ছবি: Ministry of Culture / Wikimedia Commons, GODL-India (ছাঁটা)
বাংলা
২০১৮ সালে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বাগপত জেলার সিনৌলিতে একটি রাজকীয় সমাধিক্ষেত্র খনন করে পায় তামায় মোড়া পায়াওয়ালা কাঠের কফিন, অ্যান্টেনা-হাতলের তলোয়ার, শিরস্ত্রাণ আর তামার পাত-লাগানো মঞ্চের তিনটি পূর্ণ আকারের কাঠের যান। রেডিওকার্বন পত্রিকায় প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি গবেষণাপত্র, যার সহ-লেখক খননের পরিচালক, স্থানটির কাল ধরেছে বর্তমানের প্রায় ৪০০০ বছর আগে। হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের আস্কো পারপোলা গাড়ি-সমাধিগুলোকে ভারতের ব্রোঞ্জ যুগে এ ধরনের প্রথম বলে বর্ণনা করেছেন।
২০১৮ সালের বসন্তে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার সিনৌলি গ্রামে একটি ট্রেঞ্চ খোলে এবং পায় চার পায়ায় দাঁড়ানো, তামায় মোড়া কাঠের কফিন, আর তার পাশে পোঁতা পূর্ণ আকারের চাকাওয়ালা যান। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রেডিওকার্বন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র, যার সাত লেখকের একজন খননের পরিচালক এস. কে. মঞ্জুল, স্থানটির কাল ধরেছে বর্তমানের প্রায় ৪০০০ বছর আগে, অর্থাৎ আনুমানিক ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
লেখকেরা লিখেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে তাম্রাশ্মীয় যুগের (যখন পাথরের পাশাপাশি তামার হাতিয়ার চালু হয়) রথসহ রাজকীয় সমাধির মধ্যে এগুলোই প্রথম। যানগুলো রথ ছিল কি না, তা নিয়ে তর্ক আছে, আর সেই তর্ক নিচে রাখা হয়েছে।
প্রথমটির একশো মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি সমাধিক্ষেত্র
হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের আস্কো পারপোলার মতে, সিনৌলি (বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রে বানান সানৌলি) দিল্লি থেকে ৬০ থেকে ৭০ কিমি দূরে। এক জমির মালিক তাঁর মাঠের একটি অংশ, ৩৫ মিটার বাই ২০ মিটার আর ১.৫ মিটার গভীর, থেকে পলিমাটি চেঁছে তোলার সময় মাটির পাত্র, অ্যান্টেনা-আকৃতির হাতলওয়ালা একটি তামার তলোয়ার আর মানুষের হাড় বেরিয়ে পড়ে, আর তাতেই জায়গাটি নজরে আসে। ২০০৪ সালে একটি প্রাথমিক পরিদর্শনের পর ASI ২০০৫ ও ২০০৬ সালে খনন করে ১১৬টি সমাধির একটি গোরস্থান উন্মোচন করে, যার বেশির ভাগে মাথা উত্তর-পশ্চিম দিকে। পারপোলার সারাংশ অনুযায়ী, ভি. এন. প্রভাকরের সেখানকার মাটির পাত্র নিয়ে সমীক্ষা দেখিয়েছিল, গঙ্গা-যমুনা দোয়াব, অর্থাৎ দুই নদীর মাঝের ভূমি, থেকে তখন পর্যন্ত জানা পরবর্তী হরপ্পা মৃৎপাত্রের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ সেটাই।
