অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় দুটি ইল-৭৬ পরিবহণ বিমান আগ্রা ছেড়ে প্রায় চার ঘণ্টা পরে মালদ্বীপের বিমানবন্দর হুলহুলে দ্বীপে নামে। প্রায় রাত ২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ভারতীয় সেনারা মালেতে রাষ্ট্রপতি মাউমুন আবদুল গায়ুমের কাছে পৌঁছয়, আর আইএনএস গোদাবরী ও আইএনএস বেতওয়া ধাওয়া করে বিদ্রোহী ও জিম্মিদের নিয়ে পালানো ছিনতাই-করা জাহাজটির পিছনে। মালদ্বীপ প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে।
১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি ইল-৭৬ পরিবহণ বিমান অন্ধকারের মধ্যে নামল হুলহুলে দ্বীপে, মালদ্বীপের রাজধানী মালের পাশের বিমানবন্দর-দ্বীপে। প্রায় চার ঘণ্টা আগে ৩১৬ জন সেনা নিয়ে বিমান দুটি আগ্রা ছেড়েছিল, তাঁরা ৫০তম ইনডিপেনডেন্ট প্যারাশুট ব্রিগেডের প্রথম দল। ৪ নভেম্বর প্রায় রাত ২টা ১৫ মিনিটে ভারতীয় সৈনিকেরা রাষ্ট্রপতি মাউমুন আবদুল গায়ুমের কাছে পৌঁছে যান, যে বাড়িতে তিনি লুকিয়ে ছিলেন সেখানে।
স্থলবাহিনী, বিমানবাহিনী আর নৌবাহিনী, তিনটিই অংশ নিয়েছিল ভারত যাকে বলেছিল অপারেশন ক্যাকটাস। মনোহর পারিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিস (এমপি-আইডিএসএ) প্রকাশিত জার্নাল অব ডিফেন্স স্টাডিজ এই বিমানযাত্রায় গুনেছে ৩১টি বিমান আর ১,৬৫০ জন সেনা, এবং একে বলেছে প্রতিবেশী অঞ্চলে বিমানবাহিনীর উড়িয়ে নেওয়া প্রথম দ্রুত-প্রতিক্রিয়ার কৌশলগত অভিযান। যে দুজন কর্মকর্তা মাটিতে ছিলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিনোদ ভাটিয়া আর ব্রিগেডিয়ার এস. সি. জোশী, তাঁরা নয়াদিল্লির সেন্টার ফর জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের জন্য বিবরণ লিখেছেন। রূপরেখায় সূত্রগুলো একমত, কিন্তু ঘড়ির সময় আর হতাহতের সংখ্যায় ভিন্ন, তাই নিচের প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে তার সূত্র দেওয়া হয়েছে।
৩ নভেম্বর ভোরের আগে মালেতে হামলা
জোশী, যিনি তখন কর্নেল হিসেবে ৬ প্যারার অধিনায়ক ছিলেন, লিখেছেন যে হামলাকারীরা ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের রাতে শ্রীলঙ্কা ছেড়ে তিনটি মাছ-ধরা ট্রলারে করে রওনা দিয়ে ৩ নভেম্বর প্রায় ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে মালেতে তীরে নামে। পরের দিন কলম্বো থেকে খবর পাঠানো ইউপিআই বলেছিল ভোর ৪টা ৩০ মিনিট। জোশী নেতার নাম বলেছেন আবদুল্লাহ লুতুফি, একজন মালদ্বীপীয় ব্যবসায়ী, যিনি শ্রীলঙ্কার একটি তামিল গোষ্ঠী পিপলস লিবারেশন অর্গানাইজেশন অব তামিল ঈলমের (প্লোট) সেবা জোগাড় করেছিলেন।
হামলাকারীদের সংখ্যা জার্নালের নিবন্ধে প্রায় ৮০, ইউপিআইয়ের ৮ নভেম্বরের খবরে প্রায় ১৫০ (তিনজন অসন্তুষ্ট মালদ্বীপীয় ব্যবসায়ীর ভাড়া করা), আর ভারতের প্রথম দিকের তথ্যে ১০০ থেকে ৫০০, জোশী বলেন। হামলাকারীরা রেডিও ও টেলিভিশন কেন্দ্র আর রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ দখল করে এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসের সদর দপ্তর ঘিরে ফেলে। এই ১,৫০০ জনের বাহিনী পুলিশি কাজ, অগ্নিনির্বাপণ আর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। ভাটিয়া, যিনি তখন ৫০তম ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর, লিখেছেন যে বাহিনীটি হামলাকারীদের নিজেদের অস্ত্রাগারে ঢুকতে দেয়নি, আর জার্নালের নিবন্ধ বলছে এতেই তারা সরকার উৎখাত করতে পারেনি।
