অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
১৯৪২ সালে সেনাবাহিনীর 'ডিনায়াল' নীতিতে বাংলার তিনটে উপকূলীয় জেলা থেকে চাল সরানো হলো, আর প্রায় ২৬,৭০০ নৌকা দখল করা, ধ্বংস করা, ডুবিয়ে দেওয়া বা জমা-কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলো। ১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতায় চালের দাম হলো যুদ্ধের আগের ছয় গুণ। দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশন গুনেছিল প্রায় ১৫ লক্ষ মৃত্যু, আর পরের গবেষকরা মৃতের সংখ্যা ধরেছেন ২১ লক্ষ থেকে ৩৮ লক্ষের মধ্যে।
১৯৪৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভারতের ভাইসরয়-মনোনীত ফিল্ড মার্শাল আর্চিবল্ড ওয়াভেল হাউস অফ কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে ভারতের জন্য খাদ্য নিয়ে এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে গেলেন। তাঁর জার্নালে তা লেখা আছে। ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতের অর্থনৈতিক অদক্ষতা নিয়ে তীব্র শ্লেষে কথা বললেন, যে অদক্ষতার কারণে তাকে এমন খাবার জোগাতে হচ্ছে যা অন্যথায় হয়তো লাগতই না,’ ওয়াভেল লিখলেন। মন্ত্রিসভা ইরাক থেকে ১০০,০০০ টন যব আর ভূমধ্যসাগর থেকে ৫০,০০০ টন গমের ব্যবস্থা করেছিল। এর বেশি আসতে পারত না মধ্যপ্রাচ্য থেকে টানা ছাড়া, যেখানে গ্রিস আর বলকানের জন্য একটা মজুত গড়া হচ্ছিল। ‘দেখা যাচ্ছে, ভারতীয়দের চেয়ে গ্রিক আর মুক্ত হওয়া দেশগুলোকে অনাহার থেকে বাঁচানো বেশি জরুরি,’ ওয়াভেল টুকে রাখলেন।
আগের দিন ভারতের সেক্রেটারি অফ স্টেট লিও অ্যামেরি কমন্সে জানিয়েছিলেন, গত সাত মাসে কলকাতায় মৃত্যুর হার ছিল ‘স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি।’ এক মন চাল, প্রায় ৩৭ কিলোগ্রাম, তখন শহরে ছিল ২৪ টাকা, ৩৭ টাকায় পৌঁছোনোর পর। যুদ্ধের আগের দাম, অ্যামেরি বললেন, ছিল প্রায় ৪ টাকা।
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে আমাদের ছোট লেখা যুক্তির রূপরেখা দেয়। এই লেখা নথিপত্রের ভেতর দিয়ে যায়।
চাল আর নৌকা, ১৯৪২
১৯৪২ সালের বসন্তে জাপান বার্মা নিল, আর বাংলার সেনাবাহিনী সমুদ্র থেকে অবতরণের প্রস্তুতি নিল। ভারত সরকার স্যার জন উডহেডের নেতৃত্বে যে দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশন নিয়োগ করেছিল, সেটা দুই অংশের এক ‘ডিনায়াল’ নীতির বর্ণনা দেয়। মেদিনীপুর, বাকরগঞ্জ আর খুলনা উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে স্থানীয় প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আর ধান সরাতে হবে। দশজন বা তার বেশি যাত্রী বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটা নৌকাকে ছেড়ে যেতে হবে ব-দ্বীপের সেই অংশগুলো, যেগুলো আক্রমণের জন্য খোলা বলে ধরা হয়েছিল।
বড় আকারে চাল কেনা থেমে গিয়েছিল ১৯৪২ সালের মে মাসের শেষে, যখন বাজারদর সরকারের ৬ টাকা মনের সীমা ছাড়িয়ে গেল। কমিশন বলে কেনা পরিমাণ ‘অতিক্রম করেনি ৪০,০০০ টন,’ যা সেই জেলাগুলোর উদ্বৃত্তের একটা ছোট অংশ, আর কোথাও এর ফলে ঘাটতি হয়েছিল এমন প্রমাণ কমিশন পায়নি। তবে এটা মানুষের কাছে নিয়ে এল, কমিশনের ভাষায়, ‘সবচেয়ে জোরালোভাবে, আক্রমণের বিপদ,’ আর ‘স্থানীয় আতঙ্ক বাড়াল আর সম্ভবত চাষিদের তাদের শস্য ধরে রাখতে উৎসাহ দিল।’
