Skip to content
মুম্বাইয়ের কাছে এক দ্বীপের পাথর-কাটা শিবমন্দির এলিফ্যান্টা গুহা ১৯৮৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হয়েছিল
ভ্রমণ

মুম্বাইয়ের কাছে এক দ্বীপের পাথর-কাটা শিবমন্দির এলিফ্যান্টা গুহা ১৯৮৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হয়েছিল

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ১৯৮৭ সালে মানদণ্ড (i) আর (iii) অনুযায়ী এলিফ্যান্টা গুহাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। ইউনেস্কো ১ নম্বর গুহাকে বর্ণনা করেছে ৩৯ মিটার গভীর বলে, যার প্রবেশপথে আধিপত্য করে ৭ মিটারের তিন-মুখো শিব, আর লিঙ্গ-কক্ষের চারপাশে আছে পনেরোটি বড় ভাস্কর্য-ফলক। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ স্থানটি দেখাশোনা করে, আর গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া থেকে দ্বীপে ফেরি চলে।

· · 7 মিনিটের পাঠ

এলিফ্যান্টা গুহা হলো মহারাষ্ট্রের উপকূলের কাছে মুম্বাই বন্দরের এক দ্বীপের সাতটি পাথর-কাটা গুহা। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ১ নম্বর গুহায় আছে শিবের একটি তিন-মুখো মূর্তি, যার উচ্চতা ইউনেস্কো বলেছে ৭ মিটার। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ১৯৮৭ সালে মানদণ্ড (i) আর (iii) অনুযায়ী স্থানটিকে তালিকাভুক্ত করেছিল। স্মৃতিস্তম্ভটির মালিক ও পরিচালক ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) ইউনেস্কোকে তারিখটি জানিয়েছে ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৭। এএসআইয়ের হিসাবে দ্বীপটি মুম্বাইয়ের অ্যাপোলো বন্দর থেকে প্রায় ১১ কিমি উত্তর-পূর্বে, আর মূল ভূখণ্ডের তীর থেকে ৭ কিমি দূরে। ফেরি ছাড়ে গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া থেকে।

১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো কী লিখেছিল

মানদণ্ড (i), অর্থাৎ সৃজনশীল প্রতিভার এক শ্রেষ্ঠ কীর্তি, প্রসঙ্গে ইউনেস্কোর বিবৃতি বলছে, ১ নম্বর গুহায় লিঙ্গ-কক্ষের চারপাশের পনেরোটি বড় ভাস্কর্য-ফলক ভারতীয় শিল্পের শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে পড়ে আর শিবের উপাসনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহগুলোর একটি। মানদণ্ড (iii) প্রসঙ্গে ইউনেস্কো বলেছে: ‘পশ্চিম ভারতে পাথরের স্থাপত্যের ইতিহাসে এই গুহাগুলো সবচেয়ে মহিমান্বিত কীর্তি।’ একই লেখা গুহাগুলোর বিন্যাস, স্তম্ভ আর সর্বতোভদ্র নকশার গর্ভগৃহকে পাথর-কাটা স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেছে। ইকোমসের (ICOMOS) ১৯৮৭ সালের মূল্যায়ন সেই গর্ভগৃহকে বর্ণনা করেছে চারটি দরজার একটি কক্ষ হিসেবে, যার প্রতিটি দরজার দুই পাশে বিশাল প্রহরী-মূর্তি।

ইউনেস্কোর মনোনয়ন মূল্যায়নকারী পরামর্শদাতা সংস্থা ইকোমস ১৯৮৭ সালের মে মাসে নথিটি পর্যালোচনা করেছিল। তারা তালিকাভুক্তির নীতিকে সমর্থন করেছিল আর লিখেছিল, ১৯৮৩ সালে তালিকাভুক্ত অজন্তা ও ইলোরা আর ১৯৮৪ সালে তালিকাভুক্ত মহাবলীপুরমের পরে এলিফ্যান্টা ভারতের শিলা-শিল্প স্থানগুলোর সারি সম্পূর্ণ করবে। তারা আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছিল, কারণ নথিতে সুনির্দিষ্ট সীমানা ছিল না, ১৯৩৮ আর ১৯৫৭ সালের অভিযানের পরের পুনরুদ্ধারের কথা ছিল না, আর কোনো ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও বর্ণিত হয়নি। কমিটি সেই বছরই স্থানটিকে তালিকাভুক্ত করেছিল, যেমন তার ১১ COM VII.A সিদ্ধান্তে লেখা আছে। সেখানে কমিটি ভারতের সেই বিবৃতি উল্লেখ করেছিল যে সরকার কাছের শিল্প-প্রকল্প থেকে এই ভঙ্গুর স্থানটিকে রক্ষার ব্যবস্থা নেবে।

