Skip to content
ওয়াল্ডেমার হাফকিন ১৮৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি নিজের শরীরে প্লেগের টিকা দিয়েছিলেন, আর ১৯০১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত তাঁর বোম্বে গবেষণাগার ২৩,৮০,২৮৮ ডোজ বিলি করেছিল
বিজ্ঞান ও মহাকাশ

ওয়াল্ডেমার হাফকিন ১৮৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি নিজের শরীরে প্লেগের টিকা দিয়েছিলেন, আর ১৯০১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত তাঁর বোম্বে গবেষণাগার ২৩,৮০,২৮৮ ডোজ বিলি করেছিল

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

ওয়াল্ডেমার হাফকিন ১৮৯৬ সালের ৮ অক্টোবর বোম্বের গ্র্যান্ট মেডিক্যাল কলেজে একটি ঘর আর একটি বারান্দায় প্লেগের টিকার কাজ শুরু করেন। তাঁর নিজের প্রতিবেদনে ১৯০১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২৩,৮০,২৮৮ ডোজ বিলির হিসাব আছে, আর সেই ঘর থেকে বেড়ে ওঠা পারেল গবেষণাগার ১৯২৫ সাল থেকে তাঁর নাম বহন করছে।

· · 8 মিনিটের পাঠ

১৮৯৬ সালের ৮ অক্টোবর ওয়াল্ডেমার হাফকিন বোম্বের গ্র্যান্ট মেডিক্যাল কলেজের পেটিট ল্যাবরেটরির একটি ঘর আর একটি বারান্দায় কাজ শুরু করেন, কর্মী বলতে একজন কেরানি আর তিনজন বার্তাবাহক। তিন মাসের সামান্য বেশি পর, ১৮৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি, তিনি তাপে মারা প্লেগ-কালচারের ১০ ঘনসেন্টিমিটার নিজের শরীরে ঢুকিয়ে দেন। বোম্বে সরকারকে পাঠানো তাঁর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত তাঁর গবেষণাগার টিকার ২৩,৮০,২৮৮ ডোজ বিলি করেছিল, তার মধ্যে ১৯,৩৯,৪৩৭ ডোজ গেছে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।

একটি ঘর আর চারজনের কর্মীদল, এই তথ্যের উৎস মেজর উইলিয়াম বার্নি ব্যানারম্যানের গবেষণাগার-বর্ণনা, যা শারীরবিজ্ঞানী বারবারা হকগুডের ২০০৭ সালের জার্নাল অফ মেডিক্যাল বায়োগ্রাফির জীবনীতে উদ্ধৃত। আজ গবেষণাগারটি পারেলের হাফকিন ইনস্টিটিউট। এই লেখায় আছে টিকা, তখনকার দিনে তার পক্ষে দেওয়া প্রমাণ, আর ১৯০২ সালের সেই দুর্ঘটনা যা তাঁর কর্মজীবন প্রায় শেষ করে দিয়েছিল। এটি ইতিহাস, প্লেগ সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নয়।

প্যারিসের কলেরা থেকে বোম্বের প্লেগ

হাফকিন ১৮৬০ সালে ওডেসায় জন্মান এবং প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন, যেখানে হাফকিন ইনস্টিটিউটের নিজের জীবনী অনুযায়ী তিনি ১৮৯২ সালের জুলাইয়ে নিজের ওপর কলেরা-বিরোধী টিকা পরীক্ষা করেন। তিনি তা নিয়ে ভারতে যান ১৮৯৩ সালে। হকগুড লিখেছেন, ১৮৯৫ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তিনি সেখানে ৪২,০০০-এর বেশি মানুষকে টিকা দিয়েছিলেন, সবাই স্বেচ্ছাসেবক। তিনি উদ্ধৃত করেছেন উইলিয়াম ডেরেক ফস্টারের ১৯৭০ সালের জীবাণুবিদ্যার ইতিহাস, যা তাঁকে সেই ব্যক্তি বলে নাম করেছে যিনি ১৮৯৩ সালে ভারতে এমন এক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের প্রথম টিকাকরণ করেন, যার উপযোগিতা মোটামুটি নিশ্চিত বলে মনে হয়েছিল।