নৌকার আদেশ জারি হয়েছিল ১৯৪২ সালের ১ মে। ১৯৪২ সালের নভেম্বরের শেষে কমিশনের তালিকা এলাকায় ৬৬,৫৬৩টি নিবন্ধিত নৌকা দেখায়। এর মধ্যে ১,৬১৩টি সামরিক ব্যবহারের জন্য দখল করা হয়েছিল, ৩,৩৭৩টি ধ্বংস, ৪,১৪৩টি ডুবিয়ে দেওয়া কিন্তু উদ্ধারযোগ্য আর ১৭,৫৪৬টি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ‘অভ্যর্থনা’ কেন্দ্রে, মোট ২৬,৬৭৫। আরও ১৯,৪৭১টি মালিকদের সঙ্গে অন্যত্র কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে গিয়েছিল, আর ২০,৪১৭টি রয়ে গিয়েছিল। যে ৪৫,০০০ বা ৪৬,০০০ নৌকার কথা প্রায়ই বলা হয়, তা ৪৬,১৪৬-এর কাছাকাছি, যারা আর এলাকায় ছিল না, তার মধ্যে মালিকরা নিজেরা যেগুলো সরিয়েছিলেন সেগুলোও ধরা।
ব-দ্বীপের সেই অংশে, কমিশন লিখেছিল, ‘নৌকাই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।’ সেগুলো সরানো ‘খাদ্যশস্যের চলাচলে নিশ্চয়ই যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা আনত,’ আর যে জেলেরা নৌকা হারিয়েছিল তারা ‘দুর্ভিক্ষের সময় গুরুতরভাবে ভুগেছিল।’ ১৯৪২ আর ১৯৪৩ সালে সামরিক বাহিনী যে বাড়িঘর আর জমি দখল করেছিল, তা ছাড়তে বলা হয়েছিল ৮০,০০০-এরও বেশি পরিবারকে। কমিশন ‘সামান্যই সন্দেহ’ দেখেছিল যে ‘এই পরিবারগুলোর অনেকের সদস্য দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিল।‘
নজিরহীন এক দাম
কলকাতায় মোটা চালের দামের যে ধারা কমিশন দিয়েছে, তাতে ১৯৩০-এর দশকের গোড়ায় সর্বনিম্ন ছিল মন-প্রতি ৩ টাকা। ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে তা ছিল ৫/১০ টাকা, পাঁচ টাকা দশ আনা। জুলাই নাগাদ ৮ টাকা, ‘যদিও তখন প্রদেশে চালের ঘাটতির প্রশ্নই ছিল না।’ ১৯৪৩ সালের জানুয়ারিতে ১২/৮ টাকা, এমন এক স্তর যা ‘গত যুদ্ধের শেষের পরের তেজিভাবের সময়েও এত উঁচু হয়নি।’
চাপের একটা অংশ এসেছিল বাংলার বাইরে থেকে। বার্মার চাল হাতছাড়া হওয়ায় সিলোন, ত্রিবাঙ্কুর আর পশ্চিম ভারত তার বদলে ভারতীয় প্রদেশগুলো থেকে কিনছিল। ১৯৪২ সালের প্রথম সাত মাসে বাংলা রপ্তানি করেছিল ৩১৯,০০০ টন চাল, এক বছর আগে যা ছিল ১৩৬,০০০ টন, যাতে ২৯৬,০০০ টনের নিট আমদানি পরিণত হলো ১৮৫,০০০ টনের নিট রপ্তানিতে। ১৯৪৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো অ্যামেরিকে লিখলেন যে ‘খাদ্য নিয়ে আমাদের অসুবিধাগুলোর কথা মনে রেখে’ তিনি তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হককে বলেছেন ‘যে সিলোনের জন্য তাঁকে বাংলা থেকে আরও চাল জোগাড় করতেই হবে, বাংলা নিজে ঘাটতিতে পড়লেও।’ ডাবলিনের ইউনিভার্সিটি কলেজের কর্ম্যাক ও গ্রাডা চিঠিটা উদ্ধৃত করেছেন।
