Skip to content
১৯৩৩ সালের মে মাসে আন্দামানে তিনজন অনশনকারী মারা গিয়েছিলেন। সরকার কমন্স সভাকে বলেছিল, দুজন মারা গেছেন নিউমোনিয়ায়, অনশনে নয়।
ভারতীয় ইতিহাস

১৯৩৩ সালের মে মাসে আন্দামানে তিনজন অনশনকারী মারা গিয়েছিলেন। সরকার কমন্স সভাকে বলেছিল, দুজন মারা গেছেন নিউমোনিয়ায়, অনশনে নয়।

ছবি: sarangib / Pixabay

বাংলা

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ যখন দমন করা হচ্ছিল, ১৮৫৮ সালের ১০ মার্চ ব্রিটিশরা পোর্ট ব্লেয়ারে প্রথম ২০০ জন কয়েদি নামায়, আর সেখানে সেলুলার জেলের নির্মাণ শেষ করে ১৯০৫ বা ১৯০৬ সালে। বারীন্দ্র ঘোষ আর ভি. ডি. সাভারকর পরে নিজেদের বইয়ে এর তেলকল আর জেলারের বর্ণনা দিয়েছেন। ১৯৩৩ আর ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক বন্দিদের অনশন পৌঁছে গিয়েছিল হাউস অফ কমন্স, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি আর গান্ধীর কাছে।

· · 11 মিনিটের পাঠ

১৯৩৩ সালের ২৬ জুন মি. টি. উইলিয়ামস হাউস অফ কমন্সে ‘আন্দামানে অনশনে থাকা ৪০ জন রাজনৈতিক বন্দি’ নিয়ে একটা প্রশ্ন তুললেন। তিনি ভারত-সচিবকে বলতে বললেন, ‘কতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিটি মৃত্যুর তারিখ’। মন্ত্রী স্যার স্যামুয়েল হোরের হয়ে উত্তর দিতে উঠে মি. বাটলার ভারত সরকারের পাঠানো খবর পড়ে শোনালেন: ‘মে মাসের ১৮, ২৬ আর প্রায় ২৮ তারিখে তিনটি মৃত্যু হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রে বলা হয়েছে মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া, অনশন নয়।’

উত্তরে কারও নাম ছিল না। হেলেনিক-ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ধর্মঘটের সারসংক্ষেপে নাম দিয়েছে মহাবীর সিং, মোহনকিশোর নমদাস আর মোহিত মৈত্রের। তারা বলেছে, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা অনশনকারীদের নাকের ভেতর দিয়ে নল ঢুকিয়ে জোর করে খাইয়েছিল, আর ‘দুধ ফুসফুসে ঢুকে গেলে কয়েকজন নিউমোনিয়ায় মারা যান।’ হ্যানসার্ড আর সোসাইটি দুজনেই নিউমোনিয়া শব্দটা ব্যবহার করেছে। কিসে সেটা হল, তা নিয়ে তাদের মতভেদ।

জেলটা ছিল পোর্ট ব্লেয়ারের সেলুলার জেল, আর ১৯৩৩ সালের মধ্যে ব্রিটিশরা সেখানে ৭৫ বছর ধরে একটা কয়েদি-বসতি চালিয়ে আসছিল। এই লেখা প্রথম জাহাজ থেকে ১৯৩৭ সালের ধর্মঘট পর্যন্ত তার পিছু নিয়েছে, কমিটির রিপোর্ট, বন্দিদের নিজেদের লেখা বই আর কমন্সের নথি ধরে। প্রথম জাহাজগুলো যে প্রতিশোধে ভরে উঠেছিল তার কথা আছে ১৮৫৭-র ব্রিটিশ প্রতিশোধে, এখানে তা আর বলা হল না।

একটা কমিটি দ্বীপ খোঁজে

১৮৫৭ সালের নভেম্বরে ভারত সরকার তখনও লড়ছিল সেই বিদ্রোহের সঙ্গে, যা শুরু হয়েছিল ব্যারাকপুরের চর্বি-মাখানো কার্তুজ নিয়ে। তার একটা সংখ্যার সমস্যাও ছিল। চার্লস লো-র History of the Indian Navy (১৮৭৭) বলে, বিদ্রোহ ‘সরকারের হাতে হাজার হাজার বিদ্রোহীকে তুলে দিয়েছিল’, আর তাদের নিয়ে কী করা হবে সেটা ‘অত্যন্ত জরুরি বিষয় হয়ে উঠেছিল’। লর্ড ক্যানিং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পরীক্ষা করতে এবং ‘কয়েদি-বসতির জন্য সেগুলোর উপযুক্ততা সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে’ একটা কমিটি গড়লেন। সদস্য ছিলেন কারাগার-পরিদর্শক ডা. এফ. জে. মোয়াট, ইন্ডিয়ান নেভির লেফটেন্যান্ট হিথকোট আর সার্জন প্লেফেয়ার। বাষ্পচালিত ফ্রিগেট সেমিরামিস তাঁদের নিয়ে রওনা দিল ১৮৫৭ সালের ২৩ নভেম্বর।