আলেকজান্ডার ইয়ের্সিন ১৮৯৪ সালের জুনে হংকংয়ে প্লেগের ব্যাসিলাস শনাক্ত করেন। ১৮৯৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে প্লেগ বোম্বেতে পৌঁছয়, আর ভারত সরকার, কলেরার কাজে প্রভাবিত হয়ে, হাফকিনকে অনুরূপ কিছু বানাতে বলে। তিনি ৮ অক্টোবর ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং সেদিনই কাজ শুরু করেন। ব্যানারম্যান লিখেছেন, ঝোলে প্লেগের জীবাণু যে স্ট্যালাকটাইটের মতো বৃদ্ধি ঘটায়, তা জীবাণুটি চেনার সহজ উপায় হিসেবে হাফকিনের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকবে।

বোতলে যা ছিল

হাফকিন ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে পদ্ধতিটি বর্ণনা করেন। তিনি লিখেছেন, তাঁর কলেরা টিকা অসুস্থের সংখ্যা কমালেও যারা তবুও অসুস্থ হয় তাদের মৃত্যুহার কমায়নি, তাই প্লেগের জন্য তিনি স্থির করেন বিপুল সংখ্যায় মারা জীবাণু আর জীবাণুর চারপাশের তরলে ছাড়া বিষ একসঙ্গে মেশাবেন।

জীবাণু বাড়াতে তিনি পুষ্টিকর ঝোলের ওপর ঘি, অর্থাৎ শোধিত মাখনের ফোঁটা, ভাসান। ফোঁটাগুলির নিচে টুকরোর আকারে বৃদ্ধি শুরু হত, আর মাসে আধডজনের মতো ফসল তোলা যেত। তারপর তরলটিকে এক ঘণ্টা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করে জীবাণু মারা হত।

হকগুড জানান, ১৮৯৬ সালের ডিসেম্বরে হাফকিন তাপে মারা কালচার দিয়ে খরগোশকে প্লেগ থেকে রক্ষা করেন। ১৮৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি নিজে নেন ১০ ঘনসেন্টিমিটার, যা জনসাধারণের জন্য পরিকল্পিত ৩ ঘনসেন্টিমিটারের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বলেন প্রতিক্রিয়া ছিল ইঞ্জেকশনের জায়গায় ব্যথা আর প্রায় দুই দিন জ্বর ও অস্বস্তি।

১৮৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারির বাইকুল্লা জেল পরীক্ষা

১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বাইকুল্লার সংশোধনাগারে প্লেগ ছড়ায়, যেখানে ছিল ৩৪৫ জন বন্দি। হাফকিনের প্রবন্ধে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯টি আক্রান্ত ও ৫টি মৃত্যু আর ৩০ তারিখ সকালে আরও ৬টি আক্রান্ত, তার ৩টি প্রাণঘাতী। সেদিন বিকেলে একই দল থেকে, একই অবস্থায় থাকা ১৫৪ জন বন্দি টিকার জন্য স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসে।

১৫৪ জনের মধ্যে তিনজন মারা যায়। একজনের টিকার সময় গ্রন্থি ফুলে ছিল আর দুজনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রন্থি দেখা দেয়, তাই হাফকিন তাদের আগে থেকেই সংক্রমিত ধরেছিলেন। তাঁর গণনায়, পরদিন থেকে টিকা না নেওয়া গড়ে দৈনিক ১৭৩ জন বন্দির মধ্যে ১২টি আক্রান্ত ও ৬টি মৃত্যু, আর টিকা নেওয়া ১৪৮ জনের মধ্যে ২টি আক্রান্ত ও কোনো মৃত্যু নয়।

সংখ্যা যা দেখাচ্ছিল তার বেশি তিনি দাবি করেননি। ১০ জানুয়ারি থেকে ৬ মে ১৮৯৭ সালের মধ্যে, তিনি লিখেছেন, সংক্রামিত এলাকার ১১,৩৬২ জনকে জেলের বাইরে টিকা দেওয়া হয়, মৃত্যু ১২টি। তার তিনজন টিকার সময়ই অসুস্থ ছিলেন আর তিনজন ১২ ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থ হন। তিনি যোগ করেন, সঠিক তুলনার জন্য সাধারণ জনসংখ্যার সংখ্যা পাওয়া যায়নি, আর শুধু একটি মোটামুটি অনুমান দেন যে টিকা-নেওয়াদের ভোগান্তি একই অবস্থায় থাকা টিকা-না-নেওয়াদের চেয়ে প্রায় বিশ গুণ কম।

