Skip to content
চাদর হলো লাদাখের জমে যাওয়া জাঁস্কার নদী, যে পথে জাঁস্কারি পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম শীতে হেঁটেছে, আর ২০২৩ সালে লেহ প্রশাসনের লিখিত নিয়মের অধীনে ১,৩২৫ জন ট্রেকার সেই পথে হেঁটেছেন
ভ্রমণ

চাদর হলো লাদাখের জমে যাওয়া জাঁস্কার নদী, যে পথে জাঁস্কারি পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম শীতে হেঁটেছে, আর ২০২৩ সালে লেহ প্রশাসনের লিখিত নিয়মের অধীনে ১,৩২৫ জন ট্রেকার সেই পথে হেঁটেছেন

ছবি: Sumita Roy Dutta / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (ছাঁটা)

বাংলা

চাদর হলো লাদাখে প্রতি শীতে জাঁস্কার নদীর ওপর যে বরফের চাদর জমে, তা। লিংশেড আর ন্যেরাগসের মতো গ্রামকে সেটি লেহের দিকের সঙ্গে জুড়ে দেয়। লেহ জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখন এই ট্রেকের জন্য লিখিত নিয়মাবলি জারি করে, আর সীমান্ত সড়ক সংস্থা গিরিখাতের পাশ দিয়ে একটি সড়ক বানিয়েছে।

· · 9 মিনিটের পাঠ

চাদর হলো লাদাখে প্রতি শীতে জাঁস্কার নদীর ওপর যে বরফের চাদর জমে, তা। চাদর ট্রেক হলো তার ওপর দিয়ে হাঁটা, যা পর্যটকরা এখন নিবন্ধিত অপারেটরদের মাধ্যমে করেন। গিরিখাতের ওপারের গ্রামগুলোর কাছে এই বরফ একটি সড়ক। লেহের লাদাখ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া অর্গানাইজেশনের (ল্যামো) গবেষণা সহযোগী রিগজিন চোদন লিখেছেন, লিংশেড, চিলিং আর ন্যেরাগসের মতো জায়গার জন্য শীতে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে এটিই একমাত্র ভৌত যোগাযোগ।

প্রায় ছয় সপ্তাহের একটি সড়ক

আউটলুক ট্রাভেলারের ২০১৭ সালের গাইড চাদরকে জাঁস্কারিদের শীতকালীন প্রাণরেখা আর উপত্যকার চারটি ঐতিহ্যবাহী পথের চতুর্থটি বলেছে। চোদন লিখেছেন, বাসিন্দারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পথে হেঁটেছেন, প্রধানত মাখন বেচাকেনার জন্য, আর ঐতিহাসিক জ্যানেট রিজভি এবং লেখক জেমস ক্রাউডেন ও অলিভিয়ে ফোলমি এই পথের বিবরণ নথিভুক্ত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৩ সালে ডিপ্লোম্যাটিক কুরিয়ার জানিয়েছিল, জাঁস্কারের তিব্বতি বসতি স্থাপনকারীরা এসেছিলেন এক হাজার বছরেরও বেশি আগে, পথটি কয়েক শতাব্দী ধরে চালু আছে, আর ব্যবসায়ীরা বেশিরভাগ সময় লবণ, শস্য, কাশ্মীরি উল, নীল আর রেশম নিয়ে লেহ পর্যন্ত হেঁটে যেতেন। ওই লেখায় বলা নেই এর মধ্যে কোন কোন পণ্য বরফের ওপর দিয়েই গেছে, তাই তালিকাটি সাধারণভাবে জাঁস্কারি বাণিজ্যের বিবরণ।

বরফের মরসুম ছোট। আউটলুক ট্রাভেলার বলছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, অর্থাৎ সবচেয়ে নিরাপদ সপ্তাহগুলোয়, নদী ৬ থেকে ১০ ফুট গভীর পর্যন্ত জমে থাকে, আর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বরফ প্রায়ই অস্থির হয়ে পড়ে। চোদন ট্রেকিংয়ের মরসুম ধরেছেন প্রায় ৪৫ দিন।

