Skip to content
সিত্তন্নবাসলের অরিবার কোয়িল, পুদুক্কোট্টাইয়ের জৈন গুহা: ছাদের চিত্রকে পণ্ডিতেরা অজন্তার পাশে রাখেন, আছে পাণ্ড্য আমলের মেরামতের লিপি, আর নির্মাতা কে তা নিয়ে তর্ক আজও চলছে
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারত

সিত্তন্নবাসলের অরিবার কোয়িল, পুদুক্কোট্টাইয়ের জৈন গুহা: ছাদের চিত্রকে পণ্ডিতেরা অজন্তার পাশে রাখেন, আছে পাণ্ড্য আমলের মেরামতের লিপি, আর নির্মাতা কে তা নিয়ে তর্ক আজও চলছে

ছবি: R.K.Lakshmi / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (ছাঁটা)

বাংলা

পুদুক্কোট্টাই জেলার সিত্তন্নবাসলের গুহামন্দিরে রঙিন ছাদ টিকে আছে। ১৯৩৭ সালে নেচার পত্রিকায় মাদ্রাজ মিউজিয়ামের এক রসায়নবিদ এগুলিকে ভারতে টিকে থাকা অজন্তা ঘরানার শ্রেষ্ঠ জৈন চিত্র বলেছিলেন। ১৭ লাইনের একটি তামিল লিপিতে লেখা আছে, মাদুরাইয়ের এক জৈন গুরু এক পাণ্ড্য রাজার অধীনে মন্দিরটি মেরামত করেছিলেন, কিন্তু প্রথমে পাথর কেটেছিলেন কে, তা কোথাও নেই। গুহাটির কাল লেখকেরা দ্বিতীয় শতক থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত নানাভাবে ধরেছেন।

· · 8 মিনিটের পাঠ

তামিলনাড়ুর পুদুক্কোট্টাই জেলার সিত্তন্নবাসলে এক পাহাড়ের পশ্চিম গায়ে পাথর কেটে বানানো জৈন গুহা অরিবার কোয়িল। দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৪ ফুট, প্রস্থে ১২ ফুট, উচ্চতায় ১১ ফুট। এর রঙিন ছাদের জন্যই স্বামীনাথন ও ট্রিবিউন একে গুরুত্বে অজন্তার পাশে রাখেন। মাদ্রাজ সরকারি জাদুঘরের রসায়নবিদ এস. পরমশিবন ১৯৩৭ সালে নেচার পত্রিকায় লিখেছিলেন, এই চিত্রগুলি ভারতে টিকে থাকা ধ্রুপদী অজন্তা ঘরানার শ্রেষ্ঠ জৈন চিত্র। এখানে তিনটি জিনিসের কাল ঠিক করতে হয় আর তিনটি নিয়েই সূত্রগুলি একমত নয়: গুহা নিজে, লিপিগুলি, আর চিত্রগুলি।

সাম্প্রতিক লেখায় জায়গাটির নাম লেখা হয় Sittanavasal, পুরনো পাণ্ডিত্যে Sittannavasal। দুটিই একই পাহাড়, আর নামটি নিয়েও আলাদা বিতর্ক আছে। দক্ষিণ এশীয় শিল্পের অনলাইন বিশ্বকোষ ইম্পার্ট জানাচ্ছে, এক পাঠে নামের অর্থ সংস্কৃত থেকে “মহাসাধুদের আবাস”, আরেক পাঠে কাছের এক শহরের নাম ধরে “ছোট অন্নলবায়িল”-এর তামিল রূপ।

পাথরে যা কাটা আছে

গুহার মুখ পশ্চিমে। অধ্যাপক সুব্রহ্মণিয়ম স্বামীনাথনের ২০০৮ সালে লেখা এক ঐতিহ্য-সমীক্ষা অনুযায়ী, গুহাটির শুরু হয়েছিল একটি গর্ভগৃহ (ভেতরের দেবকক্ষ) আর সামনের একটি হলঘর নিয়ে, দুটিই জীবন্ত পাথর কেটে বানানো। সামনের থামওয়ালা বারান্দা বিংশ শতকের সংযোজন, টটেনহ্যাম নামে এক ব্রিটিশ প্রশাসকের উদ্যোগে তৈরি, থামগুলি আনা হয়েছিল কুদুমিয়ামলাই মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ থেকে। একই জেলার কুদুমিয়ামলাইয়ে দেয়ালে কাটা আছে পাথরে খোদাই করা এক সুরলিপি।