আগা খানের বাংলো আর পারেলে যাওয়া

চাহিদা এল দ্রুত। হকগুড বলেন, উৎপাদন এত দ্রুত বাড়ে যে ১৮৯৭ সালে গবেষণাগারকে দুবার সরতে হয়। ১৮৯৮ সালে তা যায় খুশরু লজে, খোজা সম্প্রদায়ের প্রধান আগা খান তৃতীয় স্যার সুলতান শাহের মালিকানার একটি বাংলোয়, যিনি নিজের খরচে তা সাজিয়ে দেন। সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধেক, হকগুডের হিসাবে বোম্বের ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ খোজা, তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় টিকা নেয়।

১৮৯৮ সালে বরোদার কর্তৃপক্ষ হাফকিনকে আমন্ত্রণ জানায় উন্ধেরায় একটি পরীক্ষা চালাতে, ১,০৩১ জনের একটি গ্রাম যেখানে প্লেগ ঢুকেছিল। প্রতিটি পরিবারকে ডেকে এনে তার প্রায় অর্ধেক সদস্যকে টিকা দেওয়া হয়, গ্রামের এক অর্ধেক দেখেন হাফকিন, অন্য অর্ধেক ব্যানারম্যান। হকগুড, হাফকিনের ১৮৯৯ সালের বক্তৃতা থেকে নিয়ে, আক্রান্ত ২৮টি পরিবারের ফল দেন: টিকা-নেওয়া ৭১ জনের ৮টি আক্রমণ ও ৩টি মৃত্যু, বিপরীতে টিকা-না-নেওয়া ৬৪ জনের ২৭টি আক্রমণ ও ২৬টি মৃত্যু। ব্যানারম্যানের ১৯০১ সালের পুস্তিকা, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেটে সংক্ষেপিত, টিকা-নেওয়াদের মধ্যেও ৩টি মৃত্যু গুনেছে।

১৮৯৯ সালের জুনে হাফকিন লন্ডনে রয়্যাল সোসাইটিতে বক্তৃতা দেন। হাফকিন ইনস্টিটিউট বলছে, ১৮৯৯ সালের ১০ আগস্ট তিনি প্লেগ গবেষণাগারের ডিরেক্টর-ইন-চিফ হিসেবে পারেলের পুরনো সরকারি ভবনে প্রবেশ করেন। হকগুড লিখেছেন, এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০০ সালে তাঁকে ক্যামেরন পুরস্কার দেয়, আর ১৯০১ সালের ডিসেম্বরে তিনি ৫৩ জনের কর্মীদলের ডিরেক্টর-ইন-চিফ হন।

তাঁর নিজের ১৯০২ সালের প্রতিবেদন ১৯০২ সালের ৩১ মে শেষ হওয়া বছরে আরও ৪,৮৬,৭৫৩ ডোজ বিলি যোগ করেছে, যাতে মোট দাঁড়ায় ২৮,৬৭,০৪১, ভারতের জন্য ২৩,৮৩,১৬২ ও অন্য দেশের জন্য ৪,৮৩,৮৭৯। ভারতের ভেতরে ওই বছর সবচেয়ে বড় ভাগ গিয়েছিল পাঞ্জাবে।

সংখ্যা কী বলে, আর পরের পর্যালোচকরা কী যোগ করেন

ব্যানারম্যানের পুস্তিকা, ১৯০১ সালের মে মাসে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেট যেভাবে সংক্ষেপ করেছিল, ১৯০০ সালের শেষ পর্যন্ত ১৬,২৮,৬৯৬ ডোজ বিলির কথা জানিয়েছিল এবং, যেখানেই নথি নির্ভরযোগ্য ছিল, টিকা-নেওয়াদের মধ্যে প্লেগে মৃত্যুর চোখে পড়ার মতো হ্রাসের কথা বলেছিল। গেজেট তাঁর সিদ্ধান্তগুলি তালিকাবদ্ধ করেছে, যার একটি, টিকা উচ্চমাত্রার রোগপ্রতিরোধ দেয় আর তাই আক্রান্তের সংখ্যা তীব্রভাবে কমায়।

