Skip to content
কায়সারবাগ তৈরি হয়েছিল দুই বছরে ৮০ লাখ টাকায়, আর ১৮৫৮ সালের মার্চের পর একটি সামরিক পরিকল্পনায় মাছি ভবনের চারপাশের জমি সাফ করে লখনউয়ের ভেতর দিয়ে সড়ক কাটা হয়েছিল
ব্রিটিশ রাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

কায়সারবাগ তৈরি হয়েছিল দুই বছরে ৮০ লাখ টাকায়, আর ১৮৫৮ সালের মার্চের পর একটি সামরিক পরিকল্পনায় মাছি ভবনের চারপাশের জমি সাফ করে লখনউয়ের ভেতর দিয়ে সড়ক কাটা হয়েছিল

ছবি: This file is from the Mechanical Curator collection , a set of over 1 million... / Wikimedia Commons, Public domain (ছাঁটা)

বাংলা

কায়সারবাগ প্রাসাদ উঠেছিল ১৮৪৮ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে। সেনা-প্রকৌশলী রবার্ট নেপিয়ারের ১৮৫৮ সালের ২৬ মার্চ তারিখের পরিকল্পনায় মাছি ভবন দুর্গ থেকে ছড়িয়ে যাওয়া সড়ক আর তার চারপাশে খোলা জমির কথা ছিল, আর ১৮৫৯ থেকে ১৮৬০ সালের আওধ প্রশাসনিক প্রতিবেদনে লেখা আছে কায়সারবাগ চত্বরের ভেতর দিয়ে দুটি চওড়া সড়ক তৈরি হয়েছিল। বড়া ইমামবাড়া, রুমি দরওয়াজা, ছত্তর মঞ্জিল আর রেসিডেন্সির ধ্বংসাবশেষ আজও দাঁড়িয়ে আছে।

· · 9 মিনিটের পাঠ

১৯০৪ সালের লখনউ জেলা গেজেটিয়ারের হিসাবে কায়সারবাগ (Qaisarbagh) প্রাসাদে আসবাব আর সাজসজ্জাসহ খরচ হয়েছিল ₹৮০ লাখ (₹৮ মিলিয়ন), আর কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৪৮ সালে, শেষ হয়েছিল ১৮৫০ সালে। ১৮৫৮ সালের মার্চে কলিন ক্যাম্পবেলের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের হাত থেকে এটি দখল করে। সেই বছরের ২৮ নভেম্বর যুদ্ধ-সংবাদদাতা উইলিয়াম হাওয়ার্ড রাসেল শহরে পৌঁছন এবং লেখেন, নতুন কাজের জায়গা করে দিতে প্রকৌশলীরা বাড়িঘর উড়িয়ে দিচ্ছিলেন বলে শহর “প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে গমগম করছিল”।

ঝড়ের বেগে শহর দখলের কথা আছে বেগম হজরত মহল ও ১৮৫৭ সালের আওধ লেখায়, আর তার পরের প্রতিশোধের বিস্তৃত বিবরণ আছে ১৮৫৭-র ব্রিটিশ প্রতিশোধ লেখায়। এই লেখাটি অনুসরণ করছে ইমারতগুলোকে: আওধের দরবার কী গড়েছিল, কী উড়িয়ে দেওয়া বা সাফ করা হয়েছিল, আর লখনউয়ের কাছে আজও কী আছে। গেজেটিয়ারগুলোয় প্রাসাদের নাম লেখা হয়েছে Qaisarbagh, আর রাসেল লিখেছেন Kaiserbagh।