তারপর চালের দাম ধাপে ধাপে উঠল। ১৯৪৩ সালের ৩ মার্চ কলকাতায় মোটা চাল ছিল ১৫ টাকা, আর ২০ মার্চ, বাংলা সরকার চালের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার পর, ২১ টাকা। ৩ মে তা ছিল ২১/১ টাকা, আর ১৭ মে ৩০/১০ টাকা। কমিশন বৃদ্ধিটাকে ধরেছিল ‘১৯৪২ সালের গোড়ার মাসগুলোর দামের পাঁচ থেকে ছয় গুণ।’ তার সমাপনী সারসংক্ষেপে কমিশন বলেছিল, দুর্ভিক্ষ ‘ঠেকানো যেত সঠিক সময়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে, যাতে প্রাপ্য জোগানের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হয়।‘
চাল কতটা ছিল
কমিশন একটা ঘাটতি পেয়েছিল, যদিও পরিমিত। শীতকালের ধান, আমন, সাধারণত বাংলাকে খাওয়াত প্রায় ৩৮ সপ্তাহ। ১৯৪২ সালের শেষে কাটা ফসল চলেছিল প্রায় ২৯ সপ্তাহ, ১৬ অক্টোবরের ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমের জেলাগুলোর ৩,২০০ বর্গমাইলে আঘাত হানার পর, যখন ফসলে ফুল আসছিল, আর তার পরে এসেছিল ফসলের রোগ। জের টানা মজুত ধরে কমিশন ১৯৪৩ সালের মোট জোগান ধরেছিল প্রয়োজনের ৪৯ সপ্তাহের, ‘প্রায় ৩ সপ্তাহের’ ঘাটতি। কারণ নিয়ে তার সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট: ‘আমন ফসল ভালো হলে দুর্ভিক্ষ হত না।’ একজন সদস্য, এম. আফজাল হুসেন, একটা ভিন্নমত-নোট দাখিল করে বলেছিলেন ঘাটতি আরও বড়।
অমর্ত্য সেন, যিনি ১৯৪৩ সালে বাংলায় বালক ছিলেন, Poverty and Famines (১৯৮১) বইয়ে প্রমাণকে অন্যভাবে ওজন করেছিলেন। সেনজুতি মল্লিক, GeoJournal-এ ২০২২ সালের এক পর্যালোচনায়, তাঁর সংখ্যাগুলো সারসংক্ষেপ করেছেন: চালের জোগান আগের পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম ছিল আর ১৯৪১-এর চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি, যে বছরে দুর্ভিক্ষ হয়নি।
ও গ্রাডা ১৯৪৩ সালের সংবাদপত্র আর নথিতে ফিরে গিয়ে সিদ্ধান্তে এসেছিলেন: ‘খাদ্যের প্রাপ্যতার একটা সমস্যা ছিল, যদিও তার পরিমাণ নির্ভুলভাবে ঠিক করা সম্ভব নয়।’ তিনি একজন প্রধান ব্যবসায়ী আর মুসলিম লিগ রাজনীতিকের একটা মূল্যায়ন উদ্ধৃত করেন, যে ঘাটতি ছিল দশ লক্ষ টন। শান্তির সময়ে বাংলা তা সামলে নিতে পারত, তিনি লেখেন, কিন্তু ১৯৪৩ সালে, ‘সামরিক চাহিদা আর বাণিজ্য ও যোগাযোগে যুদ্ধজনিত বিঘ্ন বিবেচনা করলে, এটা ছিল এক বিপর্যয়কর ঘাটতি।’ রাজ-আমলের আগের দুর্ভিক্ষগুলো নিয়ে আছে লর্ড লিটনের ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের দুর্ভিক্ষ আর ভারত যখন অনাহারে, তখন চলে যাওয়া শস্য লেখায়।
২০১৯ সালের খরা-গবেষণা কী মেপেছিল
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে গান্ধীনগরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিমল মিশ্র আর ছয়জন সহ-লেখক Geophysical Research Letters-এ প্রকাশ করলেন ‘Drought and Famine in India, 1870 to 2016’। তাঁরা আবহাওয়া-কেন্দ্রের নথি আর সিমুলেশন থেকে মাটির আর্দ্রতা পুনর্গঠন করেছিলেন। ১৮৭০ সালের পর ছয়টা বড় দুর্ভিক্ষের মধ্যে, সারসংক্ষেপ বলে, ‘পাঁচটা মাটির আর্দ্রতার খরার সঙ্গে যুক্ত, আর একটা (১৯৪৩) নয়।’
