ছবি: Joe Ravi / Wikimedia Commons, CC BY-SA 3.0 (ছাঁটা)
বাংলা
ইউনেস্কো ২০০৪ সালের ৭ জুলাই মানদণ্ড (ii) ও (iv) অনুযায়ী টার্মিনাসটিকে তালিকাভুক্ত করে, তখন নাম ছিল ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস। ওভাল ময়দানকে ঘিরে ৯৪টি ঐতিহাসিক ভবনের মুম্বাইয়ের ভিক্টোরীয় গথিক ও আর্ট ডেকো ভবনগুচ্ছ তালিকাভুক্ত হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুন। মধ্য রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক বলেছেন, স্টেশনটি প্রতিদিন ১.২ মিলিয়নের বেশি যাত্রী ব্যবহার করেন।
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, মহারাষ্ট্রের দক্ষিণ মুম্বাইয়ে অবস্থিত স্টেশন ও মধ্য রেলওয়ের সদর দপ্তর, ২০০৪ সালের ৭ জুলাই থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল। ২০১৮ সালের ৩০ জুন মুম্বাইয়ের দ্বিতীয় তালিকাভুক্তি আসে, মুম্বাইয়ের ভিক্টোরীয় গথিক ও আর্ট ডেকো ভবনগুচ্ছ: ৯৪টি ঐতিহাসিক ভবন, আর তাদের মাঝখানে একটি খোলা মাঠ, ওভাল ময়দান। ২০২৬ সালের এপ্রিলে মধ্য রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক বলেছিলেন, শহরতলির আর দূরপাল্লার ট্রেন মিলিয়ে প্রতিদিন ১.২ মিলিয়নের বেশি যাত্রী টার্মিনাসটির ভেতর দিয়ে যান।
ভবনটির সঙ্গে চারটি নাম জুড়েছে। মনোনয়ন নথি অনুযায়ী ১৯৯০-এর দশকে শিবাজির নামে এর নতুন নামকরণ হয়, আর ইউনেস্কোর তালিকাভুক্তির কাগজে ব্যবহৃত হয়েছে ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, বন্ধনীতে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত ২০১৭ সালের ৮ মে-র একটি আইএএনএস প্রতিবেদন বলছে, সেই বছর “মহান মারাঠা যোদ্ধা-রাজার সম্মানে” মহারাজ শব্দটি যোগ হয়; tuput তাঁর পরিচয় দিয়েছে শিবাজি মহারাজ নিবন্ধে। ওই প্রতিবেদন একে চতুর্থ নাম গুনেছে, বোরি বন্দর, ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস আর ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসের পরে।
বোরি বন্দরের একটি চালাঘর, তারপর সদর দপ্তর
ভারতের যে রেলপথ পরে দেশজোড়া নেটওয়ার্ক হয়ে উঠল, তা শুরু হয়েছিল এই জায়গা থেকেই। ভারত ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ইউনেস্কোকে যে মনোনয়ন নথি পাঠায়, তার হিসাবে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল একটি ট্রেন বোরি বন্দর থেকে থানা (এখনকার থানে) পর্যন্ত ২১ মাইল পথ গিয়েছিল। তখন স্টেশন ছিল একটি ছোট চালাঘর। নথিতে আরও আছে, নতুন টার্মিনাস এখন যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে ছিল মুম্বাদেবীর মন্দির, যে দেবীর নামে মুম্বাইয়ের নাম, আর মন্দিরটি সরিয়ে তার বর্তমান জায়গায় নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ স্থপতি এফ. ডব্লিউ. স্টিভেন্স, যাঁর জীবনকাল ১৮৪৮ থেকে ১৯০০ সাল, ১৮৭৬ সালের জুনে প্রথম নকশা আঁকেন, নথি বলছে, ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার লন্ডনকে উদ্ধৃত করে। ১৮৭৭ সালে সরকার তাঁকে গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলা রেলওয়ের কাজে ধার দেয়, আর ১৮৭৮ সালে তিনি দশ মাস ইউরোপে কাটিয়ে নতুনতম রেল টার্মিনাসগুলো অধ্যয়ন করেন এবং পূর্ণ নকশার সেট নিয়ে ফেরেন। নির্মাণ শুরু হয় ১৮৭৮ সালে আর চলে দশ বছর। নথিতে উদ্ধৃত একটি ঐতিহাসিক বিবরণে খরচ ধরা হয়েছে দপ্তর অংশের জন্য ১৬,৩৫,৫৬২ টাকা আর স্টেশনের জন্য ১০,৪০,২৪৮ টাকা।