দুই বছরে ওয়াজিদ আলি শাহ যা গড়েছিলেন

১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার প্রাসাদটিকে বলেছে আওধের শেষ রাজা ওয়াজিদ আলি শাহের রেখে যাওয়া একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ইমারত। দর্শনার্থী ঢোকেন জিলাউ-খানা দিয়ে, যেখানে রাজকীয় শোভাযাত্রা সাজানো হতো, তারপর চিনি বাগ পেরিয়ে সবুজ জলকন্যা-মূর্তি দিয়ে ঘেরা একটি ফটকের নিচ দিয়ে হজরতবাগে। সেখানে ছিল একসময় রুপো দিয়ে বাঁধানো চান্দিওয়ালি বারাদারি, আর চৌলাখি, যে ইমারতগুচ্ছ রাজা তাঁর নাপিত আজিম-উল্লা খানের কাছ থেকে চার লাখ টাকায় কিনে রানি ও প্রধান স্ত্রীদের বাসস্থান করেছিলেন। তৈরিতে এক লাখ টাকা লেগেছিল বলে যে ফটকের নাম লাখি, তার ওপারে ছিল বিশাল খোলা চত্বর, যেখানে প্রতি আগস্টে গোটা শহরের জন্য খোলা একটি মেলা বসত।

১৮৭৭ সালের আওধ প্রদেশের গেজেটিয়ার একই খরচ দিয়েছে এবং যোগ করেছে যে প্রাসাদটির খরচ “৮,০০,০০০ পাউন্ড বলে ধারণা করা হয়”। রাসেল ১৮৫৮ সালের ১৪ ও ১৫ মার্চ প্রাসাদের ভেতর দিয়ে হেঁটেছিলেন এবং তার আয়তনকে তুলনা করেছিলেন তুইলেরি, লুভর, ভার্সাই, স্কুতারি আর শীত প্রাসাদ একসঙ্গে জুড়লে যা হয়, তার সঙ্গে।

১৮৫৮ সালের মার্চে সৈন্যরা যা বের করে নিয়েছিল

১৪ মার্চের রোজনামচায় রাসেল লিখেছেন, ভাঙা দরজা দিয়ে সৈন্যরা বেরিয়ে আসছে শাল, জরি-কাপড় আর গয়নার বাক্স নিয়ে। কেউ চিনেমাটির ফুলদানি আছড়ে ভেঙে ফেলছিল, কেউ তলোয়ারের হাতল আর হুঁকোর নল থেকে পাথর খুলে নিচ্ছিল। তিনি এমন একটি ভাঁড়ারঘর পান যেখানে বাক্সবন্দী জেড আর চিনেমাটির জিনিস অন্তত একটি উটের বোঝা সমান ছিল, আর দেখেন লোকজন জরির কাপড় আগুনে পুড়িয়ে সোনা-রুপোর সুতো বের করছে।

১৫ মার্চ তিনি লেখেন, লুট “আদেশে বন্ধ করা হয়েছে”, প্রাসাদ বারুদে ভরা আর বিস্ফোরণ ঘন ঘন হচ্ছে। ৯ এপ্রিল নাগাদ প্রাইজ এজেন্টরা, যাঁরা সৈন্যদের লাভের জন্য দখল করা সম্পত্তি বিক্রি করতেন, শহরের পুলিশ দপ্তর কোতোয়ালিতে নিলাম বসাচ্ছিলেন। রাসেল সেখানে গিয়েছিলেন এবং মূল্যবান কিছুই দেখতে পাননি।

মাছি ভবন: ১৮৫৭ সালে উড়িয়ে দেওয়া, ১৮৫৮-র পর নতুন করে গড়া

মাছি ভবন গোমতীর ওপরের সেই টিলা যেখানে লখনউয়ের শুরু। ১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার বলছে, এর পুরোনো নাম ছিল লছমন টিলা, লখনউয়ের শেখরা সেখানে প্রথম দুর্গ গড়েছিলেন এবং সফদর জং তা নতুন করে বানান। নামটি এসেছে সেই মাছ থেকে, যা ছিল সফদর জঙের পদমর্যাদার প্রতীক।

