ছবি: BhuyanBhaskar / Wikimedia Commons, CC BY 4.0 (ছাঁটা)
বাংলা
বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই নতুন দিল্লিতে তার ৪৬তম অধিবেশনে (iii) আর (iv) মানদণ্ডে 'মইদাম, আহোম রাজবংশের টিলা-সমাধি ব্যবস্থা' তালিকাভুক্ত করেছে। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্তিতে অসমের চরাইদেউ জেলায় ৯৬.৫ হেক্টরে ৯০টি মইদামের কথা আছে, যা ত্রয়োদশ থেকে ঊনবিংশ শতকে তৈরি। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ আর অসম প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যৌথভাবে স্থানটির দেখাশোনা করে।
২০২৪ সালের ২৬ জুলাই নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে বৈঠকরত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ‘মইদাম, আহোম রাজবংশের টিলা-সমাধি ব্যবস্থা’ বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি ভারতের ৪৩তম সম্পত্তি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বলছে, অসম থেকে এটি তৃতীয়, কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান আর মানস বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পর (দুটিই ১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত), এবং প্রথম সাংস্কৃতিক।
সম্পত্তিটি পূর্ব অসমের চরাইদেউ জেলায় পাটকাই পর্বতমালার পাদদেশে ৯০টি মাটির সমাধিটিলার একটি গুচ্ছ, যেখানে তাই-আহোমরা প্রায় ৬০০ বছর নিজেদের রাজাদের সমাধি দিয়েছেন। ইউনেস্কোর সার্বজনীন অসামান্য মূল্যের বিবৃতি একে বলেছে ‘একটি ভৌত স্থান যেখানে তাই-আহোম রাজপরিবার দেবতা হয়ে উঠতেন’।
মইদাম কী
ইউনেস্কোর লেখায় ‘মইদাম’ শব্দের অর্থ দেওয়া আছে ‘আত্মার ঘর’। প্রতিটি একটি মাটির টিলা (গা-মইদাম, Ga-Moidam), ইট, পাথর বা মাটির ফাঁপা কক্ষের ওপর তৈরি, যার নাম তাক (Tak)। গড় (Garh) নামের নিচু অষ্টভুজ প্রাচীরের কেন্দ্রে, টিলার মাথায়, থাকে একটি ছোট দেবস্থান, চৌ চা লি (Chou Cha Li)। ইউনেস্কো বলছে আকারটি তাই বিশ্বের প্রতীক, আর দেবস্থানটি মুংক্লাং (Mungklang), স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝে সোনার সিঁড়ির মতো কল্পিত এক মধ্যবর্তী স্থান।
আইকোমস, যে পরামর্শদাতা সংস্থা কমিটির জন্য মনোনয়নটি মূল্যায়ন করেছে, কক্ষের ভেতরে সুগন্ধি মাখানো মরদেহ বা রাজার দাহাবশেষের জন্য একটি সমাধিগর্তের কথা বর্ণনা করেছে। ইউনেস্কো সমাধি-সামগ্রীর মধ্যে খাবার, ঘোড়া আর হাতির কথা তালিকায় রেখেছে এবং বলছে কক্ষগুলোতে কখনও কখনও রানি আর ভৃত্যরাও থাকেন। কক্ষটিকে বিশ্বাস করা হত অস্থায়ী বিশ্রামস্থল। আইকোমস লিখেছে, ২১ দিন পরে আত্মা স্বর্গে যাত্রা করে ফি (Phi) হয়ে উঠত, আর টিলাটি তখন পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানোর আচারের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াত।
