১৮৫৮ সালে বোম্বাইয়ের গভর্নর লিখেছিলেন, 'Divide et impera' হওয়া উচিত ভারতে ব্রিটেনের মূলমন্ত্র। ১৯০৯ সালের মধ্যে আদমশুমারি গুনেছিল ২,৩৭৮টা জাতি আর উপজাতি, আর কাউন্সিলের আসন ভাগ হয়েছিল ধর্ম অনুযায়ী
ভারতীয় ইতিহাস

১৮৫৮ সালে বোম্বাইয়ের গভর্নর লিখেছিলেন, 'Divide et impera' হওয়া উচিত ভারতে ব্রিটেনের মূলমন্ত্র। ১৯০৯ সালের মধ্যে আদমশুমারি গুনেছিল ২,৩৭৮টা জাতি আর উপজাতি, আর কাউন্সিলের আসন ভাগ হয়েছিল ধর্ম অনুযায়ী

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

লর্ড এলফিনস্টোনের ১৮৫৮ সালের মিনিট আর লর্ড রবার্টসের ১৮৯৭ সালের স্মৃতিকথা দেখায় ব্রিটিশ অফিসাররা জাতি দেখে সৈন্য বেছে নিচ্ছেন। হার্বার্ট রিজলির ১৯০১ সালের আদমশুমারি-প্রতিবেদন দেখায় একজন সরকারি কর্মকর্তা জাতিদের ক্রমে সাজাচ্ছেন, আর ১৯১৮ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড প্রতিবেদন দেখায় সেক্রেটারি অফ স্টেট আর ভাইসরয় এক অনুচ্ছেদে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর নিন্দা করছেন, পরের অনুচ্ছেদে তা রেখে দিচ্ছেন। একই কাগজপত্র নথিভুক্ত করে, প্রতিটা ব্যবস্থায় খত্রীরা, মুসলিম নেতারা আর শিখ ভোটাররা নিজেদের আলাদা জায়গার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

tuput সম্পাদকীয় দল · · 12 মিনিটের পাঠ

১৮৫৮ সালের ১৪ মে বোম্বাইয়ের গভর্নর লর্ড এলফিনস্টোন একটা মিনিটে সই করলেন, আগের বছরের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী কীভাবে নতুন করে গড়া হবে সে বিষয়ে। সেটা পরে ছাপা হয়েছিল পিল কমিশনের নেওয়া সাক্ষ্যের পরিশিষ্টে, সেই রাজকীয় কমিশন, যা সেই গ্রীষ্মে নিয়োগ করা হয়েছিল ভারতের সেনার ভবিষ্যৎ ঠিক করতে। ‘Divide et impera ছিল রোমানদের পুরোনো মূলমন্ত্র,’ এলফিনস্টোন লিখলেন, ‘আর আমাদেরও তা-ই হওয়া উচিত।’

‘বড় লোহার স্টিমারগুলোর নিরাপত্তা … খোপ খোপ করে তৈরি করলে অনেক বেড়ে যায়,’ তিনি লিখলেন, আর প্রস্তাব দিলেন দেশীয় সেনাকেও সেভাবে গড়তে, ‘জাতি আর ভাষার সেই বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে, যা আমরা হাতের কাছেই তৈরি পাই।’

কমিশন উল্টোটা সুপারিশ করল, আর পরের সত্তর বছর যেসব কর্মকর্তা ভারতীয়দের রেজিমেন্ট, জাতি আর নির্বাচকমণ্ডলীতে ভাগ করেছিলেন, তাঁরা বেশির ভাগই অন্য কারণ দেখিয়েছেন। ১৯১৮ সালের সাংবিধানিক প্রতিবেদনের লেখকরা এক অনুচ্ছেদে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর নিন্দা করে পরের অনুচ্ছেদে তা রেখে দিয়েছিলেন। ঔপনিবেশিক শাসন কীভাবে ভারতের বিভাজন গড়েছিল নিয়ে আমাদের ছোট লেখা রূপরেখা দেয়, আর ১৯০৬ সালের সিমলা প্রতিনিধিদল নিয়ে লেখা আছে ব্রিটিশ নীতি আর জিন্নাহ নিয়ে লেখাটায়। এই লেখা তিনটে ব্যবস্থার কাগজপত্রের ভেতর দিয়ে যায়, নিয়োগ-তালিকা, আদমশুমারির ছক আর নির্বাচনী বিধি, আর বলে কে কী চেয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিকরা কোথায় একমত নন।