Scroll.in গবেষণাপত্রটা ছেপেছিল এই শিরোনামে: ‘New soil study confirms 1943 Bengal famine was caused by Winston Churchill’s policies, not drought।’ সারসংক্ষেপে চার্চিল বা নীতির কথা নেই। ফসলের আকার বা গোলায় মজুত নিয়েও তাতে কিছু বলা নেই। এটা খরাকে বাদ দেয়, আর কমিশন ইতিমধ্যে ব্যর্থ ফসলের অন্য কারণ নাম করেছিল, ঘূর্ণিঝড় আর এক ছত্রাক। ও গ্রাডা জানান, ১৯৪২ সালের অক্টোবর আর নভেম্বরে পশ্চিম বাংলায় বৃষ্টি ছিল গড়ের উপরে।
কলকাতার ভাগ আর মজুতের খোঁজ
ভারতের যুদ্ধ-সংক্রান্ত উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি আসত কলকাতা থেকে, ও গ্রাডা লিখেছেন, যেখানে দশ লক্ষ পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করত। ১৯৪৩ সালে কলকাতায় বাংলা সরকারের হাতে যে ২০৬,০০০ টন এসেছিল, কমিশনের পাঁচ সদস্যের দুজন, স্যার মণিলাল নানাবতী আর এস. ভি. রামমূর্তি, লিখেছিলেন, তার ১৪১,০০০ টন শহরে রাখা হয়েছিল আর ৬৫,০০০ জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছিল। এই বিষয়ে তাঁরা সহকর্মীদের সঙ্গে ভিন্নমত দিয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ছিল, কলকাতার বরাদ্দ ছোট হলে গ্রামগুলো খুব একটা লাভবান হত না, কারণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কলকাতা তাদের কাছ থেকে আরও বেশি কিনত, আর জোগান নিয়ন্ত্রণে না নেওয়ার জন্য তা বাংলা সরকারের দোষ ধরেছিল।
বাংলা সরকার মজুতদারদেরও খুঁজেছিল। ভারত সরকারের ১৯৪৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের একটা স্মারকলিপি, ও গ্রাডার উদ্ধৃতিতে, বলেছিল ‘মজুতবিরোধী’ অভিযান ‘ইতিবাচক কিছুই প্রায় অর্জন করেনি,’ জেলাগুলোর মজুত ছিল ‘তিন লক্ষ টনের কিছু বেশি,’ যা ছিল মজুত, উদ্বৃত্ত নয়।
কমিশন মুনাফাখোরি খুঁজে পেয়েছিল। ১৯৪৩ সালে বিক্রি হওয়া চালের অস্বাভাবিক মুনাফার একটা আন্দাজ, ১৫০ কোটি টাকা (১.৫ বিলিয়ন টাকা), তারা উদ্ধৃত করে যোগ করেছিল: ‘এই সংখ্যার নির্ভুলতার দায় আমরা নিতে পারি না, কিন্তু সন্দেহাতীতভাবে বিপুল মুনাফা করা হয়েছিল।‘
ছবিগুলো আর দুর্ভিক্ষ শব্দটা
জোয়ানা সিমোনাও, মানবিক ইতিহাসের অ্যাটলাসে, জানান যে সরকারি চিঠিপত্র থেকে ‘দুর্ভিক্ষ’ আর ‘অনাহার’ শব্দ প্রায়ই মুছে ফেলে তার জায়গায় বসানো হত ‘খাদ্য পরিস্থিতি।’ বাংলা সরকার দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেনি, আর কমিশন ১৯৪৩ সালের এপ্রিল থেকে জুনের ‘ভারত সরকারের সমর্থনে’ তার ‘কোনো ঘাটতি নেই’ নীতিকে বলেছিল ‘অযৌক্তিক, যখন দুর্ভিক্ষের বিপদ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল।’
কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান, সিমোনাও যাকে ইংরেজ-মালিকানাধীন বলেন, মাসের পর মাস সরকারি লাইনে চলেছিল। ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্টের রবিবারের সংস্করণে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের একটা ছবির সিরিজ ছাপা হলো, আর সারা বিশ্বে সেগুলো পুনঃপ্রকাশিত হলো। ব্রিটিশ সাপ্তাহিক সানডে পিকটোরিয়াল ২৫ সেপ্টেম্বর তার দুটো ছেপেছিল এই ক্যাপশনে: ‘এরা গ্রিসের জার্মান ক্রীতদাস নয়। এরা ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নাগরিক।’