টিলাগুলো একটি পরিকল্পিত পরিবেশে। ইউনেস্কো বলছে, পবিত্র গাছ লাগানো হয়েছিল আর জলাশয় তৈরি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল বটগাছ আর কফিন ও ছালের পুঁথির জন্য ব্যবহৃত গাছ। আইকোমসের বর্ণনায় জলাশয় ভরতে ঝরনার ধারা কেটে আনা হয়েছিল, আর জমির স্বাভাবিক উঁচুনিচু আরও স্পষ্ট করতে খাদ কাটা হয়েছিল।
কেন চরাইদেউ
ইউনেস্কোর লেখা বলছে, রাজকুমার সিউ-কা-ফার নেতৃত্বে তাই-আহোমরা ত্রয়োদশ শতকে বর্তমান অসমে পরিযান করে এবং চরাইদেউকে বেছে নেয় তাদের প্রথম রাজধানী ও রাজকীয় সমাধিক্ষেত্র হিসেবে। পরামর্শদাতা সংস্থার বিবরণে তাদের উৎস ছিল মং-মাও, আজকের মিয়ানমার ও চীনের সীমান্তের একটি এলাকা।
এডওয়ার্ড গেটের ১৯০৬ সালের অসমের ইতিহাস, যা বুরঞ্জি নামে পরিচিত আহোম ইতিবৃত্তের ওপর নির্ভর করেছে, রাজকুমারের নাম লিখেছে সুকাফা। গেট ইতিবৃত্তগুলোকে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস ধরেছেন ১২২৮ সাল থেকে, যে বছর সুকাফা রাজা হন, আর চরাইদেউয়ে নগর নির্মাণের তারিখ দিয়েছেন ১২৫৩। আইকোমসের বিবরণে রাজা, রানি আর অভিজাতদের চরাইদেউয়ে সমাধি দেওয়ার ঐতিহ্য রাজবংশের ছয় শতাব্দী জুড়েই টিকে ছিল।
ছয়শো বছর, না সাতশো
ইউনেস্কো আর আইকোমস দুটিই ৬০০ বছর বলেছে, ত্রয়োদশ থেকে ঊনবিংশ শতক। তালিকাভুক্তির পরের সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী টিলা-সমাধি ব্যবস্থাকে বলেছেন ‘৭০০ বছরের পুরোনো’, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী। আহোম শাসন কোথায় শেষ হয়, সে নিয়েও সূত্রগুলো আলাদা। ব্রিটানিকা বলছে আহোমরা ত্রয়োদশ শতক থেকে ১৮৩৮ সালে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত অসমের বড় অংশ শাসন করেছে, রাজা রুদ্র সিংহের (১৬৯৬ থেকে ১৭১৪) আমলে ক্ষমতা চূড়ায় ওঠে। গেট ১৮২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির ইয়ান্দাবু চুক্তির কথা লিখেছেন, যাতে আভার রাজা অসমের বিষয় থেকে দূরে থাকতে রাজি হন, আর বলেছেন ১৮৩২ সালে কর দেওয়ার শর্তে উজান অসমের দায়িত্বে বসানো পুরন্দর সিংহকে ১৮৩৮ সালের অক্টোবরে সরিয়ে ভাতা দেওয়া হয়। চুক্তি নিয়ে ব্রিটানিকার ভুক্তি বলছে, মিয়ানমার অসমে সব দাবি ছেড়ে দেয়। আইকোমস বলছে ব্রিটিশ শাসন আসার সঙ্গে রাজকীয় সমাধি-আচার বন্ধ হয়ে যায়।
চরাইদেউয়ের জায়গা ছিল রাজবংশের যুদ্ধেও, কেবল অন্ত্যেষ্টিতে নয়। গেট নথিভুক্ত করেছেন, এক আহোম রাজা জয়ের পর সেখানে গিয়ে মৃতদের উদ্দেশে তর্পণ আর দেবতাদের উদ্দেশে বলি দিয়েছিলেন। এই সময়ে ১৬৭১ সালে সরাইঘাটে মুঘল বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ের কথা লাচিত বরফুকন আর সরাইঘাটের যুদ্ধ নিবন্ধে বলা আছে।
কাঠ থেকে ইট, আর সমাধি থেকে দাহ
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা বলছে, টিলাগুলো প্রথমে কাঠ দিয়ে, পরে পাথর আর পোড়া ইট দিয়ে তৈরি হত, আর প্রক্রিয়াটির বর্ণনা আছে চাংরুং ফুকন-এ, যাকে তারা আহোমদের প্রামাণ্য সাহিত্য বলেছে। আইকোমস বলছে সম্পত্তিটিতে দুই ধরনের গা-মইদাম আর কালক্রমে উপকরণের বদল দেখা যায়। দুটি ইতিবৃত্ত, চাং-রুং ফুকনার বুরঞ্জি আর আহোম বুরঞ্জি, অন্ত্যেষ্টির আচার আর টিলাগুলোয় লাগা উপকরণ ও শ্রমের হিসাব রেখেছে।