গায়ুম একটি নিরাপদ আশ্রয়ে আত্মগোপন করেন। মালদ্বীপ কয়েকটি দেশের কাছে সাহায্যের ডাক পাঠায়, জার্নালের নিবন্ধ অনুযায়ী তার মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর ভারত। দিয়েগো গার্সিয়ায় থাকা মার্কিন বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, আর শ্রীলঙ্কা কমান্ডোদের প্রস্তুত রাখলেও পাঠায়নি; দুই দেশই তাকিয়ে ছিল ভারতের দিকে।
দিল্লির সিদ্ধান্ত আর আগ্রার তৎপরতা
প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সভাপতিত্বে একটি সংকট-কমিটি ৩ নভেম্বর সাউথ ব্লকে বসেছিল, জার্নালের নিবন্ধ বলছে, তখনো ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী শ্রীলঙ্কায় লড়ছিল। গান্ধী পরে সংসদে বলেছিলেন যে মালদ্বীপ ‘গভীর সংকটের মুহূর্তে মরিয়া হয়ে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল’, নিবন্ধটি তাঁর যে কথা উদ্ধৃত করেছে সেই ভাষায়।
আগ্রায় প্রথম ফোনটি এসেছিল দিল্লির সামরিক অভিযান বিভাগ থেকে প্রায় সকাল ১০টায়, ভাটিয়া স্মরণ করেন। ১০টা ৪০ মিনিটের মধ্যে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস. এফ. রদ্রিগেস ব্রিগেডকে মালদ্বীপে যাওয়ার নির্দেশ দেন, একটি ব্যাটালিয়ন গ্রুপকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে বিমানে তুলে ফেলতে হবে। ইউনিটগুলো ছড়িয়ে ছিল, ৭ প্যারা তখন অন্যত্র প্রশিক্ষণে।
দিল্লি থেকে একটি দল আগ্রায় নামে ভাটিয়ার হিসাবে প্রায় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, জোশীর হিসাবে ৩টা ৩০ মিনিটে। দলে ছিলেন মালদ্বীপে ভারতের হাইকমিশনার অরুণ ব্যানার্জি, যিনি ঘটনাক্রমে দিল্লিতে ছিলেন। ভাটিয়ার নথিতে কাজটি ছিল ‘মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধার করে নিরাপদে ভারতে নিয়ে আসা’। জোশী আর জার্নালের নিবন্ধ বলছে, সেনাদের হাতে মানচিত্রের বদলে ছিল মালে ও রানওয়ের ছবিসহ একটি পর্যটক-নির্দেশিকা, আর বিমানচালকদের চার্টে দেখানো ছিল গান, ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণের একটি দ্বীপ, যতক্ষণ না ব্যানার্জি খেয়াল করলেন।
নামা, না ঝাঁপ দেওয়া
দিল্লির পরিকল্পনা ছিল আকাশ থেকে হামলার। ভাটিয়ার বর্ণনায় পরিকল্পনা ক-তে একটি ইল-৭৬ থেকে ষাটজন প্যারাট্রুপার হুলহুলেতে ঝাঁপ দেবেন, সেদিন বিমানবাহিনীর হাতে যত প্যাক-করা প্যারাশুট ছিল সেটাই ছিল সীমা, আর বাকিরা নামবেন তাঁদের পরে; জোশী বলেন সত্তরজন। ইল-৭৬ সাধারণত ১.৫ থেকে ২ কিলোমিটার লম্বা ড্রপ জোন চায়, জার্নালের নিবন্ধ বলছে, আর তার অনুমান মালের চারপাশের সমুদ্রে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্যারাট্রুপার ডুবে যেতেন।
জোশী লিখেছেন, ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ফারুক বুলসারা, ৪৪ নম্বর স্কোয়াড্রনের গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. জি. বেওয়ুর আর তিনি নিজে আগ্রাতেই ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল করে নামার সিদ্ধান্ত নেন। ভাটিয়ার বিবরণে বুলসারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রেখেছিলেন বিমান মালদ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছনো পর্যন্ত, আর নামাটা ছিল ‘দুটি বিকল্পের মধ্যে কম ঝুঁকিপূর্ণটি’।