হলঘরের পাশের দেয়ালে কুলুঙ্গিতে বসা দুটি মূর্তি। একটি ত্রয়োবিংশ তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের (জৈনেরা যাঁকে মুক্ত আচার্য বলে শ্রদ্ধা করেন), পাঁচ ফণার সাপের ছাতার নিচে। অন্যটি একটি ছত্রের নিচে বসা, আর কাছের থামে লেখা আছে শ্রী তিরুবাসিরিয়ম, “পূজনীয় গুরু”। স্বামীনাথনের পাঠে তাতে বোঝা যায় মূর্তিটি এক গুরুর, তীর্থঙ্করের নয়। ঐতিহ্য-সাইট পুরাতত্ত্বের সৌরভ সাক্সেনার মতে, গর্ভগৃহের পেছনের দেয়ালে আরও তিনটি বসা মূর্তি খোদাই করা।

পরমশিবন ১৯৩৭ সালে লিখেছিলেন, চিত্র টিকে আছে শুধু ছাদে, থামের মাথায় আর কড়িকাঠে। সবচেয়ে বড়টি হলের ছাদের এক পদ্মদিঘি, তাতে মাছ, পাখি, মহিষ, হাতি আর ফুল তোলা মানুষ। টি. এন. রামচন্দ্রন ও শিল্প-ইতিহাসবিদ স্টেলা ক্রামরিশ এটিকে পড়েছেন “খাতিকা ভূমি” হিসেবে, অর্থাৎ সমবসরণে (যে হলে তীর্থঙ্কর উপদেশ দেন) যাওয়ার পথে বিশ্বাসী যে পুকুর-অঞ্চল পার হন। পুরাতত্ত্বে উদ্ধৃত আই. জব টমাস এই শনাক্তকরণের ভিত্তি দুর্বল বলেন, কারণ সমবসরণ সাধারণত গোটাটাই আঁকা হয়, আর তিনি তামিল জৈন সাহিত্যের দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে পদ্ম-নিবেদনকে জিন, অর্থাৎ বিজেতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। থামে আছে নাচের ভঙ্গিতে দুই দেবকন্যা আর এক সন্ন্যাসী-সহ এক রাজদম্পতি।

চিত্রগুলি পণ্ডিতদের কাছে কীভাবে পৌঁছল

প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল একটি লিপি, কোনো চিত্র নয়। সাক্সেনা লিখেছেন, ১৯০৪ সালের বার্ষিক লিপিতত্ত্ব প্রতিবেদনে সেই লিপি ছাপা হওয়ার পরই পণ্ডিতদের নজরে আসে চিত্রগুলি। পুদুক্কোট্টাই জাদুঘরের কিউরেটর ভেঙ্কটরঙ্গ রাজু ১৯১০ সালে দেয়ালচিত্রের জলরঙের প্রতিলিপি করেন। স্থানীয় ইতিহাসবিদ এস. রাধাকৃষ্ণ আইয়ার ১৯১৬ সালের তাঁর জেনারেল হিস্ট্রি অফ দ্য পুদুক্কোট্টাই স্টেট বইয়ে গুহার বর্ণনা দিয়েছিলেন, যদিও স্বামীনাথন বলেন বইটির পাঠক মূলত আঞ্চলিক হওয়ায় তা বৃহত্তর মনোযোগ পায়নি।

বৃহত্তর মনোযোগ এল জি. জুভো-দুব্রেইলের হাত ধরে। পুরাতত্ত্বের বিবরণে, মূর্তিতত্ত্ববিদ টি. এ. গোপীনাথ রাও ১৯১৯ সালে তাঁকে বলেছিলেন, চিত্রগুলি মন্দিরের মতোই পুরনো এবং পুরোটা নকল করার মতো ভালো অবস্থায় আছে। স্বামীনাথনের মতে, দুজনে ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত সিত্তন্নবাসলে কাজ করেন এবং জায়গাটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক জগতের সামনে হাজির করেন। ইম্পার্ট তাঁদের ১৯২০ সালের গবেষণাগ্রন্থের নাম দিয়েছে ফ্রেস্কো পেইন্টিং অ্যাট সিত্তন্নবাসল।