পার্লামেন্ট মৃতের সংখ্যা শুনেছিল ধাপে ধাপে। অ্যামেরি ১৯৪৩ সালের ২৮ অক্টোবর কমন্সকে জানালেন, ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে কলকাতায় প্রায় ৮,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপুষ্টিজনিত’ কারণে। ১৬ ডিসেম্বর কলকাতার হাসপাতালের তাঁর হিসাব ছিল অনাহারী মানুষের ১৬,২৮৫ ভর্তি আর তাদের মধ্যে ৬,১৫৬ মৃত্যু।
মন্ত্রিসভা, জাহাজ আর ওয়াভেলের তার
১৯৪৩ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি লিনলিথগো আমদানি দাবি করতে শুরু করলেন, ও গ্রাডা তাঁকে যেমন উদ্ধৃত করেন, ‘এই দাবি এইচ.এম.জি.-র কাছে যত অরুচিকরই হোক।’ যুদ্ধ মন্ত্রিসভা ৩১ জুলাই সিদ্ধান্ত নিল যে ঘাটতি ‘ছিল না বাস্তব অভাবের ফল, বরং মজুতের,’ আর ‘টোকেন চালান’ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ৫০,০০০ টন গম আর ইরাকের ১০০,০০০ টন যব দিতে চাইল। ও গ্রাডা জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর তা সিদ্ধান্ত নিল পরের ফসলের আগে ভারতে খাদ্যশস্য নিয়ে যেতে জাহাজ সরানো অসম্ভব। অ্যামেরি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন: ‘উইনস্টন [চার্চিল] ঠিকই বলতে পারেন যে এমনিতেই কম খেতে পাওয়া বাঙালিদের অনাহার সবল গ্রিকদের চেয়ে কম গুরুতর, অন্তত যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে, কিন্তু এই দেশে সাম্রাজ্যের দায়িত্ববোধকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না।’
অ্যামেরি ১২ অক্টোবর কমন্সকে বললেন, ব্রিটেন থেকে সাহায্যের ব্যাপারে সমস্যা ‘পুরোপুরি জাহাজের।’ ২৮ অক্টোবর সোরেনসেন বললেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের ক্ষুধার্তদের খাওয়ানোর মতো যথেষ্ট শস্য আছে যদি জাহাজ পাওয়া যায়, আর অ্যামেরি জবাব দিলেন, জাহাজ-পরিস্থিতির অত্যন্ত বড় অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে অস্ট্রেলিয়া আর ব্রিটেন ‘ভারতকে খাদ্য জোগাতে সবচেয়ে উদগ্রীব।’ অ্যামেরি ১০ নভেম্বর আরও একবার জাহাজের জন্য আর্জি জানালেন। চার্চিলের প্রথম প্রতিক্রিয়া, অ্যামেরির ডায়েরি থেকে ও গ্রাডার উদ্ধৃতিতে, ছিল ‘ভারতীয়রা খরগোশের মতো বংশবৃদ্ধি করে বলে একটা প্রাথমিক আস্ফালন।’
ওয়াভেল ১৯৪৪ সাল কাটালেন খাদ্যশস্য চেয়ে। ৫ জানুয়ারির মধ্যে তিনি ১০ লক্ষ টনের নিশ্চয়তা চেয়ে তার করেছিলেন। সেক্রেটারি অফ স্টেট আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর ৯ ফেব্রুয়ারির তারবার্তায় ছিল: ‘বাংলার দুর্ভিক্ষ ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে কোনো জনগোষ্ঠীর উপর নেমে আসা সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের একটা, আর এখানে ভারতীয় আর বিদেশি দুই পক্ষের কাছেই আমাদের সুনামের ক্ষতি অপরিমেয়।’ এক সপ্তাহ পরে মন্ত্রিসভা তাঁর দাবি ‘সোজা নাকচ করে দিল।’ ২৪ মার্চ নাগাদ মন্ত্রিসভা ২৫০,০০০ টন দিতে চাইছিল, আর সেক্রেটারি অফ স্টেট পরামর্শ দিলেন তিনি গম আমদানি ঘোষণা করুন আর ‘আপাতত ১৫০,০০০ টন চাল রপ্তানির কথা গোপন রাখুন।’ ওয়াভেল ‘এমন অসৎ বা নির্বোধ’ কিছু করতে অস্বীকার করলেন। ২৬ এপ্রিলের তাঁর এন্ট্রিতে আছে, লন্ডন থেকে সদ্য ফেরা স্যার আর্চিবল্ড রোল্যান্ডস তাঁকে ভারতীয় খাদ্যশস্য নিয়ে মন্ত্রিসভার কমিটি সম্পর্কে কী বলেছিলেন। কমিটি যে পথগুলোর তালিকা করেছিল তার একটা ছিল ‘ভাইসরয়কে বলা যে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে আর দরকার হলে ভারতীয় জনগণকে অনাহারে মরতে দিতে।’
