অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি প্যারিসে তার ৪৭তম অধিবেশনে রায়গড়, রাজগড়, শিবনেরি, সিন্ধুদুর্গ ও আরও আটটি দুর্গকে (iv) ও (vi) মানদণ্ডে তালিকাভুক্ত করেছে। বারোটির আটটি সুরক্ষিত ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের (এএসআই) হাতে, আর চারটি মহারাষ্ট্রের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তরের হাতে।
ভারতের মারাঠা সামরিক ভূদৃশ্য ২০২৫ সালের ১১ জুলাই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তি হয়েছে, যেদিন বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি প্যারিসে তার ৪৭তম অধিবেশনে বারোটি দুর্গ তালিকাভুক্ত করেছে। এগারোটি মহারাষ্ট্রে, আর একটি, জিঞ্জি, তামিলনাড়ুতে। সংস্কৃতি মন্ত্রক সম্পত্তিটিকে ভারতের ৪৪তম বলে গুনছে।
মহারাষ্ট্রের দুর্গগুলো হলো সালহের, শিবনেরি, লোহাগড়, খান্দেরি, রায়গড়, রাজগড়, প্রতাপগড়, সুবর্ণদুর্গ, পানহালা, বিজয়দুর্গ ও সিন্ধুদুর্গ। কমিটি এগুলোকে (iv) ও (vi) মানদণ্ডে তালিকাভুক্ত করেছে, আর ইউনেস্কোর সম্পত্তি-পাতা অনুযায়ী সীমানার ভেতরের এলাকা ১,৫৭৭.৬৩ হেক্টর, তার চারপাশে বাফার জোন ৯৬,৫০০.৪৩ হেক্টর।
প্যারিসের সিদ্ধান্ত
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) বিজ্ঞপ্তিটি ২০২৫ সালের ১১ জুলাই ভারতীয় সময় রাত ১০টা ০৮ মিনিটে প্রকাশিত, এবং তাতে বলা হয়েছে কমিটি সেদিন সন্ধ্যায় ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জানাচ্ছে, আঠারোটি রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেছে, আর আলোচনা চলেছে ৫৯ মিনিট। সংস্কৃতি মন্ত্রকের মতে, নথিটি কমিটির কাছে পৌঁছেছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, আঠারো মাসের একটি প্রক্রিয়ার পর, যার মধ্যে ছিল আইকোমোসের (আন্তর্জাতিক স্মৃতিসৌধ ও স্থান পরিষদ, যা সাংস্কৃতিক সম্পত্তির ব্যাপারে ইউনেস্কোকে পরামর্শ দেয়) একটি পরিদর্শন। সেই দল ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গগুলো ঘুরে দেখেছিল। বিজ্ঞপ্তি আরও বলছে, আসামের চরাইদেউয়ের মইদামগুলো তালিকাভুক্ত হয়েছিল তার আগের বছর, আর সম্পত্তির সংখ্যায় ভারত এখন বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে।
৩৯০-এরও বেশি দুর্গ থেকে বাছাই করা বারোটি
আইকোমোস তার মূল্যায়নে লিখেছে তালিকাটি কীভাবে ছোট করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ, ইউনেস্কোর নথিতে ভারতকে যে নামে ডাকা হয়, ৩৯০-এরও বেশি দুর্গের একটি তালিকা তৈরি করেছিল এবং তার মধ্যে ২৬৬টিকে মারাঠা দুর্গ বলে চিহ্নিত করেছিল। সেই তালিকা থেকে বাছা হয় ষাটটি প্রধান দুর্গ, তারপর উনত্রিশটি, তারপর তালিকাভুক্ত বারোটি। সংস্কৃতি মন্ত্রক বলছে মনোনয়নে নেতৃত্ব দিয়েছে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (এএসআই), আর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা যোগ করছে যে মহারাষ্ট্রের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর এএসআইয়ের সঙ্গে মিলে তা তৈরি করেছে।
পাঁচ ধরনের দুর্গ
ইউনেস্কোর নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাসে সালহের, শিবনেরি, লোহাগড়, রায়গড়, রাজগড় ও জিঞ্জি পাহাড়ি দুর্গের মধ্যে পড়ে। ঘন বনের মধ্যে থাকা প্রতাপগড় পাহাড়-বনের দুর্গ, আর সমতল চূড়ার পাহাড়ে থাকা পানহালা পাহাড়-মালভূমির দুর্গ। বিজয়দুর্গ উপকূলরেখায় বসে আছে, তাই তা উপকূলীয় দুর্গ, আর খান্দেরি, সুবর্ণদুর্গ ও সিন্ধুদুর্গ সমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে, তাই দ্বীপদুর্গ।