গ্রামবাসীদের আকস্মিক প্রাপ্তি খননকারীদের আবার সেই জায়গায় নিয়ে আসে। নতুন ট্রেঞ্চটি পুরোনো গোরস্থান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছিল, আর পারপোলার মতে সেখানে আরও সাতটি কবর মিলল, যাকে খননকারীরা রাজকীয় সমাধিক্ষেত্র বলে ধরেছিলেন। কাজ পরিচালনা করেন ASI-র সঞ্জয় কুমার মঞ্জুল আর অরভিন মঞ্জুল। রেডিওকার্বন গবেষণাপত্র এবং ঘটনাস্থলে কাজ করা প্রত্নতত্ত্ববিদ দিশা আহলুওয়ালিয়া আটটি সমাধি গুনেছেন, ফলে সূত্রভেদে মোট সংখ্যায় এক-এর তফাত আছে।
চার পায়ার ওপর তামায় মোড়া কফিন
পারপোলার মতে, পায়াওয়ালা কাঠের কফিন সিনৌলির জন্য সমাধির নতুন ধরন, কারণ ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের গোরস্থানে এমন কিছু ছিল না। ৩০ থেকে ৩৫ মিলিমিটার পুরু কাঠের তক্তাগুলো পচে গিয়েছিল, কিন্তু তিনটি কফিনের দুটিতে প্রায় ৩ মিলিমিটার পুরু তামার আবরণ টিকে ছিল, যা সেগুলোর রূপরেখা চিনিয়ে দিয়েছে। খননকারীদের প্রতিবেদনের সারাংশ করতে গিয়ে পারপোলা দুটির মাপ দিয়েছেন। সমাধি-গর্ত ৩-এর কফিন ৪৪ সেমি পায়ার ওপর চারটি পায়ায় ১৬৩ সেমি লম্বা। গর্ত ৬-এর কফিন ৫০ সেমি পায়ার ওপর ২৫৯ সেমি লম্বা, ভেতরে ও বাইরে দুদিকেই তামা, আর বাইরের দিকে পাতার নকশা।
গর্ত ৬-এর কফিনের ঢাকনাতেই খননের সবচেয়ে পরিচিত ছবিটি। পারপোলা খননকারীদের প্রতিবেদন থেকে যেভাবে উদ্ধৃত করেছেন, সে অনুযায়ী ঢাকনাটি কাঠে উঁচু রিলিফে খোদাই করে ছোট পেরেকে আটকানো পাতলা তামার পাতে মোড়া। তাতে শিংওয়ালা শিরোভূষণ পরা আটটি মানুষের মতো মূর্তি আছে, তিনটির হাতে বস্তু ধরা মনে হয়। পারপোলা যোগ করেছেন, সাংবাদিক টি. এস. সুব্রহ্মণ্যন ফ্রন্টলাইনে আরেক বিশেষজ্ঞের মত লিখেছেন যে খোদাইটি বাঁড়ের মাথার।
গর্ত ১-এ ছিল তামাহীন একটি পায়াওয়ালা কফিন, তাতে এক দীর্ঘাঙ্গী নারীর প্রায় অক্ষত কঙ্কাল, আর কনুইয়ের কাছে অ্যাগেট পুঁতির একটি বাজুবন্ধ। তাঁর পাশে একটি বড় স্ট্যান্ডসহ থালায় ছিল ভাঙা ছোরা আর বাঁড় খোদাই করা শিঙের একটি চিরুনি।
তামার পাত-লাগানো মঞ্চের তিনটি যান
গর্ত ৩-এর যানটি, সাম্প্রতিক চাষের কাজে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল। প্রতিবেদন থেকে পারপোলার পাঠ অনুযায়ী, তাতে ছিল একটি স্থির অক্ষ, যার ওপর পুরু তামার পাতে ঢাকা অর্ধবৃত্তাকার কাঠের মঞ্চ, পাশে পাটাতন আর সামনে উঁচু ড্যাশবোর্ড। তামার নল মঞ্চটিকে ঘিরে ছিল, তার একটি ছাতা বসানোর জন্য লাগানো। দুটি চাকাই নিরেট, হাব থেকে রিম পর্যন্ত তিন সারিতে ২ সেমি তামার পেরেকে আটকানো ত্রিভুজাকার তামার পাত। গর্ত ৬-এ সবচেয়ে বড় কফিনের পাশে একই রকমের একজোড়া ছিল। ২০১৮ সালের জুনে দ্য প্রিন্ট দুটি রথের কথা জানায়, আর পরের বিবরণগুলো, রেডিওকার্বন প্রবন্ধ ও আর্কিওলজি ম্যাগাজিনসহ, বলে তিনটি। আর্কিওলজি ম্যাগাজিন মঞ্জুলকে উদ্ধৃত করে, সমাধি-গর্তে যান থাকা একটি যোদ্ধা শ্রেণির ইঙ্গিত দেয় এবং ভারতকে মেসোপটেমিয়া ও গ্রিসের পাশে বসায়, যেখানে রথ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ছিল।