মোয়াট নিজেই এর গল্প বলেছেন Adventures and Researches among the Andaman Islanders (১৮৬৩) বইয়ে, আর উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি স্পষ্ট ছিলেন। একটা বসতি দরকার ছিল সেই বিদ্রোহীদের জন্য, যাদের অপরাধ তাঁর মতে মৃত্যুদণ্ড দাবি করে না, কিন্তু যাদের নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া যায় না ‘যতদিন না অসন্তোষের শেষ চিহ্নটুকুও পুরোপুরি মুছে যায়, অথবা ভারতের অধিবাসীরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয় যে ইংল্যান্ডের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে আরও কোনো বিদ্রোহের চেষ্টা অবধারিতভাবে দমন করা হবে’। ভারতীয় বিদ্রোহীরা একটা ‘সুন্দর ও উর্বর ভূখণ্ড’ উদ্ধার করবে, এই ‘প্রতিফল-ন্যায়বিচারে কাব্যিক কিছু’ তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। সেই ভূখণ্ড ছিল আন্দামানিদের বাসভূমি, একই বাক্যে যাঁদের তিনি বলেছেন ‘আরও আদিম’ এক জাতি।

ইউনেস্কোর কাছে ভারতের দাখিল করা নথি বলে, কমিটি ১৮৫৭ সালের ডিসেম্বরে দ্বীপগুলো জরিপ করে আর ১৮৫৮ সালের জানুয়ারিতে রিপোর্ট দেয়, আর ১৮৫৮ সালের ১০ মার্চ ‘ডা. জে. পি. ওয়াকারের সার্বিক দায়িত্বে’ ২০০ কয়েদির প্রথম দলটি পৌঁছয়। নথিটি বলে, পরে যাদের নির্বাসনে পাঠানো হয় তাদের মধ্যে ছিল ওয়াহাবি আন্দোলনের লোক, মণিপুর বিদ্রোহের লোক আর বর্মি বিদ্রোহীরা।

যে মৃত্যুহারকে ‘বেশি বলা যায় না’ বলা হয়েছিল

বসতির নিজের রিপোর্টে খরচটা দেখা যায়। লেফটেন্যান্ট-কর্নেল বি. ফোর্ডের লেখা ১৮৬৬ থেকে ১৮৬৭ সালের প্রশাসনিক রিপোর্টে জনসংখ্যা ৮,০৭০ আর ১৮৬৬ সালে কয়েদির মৃত্যু ৬৭৫, মৃত্যুহার ১০.৫৬ শতাংশ। ফোর্ড একে বিপদসংকেত মনে করেননি। নতুন আসা অনেকে বয়স্ক বা জীর্ণ ছিল, তিনি বলেন, আর সিদ্ধান্ত টানেন: ‘উপরের পরিস্থিতি বিবেচনায়, আর পোর্ট ব্লেয়ারে সব আবহাওয়ায় কয়েদিদের কাছে যে সাধারণত শ্রমসাধ্য কাজ চাওয়া হয় তা বিবেচনায়, মৃত্যুহারকে বেশি বলে ধরা যায় না।‘

জেটিতে একজন ভাইসরয়

১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভাইসরয় লর্ড মেয়ো একটা দিন কাটালেন বসতি পরিদর্শনে। তাঁর সরকারি জীবনীকার ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টার সতর্কতাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। কয়েদিদের ‘নিয়মিত কাজে রাখা হয়েছিল, যাতে ভাইসরয় বসতিটিকে ঠিক যেমন আছে তেমনই দেখতে পান।’ সামনে, দুই পাশে আর পেছনে সশস্ত্র পুলিশ হাঁটছিল, আর ভাইপার ও রস দ্বীপে সৈন্যরা অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, ‘যেখানে সবচেয়ে খারাপ চরিত্রের লোকদের রাখা হয়’।