ব্রিটিশরা নিজেরাই ১৮৫৭ সালে এটি উড়িয়ে দিয়েছিল। কায়ে ও ম্যালেসনের বইয়ে ছাপা ব্রিগেডিয়ার ইংলিসের ১৮৫৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ৩০ জুনের “অপ্রীতিকর ঘটনার” পর, অর্থাৎ চিনহাটের পরাজয়ের পর, রেসিডেন্সি আর দুর্গ দুটোই ধরে রাখার মতো লোক ছিল না। ১ জুলাই সন্ধ্যায় গ্যারিসনকে সংকেত দেওয়া হয় দুর্গ খালি করে সেটি উড়িয়ে দিতে। মধ্যরাতে বাহিনী রেসিডেন্সিতে গিয়ে ঢোকে, আর প্রতিবেদনের হিসাবে ২৪০ পিপে বারুদ ও ৬০,০০,০০০ কার্তুজ ম্যাগাজিনসহ উড়ে যায়। গেজেটিয়ার ইতিহাসের অংশে বিস্ফোরণের তারিখ দিয়েছে ১ জুলাইয়ের রাত, আর শহরের বর্ণনায় ৩০ জুনের রাত।

বিদ্রোহীরা ১৮৫৮ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দুর্গ ধরে রেখেছিল, তারপর, গেজেটিয়ারের ভাষায়, তাড়াহুড়ো করে ছেড়ে যায়। এরপর সেনাবাহিনী এটি নতুন করে বানায়। গেজেটিয়ার বলছে, এটি “আধুনিক সামরিক নীতিতে পুনর্নির্মিত” হয়েছিল, তারপর ১৮৬৫ সাল নাগাদ পরিত্যক্ত হয় এবং এর কাজ ভেঙে ফেলা হয়। ইতিহাসবিদ বীণা তালওয়ার ওল্ডেনবার্গ প্রকৌশলী কর্নেল নিকলসনের ১৮৬৯ সালের জুলাইয়ের একটি পরিকল্পনার উল্লেখ করেছেন, যাতে মাছি ভবনের প্রধান ঘাঁটি নতুন করে সাজানোর কথা ছিল, যা পরের একটি তারিখের ইঙ্গিত দেয়, আর তিনি বলছেন এমন চোদ্দোটি ঘাঁটি ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত রাখা হয়েছিল। ফেলিচে বিয়াতো ১৮৫৮ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে ধ্বংসাবশেষের ছবি তোলেন, আর ক্যানাডিয়ান সেন্টার ফর আর্কিটেকচারের প্রিন্টের পিছনের লেখায় বলা আছে, স্যার হেনরি লরেন্স রেসিডেন্সিতে অবস্থান নেওয়ার সময় দুর্গটি আংশিক উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

১৮৫৮ সালের ২৬ মার্চের নেপিয়ার পরিকল্পনা

২১ মার্চ রাসেল লিখেছিলেন, রবার্ট নেপিয়ার লখনউয়ের পরিবর্তন ও প্রতিরক্ষা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন, “কল্পনায় সাম্রাজ্যসুলভ”, এবং প্রশ্ন তুলেছিলেন টাকা আসবে কোথা থেকে। ওল্ডেনবার্গের ১৯৭৯ সালের ডক্টরাল থিসিস, যা প্রিন্সটন ১৯৮৪ সালে The Making of Colonial Lucknow নামে প্রকাশ করে, স্মারকলিপিটির তারিখ দিয়েছে ১৮৫৮ সালের ২৬ মার্চ। তিনি এটি উদ্ধৃত করেছেন রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের ১৮৬০ সালের প্রফেশনাল পেপার্সে ছাপা নেপিয়ারের প্রতিবেদন থেকে।

নেপিয়ার লিখেছিলেন, শহরের আয়তন আর চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্যের অভাবে বিপুল সৈন্য ছাড়া একে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। তাঁর প্রস্তাব ছিল প্রধান ইমারতগুলোয় সামরিক ঘাঁটি, তাদের আশপাশের আর গ্রামাঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথের ধারের ইমারত সাফ করে ফেলা, আর শহরের ভেতর দিয়ে চওড়া রাস্তা কাটা। দুটি সেতু আর ঘনবসতি শহর, দুটোর ওপরই নজর রাখতে পারা মাছি ভবন হবে প্রধান ঘাঁটি। তার চারপাশে থাকবে ৬০০ গজ চওড়া খোলা প্ল্যানেড, আর সেখান থেকে ছড়িয়ে যাবে সড়ক। তিনি আরও লিখেছিলেন, মার্টিনিয়ার আর গোমতীর মধ্যে সৈন্যদের যে ইমারত বা বাগানের বেড়া দরকার হবে না, তার প্রতিটিই যাবে।

