ছবি: Biswarup Ganguly / Wikimedia Commons, CC BY 3.0 (ছাঁটা)
বাংলা
ইউনেস্কো ২০০৭ সালে মানদণ্ড (ii), (iii) ও (vi) অনুযায়ী লাল কেল্লা চত্বরকে তালিকাভুক্ত করে, আর তার উপদেষ্টা সংস্থা ইকোমস দুর্গ নির্মাণের সময় ধরেছে ১৬৩৯ সালের এপ্রিল থেকে ১৬৪৮ সাল। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনী হস্তান্তর করার পর থেকে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এর দেখাশোনা করছে, আর প্রথম প্রধানমন্ত্রী এখানে জাতীয় পতাকা তুলেছিলেন ১৯৪৭ সালের ১৬ আগস্ট।
দিল্লির লাল কেল্লা চত্বর ২০০৭ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় আছে, তিনটি মানদণ্ড (ii), (iii) ও (vi) অনুযায়ী। এর আয়তন ৪৯.১৮ হেক্টর, রক্ষাবলয় ৪৩.৪৩ হেক্টর, আর মুঘল সম্রাট শাহজাহান এটি তৈরি করেছিলেন তাঁর নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের প্রাসাদ-দুর্গ হিসেবে। মনোনয়নের বিষয়ে ইউনেস্কোকে পরামর্শ দেওয়া সংস্থা ইকোমস (ICOMOS) নির্মাণের সময় ধরেছে ১৬৩৯ সালের এপ্রিল থেকে ১৬৪৮ সাল।
ইউনেস্কোর বিবরণ বলছে, দুর্গটির নাম এসেছে লাল বেলেপাথরের বিশাল ঘেরা প্রাচীর থেকে, আর এটি দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো দুর্গ সেলিমগড়ের পাশে, যা ইসলাম শাহ সুরি ১৫৪৬ সালে তৈরি করেছিলেন। দুটি মিলে চত্বরটি। ইকোমসের মতে এর মালিক সংস্কৃতি মন্ত্রক, আর ইউনেস্কো বলছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) সরাসরি এর ব্যবস্থাপনা করে।
নয় বছরে তৈরি, আর তারিখ যা ঠিক মেলে না
এএসআই বলছে, শাহজাহান ১৬৩৮ সালে রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে সরান আর দিল্লির সপ্তম শহর শাহজাহানাবাদের ভিত্তি স্থাপন করেন। তাদের মতে দুর্গের কাজ শুরু হয় ১৬৩৯ সালে আর শেষ হয় নয় বছর পরে। ইকোমসের মূল্যায়নে সময়কাল ১৬৩৯ সালের এপ্রিল থেকে ১৬৪৮। ব্রিটানিকায় শাহজাহান রাজধানী দিল্লিতে সরান ১৬৪৮ সালে, আর ইতিহাসবিদ শশাঙ্ক শেখর সিনহা, দ্য ওয়্যারে লিখতে গিয়ে, দুর্গ নির্মাণের সময় দিয়েছেন ১৬৩৮ থেকে ১৬৪৯।
ইকোমসের মতে এর প্রথম নাম ছিল কিলা-ই-মুবারক, শুভ দুর্গ। পর্যটন মন্ত্রকের সাইট ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া নকশার কৃতিত্ব দিয়েছে স্থপতি উস্তাদ আহমদ লাহোরিকে, যিনি তাদের মতে তাজমহলেরও নকশা করেছিলেন। সেই সাইটে এলাকা দেওয়া আছে ২৫৫ একর, যা ইউনেস্কোর ৪৯.১৮ হেক্টরের (প্রায় ১২১ একর) সঙ্গে মেলে না; তালিকাভুক্তির নথিতে আছে ইউনেস্কোর সংখ্যাটিই।
ইকোমস বলছে, এটিই ছিল প্রথম মুঘল প্রাসাদ-দুর্গ যা অষ্টভুজ নকশার ভেতরে জ্যামিতিক ছক ধরে সাজানো, আর যা অষ্টভুজ আকৃতির এক শহরের মধ্যে বসানো। প্রধান নির্মাণ উপকরণ ছিল ইট, তার ওপর বেলেপাথর বা মার্বেলের আবরণ, আর সবচেয়ে জমজমাট সময়ে দরবারে বাস করত প্রায় ৩,০০০ জন। ভারতের নথিতে একটি তুলনায় একে লাহোর, আগ্রা ও ফতেহপুর সিক্রির আগের মুঘল বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলগুলোর পাশে রাখা হয়েছিল, আর ইকোমস সিদ্ধান্তে এসেছিল, লাল কেল্লা “মুঘল স্থাপত্যের অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে”।
লাহোরি গেট দিয়ে ভেতরে
ইকোমসের মতে দর্শনার্থীরা এবং সম্রাট নিজেও ঢুকতেন লাহোরি গেট দিয়ে, যা ছিল আনুষ্ঠানিক সর্বজনীন প্রবেশপথ। এটি তিন তলা, দুটি অর্ধ-অষ্টভুজ মিনারের মাঝখানে, সাদা গম্বুজসহ সাত খিলানের একটি সারির নিচে। সৈনিক আর দুর্গে কর্মরত মানুষেরা দক্ষিণের দিল্লি গেট ব্যবহার করতেন।
