Skip to content
পল্লবদের বন্দর মহাবলীপুরমে আছে একেকটি অখণ্ড পাথর কেটে বানানো পাঁচটি মন্দির, প্রায় ৩০ মিটার লম্বা একটি পাথরের ভাস্কর্য-ফলক আর একটি তীর-মন্দির, সবই ১৯৮৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর তালিকায়
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারত

পল্লবদের বন্দর মহাবলীপুরমে আছে একেকটি অখণ্ড পাথর কেটে বানানো পাঁচটি মন্দির, প্রায় ৩০ মিটার লম্বা একটি পাথরের ভাস্কর্য-ফলক আর একটি তীর-মন্দির, সবই ১৯৮৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর তালিকায়

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

চেন্নাই থেকে ৬০ কিমি দক্ষিণে মহাবলীপুরম ছিল পল্লবদের সমুদ্রবন্দর, আর ইউনেস্কো ১৯৮৪ সালে এর স্মৃতিস্তম্ভগুলো তালিকাভুক্ত করেছিল পাঁচটি গোষ্ঠীতে: গুহা-মন্দির, পাঁচটি অখণ্ড রথ, পাথরের ভাস্কর্য-ফলক, গাঁথা মন্দির আর খনন-করা অবশেষ। অর্জুনের তপস্যা নামের ফলকটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এখনও তীর-মন্দিরের সামনের সমুদ্রতল জরিপ করছে, সবচেয়ে সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের আগস্টে দূর-চালিত যান দিয়ে।

· · 7 মিনিটের পাঠ

মহাবলীপুরম, যার বানান মামল্লপুরমও লেখা হয়, তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে, চেন্নাই থেকে ৬০ কিমি দক্ষিণে। ইউনেস্কো ১৯৮৪ সালে এর স্মৃতিস্তম্ভগুলো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তোলে আর সাজায় পাঁচটি গোষ্ঠীতে: পাথর-কাটা গুহা-মন্দির, পাঁচটি অখণ্ড মন্দির, পাথরের ভাস্কর্য-ফলক, গাঁথা মন্দির, আর অন্যগুলোর খনন-করা অবশেষ। তালিকাভুক্ত স্মৃতিস্তম্ভগুলো সপ্তম ও অষ্টম শতকের পল্লব কাজ, বংশটির নিজের বন্দরে তৈরি।

১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো কী তালিকাভুক্ত করেছিল

ইউনেস্কোর বিবরণ মহাবলীপুরমকে বলেছে পল্লবদের একটি বিখ্যাত বন্দর-শহর আর পাঁচটি গোষ্ঠীর নাম একে একে দিয়েছে। মণ্ডপগুলো পাথর-কাটা গুহা, তার মধ্যে মহিষাসুরমর্দিনী গুহা আর বরাহ মণ্ডপ। রথগুলো অখণ্ড মন্দির, প্রতিটি একটি পাথর থেকে কাটা। পাথরের ভাস্কর্য-ফলকের মধ্যে আছে অর্জুনের তপস্যা আর গোবর্ধনধারী ফলক। গাঁথা মন্দিরগুলো সাধারণ মুকুন্দনায়নার মন্দির থেকে তীর-মন্দির পর্যন্ত। পঞ্চম গোষ্ঠী হল তীর-মন্দিরের চারপাশের বালি খুঁড়ে বের করা অবশেষ।

ইউনেস্কো তালিকাভুক্তির চারটি কারণ দিয়েছে, তার মানদণ্ড (i), (ii), (iii) আর (vi)। তারা ‘গঙ্গার অবতরণ’ ফলকটিকে বলেছে এক অনন্য শিল্পসাফল্য আর এলিফ্যান্টা দ্বীপের ফলকটির সঙ্গে তুলনা করেছে। তারা বলেছে, মহাবলীপুরমের মূর্তিগঠনের কোমলতা আর নমনীয়তা কম্বোডিয়া, আন্নাম আর জাভা পর্যন্ত ছড়িয়েছিল। তারা স্থানটিকে বলেছে দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে পল্লব সভ্যতার সাক্ষ্য, আর তীর্থস্থানটির নাম করেছে শিবপূজার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে।