স্বামীনাথন লিখেছেন, ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত পুদুক্কোট্টাইয়ের মহারাজা চিত্রগুলি পরিষ্কার করান, একটি সংরক্ষণকারী প্রলেপ দেওয়া হয়, আলগা পলেস্তারা শক্ত করা হয়, কিন্তু নতুন করে রং করা হয়নি। ১৯৪২ সালে চিত্র পরিষ্কার করতে গিয়ে পরমশিবন ও কে. আর. শ্রীনিবাসন পরবর্তী এক স্তরের নিচে কার্পেট-নকশার আরও পুরনো রঙের একটি টুকরো পান।

গুহাটি: পল্লব, পাণ্ড্য, না কারও নামে নয়

স্বামীনাথন বলেন, গুহায় কোনো প্রতিষ্ঠা-লিপি টিকে নেই, তাই এর কাল দাঁড়িয়ে আছে স্থাপত্যরীতির ওপর: গর্ভগৃহ আর সামনের হলের সাদামাটা নকশা, আর থামগুলি। বেশ কয়েকজন লেখক এগুলিকে পল্লব কাজ বলে পড়েছেন। পরমশিবনের ১৯৩৭ সালের প্রবন্ধ চিত্রগুলিকে পল্লব রাজা প্রথম মহেন্দ্রবর্মনের সময়ের বলে ধরে, যাঁর কাল তিনি ধরেন আনুমানিক ৬০০ থেকে ৬২৫। সাক্সেনা জানাচ্ছেন, জুভো-দুব্রেইল গুহাটি প্রথম মহেন্দ্রবর্মনের (সেখানে ৫৮০ থেকে ৬৩০) বলে ধরেছিলেন, সম্ভবত থামের গড়ন দেখে, আর কে. আর. শ্রীনিবাসন পল্লব বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে একমত ছিলেন। ইম্পার্ট যোগ করছে, এমন ঘনকাকৃতি থাম আদি পল্লব স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য। ২০০৫ সালে ট্রিবিউন লিখেছিল, গুহামন্দিরটি মহেন্দ্রবর্মন সপ্তম শতকে সম্পূর্ণ করেছিলেন বলে বলা হয়, আর পুদুক্কোট্টাই জেলা প্রশাসনের পর্যটন পাতাও চিত্রগুলিকে একই রাজার সঙ্গে জুড়েছে। ঐতিহ্য বলে, সাধক অপ্পরের প্রভাবে শৈবধর্মে ফেরার আগে মহেন্দ্রবর্মন জৈন ছিলেন, কথাটি পুরাতত্ত্ব ও ইম্পার্ট দুজনেই উল্লেখ করেছে।

সংশয়ের শুরু ভূগোল থেকে। স্বামীনাথন লিখেছেন, মহেন্দ্রবর্মনের এলাকা তিরুচিরাপল্লির বেশি দূর যেত না বলে বলা হয়, আর একই রীতির গুহা আছে পাণ্ড্য অঞ্চলে, যেখানে পল্লব ক্ষমতা অজানা ছিল, যেমন তিরুনেলভেলির কাছে তিরুমলাইপুরমে চিত্রের অবশেষ-সহ এক শিবগুহা। সাক্সেনা একটি শর্তসাপেক্ষ যুক্তি যোগ করেন। মণ্ডগপট্টুর সংস্কৃত শ্লোক, যাতে বলা আছে মহেন্দ্রবর্মন ইট, কাঠ, ধাতু বা চুন-সুরকি ছাড়াই একটি মন্দির বানিয়েছিলেন, সেটি যদি রাজার প্রথম পাথর-কাটা মন্দিরের চিহ্ন হয়, যেমনটা তিনি বলেন কে. আর. শ্রীনিবাসন পড়েছেন, তাহলে সিত্তন্নবাসলের এই ধরনের গুহা বরং পাণ্ড্য কাজ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, মারন সেন্দনের (৬৫৪ থেকে ৬৭০) বা অরিকেসরী মারবর্মনের (৬৭০ থেকে ৭০০)। সাউথ ইন্ডিয়ান ইনস্ক্রিপশন্সে সেই শ্লোকের সারাংশে “প্রথম” শব্দটি নেই। গুহার জন্য সাক্সেনার নিজের আন্দাজ সপ্তম বা অষ্টম শতক, সম্ভবত।