ইল-৭৬ বিমান দুটি উড়েছিল প্রায় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট (ভাটিয়া) থেকে সন্ধ্যা ৬টার (জোশী ও জার্নালের নিবন্ধ) মধ্যে, জোড়ায় জোড়ায়, দ্বিতীয়টি প্রথমটির এক কিলোমিটার পিছনে, বাতি নেভানো অবস্থায়। বিবিসি আধ ঘণ্টার মধ্যেই খবর দেয় যে ভারতীয় সেনারা পথে রয়েছে, জার্নালের নিবন্ধ বলছে।
হুলহুলের ওপরে বেওয়ু রেডিওতে নিশ্চিত করেন সেই সংকেত-শব্দ, যার অর্থ বিমানঘাঁটি তখনো বন্ধুর হাতে। ভাটিয়ার বানানে হুদিয়া আর জোশীর বানানে হাদিয়া, এটি ধিভেহি ভাষায় ‘উপহার’, ভাটিয়া ২০২০ সালে স্ট্র্যাটনিউজ গ্লোবালকে বলেছিলেন। রানওয়ের বাতি জ্বলেছিল কয়েক সেকেন্ডের জন্য, জার্নালের নিবন্ধের হিসাবে দশ আর বিমানে থাকা জোশীর হিসাবে তিন থেকে পাঁচ, আর চাকা মাটি ছোঁয়ার সময় নিভে যায়। প্রথম বিমানটি থেমেছিল তিনটি কংক্রিটের স্ল্যাব বাকি রেখে, নিবন্ধটি বলছে; জোশী বলেন রানওয়ের শেষ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার আগে।
প্রথম অবতরণের সময় ভাটিয়া দিয়েছেন ২১৪৮ ঘণ্টা আর জার্নালের নিবন্ধ প্রায় রাত ১০টা। বিমানঘাঁটি কেউ দখলে রাখেনি, অবতরণে কোনো বাধা আসেনি।
জল পেরিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে
জোশী বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আর ৬ প্যারার পায়োনিয়ার প্লাটুন কাছের একটি পর্যটন রিসর্টে সাতটি স্পিডবোট পায় আর প্রায় ৯০ মিনিটে সেগুলো হুলহুলেতে নিয়ে আসে, চালকেরা ছিল আতঙ্কিত; ভাটিয়া বলেন সেনারা স্থানীয় নৌকা দখলে নেয়। রওনা হওয়ার সময় তাঁরা দেখেন মালে অ্যাটল ছেড়ে একটি জাহাজ চলে যাচ্ছে। ভাটিয়ার বিবরণে সেটির ওপর সব উপলব্ধ ফায়ারপাওয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়; জোশী বলেন সেটি তিনটি রকেট খেয়েছিল। সেটিই প্রগ্রেস লাইট, যে জাহাজ বিদ্রোহীরা পালানোর জন্য নিয়েছিল।
মালেতে, জোশী লিখেছেন, সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বাড়িতে যেখানে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইলিয়াস ইব্রাহিম লুকিয়ে ছিলেন, আর তিনি রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তারক্ষীদের রাজি করাতে সাহায্য করেন যাতে তাঁরা সেনাদের যেতে দেয়। ভাটিয়ার বিবরণে কর্নেল জোশী আর মেজর আর. জে. এস. ধিলোঁ প্রায় রাত ২টা ২০ মিনিটে গায়ুমকে তাঁর নিরাপদ আশ্রয় থেকে বের করে আনেন; জার্নালের নিবন্ধ বলছে ২টা ১৫ মিনিট। দুই কর্মকর্তার বিবরণেই তিনি প্রায় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। গায়ুম মালেতেই থাকতে চেয়েছিলেন, অথচ নির্দেশ ছিল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসার, ভাটিয়া যোগ করেন।
সকাল নাগাদ ১,৬০০-র বেশি সেনা হুলহুলেতে নেমেছিলেন, ভাটিয়া বলেন। জার্নালের নিবন্ধে আছে মালদ্বীপের বাহিনীর সঙ্গে ঘরে ঘরে তল্লাশির কথা, যাতে প্রায় ৩০ জন হামলাকারী ধরা পড়ে।
দুটি ফ্রিগেট আর প্রগ্রেস লাইট