নেপিয়ার মেনে নিয়েছিলেন যে মালিকদের কষ্ট হবে, আর লিখেছিলেন সমাজের উপকার হবে এবং সমাজকে দিয়েই ক্ষতিপূরণ দেওয়ানো যাবে। তিনি যোগ করেছিলেন, জনসংখ্যার একটা বড় অংশ দরবারের ওপর নির্ভর করে চলত, তাদের বাড়ি বেশির ভাগই ভগ্নদশায়, আর দরবারের খরচ না থাকলে শহর ছোট হয়ে যাবে।

ওল্ডেনবার্গ লিখেছেন, পরিকল্পনাটি কিছু পথে সামান্য রদবদল নিয়ে কার্যকর হয়েছিল, আর পুরোনো বাজার চকের মায়ায় প্ল্যানেড ৫০০ গজে ছোট করা হয়েছিল, এবং শহরের কারও সঙ্গে পরামর্শ করার কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। তাঁর পাঠ হলো, পরিকল্পনাটি পরোক্ষভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শাস্তিমূলক ছিল, এবং তিনি জামি মসজিদ ও আসাফি ইমামবাড়াকে এর দুই প্রধান ধর্মীয় লক্ষ্য বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জামি মসজিদকে ব্যারাকে পরিণত করা “একেবারে প্রয়োজনীয় নয়” বলে নেপিয়ার নিজেও মেনেছিলেন।

সড়ক, আর তার পথে যা দাঁড়িয়ে ছিল

১৮৭৭ সালের আওধ প্রদেশের গেজেটিয়ার বলছে, লখনউয়ের রাস্তা প্রাচ্যের বেশির ভাগ শহরের চেয়ে চওড়া, কারণ বিদ্রোহের পর সামরিক প্রয়োজনে বহু বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এতে বলা আছে, দুর্গের জন্য আধ মাইল চওড়া একটি গ্লাসিস, অর্থাৎ ঢালু খোলা জমি, তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ছড়িয়ে যাওয়া তিনটি সামরিক সড়ক “শহরের হৃদয় ফুঁড়ে” কাটা হয়েছিল, প্রায়ই পাশের রাস্তাগুলোর চেয়ে ত্রিশ ফুটের মতো উঁচুতে।

১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার সেগুলোর নাম দিয়েছে। নেপিয়ার রোড সোজা পশ্চিমে দৌলতগঞ্জ হয়ে কাকোরি ও মালিহাবাদ পর্যন্ত গিয়েছিল। ভিক্টোরিয়া রোড গিয়েছিল দক্ষিণ-পশ্চিমে চক পেরিয়ে আলমবাগে কানপুর সড়ক পর্যন্ত। ক্যানিং রোড গিয়েছিল দক্ষিণে চারবাগ পর্যন্ত। স্ট্র্যান্ড নদীর ধার ধরে পুরোনো দুর্গ থেকে ছত্তর মঞ্জিল হয়ে হজরতগঞ্জের ভেতর দিয়ে সিভিল লাইনস পর্যন্ত গিয়েছিল। ওল্ডেনবার্গ ভিক্টোরিয়া স্ট্রিটকে বর্ণনা করেছেন দুর্গ থেকে উত্তর-দক্ষিণে যাওয়া এক সড়ক হিসেবে, যা পুরোনো মহল্লাগুলোকে (পাড়া) চিরে দিয়েছিল, এবং ফিরিঙ্গি মহলে এর প্রভাব তিনি মানচিত্রে দেখিয়েছেন।