যে কমিশন মিশিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল

পিল কমিশন বসেছিল লন্ডনে, যুদ্ধসচিব জেনারেল জোনাথন পিলের সভাপতিত্বে। ১৮৫৮ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তারা ৪৭ জন সাক্ষীর বক্তব্য শুনেছিল, আর ঐতিহাসিক ডেভিড ওমিসি লক্ষ করেন কোনো ভারতীয়কে অংশ নিতে বলা হয়নি। সাক্ষীর পর সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করা হত, বাংলার দেশীয় সেনা কি ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তা আর জাতি দিয়ে গড়া হওয়া উচিত, আর কী অনুপাতে। কর্নেল বেচার উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি মনে করি এটা একটা মিশ্র দল হওয়া উচিত, কোনোভাবেই জাতির দিকে না তাকিয়ে।’ স্যার চার্লস ট্রেভেলিয়ান চেয়েছিলেন দেশীয় সৈন্যদের ইউরোপীয় বাহিনীর ‘হালকা অস্ত্রে সজ্জিত সহায়ক’ হিসেবে রাখা হোক আর নিজেদের ধরনের পোশাক পরানো হোক, যা ‘বিভিন্ন জাতীয়তা আর জাতির মধ্যে পার্থক্যকে অনেক বেশি করে বজায় রাখবে, আর আমাদের নিরাপত্তার জন্য তা অত্যন্ত বিবেচনা করার মতো বিষয়।’

স্যার জন লরেন্সের অধীনে পাঞ্জাবের একটা অফিসার-কমিটি উল্টো যুক্তি দিয়েছিল। তাদের উত্তর পরিশিষ্টে পৌঁছেছিল লেফটেন্যান্ট-কর্নেল হেনরি ডুরান্ডের একটা সারসংক্ষেপে, যিনি গভর্নর-জেনারেল লর্ড ক্যানিংয়ের বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন। কমিটি বলেছিল, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সেই সেনাকে নিরাপদ করা; আর পর্যাপ্ত ইউরোপীয় বাহিনীর মহা-ভারসাম্যের পরেই আসে দেশীয়দের বিরুদ্ধে দেশীয়দের ভারসাম্য।’ তারা প্রতিটা রেজিমেন্টে প্রতিটা জাতিকে মিশিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করে বাতিল করেছিল, কারণ ভিন্ন জাতিকে একসঙ্গে মেশালে তারা ‘বেশিদিন নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে না।’

ক্যানিংয়ের নিজের স্মারকলিপি সংখ্যাগুলো দিয়েছিল। বাংলার সেনা, তার সামরিকভাবে সংগঠিত পুলিশ ধরে, ছিল প্রায় ১৩০,০০০ জন, যার ‘প্রায় ৭৫,০০০ পাঞ্জাবি,’ আর তিনি মনে করতেন তার মধ্যে সম্ভবত ২৩,০০০ শিখ। ‘অতএব ১৮৫৮ সালে আমাদের অবস্থান আর ১৮৫৭ সালে আমাদের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য হলো,’ তিনি লিখলেন, ‘এখন একটা বড় দেশীয় বাহিনী আছে, আর তার বেশির ভাগ অউধ থেকে নয়, পাঞ্জাব থেকে নেওয়া।’ অউধ হলো অবধ, পুরোনো বাংলা সেনার প্রধান নিয়োগক্ষেত্র। কমিশন নিজে, ওমিসি ১৮৫৯ সালের মার্চের তাদের প্রতিবেদন থেকে যে শব্দগুলো উদ্ধৃত করেন, শুধু বলেছিল দেশীয় সেনা ‘গঠিত হওয়া উচিত ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তা আর জাতি দিয়ে, প্রতিটা রেজিমেন্টে যথেচ্ছভাবে মিশিয়ে।‘

পাঞ্জাব থেকে নতুন করে গড়া এক বাংলা সেনা

ওমিসি ১৮৫৬ সালে বাংলা সেনার সংখ্যা ধরেন প্রায় ১২০,০০০, তার দেশীয় পদাতিক, সিপাহিদের, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অউধের উচ্চবর্ণের লোক। অভ্যুত্থানের পর ব্রিটিশরা যে রেজিমেন্টগুলো বিদ্রোহ করেনি সেগুলো রেখেছিল, ১৮৫৭ আর ১৮৫৮ সালে তোলা পাঞ্জাবি আর নিম্নবর্ণের ইউনিট থেকে সংখ্যা পূরণ করার মতো যোগ করেছিল, আর বাকিদের ভেঙে দিয়েছিল। ১৮৮১ সালে ভাইসরয় লর্ড রিপন বলেছিলেন, ফল হয়েছে ‘নিতান্তই আকস্মিক,’ আর ‘তাড়াহুড়োয় তোলা, তাড়াহুড়োয় জড়ো করা, তাড়াহুড়োয় কমানো রেজিমেন্টের নিছক দৈবাৎ জমে ওঠা জট।’