কত লম্বা, তা নির্ভর করে কে মাপছে তার ওপর

প্রকাশিত দৈর্ঘ্যগুলো মেলে না। ডেইলি এক্সেলসিয়র ২০১৯ সালে জানিয়েছিল, ট্রেকটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার। আউটলুক ট্রাভেলার জমে যাওয়া নদীর পথের দৈর্ঘ্য দিয়েছে ১৫০ কিলোমিটার, আর বলেছে তার লেখক চিলিং থেকে যাওয়া-আসা মিলিয়ে প্রায় দশ দিন হেঁটেছেন। চোদন, আনুমানিক ২০২০ সালে লিখতে গিয়ে, ট্রেইলহেডকে লেহ থেকে সড়কপথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ধরেছেন আর হাঁটাকে পাঁচ থেকে সাত দিনের বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে অনেক পর্যটক প্রায় পাঁচ দিন পর ন্যেরাগসের (সূত্রগুলোতে বানান নিয়েরাক আর নিরাকস্‌ও আছে) কাছে জমে থাকা জলপ্রপাতে ফিরে যান, আর অন্যরা সাত দিন বা তার বেশি সময় ধরে জাঁস্কার পর্যন্ত এগিয়ে যান। কাশ্মীর লাইফ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একে চিলিং থেকে পাদুম পর্যন্ত সাত থেকে নয় দিনের হাঁটা বলে বর্ণনা করেছে।

পার্থক্যের একটি অংশ আসে হাঁটা কোথা থেকে শুরু হয় তা থেকে। বছরের পর বছর সড়ক গিরিখাত ধরে উপরের দিকে সরেছে, আর চোদন উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ আর ২০২০ সালে ট্রেক শুরু হয়েছিল চিলিং গ্রামের প্রায় ১১ কিলোমিটার ওপারে। আরেকটি অংশ আসে হাঁটা কোথায় শেষ হয় তা থেকে, কারণ অনেক দল ন্যেরাগস থেকেই ফিরে আসে, পাদুম পর্যন্ত যায় না।

নদীর ওপর হাঁটা

ট্রেকাররা গিরিখাতের দেয়ালের গুহায় ঘুমান, স্থানীয়রা যেগুলোকে বাউ বলে, আর আউটলুক ট্রাভেলার পথে এমন দশটি গুনেছে। চিলিংয়ের পর অন্তত পাঁচ দিন কিছু কেনা যায় না, তাই খাবার, জ্বালানি আর মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উপযোগী একটি স্লিপিং ব্যাগ সঙ্গে বইতে হয়। একই লেখায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেওয়া আছে মাইনাস ৩০। ডেইলি এক্সেলসিয়র ২০১৯ সালে প্রশাসনের হিসাব উদ্ধৃত করেছিল: দিনের গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০-এর কাছাকাছি, আর রাতে মাইনাস ২০ থেকে মাইনাস ২৫।

প্রথম শর্ত হলো টানা শক্ত বরফের একটি অংশ। কর্মকর্তারা ২০২৬ সালে ১০১রিপোর্টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রেক চালাতে হলে এর অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দরকার।

২০১৫ সালের ১,০৪৩ জন থেকে ২০১৯ সালের ৩,১৪৪ জন

চোদন বন্যপ্রাণী সুরক্ষা বিভাগ আর অল লাদাখ ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (অল্টো) থেকে নেওয়া ট্রেকারের সংখ্যা প্রকাশ করেছেন: ২০১৫ সালে ১,০৪৩, ২০১৬ সালে ১,৫৪৫, ২০১৭ সালে ১,৭৩৫, ২০১৮ সালে ২,৫২৯ আর ২০১৯ সালে ৩,১৪৪। ২০২০ সালে সংখ্যাটি ছিল ২,২৮৭, যাঁদের মধ্যে ২,১৬০ জন ভারতীয় আর ১২৭ জন বিদেশি। এই মোটে পোর্টার, রাঁধুনি আর গাইডরা ধরা নেই। কাশ্মীর লাইফ জানিয়েছে, ২০২১ সালে ট্রেকার ছিলেন ৯৪৯ জন আর ২০২৩ সালে ১,৩২৫ জন, যাঁদের ৬২ জন বিদেশি।

গিরিখাতের গ্রামগুলোয় গাইড, পোর্টার আর হোমস্টে মালিকদের জন্য এই মরসুম মজুরির কাজ। ন্যেরাকের স্তানজিন স্তবদান, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পোর্টার, রাঁধুনি আর গাইড, ১০১রিপোর্টার্সকে বলেছেন, ভালো মরসুমে তাঁর আয় দুই লাখ টাকার (২,০০,০০০ টাকা) বেশি হয়। লিংশেডে হোমস্টে চালানো স্তানজিন নোরলা বলেছেন, তিনি সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ জন অতিথিকে রাখেন আর মরসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেন।