প্রধান কমিশনারের ১৮৫৮ সালের ২৩ জুলাইয়ের স্মারকলিপি, যা ওল্ডেনবার্গ ন্যাশনাল আর্কাইভস অব ইন্ডিয়া থেকে উদ্ধৃত করেছেন, বলছে, “ভাঙচুর, প্রাইজ এজেন্ট, লাগামহীন পুলিশ আর সৈন্যদের অত্যাচারের” পর কেউ যে টিকে আছে, সেটাই বিস্ময়ের। তাতে শহরের ম্যাজিস্ট্রেটকে বলা হয়েছিল, ভাঙার লাইনে পড়া মানুষকে তিন দিনের নোটিস দিতে এবং বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার আগে সেগুলো খালি হয়েছে কি না দেখে নিতে। ১৮৬১ সালের ২৯ মে পৌরসভা কমিটি প্রস্তাব নেয় যে সমতল করার কাজে “শহরের সেরা বাসস্থানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ধ্বংস হয়েছে”। ওল্ডেনবার্গ উর্দু সংবাদপত্র কারনামার একটি অভিযোগও উদ্ধৃত করেছেন, ১৮৭২ সালের ২৫ নভেম্বর, যে একটি কবরস্থান খুঁড়ে ১৫০ ফুট চওড়া একটি সড়ক তৈরি করা হয়েছে।

দিল্লির মুঘল ইমারতগুলোর নিজস্ব সাফ-সাফাই হয়েছিল, যা আমাদের লাল কেল্লার লেখা আলোচনা করেছে। লখনউয়ে ১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার যোগ করেছে, দুর্গের কাছাকাছি সবচেয়ে পুরোনো পাড়া বাজপেই ও ইসমাইলগঞ্জ মহল্লা ধ্বংস হয়েছিল। বহু বছর চক আর গোমতীর মাঝের জমি ছিল ভাঙা ইটের জঞ্জাল। ১৮৮৭ সালে সেটি হয় ভিক্টোরিয়া পার্ক, হুসাইনাবাদ ট্রাস্টের তহবিলের টাকায়।

সড়কের পরে কায়সারবাগ

১৮৫৯ থেকে ১৮৬০ সালের আওধ প্রশাসনিক প্রতিবেদন, ওল্ডেনবার্গ যেমন উদ্ধৃত করেছেন, লিখেছে যে সিভিল স্টেশন থেকে দৃশ্য ভালো করতে একটি বড় বাজার চিনি বাজার ভেঙে ফেলা হয়েছিল, আর কায়সারবাগ চত্বরের ভেতর দিয়ে দুটি চওড়া সড়ক তৈরি হয়েছিল।

লর্ড ক্যানিং প্রাসাদটি তালুকদারদের, অর্থাৎ আওধের জমিদারদের, দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তাঁরা এর মেরামত বজায় রাখবেন। ওল্ডেনবার্গ তাঁদের সমিতির ঢোকার তারিখ দিয়েছেন ১৮৬১ সালের নভেম্বর, একটি রাজকীয় কক্ষসারি ছিল তার দপ্তর আর বাকিটা ভাগ করা হয়েছিল ফ্ল্যাটে। স্যামুয়েল বোর্ন ১৮৬৪ ও ১৮৬৫ সালে জলকন্যা ফটকের ছবি তুলেছিলেন, অতএব তখনও সেটি দাঁড়িয়ে ছিল।

১৮৭৭ সাল নাগাদ আওধ গেজেটিয়ার বলছে, প্রধান চতুষ্কোণের একটি পুরো পাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, অন্য পাশগুলো ভগ্নপ্রায়, আর পাথরের বারাদারি, অর্থাৎ থামওয়ালা মণ্ডপ, থিয়েটার হিসেবে সাজানো হয়েছে। ১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার বলছে, জিলাউ-খানা ফটক ধ্বংসস্তূপ, আসল জিনিস সামান্যই বাকি, আর চিনি বাজারের জায়গা আর নেই। তাতে পাথরের বারাদারিটি বলরামপুরের মহারাজার সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত, আর বলা আছে সামরিক কারাগারের জায়গায় একটি সরকারি প্রশিক্ষণ স্কুল ছিল। চতুষ্কোণের পাশটি কে বা কবে সরিয়েছিল, কোনো গেজেটিয়ারই তা বলেনি। সাহাপিডিয়া লিখেছে, ১৮৫৭-র পর প্রতিশোধ হিসেবে ব্রিটিশরা কায়সারবাগের কিছু অংশ আংশিক ভেঙে ফেলেছিল।

