারে একজন রাষ্ট্রদূত পাঠিয়েছিলেন। ম্যাকক্রিন্ডলের অনুবাদে, অ্যারিয়ান মেগাস্থিনিসকে বর্ণনা করেন এমন একজন হিসেবে যিনি ‘আরাকোসিয়ার শাসক সিবুর্তিয়োসের সঙ্গে থাকতেন, আর যিনি নিজেই আমাদের বলেন, প্রায়ই ভারতীয়দের রাজা স্যান্ড্রাকোটোসের কাছে যেতেন।’
মেগাস্থিনিসের ভারত নিয়ে বই, ইন্ডিকা, হারিয়ে গেছে। ম্যাকক্রিন্ডল বলেন এটা ‘প্রাচীন লেখকেরা এত বার সংক্ষেপ করেছেন আর উদ্ধৃত করেছেন’ যে এর বিষয়বস্তু মোটামুটি ভালোই জানা। স্ট্র্যাবো, ম্যাকক্রিন্ডলের অনুবাদে তা উদ্ধৃত করে, পালিবোথ্রাকে বর্ণনা করেন ‘দৈর্ঘ্যে আশি স্তাদিয়ন আর প্রস্থে পনেরো স্তাদিয়নের একটা শহর’ বলে, ‘কাঠের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, তির ছোড়ার জন্য ফোকর কাটা’, সামনে একটা পরিখা ‘প্রতিরক্ষার জন্য আর শহরের জঞ্জাল ধরার জন্য।’ ম্যাকক্রিন্ডলের পাদটীকা স্তাদিয়নকে ধরে প্রায় ২০২ গজ, যাতে শহরটা দাঁড়ায় প্রায় নয় মাইল লম্বা আর দুই মাইলের কম চওড়া। অ্যারিয়ান, তাঁকেও উদ্ধৃত করে, পরিখাকে বলেন ছয়শো ফুট চওড়া আর ত্রিশ হাত গভীর, আর বলেন প্রাচীরের মাথায় ‘ছিল ৫৭০টা মিনার আর চৌষট্টিটা ফটক।’
স্ট্র্যাবোর সেই একই টুকরো বর্ণনা করে মেগাস্থিনিস যেমন দেখেছিলেন সেভাবে রাষ্ট্র কীভাবে চলত। কর্মকর্তারা জমি মাপতেন, প্রধান খাল থেকে শাখায় জল ঢোকানোর জলকপাটগুলো পরিদর্শন করতেন, কর আদায় করতেন, আর রাস্তা বানাতেন, ‘প্রতি দশ স্তাদিয়নে’ একটা স্তম্ভ বসিয়ে ‘পাশের পথ আর দূরত্ব দেখাতে।’ শহরটা চলত প্রতিটিতে পাঁচজন করে ছয়টা পরিষদের শাসনে। দ্বিতীয়টি দেখত ‘বিদেশিদের আতিথেয়তা’, তাদের থাকার জায়গা দিত, দেশের বাইরে পৌঁছে দিত, আর কেউ মারা গেলে তার সম্পত্তি তার আত্মীয়দের কাছে পাঠাত। তৃতীয়টি জন্ম আর মৃত্যুর হিসাব রাখত। ষষ্ঠটি বিক্রি হওয়া পণ্যের দামের দশ ভাগের এক ভাগ আদায় করত, আর ‘এই কর দেওয়ায় প্রতারণার শাস্তি মৃত্যু।’ সেনাবাহিনীরও একই আকারের একটা পরিষদ ছিল, পাঁচজনের ছয়টা বিভাগ, নৌবহর, রসদের গাড়ি, পদাতিক, অশ্বারোহী, রথ আর হাতির জন্য একটা করে।
রাষ্ট্রদূতকে যেখানে যাচাই করা যায়
কাঠের প্রাচীর একটা জায়গা যেখানে লেখা মাটির সঙ্গে মেলে। ম্যাকক্রিন্ডল ছাপিয়েছিলেন এক বন্ধুর প্রতিবেদন, যিনি ১৮৭৬ সালের শীতকালে পাটনার শেখ মিঠিয়া ঘারি এলাকায় একটা খননস্থল দেখেছিলেন। একটা পুকুর খুঁড়তে থাকা শ্রমিকেরা, জলাভূমির মতো ভূপৃষ্ঠের বারো বা পনেরো ফুট নিচে, একটা লম্বা ইটের প্রাচীরের অংশ পান, আর তার কাছে সমান্তরালভাবে, শক্ত কাঠের তৈরি একসারি খুঁটির বেড়া। ম্যাকক্রিন্ডল এই পাওয়াকে নিয়েছিলেন মেগাস্থিনিসের বর্ণনা করা কাঠের প্রাচীর হিসেবে, আর প্রমাণ হিসেবে যে প্রাচীন শহর আধুনিক পাটনার অনেক নিচে চাপা আছে।