অন্য কালগুলি আরও দূরে। ইম্পার্ট দিয়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ, আর বলছে কোনো প্রমাণ গুহার কাল বা নির্মাতা নিশ্চিতভাবে ঠিক করে না। পুদুক্কোট্টাই জেলার একটি পাতা একে দ্বিতীয় শতকের জৈন মন্দির বলেছে, ভিত্তি দেয়নি, অথচ একই অনুচ্ছেদে বলছে চিত্রগুলি মহেন্দ্রবর্মনের আমলে ফিরে যায়। স্বামীনাথনের নিজের সারকথা, প্রতিষ্ঠা-লিপি ছাড়া নির্মাতা নির্ধারণ করা যায় না, আর মেরামতের উল্লেখ-থাকা নবম শতকের লিপির চেয়ে গুহাটি অবশ্যই পুরনো।

পাণ্ড্য মেরামতের তামিল লিপি

সিত্তন্নবাসলে সবচেয়ে শক্ত নোঙর ওই মেরামতের নথি। প্রকাশিত সিরিজ সাউথ ইন্ডিয়ান ইনস্ক্রিপশন্স একে তার পাণ্ড্য খণ্ডের ৪৫ নম্বর হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, ১৯০৪ সালের বার্ষিক লিপিতত্ত্ব প্রতিবেদন থেকে (নম্বর ৩৬৮)। এটি গুহার দক্ষিণে পাথরে কাটা, তামিল পদ্যে, আদি অক্ষররীতিতে, যাতে শুধু ব্যঞ্জন বোঝাতে বিন্দু বসানো হয়। এতে পাণ্ড্য রাজা শ্রীবল্লুবনের নাম আছে, অর্থাৎ শ্রীবল্লভ, উপাধি অবনিপশেখরন। তাঁর পক্ষে, লিপি বলছে, মাদুরাইয়ের এক অসিরিয়ন (গুরু) ইলান গৌতমন অন্নলবায়িলের মন্দিরের সামনের হল মেরামত করেন এবং তার সামনে একটি নতুন থামওয়ালা হল বানান। পাথর ক্ষতিগ্রস্ত, তবে যে লাইনগুলি টিকে আছে তাতে মনে হয় মন্দিরের পুরোহিতদের জমি দেওয়া হয়েছিল। স্বামীনাথন এতে মন্দিরের নাম পড়েছেন অরিবার কোয়িল, অর্থাৎ অর্হতদের মন্দির, ইন্দ্রিয়জয়ীদের জন্য জৈন পরিভাষা।

সংকলনের সারাংশে কোনো বছর নেই। স্বামীনাথন ও পুরাতত্ত্ব দুজনেই রাজাকে শ্রীমার শ্রীবল্লভ হিসেবে ৮১৫ থেকে ৮৬২ ধরেছেন, কে. এ. নীলকণ্ঠ শাস্ত্রী ১৯২৯ সালে পাণ্ড্যদের ইতিহাসে ওই শাসককে যে পরিসর দিয়েছিলেন সেটাই, আর পুরাতত্ত্ব বলছে নথির রাজত্ব-বর্ষ অজানা। নামটি ফিরে ফিরে আসে, ফলে ভুলের জায়গা থেকে যায়: নীলকণ্ঠ শাস্ত্রী আরেক পরবর্তী জটাবর্মন শ্রীবল্লভের কথাও বলেছেন, যাঁকে তিনি সাময়িকভাবে চোল রাজা প্রথম কুলোত্তুঙ্গের সমসাময়িক ধরেন, যিনি সিংহাসনে বসেন প্রায় ১০৭০ সালে। সংকলন অক্ষরগুলিকে আদি বলেছে, আর গুহার লিপির তালিকায় পুরাতত্ত্ব এটির কাল দিয়েছে আনুমানিক ৮১৫।