দুই পাহাড়ে সাতটি গুহা

ইউনেস্কো দ্বীপটিকে, যার আরেক নাম সে দিয়েছে ঘারাপুরী, বর্ণনা করেছে একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আলাদা হওয়া দুটি টিলা হিসেবে। এএসআইয়ের প্রতিবেদন ইউনেস্কোকে জানিয়েছে, পশ্চিম টিলায় পাথর-কাটা গুহা পাঁচটি। পূর্বের স্তূপ পাহাড়ে আরও দুটি গুহা আছে, একটি অসমাপ্ত আর একটি সাদামাটা খনন, সঙ্গে একটি ইটের স্তূপ আর কয়েকটি পাথর-কাটা জলাধার।

দর্শনার্থীরা আসেন ১ নম্বর গুহার জন্যই। সামনের প্রবেশপথ থেকে পেছন পর্যন্ত এর মাপ ৩৯ মিটার, আর বারান্দা ও পেছনের পথ বাদ দিলে এর মূল হলঘর ২৭ মিটার বর্গাকার, ধরে আছে ছয়টি করে স্তম্ভের সারি। এএসআইয়ের ভাষায়, এটি সাতটির মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী আর বিকশিত ব্রাহ্মণ্য পাথর-কাটা স্থাপত্যের প্রতিনিধি। এএসআই আর ইউনেস্কো দুজনেই বলেছে, এর নকশা ইলোরার দুমার লেনা গুহার (২৯ নম্বর গুহা) সঙ্গে খুব মেলে, যেখানে কৈলাস মন্দির দাঁড়িয়ে আছে। ইকোমস লক্ষ করেছে, নির্মাতারা ছাদে নকল কড়িকাঠ কেটেছিলেন আর ঠেকনাগুলো গড়েছিলেন গাঁথা পাথরের স্থাপত্যের স্তম্ভ, থাম আর শীর্ষের অনুকরণে।

দ্বীপে আরও পুরোনো অবশেষ আছে। ইউনেস্কো বলছে, সেগুলো খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী থেকেই সেখানে বসতি ছিল, আর এএসআইয়ের প্রতিবেদন প্রাথমিক আবিষ্কারের মধ্যে রোমান অ্যাম্ফোরার ভাঙা টুকরো আর একটি ইটের স্তূপের উল্লেখ করেছে।

তিন-মুখো শিব আর তাকে ঘিরে ফলকগুলো

১ নম্বর গুহার প্রবেশপথে আধিপত্য করা মূর্তিটিকে ইউনেস্কো বলেছে সদাশিব আর ত্রিমূর্তি। এএসআইয়ের দেওয়া নাম মহেশমূর্তি। উচ্চতা নিয়ে সূত্রে সূত্রে ফারাক আছে। ইউনেস্কো বলছে ৭ মিটার, মহারাষ্ট্র পর্যটন বলছে ৬ মিটারের বেশি, আর সহপিডিয়ায় শিল্প-ইতিহাসবিদ দুলারি কুরেশির লেখা সংক্ষিপ্ত বিবরণ বলছে ১৮ ফুট, প্রায় ৫.৫ মিটার। মেজাজের দিক থেকে এএসআই তিনটি মুখকে বর্ণনা করেছে এভাবে: অঘোর উত্তাল আর ভয়ংকর, তৎপুরুষ শান্ত আর ধ্যানমগ্ন, আর বামদেব কোমল আর মনোরম। ইউনেস্কো মুখ তিনটিকে পড়েছে শিবের তিনটি রূপ হিসেবে, স্রষ্টা, পালনকর্তা আর ধ্বংসকর্তা, আর ইকোমসের ১৯৮৭ সালের মূল্যায়ন অঘোরকে পড়েছে ধ্বংসকর্তা আর বামদেবকে স্রষ্টা হিসেবে।