গেটের অষ্টাদশ শতকের বিবরণ দেখায় রাজসভায় হিন্দু প্রথা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে রীতিটি বদলাচ্ছিল। তিনি জানিয়েছেন, কেউ কেউ বলত রুদ্র সিংহকে মণি কর্ণেশ্বর পাহাড়ে দাহ করা হয়েছিল, কিন্তু আহোম ইতিবৃত্ত বলে তাঁর দেহাবশেষ পূর্বপুরুষদের মতোই সমাধিস্থ হয়েছিল। রাজেশ্বর সিংহের বেলায়, গেট লিখেছেন, মরদেহ ব্রহ্মপুত্রের তীরে দাহ করা হয় আর ভস্ম চরাইদেউয়ে সমাহিত হয়। আহোম উপজাতীয় পুরোহিত দেওধাইরা পরে সেই দাহকে পূর্বপুরুষদের রীতি থেকে সরে যাওয়া বলে দেখিয়েছিলেন। গেটের মতে তাঁরা রাজেশ্বরের একটি মাটির মূর্তি বানিয়ে আহোম রাজার জন্য নির্ধারিত আচারে সমাধি দেন। গেট যোগ করেছেন, গৌরীনাথ সিংহ রাজা হয়ে পিতার মরদেহ দাহ করে হিন্দু আচারে ভস্ম চরাইদেউয়ে সমাহিত করার আদেশ দেন। ইউনেস্কোর নিজের শব্দবন্ধ, ‘সমাধিস্থ বা দগ্ধ দেহাবশেষ’, দুটি রীতিই ধরে।
সমীক্ষায় যা গোনা হয়েছে
আইকোমস জানাচ্ছে, রাষ্ট্রপক্ষ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা জুড়ে ৩১৯টি মইদাম নথিভুক্ত করেছে। সবগুলো সুরক্ষিত নয়, আর অনেকগুলো জঙ্গলে ঢাকা। নব্বইটি রয়েছে তালিকাভুক্ত সীমানার ভেতরে, যাকে আইকোমস বর্ণনা করেছে সবচেয়ে ঘন ও সবচেয়ে সম্পূর্ণ গুচ্ছ হিসেবে, আর একমাত্র জায়গা যেখানে আহোম রাজা ও অন্য রাজপরিবারের দেহাবশেষ সমাধিস্থ হয়েছিল। সেখানকার ৯০-এর বেশি মইদামকে সে ৪২ জন তাই-আহোম রাজা ও অন্য রাজপরিবারের সদস্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
পাঁচটি মইদাম (সি০০২, সি০৩৮, সি০৭৭, সি০৭৮ আর সি০৯০ ক্রমে) কিছুটা গভীর পর্যন্ত খনন বা সংরক্ষণ করা হয়েছে। আইকোমসের মতে এএসআই আর অসম প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর স্থানটির নথি তৈরি করেছে ড্রোন, ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার আর লিডারসহ নানা পদ্ধতিতে, আর বাকি টিলাগুলো নজরদারিতে আছে ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়। খননে দেখা গেছে প্রতিটি খিলানযুক্ত কক্ষে একটি উঁচু কেন্দ্রীয় মঞ্চ আছে যেখানে মরদেহ রাখা হত, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা বলছে। বিংশ শতকের গোড়ায় গুপ্তধন-শিকারিরা স্থানটির ক্ষতি করেছিল, আর এএসআই ও রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তারপর থেকে তা পুনরুদ্ধার করেছে।
কে দেখাশোনা করে
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি টিলাগুলো রক্ষার কৃতিত্ব দিয়েছে এএসআই আর অসম সরকারকে। আইকোমস ভাগটি বুঝিয়েছে। চার মইদামের গুচ্ছ, এএসআইয়ের অধীনে ১৮.৮৭ হেক্টর, জাতীয় গুরুত্বের প্রাচীন স্মারক। বাকি ৭৬.১৩ হেক্টর চরাইদেউ প্রত্নস্থল গঠন করেছে, অসম প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন রাজ্য গুরুত্বের প্রাচীন স্মারক। ইউনেস্কো তিনটি আইন তালিকায় রেখেছে: ২০১০ সালের প্রাচীন স্মারক ও প্রত্নস্থল এবং ধ্বংসাবশেষ (সংশোধন ও বৈধকরণ) আইন, ১৯৭২ সালের প্রত্নবস্তু ও শিল্প-সম্পদ আইন, আর ১৯৫৯ সালের অসম প্রাচীন স্মারক ও নথি আইন।