ইলান গৌতমনের যোগ করা হলটি টেকেনি। স্বামীনাথন বলেন, অবহেলায় সেটি ধসে পড়ে, আর পুরাতত্ত্ব যোগ করছে, ১৯৪২ সালে সংস্কার শুরুর সময়ই সেটি আর ছিল না। ১৭ লাইনের এই নথি গুহা যে সবচেয়ে দেরিতে কখন ছিল তা ঠিক করে দেয়, কারণ গুহা মেরামতের আগের, আর সবচেয়ে আগের কাল বলে না।

এক স্তর রং, না দুই

১৯৪২ সালের পরিষ্কার একটি দ্বিতীয় কাল-প্রশ্ন তুলল, কারণ সব চিত্র এক সময়ের নয়। স্বামীনাথনের বিবরণে, পরবর্তী স্তরটি, সম্ভবত ইলান গৌতমনের, গর্ভগৃহে আর হলের ছাদ, থাম, ব্র্যাকেট ও কড়িকাঠের ওপর ছড়িয়ে গিয়েছিল। পুরাতত্ত্ব দুটি মত সাজিয়েছে। ক্রামরিশের মতে ছাদের দুটি স্তর একসঙ্গে আঁকা। কে. আর. শ্রীনিবাসনের মতে প্রথমটি গুহার মতোই পুরনো, আর দ্বিতীয়টি এসেছে নবম শতকের সম্প্রসারণের সঙ্গে। স্বামীনাথনের প্রথম অনুচ্ছেদ টিকে থাকা চিত্রগুলিকে নবম শতকের বলে, অথচ পরমশিবন ও ট্রিবিউন দেন সপ্তম শতক। ইম্পার্টের ৫০০ থেকে ৮০০ পরিসর গুহা আর তার দেয়ালচিত্র একসঙ্গে ধরে।

কৌশলের বিবরণও আলাদা। শুকনো চুনের পলেস্তারার দেয়ালে রং বসানো ফ্রেস্কো-সেক্কো, স্বামীনাথন এই নামেই ডাকেন, আর তিনি পরমশিবনের রঞ্জকের তালিকা দিয়েছেন: সাদার জন্য চুন, কালো ভুসা, হলুদ ও লালের জন্য গেরুমাটি, আর সবুজের জন্য টের ভের্ত, এক ধরনের সবুজ মাটি। তিনি যোগ করেন, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তথ্যফলকে বলা আছে উদ্ভিজ্জ রং ব্যবহার হয়েছে। ইম্পার্ট বরং বর্ণনা করেছে ভেজা চুনের পলেস্তারার ওপর উদ্ভিজ্জ ও খনিজ রঞ্জক দিয়ে আঁকার কথা।

রাজদম্পতিও বিতর্কিত। পুরাতত্ত্ব অনুযায়ী কে. আর. শ্রীনিবাসন জোড়াটিকে শনাক্ত করেন ইলান গৌতমন শ্রীবল্লভ ও তাঁর রানির সঙ্গে দেখা করছেন এমন দৃশ্য হিসেবে। ইম্পার্টের মতে পুরুষ মূর্তিটি সাধারণত হয় প্রথম মহেন্দ্রবর্মন (তুলনা করা হয় মহাবলীপুরমের অনুরূপ ভাস্কর্যের সঙ্গে), নয়তো পাণ্ড্য রাজা শ্রীমার শ্রীবল্লভ বলে ধরা হয়।

রীতির দিক থেকে স্বামীনাথন এই দেয়ালচিত্রকে বসান অজন্তার চিত্রিত গুহাগুলির (যার কাল তিনি ধরেন খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতক), শ্রীলঙ্কার সিগিরিয়ার পঞ্চম শতকের চিত্র আর মধ্যপ্রদেশের বাঘের ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকের চিত্রের পরে, এবং তাঞ্জাভুরের একাদশ শতকের চোল চিত্রের আগে। তিনি এগুলিকে বলেন একমাত্র পরিচিত আদি জৈন ফ্রেস্কো। ট্রিবিউন জায়গাটির শিরোনাম দিয়েছে তামিলনাড়ুর অজন্তা।