বিখ্যাত রাজার আগেই একটি সমুদ্রবন্দর

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) স্থানটির পাতায় বলছে, পেরিপ্লাসের সময়ে (খ্রিস্টীয় প্রথম শতক) আর টলেমির সময়ে (১৪০ খ্রিস্টাব্দ) মহাবলীপুরম আগেই সমুদ্রবন্দর ছিল, আর ভারতীয়েরা এখান থেকে জাহাজে গিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসতি গড়েছিল। ব্রিটানিকা যোগ করেছে, মহাবলীপুরমে পাওয়া চীনা, ফার্সি আর রোমান মুদ্রা একই আদি বন্দরের দিকে ইঙ্গিত করে। এর চারপাশের রাজ্য, আজকের তামিলনাড়ু, আছে তামিলনাড়ু এক নজরে লেখায়।

নামটি এসেছে এক রাজার থেকে। এএসআই বলছে, মামল্লপুরম নামটি পল্লব শাসক প্রথম নরসিংহবর্মনের (৬৩০ থেকে ৬৮ খ্রিস্টাব্দ) মামল্ল উপাধি থেকে, আর তারা অনেক স্মৃতিস্তম্ভ তাঁর আমলের বলে ধরে। ব্রিটানিকা বলছে, শহরের ধর্মীয় কেন্দ্র তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর বাবা প্রথম মহেন্দ্রবর্মন (রাজত্ব প্রায় ৬০০ থেকে ৬৩০) মামল্লপুরমের কিছু সবচেয়ে অলংকৃত স্মৃতিস্তম্ভ আগেই বানিয়েছিলেন, ব্রিটানিকা অনুযায়ী, বিশেষ করে শিবের জন্য, আর সংস্কৃত নাটকও লিখেছিলেন।

ব্রিটানিকা পল্লব শাসনকে বর্ণনা করেছে বাণিজ্যিক উদ্যোগে চিহ্নিত বলে, আর তালিকা দিয়েছে বংশটির সংগীত, চিত্রকলা আর সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার। একই বিশ্বকোষের চালুক্যদের, বাতাপি রাজ্যে পল্লবদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের, নিবন্ধে আছে, পল্লবেরা বাতাপি (আজকের বাদামি) দখল করেছিল ৬৪১ থেকে ৬৪৭ সালের মধ্যে। চালুক্যেরা ৬৫৫ সালের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ায় আর প্রথম বিক্রমাদিত্য প্রায় ৬৭০ সালে কাঞ্চীপুরম নেয়। ব্রিটানিকা পল্লব ভূমির চোল রাজাদের হাতে চলে যাওয়ার সময় ধরেছে প্রায় ৮৮০, যে গল্প বলা আছে রাজরাজ চোল, সমুদ্রের সম্রাট লেখায়।

পাঁচটি রথ, প্রতিটি একটি পাথর থেকে কাটা

ইউনেস্কো ব্যাখ্যা করেছে, রথগুলোকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় রথ, মানে রথযান, কারণ এগুলো দেখতে মন্দিরের শোভাযাত্রার রথের মতো, আর প্রতিটি কাটা হয়েছে একটি বিশাল পাথর থেকে। এগুলোতে দেখা যায় তখনকার একটি মন্দিরের পূর্ণ রূপ, নকশা আর উচ্চতার তারতম্যসহ, আর এদের দেওয়ালে আছে হিন্দু দেবদেবী আর রাজকীয় প্রতিকৃতির ফলক।