ইন্ডিকার অন্য অংশগুলো সেভাবে পরীক্ষা করা যায় না। ম্যাকক্রিন্ডলের সংগৃহীত টুকরোগুলোর মধ্যে আছে সোনা খোঁড়া পিঁপড়ে নিয়ে একটা অংশ, আর ভারতীয় মানুষদের সাত শ্রেণিতে ভাগ করা। ম্যাকক্রিন্ডল ঐতিহাসিক জে. টি. হুইলারের একটা মন্তব্য উদ্ধৃত করেন যে হেরোডোটাস মিশরীয়দের সাত বর্ণে ভাগ করেছিলেন, ‘আর মেগাস্থিনিস তাই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন ভারতেও সাতটা বর্ণ আছে।‘
ছয় লক্ষ সৈন্য আর গিরনারের এক শাসক
প্লুটার্ক বলেন অ্যান্ড্রোকোটাস ‘ছয় লক্ষ সৈন্যের একটা বাহিনী নিয়ে সমগ্র ভারত অধিকার করে বশ করেছিলেন।’ প্লিনি দ্য এল্ডারের ভারতীয় জাতিগুলোর তালিকা, ম্যাকক্রিন্ডলের সংকলনে, বলে প্রাসিইদের রাজার ‘বেতনভুক স্থায়ী বাহিনী আছে ৬,০০,০০০ পদাতিক, ৩০,০০০ অশ্বারোহী আর ৯০০০ হাতির।’ এটা ডিওডোরাস আর প্লুটার্ক নন্দ রাজাকে যে ২,০০,০০০ পদাতিক দিয়েছিলেন তার তিন গুণ। দুটো সংখ্যাই ভারতের বাইরের খবর। ভারত থেকে কোনোটার সমর্থন আমরা পাইনি, আর দুই লেখক পরস্পরের থেকে স্বাধীন কিনা তাও বলতে পারি না।
ভারতের ভেতর থেকে প্রমাণ একটা শিলালিপি। এফ. কিলহর্ন এপিগ্রাফিয়া ইন্ডিকায় মহাক্ষত্রপ, অর্থাৎ মহান ক্ষত্রপ, রুদ্রদামনের জুনাগড় শিলালিপি প্রকাশ করেন আর তার তারিখ দেন প্রায় ১৫১ বা ১৫২ খ্রিস্টাব্দ। এতে লেখা আছে গিরিনগরে, পুরোনো জুনাগড়ে, সুদর্শন হ্রদের মেরামতির কথা, একটা ঝড় আর বন্যায় এর বাঁধে ফাটল ধরার পর, যখন চারশো কুড়ি হাত লম্বা আর পঁচাত্তর হাত গভীর ফাটল দিয়ে ‘সমস্ত জল বেরিয়ে গিয়েছিল।’ হ্রদটির আগের ইতিহাস নিয়ে এর একটা মাত্র বাক্য, কিলহর্নের অনুবাদে, বলে এটা ‘মৌর্য রাজা চন্দ্রগুপ্তের প্রাদেশিক শাসক বৈশ্য পুষ্যগুপ্ত তৈরি করার আদেশ দিয়েছিলেন।’ কিলহর্ন যোগ করেন যে অশোকের অধীনে হ্রদটির উন্নতি করেন একজন যবন (গ্রিক) রাজা, তুষস্ফ, যিনি তাঁর হয়ে জেলাটি শাসন করতেন। এই পাঠ যে রাজত্বের কথা বলছে তার চেয়ে প্রায় সাড়ে চার শতক নবীন, আর এটা গুজরাটে একজন মৌর্য শাসককে বসায়।
সাম্রাজ্য কত দক্ষিণে গিয়েছিল তা বলা আরও কঠিন। অশোকের দ্বিতীয় শিলালিপি, এস. ধম্মিকার অনুবাদে, তালিকা করে ‘সীমান্তের ওপারের মানুষদের, চোল, পাণ্ড্য, সত্যপুত্র, কেরলপুত্র, তাম্রপর্ণী পর্যন্ত আর যেখানে গ্রিক রাজা অ্যান্টিওকাস শাসন করেন।’ ত্রয়োদশ শিলালিপিতে অশোক বলেন ধম্মের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়েছে ‘ছয়শো যোজন দূরেও, যেখানে গ্রিক রাজা অ্যান্টিওকাস শাসন করেন’, আর সম্পাদকীয় টীকা তাঁকে শনাক্ত করে সেলুকিড সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় অ্যান্টিওকাস থিওস হিসেবে।
তারিখ নিয়ে বিতর্কিত রাষ্ট্রনীতির একটা পাঠ্যবই