২৬ জুনের মধ্যে তিনি ‘৪৫০,০০০ টন বের করে নিয়েছিলেন।’ ১১ অক্টোবর তিনি লিখলেন, নয় মাসের সংগ্রামের পর তাঁর কাছে ৭০০,০০০ টন আছে, ‘এইচ.এম.জি. দুবার বলার পর যে একেবারেই কোনো আমদানি সম্ভব নয়।’ নয় দিন পরে, ভাইসরয়পদের এক বছর পূর্ণ হওয়ার সময়, ভারতের প্রতি সরকারের মনোভাবকে তিনি বিচার করলেন ‘অবহেলাপূর্ণ, বৈরী আর অবজ্ঞাপূর্ণ, এমন মাত্রায় যা আমি আশা করিনি।‘
চার্চিলের পক্ষের যুক্তি
চার্চিলের পক্ষের লোকেদের একটা সত্যিকারের যুক্তি আছে। হিলসডেল কলেজের চার্চিল প্রজেক্টের রিচার্ড ল্যাংওয়ার্থ লিখেছেন, ১৯৪৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলা পেয়েছিল ইরাকের ১৩০,০০০ টন যব, অস্ট্রেলিয়ার ৮০,০০০ টন গম আর কানাডার ১০,০০০ টন। তিনি বলেন, চার্চিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ডি-ডে-র পরিকল্পনা না বিগড়ে আরও খাদ্যশস্য খুঁজতে জরুরি যুদ্ধ মন্ত্রিসভা ডেকেছিলেন, তারপর প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের সাহায্য চেয়েছিলেন, বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় দশ লক্ষ টন আছে কিন্তু তাঁর জাহাজ নেই। রুজভেল্ট রাজি হননি। ১৯৪৪ সালের শেষে, ল্যাংওয়ার্থ জানান, ওয়াভেলের দশ লক্ষ টন এসে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া আর সাউথ ইস্ট এশিয়া কমান্ড থেকে। ১৯৪৩ সালেও বাংলায় শস্য পৌঁছেছিল, কমিশনের গণনায় ৩৭৩,০০০ টন গম আর গমজাত পণ্য, তার ৯৩,০০০ টন বিদেশ থেকে।
ওয়াভেলের জার্নাল এর কিছুটার জবাব দেয়। ১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি লিখে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মাউন্টব্যাটেনের বিবরণ, যিনি ‘ভারতে খাদ্য পাঠানোকে শুধু কংগ্রেসের ‘তুষ্টিকরণ’ বলেই মনে করতেন।’ শুধু চিফস অফ স্টাফ, যাঁরা দেখেছিলেন ঘাঁটি হিসেবে কাজ করতে ভারতকে খাওয়াতেই হবে, ‘কোনো খাদ্য আদৌ জোগাড় করেছিলেন।’ ওয়াভেল যোগ করেন ‘আসলে জাহাজ ছিল প্রচুর, কিন্তু লেদার্স ছাড়বেন না,’ মানে যুদ্ধ পরিবহনমন্ত্রী লর্ড লেদার্স। লেলিভেল্ড, যিনি মধুশ্রী মুখার্জির বইয়ের নামের ‘গোপন যুদ্ধ’ নিয়ে সন্দিহান, তবু লেখেন ‘সম্ভবত সত্যি যে ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ে ভারতে তাঁর নিজের কর্মকর্তাদের মাসে ৮০,০০০ টন গমের চালানের জরুরি অনুরোধ চার্চিল অনুমোদন করলে কম বাঙালি মারা যেত।’
কমিশনের Report on Bengal দোষ দেয় কলকাতা আর দিল্লির সরকারগুলোকে, চার্চিল বা যুদ্ধ মন্ত্রিসভার নাম করে না। ও গ্রাডার সিদ্ধান্ত আলাদা: ‘যুদ্ধপ্রচেষ্টা থেকে খাদ্যদ্রব্য সরিয়ে আনার রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাবই, বর্ণিত অর্থে ফাটকাবাজির চেয়ে, মূলত দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী ছিল।‘