বিপদ কেটে গেছে বলে ভাবা হয়েছিল। অন্ধকার নামার পর, হোপটাউন জেটিতে, মেয়ো যখন মাউন্ট হ্যারিয়েটে হাঁটাহাঁটি সেরে নামছেন, এক কয়েদি আলগা পাথরের আড়াল থেকে ছুটে এসে তাঁকে দুবার ছুরি মারল। লঞ্চ জাহাজে পৌঁছনোর আগেই মেয়ো মারা গেলেন।

হান্টার লিখেছেন, খুনি ছিল উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের ওপারের এক লোক, শত্রুকে হত্যার দায়ে পেশোয়ারে যার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণ ‘প্রধানত পরিস্থিতিগত’ বলে দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর করা হয়েছিল, আর হোপটাউনে সে টিকিট-অফ-লিভ কয়েদিদের মধ্যে নাপিত হয়েছিল। কেন করল জিজ্ঞেস করা হলে সে বলেছিল, ‘ঈশ্বরের আদেশে।’ হান্টার তার নাম দেননি: ‘তাঁর নাম, কিংবা তাঁর গ্রাম বা গোত্রের নাম, এই বইয়ে নথিভুক্ত হবে না।’ ১৮৭২ সালের ১১ মার্চ ভাইপার দ্বীপে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

এক টাওয়ারের চারপাশে সাতটি শাখা

১৮৯০-এর দশক নাগাদ কর্তৃপক্ষ এমন একটা জেল চাইছিল যেখানে কয়েদিদের একা আটকে রাখা যায়। ইউনেস্কোর কাছে ভারতের নথি বলে, স্যার চার্লস লায়াল আর স্যার এ. এস. লেথব্রিজের একটা কমিটি ১৮৯০ সালে পোর্ট ব্লেয়ার ঘুরে বন্দরের কাছে একটা দণ্ডবিধানের স্থাপনার সুপারিশ করে। ১৮৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের এক বসতি-আদেশে কাজ শুরু হয় আর শেষ হয় ১৯০৫ থেকে ১৯০৬ সালে। ভিজিটর সাইট সেলুলারজেল.কম-এর সারসংক্ষেপে সংস্কৃতি মন্ত্রকের নথি শুরুর সাল বলেছে ১৮৯৬।

কয়েদিরাই এটা বানিয়েছিল। নথিটি বলে, বন্দিরা এর জন্য ৩০ লক্ষ (৩০,০০,০০০) ইট বানিয়েছিল, আর এর ‘লোহার গ্রিল, শিকল, বেড়ি, হাতকড়া, বেত্রাঘাতের মঞ্চ আর তেলকল’ এসেছিল ইংল্যান্ড থেকে। জেলটা ছিল তিনতলা, মাঝখানের একটা পাহারা-টাওয়ার থেকে ছড়ানো অসমান দৈর্ঘ্যের সাতটি শাখা। প্রতিটি কুঠুরি সাড়ে ১৩ ফুট বাই ৭, খুলত চার ফুট চওড়া একটা বারান্দায়। কোনোটাতেই শৌচাগার ছিল না।

নকশাটা দুটো ইউরোপীয় ধারণা মেনেছিল, সেপারেট সিস্টেম, যাতে প্রত্যেক বন্দিকে একা আটকে রাখা হয়, আর প্যানোপটিকন, যাতে টাওয়ারের একজন পাহারাদার অদৃশ্য থেকে প্রতিটি শাখা দেখতে পারে। নথিটি বলে, জেলটা নকশা করা হয়েছিল ‘ভাবের আদানপ্রদান ঠেকাতে’, যাতে বসতিটিকে ‘প্রাণদণ্ডের ঠিক পরের শাস্তি বলে গণ্য করা যায়’।

কুঠুরির সংখ্যা নির্ভর করে কে গুনছে তার ওপর। ইউনেস্কোর নথি বলে ৬৯৮। সেলুলারজেল.কম, সংস্কৃতি মন্ত্রকের হিসাব জানিয়ে, বলে ১৯০৫ থেকে ১৯০৬ সালের মধ্যে ৬৬৩, আর ১৯০৯ সালে আরও ৩০, যা মিলিয়ে ৬৯৩, আর প্রধানমন্ত্রী মিউজিয়াম ও লাইব্রেরির একটা কাগজ থেকে ৬৮৯ জানায়।

দশ পাউন্ড সরষের তেল বা তিরিশ পাউন্ড নারকেল তেল

আলিপুর বোমা মামলায় দণ্ডিত বারীন্দ্রকুমার ঘোষ পৌঁছেছিলেন, The Tale of My Exile (১৯২২) অনুযায়ী, ১৯০৯ সালের ‘সম্ভবত ১১ ডিসেম্বর’। বইয়ের প্রথম পাতাগুলোতে তিনি বলেছেন এটা ‘দুটি কণ্ঠের যৌথ উচ্চারণ’, তাঁর নিজের আর উপেন নামে এক সহবন্দির।