অর্থশাস্ত্র রাজত্ব আর শাসনের একটা নির্দেশিকা, কৌটিল্যের নামে চলে, যাঁকে পরের সাহিত্য চাণক্যের সঙ্গে চিহ্নিত করে। ডেভিস লেখেন কাজটা অষ্টম শতকের গোড়া পর্যন্ত ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হত, তারপর নবম শতক থেকে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে, আর ‘প্রায় ১৯০৫ সালে পুনরায় আবির্ভূত হয়’, যখন তাঞ্জোরে একটা মাত্র পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় আর রুদ্রপত্তনের শামশাস্ত্রী মহীশূর সরকারি প্রাচ্য গ্রন্থাগার থেকে তা প্রকাশ করেন।
হ্যানোভার কলেজের সাইটে শামশাস্ত্রীর দ্বিতীয় সংস্করণের (১৯২৩) আধুনিকীকৃত পাঠে রাজার কর্তব্য এভাবে লেখা: ‘প্রজাদের সুখেই তাঁর সুখ; তাদের কল্যাণেই তাঁর কল্যাণ; যা তাঁকে নিজেকে খুশি করে তা তিনি ভালো বলে গণ্য করবেন না, কিন্তু যা প্রজাদের খুশি করে তা তিনি ভালো বলে গণ্য করবেন।’ এতে সতর্ক করা আছে যে যে রাজা ‘নিজেকে প্রজাদের কাছে দুর্গম করে তোলেন’ তিনি ‘কাজে বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবেন, আর তাতে জনঅসন্তোষ।’ এতে বর্ণ অনুযায়ী শাস্তির ধাপও আছে: একজন ব্রাহ্মণকে নিষিদ্ধ খাদ্য খাওয়ালে শাস্তি ‘সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড’, জরিমানার একটা স্তর, আর শূদ্রের ক্ষেত্রে ‘চুয়ান্ন পণ জরিমানা।’
এর কিছু চন্দ্রগুপ্তের শাসনের বর্ণনা কিনা, সেটাই বিতর্ক। মুখার্জি, ১৯৪৩ সালে লিখে, এফ. ডব্লিউ. টমাসকে উদ্ধৃত করেন যে কাজটির তারিখ ‘স্পষ্টতই মৌর্য যুগের মধ্যে বা কাছাকাছি পড়ে’, যে মত, তিনি বলেন, ভিনসেন্ট স্মিথ, হারমান ইয়াকোবি আর কে. পি. জয়সওয়াল পোষণ করেছিলেন, আর তিনি তা অনুসরণ করেন। ডেভিস বলেন কাংগলে সেই অবস্থানে ছিলেন, কিন্তু কৌটিল্যকে চাণক্যের সঙ্গে চিহ্নিত করা ‘পরবর্তী গবেষণায় মূলত অপ্রমাণিত হয়ে গেছে।’ অলিভেল, ডেভিস যেভাবে সংক্ষেপ করেন, তিনটে পর্যায় পান: খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের মাঝামাঝি একটা প্রাথমিক বিশেষজ্ঞ পাঠ, ৫০ থেকে ১২৫ খ্রিস্টাব্দের একটা কৌটিল্য সংস্করণ, আর ১৭৫ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের একটা শাস্ত্রীয় সংস্করণ, যেটাই টিকে আছে। মার্ক ম্যাকক্লিশ, তাঁর ২০১৯ সালের কেমব্রিজ বইয়ের নিজের সারসংক্ষেপে, যুক্তি দেন ‘টিকে থাকা পাঠটি কয়েক শতক আগে লেখা একটা গ্রন্থের তৃতীয় শতকের খ্রিস্টাব্দের পুনর্সম্পাদনা।’
অলিভেল এরপর প্রস্তাব করেন, ডেভিস বলেন, যে চাণক্য ছিলেন একজন বাস্তব মানুষ আর তাঁর সঙ্গে রচয়িতা কৌটিল্যের যোগ ঘটানো হয়েছিল কেবল গুপ্ত যুগে, গুপ্তরা নিজেদের মৌর্যদের উত্তরাধিকারী হিসেবে তুলে ধরার একটা উপায় হিসেবে। গুপ্তরা শাসন করেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রায় সাত শতক পরে। তাঁদের দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত তুলেছিলেন দিল্লির লোহার স্তম্ভ, আর গুপ্ত স্বর্ণযুগ নিয়ে tuput-এ আলাদা লেখা আছে। উপরের নিয়মগুলোর কোনোটাই এখানে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের নিজের বলে ধরা হয়নি।