চার দিনের পৌঁছানোর নিয়ম আর বাকি নিয়মাবলি

লেহ জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, লাদাখ স্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন পরিষদের (লেহের পার্বত্য পরিষদ, যার কথা আছে আমাদের লাদাখ পরিচিতিতে) লেটারহেডে, ২০২৫ সালের ট্রেকের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর জারি করেছে। তার প্রথম লাইনে বলা আছে, নিয়মগুলো “ট্রেকারদের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য”। প্রতিটি পর্যটক একই চার দিন মেনে চলেন: লেহে পৌঁছে বিশ্রাম নেওয়া, আবার বিশ্রাম নেওয়া, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো (সেখানে বোর্ডিং পাস দেখা হয়) এবং তারপর জে অ্যান্ড কে ব্যাংকের প্রধান শাখার কাছে ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টারে পারমিট নেওয়া, আর চতুর্থ দিনে ট্রেকের উদ্দেশে রওনা হওয়া।

দলিলটি দায়িত্বের ভার চাপিয়েছে অপারেটরদের ওপর। ট্রাভেল কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধিত হতে হবে। তারা ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টারে অল্টোর ডেস্ক থেকে নিবন্ধন ফর্ম আর দলের নম্বর নেয়, আর নিশ্চিত করতে হয় যে ট্রেকাররা সঠিক সরঞ্জাম নিয়েছেন, যা ছাড়া ট্রেকাররা শুরু করতে পারবেন না। তারা পোর্টার, সহকারী, রাঁধুনি আর গাইডদের তালিকা জমা দেয়, সঙ্গে অভিজ্ঞতা আর প্রশিক্ষণের সনদ। অল্টো ওই কর্মীদের পরিচয়পত্র দেয়, আর নিয়মাবলিতে তাঁদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা আর ভর্তুকিযুক্ত অ্যাডভেঞ্চার বিমার ব্যবস্থা আছে। অপারেটররা প্রতিটি পর্যটকের রক্তের গ্রুপ আর নিকটাত্মীয়ের তথ্য রাখে, পথে কাঠ না কুড়িয়ে লেহ থেকে জ্বালানি কাঠ আনে, কর্মীদের উপযুক্ত তাঁবু আর খাবার দেয়, আর টিন, বোতল আর প্লাস্টিক লেহের বন্যপ্রাণী বিভাগে ফেরত দেয়।

একই নিয়মাবলি নিয়ে দ্য ট্রিবিউনের ২০২৫ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদন কিছু সংখ্যা যোগ করেছে, যা আমরা দলিলটির যে একটি পাতা পড়তে পেরেছি তাতে নেই: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি দল রওনা হয়, প্রতিটি দলে ১০ জনের বেশি ট্রেকার নয়, গাড়িতে একটি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকে, গাইডরা জামানত রাখেন যা তাঁদের আবর্জনা ফিরে এলে ফেরত দেওয়া হয়, আর প্রথমবার অপরাধের জন্য ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা জরিমানা। চোদনের বিবরণ বলছে, আগের বছরগুলোয় সীমা ছিল দিনে ১০০ জন ট্রেকার, যা দশটি দলের প্রতিটিতে দশজনের হিসাবের সঙ্গে মেলে।

লিখিত নিয়ম অন্তত ২০১৯ সালের মরসুম পর্যন্ত ফিরে যায়। ডেইলি এক্সেলসিয়র ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা আর চিকিৎসা বিমা বাধ্যতামূলক হয়েছে, আর কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে লিখেছিল যে এই ট্রেকে প্রতি বছর চার থেকে পাঁচটি মৃত্যু আর বেশ কয়েকটি আঘাতের ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দ্য ট্রিবিউন জানায়, বরফের ওপর দিয়ে জল উপচে পড়ায় ১০০-র বেশি ট্রেকার, পরে যা ১২০ বলা হয়, নিরাকস্‌-এ আটকে পড়েছিলেন। প্রশাসন আগেই ৪১ জনকে গ্রামে সরিয়ে নিয়েছিল, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেছিলেন সবাই নিরাপদ, আর লাদাখের অসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ হেলিকপ্টারের জন্য বিমানবাহিনীকে অনুরোধ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা নেই উদ্ধারকাজ কীভাবে শেষ হয়েছিল।