১৮৬০-এর দশক নিয়ে ওমিসি একমত। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল জরুরি অবস্থায় যা-হোক করে, তিনি লিখেছেন, আর বিভক্ত করে শাসনের কথা তোলা হয়েছিল পরে, সেনা যে আকার নিয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে। পুরোনো শত্রুতাও সত্যিই ছিল। এক ব্রিটিশ মেজর-জেনারেল লিখেছিলেন: ‘তারা আমাদের ভালোবাসত বলে নয়, হিন্দুস্তানকে ঘৃণা করত বলেই শিখরা আমাদের পতাকার নিচে ভিড় করেছে।‘

রবার্টস আর যে রেজিমেন্টগুলো তিনি ভেঙে দিলেন

নীতি বদলাল ১৮৮০-এর দশকে। ১৮৮৫ থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত ভারতে সর্বাধিনায়ক লর্ড রবার্টস ১৮৯৭ সালের স্মৃতিকথায় লিখেছেন, প্রথম ধাপ ছিল ‘বাংলার হিন্দুস্তানি সিপাহি, মাদ্রাজের তামিল আর তেলুগু, আর বোম্বাইয়ের তথাকথিত মারাঠাদের জায়গায় আরও যুদ্ধপ্রিয় আর কঠোরজীবী জাতির লোক বসানো।’ বাধা, তিনি বললেন, ছিল সেই পুরোনো তত্ত্ব যে তিন প্রেসিডেন্সির, অর্থাৎ বাংলা, মাদ্রাজ আর বোম্বাইয়ের ব্রিটিশ প্রদেশগুলোর সেনার মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতেই হবে। তাঁর মত ছিল, ‘নেপালের গোর্খা বা উত্তর ভারতের যুদ্ধপ্রিয় জাতি থেকে নেওয়া একটা রেজিমেন্টের সামরিক মূল্যের সঙ্গে, আর দক্ষিণের মেয়েলি জাতিদের থেকে নেওয়া একটার সঙ্গে, কোনো তুলনাই হয় না।’ তিনি ভেঙে দিলেন ‘সন্দেহজনক উপাদানে গড়া’ কোম্পানি আর রেজিমেন্ট, নিলেন ‘সুপরিচিত লড়াকু জাতির’ লোক, আর গড়লেন শ্রেণি-রেজিমেন্ট, যেগুলো তাঁর বিচারে ‘সৈন্যদের কাছে আরও মনোমতো আর এসপ্রিত দ্য করপসের জন্য আরও সহায়ক।’

ওমিসির পাঠ হলো, তাৎক্ষণিক কারণ ছিল রাশিয়া। মধ্য এশিয়ায় তার অগ্রগতি উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধকে সম্ভাব্য করে তুলেছিল, আর রবার্টস সেই বিপদকে বিদ্রোহের চেয়ে বড় বলে বিচার করেছিলেন। ওমিসির নিয়োগ-অঞ্চল ধরে পদাতিক ব্যাটালিয়নের ছকে ১৮৬২ সালে ১৩১টার মধ্যে ২৮টা এসেছিল পাঞ্জাব আর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত থেকে, আর ৪০টা মাদ্রাজ থেকে। ১৯১৪ সালে ১২১টার মধ্যে ৫৭টা পাঞ্জাব আর সীমান্ত থেকে আর ১১টা মাদ্রাজ থেকে, যে সংখ্যাকে তিনি আনুমানিক বলেন।

তিনি প্রমাণ আর কুসংস্কারকে আলাদাও করেন। কিছু মাদ্রাজ রেজিমেন্ট তৃতীয় বার্মা যুদ্ধে খারাপ করেছিল, কিন্তু ১৮৫৭ সালের পর থেকে মাদ্রাজের ইউনিটগুলো প্রায় কোনো লড়াই দেখেনি, আর ওমিসি সিদ্ধান্তে আসেন যে ‘ঐতিহাসিককে খুঁজতে হবে সামাজিক ব্যাখ্যা, জৈবিক নয়।’ তত্ত্বটা নিজে, তিনি লেখেন, ‘উপনিবেশিক কল্পনার নিছক উদ্ভাবন ছিল না,’ কারণ শিখ, রাজপুত আর গোর্খাদের নিজস্ব সামরিক ঐতিহ্য ছিল, আর যেসব অফিসারকে নিজের লোকেদের বিশ্বাস করতে হত তাদের জন্য তা ছিল ‘কাজের জোগানদাতা একটা কিংবদন্তি।‘