পরের লেখকেরা আরও সতর্ক। হকগুড সিদ্ধান্তে আসেন, টিকাটি নিঃসন্দেহে কয়েক দশ হাজার প্রাণ বাঁচাচ্ছিল কিন্তু তার কার্যকারিতা সম্ভবত ভারতীয় সংখ্যাগুলি যা বলে তার চেয়ে কম ছিল, আর তিনি ১৯০৩ সালের একটি কেস-পর্যালোচনার দিকে ইঙ্গিত করেন যা দেখেছিল প্লেগ সবসময় প্রমাণিত হয়নি। তিনি উদ্ধৃত করেন ১৯২১ ও ১৯২২ সালে জাভায় এক বড় সমতুল্য-গোষ্ঠীর পরীক্ষা, যা এল. এফ. হার্স্টের ১৯৫৩ সালের বইয়ে বর্ণিত, এবং যাতে প্লেগে মৃত্যু ৫০ শতাংশ কমেছিল।

স্টিফেন স্মাইলির ২০০৮ সালের এক্সপার্ট রিভিউ অফ ভ্যাকসিনসে পর্যালোচনা বলছে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা হয়নি, তবে হাফকিনের টিকা সম্ভবত বিউবোনিক প্লেগের বিরুদ্ধে মানুষকে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা দিয়েছে। তা আরও বলছে, সুপারিশ-করা ডোজ বেশির ভাগ গ্রহীতার ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর তৈরি করার কথা ছিল, আর তীব্র প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্যতা সীমিত করেছে। এনপিজে ভ্যাকসিনসে ২০২৪ সালের এক পর্যালোচনা ১৮৯৭ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ডোজ অনুমান করেছে এবং বলছে টিকাটি ভারতে প্রাদুর্ভাব সীমিত করেছে। হকগুড দিয়েছেন ১৯২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ ডোজ পাঠানো।

মুলকোয়াল, অক্টোবর ১৯০২

১৯০২ সালের ৩০ অক্টোবর পাঞ্জাবের মুলকোয়ালে ১০৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়। হকগুড লিখেছেন, ছয় দিন পর তাদের ১৯ জনের টিটেনাস দেখা দেয় আর ১৯ জনই মারা যায়। সবাইকে একটি বোতল থেকে টিকা দেওয়া হয়েছিল, বোতলের লেবেল ৫৩এন, যা ২৬ দিন আগে বোম্বে গবেষণাগার থেকে বিলি হয়। অন্য বোতলের টিকা পাওয়া আরও ৮৮ জন অক্ষত ছিল।

ভারত সরকারের নিযুক্ত একটি কমিশন ১৯০৩ সালের ১৬ এপ্রিল জানায়, টিটেনাস বোতল মুলকোয়ালে খোলার আগেই তার ভেতরে ছিল, আর দোষ দেয় বোম্বে গবেষণাগারের অসাবধানতাকে। তারা আপত্তিও তোলে, ১৮৯৮ থেকে ১৮৯৯ সালের কমিশন যে উৎপাদন-পদ্ধতি পরীক্ষা করেছিল হাফকিন তা বদলেছেন, সময় বাঁচাতে টিকা থেকে কার্বলিক অ্যাসিড বাদ দিয়ে। হাফকিনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, আর তিনি যুক্তি দেন সংক্রমণ হয়েছে ইঞ্জেকশনের জায়গায়।

লন্ডনের লিস্টার ইনস্টিটিউটের একটি দ্বিতীয় পর্যালোচনা ১৯০৪ সালে সিদ্ধান্তে আসে যে টিটেনাস সম্ভবত টিকা দেওয়ার সময় বোতলেই ছিল কিন্তু তার উৎস নির্ধারণ করা যায়নি। ১৯০৬ সালের মে মাসে তার পরিচালন-পর্ষদ লেখে হাফকিনের সন্দেহের সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে, আর তাদের সিদ্ধান্তকে কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অভিন্ন বলে বর্ণনা করার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করে। ১৯০৬ সালের ১ ডিসেম্বর প্রকাশিত তদন্তের কাগজপত্রে লেখা ছিল, যে সহকারী বোতলটি খুলেছিলেন তিনি চিমটা ফেলে দেন এবং গবেষণাগারের নির্দেশ অনুযায়ী আগুনে না ধরে কার্বলিক লোশনে ধুয়ে নেন। হকগুড যোগ করেন, তিনি মানছিলেন ১৯০২ সালের পাঞ্জাব প্লেগ ম্যানুয়াল, যা স্থানীয়ভাবে জারি হয়েছিল ও ধোয়ার বিধান দিত।