সমাপ্তির তারিখ নিয়ে নথিপত্রে একাধিক হিসাব আছে। ইউনেস্কোর সারসংক্ষেপ বলছে, ১৮৭৮ থেকে টার্মিনাস তৈরিতে দশ বছর লেগেছিল। একই নথি অন্য জায়গায় বলছে ১৮৮৭ সালে কাজ শেষ হয়েছিল, একটি পুরোনো বিবরণ উদ্ধৃত করে যেটি দিয়েছে ১৮৮৮, আর জানাচ্ছে ১৮৮২ সালের ১ জানুয়ারি এর একটি অংশ ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে এ-ও আছে, রানি ভিক্টোরিয়ার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১৮৮৭ সালের জুবিলি দিবসে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ১৯২৯ সালে এর পাশে মূল লাইনের ট্রেনের জন্য একটি স্টেশন যোগ করা হয়।
২০০৪ সালে ইউনেস্কো ও ইকোমস যা লিখেছিল
২০০৪ সালের তালিকাভুক্তি দুটি মানদণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। মানদণ্ড (ii) অনুযায়ী বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি পেয়েছিল “ভিক্টোরীয় ইতালীয় গথিক রিভাইভাল স্থাপত্য আর ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ভবনের মধ্যে প্রভাবের এক গুরুত্বপূর্ণ আদান-প্রদান।” মানদণ্ড (iv) অনুযায়ী কমিটি টার্মিনাসকে বলেছিল “ব্রিটিশ কমনওয়েলথে ঊনবিংশ শতকের শেষ ভাগের রেল স্থাপত্যের এক অসাধারণ উদাহরণ”, যাতে ছিল উন্নত কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সমাধান। ভারতের নথিতে ছয়টি সাংস্কৃতিক মানদণ্ডেরই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সাংস্কৃতিক স্থানের বিষয়ে কমিটির বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা ইকোমস (ICOMOS) সুপারিশ করেছিল দুটি।
১৯৯৮ সালে ইকোমস প্রথমবার টার্মিনাসটি পর্যালোচনা করে একটি যথাযথ সংরক্ষণ কর্মসূচি আর বিশ্বের রেল টার্মিনাসগুলোর সঙ্গে তুলনা চেয়েছিল। ১৯৯৯ সালে ও ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে তারা বিশেষজ্ঞ দল পাঠায়, আর ২০০৪ সালের মার্চে তালিকাভুক্তির সুপারিশ করে। তাদের প্রতিবেদন বলছে, নকশার সবচেয়ে কাছের তুলনীয় নজির লন্ডনে জি. জি. স্কটের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন, কিন্তু ভিক্টোরিয়া টার্মিনাসের নিজস্ব চরিত্র আছে, যার চিহ্ন গাঁথনির গম্বুজ আর রঙিন পাথর, টালি, মার্বেল ও রঙিন কাচের কাজ। ইকোমস বলছে, তৈরি হওয়ার সময় একে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সবচেয়ে জমকালো গথিক রিভাইভাল ভবন বলে গণ্য করা হতো।
গম্বুজটি অষ্টভুজ আকারের আর পাঁজরযুক্ত। নথি বলছে, এর পাঁজরগুলো ডোভটেইল জোড়ে বাঁধা, আর সেগুলো সেন্টারিং ছাড়াই গড়া হয়েছিল। সেন্টারিং হলো সেই অস্থায়ী কাঠের কাঠামো, যা কোনো খিলান বা গম্বুজ তৈরির সময় সাধারণত তাকে ধরে রাখে। চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে ১৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (প্রায় ৫ মিটার) উঁচু প্রগতির মূর্তি, যার ডান হাতে মশাল আর বাঁ হাতে স্পোকওয়ালা চাকা।
কারিগর আর পাথর
নথিতে ১৮৮৬ সালের ২৩ অক্টোবরের দ্য বিল্ডার পত্রিকার একটি বিবরণ তুলে দেওয়া আছে, যেখানে সাজসজ্জা ও খোদাইয়ের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে ইউরোপীয় তত্ত্বাবধানে কাজ করা ভারতীয় কারিগরদের। বম্বে স্কুল অব আর্টের ছাত্ররা, তার অধ্যক্ষ জন গ্রিফিথসের অধীনে, স্থানীয় ফুল, গাছপালা আর প্রাণী থেকে নেওয়া পাতার নকশার মডেল বানিয়েছিলেন, আর স্কুলের ধাতু বিভাগ লোহার কাজ জুগিয়েছিল। সাধারণ ঠিকাদার ছিল বুরজরজি রুস্তমজি, মাইস্ট্রি অ্যান্ড কোং, আর গণপূর্ত বিভাগের সীতারাম খান্ডেরাও ও মাহদেরাও জনার্দন ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক, নথির বানান অনুযায়ী। নথিতে আরও আছে, লকউড কিপলিং এই কাজে যুক্ত অনেক ভারতীয় ভাস্করকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।