পোর্ট ব্লেয়ারে তাঁদের ছয়-সাত মাস কেটেছিল, যখন, তিনি লেখেন, ‘আমাদের ভাগ্যাকাশে এক নতুন সুপারিনটেনডেন্টের রূপে একটা সত্যিকারের ধূমকেতু উদিত হল। আমাদের ভাগ্যে সিলমোহর পড়ে গেল।’ নতুন লোকটি কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে তেলকলে লাগালেন। ‘প্রত্যেককে দিনে হয় ১০ পাউন্ড সরষের তেল নয় ৩০ পাউন্ড নারকেল তেল বের করতে হত। বলিষ্ঠ, শক্তসমর্থ লোকেরাও ঘানি ঘোরাতে ঘোরাতে অবসন্ন হয়ে পড়ে।’ পিঠে ৫০ পাউন্ডের নারকেলের বস্তা নিয়ে প্রত্যেককে ছুটে তিনতলায় উঠে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে হত।

এলাহাবাদের স্বরাজ-এর সম্পাদক নন্দগোপাল জেলের নিজের নিয়মই জেলারের মুখের ওপর ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিরোধ করলেন। সরকার ১০টা থেকে ১২টা বিশ্রামের সময় বেঁধে দিয়েছে, তিনি বললেন, তাই তিনি প্রতিটি গ্রাস ধীরে চিবিয়ে খেলেন আর কম্বলে শুয়ে পড়লেন। তেল কম উঠলে তিনি কর্তৃপক্ষকে বললেন: ‘আমি নিশ্চয়ই বলদ নই যে সারাদিন ঘানি ঘুরিয়ে যাব।’ তাঁর পাওয়া রেশন, তিনি বললেন, ‘দেড় আনারও যোগ্য নয়’। তখন কর্তৃপক্ষ সবাইকে তিন দিন তেল পিষতে হুকুম দিল, আর বারীন্দ্র লেখেন, ‘এবার আমাদের অনেকে ঘানিতে কাজ করতে অস্বীকার করল। এভাবেই ধর্মঘট শুরু হল।’

শাস্তি ছিল ফ্যানের জাউ, ডান্ডাবেড়ি আর হাতকড়া, তারপর আলাদা কুঠুরি। ইন্দুভূষণ স্কাইলাইট থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করলেন। উল্লাসকর, জ্বর নিয়ে হাতকড়ায় ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায়, মাথার ঠিক হারালেন। ধর্মঘটীদের দাবি ছিল ‘(১) উপযুক্ত খাদ্য, (২) শ্রম থেকে মুক্তি আর (৩) পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশার স্বাধীনতা।’

চুঁচুড়ার এক তরুণ, নানিগোপাল, ভাইপার দ্বীপে অনশনে বসলেন, আর চার দিন পর কর্তৃপক্ষ তাঁর নাকে রবারের নল ঢুকিয়ে দুধ খাওয়াল। তিনি ধর্মঘটে অটল থাকলেন, আর ‘দেড় মাসেরও বেশি উপবাসে যখন সে ক্লান্ত আর অসহায়, তখনও কর্তৃপক্ষ তাকে হাতকড়ায় ঝুলিয়ে রাখতে দ্বিধা করেনি।’ সংবাদপত্র বিষয়টা তুলল, বারীন্দ্র বলেন, আর সরকার ডা. লুকিসকে তদন্তে পাঠাল। তিনি যোগ করেন, ডাক্তারের রিপোর্ট কখনও প্রকাশিত হয়নি।

১৯১৩ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের সদস্য স্যার রেজিনাল্ড ক্র্যাডক পোর্ট ব্লেয়ার পরিদর্শনে এলেন। বন্দিদের তিনি যা বলেছিলেন, বারীন্দ্র তা লিখে রেখেছেন: ‘আপনারা বাইরে থাকতে ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিলেন।’ নানিগোপাল নিজের কাহিনি বললে ক্র্যাডক বললেন: ‘তুমি সরকারের শত্রু, তোমাকে গুলি করে মারা উচিত ছিল।’ নানিগোপাল উত্তর দিলেন, তাহলে সরকার আদালত আর আইনের খরচটা বাঁচাতে পারত।