১৯০৭ সালে মত ছিল বিভক্ত। হকগুড বলেন, ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের একটি সম্পাদকীয় কমিশনের সঙ্গে একমত হয়েছিল। রোনাল্ড রস ১৯০৭ সালের ২১ মার্চ নেচারে লেখেন, প্রমাণে টিটেনাসের ব্যাসিলাস কখন বোতলে ঢুকেছিল তার কোনো ইঙ্গিত নেই, আর দশজন জীবাণুবিদ ২৯ জুলাই টাইমসে এক চিঠিতে সই করে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেন হাফকিনকে দোষমুক্ত করতে বা নতুন তদন্তের আদেশ দিতে। হকগুড, যিনি একে দোষমুক্তি হিসেবে দেখেন, জানান ১৯০৭ সালের ২৯ নভেম্বর টাইমস ইন্ডিয়া অফিসের একটি চিঠি ছাপে যাতে হাফকিনকে স্বীকার করা হয় যে বৈজ্ঞানিক মতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাঁর পক্ষে, আর ভারতে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ১৯০৮ সালে কলকাতার বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর-ইন-চিফ হন, টিকা-উৎপাদন ছাড়া একটি গবেষণার পদ।

প্লেগ গবেষণাগার থেকে হাফকিন ইনস্টিটিউট

পারেলের গবেষণাগারের নাম ১৯০৫ বা ১৯০৬ সালে, সূত্রভেদে, বদলে হয় বোম্বে ব্যাকটেরিওলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, কারণ তার কাজ কলেরা ও টাইফয়েডের টিকা আর নির্ণয়-পরিষেবায় প্রসারিত হয়। ১৯২৫ সালে ভারতীয় মেডিক্যাল সার্ভিসের লেফটেন্যান্ট-কর্নেল এফ. পি. ম্যাকি, তার ডিরেক্টর, এটির নাম হাফকিন ইনস্টিটিউট রাখার প্রস্তাব দেন, আর বোম্বে সরকার সম্মত হয়। ইনস্টিটিউট পাস্তুরের সংগ্রহশালা, হাফকিন ইনস্টিটিউটের নিজের জীবনী আর হকগুড সবাই ১৯২৫ সাল বলেছেন।

সেই বছরের ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন, হকগুডের উদ্ধৃতিতে, নতুন নামকে বলেছিল দেরিতে হলেও সর্বান্তঃকরণ স্বীকৃতি। হাফকিন, তখন ফ্রান্সে বসবাসরত, জবাব দেন যে বোম্বের কাজ তাঁর জীবনের সেরা বছরগুলি শুষে নিয়েছিল।

১৯৩২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তার ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট-কর্নেল সাহিব সিং সোখের অধীনে ইনস্টিটিউট টিকার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার একটি জৈব মূল্যায়ন-পদ্ধতি তৈরি করে, যা হকগুডের মতে মানের হেরফের সামলাতে সাহায্য করেছিল। ১৯৭৫ সালে মহারাষ্ট্র সরকার এটিকে ভাগ করে হাফকিন বায়োফার্মাসিউটিক্যাল করপোরেশন আর হাফকিন ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং, রিসার্চ অ্যান্ড টেস্টিং-এ। ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর অনুযায়ী ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট বলছে এটি ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, দেশের প্রাচীনতম জৈব-চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি এবং সংক্রামক রোগ নিয়ে কাজ করে। ভারতীয় টিকা-নির্মাতারা আজ কীভাবে কাজ করেন তা জানতে দেখুন একটি ব্যাচ কীভাবে তৈরি ও ছাড়া হয় তার বিবরণ এবং ভারতের ওষুধশিল্পের লেখাটি। প্লেগের বছরগুলি পুনেতেও পৌঁছেছিল, যেখানে ১৮৯৭ সালের মার্চে সাবিত্রীবাই ফুলে এই রোগে মারা যান।