এএসআইয়ের পাতা একে একে প্রতিটির বর্ণনা দেয়। এগুলোর নাম মহাভারতের পাণ্ডব ভাইদের আর তাঁদের স্ত্রী দ্রৌপদীর নামে। দ্রৌপদী রথ একটি সাধারণ কুঁড়ের মতো মন্দির। অর্জুন রথ দোতলা, বারান্দাসহ। ভীম রথ আয়তাকার, পিপের মতো খিলান-ছাদের। ধর্মরাজ রথ তিনতলা, প্রতিটি তলায় কার্যকর মন্দির। নকুল-সহদেব রথের নকশা অ্যাপসাকার, এক প্রান্ত গোল, আর এএসআই একে বলেছে পরীক্ষামূলক নকশার নিদর্শন।

কালনির্ণয় পুরোপুরি স্থির নয়। ব্রিটানিকা পাঁচটি রথের ছবির ক্যাপশনে লিখেছে এগুলো নরসিংহবর্মনের রাজত্বে তৈরি। ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি এনসাইক্লোপিডিয়া বলেছে কাজ শুরু হয়েছিল তাঁর বাবা প্রথম মহেন্দ্রবর্মনের অধীনে আর শেষ হয়েছিল প্রথম নরসিংহবর্মনের অধীনে, আর রথগুলো কখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি বা উপাসনায় ব্যবহৃত হয়নি।

জীবন্ত পাথর থেকে একটি গোটা মন্দিরকে মুক্ত করার ধারণা সবচেয়ে বড় মাপে পৌঁছেছিল মহারাষ্ট্রে, যেখানে ইউনেস্কো ইলোরার কৈলাস মন্দিরকে বলেছে সবচেয়ে বড় অখণ্ড মন্দির আর ভারতে পাথর-কাটা স্থাপত্যের চূড়ান্ত রূপ। সেই স্থান নিয়ে আছে অজন্তা আর ইলোরা লেখায়।

যে ফলককে পণ্ডিতেরা দুভাবে পড়েন

অর্জুনের তপস্যা, যার আরেক নাম গঙ্গার অবতরণ, পর্যটন মন্ত্রকের ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া সাইট অনুযায়ী প্রায় ১০০ ফুট লম্বা আর ৪৩ ফুট উঁচু, যা হিসাব করলে দাঁড়ায় মোটামুটি ৩০ মিটার বাই ১৩। এটি সপ্তম শতকের একটি ভাস্কর্য-ফলক, দুটি গ্রানাইট পাথরের গায়ে, যাদের মাঝখান দিয়ে গেছে একটি প্রাকৃতিক খাড়া ফাটল, আর কালচারাল সংবাদ এতে ১০০-র বেশি মূর্তি গুনেছে। পর্যটন মন্ত্রকের নিজের লেখা বলছে, এই একটি ভাস্কর্য দুটি কাহিনি বলে।

Puratattva, যা পণ্ডিতি কাজের জরিপ করে, দলের মধ্যে নয়টি হাতি গুনেছে, দুটি বড় আর সাতটি শাবক, আর ফাটলে তিনটি নাগ, অর্থাৎ সর্পসত্তা। এতে দেবতা শিব প্রায় ৩ মিটার লম্বা আর তাঁর পাশের তপস্বী ২ মিটারের বেশি।

দুটি কাহিনিই তর্কের বিষয়। এক পাঠে তপস্বীকে চিহ্নিত করা হয় অর্জুন বলে, যিনি শিবের কাছ থেকে পাশুপত অস্ত্র পেতে তপস্যা করছেন, মহাভারতের এই পর্ব কবি ভারবি বিস্তার করেছিলেন কিরাতার্জুনীয়মে। অন্য পাঠে তিনি রাজা ভগীরথ, যাঁর তপস্যা গঙ্গাকে পৃথিবীতে এনেছিল, শিব নিজের চুলে তাঁর স্রোত ধরছেন আর ফাটলটি নদীর প্রতীক। Puratattva বলছে, গঙ্গা-পাঠের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দুব্রেই আর গোলুবেভ ১৯১৪ সালে, আর লংহার্স্ট পেয়েছিলেন পাথর-কাটা নালা, যা ফাটল বেয়ে জল নামাত।