ইকোমসের তালিকা অনুযায়ী ভারতীয় বেলেপাথর আর চুনাপাথরে মূল কাঠামো গড়া, প্রধান সাজসজ্জায় ইতালীয় মার্বেল। মনোনয়ন নথি বলছে, ভাস্কর্য পোরবন্দর চুনাপাথরের, তার মধ্যে আছে ফটকের স্তম্ভের মাথার ব্রিটেনের সিংহ আর ভারতের বাঘ। ইকোমস ২০০৪ সালে লক্ষ করেছিল, পুরোনো টিকিটঘর স্টার চেম্বার তখনও টিকিট কাটার জায়গা হিসেবেই চলছে।
কতজন এটি ব্যবহার করেন
২০০৩ সালের নথি বলছে, স্টেশনের পরিকল্পনা যখন হয় তখন ছয়টি ট্রেন চলত, আর এখন প্রায় ১,০৫০টি ট্রেন এর ভেতর দিয়ে যায়, বহন করে “দিনে প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ মিলিয়ন মানুষ।” ইকোমসের ২০০৪ সালের প্রতিবেদনে গোনা হয়েছিল ছয়টি শহরতলির আর দশটি দূরপাল্লার ট্র্যাক, আগে ছিল চারটি। ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ফ্রি প্রেস জার্নাল জানায় দিনে প্রায় ১,০০০ ট্রেন আর দৈনিক যাত্রীসংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ। মধ্য রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক ২০২৬ সালের এপ্রিলে বলেছেন ১.২ মিলিয়নের বেশি। তিনটির কোনোটিই বলে না গণনা কীভাবে করা হয়েছিল।
২০১৮ সালের আগস্টে পিটিআই জানায়, ভবনটির ৫১ কোটি টাকার সংস্কার চলছে, স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় উন্নয়নের জন্য বাছাই করা দশটি জায়গার একটি হিসেবে। এসবিআই ফাউন্ডেশন ১০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ইনট্যাক ছিল পরামর্শদাতা আর পাথরের কারিগররা কাজ করছিলেন, বলেছিলেন মধ্য রেলওয়ের মুখ্য মুখপাত্র।
স্টেশন এলাকার একটি পুনর্বিকাশের দরপত্র তারপর ডাকা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ঐতিহ্য কমিটি তা অনুমোদন করেছে, ২০২২ সালের ১৪ মার্চ ফ্রি প্রেস জার্নাল জানায়। ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, আহলুওয়ালিয়া কন্ট্রাক্টস ২,৪৫০ কোটি টাকায় সর্বনিম্ন দরদাতা, যেখানে কেন্দ্রের প্রাক্কলন সংবাদপত্রটির হিসাবে ছিল প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল ফ্রি প্রেস জার্নালের প্রতিবেদনে একটি নিয়ন্ত্রক দাখিলপত্র দেখায় যে রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি কাজটি দিয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বলছে, পরিকল্পনায় আগমন ও প্রস্থানের টার্মিনাল আলাদা করা হচ্ছে, রেলের দপ্তর ঐতিহ্য এলাকা থেকে সরে যাচ্ছে, আর স্টেশনটি মেট্রো লাইন ৩-এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা ভারতের মেট্রো ব্যবস্থা নিবন্ধে বর্ণিত নেটওয়ার্কের অংশ। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বলেছেন, কাজটি এমনভাবে পরিকল্পিত যাতে ঐতিহ্যবাহী ভবনে হস্তক্ষেপ না হয়।
দুই তালিকা, মাঝখানে একটি উদ্যান