রিজলির ২,৩৭৮ জাতি

আদমশুমারি ছিল দ্বিতীয় ব্যবস্থা, আর ১৯০১ সালের আদমশুমারি কমিশনার হার্বার্ট রিজলি তার ছক লিখেছিলেন। প্রতিবেদনে তাঁর অধ্যায়ে তিনি ১৮৯১ সালের ছককে বলেছিলেন ‘জোড়াতালির শ্রেণিবিভাগ, যাতে পেশাই প্রধান,’ আর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ‘দেশীয় জনমতের স্বীকৃত সামাজিক ক্রমমর্যাদা অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ।’ পরীক্ষাগুলো ছিল মূর্ত। ব্রাহ্মণরা কি কোনো জাতির হাত থেকে জল নেবে, উঁচু অবস্থানের ব্রাহ্মণরা কি তা পরিবেশন করবে, তাদের লোকেরা কি গ্রামের কুয়ো ব্যবহার করতে পারে, উঁচু জাতির কেউ এগিয়ে এলে কি তাদের রাস্তা ছেড়ে সরে যেতে হয়? সারণি ১৩, ফিরে আসা প্রতিটা গোষ্ঠীর বর্ণানুক্রমিক তালিকা, ‘অন্তর্ভুক্ত করে ২,৩৭৮টা প্রধান জাতি আর উপজাতি আর ৪৩টা বংশ বা জাতীয়তা,’ রিজলি লিখেছেন।

তিনি মর্যাদার একটা শারীরিক ভিত্তিও চেয়েছিলেন। The People of India (১৯০৮) বইয়ে তিনি লিখেছিলেন, ভারতের যেসব অংশে ‘দ্রাবিড় রক্তের লক্ষণীয় ধারা আছে, সেখানে জাতিগঠনের একটা সূত্র হিসেবে এটা বলা প্রায় কোনো স্ববিরোধই নয় যে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা তাদের নাকের গড় আপেক্ষিক প্রস্থের ব্যস্তানুপাতে বদলায়।’ তাঁর উদাহরণ ছিল বিহার আর যুক্তপ্রদেশ, যেখানে তিনি মাপকাঠিটা চালিয়েছিলেন জাতিহীন উপজাতি থেকে মুসাহার আর চামারদের ভেতর দিয়ে খত্রী আর বাভনদের পর্যন্ত।

সহকর্মীরা তা মানেননি। ১৯১১ সালের আদমশুমারির প্রতিবেদনে ই. এ. গেইট লিখেছিলেন, রিজলির সিদ্ধান্তগুলো ‘ক্রুক যুক্তপ্রদেশে, এনথোভেন বোম্বাইয়ে আর থার্স্টন মাদ্রাজে সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।’ গেইট যোগ করলেন, গোটা সম্প্রদায় নিজের সামাজিক মর্যাদা বাড়িয়ে নিয়ে ‘রিজলি যে জাতি আর মর্যাদার সম্পর্কের কথা বলেছিলেন তা বিঘ্নিত করছে।‘

বেরিলির খত্রীরা উত্তর লিখল

রিজলি আবেদনপত্রগুলোকে গুনেছিলেন তাঁর পদ্ধতি কাজ করেছে তার প্রমাণ হিসেবে। ‘পরীক্ষাটির সাধারণ সাফল্যের সবচেয়ে ভালো প্রমাণ,’ তিনি লিখলেন, ‘এর ফলে জন্ম নেওয়া আবেদন আর স্মারকলিপির বিপুল সংখ্যা।’ সবচেয়ে বিস্তৃত এসেছিল পাঞ্জাব আর যুক্তপ্রদেশের খত্রীদের কাছ থেকে, এক ব্যবসায়ী জাতি। একজন প্রাদেশিক সুপারিন্টেন্ডেন্ট সাময়িকভাবে তাদের বৈশ্য, ব্যবসায়ী শ্রেণিতে ফেলেছিলেন, যদিও রিজলি যে আদর্শ ছক পাঠিয়েছিলেন তাতে তাদের রাজপুতদের সঙ্গে রাখা ছিল। বেরিলিতে একটা প্রতিবাদ সভা হলো, আর খত্রীরা ক্ষত্রিয়, যোদ্ধা শ্রেণি, থেকে এসেছে তা দেখাতে প্রমাণের বিরাট সম্ভার জড়ো করা হলো। রিজলি একে তুলনা করেছিলেন আধুনিক গ্রিকদের আখিলেউসের বংশধর হওয়ার দাবির সঙ্গে, তারপর আদেশ দিলেন খত্রীদের ক্ষত্রিয় হিসেবে ধরা হোক। ‘সিদ্ধান্তটা সাধারণভাবে সন্তোষ দিল,’ তিনি লিখলেন।