কোনো শিলালিপি এর মীমাংসা করে না। Puratattva মাইকেল রাবের একটি হিসাবের কথা জানায়: ভগীরথের পক্ষে ৪৩টি প্রকাশনা, অর্জুনের পক্ষে ৩৯টি আর ২৫টি নিরপেক্ষ বা অন্য পাঠ দেয়। রাবে আর পদ্মা কাইমাল দুজনেই ফলকে দুটি পর্বই দেখেন, আর Puratattva বলছে রাবে কাজটির কৃতিত্ব দেন প্রথম নরসিংহবর্মনকে। কালচারাল সংবাদ জানাচ্ছে, ফলকে ইঁদুরের মধ্যে একটি বিড়ালকে বেশিরভাগ পণ্ডিত পড়েন পঞ্চতন্ত্রের ভণ্ড বিড়ালের গল্পের উল্লেখ হিসেবে।

তীর-মন্দির, কাটা পাথরে গাঁথা

এএসআই তীর-মন্দিরকে বর্ণনা করেছে তিনটি মন্দিরের একটি সমষ্টি হিসেবে: ছোট রাজসিংহেশ্বর, বড় ক্ষত্রিয়সিংহেশ্বর আর নৃপতিসিংহ পল্লব বিষ্ণুগৃহ, যাতে আছে শায়িত বিষ্ণু। দুটি বেষ্টনী প্রাচীরে একসময় ভাস্কর্যের ফলক ছিল, এখন ক্ষয়ে গেছে। এএসআই নির্মাতা রাজসিংহের তারিখ দিয়েছে ৭০০ থেকে ২৮ খ্রিস্টাব্দ আর বলেছে তিনি বড় মাপে কাঠামোগত স্থাপত্য চালু করেছিলেন, অর্থাৎ পাথরের ভেতরে কেটে নয়, পাথর গেঁথে ওপরে তোলা মন্দির।

ব্রিটানিকা তীর-মন্দিরের তারিখ দিয়েছে প্রায় ৭০০ আর বলেছে একে মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির-স্থাপত্যের সবচেয়ে ভালো আদি উদাহরণ ধরা হয়। এটি কাটা পাথরে গাঁথা, প্রতিবেশীদের বেশিরভাগের মতো নয়, আর এর চূড়া ধাপে ধাপে পিরামিড, মাথায় গম্বুজ আর কলস, উত্তরের শিখরের থেকে বেশ আলাদা এক গড়ন।

এর চারপাশে খোঁড়া চলেছে বছরের পর বছর। ইউনেস্কো বলছে, ক্রমাগত বালি সরানোয় মন্দিরের চারপাশে চাপা পড়া কাঠামো বেরিয়েছে: একটি ধাপযুক্ত কাঠামো, একটি ক্ষুদ্র মন্দির, ভূবরাহ, বরাহরূপী বিষ্ণুর একটি মূর্তি, একটি শায়িত বিষ্ণু আর একটি কুয়ো, সবই আদি শিলায় খোদাই। এএসআই যোগ করেছে সমুদ্রমুখী একটি ধাপযুক্ত ঘাট, পাওয়া গেছে দক্ষিণে।

আজ স্থানটি কীভাবে সুরক্ষিত

এএসআই ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও অবশেষ আইন আর এর পরের সংশোধনীগুলোর অধীনে সম্পত্তিটি সুরক্ষা ও পরিচালনা করে। ইউনেস্কোর লেখা তালিকাভুক্ত সম্পত্তিটির চারপাশে ১০০ মিটারের একটি নিষিদ্ধ এলাকা আর ২০০ মিটারের একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঠিক করেছে, আর এর সংরক্ষণের অবস্থাকে বলেছে ভালো, কোনো বড় হুমকি নেই। এর একমাত্র নাম-করা উদ্বেগ ওই এলাকাগুলোর ভেতরে দখল আর অননুমোদিত নির্মাণ। ব্রিটানিকা যোগ করেছে, শহরে একটি কলেজ আছে যেখানে স্থাপত্য আর মন্দির-ভাস্কর্য শেখানো হয়।