আইকোমোস একই বারোটিকে গোনে অন্যভাবে: কোঙ্কন উপকূলে চারটি নৌদুর্গ, খান্দেরি, সুবর্ণদুর্গ, সিন্ধুদুর্গ ও বিজয়দুর্গ, আর আটটি পাহাড়ি দুর্গ। তার সাতটি সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় (পশ্চিমঘাট), আর জিঞ্জি পূর্বঘাটে। তিনটি উপাদানের সীমানার ভেতরে একটি করে জোড়া দুর্গও আছে: সালহেরের পাশে সালোটা, লোহাগড়ের পাশে বিসাপুর আর পানহালার পাশে পাওয়ানগড়।
ইউনেস্কো বলছে দুর্গগুলো মিলে কী দাঁড়ায়
অসাধারণ সার্বজনীন মূল্যের বিবৃতি, অর্থাৎ যে পাঠ ব্যাখ্যা করে একটি সম্পত্তি কেন তালিকায়, সম্পত্তিটিকে বলেছে ধারাবাহিক (সিরিয়াল) সম্পত্তি, মানে বারোটি আলাদা জায়গা একটি হিসেবে তালিকাভুক্ত। পাঠ অনুযায়ী, মারাঠারা ব্যবস্থাটি গড়ে তুলেছিল ১৭ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে, আর মারাঠা সামরিক আদর্শ রূপ নিয়েছিল ১৭ শতকের মাঝামাঝি শিবাজির রাজত্বকালে এবং পরের রাজত্বগুলোর মধ্য দিয়ে চলেছিল ১৮১৮ সালে মারাঠা শাসন শেষ হওয়া পর্যন্ত। বিবৃতির ভাষায়, দুর্গগুলো “বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্যের মধ্যে একীভূত দুর্গের বৃহত্তম সমাবেশ।”
(iv) মানদণ্ডে পাঠটি বলছে, দুর্গগুলো জুড়ে একটিমাত্র স্তরবদ্ধ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়া হয়েছিল, যা জমির আকৃতি কাজে লাগাত এবং ঘাট ও কোঙ্কন উপকূল ধরে বাণিজ্য রক্ষা করত। (vi) মানদণ্ডে এটি দুর্গগুলোকে জুড়েছে স্বরাজ বা স্বশাসনের ধারণার সঙ্গে, আর ১৬৭৪ সালে শিবাজির রাজ্যাভিষেকে তাঁর রাজকীয় মোহরের মূলমন্ত্র “Mudra Bhadraya Rajate”-র সঙ্গে, যাকে ইউনেস্কো অনুবাদ করেছে “Shine only for the well-being of the people” বলে। পাঠ যোগ করছে, সেই ধারণা ভারতীয় রাজনৈতিক চেতনা এবং ১৯ ও ২০ শতকের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনকে গড়ে দিয়েছে।
২০২৫ সালে কমিটি বিবৃতির একটি অস্থায়ী সংস্করণ গ্রহণ করেছিল। ২০২৬ সালে তার ৪৮তম অধিবেশনে সে চূড়ান্ত পাঠ গ্রহণ করে, যেটি ইউনেস্কোর সম্পত্তি-পাতায় আছে। এই ব্যবস্থার পেছনের মানুষটির জীবনকথা বলা আছে tuput-এর শিবাজি মহারাজ আর প্রথম বাজিরাওয়ের অধীনে পেশোয়া আমলের সম্প্রসারণ নিয়ে লেখায়।
দুই রাজধানী আর ঘাটের দুর্গ
রাজগড়, যা অনেকগুলো পাহাড়ের শিরা ও শাখায় ছড়ানো, ছিল শিবাজির পিতার জায়গিরের অংশ এবং আইকোমোস বলছে সেটি ছিল তাঁর প্রথম রাজধানী। রাজধানী রায়গড়ে সরে যাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজ সেখানেই চলত। রায়গড় বাছা হয়েছিল দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে তার কৌশলগত ও দুর্ভেদ্য অবস্থানের জন্য, আর আইকোমোস বলছে শিবাজি ১৬৬২ সালে এটি পুনর্নির্মাণ করিয়ে তাতে রাজার প্রাসাদ, একটি বাজার, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা আর প্রশাসনিক ভবন যুক্ত করেছিলেন। আইকোমোস একে মারাঠা রাজ্যের প্রশাসনিক ও অনুষ্ঠানিক কেন্দ্র বলেছে, এবং বলেছে এর নকশা একাধিক মুঘল অবরোধ ঠেকিয়েছিল, যতক্ষণ না ১৮১৮ সালে দুর্গটি ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ব্রিটানিকা লিখেছে, শিবাজি সেখানেই ১৬৮০ সালের এপ্রিলে মারা যান।