সাভারকর আর জেলার ব্যারি

ভি. ডি. সাভারকর দ্বীপ থেকে মুক্তির পর মারাঠিতে Majhi Janmathep লিখেছিলেন। এর ইংরেজি অনুবাদকের প্রকাশক বলেন, ১৯২৭ সালের প্রথম সংস্করণ কয়েক মাসের মধ্যে ফুরিয়ে যায়, তারপর বোম্বে সরকার তা নিষিদ্ধ করে, আর নিষেধাজ্ঞা ওঠে ১৯৪৭ সালে। অনুবাদকের টীকা বলে, বোম্বে হাইকোর্ট ১৯১০ সালের শেষে সাভারকরকে পঞ্চাশ বছরের দ্বীপান্তরের সাজা দিয়েছিল।

পৌঁছতেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন জেলার মি. ব্যারি। ‘ওকে ছেড়ে দাও, ও বাঘ নয়,’ ব্যারি সার্জেন্টকে বললেন, তারপর জানতে চাইলেন সাভারকর কি সেই লোক যে মার্সেইয়ে পালাতে চেয়েছিল। ব্যারি ‘রাজনৈতিক বন্দি’ কথাটা মুখে আনতে চাইতেন না। ‘তোমরা রাজনৈতিক বন্দি নও’ ছিল তাঁর স্লোগান, সাভারকর লেখেন, আর রাজনৈতিক বন্দিরা একটা D-চিহ্নিত ব্যাজ পরত, যার অর্থ ‘বিপজ্জনকভাবে’।

সাভারকরের তেলকলের বিবরণ বারীন্দ্রের সঙ্গে মেলে। বন্দিদের ‘চাকা ঘোরানোর হাতলে পশুর মতো জোতা হত’, আর ‘একশো জনের মধ্যে শুধু কড়া-পড়া শরীরের একজন কোনোমতে দৈনিক ত্রিশ পাউন্ড নারকেল তেলের কোটা পূরণ করতে পারত।’ ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে অভিষেক-উৎসবের দিনে মুক্তির আশায় থাকা বন্দিদের আবার কুঠুরিতে তালাবন্ধ করা হল। ব্যারি সাভারকরকে বললেন: ‘আমি সত্যিই খুব দুঃখিত যে এই জেলের সবচেয়ে দীর্ঘ সাজার মানুষটি এই আনন্দের দিনে একদিনের ছাড়ও পেল না।’

সাভারকর ধর্মঘটীদের মধ্যে একটা মতভেদের কথাও লিখেছেন। দীর্ঘ উপবাসের পর নানিগোপাল মৃত্যুর কাছাকাছি, আর সাভারকর, যিনি বলেন তিনি ‘অনশনের আত্মঘাতী নীতির বিরুদ্ধে সব সময়’, তরুণটিকে খেতে রাজি করাতে নিজেই তিন দিনের উপবাস করলেন। এরপর ভারত সরকার একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করল, যা সাভারকর ছেপেছেন আর বারীন্দ্র একই ভাষায় তালিকাবদ্ধ করেছেন। নির্দিষ্ট মেয়াদের বন্দিরা ভারতের জেলে ফিরে যাবে। যাবজ্জীবনের সাজাপ্রাপ্তরা চোদ্দ বছর জেলের ভেতরে কাটাবে, আর তারপর তাদের হালকা কাজ দেওয়া হবে।

যে বন্ধ কখনও বন্ধ হয়নি

১৯২০ সালের জানুয়ারিতে একটা জেল কমিশন পোর্ট ব্লেয়ারে এসে, বারীন্দ্র লেখেন, হাসপাতালের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘খুব জোরালোভাবে বলেছিল’। ১৯২০-এর দশকে বসতিটিকে নতুন করে সাজানো হয়, টেলর শারম্যানের গবেষণা দেখায়, যাতে কয়েদিরা জমি নিতে আর মূল ভূখণ্ড থেকে পরিবার আনতে পারে।

তারপর এল উল্টো মোড়। ১৯৩২ সালের ১১ জুলাই স্যার স্যামুয়েল হোর কমন্সকে বললেন, সন্ত্রাসবাদী অপরাধে দণ্ডিত ১০০ জন বন্দিকে বাংলা থেকে আন্দামানে সরানো হবে, একটা পদক্ষেপ ‘জেল-শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয়, যা সন্ত্রাসী বন্দিরা ক্ষুণ্ণ করতে যথাসাধ্য করছে।’ ১৯৩২ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি বললেন, ভারত সরকার ‘দণ্ডিত বসতি ক্রমে তুলে দেওয়ার নীতিতে কোনো পরিবর্তন করেনি’, আর বন্দিরা ‘সেলুলার জেলে নিজেদের সাজা ভোগ করবে’।