যা দাঁড়িয়ে আছে

রেসিডেন্সি দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ হয়ে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার লখনউ সার্কল বলছে, এর কাজ শুরু হয়েছিল নবাব আসাফ-উদ-দৌলার আমলে এবং শেষ করেন নবাব সাদাত আলি খান ১৮০০ সালে, আর আজ চত্বরটি অনেক ইমারতের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গঠিত। ১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার বলছে, কামানের গোলায় চিহ্নিত হয়নি এমন প্রায় একটি বর্গগজও নেই, তবু দেয়ালগুলো মজবুত, আর এর কবরস্থানে বিদ্রোহে প্রাণ হারানো প্রায় ২,০০০ নারী-পুরুষের কবর ও স্মৃতিসৌধ আছে। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া বলছে, সার্ভে ধ্বংসাবশেষকে সংরক্ষিত স্মারক ঘোষণা করেছে এবং ভেতরে একটি জাদুঘর আছে।

১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার বলছে, আসাফ-উদ-দৌলা বড়া ইমামবাড়া বানান ১৭৮৪ সালে, চালিসা দুর্ভিক্ষের বছরে, ত্রাণ দেওয়ার জন্য, আর এর বিশাল ছাদ ১৬২ ফুট লম্বা ও ৫৩ ফুট ৬ ইঞ্চি চওড়া হওয়া সত্ত্বেও, পুনর্দখলের পর বহু বছর কামানের মজুতঘর আর অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েও তার একটিও ইট খসেনি। ওল্ডেনবার্গ লিখেছেন, ব্রিটিশ সৈন্যরা এটি ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া ইমারতটির তারিখ দিয়েছে ১৭৮০। ১৮৭৭ সালে ভিক্টোরিয়া ভারতের সম্রাজ্ঞী ঘোষিত হলে “লখনউয়ের নাগরিকদের” তরফে তাঁকে পাঠানো একটি আবেদনে ইমামবাড়া আর মাছি ভবনের মসজিদ মুসলমানদের ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল, আর ওল্ডেনবার্গ ফাইলটির তারিখ দিয়েছেন ১৮৭৭ সালের ডিসেম্বর। এই লেখার জন্য যেসব সূত্র দেখা হয়েছে, তাতে ফেরত দেওয়ার তারিখ নেই।

রুমি দরওয়াজাও দাঁড়িয়ে আছে, সাহাপিডিয়া যার তারিখ দিয়েছে ১৭৮৪ আর উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। ১৯০৪ সালের গেজেটিয়ার বলছে, ছত্তর মঞ্জিল থেকে নদীর ধার ধরে হুসাইনাবাদের দিকে যাওয়া সড়কটি ইমামবাড়া প্রাঙ্গণের উত্তর সম্মুখ ধরে ফটকের ভেতর দিয়ে গেছে। একই গেজেটিয়ার বলছে, সিকন্দর বাগের দেয়াল বেশির ভাগই ভাঙা হয়েছিল, আর এর সামনের অংশ ও ফটক ১৯০৩ সালে আবার বানানো হয়।