রায়গড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্ভাবনাও প্রবল, যা আইকোমোসের মতে নিয়মিতভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি। ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বলছে, এএসআই সেখানে সম্প্রতি খননকাজ করেছে যাতে বেশ কিছু নতুন কাঠামো বেরিয়ে এসেছে, আর রায়গড় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রবেশদ্বার ও জলাশয় সংরক্ষণ করছে।
সালহের, নাসিক জেলার দোলবারি উপশ্রেণিতে, আইকোমোসের মতে পশ্চিমঘাটের সবচেয়ে উঁচু দুর্গ, আর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এর উচ্চতা দিয়েছে ১,৫৬৭ মিটার। সেখানে পাথর কেটে বানানো একখণ্ড পাথরের প্রবেশদ্বার এখনও টিকে আছে। ১৬৩৮ সাল থেকে এটি ছিল মুঘলদের হাতে, আর আইকোমোস বলছে শিবাজি ১৬৭২ সালে সালহেরের যুদ্ধে এটি দখল করে উত্তরে সম্প্রসারণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
শিবনেরি শিবাজির জন্মস্থান বলে পরিচিত, এবং সেখানে আছে বৌদ্ধ গুহা আর জলাধার। লোহাগড় দাঁড়িয়ে বোর ঘাটে, আর আইকোমোস সেখানকার বৌদ্ধ গুহাগুলোর কালনির্ণয় করেছে সেই ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত। শিবাজি ১৬৭০ সালে মুঘলদের কাছ থেকে লোহাগড় পুনরুদ্ধার করেন, এবং আইকোমোস বলছে অবরোধের সময় দুর্গটি কোষাগার ও খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করত।
প্রতাপগড় তৈরি হয়েছিল ১৬৫৬ সালে শিবাজির নির্দেশে, আইকোমোস বলছে, এবং মহাবালেশ্বর অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত। ১৬৫৯ সালের প্রতাপগড়ের যুদ্ধে দুর্গটির ভূমিকা ছিল, যে যুদ্ধে শিবাজির বাহিনী বিজাপুর সুলতানির আফজল খানকে হারায়। পাহাড়ের ওপর এখনও মানুষ বাস করে। ব্রিটানিকা বলছে, ১৬৫৯ সালে শিবাজির বিরুদ্ধে পাঠানো বিজাপুরি সেনার সংখ্যা ছিল ২০,০০০।
পানহালা ১২ শতকের, আর তাতে আছে সাতটি বুরুজ, পাথর কেটে বানানো গুহা এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাসহ একটি গোপন কুয়ো। শিবাজি ১৬৫৯ সালে এটি দখল করেন এবং ১৬৭৩ সালে পাশের পাওয়ানগড় বানান। আইকোমোস বলছে, মারাঠা ও মুঘল বাহিনী এর জন্য তীব্র লড়াই করেছিল, এবং পরে এটি কোলহাপুরে মারাঠা প্রশাসনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৬৮০ সালে শিবাজির মৃত্যুর পর আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যুদ্ধগুলোর কথা জানতে দেখুন সম্ভাজি মহারাজ নিয়ে লেখা।
সিন্ধুদুর্গ আর সমুদ্রদুর্গ
সিন্ধুদুর্গ দাঁড়িয়ে পাথুরে কুর্তে দ্বীপে, ঘিরে আছে উপকূলরেখা অনুসরণ করা একটি প্রাচীর। আইকোমোস বলছে, শিবাজি স্থানীয় আগ্নেয় শিলায় ১৬৬৪ সালে এটি বানান, আর একটি গোপন অর্ধবৃত্তাকার প্রবেশপথসহ এটি মারাঠা নৌবাহিনীর সদর দপ্তর হয়ে ওঠে। পিআইবির দুর্গ-তালিকা একে রেখেছে সিন্ধুদুর্গ জেলায়।
সুবর্ণদুর্গ একটি দ্বীপদুর্গ, যা বিজাপুর সুলতানি ১৬ শতকে বানিয়েছিল আর ১৬৬০ সালে শিবাজির অধীনে শক্তিশালী করা হয়। আইকোমোস বলছে, এটি কোঙ্কন উপকূল ও সমুদ্রবাণিজ্য রক্ষা করত এবং নৌঘাঁটি ও জাহাজ নির্মাণের কারখানা হিসেবে কাজ করত। ১৬৭৯ সালে তৈরি খান্দেরি বোম্বে দ্বীপপুঞ্জ ও জাঞ্জিরার মাঝখানে। এর কাজ ছিল বোম্বে ও চাউল বন্দরের কাছাকাছি সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করা, আর আইকোমোস বলছে এটি বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে ব্রিটিশ আধিপত্যের পাল্টা ছিল।