কর্নেল ওয়েজউড হোরকে বললেন, বসতি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দশ বছর হয়ে গেছে। মি. অ্যাটলি জিজ্ঞেস করলেন, যে জলবায়ুর ওপর ওই সিদ্ধান্ত দাঁড়িয়েছিল তা কি বদলেছে। স্যার আলফ্রেড নক্স উল্লেখ করলেন, সেখানে ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন আছে, আর বললেন, জলবায়ু যদি তাদের জন্য যথেষ্ট ভালো হয় তাহলে ‘ভারতীয় সন্ত্রাসীদের’ জন্যও যথেষ্ট ভালো।

১৯৩৩ সালের মে: কমন্সে তর্ক

মূল ভূখণ্ডের রাজনৈতিক বন্দিরা আগেই উপবাসকে হাতিয়ার করেছিলেন। কাকোরির বন্দিরা তা করেছিলেন ১৯২৭ সালে, আর লাহোরের এক জেলে ভগৎ সিং আর তাঁর সঙ্গীরা। পোর্ট ব্লেয়ারে ১৯৩৩ সালের মে মাসের ধর্মঘট সেই তিনটি মৃত্যু ঘটাল, যার কথা মি. উইলিয়ামস জানতে চেয়েছিলেন।

বাটলার সরকারি অবস্থানেই অটল রইলেন। ২৬ জুন কমন্সকে বলা হল, ‘অনশন শুরু হয়েছিল জেল-শৃঙ্খলা ভাঙার উদ্দেশ্যে, আর কর্তৃপক্ষ তা প্রতিরোধ করতে বাধ্য ছিল।’ উইলিয়ামস উত্তরে বললেন, ধর্মঘট ‘আসলে শুরু হয়েছিল কারণ বন্দিদের আন্দামানে পাঠানো হয়েছিল।’

১৭ জুলাই বাটলার বললেন, সরকার ‘সন্তুষ্ট যে অনশন শেষ হয়েছে, আর অবস্থা সন্তোষজনক।’ পাঞ্জাবের কারাগারের ইনস্পেক্টর-জেনারেল কর্নেল বার্কার অনশনকারীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখতে আন্দামানে গিয়েছিলেন। বাটলার বললেন, বার্কারকে পাঠানো হয়েছিল ‘একটা আনুষ্ঠানিক তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে নয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করতে আর তাদের পরামর্শ দিতে।’ অনশনের কারণ, তিনি বললেন, ‘জেল-শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করার একটা চেষ্টা, আর অনশন পরাজিত হয়েছে।’

ভারতে প্রতিক্রিয়া ছিল অন্যরকম। ১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর জওহরলাল নেহরু বি. কে. দাশগুপ্তকে লিখলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পি. সি. রায় আর অন্যদের জন্য আন্দামানের বন্দিদের নিয়ে যে ইশতেহার তৈরি হচ্ছিল, তা সমর্থন করতে তিনি রাজি। ‘আন্দামানে যে ভয়ংকর ট্র্যাজেডি ঘটেছে তাতে আর তা নিয়ে সরকারের বিস্ময়কর নির্মম মনোভাবে আমি গভীরভাবে স্তম্ভিত হয়েছি,’ তিনি লিখলেন।

জুলাই ১৯৩৭: ‘যন্ত্রণায় অনাহারে মরছেন’

পরের গণধর্মঘট শুরু হল ১৯৩৭ সালের ২৪ জুলাই। ৬ আগস্ট নেহরু এলাহাবাদ থেকে একটা বিবৃতি দিলেন: ‘কয়েকদিন ধরে আমরা এই চিন্তার পীড়নে বাস করছি যে আমাদের প্রায় দুশো দেশবাসী আন্দামানে অনশনে আছেন আর যন্ত্রণার মধ্যে অনাহারে মরছেন।’ গান্ধীর Collected Works-এ পুনর্মুদ্রিত এক প্রস্তাবে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি বলল, তারা বহুদিন ধরেই মনে করে আসছে দ্বীপগুলোকে দণ্ডিত বসতি হিসেবে ব্যবহার করা, ‘বিশেষ করে রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য, বর্বরোচিত’। নেহরু ১৯ আগস্ট মেনে নিলেন যে ‘কোনো সরকার শুধু অনশন হচ্ছে বলেই আত্মসমর্পণ করতে পারে না।’ ২৯ আগস্ট তিনি বললেন, ভারত সরকার বন্দিদের দাবি বিবেচনা করতে প্রস্তুত নয়।