লাহোরি গেট থেকে ঢুকে দর্শনার্থী পৌঁছান ছত্তা চকে, খিলানযুক্ত একটি আচ্ছাদিত সারি, যা ছিল প্রাসাদের বাজার, তারপর নওবতখানায়, ঢোল-ঘরে, যেখানে বাদকেরা বড় অভ্যাগতদের স্বাগত জানাতেন। ইকোমস বলছে, এর পরে শুধু রাজপুত্ররাই ঘোড়ায় চড়ে ঢুকতে পারতেন।
দেওয়ান-ই-আম, সর্বজনের দরবারের হল, আয়তাকার, তিন সারি গভীর, সামনের দিকে নয়টি খিলান। পেছনের একটি কুলুঙ্গিতে রাজকীয় সিংহাসন দাঁড়িয়ে ছিল একটি মার্বেলের চাঁদোয়ার নিচে, যাতে পিয়েত্রা দুরা নামের কৌশলে রঙিন পাথর বসানো।
হলের পেছনে রং মহল, রঞ্জিত প্রাসাদ, যার নাম তার রঙিন অভ্যন্তর থেকে। এএসআইয়ের বিবরণে নহর-ই-বিহিশত, স্বর্গের ধারা নামের একটি জলনালা এর ভেতর দিয়ে বয়ে গিয়ে পৌঁছত মাঝখানের এক মার্বেলের কুণ্ডে, যাতে হাতির দাঁতের ফোয়ারা বসানো ছিল। ইউনেস্কোর বিবরণ বলছে, একই নালা ব্যক্তিগত মণ্ডপের গোটা সারিকে যুক্ত করে।
এরপর দেওয়ান-ই-খাস, ব্যক্তিগত দরবারের হল। শাহজাহানের সব ভবনের মধ্যে ইকোমস একে বলেছে সবচেয়ে অলংকৃত: সাদা মার্বেল, স্তম্ভে ফুলের নকশার পিয়েত্রা দুরা, মোট ৩২টি স্তম্ভ, আর একটি সমতল ছাদ যার নিচের দিক গোড়ায় রুপো দিয়ে মোড়া ছিল। এর দেয়ালে একটি ফারসি শ্লোকে লেখা আছে “যদি পৃথিবীতে স্বর্গ থাকে, তবে তা এখানে, তা এখানে”, ইকোমসের অনুবাদে। এএসআইয়ের মতে এর মার্বেলের বেদিতে ময়ূর সিংহাসন ছিল বলে বলা হয়, যা নাদির শাহ নিয়ে যান। দুর্গ লুটের সেই ঘটনা ঘটে ১৭৩৯ সালে, ইকোমস তারিখ দিয়েছে, আর তিনি কোষাগার খালি করে দেন।
সম্রাটের শয়নকক্ষের পাশে এএসআই বসিয়েছে অষ্টভুজ মুথাম্মন বুর্জ, যেখানে সম্রাট প্রতিদিন সকালে প্রজাদের সামনে দেখা দিতেন। দ্বিতীয় আকবর শাহ ১৮০৮ সালে এতে একটি ছোট ব্যালকনি যোগ করেন, আর ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে রাজা পঞ্চম জর্জ ও রানি মেরি এখানে দিল্লির মানুষের সামনে হাজির হন। আওরঙ্গজেব মার্বেলের মোতি মসজিদ, মুক্তা মসজিদ, তৈরি করেন ১৬৫৯ থেকে ১৬৬০ সালে, ইকোমস বলছে।
২০০৭ সালে ইউনেস্কো যা তালিকাভুক্ত করেছিল
২০০৭ সালে ৩১তম অধিবেশনে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি চত্বরটি তালিকাভুক্ত করে (সিদ্ধান্ত ৩১ COM 8B.32)। মানদণ্ড (ii) অনুযায়ী ইউনেস্কোর লেখা দুর্গটিকে বলেছে মুঘল স্থাপত্যের চূড়ান্ত বিকাশ, ইসলামি, ফারসি, তিমুরীয় ও হিন্দু ঐতিহ্যের মিলন। মানদণ্ড (iii) প্রসঙ্গে তারা বলছে, দুর্গের পরিকল্পনা, স্থাপত্য ও বাগানের নকশা রাজস্থান, দিল্লি, আগ্রা ও আরও দূরের পরবর্তী ভবন ও বাগানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল, আর চত্বরটি ব্রিটিশ সামরিক দখলের পর্বকেও ধরে রেখেছে।
মানদণ্ড (vi) স্থানটিকে ঘটনার সঙ্গে বাঁধে। ইউনেস্কো বলছে লাল কেল্লা “শাহজাহানের রাজত্বকাল থেকে ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে”, ব্রিটিশ শাসনে বদলের সাক্ষী হয়েছে এবং “ভারতের স্বাধীনতা প্রথম যেখানে উদ্যাপিত হয়েছিল, আর আজও উদ্যাপিত হয়”।