ছত্তর মঞ্জিল, নদীর ধারের সেই প্রাসাদ, যা ১৯০৪ সালের গেজেটিয়ারের মতে গাজি-উদ-দিন হায়দার শুরু করেছিলেন আর তাঁর ছেলে শেষ করেন, তখন ছিল ইউনাইটেড সার্ভিস ক্লাব। লখনউ অবজারভারের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ড্রাগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধিত হয় ১৯৫১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং ষাট বছর সেখানে ছিল। ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বরের একটি টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিবেদন বলছে, ইমারতটি রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হাতে গিয়েছিল এবং ইনট্যাকের সংরক্ষণ-স্থপতিরা ক্ষতির তালিকা করতে সেটি পরিদর্শন করেছিলেন।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Lucknow: A Gazetteer, vol. XXXVII of the District Gazetteers of the United Provinces of Agra and Oudh (Allahabad, 1904), Internet Archive
  2. A Gazetteer of the Province of Oudh, vol. 2, H to M (Lucknow, 1877), entry for Lucknow, Internet Archive
  3. William Howard Russell, My Diary in India in the Year 1858 to 1859, vol. 1 (London, 1860), Internet Archive
  4. William Howard Russell, My Diary in India in the Year 1858 to 1859, vol. 2 (London, 1860), Internet Archive
  5. Kaye and Malleson, History of the Indian Mutiny, Appendix B: Brigadier Inglis's official report on the defence of Lucknow, 26 September 1857 (ibiblio British Raj archive)
  6. Veena Talwar Oldenburg, Peril, Pestilence and Perfidy: The Making of Colonial Lucknow, 1856 to 1877 (doctoral thesis, University of Illinois, 1979), Internet Archive
  7. Felice Beato, View of the ruins of the Machhi Bhavan citadel, Lucknow (albumen print, 1858 to 1860), Canadian Centre for Architecture
  8. Samuel Bourne, The Mermaid Gate, Qaisarbagh, Lucknow (1864 to 1865), Sarmaya
  9. An Architectural Legacy of Cultural Fusion, Sahapedia
  10. Residency Buildings, Lucknow, Archaeological Survey of India, Lucknow Circle (site note)
  11. Lucknow Residency, Incredible India (Ministry of Tourism)
  12. Bara Imambara, Incredible India (Ministry of Tourism)
  13. Architectural nuances of Chhatar Manzil impresses INTACH team (Times of India, 20 November 2014, reproduced by Mpositive)
  14. The Forerunner of Drug Research in India, Lucknow Observer

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#lucknow#kaiserbagh#machhi bhawan#robert napier#awadh#bara imambara#residency lucknow#colonial architecture

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ব্রিটিশ রাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
রানি ভিক্টোরিয়ার ১৮৫৮ সালের ক্ষমাঘোষণার জবাব বেগম হজরত মহল দিয়েছিলেন নিজের পাঁচ দফার ঘোষণায়, আর তা না মেনেই নেপালে মারা যান
লখনউয়ের এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা ১৮৫৮ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁর ঘোষণার একটি অনুবাদ পররাষ্ট্র বিভাগে পাঠিয়েছিলেন। তাতে চুক্তি, ধর্ম আর ক্ষমা নিয়ে রানির প্রতিশ্রুতিগুলো একটা একটা করে ছিঁড়ে দেখানো হয়েছিল।
মিশন কর্মযোগীর আইজিওটি প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ১.৭ কোটি, কোর্স ৫,৬০০টি, ২৩টি ভাষায়, আর পরের ধাপের পরিকল্পনা করতে ২০২৬ সালের ২৩ ও ২৪ অক্টোবর লখনউয়ে বসেছিলেন আটটি রাজ্য ও চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আধিকারিকেরা
কোর্সের সংখ্যা মার্চের প্রায় ৪,৪০০ থেকে আগস্টে ৫,৬০০-এর বেশি হয়েছে, তার ২১৮টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে, আর বার্ষিক কোর্স এখন আধিকারিকদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ঢোকে। সরকারি কর্মীদের জন্য ভারতের অনলাইন প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মের সংখ্যাগুলি, আর তাকে যারা জোগান দেয় সেই প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ে লখনউয়ের বৈঠক।
২০১১ সালের জনগণনায় প্রায় ২০ কোটি মানুষের আবাস উত্তরপ্রদেশের আছে লোকসভায় ৮০টি আর রাজ্যসভায় ৩১টি আসন, আর ২০২৪-২৫ সালে তার জিএসডিপি ছিল ২৯.৭৮ লক্ষ কোটি টাকা
সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগের সপ্তাহগুলোতে ঠিক হওয়া একটি নাম থেকে ৩৪১ ও ৫৯৪ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত, সংসদের দুই কক্ষেই সবচেয়ে বড় দলের রাজ্যটি সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য।
← সব লেখা