ছবি: iMahesh / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (ছাঁটা)
বাংলা
ইউনেস্কো ১৯৮৬ সালে গোয়ার গির্জা ও কনভেন্টগুলিকে তালিকাভুক্ত করেছে, পানাজি থেকে প্রায় ১০ কিমি পূর্বে ওল্ড গোয়ার সাতটি স্থাপনা। ১৫৯৪ সালে শুরু হওয়া বম জেসাসের বেসিলিকায় আছে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের সমাধি, যাঁর দেহাবশেষ ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সবার জন্য খোলা ছিল। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ ১৯৫৮ সালের আইনে স্থাপনাগুলি রক্ষা করে।
ইউনেস্কো ১৯৮৬ সালে (ii), (iv) ও (vi) মানদণ্ডে গোয়ার গির্জা ও কনভেন্টগুলিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তালিকায় আছে ওল্ড গোয়ার সাতটি স্থাপনা। পর্তুগিজ ভারতের এই প্রাক্তন রাজধানী রাজ্যের রাজধানী পানাজি থেকে প্রায় ১০ কিমি পূর্বে, আর রাজ্যটির সরকার, অর্থনীতি ও মানুষ নিয়ে tuput-এর লেখা এক নজরে গোয়া। সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনা বম জেসাসের বেসিলিকা, যেখানে আছে জেসুইট ধর্মপ্রচারক সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের সমাধি। তাঁর দেহাবশেষ দর্শনার্থীদের দেখানো হয় দশ বছরে একবার।
বাকি ছয়টি হলো সে ক্যাথেড্রাল, অ্যাসিসির সেন্ট ফ্রান্সিসের গির্জা ও কনভেন্ট, রোজারির মাতা মেরির গির্জা, সেন্ট ক্যাথরিনের চ্যাপেল, সেন্ট অগাস্টিনের গির্জা আর সেন্ট কাজেতানের চ্যাপেল। ইউনেস্কোর লেখায় এই গুচ্ছকে বলা হয়েছে “প্রাচ্যের রোম”। (ii) মানদণ্ডে তারা বলে, স্থাপনাগুলি ম্যানুয়েলিন (পর্তুগিজ দেরিতে-আসা গথিক রীতি), ম্যানারিস্ট ও বারোক রীতিকে এশিয়ার সেইসব দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিল, যেখানে ক্যাথলিক মিশন গড়ে উঠেছিল।
ষাটটি গির্জার মধ্যে টিকে আছে সাতটি স্থাপনা
ভারত মনোনয়নটি পাঠায় ১৯৮২ সালের ১৫ অক্টোবর। ১৯৮৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এটি স্থগিত রাখে, সঙ্গে স্থগিত হয় হাম্পি-সহ আরও কয়েকটি মনোনয়ন। স্থাপনা নিয়ে কমিটির উপদেষ্টা সংস্থা আইকোমস (ICOMOS) পরে লিখেছিল, গোয়ার ক্ষেত্রে কারণ ছিল ভেলহা গোয়া (ওল্ড গোয়া) স্থানটি কীভাবে সুরক্ষিত হবে তার সংজ্ঞার অভাব।
১৯৮৬ সালের ৮ জানুয়ারি নতুন একটি মনোনয়ন আসে, সঙ্গে ছিল একটি মানচিত্র, যাতে সুরক্ষিত এলাকা আর নির্মাণ অনুমোদিত অঞ্চল চিহ্নিত ছিল। আইকোমস জানায়, শহর পরিত্যক্ত হওয়ার আগে আঠারো শতকে তালিকাভুক্ত ৬০টি গির্জার মধ্যে সাতটি প্রধান নিদর্শন টিকে আছে। সংস্থাটি অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করে, আর কমিটি ১৯৮৬ সালে তার দশম অধিবেশনে সম্পত্তিটি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইকোমস ১৯৮৬ সালে আরও লিখেছিল যে গোয়ার দায়িত্বে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক দপ্তর ছিল ৫০০ কিমি দূরের ঔরঙ্গাবাদে। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (ASI) এখন গোয়ার নিজস্ব সার্কেল আছে, আর তার রাজ্যভিত্তিক তালিকায় এই সার্কেলের ২১টি কেন্দ্রীয়ভাবে সুরক্ষিত স্মারক রয়েছে।
১৫১০ সালে দখল হওয়া শহর, পাথরে নতুন করে গড়া