ভারতের নথিতে চারটি মানদণ্ড, (i), (ii), (iii) ও (vi), প্রস্তাব করা হয়েছিল। ইকোমস তিনটির সুপারিশ করে, কারণ পরবর্তী পরিবর্তনে মানদণ্ড (i)-এর জন্য দুর্গের সামগ্রিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। ইকোমসের প্রতিবেদনে নথিভুক্ত আছে, প্রথম নথিটি ১৯৯৩ সালে কার্তাহেনায় বিশ্ব ঐতিহ্য ব্যুরোয় পরীক্ষা করা হয় এবং সেনাবাহিনী দুর্গের প্রধান অংশগুলো এএসআইকে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হয়। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী দুর্গ হস্তান্তর করে, যা ইকোমসের মতে ১৯৯৩ সালের শর্ত পূরণ করেছিল। দুটি দুর্গকে ধরে একটি সংশোধিত নথি ইউনেস্কোর কাছে পৌঁছয় ২০০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি, আর ইকোমস তার প্রতিবেদন অনুমোদন করে ২০০৭ সালের ১১ মার্চ।
সেলিমগড়, পাশের পুরোনো দুর্গ
সেলিমগড়ের তারিখ সূত্রভেদে আলাদা। ইউনেস্কো বলছে, শের শাহ সুরির ছেলে ইসলাম শাহ সুরি এটি তৈরি করেন ১৫৪৬ সালে। ইকোমসের ইতিহাসে আছে তিনি শুরু করেন ১৫৪৪ সালে, আর সংস্কৃতি মন্ত্রকের জাদুঘর পোর্টাল বলছে ১৫৪৫ থেকে ১৫৫৪ সালের মধ্যে এটি গড়ে ওঠে এবং তাঁর মৃত্যুর সময় অসমাপ্ত ছিল। এটি যমুনার একটি দ্বীপে ছিল, একটি সেতুতে লাল কেল্লার সঙ্গে যুক্ত, আর ইকোমস বলছে লাল কেল্লা তৈরির সময় শাহজাহান সেখানে থাকতেন।
শাহজাহানের শেষ বছরগুলো নিয়ে সূত্রগুলো আলাদা কথা বলে: ইকোমস বলছে তাঁকে সেলিমগড়ে বন্দি রাখা হয়েছিল, আর ব্রিটানিকা বলছে আওরঙ্গজেব তাঁকে ১৬৬৬ সালে মৃত্যু পর্যন্ত আগ্রা দুর্গে আটকে রেখেছিলেন, যা তাজমহল নিয়ে আমাদের নিবন্ধেও লেখা আছে।
ইতিমধ্যে যমুনা তার গতিপথ বদলেছে। ইকোমস বলছে, দুই দুর্গের মাঝখানে এখন ইনার দিল্লি রিং রোড তার পুরোনো রেখা ধরে চলে, আর সেলিমগড়ের ভেতর দিয়ে গেছে দুই লাইনের একটি রেলপথ। ব্রিটিশ শাসনে এর প্রায় সব মুঘল ভবন ভেঙে ফেলা হয়, আর ইকোমস দুর্গটিকে নিজের অধিকারে একটি স্বতন্ত্র স্থান না ধরে চত্বরের অংশ হিসেবে দেখে।
১৯৯২ সালে এএসআই সেখানকার ব্যারাক ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে নিয়ে নেয়, আর জাদুঘর পোর্টালের মতে স্বাধীনতা সেনানী সংগ্রহশালা (Swatantrata Senani Museum), স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মারক, খোলে ১৯৯৫ সালে। সেখানে দেখানো আছে কর্নেল প্রেম কুমারের পরা একটি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির উর্দি আর কর্নেল গুরবক্স সিং ধিলনের কোটের বোতাম, আর পোর্টাল বলছে ব্যারাকে আইএনএ-র বন্দিরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে শাহ নওয়াজ খান, প্রেম কুমার সেহগল ও ধিলন। তাঁদের কোর্ট মার্শাল ১৯৪৫ সালের লাল কেল্লার বিচার নিয়ে নিবন্ধের বিষয়।
১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ সালের পতাকা
ইকোমস বলছে, ১৮৫৭ সালের পর ব্রিটিশরা দুর্গ দখল করে একে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর বানায়। তারা অনেক কাঠামো ভেঙে ফেলে, মুঘল বাগান ইংরেজি ধাঁচে নতুন করে সাজায় আর ১৮৬৭ ও ১৮৬৮ সালে ব্যারাক তৈরি করে: চারটি তিন তলার, সাতটি দুই তলার ও তেরোটি এক তলার। সিনহা লিখেছেন, বাহাদুর শাহ জাফরের বিচার হয় দেওয়ান-ই-খাসে আর ১৮৫৮ সালের ৭ অক্টোবর তাঁকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি নথিভুক্ত করেছে, জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৬ আগস্ট লাল কেল্লায় জাতীয় পতাকা তুলেছিলেন। সেখানকার ছবির ক্যাপশনে এই তারিখ আছে, আর ভূমিকায় বলা আছে তিনি পতাকা তোলেন লাহোরি গেটের ওপরে, আর দ্য ওয়্যার একে বসায় ১৫ আগস্ট প্রথম মন্ত্রিসভার শপথের একদিন পরে। তাদের পাতায় নেহরুর ভাষণের একটি অংশ উদ্ধৃত আছে: “এই ঐতিহাসিক উপলক্ষে আমরা এই প্রাচীন দুর্গে জড়ো হয়েছি, যা আমাদের ছিল তা ফিরে পেতে।” গণপরিষদ ২২ জুলাই তেরঙা গ্রহণ করেছিল, যে ইতিহাস বলা আছে পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া নিয়ে নিবন্ধে।