গর্ত ৩-এর কফিনের চারপাশে ছিল বাটির আকারের একটি তামার শিরস্ত্রাণ, তামার ফালি দিয়ে দাবার ছকের নকশা করা বেহালা-আকৃতির একটি ঢাল, গভীর তামার পাত্রসহ একটি মশাল, একটি তামার ছোরা আর শত শত পুঁতি। গর্ত ৬-এ আরও ছিল তামায় সাজানো একটি চাবুকের দণ্ড, কচ্ছপ-আকৃতির ভিত্তির ওপর এক খণ্ডে ঢালাই করা নিরেট তামার একটি পানপাত্র, আর দুটি ইলেকট্রামের টুপি (ইলেকট্রাম সোনা ও রুপোর প্রাকৃতিক সংকর), যা পারপোলার ধারণা, সম্ভবত রাজদণ্ডের দুই প্রান্ত ছিল। কফিনটি সাজানো ছিল সোনার পুঁতির মালায়।
তলোয়ারগুলো অ্যান্টেনা-হাতলের ধরনের, নামটি হাতলের মাথার দুটি পাকানো বাহু থেকে। গর্ত ৫-এর একটি প্রতীকী সমাধি, সেনোটাফ, থেকে পাওয়া একটি ৭০ সেমি লম্বা, তার কাঠের হাতল তামার ফালিতে মোড়া। পারপোলা লক্ষ করেছেন, এই ধরনের তলোয়ার প্রাচীনতম কপার হোর্ডের বৈশিষ্ট্য, আর পরিণত হরপ্পা সংস্কৃতিতে তা অনুপস্থিত।
২০২৪ সালের গবেষণাপত্র কী নির্ণয় করেছে
রেডিওকার্বন গবেষণাপত্রের সাত লেখকের ছয়জন লখনউয়ের বীরবল সাহনি ইনস্টিটিউট অব প্যালিওসায়েন্সেসের সঙ্গে যুক্ত, আর মঞ্জুল ASI-র লেখক। তাঁদের সারসংক্ষেপ বলছে, রেডিওকার্বন তারিখ আর বস্তুসংস্কৃতি স্থানটিকে বর্তমানের প্রায় ৪০০০ বছর আগে, মোটামুটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, বসায়, এবং ধারণা করা হয় এটি ওকার-রঙা মৃৎপাত্র ও কপার হোর্ড সংস্কৃতির অংশ। সেই সংস্কৃতি, লেখকেরা বলছেন, গঙ্গা-যমুনা দোয়াবে গড়ে উঠেছিল এবং সিন্ধু সভ্যতার শেষ পর্বের সমসাময়িক ছিল। তাঁরা একে শেষ সিন্ধু, মেসোপটেমীয় ও গ্রিক সভ্যতার সম্ভাব্য সমসাময়িক মনে করেন।
এই লেখা শুধু সারসংক্ষেপটুকু পড়তে পেরেছে। গবেষণাপত্রের শিরোনামে উল্লিখিত আইসোটোপ বিশ্লেষণসহ পূর্ণ পাঠ পত্রিকার পেওয়ালের পেছনে। চার বছর আগে লেখা পারপোলার প্রবন্ধে টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত আছে, যাতে মঞ্জুল বলেছিলেন কার্বন-কালনির্ণয় ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নিশ্চিত করেছে, আর লখনউয়ের প্রতিষ্ঠান ASI-কে দুটি রেডিওকার্বন তারিখ পাঠিয়েছিল, ৩৮১৫ ও ৩৫০০, প্রতিটিতে ১৩০ বছরের ত্রুটি-সীমা। ২০১৮ সালের জুনে মঞ্জুলের প্রথম অনুমান ছিল ২০০০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। এই দুই সংখ্যা গবেষণাপত্রের ৪০০০ বছর আগের সঙ্গে মেলে না, আর কীভাবে সেগুলো সম্পর্কিত, তা দেখাবে এমন সারণি এই লেখার জন্য পাওয়া যায়নি।
রথ না বলদের গাড়ি
পারপোলা যানবাহন-ইতিহাসবিদদের কাছ থেকে যে সংজ্ঞা অনুসরণ করেন, তাতে রথ হলো ঘোড়ায় টানা, অরযুক্ত চাকার হালকা দুই চাকার যান। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে সিনৌলির যান ঘোড়ায় টানা কি না জিজ্ঞেস করা হলে মঞ্জুল বলেছিলেন, তাদের আকার ও আকৃতি সেদিকেই ইঙ্গিত করে, পারপোলা জানিয়েছেন।