বিজয়দুর্গ মূলত শিলাহারাদের তৈরি, ঘাগোটান নদীর মোহনার পাশে একটি অন্তরীপের ওপর উপকূলীয় দুর্গ, তিন স্তরের প্রাচীর ও একটি বন্দরসহ। আইকোমোস বলছে, শিবাজি ১৭ শতকে একে নৌদুর্গ হিসেবে সম্প্রসারিত করেন, এবং এর ডক ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১৮ শতকে মারাঠা নৌতৎপরতায় কাজ দিয়েছিল। সমুদ্রদুর্গগুলোকে একসঙ্গে ধরে আইকোমোস রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি লিখেছে যে, যে মুসলিম শক্তিগুলোর অধীনে তারা কাজ করেছিল তাদের তুলনায় মারাঠারা সামুদ্রিক ও উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছিল।
জিঞ্জি, তামিলনাড়ুর দুর্গ
বিল্লুপুরম জেলার জিঞ্জি মহারাষ্ট্রের বাইরের একমাত্র উপাদান। তিনটি ছোট পাহাড় একটি সুরক্ষিত প্রাচীরে যুক্ত, আর আইকোমোস বলছে ভবনগুলোতে দ্রাবিড় ও মারাঠা ধারা মিশে আছে। ১২ শতকের শেষে এটি ছিল চোল ঘাঁটি, ১৭ শতকে এর জন্য লড়েছিল গোলকোন্ডা, বিজাপুর ও মারাঠা শক্তি। শিবাজির বাহিনী ১৬৭৭ সালে এটি দখল করে শক্তিশালী করে, এবং আইকোমোস বলছে এটি তামিলনাড়ুতে মারাঠা অভিযানের ঘাঁটি হয়ে ওঠে। মুঘলরা এটি নেয় ১৬৯৮ সালে, আর ১৮ শতকের মাঝামাঝি এটি যায় ফরাসিদের হাতে, তারপর ব্রিটিশদের।
আইকোমোস জানিয়েছে, ভারত জিঞ্জির অন্তর্ভুক্তির ব্যাখ্যা দিয়েছে শিবাজির এই অভিপ্রায়ের চিহ্ন হিসেবে যে তিনি ফসলের রাজস্ব ও বন্দর নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্ণাটকের সমভূমি আর করমণ্ডল উপকূলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চেয়েছিলেন।
কারা এগুলো রক্ষা করে
বারোটি দুর্গ কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে পরিচালনা করে। ইউনেস্কোর বিবৃতি বলছে, আটটি, শিবনেরি, লোহাগড়, রায়গড়, সুবর্ণদুর্গ, পানহালা, বিজয়দুর্গ, সিন্ধুদুর্গ ও জিঞ্জি, এএসআইয়ের সুরক্ষায় আছে প্রাচীন স্মৃতিসৌধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইন, ১৯৫৮ এবং পুরাকীর্তি ও শিল্পসম্পদ আইন, ১৯৭২-এর অধীনে, আর সংরক্ষণ চলে জাতীয় সংরক্ষণ নীতি, ২০১৪ মেনে। বাকি চারটি, সালহের, রাজগড়, খান্দেরি ও প্রতাপগড়, সুরক্ষিত মহারাষ্ট্র প্রাচীন স্মৃতিসৌধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইন, ১৯৬০-এর অধীনে এবং চালায় রাজ্যের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে একটি শীর্ষ উপদেষ্টা কমিটি বারোটি দুর্গেরই তদারকি করে এবং প্রতি তিন মাসে বসে। প্রতিটি দুর্গের জন্য জেলা কালেক্টরের সভাপতিত্বে একটি জেলা কমিটিও আছে। ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় ২০২৪ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত প্রতিটি দুর্গের কর্মপরিকল্পনা তালিকাভুক্ত আছে, আর জিঞ্জির জন্য শীর্ষ কমিটিতে এএসআইয়ের চেন্নাই সার্কেলের একটি আসন আছে।
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট লোকসভার একটি উত্তরে সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এএসআইয়ের মুম্বই সার্কেলের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে সুরক্ষিত স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ অর্থ জানিয়েছেন ২০২২-২৩ সালে ১৫.৩৫ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ সালে ১৫.৫৬ কোটি টাকা আর ২০২৪-২৫ সালে ১২.৫৮ কোটি টাকা। এই অঙ্কগুলো সার্কেলের সব স্মৃতিসৌধের, শুধু দুর্গের নয়।
আইকোমোস সংরক্ষণের অবস্থা অসম পেয়েছে, ভালো থেকে মাঝারি। তারা উল্লেখ করেছে, শিবনেরি, রাজগড়, রায়গড়, সিন্ধুদুর্গ ও লোহাগড়ে যথেষ্ট সংরক্ষণকাজ হয়েছে। পাহাড়ি দুর্গগুলোয় প্রধান সমস্যা প্রাচীরের কাঠামোগত স্থিতিশীলতা, বৃষ্টির জল নিষ্কাশন আর উদ্ভিদের বৃদ্ধি, আর দ্বীপ ও উপকূলীয় দুর্গগুলোকে ক্ষতি করে লবণাক্ত জলকণা, বাতাস ও ঢেউ।