২০২১ সালের ১৫ এপ্রিল, স্ক্রল জানিয়েছিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ মহারাষ্ট্রের মালিকানাধীন হাফকিন বায়োফার্মা করপোরেশনকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের অধীনে এক বছরের জন্য ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Hawgood, B. J.: Waldemar Mordecai Haffkine, CIE (1860 to 1930), prophylactic vaccination against cholera and bubonic plague in British India, Journal of Medical Biography 15 (February 2007), via the James Lind Library
  2. Haffkine, W. M.: Remarks on the plague prophylactic fluid, British Medical Journal, 12 June 1897 (Internet Archive scan, Wellcome Library copy)
  3. Haffkine, W. M.: Summarised Report of the Work Done in the Bombay Plague Research Laboratory for 1896 to 1902 (Government Central Press, Bombay, 1902; Internet Archive scan)
  4. Cantlie, J.: A study of the evidence as to the source of the infection which caused the cases of tetanus at Mulkowal, Journal of Tropical Medicine and Hygiene, 1 February 1907 (extracts from the Government of India report and the Lister Institute letters; Internet Archive scan)
  5. Ross, R.: The Inoculation Accident at Mulkowal, Nature 75, 486 to 487 (21 March 1907)
  6. The Indian Medical Gazette, May 1901: Major Bannerman on the results of four years' inoculations against plague
  7. Haffkine Institute for Training, Research and Testing, Mumbai: Waldemar Mordecai Haffkine
  8. Haffkine Institute for Training, Research and Testing, Mumbai: home page
  9. Institut Pasteur Archives: Waldemar Haffkine (1860 to 1930), biographical chronology
  10. U.S. National Library of Medicine: W. M. Haffkine collection [microfilm], finding aid
  11. Tata Institute of Fundamental Research, Mumbai/Bombay pages: Dr. W. M. Haffkine, discoverer of the plague vaccine
  12. Smiley, S. T.: Current challenges in the development of vaccines for pneumonic plague, Expert Review of Vaccines 7(2), 209 to 221 (2008)
  13. Williamson, E. D. and others: Progress on the research and development of plague vaccines with a call to action, npj Vaccines (7 September 2024)
  14. Scroll.in: Haffkine Biopharma to produce Covaxin after Centre grants approval to Maharashtra (16 April 2021)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#waldemar haffkine#plague vaccine#haffkine institute#bombay#history of vaccines#grant medical college#parel#public health

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: বিজ্ঞান ও মহাকাশ
ICMR ১০১ মিলিয়ন ভারতীয়ের ডায়াবেটিস গুনেছে, আর তার নিজের খাদ্য সমীক্ষা বলছে ভারতীয়দের খাবারের মাত্র ১.৪ শতাংশ জোগায় মিলেটের আটা
ICMR ২০২৩ সালে ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের ১১.৪ শতাংশের ডায়াবেটিস পেয়েছিল, আর ২০২৫ সালে তার খাদ্য সমীক্ষা দেখেছে থালার বেশিরভাগ কার্বোহাইড্রেট আসছে পরিশোধিত চাল আর ময়দা থেকে। এই গবেষণাগুলো নাম করেছে সাদা চাল, পরিশোধিত ময়দা আর চিনির। লঙ্কা, টমেটো আর আলু সেখানে নেই।
ভারতীয় শিশুরা একইসাথে চিকন আর মোটা হয়ে জন্মায়
ভারতীয়রা প্রায় আর সবার চেয়ে কম বয়সে, চিকন অবস্থায় এবং বেশি সংখ্যায় টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। এর সূত্র গর্ভে ফিরে যায়, যদিও ইন্টারনেট সংস্করণ যতটা দাবি করে ততটা দূরে নয়।
ভারত ১০,০০০ ডলারের এইডস ওষুধ বিক্রি করেছিল ৩৫০ ডলারে। ১৯৭০ সালের একটি আইন এটাকে বৈধ করেছিল।
২০০১ সালে প্রমিত এইচআইভি ওষুধের সংমিশ্রণের দাম ছিল বছরে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার। একটি ভারতীয় কোম্পানি সেটা মাত্র ৩৫০ ডলারে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এটা কোনো দাতব্য বা সৌভাগ্য ছিল না। এটা ছিল ১৯৭০ সালে পাস হওয়া এক আইনের ফল, যা বলেছিল ভারত ওষুধের ওপর পেটেন্ট দেবে না।
← সব লেখা