তাঁর শেষ নিয়ে জৈন বিবরণ
দিগম্বর জৈন ঐতিহ্য বলে চন্দ্রগুপ্ত ছেলের হাতে সিংহাসন ছেড়ে শিক্ষক ভদ্রবাহুর শিষ্য হয়েছিলেন। মুখার্জি সূত্রগুলো সাজিয়ে দেন। সাহিত্যিক সংস্করণগুলো হল হরিষেণের বৃহৎকথাকোষ, ৯৩১ খ্রিস্টাব্দের, রত্ননন্দীর ভদ্রবাহু-চরিত প্রায় ১৪৫০ সালের, প্রায় ১৬৮০ সালের কন্নড় মুনিবংশাভ্যুদয় আর কন্নড় রাজাবলি-কথে। এগুলো একমত যে বিহারের একটা দুর্ভিক্ষ ভদ্রবাহু আর জৈন সম্প্রদায়কে দক্ষিণে পাঠিয়েছিল, চন্দ্রগুপ্ত প্রধান শিষ্য হিসেবে তাঁকে অনুসরণ করে কর্ণাটকের শ্রবণবেলগোলায় গিয়েছিলেন, আর সেখানে কয়েক বছর তপস্বী হিসেবে থেকে জৈন রীতিতে অনশনে মারা যান।
মুখার্জি স্থানীয় প্রমাণ যোগ করেন। শ্রবণবেলগোলার একটা ছোট পাহাড়ের নাম চন্দ্রগিরি, আর তার ওপরে আছে ভদ্রবাহুর নামে একটা গুহা আর চন্দ্রগুপ্ত বসতি নামে একটা মন্দির, যার ছিদ্রযুক্ত পাথরের পর্দায় ভদ্রবাহু আর চন্দ্রগুপ্তের জীবনের খোদাই করা দৃশ্য আছে। সবচেয়ে পুরোনো শিলালিপি, প্রায় ৬০০ খ্রিস্টাব্দের, জুড়ে দেয় ‘জোড়া (যুগ্ম), ভদ্রবাহু ও চন্দ্রগুপ্ত মুনি’কে।
ঐতিহ্যের পক্ষের যুক্তি, মুখার্জি যেভাবে দেন, হল এই যে ভিনসেন্ট স্মিথ জৈন ঐতিহ্যকে দেখেছিলেন পঞ্চাশের কম বয়সী একজন রাজার রেকর্ড থেকে হারিয়ে যাওয়ার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে। রাইস, যিনি ১৮৮৯ সালে মহীশূরের প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষার জন্য শ্রবণবেলগোলার শিলালিপি সম্পাদনা করেন, মনে করতেন প্রথম শিলালিপি প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৯৭ সালের আসল ঘটনা লিখেছিল আর এর চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন মৌর্য সম্রাট। তাঁর সারসংক্ষেপে ভদ্রবাহু বারো বছরের দুর্ভিক্ষের ভবিষ্যদ্বাণী করেন, সম্প্রদায়কে দক্ষিণে নিয়ে যান, আর ছোট পাহাড়ে একজন মাত্র শিষ্যকে নিয়ে মারা যান, আর তিনি চন্দ্রগুপ্তকে বর্ণনা করেন ‘তাঁর শিষ্য বলে কথিত’ হিসেবে। সেই পাঠে সেখানে মারা যান ভদ্রবাহু, চন্দ্রগুপ্ত নন। পাহাড়ে চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যু আসে পরের সাহিত্যিক সংস্করণগুলো থেকে।
অন্যরা সন্দেহ করেছেন। মুখার্জি লিখে রাখেন যে ফ্লিট ঐতিহ্যে বিশ্বাস করতেন না আর প্রথম শিলালিপির ভদ্রবাহুকে পড়েছিলেন পরবর্তী এক ভদ্রবাহু হিসেবে, যিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫৩ সালে সম্প্রদায়ের প্রধান হন, গুপ্তিগুপ্ত নামে এক শিষ্যসহ, যাঁর নাম চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে গুলিয়ে গিয়েছিল। মুখার্জি সবচেয়ে পুরোনো শিলালিপির তারিখ দেন প্রায় ৬০০ খ্রিস্টাব্দ, রাজত্বের