হামলাকারীদের প্রায় ৬০ জন সাতজন জিম্মি নিয়ে প্রগ্রেস লাইটে পালায়, তাদের মধ্যে ছিলেন একজন মন্ত্রিসভার সদস্য আহমেদ মুজুতাবা ও তাঁর স্ত্রী, জার্নালের নিবন্ধ বলছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ইল-৩৮ ৪ নভেম্বর সকাল ৮টায় হুলহুলেতে নামে, মালের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কাত হয়ে চলা জাহাজ দেখার পর, ভাটিয়া লিখেছেন, আর আইএনএস গোদাবরী ও আইএনএস বেতওয়া এগিয়ে যায় ৬ নভেম্বর।
২০১৪ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) লিখেছিল, জাহাজ দুটি ‘মালদ্বীপের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পলায়মান ভাড়াটে সৈন্যদের হাত থেকে অপহৃত মানুষদের উদ্ধার করেছিল’, যা স্থায়ী সদিচ্ছা এনে দেয়। জার্নালের নিবন্ধ অনুযায়ী আইএনএস তির তাদের সঙ্গে যোগ দেয়, মালদ্বীপের আলোচকেরা গোদাবরীতে চড়ে যান, আর আইএনএস দীপক পরে পৌঁছয় ২৫ জন মেরিন কমান্ডো নিয়ে।
ইউপিআইয়ের মালে থেকে পাঠানো ৮ নভেম্বরের খবরে সমুদ্রের লড়াই রবিবার, ৬ নভেম্বর। প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেছিলেন বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে ১২ ঘণ্টার আলোচনা, প্রায় ৬০টি সতর্কতামূলক গুলি আর শক্তি দেখানোর জন্য একটি হেলিকপ্টার থেকে ডেপথ চার্জ ফেলার কথা। গোদাবরীর ক্যাপ্টেন ইউপিআইকে বলেন জাহাজ দুটি মালবাহী জাহাজের সামনে দিয়ে গুলি ছুড়েছিল আর পরের একটি গুলি, থামানোর লক্ষ্যে ছোড়া, হয়তো একটি ছোট আগুন লাগিয়েছিল। জোশী বলেন বেতওয়া পরে জাহাজটি ডুবিয়ে দেয়, আর বিদ্রোহীদের মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
যেখানে বিবরণগুলো আলাদা
ভারতীয় কর্মকর্তারা ৬ নভেম্বর ইউপিআইকে বলেছিলেন চারজন জিম্মি মারা গেছেন, তিনজন নিখোঁজ আর ২০ জন মুক্ত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ইউপিআইকে বলেন অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে, সাতজন ভাড়াটে সৈন্য, প্রগ্রেস লাইটের চারজন নাবিক আর চারজন জিম্মি। মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুজন জিম্মিকে ভাড়াটেরা মেরে ফেলেছে আর অন্য দুজন দৃশ্যত ভারতীয় কমান্ডোদের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা গেছেন, তিনি যোগ করেন যে তাঁর সরকার সঠিক সংখ্যা জানে না। জোশীর বিবরণে বিদ্রোহীরা পাঁচজন জিম্মিকে গুলি করে সমুদ্রে ফেলে দেয় জাহাজে ওঠার আগেই, আর ৬৮ জন জিম্মিকে পাওয়া যায়। জার্নালের নিবন্ধ অনুযায়ী জাহাজ দুটি গুলি চালানোর আগে একজন জিম্মি নিহত হয়েছিলেন।
পুরো অভ্যুত্থান-চেষ্টায় ইউপিআই প্রথমে খবর দিয়েছিল অন্তত ১২ জন নিহত আর ১০০ জন আহত, তারপর ৮ নভেম্বর অন্তত ২৭ জন নিহত। ২০২৫ সালে আদাদু আর দ্য স্ট্যান্ডার্ডের প্রকাশিত মালদ্বীপীয় বিবরণে নিহতের সংখ্যা ১৯, তার মধ্যে আটজন নিরাপত্তাকর্মী। ইউপিআই জানিয়েছিল গান্ধী সংসদে বলেছিলেন ভারতীয় বাহিনী একজন ভারতীয় হতাহত ছাড়াই চেষ্টাটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, আর ভাটিয়াও লিখেছেন কোনো হতাহতের কথা নেই।
ভাটিয়া আর জার্নালের নিবন্ধ দুজনেই বলেন ১৬ ঘণ্টা, ভাটিয়া অভিযানের প্রথম ইঙ্গিত থেকে আর নিবন্ধটি মালদ্বীপের সাহায্যের ডাক থেকে; ভাটিয়ার নিজের সময় অনুযায়ী প্রথম ফোন প্রায় সকাল ১০টায় আর প্রথম অবতরণ ২১৪৮ ঘণ্টায়।
ভারত আর মালদ্বীপের কাছে এর অর্থ