২০০৪ সালের সুনামি কী প্রকাশ করেছিল, আর এখনও চলতে থাকা জরিপ

এএসআইয়ের আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজি উইং ২০০১ সালের নভেম্বরে মহাবলীপুরমের বঙ্গোপসাগরে প্রথম সমুদ্র-অনুসন্ধান করে, তীর-মন্দিরের পূর্ব আর উত্তরে ৬ থেকে ১০ মিটার গভীরে ডুবুরিরা কাজ করেছিলেন। এর পাতা জানায়, ডুবে থাকা পাথর আর খণ্ডে সোজা জোড় আর কোণাকার কাটা ছিল, যা মানুষের কাজের ইঙ্গিত দেয়, আর বলে এই স্থান উপকূলরেখা কীভাবে বদলেছে তা পড়তে সাহায্য করতে পারে।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সুনামি ছবিতে আরও যোগ করেছিল। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এএসআইয়ের জ্যেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক টি. সত্যমূর্তিকে উদ্ধৃত করে, তিনি বলেছিলেন জলের শক্তি প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা তিনটি পাথুরে কাঠামো থেকে বালির স্তর সরিয়ে দিয়েছে, যা সপ্তম শতকে গড়া একটি বন্দরের অংশ বলে মনে হয়। প্রতিবেদনের ছবির ক্যাপশনে আছে খোদাই করা একটি হাতির মাথা, উড়ন্ত একটি ঘোড়া আর একটি শায়িত সিংহ। ডাউন টু আর্থ ২০০৬ সালে জানিয়েছিল, এএসআইয়ের আলোক ত্রিপাঠী তীর-মন্দিরের টিকে থাকার কারণ বলেছেন এর আদি শিলার ভিত, যেখানে অন্য কাঠামোগুলো দাঁড়িয়ে ছিল বালির ওপর।

লোকমুখে চলা কাহিনি, যাতে সুনামি একটি হারানো শহর আবিষ্কার করেছিল, শুধু আংশিক ঠিক। লাইভ হিস্ট্রি ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, তামিল জেলেরা জলের নিচে খোদাই করা পাথরের কথা জানানোর পর এএসআইয়ের চেন্নাই সার্কেল ২০০১ সালে কাজ শুরু করেছিল, আর ত্রিপাঠীর দল অনুসন্ধান শুরু করে ২০০২ আর ২০০৩ সালে। একই পাতা বলছে, প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সাতটি মন্দিরের, সাত প্যাগোডার, কিংবদন্তি নিশ্চিত করেননি, যদিও এপি জানায় আদি ব্রিটিশ ভ্রমণ-লেখকেরা সাতটি প্যাগোডার কথা লিখেছিলেন, তার ছয়টি জলে ডুবে।