গেইট দশ বছর পরেও একই চাপ পেয়েছিলেন। ‘প্রতিটা আদমশুমারিতে,’ তিনি লিখলেন, ‘অনেক জাতি এগিয়ে আসে চারটে প্রধান শ্রেণির কোনো একটায় ধরা হওয়ার দাবি নিয়ে,’ জাতিগত ক্রমে নিজেদের মর্যাদা তুলতে চেয়ে। নৃবিজ্ঞানী বার্নার্ড কোন এটাকে পড়েছিলেন কারণ আর ফলের ধাঁধা হিসেবে। আদমশুমারির প্রতিবেদনে ছাপা ক্রম, তিনি লিখলেন, ‘হয়ে উঠল একটা জাতির মর্যাদা, ক্রম আর সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করা ঐতিহ্যবাহী তাম্রশাসনের সমতুল্য,’ কিন্তু জাতি-সমিতি, নতুন বিবাহ-সম্পর্কের জাল আর কলেজে জাতি-হস্টেলও সেই বছরগুলোতেই কাজ করছিল, আর উত্তর ‘সরল নয়।’ চাপিয়ে দেওয়া উদ্ভাবনের ধারণার বিরুদ্ধে সুজান বেইলি আরও দৃঢ়। এটা ‘নিশ্চিতভাবেই এমন কোনো ঘটনা নয়,’ তিনি লেখেন, ‘যেখানে বানানো নৃতাত্ত্বিক ফল কোনোভাবে ভারতীয়দের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ ভারতীয়দের তালিকাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ছিল, তিনি যোগ করেন, যখন কর্মকর্তারা তা দিয়ে ঠিক করতেন কোন সম্প্রদায় রিক্রুট জোগানোর মতো ‘পুরুষোচিত’।

এর কতটা নীতিতে পৌঁছেছিল তা নিয়েও বিতর্ক আছে। সি. জে. ফুলার যুক্তি দেন, জাতি নিয়ে রিজলি আর ডেনজিল ইবেটসনের তৈরি নৃতাত্ত্বিক জ্ঞান বঙ্গভঙ্গ আর মর্লে-মিন্টো সংস্কারের উপর সীমিত প্রভাব ফেলেছিল। ১৯৩১ সালের মধ্যে আদমশুমারি কমিশনার জে. এইচ. হাটন নথিভুক্ত করছিলেন যে হিন্দু মহাসভা যত বেশি মানুষকে সম্ভব হিন্দু হিসেবে ধরানোর প্রচার চালিয়েছে, অবদমিত শ্রেণির সংখ্যা কমানোর চেষ্টা হয়েছে, আর অবদমিত-শ্রেণির সংগঠনগুলো এমন জাতিকেও নিজেদের বলে দাবি করেছে যারা ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই সেই শ্রেণিতে পড়ে না।‘

১৯০৯ সালে পাঁচটা আসন

তৃতীয় ব্যবস্থা লেখা হয়েছিল বিধিতে। ভারতীয় কাউন্সিল আইনের অধীনে ভারত সরকারের ১৯০৯ সালের ১৫ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তি ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে অতিরিক্ত সদস্য ধরল প্রায় ৬০ জন, যাদের অন্তত ২৫ জন নির্বাচিত। সেই ২৫-এর পাঁচজনকে নির্বাচন করত মুসলিম নির্বাচকমণ্ডলী, মাদ্রাজ, বোম্বাই, বাংলা, যুক্তপ্রদেশ আর পূর্ব বাংলা ও অসমের জন্য একজন করে। আরও ছয়জনকে নির্বাচন করত জমিদাররা আর দুজনকে বণিকসভা।

যোগ্যতার শর্ত ছিল কঠিন। যুক্তপ্রদেশে একজন মুসলমান ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের আসনে ভোট দিতে পারতেন কেবল যদি তিনি বছরে ১০,০০০ টাকা রাজস্ব দেওয়া জমির মালিক হতেন, ১০,০০০ টাকা আয়ের উপর আয়কর দিতেন, প্রাদেশিক কাউন্সিলে বসতেন, বা আরও কয়েকটা শর্তের একটা পূরণ করতেন, যার মধ্যে ছিল এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো হওয়া বা আলিগড় কলেজের ট্রাস্টি হওয়া। ১৯০৬ সালের সিমলা প্রতিনিধিদল আর ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে জিন্নাহর ভূমিকা, যা মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী মেনে নিয়েছিল, এখানে অন্যত্র বলা আছে।