২০১৮ সালের তালিকাভুক্তি আরেক ধরনের ভবন নিয়ে। মুম্বাইয়ের অন্য বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল, বন্দরের এলিফ্যান্টা গুহা, নিয়ে আলাদা নিবন্ধ আছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুন মানামায় বসা ইউনেস্কোর কমিটি মানদণ্ড (ii) ও (iv) অনুযায়ী একে তালিকাভুক্ত করে এবং নাম দেয় মুম্বাইয়ের ভিক্টোরীয় গথিক ও আর্ট ডেকো ভবনগুচ্ছ, এই পরিবর্তন ভারত মেনে নিয়েছিল। ইকোমসের মাপ অনুযায়ী সম্পত্তিটি ৬৬.৩৪ হেক্টর, সঙ্গে ৩৭৮.৭৮ হেক্টরের একটি রক্ষাবলয়: ৯৪টি ঐতিহাসিক ভবন আর ওভাল ময়দান। ওভালের পূর্ব দিকে ভিক্টোরীয় গথিক সরকারি ভবনগুলো, পশ্চিম দিকে আর্ট ডেকো ভবন, আর আর্ট ডেকো সারি মেরিন ড্রাইভ ধরে এগিয়ে গেছে।
টার্মিনাস একটি আলাদা বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল, ওই ৯৪টির একটি নয়। ফোর্ট চত্বর, ইকোমস বলছে, তার উত্তর প্রান্তে টার্মিনাস আর ক্রফোর্ড মার্কেটকে ধরে, এবং দুটি বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলেরই রক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে।
ভিক্টোরীয় গুচ্ছটির সময়কাল নিয়ে মতভেদ আছে। কমিটির লেখায় আছে ১৮৮০-এর দশক, ইকোমসের ইতিহাসে ওভালের পূর্ব ধারের ভবনগুলো ১৮৭০-এর দশকের, আর প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর তালিকা চলে পুরোনো সচিবালয় (১৮৫৭ থেকে ১৮৭৪) আর বম্বে হাইকোর্ট (১৮৭৮) থেকে এলফিনস্টোন কলেজ (১৮৮৮) পর্যন্ত। ইকোমস বলছে, এগুলো দাক্ষিণাত্যের ব্যাসল্টে তৈরি, খোদাইয়ের কাজ পোরবন্দর চুনাপাথরে। এতে আছে গথিক চূড়া, সূচালো খিলান আর গার্গয়েল, সঙ্গে ভারতীয় ঢালু টালির ছাদ, খোদাই করা ব্যালকনি ও বারান্দা। কমিটি রাজাবাই ঘণ্টাঘরকে এই ভবনগুচ্ছের “দৃশ্যমান শীর্ষবিন্দু” বলেছে।
পুনরুদ্ধার করা জমিতে রিইনফোর্সড কংক্রিট
আর্ট ডেকো অংশটি ব্যাকবে রিক্লেমেশনের, বিংশ শতকের গোড়ায় সমুদ্র থেকে জিতে নেওয়া জমির। ইকোমস বলছে, ওভাল ও চার্চগেটের মুখোমুখি ব্লকটি ১৯৩০-এর দশকের গোড়ায় তৈরি হয়ে ভারতের প্রথম আর্ট ডেকো ভবন হয়ে ওঠে, আর মেরিন ড্রাইভের সারি আসে ১৯৪০-এর দশকে। এগুলো রিইনফোর্সড কংক্রিটে গড়া, ইজারার শর্তে প্রতিটি ভবনের চারপাশে ২০ ফুট খোলা জায়গা রাখতে হতো, আর বেশির ভাগ ভবন পাঁচ বা ছয় তলা। ইকোমস পুনরুদ্ধার করা এলাকা এক জায়গায় ৫৫৩ একর আর অন্য জায়গায় ৫৫২ একর বলেছে। আর্ট ডেকো মুম্বাই ট্রাস্টের লেখকেরা নির্মাণের জন্য পাওয়া অংশ বলেছেন ৪৩৯.৬ একর।
কমিটি বলছে, আর্ট ডেকো সিনেমাহল আর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ভারতীয় নকশা মিশেছিল আর্ট ডেকোর চিত্রকল্পের সঙ্গে, এমন এক ধারায় যা ইন্দো-ডেকো নামে পরিচিত হয়। সিনেমাহলগুলোর মধ্যে ইকোমস নাম করেছে রিগ্যাল আর ইরোসের। ট্রাস্টের লেখকেরা বলছেন, ১৯৩৩ সালে তৈরি রিগ্যাল ছিল চার্লস স্টিভেন্সের কাজ, যিনি টার্মিনাসের স্থপতির ছেলে, আর সেটিই ছিল শহরের প্রথম আর্ট ডেকো ভবন। তাঁরা এলাকার ভবনের নামেও একটি বদলের কথা লিখেছেন, এমপ্রেস কোর্টের মতো ঔপনিবেশিক নাম থেকে ভারতীয় ভবনের মতো নামে, যার অর্থ ভারতের বাড়ি।
নাগরিকদের লেখা একটি মনোনয়ন
একই লেখকেরা বলছেন, ১,৫০০ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ এই নথি তৈরি করেছিলেন নাগরিক, আবাসিক সমিতি, স্থপতি, সংরক্ষণকর্মী ও পরিকল্পনাবিদেরা, নেতৃত্বে ছিল আভা নারায়ণ লাম্বা অ্যাসোসিয়েটস, আর এর আগে কোনো বিশ্ব ঐতিহ্য মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্যোগে শুরু হয়নি। ওভাল ট্রাস্ট আর মেরিন ড্রাইভ রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মতো স্থানীয় গোষ্ঠী ভবনগুলো রক্ষা আর নথি তৈরিতে অংশ নিয়েছিল, এবং ইকোমস তাতে স্বাগত জানিয়েছিল। এতে আরও আছে, মুম্বাইয়ের ১৯৯৫ সালের ঐতিহ্য বিধিমালা শহরটিকে ভারতে প্রথম করেছিল যার নগর ঐতিহ্য রক্ষার আইনি কাঠামো আছে।