পাহাড়ের সবচেয়ে পুরনো লেখা

পাহাড়ের প্রাচীনতম লিপি গুহায় নয়। পুরাতত্ত্ব বলছে, পাহাড়ের একটি প্রাকৃতিক গহ্বর এলাদিপট্টমে আছে পালিশ করা ১৭টি শয্যা, পাথরের উঁচু বালিশ-সমেত, যেখানে জৈন তপস্বীরা কৃচ্ছ্রসাধন করতেন। কে. আর. শ্রীনিবাস আইয়ারের অনূদিত পুদুক্কোট্টাই লিপি-খণ্ডের ১ নম্বর লিপি ওইসব শয্যার একটিতে কাটা। খণ্ডটি এইচ. কৃষ্ণ শাস্ত্রীর টীকা ছাপিয়েছে, যাতে অক্ষরের আকার দেখে লিপিটিকে মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শেষ ও দ্বিতীয় শতকের শুরুর বলা হয়েছে। পুরাতত্ত্ব ধরেছে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শুরু, আর ইম্পার্ট জায়গাটিতে জৈন ব্যবহারের কাল ধরেছে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১০০ থেকে।

ভাষাও খোলা প্রশ্ন। খণ্ডটি অক্ষরগুলিকে বর্ণনা করেছে দক্ষিণের গুহায় পাওয়া ধরনের অশোক-ব্রাহ্মী বলে, কিন্তু ১৯২৪ সালে কে. ভি. সুব্রহ্মণ্য আইয়ার যুক্তি দিয়েছিলেন লিপিটি তামিলে, আর অনুমান করেছিলেন তাতে থাকা চিতুপোচিল নামটি সিত্তন্নবাসলের পুরনো নাম। একই পাদটীকায় সুব্রহ্মণ্য আইয়ারকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সিত্তন্নবাসল লিপি একমাত্র ব্যতিক্রম রেখে পাণ্ড্য অঞ্চলের ব্রাহ্মী গুহালিপিগুলি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের দিকে ইঙ্গিত করে। খণ্ডে উদ্ধৃত ১৯০৬ থেকে ১৯০৭ সালের লিপিতত্ত্ব প্রতিবেদন দাবিটি শর্তসাপেক্ষে রেখেছিল: লিপি আর শয্যা যদি একই কালের হয়, তবে এগুলিই তামিল দেশের সবচেয়ে পুরনো পাথুরে নথি।

শয্যাগুলির পরের লেবেলে আছে নাম, সম্ভবত জৈন তপস্বীদের, এমন অক্ষরে যার কাল খণ্ড ধরেছে আনুমানিক নবম শতক আর পুরাতত্ত্ব অষ্টম বা নবম শতক। স্বামীনাথন পাহাড়ে জৈন ব্যবহারের পরিসর ধরেন ১,২০০ বছর, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় দশম শতক, আর ইম্পার্ট দেয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১০০ থেকে প্রায় ৯০০ খ্রিস্টাব্দ।