মূল গুহার অন্য ফলকগুলোর মধ্যে, এএসআইয়ের তালিকা অনুযায়ী, আছে অর্ধনারীশ্বর, শিবের সেই রূপ যা পুরুষ আর নারী শক্তিকে এক করে, নটরাজের মহাজাগতিক নৃত্য, শিব-পার্বতীর বিবাহ, গঙ্গা নদীকে ধারণ করা গঙ্গাধর শিব, অসুর অন্ধককে বধ করা শিব, আর কৈলাস পর্বত কাঁপানো রাবণ। সহপিডিয়া যেভাবে ঐতিহ্যটি বলেছে, রাবণ সেই পর্বত তুলতে চেয়েছিল যেখানে শিব ও পার্বতী বসে আছেন, শিব পা দিয়ে তা চেপে ধরেছিলেন, আর রাবণের স্তুতি তাকে একটি বর এনে দিয়েছিল। সহপিডিয়া জানায়, ইলোরাতেও একই দৃশ্য আছে। যোগাসনে বসা শিবের একটি ফলককে ইউনেস্কো বলেছে যোগীশ্বর আর এএসআই বলেছে লকুলীশ, আর কুরেশি লিখেছেন যে পণ্ডিতেরা একে যোগ-দক্ষিণামূর্তি হিসেবেও পড়েন।

ইকোমস নথিভুক্ত করেছে যে প্রবেশপথের যোগীশ্বর আর নটরাজ ফলক এমন এক বিশাল শৈলীতে, যা গুপ্ত যুগের শৈলীর কাছাকাছি। কুরেশি লিখেছেন, বেশির ভাগ দর্শনার্থী মহেশমূর্তিকে প্রধান মূর্তি ধরলেও নন্দীর মুখোমুখি লিঙ্গ-মন্দিরটিই প্রধান উপাসনার বস্তু।

কে খোদাই করেছিল, আর কবে

গুহাগুলোর কাল নির্ণয় করা কোনো শিলালিপি টিকে নেই, তাই প্রতিটি তারিখই অনুমান আর অনুমানগুলো আলাদা। ইউনেস্কো বলছে, গুহাগুলো তৈরি হয়েছিল আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৫ম শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে। এএসআইয়ের মতে আনুমানিক ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শতাব্দী। ইকোমস ১৯৮৭ সালে লিখেছিল, বিশেষজ্ঞদের মত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শতাব্দীতে ভিন্ন হয়। কুরেশি পণ্ডিতদের পরিসর দিয়েছেন ৫ম থেকে ৮ম। তাঁর বিবরণে ওয়াল্টার স্পিংক যুক্তি দেন যে এটি রাজা কৃষ্ণরাজের অধীনে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি একটি কলচুরি স্মৃতিস্তম্ভ, আর প্রমাণ হিসেবে তিনি দ্বীপে পাওয়া মুদ্রার কথা বলেন। ভি. ভি. মিরাশি একে ৭ম শতাব্দীর গোড়ার দিকের বলেন আর কলচুরিদেরই কৃতিত্ব দেন। রমেশ গুপ্তে চালুক্য প্রভাবের পক্ষে যুক্তি দেন, আর জেমস বার্জেস ও বেঞ্জামিন রোল্যান্ড ৮ম শতাব্দীর শেষ দিক পছন্দ করেন।

এএসআইয়ের মতে, দ্বীপটি হাত বদলেছে কোঙ্কন মৌর্য, ত্রৈকূটক, বাদামির চালুক্য, শিলাহার, রাষ্ট্রকূট, কল্যাণীর চালুক্য, দেবগিরির যাদব, গুজরাতের শাসক আর তারপর পর্তুগিজদের হাতে, এরপর মারাঠা ও ব্রিটিশদের। এএসআই যোগ করেছে, দ্বীপটিকে চিহ্নিত করা হয় পুরীর সঙ্গে, যার নাম আছে দ্বিতীয় পুলকেশীর ঐহোলে শিলালিপিতে।

পর্তুগিজ নাম কীভাবে এল

এলিফ্যান্টা পর্তুগিজ নাম। এএসআই বলছে, দ্বীপে পাওয়া একটি বিশাল হাতির নামে এর নাম, আর ইকোমস লিখেছে যে পর্তুগিজ নাবিকেরা সেই বিশাল পাথরের হাতি পেয়েছিল। কুরেশি এর অবস্থান বলেছেন পুরোনো অবতরণ-স্থলের কাছে। এএসআই জানায়, মূর্তিটি এখন মুম্বাইয়ের জিজামাতা উদ্যানে রাখা, আর ইকোমস লিখেছে যে সেটি টুকরো টুকরো করে কেটে বোম্বেতে নিয়ে গিয়ে আবার জোড়া হয়েছিল। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া বলছে, ১৫৩৪ সালে দ্বীপটি গুজরাত সুলতানির হাত থেকে পর্তুগিজদের হাতে যায়।