পারপোলা অন্যভাবে পড়ার কয়েকটি কারণ দিয়েছেন। চাকাগুলো নিরেট, যা তাঁর বিচারে ঘোড়ার জন্য বেশি ভারী। কোনো ঘোড়ার কঙ্কাল, ঘোড়ার খুলি, কিংবা রথের ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গালের পাত পাওয়া যায়নি, আর খননের চিত্রকল্পে প্রাধান্য বাঁড়ের, চিরুনি থেকে কফিনের ঢাকনার শিংওয়ালা মূর্তি পর্যন্ত। তিনি যানগুলোকে মহারাষ্ট্রের দাইমাবাদের একটি তামার বলদের গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা পরবর্তী হরপ্পা যুগের প্রাপ্তি। তাঁর পাঠে এগুলো বাঁড়ে টানা গাড়ি, তবু তিনি এই সমাধিগুলোকে ভারতের ব্রোঞ্জ যুগে এ ধরনের প্রথম বলেই বলেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্রী রুচিকা শর্মা ২০১৮ সালে দ্য প্রিন্টকে বলেছিলেন, পরবর্তী হরপ্পা স্থানগুলোতে বলদের গাড়ি সাধারণ, আর ASI-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন এগুলোকে রথ বলা হচ্ছে কেন।
খননে কাজ করা আহলুওয়ালিয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে লিখেছিলেন, যানগুলো ঘোড়ায় টানা ছিল কি না, তা অমীমাংসিত, এবং সমাধিগুলোকে রাজকীয় বলা দাঁড়িয়ে আছে কফিন আর যানগুলোর বাইরের চেহারার ওপর। ২০২৪ সালের গবেষণাপত্র তার শিরোনামে রথ শব্দটি রেখেছে।
মানুষগুলো কারা ছিল
খননকারীরা রাজকীয় সমাধিক্ষেত্রকে হরপ্পা ঐতিহ্যের বাইরে রাখেন, যদিও তার সঙ্গে যোগাযোগ স্বীকার করেন। দ্য বেটার ইন্ডিয়া মঞ্জুলকে উদ্ধৃত করে বলেছে, রথ আর কফিন হরপ্পা সভ্যতার নয়, আর আহলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন খননকারীরা হরপ্পার সঙ্গে সামান্যই সম্পর্ক দেখেন। কাছের ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের গোরস্থান, উল্টোদিকে, পারপোলার দেওয়া প্রভাকরের সমীক্ষার সারাংশে মৃৎপাত্রে পরবর্তী হরপ্পা। পরবর্তী হরপ্পা সেই সভ্যতার শেষ পর্ব, যার নগরগুলোর কথা আমাদের সিন্ধু জলব্যবস্থার লেখায় আছে। রাজকীয় কবরগুলোর ওকার-রঙা মৃৎপাত্র পুরু লাল প্রলেপের এক ধরনের পাত্র, যা আঙুলে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেয়, আর তা মূলত গঙ্গা-যমুনা দোয়াবে মেলে।
এই প্রাপ্তিগুলোর কাছে দুটি বড় প্রশ্ন রাখা হয়েছে। একটি, পারপোলা এগুলো ব্যবহার করেছেন ইন্দো-ইরানীয় ভাষা কীভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় পৌঁছেছিল তার মডেলে, যাতে আদি ভাষাভাষীরা মধ্য এশিয়ার পথে এসেছিল। অন্যটি, মহাভারতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, যে মহাভারত আমাদের মহাভারত কী ব্যাখ্যায় বর্ণিত। পারপোলা লিখেছেন, মঞ্জুল ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মহাকাব্য এবং ওকার-রঙা মৃৎপাত্র ও কপার হোর্ড সংস্কৃতি নিয়ে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন, আর দ্য কুইন্টের একটি মতামত-লেখা তাঁকে উদ্ধৃত করে, যোগসূত্রের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন এখনই বলা যায় না। পণ্ডিত জিয়াকোমো বেনেদেত্তি, পারপোলার উদ্ধৃতিতে, মনে করিয়ে দেন, ঋগ্বেদেও যোদ্ধা ও রথের উল্লেখ আছে। আহলুওয়ালিয়া লিখেছিলেন, এই অঞ্চলে ঘোড়া কারা এনেছিল তা বলার আগে আরও অনেক প্রমাণ দরকার।