দুটো উক্তি আর একটা তার
চার্চিলের সবচেয়ে পরিচিত মন্তব্য: ‘আমি ভারতীয়দের ঘৃণা করি। তারা এক জঘন্য ধর্মের অধিকারী এক জঘন্য জাতি।’ রামচন্দ্র গুহা, ২০০৫ সালে The Hindu-তে, একে দিয়েছেন ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরের অ্যামেরির ডায়েরির একটা এন্ট্রি হিসেবে, দুর্ভিক্ষের আগে। ‘খরগোশের মতো বংশবৃদ্ধি’র লাইনটা এসেছে অ্যামেরির ১৯৪৩ সালের ১০ নভেম্বরের এন্ট্রি থেকে, আর তা খাদ্যশস্য নিয়ে তর্কেরই অংশ।
ওয়াভেলের জার্নালে ১৯৪৪ সালের ৫ জুলাইয়ে লেখা: ‘উইনস্টন আমাকে একটা বিরক্তিকর তার পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন গান্ধী এখনও মরেননি কেন! খাদ্য নিয়ে আমার তারের উত্তর তিনি কখনো দেননি।’ ল্যাংওয়ার্থ ছেপেছেন চার্চিল যা পাঠিয়েছিলেন বলে তিনি বলেন: ‘গান্ধী নিশ্চয়ই এক অসাধারণ সুস্থতা ফিরে পেয়েছেন, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নিতে পারছেন। অসুস্থতার কারণে তাঁর মুক্তিতে আমরা যে চিকিৎসা-প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্মত হয়েছিলাম, তার সঙ্গে এর মিল কোথায়?’ তিনি যুক্তি দেন, ওয়াভেলের লাইনটা তাঁর নিজের বর্ণনা, উদ্ধৃতি নয়। এক সপ্তাহ আগে, ২৯ জুন, ওয়াভেল লিখেছিলেন ‘বাংলায় আশু দুর্ভিক্ষের কোনো সম্ভাবনা নেই।‘
মৃতদের গোনা
কমিশনের হিসাবে ১৯৪৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে বাংলায় নথিভুক্ত মৃত্যু ১,৩০৪,৩২৩, সেই মাসগুলোর গড় ৬২৬,০৪৮-এর বিপরীতে। তাদের বিচারে ১৯৪৩ সালে অতিরিক্ত মৃত্যু ছিল ‘প্রায় দশ লক্ষের মতো,’ আর ১৯৪৪ সাল যোগ করে তারা সিদ্ধান্তে এসেছিল ‘দুর্ভিক্ষ আর মহামারির প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে প্রায় ১৫ লক্ষ মৃত্যু ঘটেছিল।’ কমিশন বলেছিল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে. পি. চট্টোপাধ্যায়ের ৩৫ লক্ষের আন্দাজ, নমুনা-জরিপ থেকে টানা, এমন এক পদ্ধতির উপর দাঁড়িয়ে আছে যা ‘পরিসংখ্যানের বিচারে সঠিক বলে গ্রহণ করা যায় না,’ যদিও সরকারি সংখ্যা যে কম গুনেছিল তা তারা স্বীকার করেছিল।
পরের আন্দাজগুলো ভিন্ন সময়কালকে ধরে। অরুপ মহারত্নার তালিকায় সেনের হিসাব ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যু ২৬.২ লক্ষ থেকে ৩০.৫ লক্ষ, আর পল গ্রিনোর ৩৫ থেকে ৩৮ লক্ষ, যে সংখ্যাকে মহারত্না বলেন ‘মূলত সেনের গণনার উপর ভিত্তি করে।’ মহারত্না, যিনি ১৯৯১ সালে টিম ডাইসনের সঙ্গে একই আন্দাজ প্রকাশ করেছিলেন, ব্যবহার করেছিলেন অবিভক্ত গোটা বাংলার নিবন্ধন-তথ্য, যা আগের লেখকরা ব্যবহার করেননি। তিনি পৌঁছেছিলেন প্রায় ২১ লক্ষে, ১৮ লক্ষ থেকে ২৪ লক্ষের মধ্যে, যা ‘৩০ লক্ষের চেয়ে অনেক বেশি ২০ লক্ষ মৃত্যুর কাছাকাছি।’
মহারত্নার হিসাবে ১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি বাংলার জনসংখ্যা তখনও ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝির স্তরের চেয়ে প্রায় ২০ লক্ষ কম ছিল, আর দুর্ভিক্ষের আগের আকারে তা ফিরেছিল ‘প্রায় ১৯৪৭ সালের মাঝামাঝির আগে নয়।’