অনুচ্ছেদ ২২৯ আর অনুচ্ছেদ ২৩১

ভারতের সেক্রেটারি অফ স্টেট এডউইন মন্টেগু আর ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ড ১৯১৮ সালের সাংবিধানিক প্রতিবেদনে সই করেছিলেন আর সাম্প্রদায়িক নির্বাচনের বিরুদ্ধে কয়েক অনুচ্ছেদ কাটিয়েছিলেন। ‘ধর্ম আর শ্রেণি দিয়ে বিভাজন,’ অনুচ্ছেদ ২২৯ বলে, ‘বোঝায় পরস্পরের বিরুদ্ধে সংগঠিত রাজনৈতিক শিবির তৈরি করা, আর মানুষকে শেখায় নাগরিক হিসেবে নয়, দলবাজ হিসেবে ভাবতে।’ তা এগিয়ে বলে: ‘ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে যে তারা শাসন করার জন্য মানুষকে ভাগ করে। কিন্তু যে মুহূর্তে সে মানুষকে স্বশাসনের পথে নামানোর ভান করছে ঠিক তখনই যদি অকারণে তাদের ভাগ করে, তবে ভণ্ড বা অদূরদর্শী হওয়ার অভিযোগ ঠেকানো তার পক্ষে কঠিন হবে।’

অনুচ্ছেদ ২৩১ তারপর ১৯০৯ সালের মুসলিম নির্বাচকমণ্ডলী রেখে দেয়, কারণ হিন্দুদের সম্মতি ‘দুই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক নেতাদের বর্তমান চুক্তিতে মূর্ত’ ছিল আর মুসলমানরা ব্যবস্থাটাকে স্থির বলে ধরত। ‘এই প্রয়োজনীয়তার জন্য আমরা যতই দুঃখিত হই,’ লেখকরা লিখলেন, ব্যবস্থাটা ‘বজায় রাখতে হবে যতদিন পরিস্থিতি না বদলায়, এমনকি অভিন্ন নাগরিকত্ব উপলব্ধির দিকে ধীর অগ্রগতির মূল্য দিয়েও।’ অনুচ্ছেদ ২৩২-এ তাঁরা ব্যবস্থাটাকে অন্য যেসব সম্প্রদায় চেয়েছিল তাদের জন্য বাড়াতে অস্বীকার করলেন, একটা ব্যতিক্রম ছাড়া। ‘পাঞ্জাবের শিখরা একটা স্বতন্ত্র আর গুরুত্বপূর্ণ জাতি: তারা ভারতীয় সেনাকে জোগান দেয় এক সাহসী আর মূল্যবান অংশ; কিন্তু তারা সর্বত্র সংখ্যালঘু, আর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে তারা প্রায় প্রতিনিধিত্বহীন থাকে। তাই শিখদের, এবং শুধু তাদেরই, আমরা প্রস্তাব করছি মুহম্মদীয়দের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে গৃহীত ব্যবস্থা বাড়িয়ে দিতে।’

সাইমন কমিশন ১৯৩০ সালে ফলাফলের বর্ণনা দিয়েছিল। সাধারণ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের ভাগ করা হয়েছিল মুসলিম আর অমুসলিম তালিকায়, আর যেসব প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু সেখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল ‘জনসংখ্যার অনুপাতের চেয়ে যথেষ্ট বেশি,’ কারণ ভোটাধিকার কমিটি লখনৌ চুক্তিকে পথপ্রদর্শক করেছিল। শিখরা ছিল পাঞ্জাবের জনসংখ্যার ১১.১ শতাংশ, ভোটারদের ২৪.১ শতাংশ আর সাম্প্রদায়িক আসনের ১৭.৯ শতাংশের অধিকারী। সমৃদ্ধ শিখ কৃষক ছিল অনেক, কমিশন ব্যাখ্যা করেছিল, আর প্রাক্তন সৈনিক হিসেবে যারা ভোটাধিকার পেয়েছিল তাদের মধ্যে শিখদের অংশ সম্ভবত বেশি ছিল।

অবদমিত শ্রেণির জন্য দুটো ভোট, ১৯৩২

১৯৩২ সালের ১১ মার্চ গান্ধী, তখন বন্দি, সেক্রেটারি অফ স্টেট স্যার স্যামুয়েল হোরকে লিখলেন, সরকার যদি অবদমিত শ্রেণির জন্য, তফসিলি জাতিকে তখন যা বলা হত, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি করে, তবে ‘আমাকে আমরণ অনশন করতে হবে।’ পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী, তিনি বললেন, ‘যে চরম অবমাননায় তারা কাতরাচ্ছে তার জন্য না প্রায়শ্চিত্ত, না কোনো প্রতিকার।’ সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এল আগস্টে। তার নবম অনুচ্ছেদ অবদমিত শ্রেণিকে দিল সাধারণ নির্বাচনী এলাকায় একটা ভোট আর তাদের নিজস্ব বিশেষ নির্বাচনী এলাকায় দ্বিতীয় একটা ভোট, যা নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য ফেরাবে, আর সেই বিশেষ নির্বাচনী এলাকাগুলো ২০ বছর পরে শেষ হবে বলে ধরা ছিল।