ব্রিটানিকার আফোনসো দ্য আলবুকার্ক-বিষয়ক নিবন্ধ বলছে, তখন মুসলিম শাসকদের অধীনে থাকা গোয়া তিনি দখল করেন ১৫১০ সালের মার্চে, মে মাসে এক মুসলিম বাহিনী তাঁকে দুর্গ থেকে বের করে দেয়, আর নভেম্বরে তিনি আক্রমণ চালিয়ে তা নিয়ে নেন, তখন রক্ষীদের তরোয়ালের মুখে ফেলা হয়েছিল। ১৯৩১ সালে গোয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক কমিটি রোজারি গির্জায় একটি মার্বেল ফলক বসায়। পর্যটন মন্ত্রকের বর্ণনা অনুযায়ী তাতে লেখা: “এই উচ্চতা থেকে আফোনসো দ্য আলবুকার্ক ২৫/১১/১৫১০ তারিখে গোয়ার পুনর্দখল দেখেছিলেন।” পর্তুগিজ শাসন শেষ হয় ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরে, সেই কাহিনী আছে tuput-এর গোয়া কীভাবে ভারতের অংশ হলো লেখায়।
ইউনেস্কো সেন্ট ক্যাথরিনের চ্যাপেলের তারিখ দিয়েছে ১৫১০ সাল আর বলেছে, পোপ তৃতীয় পল ১৫৩৪ সালে এটিকে ক্যাথেড্রালের মর্যাদা দেন। পর্যটন মন্ত্রকের গল্পটি ASI-এর উপকরণ থেকে তৈরি, তাতে বলা আছে ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীরা এসেছিলেন ১৫১৭ সালে। যেসব ধর্মীয় সংঘ এসে চ্যাপেল, গির্জা, কনভেন্ট ও ক্যাথেড্রাল গড়েছিল, ইউনেস্কো তাদের তালিকা দিয়েছে: কার্মেলাইট, অগাস্টিনীয়, ডমিনিকান, জেসুইট ও থিয়াটিন। আইকোমস সতেরো শতকের গোড়ায় শহরের জনসংখ্যা ২,০০,০০০-এর বেশি বলেছে, আর ব্রিটানিকা ১৫৬৫ সালের জন্য ২,০০,০০০ বলেছে।
পতনের তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। আইকোমস বলছে, ম্যালেরিয়ার কারণে শহর পরিত্যক্ত হয় ১৭৬০ সালের দিকে, আর রাজধানী সরে যায় পাঞ্জিমের জায়গায় গড়া নোভা গোয়ায়। ব্রিটানিকার বেসিলিকা-বিষয়ক নিবন্ধে আছে, সতেরো শতকে শহরে ম্যালেরিয়া ও কলেরার মহামারি আঘাত হানে, তার পর শহর প্রায় পরিত্যক্ত হয়।
বম জেসাসের বেসিলিকা, ১৫৯৪ থেকে ১৬০৫
ব্রিটানিকা বলছে, বেসিলিকার নির্মাণ শুরু হয় ১৫৯৪ সালে আর তা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬০৫ সালে। পর্যটন মন্ত্রকের উপকরণে ভিত্তিপ্রস্তরের তারিখ ১৫৯৪ সালের ২৪ নভেম্বর আর গোয়ার আর্চবিশপের হাতে প্রতিষ্ঠার তারিখ ১৬০৫ সালের ১৫ মে। বেসিলিকার মর্যাদা আসে ১৯৪৬ সালে।
পরিকল্পনায় ক্রুশাকৃতির এই গির্জার সম্মুখভাগে, ব্রিটানিকার বর্ণনায়, আয়োনিক, ডোরিক, করিন্থীয় ও কম্পোজিট রীতি মিলেছে। তিনটি আয়তাকার জানালার নিচে আছে তিনটি প্রবেশপথ, সঙ্গে তিনটি ছোট গোল জানালা আর খোদাই করা একটি কেন্দ্রীয় গ্যাবল। ASI-এর নিজের প্রতিবেদনে ইউনেস্কোকে বলা হয়েছে, সম্মুখভাগে ক্ল্যাসিক্যাল অর্ডার দেখা যায়, অর্থাৎ প্রাচীন গ্রিস ও রোম থেকে নেওয়া স্তম্ভের নিয়ম। আইকোমসের কাছে ভবনটি ছিল ভারতে জেসুইটদের প্রধান কনভেন্ট। ভেতরে, মন্ত্রক বলছে, প্রধান বেদিটি ৫৪ ফুট উঁচু ও ৩০ ফুট চওড়া, আর স্তম্ভগুলি প্রায় ৩০০ কিমি দূরের বাসেইন থেকে আনা ব্যাসল্টের। ব্রিটানিকা বলছে, সেখানে প্রতিদিন ম্যাস হয় আর দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানো হয়।
ফ্রান্সিস জেভিয়ারের সমাধি আর দশ বছর অন্তর প্রদর্শনী
ব্রিটানিকা বলছে, ফ্রান্সিস জেভিয়ার গোয়ায় পৌঁছান ১৫৪২ সালের ৬ মে। ১৫৫২ সালের ৩ ডিসেম্বর চিনের উপকূলের কাছে সানসিয়ান দ্বীপে, এখনকার শাংচুয়ানে, জ্বরে তাঁর মৃত্যু হয়, আর চার্চ তাঁকে সন্তের মর্যাদা দেয় ১৬২২ সালের ১২ মার্চ। একই নিবন্ধে যোগ করা হয়েছে, গোয়ার ইনকুইজিশন গড়ার সঙ্গে জেভিয়ার জড়িত ছিলেন; যেসব ধর্মান্তরিত মানুষের বিরুদ্ধে হিন্দু বা অন্য ধর্ম পালন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠত, সেই ইনকুইজিশন তাদের শাস্তি দিত।