কাজ আবার শুরু হয়েছে। স্বরাজ্য ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট জানিয়েছে, আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজি উইং প্রায় দুই দশক পর শেষ বড় জরিপের পর উপকূলে ফিরেছে, এবার একটি দূর-চালিত যান নিয়ে, যা সমুদ্রতলকে না ঘেঁটে ছবি তোলে। অর্গানাইজার এএসআইয়ের ২০২৫ সালের ১৬ আগস্টের একটি পোস্ট উদ্ধৃত করেছে, যাতে বর্ণিত আছে ৭ম থেকে ৮ম শতকের পল্লব যুগের অবশেষ, যা নাবিকদের জন্য দিক-চিহ্নের কাজ করত। এতে বলা আছে মহিষাসুর শিলার উত্তরে একটি নিয়মিত অধ্যয়নে তিনটি দেওয়াল আর খোদাই করা বেশ কয়েকটি স্থাপত্য-খণ্ড ইতিমধ্যে মিলেছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই সংসদে বলেছেন, দ্যপ্রিন্ট জানিয়েছে, মহাবলীপুরম ২০৩০ সাল পর্যন্ত সমুদ্র-অনুসন্ধান ও খননের জন্য চিহ্নিত পাঁচটি স্থানের একটি।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. UNESCO World Heritage Centre: Group of Monuments at Mahabalipuram
  2. Archaeological Survey of India: Group of Monuments Mahabalipuram (1984), Tamil Nadu
  3. Archaeological Survey of India: Underwater Archaeology Wing
  4. Incredible India (Ministry of Tourism): Arjuna's Penance, Mamallapuram
  5. UNESCO World Heritage Centre: Ellora Caves
  6. Encyclopaedia Britannica: Mahabalipuram
  7. Encyclopaedia Britannica: Pallava dynasty
  8. Encyclopaedia Britannica: Chalukya dynasty
  9. Encyclopaedia Britannica: Shore Temple
  10. World History Encyclopedia: Mahabalipuram (Mamallapuram), Tamil Nadu
  11. Cultural Samvaad: The Continuing Enigma of the Great Mahabalipuram Relief
  12. Puratattva: Mamallapuram, The Great Penance
  13. The Associated Press via NBC News: Tsunami uncovers ancient city in India (18 February 2005)
  14. Down To Earth: Tsunami uncovers ancient sculptures in Mahabalipuram in Tamil Nadu (30 June 2006)
  15. Live History India: Mahabalipuram, the Temple that Rose from the Sea (13 September 2018)
  16. Organiser: ASI resumes underwater archaeological studies off Mahabalipuram (18 August 2025)
  17. Swarajya: ASI resumes underwater archaeological exploration off Mahabalipuram with ROV technology (17 August 2025)
  18. ThePrint: Centre spent Rs 1.41 crore on marine archaeology research (30 July 2026)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#mahabalipuram#mamallapuram#pallava dynasty#shore temple#pancha rathas#arjuna's penance#unesco world heritage#underwater archaeology

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারত
ইলোরার কৈলাস মন্দির একটিমাত্র ব্যাসল্ট ঢাল থেকে নিচের দিকে কেটে গড়া, আর নির্মাতারা আনুমানিক ১,৫০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টন পাথর সরিয়েছিলেন
মহারাষ্ট্রে এক পাহাড়ের গায়ে রাজমিস্ত্রিরা পরিখা খুঁড়েছিলেন, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল একটি মন্দির। কে এর আদেশ দিয়েছিলেন, আর এক রাজত্বে কতটা শেষ করা সম্ভব ছিল, তা নিয়ে তর্ক এখনও চলে ৮১২ সালের কাছাকাছি জারি হওয়া একটি তাম্রশাসন থেকে।
স্যার জন মার্শাল ১৯১৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত তক্ষশিলা খুঁড়ে তিনটি নগর পেয়েছেন কিন্তু কোনো বক্তৃতাকক্ষ পাননি, আর জাতকে আছে এক রাজপুত্র ১,০০০ মুদ্রার শিক্ষকের ফি নিয়ে পৌঁছাচ্ছেন
একটি জাতকে বেনারসের রাজা তাঁর ষোলো বছরের ছেলেকে শিক্ষকের জন্য একটি থলি দিয়ে তক্ষশিলায় পাঠান। আলতেকর আর স্থানটি নিয়ে ব্রিটানিকার ভুক্তি, দুজনেই বলেন তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য আধুনিক অর্থে কোনো কলেজ সেখানে ছিল না।
নালন্দা হাজার হাজার ভিক্ষুর ভরণপোষণ চালাত দান করা গ্রামের রাজস্বে, আর ১২৩৫ সালেও সেখানে ক্লাস চলতে দেখেছিলেন এক তিব্বতি তীর্থযাত্রী
একটি মঠের মেঝের নিচে খুঁজে পাওয়া একটি মুদ্রা, বিহার নামের একটি দুর্গ নিয়ে একটি ফার্সি ইতিবৃত্ত আর এক তিব্বতি ভিক্ষুর জীবনী, নালন্দা কবে শুরু হয়েছিল আর কীভাবে শেষ হয়েছিল তার প্রধান প্রমাণ এগুলোই।
← সব লেখা