১৮ আগস্ট ইয়ারওয়াদা জেল থেকে লিখে গান্ধী র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডকে বললেন যে তাঁকে ‘আপনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রাণ দিয়ে লড়তে হবে,’ আর অনশন শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে। বি. আর. আম্বেদকর, যিনি গোলটেবিল বৈঠকে অবদমিত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, আর হিন্দু নেতারা পুনা চুক্তিতে একমত হলেন, যা সই হলো ২৪ সেপ্টেম্বর, আর গান্ধী তার শর্ত মেনে নিলেন। তা পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী বাদ দিল আর সাধারণ আসনগুলো থেকে প্রাদেশিক কাউন্সিলে অবদমিত শ্রেণির জন্য ১৪৮টা আসন সংরক্ষিত করল। সাধারণ তালিকার অবদমিত শ্রেণি প্রতিটা সংরক্ষিত আসনের জন্য চারজন প্রার্থীর একটা প্যানেল নির্বাচন করবে, আর সেই প্রাথমিক নির্বাচন শেষ হবে দশ বছর পরে।

আম্বেদকর পরে তাঁর আপত্তি লিখেছিলেন নথিগুলো ছাপা এক বইয়ে। সিদ্ধান্তটা অবদমিত শ্রেণিকে দিয়েছিল ৭৮টা আসন, তিনি লিখলেন, আর চুক্তি দিল ১৪৮টা, কিন্তু সিদ্ধান্তটা তাদের দ্বৈত ভোটও দিয়েছিল, আর ‘সাম্প্রদায়িক রায়ের দেওয়া দ্বিতীয় ভোট ছিল এক অমূল্য বিশেষাধিকার।’ বাড়তি আসনগুলো, তিনি লিখলেন, ‘পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী আর দ্বৈত ভোট হারানোর কোনো ক্ষতিপূরণ নয়।‘

যেখানে তিনটে তালিকা মিলল

কোন লক্ষ করেন যে আদমশুমারি, সেনা আর নির্বাচনী প্রশ্ন একসঙ্গে বিকশিত হয়েছিল। আদমশুমারি যখন জাতি নিয়ে তথ্য জোগাড় করছিল, তিনি লেখেন, ‘সেনা তখন সংগঠিত হতে শুরু করেছিল ‘যুদ্ধজীবী জাতি’র স্বভাব নিয়ে কিছু ধারণার ভিত্তিতে।’ কাগজপত্র দেখায় তালিকাগুলো একে অপরের উপর পড়ছে। শিখ নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মন্টেগু আর চেমসফোর্ড সেনায় শিখদের স্থানের কথা বলেছিলেন, আর সাইমন কমিশন শিখ ভোটকে যুক্ত করেছিল প্রাক্তন সৈনিকদের সঙ্গে।

১৯২১ সালের মার্চে লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি হাতে নিল মাদ্রাজের এক নরমপন্থী স্যার পি. এস. শিবস্বামী আইয়ারের আনা এক প্রস্তাব, যাতে চাওয়া হয়েছিল ভারতীয়দের যেন অবাধে কিংস কমিশনে নেওয়া হয়। ভারত সরকার তা সংশোধন করল যাতে কোনো সম্প্রদায়কে দেওয়া কমিশন প্রতিফলিত করে সেনার ক্রমে তার কতজন পুরুষ কাজ করছে। ওমিসি লেখেন, সংশোধনীটা এক ভোটে পাস হয়েছিল, পাঞ্জাবি শিখ আর মুসলমানদের জোরালো সমর্থনে।

সাইমন কমিশন ১৯৩০ সালে নিয়োগ-ধরনের ব্রিটিশ পক্ষের সাফাই দিয়েছিল। যেসব জাতি সেরা সিপাহি জোগায়, তারা বলল, ‘কোনোমতেই সেই জাতি নয় যারা পরীক্ষায় মনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দেখায়,’ আর ভারতীয় সেনার সব যুদ্ধরত সৈন্যের ৫৪ শতাংশ জোগাত পাঞ্জাব। তারা ‘এই ইঙ্গিত’ সম্পর্কে সচেতন ছিল যে এটা ‘কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে সেনা-কর্তৃপক্ষের নেওয়া একটা ইচ্ছাকৃত নীতি,’ আর উত্তর দিয়েছিল মহাযুদ্ধের সংখ্যা দিয়ে, ‘যখন এমন কথা বলা যায় না যে কোনো এলাকায় রিক্রুটমেন্টে কোনো নিরুৎসাহ দেখানো হয়েছিল।’ ওমিসির ছক দেখায় ১৯১৪ সালের সেনা, যে বছর যুদ্ধ শুরু, ইতিমধ্যেই তার ১২১টা পদাতিক ব্যাটালিয়নের ৫৭টা নিচ্ছিল পাঞ্জাব আর সীমান্ত থেকে আর ১১টা মাদ্রাজ থেকে। যুদ্ধের জন্য কমিশনের সংখ্যা ছিল এই: ‘বাংলা, ৪ কোটি ৫০ লক্ষ জনসংখ্যা নিয়ে, ৭,০০০ যুদ্ধরত রিক্রুট জোগাল; পাঞ্জাব, ২ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে, জোগাল ৩৪৯,০০০ এমন রিক্রুট।’