ইকোমস ২০১৮ সালের মার্চে তালিকাভুক্তির সুপারিশ করে। ভারত ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি যে অতিরিক্ত তথ্য পাঠায়, তা দুটি গুচ্ছকে একটি ভবনগুচ্ছ হিসেবে দেখার “একটি প্রত্যয়জনক যুক্তি দেয়”, ইকোমস লিখেছে; তার আগের প্রতিবেদনে বর্ণনায় সংহতির অভাব পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৮ সালের ৩০ জুনের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিবৃতিতে সংস্কৃতি দপ্তরের (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, এই তালিকাভুক্তি পর্যটন ও কর্মসংস্থান বাড়াবে।
কমিটি এরপর কী চেয়েছিল
কমিটির সিদ্ধান্তে ছয়টি সুপারিশ আছে। সেগুলো হলো ২০১৩ সালের তালিকা সম্পূর্ণ করতে ভবন ধরে ধরে নথি, বৃহত্তর পরিবেশ আর আকাশরেখায় রাজাবাই ঘণ্টাঘরের অবস্থানের সুরক্ষা, প্রাক্তন ওয়াটসনস হোটেলের (এসপ্ল্যানেড ম্যানশনস) জরুরি সংরক্ষণ, ইরোস সিনেমার পুনরুজ্জীবন, যা আর সিনেমাহল হিসেবে চলে না, ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে নথিপত্রের সমর্থন, এবং আরও পূর্ণাঙ্গ স্থান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা। ইকোমস জানাচ্ছে, বম্বে হাইকোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, রাজাবাই ঘণ্টাঘর আর কনভোকেশন হল ইতিমধ্যে সংস্কার হয়ে গেছে, আর গণপূর্ত বিভাগের ভবনে কাজ চলছিল।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO World Heritage Centre: Chhatrapati Shivaji Terminus (formerly Victoria Terminus), nomination file 945 rev, with the ICOMOS evaluation of March 2004
- UNESCO World Heritage Committee, 42nd session (Manama, 2018): Decisions, including 42 COM 8B.19 on the Victorian and Art Deco Ensemble of Mumbai
- ICOMOS evaluation of the Victorian and Art Deco Ensemble of Mumbai, No 1480 (March 2018), in UNESCO document WHC/18/42.COM/INF.8B1
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: Victorian Gothic and Art Deco Ensemble of Mumbai declared a World Heritage Property by UNESCO (30 June 2018)
- Lokmat Times (ANI): Where speed meets heritage, Mumbai's CSMT is more than a station (22 April 2026)
- Free Press Journal: Railway authorities collect 7000 kgs of garbage from CSMT station every day (20 September 2022)
- Business Standard (IANS): Mumbai's Elphinstone now renamed Prabhadevi station, CST gets tweaked too (8 May 2017)
- Business Standard (PTI): Central Rly takes up restoration of CSMT heritage building (14 August 2018)
- Business Standard: Mumbai CSMT revamp set to be on track, Ahluwalia Contracts lowest bidder (12 April 2023)
- Free Press Journal: Order to redevelop CSMT for Rs 2,450 crores awarded to Ahluwalia Contracts (29 April 2023)
- Free Press Journal: Railway authorities get go-ahead for redevelopment of CSMT by Mumbai Heritage Conservative Committee (14 March 2022)
- Art Deco Society of New York: Art Deco in Mumbai, Oval and Marine Drive (Atul Kumar and Nityaa Lakshmi Iyer, Art Deco Mumbai Trust, 2018)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।