ঘারাপুরী পুরোনো স্থানীয় নাম। কুরেশি লিখেছেন, ওই নামের একটি গ্রাম দ্বীপের দক্ষিণ দিকে আছে আর মারাঠিতে শব্দটির মানে পাহাড়ি বসতি। ইউনেস্কোর লেখায় পাহাড়ের চূড়ায় পর্তুগিজ আমলের একটি কামানের উল্লেখ আছে, আর মহারাষ্ট্র পর্যটনের পাতা বলছে, পর্তুগিজ শাসনে গুহাগুলো অবহেলা আর ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। কুরেশি পর্তুগিজ ইতিহাসকার দিয়োগো দে কুতোর কথা উদ্ধৃত করেছেন, প্রবেশপথের ওপরে খোদাই করা এক বিশাল পাথরের প্রসঙ্গে, যা পর্তুগিজেরা তাদের রাজার কাছে পাঠিয়েছিল আর যা কেউ পড়তে পারেনি। তারপর তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

এএসআই আর স্থানটিকে দাঁড় করিয়ে রাখার কাজ

এএসআইয়ের ২০০২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মৃতিস্তম্ভটির দায়িত্বে এএসআইয়ের ঔরঙ্গাবাদ সার্কেল, কাজ চলে মুম্বাইয়ের একটি উপ-সার্কেলের মাধ্যমে, যার প্রধান একজন সংরক্ষণ সহকারী। প্রতিবেদন বলছে, এএসআইয়ের তিনটি শাখা, সংরক্ষণ, রসায়ন আর উদ্যান, কাঠামো, পাথর আর চত্বর দেখে। প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত সুরক্ষার মধ্যে আছে ১৯৫৭ সালের এলিফ্যান্টা দ্বীপ (সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ) বিধি, যা স্মৃতিস্তম্ভের কাছে খনি, পাথর তোলা আর বিস্ফোরণ নিষিদ্ধ করে, আর ১৯৮৫ সালের একটি বিজ্ঞপ্তি, যা এর চারপাশের এলাকা আর তীর থেকে ১ কিমির একটি ফালিকে নিষিদ্ধ এলাকা করেছিল। ইকোমস যে শিল্প-প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, সে প্রসঙ্গে এএসআই জানায়, মহারাষ্ট্র সরকার তাদের প্রভাব কমাতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

তালিকাভুক্তির পর থেকে ইউনেস্কো স্থানটিতে এই কাজগুলোর তালিকা দিয়েছে: হাঁটাপথ, পড়ে যাওয়া আর ভাঙা স্তম্ভের মেরামত, ধসে পড়া সম্মুখভাগের মেরামত, জেটি থেকে এক সারি সিঁড়ি, আর রক্ষকের আবাস থেকে বানানো একটি স্থান-তথ্যকেন্দ্র। এএসআইয়ের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছে যে ইউনেস্কো পাথরের মেঝে, ঠেকনা-দেয়াল, রেলিং, নালা, শৌচাগার আর ১ নম্বর গুহার মেঝের জন্য ৯,৪৭,০২৫ টাকাও (প্রায় ৯.৫ লাখ টাকা) দিয়েছিল। ইন্ট্যাকের (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ) ভাইস চেয়ারম্যান তসনিম মেহতা ২০১৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে স্মরণ করেছেন যে ইন্ট্যাক ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কোর অংশগ্রহণে আর প্রায় ৬০০ অংশগ্রহণকারীর দুই দিনের এক সেমিনারের মধ্য দিয়ে এলিফ্যান্টার একটি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা শুরু করেছিল। তিনি বলেছেন, এরপর সরকার মুম্বাই মহানগর অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যের সংস্থা গড়ে, আর ১৯৯৭ সালে অর্থ সংগ্রহের একটি উৎসব ও শিল্পকর্ম নিলাম হয়েছিল, যেখানে গুহার ভেতরে গেয়েছিলেন শুভা মুদ্গল আর নেচেছিলেন অলরমেল ভাল্লি।

ইউনেস্কোর বর্তমান লেখা পরের ধাপগুলোর নাম করেছে। সেগুলো হলো একটি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করে গ্রহণ করা, লবণজনিত ক্ষয় আর পাথরের পৃষ্ঠের সাধারণ অবনতির প্রতিকার করা, আর ১৯৬০-এর দশকের কিছু স্তম্ভ-পুনরুদ্ধার নতুন করে করা, যেগুলোতে এএসআইয়ের ২০০২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাটল ধরেছে।

দ্বীপে যাওয়া, আর উৎসব

মহারাষ্ট্র পর্যটন বলছে, দর্শনার্থীরা গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া থেকে ফেরি ধরেন, যাত্রা প্রায় এক ঘণ্টার। দ্বীপে তাঁরা একসারি সিঁড়ি বেয়ে গুহায় ওঠেন, আর যাঁরা হাঁটতে চান না তাঁদের জন্য একটি খেলনা-ট্রেন আছে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করা মরসুম, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষায় ফেরিযাত্রা উত্তাল হয়ে ওঠে। এএসআইয়ের পাতায় খোলার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, সোমবার গুহা বন্ধ। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া বন্ধের সময় দিয়েছে বিকেল ৫:৩০, তাই টিকিট কাউন্টারে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রবেশমূল্য এএসআইয়ের পাতায় আছে।