জার্নালের নিবন্ধ বলছে অভিযানটি ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক জোরদার করেছিল আর আন্তর্জাতিক প্রশংসা এনেছিল। টাইম পত্রিকা জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগান নয়াদিল্লিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় মূল্যবান অবদান’-এর জন্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ২০২৪ সালের মার্চের সংক্ষিপ্ত বিবরণ বলছে ১৯৮৮ সালে ভারতের দ্রুত সাহায্য আস্থা আর দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্ম দিয়েছিল, আর প্রয়োজন ফুরোনোর পর সেনা সরিয়ে নেওয়া ভারতের আধিপত্যের আশঙ্কা কমিয়েছিল।
সেনা সরিয়ে নেওয়ার হিসাব সূত্রভেদে আলাদা। ভাটিয়ার বিবরণে ৬ প্যারা আর দুটি কোম্পানি বাদে ব্রিগেড ১৭ নভেম্বরের মধ্যে চলে যায়; জার্নালের নিবন্ধ বলছে ৩ ও ৭ প্যারার প্রায় ৫০০ জন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির অনুরোধে দশ দিন থেকে যান, আর জোশী লিখেছেন ৬ প্যারা থেকে গিয়েছিল এক বছর।
১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা একটি বড় ক্ষেত্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবরণ বলছে। সেখানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের প্রশিক্ষণ-চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশে ভারতের ভাগ ধরা হয়েছে, দশ বছরে ১,৫০০-র বেশি প্রশিক্ষণার্থী। পিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে মালদ্বীপের সংকটে ভারতীয় নৌবাহিনীর তিনটি সাড়ার প্রথমটি ১৯৮৮, তারপর ২০০৪ সালের সুনামি আর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের জলসংকট। পরবর্তী ত্রাণ অভিযান আর ঋণ-সীমার কথা আছে প্রতিবেশী অঞ্চলে প্রথম সাড়াদাতা হিসেবে ভারতের ভূমিকা লেখায়, আর নৌবাহিনীর বৃহত্তর অংশীদারি আছে সাগর ও মহাসাগর দৃষ্টিভঙ্গিতে।
প্রতি ৩ নভেম্বর মালদ্বীপ বিজয় দিবস পালন করে। ২০২৪ সালের বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির দপ্তর ১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বরের ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে এবং মেজর জেনারেল (অব.) মুসা আলী জালিলকে সম্মান জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে প্রথম লড়াইয়ে নামা মালদ্বীপীয় কর্মকর্তাদের একজন তিনি। মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লা শহীদ ২০১৯ সালে বলেছিলেন ভারত সরকারের সামরিক সমর্থন ‘আমাদের হৃদয়ে খোদাই হয়ে আছে’। ১৯৮৯ সালের বিজয় দিবসের ভাষণে গায়ুম বলেছিলেন মালদ্বীপ রাজীব গান্ধী, তাঁর সরকার আর ভারতের মানুষের কাছে বিরাট ঋণী, আদাদু জানিয়েছে।
অন্য পাঠও আছে। টাইম ১৯৮৯ সালে জানিয়েছিল পাকিস্তান নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে সে অভ্যুত্থান-চেষ্টা সাজিয়েছে, আর মালদ্বীপের অভিযানকে বর্ণনা করেছিল ভারতের আঞ্চলিক পুলিশের ভূমিকা নেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা ইয়ামিন যুক্তি দিয়েছিলেন, আদাদু বলছে, যে বিদ্রোহীরা কারও নজরে না পড়ে মালদ্বীপে পৌঁছতে পারত না, আর এখানে উদ্ধৃত সূত্রগুলো সেই মতের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয় না। একই সংবাদমাধ্যম ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর জানিয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিজয় দিবসের বক্তব্যে ভারতীয় সাহায্যের উল্লেখ ছিল না, যা তারা বলেছে আগের রাষ্ট্রপতিরা স্বীকার করতেন। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর, আদাদু বলছে, ইয়ামিন এক্স-এ লেখেন: ‘আজকের দিনটি মালদ্বীপের প্রতি প্রতিবেশী ভারতের সমর্থনের স্থায়ী স্মারক।’