প্রায় ৯০০ বছর পরে, আর রাইস নিজেই এটা কাটার সময়ের জন্য প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ থেকে প্রায় ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত একটা ব্যবধান মেনে নিয়েছিলেন। রাজাবলি-কথে, যার ওপর রাইস ভদ্রবাহুর জীবনের জন্য নির্ভর করেছিলেন, তৈরি হয়েছিল উনিশ শতকের গোড়ায়, কন্নড় ভাষায় তালপাতায়, মহীশূর রাজপরিবারের দেবিরাম্মা নামের এক নারীর জন্য।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Appian, Syrian Wars (the career of Seleucus), translated by M. M. Austin, Livius.org
- Strabo, Geography 15.2.9, translated by H. L. Jones (Loeb Classical Library, 1932), LacusCurtius, University of Chicago
- Plutarch, Life of Alexander 62, translated by Bernadotte Perrin (Loeb Classical Library, 1919), Perseids
- Plutarch, Life of Demetrius 28 and 29 (the battle of Ipsus), translated by Bernadotte Perrin, LacusCurtius
- Justin, Epitome of the Philippic History of Pompeius Trogus, Book 15, translated by J. S. Watson (1853), Attalus.org
- Diodorus Siculus, Library of History 17.93 to 17.95, translated by C. Bradford Welles (Loeb Classical Library), LacusCurtius
- Livius.org: Seleucus I Nicator, chronology
- J. W. McCrindle, Ancient India as Described by Megasthenes and Arrian (1877), Internet Archive
- Wilhelm Geiger (translator), The Mahavamsa, or the Great Chronicle of Ceylon (Pali Text Society, 1912), Internet Archive
- William Jones, Tenth Anniversary Discourse, 28 February 1793, in The Works of Sir William Jones, vol. 1 (1799), Internet Archive
- R. K. Mookerji, Chandragupta Maurya and His Times (1943), Internet Archive
- F. Kielhorn, Junagadh Inscription of Rudradaman, Epigraphia Indica, vol. 8, no. 6, Jainqq.org text
- S. Dhammika (translator), Ashoka's Rock Edicts, Livius.org
- Kautilya, Arthashastra, translated by R. Shamasastry, 2nd edition (1923), excerpts at Hanover College
- Richard Davis, review of Patrick Olivelle, King, Governance, and Law in Ancient India (Oxford University Press, 2013), H-Asia, April 2015
- Mark McClish, announcement of The History of the Arthasastra (Cambridge University Press, 2019), Indology list
- EBSCO Research Starters: Kautilya
- B. Lewis Rice, Inscriptions at Sravana Belgola, a Chief Seat of the Jains (Archaeological Survey of Mysore, 1889), Internet Archive
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।