সম্পত্তির ভেতরে কোনো উন্নয়ন অনুমোদিত নয়। আইকোমস যোগ করেছে তার চারপাশে ১০০ মিটারের একটি নিষিদ্ধ এলাকা আর আরও ২০০ মিটারের একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকা। ইউনেস্কোর মতে কাজ সমন্বয় করে তিনটি কমিটি: একটি রাজ্যস্তরের শীর্ষ কমিটি, রক্ষণাবেক্ষণের একটি স্থানীয় কমিটি আর কাজ ও প্রকল্পের একটি মন্ত্রণালয়ীয় কমিটি। একটি সাইট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ২০২৩ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত বিস্তৃত। আইকোমস বলছে এএসআই আর রাজ্য ইটের কাজ আর চুনের পলেস্তারা মেরামতে ঐতিহ্যগত কৌশল আর সেগুলোয় প্রশিক্ষিত কারিগর ব্যবহার করে, এবং স্থানীয় মানুষ প্রায়ই রক্ষণাবেক্ষণ আর পরিষ্কারে স্বেচ্ছাশ্রম দেয়। স্থানটির চারপাশে আইকোমস পেয়েছে চা-বাগান, ধানখেত আর বসতবাড়ি, আর বাফার জোনে প্রায় ৪,০১৭ জন বাসিন্দা (২০১১ সালের হিসাব)।
তালিকায় ওঠার পথ
আইকোমস উল্লেখ করেছে, স্থানটি ভারতের সম্ভাব্য তালিকায় যোগ হয় ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল, আর তার মূল্যায়ন মিশন এসেছিল ২০২৩ সালের ৫ থেকে ১১ অক্টোবর। ভারত (iii), (iv) আর (v) মানদণ্ড প্রস্তাব করেছিল। আইকোমস (iii) আর (iv)-এর সুপারিশ করে এবং (v) প্রমাণিত হয়নি বলে মত দেয়, আর কমিটির সিদ্ধান্ত ৪৬ সিওএম ৮বি.১৬ সম্পত্তিটিকে (iii) আর (iv)-এ তালিকাভুক্ত করেছে। (iii) মানদণ্ডের ভিত্তি ৬০০ বছরের তাই-আহোম রাজকীয় অন্ত্যেষ্টি স্থাপত্য আর রীতি। (iv) মানদণ্ডের ভিত্তি তাই-আহোম সমাধিক্ষেত্রের অসামান্য উদাহরণ হিসেবে মইদামগুলো।
অধিবেশন চলেছিল ২০২৪ সালের ২১ থেকে ৩১ জুলাই এবং ভারতে কমিটির প্রথম অধিবেশন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৩১ জুলাই জানায়, তারা ২৪টি নতুন স্থান তালিকাভুক্ত করেছে, তার মধ্যে মইদাম। ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশীয় দপ্তরের পরিচালক টিম কার্টিস বলেছেন, যে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো সেখানে এখনও অনুষ্ঠান করে, স্থানটি তাদের কাছে অপরিসীম মূল্যবান। এএসআইয়ের মহানির্দেশক আশা প্রকাশ করেছেন, তালিকাভুক্তি সম্প্রদায়গুলোকে তাদের ঐতিহ্য রক্ষা করে যেতে উৎসাহ দেবে।
দুটি ইউনেস্কো পাতা সামান্য আলাদা আয়তন দিয়েছে। তালিকার ভুক্তিতে সম্পত্তির জন্য ৯৬.৫ হেক্টর আর বাফার জোনের জন্য ৭৯৩.৭ হেক্টর। আইকোমস মূল্যায়ন করেছিল ৯৫.০২ আর ৭৫৪.৫১১ হেক্টর।
যে আচার এখনও পালিত হয়
ইউনেস্কো বলছে, মে-দাম-মে-ফি (Me-Dam-Me-Phi, পূর্বপুরুষ পূজা) আর তর্পণ (পবিত্র জলের অর্ঘ্য) এই তাই-আহোম আচারগুলো চরাইদেউয়ে পালিত হয়। আইকোমসের মতে বার্ষিক উৎসবে বহু মানুষ অংশ নেয়, আর স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো মইদামগুলোকে পবিত্র সমাধিস্থল মনে করে এবং সক্রিয়ভাবে সুরক্ষা করে। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে সে যোগ করেছে, দর্শনার্থীর সংখ্যা মাঝারি, বেশির ভাগ দর্শনার্থী অসমিয়া বা তাই-আহোম বংশোদ্ভূত, আর আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী নগণ্য।