আজকের সুরক্ষা

পুরাতত্ত্ব সিত্তন্নবাসলে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে টিকিটযুক্ত দুটি স্মারকের কথা বলছে, গুহা আর জৈন শয্যা, আর পুদুক্কোট্টাই জেলার পাতাও গুহামন্দিরগুলিকে সর্বেক্ষণের অধীনে দেখিয়েছে। খোলার সময় আর টিকিটের দাম এখানে বাদ দেওয়া হল, কারণ সর্বেক্ষণের কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। দ্য হিন্দু-র নাহলা নাইনারের এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জায়গাটিতে তরুণ দর্শনার্থী ও স্কুলের দল আসে আর আরও ভালো রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বামীনাথন লিখেছিলেন, আগের ৫০ থেকে ৬০ বছরের ভাঙচুরের কারণে চিত্রগুলি প্রায় দেখাই যায় না।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Prof. Subramanian Swaminathan: Sittannavasal Monuments, The Arivar-koil (Indian Heritage, February 2008)
  2. Saurabh Saxena: Sittanavasal, The Legacy of Chitrasutra (Puratattva, 2 May 2011)
  3. S. Paramasivan: Technique of the Painting Process in the Cave Temple at Sittannavasal (Nature 139, p. 114, 1937)
  4. Impart Encyclopedia of Art: Cave Art at Sittanavasal (21 April 2022)
  5. South Indian Inscriptions, Volume 14 (Pandya inscriptions), No. 45: Sittannavasal, A. R. No. 368 of 1904
  6. South Indian Inscriptions, Volume 12 (Pallava inscriptions), No. 12: Mandagappattu, A. R. No. 56 of 1905
  7. K. R. Srinivasa Ayyar (translator): Inscriptions in the Pudukkottai State, Part I (Government Museum, Chennai, 2002 reprint), Internet Archive
  8. K. A. Nilakanta Sastri: The Pandyan Kingdom, from the earliest times to the sixteenth century (1929), Internet Archive
  9. Nahla Nainar, The Hindu: Sittanavasal, a Jain heritage site in Tamil Nadu, battles the elements (summary on inkl)
  10. The Tribune: The Ajanta of Tamil Nadu (27 November 2005)
  11. Pudukkottai District, Government of Tamil Nadu: Chithannavasal (tourist place page)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#sittanavasal#arivar koil#jain cave temple#pudukkottai#indian mural painting#pandya#pallava#tamil nadu epigraphy

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারত
তামিলনাড়ুর কুডুমিয়ানমালাইয়ের পাথরের দেয়ালে খোদাই আছে সাত অংশ আর প্রায় ২,৪০০ স্বরের একটি সংগীতলিপি, ১৯০৪ সাল থেকে পণ্ডিতেরা তা পড়ছেন, আর তার সময় ধরা হয় সপ্তম বা অষ্টম শতক
পুদুক্কোট্টাইয়ের একটি পাহাড়ের গায়ে আছে এমন এক স্বরলিপি, যা সংগীতশিল্পী আর লিপিবিদেরা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে পড়ছেন। পাথর কী বলছে, ভান্ডারকর থেকে উইডেস পর্যন্ত সম্পাদকেরা তা থেকে কী বুঝেছেন, আর কাল নির্ণয় ও রচয়িতা নিয়ে বিতর্ক এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, তা এখানে।
ধর জেলার বাঘে নয়টি শৈলখোদিত বৌদ্ধ গুহায় আছে চিত্রিত বারান্দা, নর্তকী আর রাজকীয় অশ্বারোহী শোভাযাত্রা, যাকে স্যার জন মার্শাল অজন্তার কাছাকাছি বলে মনে করেছিলেন, আর ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গুহাগুলো ভারতের ইউনেস্কো অস্থায়ী তালিকায় যুক্ত হয়
ব্যাসল্টের দেশে বেলেপাথরের একটি খাড়া পাহাড়, ৩৮টি স্তম্ভের একটি হলঘর আর অশ্বারোহী, হাতি ও বাদ্যকরদের আঁকা একটি দেয়াল। গুহাগুলোতে কী আছে, কারা প্রথম নথিবদ্ধ করেছিলেন, আর বয়স নিয়ে কেন আজও তর্ক চলছে।
চম্বল উপত্যকার বাটেশ্বরে গারা ছাড়া গাঁথা ২০০-র বেশি ছোট বেলেপাথরের মন্দির আছে, আর ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সেগুলোর নিজেদেরই পড়ে থাকা পাথর দিয়ে ৬০টিরও বেশি আবার গড়ে তুলেছে
একটি পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট মন্দিরের সারি, কৃষ্ণের শৈশব খোদাই করা চৌকাঠের ওপর একটি স্তম্ভযুক্ত হলঘর, আর খণ্ডের মাঝে কোনো জোড়ক ছাড়া একটি উঁচু চূড়া: মোরেনা জেলার তিনটি আদিমধ্যযুগীয় স্থান, আর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কীভাবে একটিকে পাথরে পাথরে আবার গড়েছেন।
← সব লেখা