এই মানুষগুলো কোথায় থাকত, তাও অজানা। কবর থেকে ৮০০ মিটার দূরে ২০১৮ সালের একটি পরীক্ষামূলক খননে মাটির পাত্র ও চুলা মিলেছিল, পারপোলা জানিয়েছেন, কিন্তু বসতিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের কঙ্কাল থেকে নেওয়া ডিএনএ নমুনা ২০২০ সালে পারপোলার তথ্য অনুযায়ী পুনের ডেকান কলেজ আর হায়দরাবাদের গবেষণাগারে ছিল, আর এখানে দেখা কোনো সূত্রেই ফলাফলের খবর নেই। হরপ্পা যুগের প্রাচীন ডিএনএ নিয়ে আছে আমাদের রাখিগড়ির জিনোম প্রবন্ধে।
কেন্দ্রীয় সুরক্ষায়
স্বরাজ্য জানিয়েছে, ASI ২০১৯ সালের ৬ জুন একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাদিকপুর সিনৌলির প্রায় ২৮ হেক্টরকে জাতীয় গুরুত্বের স্থান ঘোষণার প্রস্তাব করে, আর ASI-র একটি আগের বিবৃতিতে স্থানটিকে পরবর্তী হরপ্পা যুগের বৃহত্তম নেক্রোপোলিস বলা হয়েছিল। ক্রনিকল ইন্ডিয়া ২০২০ সালের নভেম্বরে জানায়, প্রাচীন স্মৃতিসৌধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইন, ১৯৫৮-এর অধীনে ঘোষণাটি হয়ে গেছে, ২৮.৬৭ হেক্টর জুড়ে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Sharma et al., Royal burials and chariots from Sinauli (Uttar Pradesh, India): Radiocarbon dating and isotopic analysis based inferences, Radiocarbon 66(4), 2024 (abstract)
- Asko Parpola, Royal Chariot Burials of Sanauli near Delhi and Archaeological Correlates of Prehistoric Indo-Iranian Languages, Studia Orientalia Electronica 8(1), 2020
- Krishnendu Das, A Short Note on the Recent Discovery of Sanauli and its Harappan Connection, Journal of Heritage, Archaeology & Management, 2021
- Disha Ahluwalia, Sanauli's Mysterious Warriors, Live History India (3 December 2018)
- Gurvinder Singh, Indian Warrior Class, Archaeology magazine (September/October 2018)
- ThePrint: ASI finds corpses, chariots at contemporary Harappan site, royalty angle being explored (Deeksha Bhardwaj, 5 June 2018)
- The Better India: ASI finds copper-bronze age chariots, tombs in UP village (Ahmed Sherrif, 7 June 2018)
- The Quint: Chariots and Swords, Looking for Mahabharata Clues in Sanauli (Vivian Fernandes, 11 June 2018, opinion)
- Swarajya: Largest excavation of the late Harappan period in Baghpat to be declared a site of national importance (20 June 2019)
- Chronicle India: ASI Declares Site and Remains at Baghpat to be of National Importance (November 2020)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।