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Lt Gen Vinod Bhatia (retd), Revisiting Maldives: India's Military Intervention, Synodos Paper Vol. XII No. 2, Centre for Joint Warfare Studies, February 2018
- Brig S. C. Joshi (retd), Operation Cactus Maldives, Occasional Paper Vol. 3, Centre for Joint Warfare Studies, December 2017
- Gulbin Sultana, Operation Cactus: India's First Rapid Reaction Strategic Mission in the Neighbourhood, Journal of Defence Studies, Vol. 17 No. 4, October to December 2023 (MP-IDSA)
- Press Information Bureau, Ministry of Defence: Indian Navy the First to Respond in Maldivian Crisis (7 December 2014)
- Ministry of External Affairs: India-Maldives Bilateral Relations (brief, March 2024)
- UPI Archives: Indian forces today captured a boat carrying mercenaries who fled the Maldives (Iqbal Athas, Colombo, 4 November 1988)
- UPI Archives: Indian ships opened fire on mercenary vessel (Dieter Ludwig, Malé, 8 November 1988)
- Ross H. Munro, India: The Awakening of an Asian Power, Time, 3 April 1989
- StratNews Global: Surgical, synchronised, precise, tri-service op went off like a Swiss clock, Lt Gen Vinod Bhatia (retd) (3 November 2020)
- The President's Office, Republic of Maldives: President confers the Grand Order of Military Honour on Major General (retd) Moosa Ali Jaleel (3 November 2024)
- The President's Office, Republic of Maldives: President inaugurates movie inspired by 1988 terror attack in Maldives (16 July 2016)
- The Standard (Maldives): Victory Day tribute, remembering India's role in defending the Maldives (3 November 2025)
- DT Next: Maldives FM hails India for help in averting 1988 coup (3 November 2019)
- Adhadhu: Muizzu makes no mention of Indian assistance on Victory Day (4 November 2025)
- Adhadhu: Victory Day is a permanent reminder of India's assistance, Yameen (4 November 2025)
পর্দায় ও বইয়ে
- Operation Cactus: Indian Military Intervention in the Maldives, 1988 , লেখক Sanjay Badri-Maharaj . হেলিয়নের এশিয়া@ওয়ার সিরিজের একটি সংক্ষিপ্ত মনোগ্রাফ, যার পর্যালোচনা করেছে আইপিএমএস/ইউএসএ ২০২২ সালের মে মাসে
- Haadharu . মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের প্রযোজনা, যাকে রাষ্ট্রপতির দপ্তর বর্ণনা করেছে ১৯৮৮ সালের ৩ নভেম্বরের হামলা থেকে অনুপ্রাণিত বলে
এই তালিকা তাঁদের জন্য যাঁরা পর্দায় দেখা গল্পের পিছনের ইতিহাস খুঁজছেন। কোনো নাট্যরূপ সূত্র নয়, এবং এই কাজগুলির কোনোটির সঙ্গে tuput যুক্ত নয়।
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।