গান্ধী কী করেছিলেন তা দেখা যায় Collected Works-এর তাঁর খণ্ডে। তিনি ধর্মঘটীদের অনশন ছাড়তে আর তাঁকে আশ্বাস দিতে বলেছিলেন যে তাঁরা আর সন্ত্রাসবাদী পথে বিশ্বাস করেন না। ১৬ আগস্ট বা তার পরে তিনি টেলিগ্রামে ঠাকুরকে জানালেন, সংকট মেটাতে তিনি যথাসাধ্য করবেন। ২৯ আগস্ট সাতজন ছাড়া সব ধর্মঘটী অনশন স্থগিত করলেন। ঘটনাপঞ্জিতে তারপর আছে বাকিদের থামার অনুরোধ জানিয়ে গান্ধীর ৩, ৮ আর ১১ সেপ্টেম্বরের টেলিগ্রাম, আর শেষ স্থগিতকরণ ১৫ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। ইউনেস্কোর কাছে ভারতের নথি ধর্মঘটকে ৪৫ দিনের বলে গুনেছে, আর বলে এটি শেষ হয়েছিল শুধু গান্ধী আর ঠাকুরের হস্তক্ষেপে।

১৯৩৭ সালের ৩০ অক্টোবর নাগাদ গান্ধী কলকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে আন্দামানের বন্দিদের সঙ্গে দেখা করছিলেন, অর্থাৎ কয়েকজনকে ততদিনে মূল ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ইউনেস্কোর নথি বলে, ১৯৩৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দি মূল ভূখণ্ডে ফিরে আসেন।

আজ সেখানে যা দাঁড়িয়ে আছে

জাপানিরা দ্বীপগুলো দখলে রেখেছিল ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। ভারতের নথি বলে, সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেলুলার জেল পরিদর্শন করেন আর একে বলেন ‘ভারতীয় বাস্তিল’। ১৯৬৯ সালের ২২ আগস্ট দ্বীপগুলোর নাম বদলানো নিয়ে সংসদে আলোচনার সময়, দ্য নিউজ মিনিট জানায়, কে. আর. গণেশ সংসদে বলেছিলেন দ্বীপগুলোর ইতিহাস শুরু ১৮৫৮ সালে, ১৯৪৩ সালে নয়।

সাতটি শাখার চারটি আজ নেই। ইউনেস্কোর নথি বলে, ১৯৪১ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতির পর সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছিল। সংস্কৃতি মন্ত্রক, সেলুলারজেল.কম যেভাবে জানিয়েছে, বলে, দুটি জাপানি দখলের সময় নির্মাণসামগ্রীর জন্য খুলে নেওয়া হয় আর দুটি পরে হাসপাতালের জায়গা করে দেয়। টিকে থাকা তিনটি শাখা আর কেন্দ্রীয় টাওয়ারকে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় স্মারক ঘোষণা করেন।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Hansard, House of Commons, 26 June 1933: India, Prisoners (Andaman hunger strike)
  2. Hansard, House of Commons, 17 July 1933: India, Prisoners (Colonel Barker's mission to the Andamans)
  3. Hansard, House of Commons, 11 July 1932: India, Prisoners (transfer to the Andamans)
  4. Hansard, House of Commons, 24 October 1932: India, Prisoners (policy on the penal settlement)
  5. Frederic J. Mouat, Adventures and Researches among the Andaman Islanders (London, 1863), Internet Archive
  6. Charles Rathbone Low, History of the Indian Navy (1613 to 1863), vol. 2 (London, 1877), p. 488, Qatar Digital Library
  7. Government of India, Cellular Jail, Tentative List submission to the UNESCO World Heritage Centre (ref. 5888)
  8. Report on the Administration of the Penal Settlement of Port Blair, Andaman Islands, for 1866 to 1867 (Lt.-Col. B. Ford), Internet Archive
  9. W. W. Hunter, A Life of the Earl of Mayo, Fourth Viceroy of India, vol. 2 (1875), Internet Archive
  10. Barindra Kumar Ghose, The Tale of My Exile (Pondicherry: Arya Office, 1922), Internet Archive
  11. V. D. Savarkar, The Story of My Transportation for Life, English translation by V. N. Naik of Majhi Janmathep, Internet Archive
  12. The Collected Works of Mahatma Gandhi, vol. 66, August 1937 to March 1938 (Publications Division, Government of India, 1976), Internet Archive
  13. Jawaharlal Nehru to B. K. Das Gupta, 2 September 1933, Nehru Archive (Selected Works, first series, vol. 5)
  14. Jawaharlal Nehru, 'Hunger Strike in the Andamans', statement of 6 August 1937, Nehru Archive (Selected Works, first series, vol. 8)
  15. Taylor C. Sherman, 'From hell to paradise? Voluntary transfer of convicts to the Andaman Islands, 1921 to 1940', Modern Asian Studies 43 (2009), LSE Research Online
  16. Hellenic-Indian Society for Culture and Development, 'Kala Pani'
  17. CellularJail.com, independent visitor guide summarising Ministry of Culture and Prime Ministers Museum and Library records (pages 'Inside Cellular Jail' and 'David Barry, Jailer')
  18. The News Minute (31 December 2018): Netaji and the hoisting of the tricolour in the Andamans, on the Ramakrishna report