এখন গিরিখাতের পাশ দিয়ে যে সড়ক

সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও) নিমু থেকে পাদুম হয়ে দারচা পর্যন্ত, মোট ২৯৮ কিলোমিটার, সড়কটি বানাচ্ছে, আর এই কাজ ট্রেকটিকে বদলে দিয়েছে। দ্য প্রিন্ট ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ জানিয়েছিল, জাঁস্কার জমে থাকা অবস্থায় ভারী যন্ত্রপাতি আর লোকজন দ্রুত নিয়ে গিয়ে বিআরও জানুয়ারিতে সড়কটি এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত জুড়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্যের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার আগেই পিচ করা ছিল, আর শেষ ৫৮ কিলোমিটার, নিরাক আর চিলিংয়ের মধ্যে, প্রায় আট বছর নিয়েছে। সড়কের একমাত্র গিরিপথ ১৬,৫৫৮ ফুটের শিনকু লা।

নির্মাণকাজ ট্রেকের পথ ছোট করে দিয়েছে। কাশ্মীর লাইফ লিখেছে, ২০২৪ সালে তার কিছু অংশ কেটে ছোট করা হয়েছিল, আর দ্য ট্রিবিউন ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি জানিয়েছিল, ওই মরসুমে নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটারই ব্যবহার হবে, আর পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কাউন্সিলর ৭ জানুয়ারি শুরুর কথা ঘোষণা করেছিলেন। বরফ দেরিতে জমায় শুরুর দিন পিছিয়ে যায়, আর দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, ট্রেক খুলেছে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি।

সড়ক নিয়ে জাঁস্কারিদের মত এক নয়। চোদন লুংনাকের তুন্দুপ দোর্জের কথা উদ্ধৃত করেছেন, যিনি চান সব ঋতুর উপযোগী সড়ক আর খাড়া পাহাড়ের অংশগুলোয় টাট্টুঘোড়ার পথ, যাতে কেউ দিনের পর দিন আটকে না থাকে, আর ট্রাভেল এজেন্ট ৎসেরিং আংচুকের কথা, যিনি যুক্তি দিয়েছেন যে সড়কটি চাদরকে ঢেকে দেবে এবং ট্রেকের অবসান ঘটাবে, যদিও সারা বছরের যাতায়াতের জন্য সেটি দরকার। শীতের ফাঁক ভরাতে একটি সুড়ঙ্গের পরিকল্পনা আছে: বিআরও-র মহাপরিচালক ২০২৩ সালের এপ্রিলে বলেছিলেন, ৪.১ কিলোমিটারের শিনকু লা সুড়ঙ্গ জাঁস্কারের ৩৬টি গ্রামকে লাহৌলের ১৩৬টি গ্রামের সঙ্গে জুড়বে। সেই সুড়ঙ্গের কথা আমরা বলেছি অটল সুড়ঙ্গ আর হিমালয়ের প্রকৌশল নিয়ে লেখায়।

২০২৬ সালের জানুয়ারি: বরফ এল না

২০২৬ সালের মরসুম ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেদিন একটি পর্যবেক্ষণ দল পথ হেঁটে দেখে, আর কাশ্মীর লাইফ জানিয়েছে, লেহের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার গুলাম মোহাম্মদ ১৫ জানুয়ারির কাছাকাছি শুরু হওয়ার আশা করছিলেন। অল লাদাখ হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিগজিন ওয়াংমো লাচিক বলেছিলেন, কিছু জায়গায় বরফ খুব পাতলা।

১৩ জানুয়ারি হালনাগাদ হওয়া দ্য ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন বলেছে, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার তখন একটি আদেশ জারি করেন। রেকি দল দেখেছিল নদী বড় অংশে জমেনি আর পথ অনিরাপদ ও বিপজ্জনক। আদেশে চাদর ট্রেক ২০ জানুয়ারির পর্যালোচনা পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়, ওই পথে ট্রেকিং ও সংশ্লিষ্ট অ্যাডভেঞ্চার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়, আর অপারেটর ও স্থানীয় অংশীদারদের এটি আয়োজন বা প্রচার না করতে বলা হয়, কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল নদীর অবস্থা প্রাণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। আউটলুক ইন্ডিয়া ১৪ জানুয়ারি জানিয়েছিল, কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন আর শীতকালীন পর্যটনের অন্যান্য কর্মকাণ্ডের কথা ভাবছেন।