মহারাষ্ট্র পর্যটন উন্নয়ন নিগম (এমটিডিসি) মুম্বাইয়ের পর্যটনকে এগিয়ে নিতে এলিফ্যান্টা উৎসবের আয়োজন করে। অনমনোরমায় প্রকাশিত একটি পিটিআই প্রতিবেদন বর্ণনা করেছে সংগীত, গান, নাচ, হস্তশিল্প আর চিত্রকলার দুই দিনের একটি অনুষ্ঠান, যা গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় উদ্বোধন হয়ে দ্বীপে চলেছিল, সঙ্গে ছিল প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য শিবের ভাস্কর্যগুলোর পাশ দিয়ে একটি ঐতিহ্য-পদযাত্রা। আউটলুক ট্রাভেলার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে লিখেছিল, উৎসবটি পড়ে শিবরাত্রি ঘনিয়ে আসার সময়, কোলি জেলে সম্প্রদায় লোকনৃত্য আর সংগীত পরিবেশন করে, আর প্রবেশ বিনামূল্যে।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. UNESCO World Heritage Centre: Elephanta Caves
  2. ICOMOS evaluation of the Elephanta Caves nomination, No 244 (May 1987), UNESCO
  3. UNESCO World Heritage Committee, Decision 11 COM VII.A: Inscription of the Elephanta Caves (India), 1987
  4. Archaeological Survey of India: Periodic Report on the State of Conservation of the Elephanta Caves (December 2002), UNESCO
  5. Archaeological Survey of India: Elephanta Caves
  6. Maharashtra Tourism: Elephanta
  7. Incredible India, Ministry of Tourism: Elephanta Caves
  8. Sahapedia: Elephanta Caves, An Overview (Dulari Qureshi)
  9. Sahapedia: INTACH and the Revival of Elephanta Caves (interview with Tasneem Mehta, Mumbai, 2016)
  10. Onmanorama (PTI): Elephanta art festival begins in Mumbai
  11. Outlook Traveller: All About The Elephanta Festival, Dates, Entry Fee And More (9 January 2023)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#elephanta caves#gharapuri#unesco world heritage#rock-cut architecture#shiva#mumbai#maharashtra#archaeological survey of india

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ভ্রমণ
ইলোরার কৈলাস মন্দির একটিমাত্র ব্যাসল্ট ঢাল থেকে নিচের দিকে কেটে গড়া, আর নির্মাতারা আনুমানিক ১,৫০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টন পাথর সরিয়েছিলেন
মহারাষ্ট্রে এক পাহাড়ের গায়ে রাজমিস্ত্রিরা পরিখা খুঁড়েছিলেন, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল একটি মন্দির। কে এর আদেশ দিয়েছিলেন, আর এক রাজত্বে কতটা শেষ করা সম্ভব ছিল, তা নিয়ে তর্ক এখনও চলে ৮১২ সালের কাছাকাছি জারি হওয়া একটি তাম্রশাসন থেকে।
১৫৭০-এর দশকের গোড়ায় আকবরের শুরু করা লাল বেলেপাথরের শহর ফতেপুর সিক্রি ১৯৮৬ সাল থেকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল, আর তার দেখভাল করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ
ছয় কিলোমিটার প্রাচীর, নয়টি ফটক আর সরকারি পাতায় ৪০ বা ৫৪ মিটার বলা একটি তোরণসহ একটি টিলার শহর আগ্রার ৩৬ থেকে ৪০ কিমি পশ্চিমে। এখানে তারিখ, ভবন আর সরকারি নথি, সূত্রগুলো যেখানে একমত নয় সেখানেও।
৫০০-র বেশি প্রধান ভাস্কর্যের পাটনের ধাপকূপ রানি কি বাভ ২০১৪ সালের ২২ জুন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পায় আর এখন ১০০ টাকার নোটে
উত্তর গুজরাতের এগারো শতকের এক রানির স্মারক প্রায় সাত শতক নদীর পলির নিচে চাপা ছিল, ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের খননে বেরিয়ে এসেছে, আর এখন ব্যাংকনোটে দেখা যায়। সরকারি নথি এ নিয়ে কী বলে, এখানে তা-ই।
← সব লেখা