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Report of the Commissioners appointed to inquire into the Organization of the Indian Army, with the Minutes of Evidence and Appendix (the Peel Commission, 1859), Internet Archive
  2. Lord Roberts, Forty-one Years in India, vol. II (1897), Internet Archive
  3. David Omissi, The Sepoy and the Raj: The Indian Army, 1860 to 1940 (Macmillan, 1994), Internet Archive
  4. General Report of the Census of India, 1901 (H. H. Risley and E. A. Gait, 1904), Internet Archive
  5. H. H. Risley, The People of India (1908), Internet Archive
  6. Census of India, 1911, vol. I, Part I, Report (E. A. Gait, 1913), Internet Archive
  7. Census of India, 1931, vol. I, Part I, Report (J. H. Hutton, 1933), Internet Archive
  8. Bernard S. Cohn, An Anthropologist among the Historians and Other Essays (Oxford University Press, 1987), Internet Archive
  9. Susan Bayly, Caste, Society and Politics in India from the Eighteenth Century to the Modern Age (The New Cambridge History of India, 1999), Cambridge University Press
  10. C. J. Fuller, Anthropologists and Viceroys: Colonial Knowledge and Policy Making in India, 1871 to 1911, Modern Asian Studies 50:1 (2016), Cambridge University Press
  11. Regulations for Giving Effect to the Indian Councils Act, 1909 (East India Executive and Legislative Councils, 1910), Internet Archive
  12. Report on Indian Constitutional Reforms (Montagu and Chelmsford, 1918), Internet Archive
  13. Report of the Indian Statutory Commission, vol. I, Survey (the Simon Commission, 1930), Internet Archive
  14. B. R. Ambedkar, What Congress and Gandhi Have Done to the Untouchables (1945), reproducing Gandhi's letters of 1932, the Prime Minister's decision and the Poona Pact, Internet Archive

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#divide and rule#census of india#herbert risley#martial races#separate electorates#peel commission#communal award#poona pact

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ভারতীয় ইতিহাস
যে বিভাজনটি পরিকল্পিত ছিল: কীভাবে ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্র বিশ্বাসকে একটি ফাটল রেখায় পরিণত করেছিল
হিন্দু ও মুসলিমরা চিরন্তন শত্রু এই ধারণাটি আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্বাসগুলোর একটি। এটি বৃহৎ অংশে একটি ঔপনিবেশিক আবিষ্কারও, আদমশুমারি ফর্ম ও নির্বাচনী নিয়ম দিয়ে প্রকৌশলী করা।
গান্ধী এক টুকরো লবণ তুলতে ২৪০ মাইল হেঁটেছিলেন। ১৯৩০ সালের শেষে প্রায় ৬০,০০০ ভারতীয় ব্রিটিশ জেলে।
একজন আমেরিকান সাংবাদিক ধরসানার প্রতিবেদন ব্রিটিশ সেন্সরের হাত এড়াতে পারস্যে উড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেটি ছাপা হয়েছিল ১,৩৫০টি সংবাদপত্রে, আর একজন মার্কিন সিনেটর তা সিনেটের নথিতে পড়ে শুনিয়েছিলেন।
কল্পনা চাওলা বেড়ে উঠেছিলেন কর্নালের আকাশে ফ্লাইং ক্লাবের বিমান দেখতে দেখতে, ১৯৯৭ সালে কলম্বিয়ায় চড়ে ২৫২ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলেন, আর হয়েছিলেন মহাকাশে ভারতে জন্মানো প্রথম নারী
হরিয়ানার ছোট এক শহরে সাইকেলে চড়ে তিনি পুষ্পক প্রশিক্ষণ-বিমান দেখতেন, আর শেষে কলম্বিয়ায় রোবট-বাহু চালিয়েছিলেন। এখানে রইল নথিভুক্ত সেই পথ, আর তাঁর নাম বহনকারী উপগ্রহ, পুরস্কার, হাসপাতাল আর স্কুলের প্রেক্ষাগৃহ।
← সব লেখা