২০ জানুয়ারির পর্যালোচনার ফল আমরা খুঁজে পাইনি। ১০১রিপোর্টার্স, ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত ট্রেক বাতিল হওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদনে, বলেছে ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে প্রতি দশ দিনে পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও বরফ কখনো ঠিকভাবে জমেনি, আর স্থানীয়রা এমন শীতের কথা মনে করতে পারেননি।

লেহের আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান সোনম লোটাস সেইসব কর্মকর্তার একজন, যাঁরা ১০১রিপোর্টার্সকে বলেছেন যে অনিয়মিত তাপমাত্রা আর অনিয়মিত তুষারপাত সমানভাবে জমতে দেয়নি। ডাউন টু আর্থ ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ তাঁর হিসাব প্রকাশ করেছে: লেহে শীতের তুষারপাত ছিল ৪.২ সেন্টিমিটার, যেখানে ১৪ বছরের গড় ১৫.৩ সেন্টিমিটার, আর ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের শীত ছিল ২০১৯ থেকে ২০২৬ সময়কালে লেহের সবচেয়ে উষ্ণ। দুটি প্রতিবেদন লেহের শীতের গড় তাপমাত্রা দিয়েছে আলাদা, তাই আমরা কোনোটিই ছাপছি না। অল্টোর সাধারণ সম্পাদক ৎসেওয়াং নামগাইল ১০১রিপোর্টার্সের কাছে আরেকটি কারণ বলেছেন: তাঁর কথায়, চিলিংয়ে সড়ক নির্মাণের ধ্বংসাবশেষ নদীতে পড়ে পাতলা বরফ ভেঙে দিয়েছিল। দ্য ট্রিবিউন আদেশটির যে সারাংশ দিয়েছে, তাতে এর উল্লেখ নেই।

ডাউন টু আর্থ ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় আর জাতীয় জলবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের ২০১৬ সালের একটি সমীক্ষার বিবরণ দিয়েছিল। তাতে ১৯৯১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে লেহের তাপমাত্রার দ্রুত বৃদ্ধি আর ১৯৯৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের হ্রাস পাওয়া গিয়েছিল। পাহাড়ের বরফের নিজস্ব মাপজোখের জন্য দেখুন হিমালয়ের হিমবাহ সম্পর্কে তথ্য কী বলে। কাশ্মীর লাইফ, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ‘Climate Change over Leh (Ladakh)’ শিরোনামের একটি গবেষণাপত্র উদ্ধৃত করেছে, যাতে চলতি দশকে উষ্ণায়নের প্রবণতা আর বৃষ্টিপাত কমার কথা আছে।

শীতের পরিকল্পনার আগে

তারিখ ঠিক হয় দেরিতে। ২০২৫ সালে শুরু ৭ জানুয়ারি থেকে সরে ১৩ জানুয়ারি হয়েছিল, আর ২০২৬ সালে জানুয়ারিতে ট্রেক স্থগিত হয় আর, ১০১রিপোর্টার্সের এপ্রিলের বিবরণ অনুযায়ী, বাতিল হয়, তাই কোনো অপারেটর যে তারিখই বলুক, বরফ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তা সাময়িক। লেহের জেলা প্রশাসন বলছে, লেহে আসা প্রতিটি পর্যটককে আরও উঁচুতে যাওয়ার আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা মানিয়ে নিতে হবে (পাতাটি ২০২৬ সালের ৬ জুন হালনাগাদ হয়েছে), আর চাদরের নিয়মাবলিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আগে দুটি বিশ্রামের দিন ধরা আছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাকি অংশের পারমিট আর ফির নিয়ম আছে আমাদের লাদাখের প্রথমবার ভ্রমণ-নির্দেশিকায়।