উপদেষ্টারা কী চেয়েছিলেন আর এরপর কী
আইকোমোসের মূল্যায়ন, যা ২০২৫ সালের ১২ মার্চ অনুমোদিত হয়, কমিটিকে মনোনয়ন স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছিল। আইকোমোস চেয়েছিল মনোনয়নটি নতুন করে সাজানো হোক একটি স্তরবদ্ধ সিরিজ ঘিরে, যাতে বাফার জোনে থাকা ছোট দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের দুর্গ যুক্ত থাকবে, আর প্রথম ধাপ হবে খান্দেরি, সুবর্ণদুর্গ, রাজগড়, রায়গড় ও প্রতাপগড়। এটি উল্লেখ করেছিল যে বারোটি দুর্গের মধ্যে শুধু তিনটি পুরোপুরি মারাঠাদের তৈরি, কারণ বাকিগুলো আগের নির্মাণ থেকে মানিয়ে নেওয়া, আর এটি প্রশ্ন তুলেছিল কেন জিঞ্জিসহ কিছু দুর্গ অন্যদের চেয়ে বাছা হলো। এটি এও বলেছিল যে রাষ্ট্রপক্ষ “এমন একটি চ্যালেঞ্জিং মনোনয়ন হাতে নেওয়ার জন্য প্রশংসার যোগ্য”।
কমিটি তার বদলে সম্পত্তিটি তালিকাভুক্ত করেছে, (iv) ও (vi) মানদণ্ডে। তার সিদ্ধান্ত সুপারিশ করেছে যে ভারত বাফার জোনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের দুর্গ রক্ষার কথা ভাবুক, দুর্গগুলোর কাছাকাছি যেকোনো প্রকল্পের জন্য ঐতিহ্য প্রভাব মূল্যায়ন তৈরি করুক, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাক, এবং ওই দুর্গগুলোকে সীমানার ভেতরে আনার একটি দ্বিতীয় ধাপ বিবেচনা করুক। আইকোমোস রায়গড়ের রোপওয়ে উন্নত করার আগে তার মূল্যায়নেরও সুপারিশ করেছিল।
কমিটি ভারতকে ওই সুপারিশগুলোর ওপর ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে, ৪৯তম অধিবেশনে পর্যালোচনার জন্য।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO World Heritage Centre: Maratha Military Landscapes of India (list entry, Outstanding Universal Value)
- UNESCO World Heritage Committee decision 47 COM 8B.16: Maratha Military Landscapes of India
- UNESCO World Heritage Committee decision 48 COM 8B.51: Statements of Outstanding Universal Value adopted
- UNESCO: 'Maratha Military Landscapes of India' inscribed on the World Heritage List as India's 44th property (15 July 2025)
- UNESCO World Heritage Centre: 47th session of the World Heritage Committee, Paris, 6 to 16 July 2025
- ICOMOS evaluation of the nomination, No 1739 (March 2025), UNESCO World Heritage Centre
- Nomination dossier, Executive Summary: Maratha Military Landscapes of India (Government of India, UNESCO World Heritage Centre)
- Overarching Management Plan for the Maratha Military Landscapes of India (UNESCO World Heritage Centre)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: Maratha Military Landscapes of India inscribed in the UNESCO World Heritage List as India's 44th entry (11 July 2025)
- Press Information Bureau, Ministry of Culture: Inclusion of Maratha Forts in UNESCO World Heritage Site, Lok Sabha reply (4 August 2025)
- Ministry of Culture: Maratha Military Landscapes of India added to UNESCO World Heritage List (11 July 2025)
- Encyclopaedia Britannica: Shivaji
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।