জাদুঘরের মতে, তখন থেকে প্রতি স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী দুর্গে পতাকা তুলেছেন। ৭০তম স্বাধীনতা দিবসের জন্য ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রকাশিত কর্মসূচিতে অনুষ্ঠানের রূপ দেখা যায়। লাহোরি গেটে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়, তিনি সেনা, নৌ, বিমান ও দিল্লি পুলিশের গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন এবং প্রাচীরের ওপরে যান। পতাকা উত্তোলন সময় মিলিয়ে করা হয় ২২৮১ ফিল্ড রেজিমেন্টের (সেরিমোনিয়াল) ২১ তোপধ্বনির সঙ্গে, তারপর প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
এএসআইয়ের তত্ত্বাবধান আর সামনের কাজ
২০০৩ সাল থেকে দুর্গ এএসআইয়ের হাতে। ইকোমস নথিভুক্ত করেছে, আইনত এটি প্রাচীন স্মারক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং ধ্বংসাবশেষ আইন, ১৯৫৯ (Ancient Monuments and Archaeological Sites and Remains Act, 1959) অনুযায়ী জাতীয় গুরুত্বের স্মারক হিসেবে সুরক্ষিত, চারপাশে ১০০ মিটারের নিষিদ্ধ এলাকা আর আরও ২০০ মিটারের এমন এলাকা যেখানে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রিত। মনোনয়ন নথিতে তালিকাভুক্ত এএসআইয়ের সমাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে আছে চুনের পলেস্তারা আর চুন-কংক্রিটের মেঝে পুনরুদ্ধার এবং খচিত কাজ ও বেলেপাথরের সিঁড়ি মেরামত। ইউনেস্কোকে দেওয়া সরকারের পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদনে বলা আছে, এএসআই ২০০৭ সালে দুর্গের জন্য একটি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করেছিল।
২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন ব্রিটিশ ব্যারাকে চারটি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন, নাম ক্রান্তি মন্দির। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর মতে বিষয় হলো সুভাষচন্দ্র বসু ও আইএনএ, জালিয়ানওয়ালা বাগ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ১৮৫৭ সালের অভ্যুত্থান, আর তিন শতকের ভারতীয় শিল্প, ৪৫০টিরও বেশি কাজসহ। দ্য প্রিন্ট জানাচ্ছে, ২০২৬ সালের ২৩ মার্চের একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে প্রদর্শনী সাজানোর কাজ প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রককে অন্য বড় স্থানের জন্য এই মডেল নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে, আর মন্ত্রক কমিটিকে জানিয়েছে সব ব্যারাক এখন সাজানো হয়ে গেছে।
পরের ধাপ দুর্গের আশপাশ নিয়ে। সড়ক আর রেলপথের জন্য ইকোমস দীর্ঘমেয়াদে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা এবং স্বল্পমেয়াদে যানবাহন কমানোর ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছিল। ২০২৫ সালে হেরিটেজ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আইআইটি রুরকি, আইআইটি কানপুর, কা’ ফোসকারি ভেনিস বিশ্ববিদ্যালয় ও এএসআইয়ের লেখকেরা বেলেপাথর আর তার ওপরের কালো আস্তরণ বিশ্লেষণ করেছেন। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন বলছে, আস্তরণটি আড়াল-করা জায়গায় প্রায় ০.০৫ মিলিমিটার আর ভারী যানচলাচলের মুখোমুখি দেয়ালে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু, এবং মূলত জিপসাম। নিয়মিত পরিষ্কার আর রক্ষামূলক প্রলেপই লেখকদের সুপারিশ। দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী এএসআইয়ের ২০২৬ সালের ২৭ জুনের একটি দরপত্র চাঁদনি চকমুখী দেয়ালে জলরোধী প্রলেপের জন্য, উপকরণের আনুমানিক খরচ ১২,৫৫,৭০৮ টাকা (প্রায় ১২.৬ লক্ষ টাকা)।