২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর পড়া লেহ প্রশাসনের পর্যটন-তথ্যের পাতায় চাদরের একমাত্র দলিল হিসেবে ২০২৫ সালের নিয়মাবলিই তালিকাভুক্ত।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Office of the District Disaster Management Authority, Leh (LAHDC-Leh): Standard Operating Procedure for the Chadder Trek 2025, posted on the Leh district site
  2. District Administration Leh: 48 hours acclimatization for tourists arriving in Leh (page updated 6 June 2026)
  3. The Tribune: Chadar trek route on Zanskar unsafe, hazardous, recce report (updated 13 January 2026)
  4. Kashmir Life: Delayed freeze on Zanskar river pushes Chadar trek back, raising fresh climate concerns (12 January 2026)
  5. Outlook India: Ladakh's winter tourism hit as iconic Chadar trek put on hold after Zanskar river unfreezes (14 January 2026)
  6. 101Reporters: How Chadar trek's cancellation has hit Ladakh's winter economy (14 April 2026)
  7. Down To Earth: Death of winter, in Ladakh a fading cold season is rewriting life in the high Himalayas (26 March 2026)
  8. Down To Earth: On thin ice, less snow and high temperatures have upturned lives in the Himalayan cold desert (20 January 2022)
  9. The Tribune: Chadar trek on Zanskar river to begin today after delay (updated 13 January 2025)
  10. The Tribune: Truncated Chadar trek to begin on Jan 7 (4 January 2025)
  11. Kashmir Life: Unfrozen Zanskar river halts iconic Chadar trek amidst harsh winter in Ladakh (8 January 2025)
  12. Ladakh Arts and Media Organisation (Rigzin Chodon), published by STAWA: Chadar trek, a lifeline or a leisure sport?
  13. Daily Excelsior: Chaddar trek, insurance and acclimatisation made compulsory for tourists (7 January 2019)
  14. The Tribune: Air Force help sought to evacuate 100 stranded Chadar trekkers (14 January 2020)
  15. Outlook Traveller: Zanskar, the Chadar trek (Benny Joshua, 25 July 2017)
  16. Diplomatic Courier: Chadar, the world's most unique highway (Vibhu Pande, 4 October 2013)
  17. ThePrint: BRO connects new axis to Ladakh, to be shortest route (27 March 2024)
  18. The Tribune: Shinku La tunnel construction to begin by July, says BRO DG (9 April 2023)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#chadar trek#zanskar river#ladakh#frozen river trek#leh#nimmu padum darcha road#winter trekking#zanskar

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ভ্রমণ
লেহ ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায়, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ভারতীয় পর্যটকদের নুব্রা, প্যাংগং বা ত্সো মোরিরির জন্য ইনার লাইন পারমিট লাগে না, আর সরকারি গ্রিন ফি জনপ্রতি ৪০০ টাকা
কার পারমিট লাগে, ৪০০ টাকার ফিটি কী, লেহে কত সময় বিশ্রাম নিতে হয়, দুটি হাইওয়ে কখন চলে, আর আজকের সড়কের অবস্থা কোনো সরকারি পাতা কেন বলতে পারে না। প্রতিটি নিয়মের তারিখ দেওয়া আছে।
লাদাখকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর ভারতের প্রথম ১০০ শতাংশ জৈব কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে, লেহ ও কার্গিল জুড়ে রাসায়নিক সারের ওপর জুলাইয়ের নিষেধাজ্ঞার পর
৫০০ কোটি টাকার একটি মিশন, সিকিমের প্রত্যয়ন সংস্থার সঙ্গে ২০২১ সালের চুক্তি, মার্চে জৈব সারের চালান আর জুলাইয়ে রাসায়নিক সারের নিষেধাজ্ঞা, এসব মিলে ২৫ অক্টোবরের ঘোষণা এসেছে।
লাদাখ ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়েছে বিধানসভার বদলে দুটি পার্বত্য পরিষদ নিয়ে, ২,৯০০ থেকে ৫,৯০০ মিটার উচ্চতায় বিস্তৃত, আর ৪,৫০০ মিটারে এক দূরবীনের আবাস
যেসব নথি দেখা হয়েছে তাতে লাদাখের কোনো সরকারি জিএসডিপি অঙ্ক মেলেনি, তাই এই প্রোফাইলে প্রকাশিত অঙ্কই ব্যবহার করা হয়েছে: কেন্দ্রীয় বাজেটের একটি বরাদ্দ, পর্যটকের সংখ্যা, ১৩ গিগাওয়াটের নবায়নযোগ্য শক্তির পরিকল্পনা আর ২০২৬ সালের অক্টোবরেও চলতে থাকা আলোচনার বিবরণ।
← সব লেখা