পর্দায় ও বইয়ে

  • The Tale of My Exile (1922) , লেখক Barindra Kumar Ghose , English . প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ: আলিপুর বোমা মামলার এক বন্দির লেখা তেলকল আর ১৯১২ সালের ধর্মঘটের কথা, এক সহবন্দির সঙ্গে যৌথভাবে লেখা
  • My Transportation for Life (Majhi Janmathep) (1927) , লেখক V. D. Savarkar , Marathi, English translation by V. N. Naik . আন্দামানের বছরগুলোর স্মৃতিকথা, বোম্বে সরকার নিষিদ্ধ করেছিল, অনুবাদকের প্রকাশকের মতে ১৯৪৭ সালে নিষেধাজ্ঞা ওঠে

এই তালিকা তাঁদের জন্য যাঁরা পর্দায় দেখা গল্পের পিছনের ইতিহাস খুঁজছেন। কোনো নাট্যরূপ সূত্র নয়, এবং এই কাজগুলির কোনোটির সঙ্গে tuput যুক্ত নয়।

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#cellular jail#kala pani#andaman islands#port blair#savarkar#barindra ghose#hunger strike#british raj

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ভারতীয় ইতিহাস
অ্যামেরি কমন্সে বলার একদিন পর যে কলকাতায় চালের দাম যুদ্ধের আগের ছয় গুণ, যুদ্ধ মন্ত্রিসভা খাদ্যশস্যের জন্য আরও জাহাজ দিতে অস্বীকার করল
একটা ঘূর্ণিঝড়, একটা যুদ্ধের অর্থনীতি আর একটা দামের পাকচক্র ১৯৪২ আর ১৯৪৩ সালে একসঙ্গে বাংলাকে আঘাত করেছিল। কাগজপত্র দেখায় কে লন্ডনের কাছে খাদ্যশস্য চেয়েছিলেন, কে না বলেছিলেন, আর তর্কের দুই পক্ষ কী প্রমাণ করতে পারে।
ব্যারাকপুরের দশ দিন পর রাজ মঙ্গল পান্ডেকে ফাঁসি দিয়েছিল, চার সপ্তাহ পরে তাঁর রেজিমেন্টের সাত কোম্পানিকে বরখাস্ত করেছিল আর তাঁর পদবিকে বানিয়ে দিয়েছিল প্রতিটি বিদ্রোহীর নাম।
লর্ড ক্যানিংয়ের কাউন্সিল মঙ্গল পান্ডের অপরাধকে 'কুখ্যাতি' দিতে চায়নি। ফাঁসির চার সপ্তাহ পরে সেই কাউন্সিলই তাঁর সঙ্গীদের পিঠ থেকে উর্দি খুলে নিল, আর সেনাবাহিনীর নিজের এক অফিসার ব্যাখ্যা করলেন কেন প্রতিটি বিদ্রোহী হয়ে গেল পান্ডি।
১৯০৩ সালে রাজ ভারতীয়দের কাছে চা বিক্রির খরচ জোগাতে চা রপ্তানির ওপর কর বসিয়েছিল। ১৯৩০ সালেও ফসলের ৯০ শতাংশেরও বেশি দেশের বাইরে চলে যেত।
১৯৩০ সাল নাগাদ ভারতীয়দের মধ্যে খুব সামান্য অংশই চা খেত, আর ফসলের ৯০ শতাংশেরও বেশি রপ্তানি হত। পাঁচ বছর পর ১০ কোটি পাউন্ড চা অবিক্রীত পড়ে থাকে, আর চাষিরা খদ্দেরের খোঁজে যায় ভারতের রেলস্টেশনে।
← সব লেখা