দেখতে যাওয়া
এএসআইয়ের পাতা বলছে দুর্গ সূর্যোদয় থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা আর ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা বিনা টিকিটে ঢুকতে পারে। ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া দিয়েছে সকাল ৯:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ আর সোমবার বন্ধ, তাই ফটকে টাঙানো বর্তমান বিজ্ঞপ্তিই ভরসাযোগ্য।
ইকোমসের মতে ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে দর্শনার্থী বেড়ে ২.৪ মিলিয়নে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পর্যটন মন্ত্রকের সংকলনে, এএসআইয়ের তথ্য ব্যবহার করে, নথিভুক্ত আছে ২৮,৮৪,৩৯৯ জন দেশীয় ও ৭৯,৩১১ জন বিদেশি দর্শনার্থী, যা টিকিটযুক্ত এএসআই স্মারকগুলোর মধ্যে দেশীয় দর্শনার্থীর সংখ্যায় চতুর্থ সর্বোচ্চ।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO World Heritage Centre: Red Fort Complex (List no. 231)
- UNESCO World Heritage Committee, Decision 31 COM 8B.32: Red Fort Complex, India (2007)
- ICOMOS Advisory Body Evaluation, The Red Fort Complex (India), No 231 rev (March 2007), hosted by UNESCO
- Government of India, Periodic Reporting Cycle 3: Red Fort Complex, hosted by UNESCO
- Archaeological Survey of India: World Heritage Site, Red Fort, Delhi
- Incredible India (Ministry of Tourism): Red Fort, Delhi
- Press Information Bureau, 14 August 2016: Independence Day Celebrations at Red Fort
- Press Information Bureau, 23 January 2019: PM inaugurates Subhas Chandra Bose Museum at Red Fort
- Ministry of Tourism: India Tourism Data Compendium 2025 (ASI visitor tables)
- Nehru Memorial Museum and Library: Independence Day Celebrations 1947 (Google Arts and Culture)
- National Portal and Digital Repository of Museums (Ministry of Culture): Swatantrata Senani Museum, Salimgarh
- Encyclopaedia Britannica: Shah Jahan
- The Wire: How the Red Fort Became the Site for India's Independence Day Celebrations (Shashank Shekhar Sinha, 2017, republished 15 August 2020)
- ThePrint, 15 April 2026: House panel wants Red Fort model replicated across India
- Kumar et al., Characterization of Red Sandstone and Black Crust to Analyze Air Pollution Impacts on a Cultural Heritage Building: Red Fort, Delhi, India, Heritage 8 (2025), record at Ca' Foscari University of Venice
- Tribune India (PTI), 15 September 2025: pollution accelerating damage to Delhi's Red Fort, finds study
- ThePrint, 3 July 2026: ASI tender to clean and treat the Red Fort wall before 15 August
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।