কমিটি এরপর কী চেয়েছে
তার সিদ্ধান্তে কমিটি ভারতকে ছয়টি পদক্ষেপ বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে: এএসআই আর রাজ্যের এলাকার মাঝের সীমানা-প্রাচীর সরানো, শিক্ষাগত অংশীদারদের সঙ্গে গবেষণা পরিকল্পনা রূপায়ণ, বাফার জোনের আহোম স্থানগুলোর রাজ্য সুরক্ষা শেষ করা, টেকসই পর্যটন কৌশল আর ব্যাখ্যা পরিকল্পনা গড়া, ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিক সম্প্রদায় অংশগ্রহণ আনা, এবং সম্পত্তি, তার বাফার জোন আর বৃহত্তর পরিবেশকে একটি এলাকা হিসেবে পরিচালনা করা। আইকোমস পরিদর্শনের সময় স্থানটির ব্যাখ্যা-ব্যবস্থা অনুন্নত পেয়েছিল, একটি ছোট সাইট জাদুঘর সংস্কারের জন্য বন্ধ আর একটি দর্শনার্থী কেন্দ্রে ভেতরের সাজসজ্জা তখনও হয়নি। তার উল্লেখ করা প্রধান চাপ ছিল ভারী বৃষ্টি, মাটির ক্ষয় আর উদ্ভিদের বৃদ্ধি, আর অসমে বছরে অন্তত চার মাস ভারী বৃষ্টি হয়। সাইট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের একটি বড় পর্যালোচনা ২০২৯ সালে হওয়ার কথা।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO World Heritage Committee, Decision 46 COM 8B.16: Moidams, the Mound-Burial System of the Ahom Dynasty (India), with the adopted Statement of Outstanding Universal Value
- UNESCO World Heritage Centre: Moidams, the Mound-Burial System of the Ahom Dynasty (list entry 1711)
- UNESCO: 46th Session of the World Heritage Committee Inscribes Moidams as India's 43rd World Heritage Site (26 July 2024)
- ICOMOS evaluation of the Moidams nomination, No 1711 (approved 13 March 2024), published by the World Heritage Centre
- World Heritage Committee working document WHC/24/46.COM/8B: Nominations to the World Heritage List (7 June 2024)
- UNESCO World Heritage Centre: 24 new sites inscribed (1 August 2024)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: Moidams inscribed in the UNESCO World Heritage List as India's 43rd entry (26 July 2024)
- Press Information Bureau: Charaideo Moidams, India's 43rd UNESCO World Heritage Site, explainer (22 July 2024)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: India hosts historic 46th World Heritage Committee meeting (31 July 2024)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: 46th Session of the World Heritage Committee of UNESCO, written reply (2 December 2024)
- Edward Gait, A History of Assam (1906), Internet Archive
- Encyclopaedia Britannica: Ahom
- Encyclopaedia Britannica: Treaty of Yandabo
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।