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Famine Inquiry Commission, Report on Bengal (Government of India, 1945), Internet Archive
- Wavell: The Viceroy's Journal, ed. Penderel Moon (Oxford University Press, 1973), Internet Archive
- Hansard, House of Commons, 23 September 1943: India (Food Situation)
- Hansard, House of Commons, 12 October 1943: India (Food Situation)
- Hansard, House of Commons, 28 October 1943: India (Food Situation)
- Hansard, House of Commons, 16 December 1943: Bengal (Starvation and Disease)
- Cormac Ó Gráda, 'Sufficiency and Sufficiency and Sufficiency': Revisiting the Bengal Famine of 1943 to 1944, UCD Centre for Economic Research Working Paper WP10/21 (2010)
- Arup Maharatna, The Demography of Indian Famines: A Historical Perspective, PhD thesis, London School of Economics (1992)
- Joanna Simonow, Bengal, 1943 to 1944: Famine Relief in Times of War, Online Atlas on the History of Humanitarianism and Human Rights (2017)
- Vimal Mishra et al., Drought and Famine in India, 1870 to 2016, Geophysical Research Letters 46 (2019)
- Scroll.in, New soil study confirms 1943 Bengal famine was caused by Winston Churchill's policies, not drought (March 2019)
- Senjuti Mallik, Colonial Biopolitics and the Great Bengal Famine of 1943, GeoJournal 88 (2022)
- Joseph Lelyveld, Did Churchill Let Them Starve?, The New York Review of Books (23 December 2010)
- Richard M. Langworth, 'Why hasn't Gandhi died yet?' Another Remark Churchill Never Said, Hillsdale College Churchill Project (16 July 2022)
- Ramachandra Guha, 'A beastly people', The Hindu (5 June 2005)
পর্দায় ও বইয়ে
- Ashani Sanket (Distant Thunder) (1973) , পরিচালনায় Satyajit Ray , Bengali . ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৪ সালের এক বাংলার গ্রামের পটভূমিতে, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে রূপান্তরিত
- Churchill's Secret War: The British Empire and the Ravaging of India During World War II (2010) , লেখক Madhusree Mukerjee , English . যুক্তি দেয় যে জাহাজ আর ত্রাণ নিয়ে চার্চিলের সিদ্ধান্ত দুর্ভিক্ষকে গভীর করেছিল, যে ব্যাখ্যাকে সমালোচকরা আর অন্য ঐতিহাসিকরা বিতর্কিত বলেন
- Hungry Bengal: War, Famine and the End of Empire (2015) , লেখক Janam Mukherjee , English . একটা একাডেমিক ইতিহাস, যা দুর্ভিক্ষকে যুদ্ধের অর্থনীতি আর ১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করে
এই তালিকা তাঁদের জন্য যাঁরা পর্দায় দেখা গল্পের পিছনের ইতিহাস খুঁজছেন। কোনো নাট্যরূপ সূত্র নয়, এবং এই কাজগুলির কোনোটির সঙ্গে tuput যুক্ত নয়।
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।