২০২৪ সালের প্রদর্শনীর ওয়েবসাইট ক্যাথলিক কানেক্ট বলছে, দেহটি কবর থেকে তোলা হয় ১৫৫৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর মালাক্কায় নেওয়া হয়, এবং ১৫৫৩ সালের ডিসেম্বরে সেটি গোয়ায় সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। পণ্ডিতি গ্রন্থ এনসাইক্লোপিডিয়া অব পর্তুগিজ এক্সপ্যানশন অনুযায়ী, আর্চবিশপ ও ভাইসরয়ের উপস্থিতিতে ১৫৫৪ সালের ১৫ মার্চ সেটি গোয়ায় গৃহীত হয়। ব্রিটানিকা লিখছে, পৌঁছানোর সময় বলা হয়েছিল সেটি “কবর দেওয়ার দিনের মতোই তাজা”, আর ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি আজকের দেহাবশেষকে আংশিক অবিকৃত বলে বর্ণনা করেছে।
এনসাইক্লোপিডিয়া বলছে, গোয়ার রূপাকাররা রুপোর পেটিকাটি বানান ১৬৩৬ ও ১৬৩৭ সালে, আর সেটি বসানো হয় ১৬৩৭ সালের ২ ডিসেম্বর। এতে বত্রিশটি ফলকে সন্তের জীবনের দৃশ্য আছে। এর নিচে দাঁড়িয়ে আছে ফ্লোরেন্সের মার্বেল ও ব্রোঞ্জের একটি স্মারক। ব্রিটানিকা বলছে, এটি দিয়েছিলেন টাস্কানির গ্র্যান্ড ডিউক তৃতীয় কসিমো, খোদাই করেছিলেন জোভান্নি বাত্তিস্তা ফোজ্জিনি, কাজ শুরু হয় ১৬৮৯ সালে আর তা বসে ১৬৯৮ সালে। ইউনেস্কোর লেখায় আরেকটি বিবরণ আছে: টাস্কানির গ্র্যান্ড ডিউক দ্বিতীয় ফের্দিনান্দো এটি ফরমাশ করেন ১৬৬৫ সালে, আর ব্রোঞ্জের কাজের জন্য ফোজ্জিনির নাম রয়েছে। (vi) মানদণ্ডের ভিত্তি এই সমাধি, যাকে ইউনেস্কো আধুনিক যুগে এশীয় জগতে ক্যাথলিক ধর্মের প্রভাবের প্রতীক বলেছে।
ক্যাথলিক কানেক্ট বলছে, দেহাবশেষ রাখা আছে একটি কাচের আধারে, আর জেভিয়ারের ডান হাতটি আলাদা করে রাখা আছে রোমের গেজু গির্জায়। ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, স্থানীয় মানুষ তাঁকে ডাকে “গোয়েঞ্চো সাইব” নামে, অর্থাৎ গোয়ার রক্ষাকর্তা।
১৮তম প্রদর্শনী চলেছিল পঁয়তাল্লিশ দিন, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি। দেহাবশেষ বেসিলিকা থেকে সে ক্যাথেড্রালে নেওয়া হয় একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে, আর ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি উদ্বোধনের দিনে অন্তত ১২,০০০ মানুষ গুনেছিল। শ্রদ্ধা জানানোর সময় ছিল প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, আর কর্মসূচিতে ৫ জানুয়ারি একটি শোভাযাত্রার কথা ছিল, দেহাবশেষ বেসিলিকায় ফিরিয়ে দিতে। ১৭তম প্রদর্শনী হয়েছিল ২০১৪ সালে।
সে, ফ্রান্সিসকান কনভেন্ট আর রোজারির গির্জা
ব্রিটানিকা বলছে, সে ক্যাথেড্রাল আলেক্সান্দ্রিয়ার সেন্ট ক্যাথরিনকে উৎসর্গ করা। মন্ত্রকের পাতা বলছে, এটি গোয়া ও দমন আর্চডায়োসিসের ক্যাথেড্রাল, কাজ শুরু হয় ১৫৬২ সালে আর শেষ হয় ১৬১৯ সালে, প্রতিষ্ঠা হয় ১৬৪০ সালে আর প্রধান বেদিগুলির কাজ শেষ হয় ১৬৫২ সালে। ইউনেস্কো তারিখ দিয়েছে ১৬৫২ সাল আর বর্ণনা করেছে ক্ল্যাসিক্যাল অর্ডারসহ একটি টাস্কান বাইরের রূপ। ASI-এর প্রতিবেদনে আছে প্রবেশদ্বারে করিন্থীয় স্তম্ভ, প্রবেশপথ পর্যন্ত সিঁড়িসহ একটি উঁচু মঞ্চ আর নেভের ওপর একটি পিপেআকৃতি ছাদ। মন্ত্রক বলছে, দুটি মিনারের একটি ভেঙে পড়ে ১৭৭৬ সালে আর কখনো নতুন করে গড়া হয়নি, আর ঘণ্টাগুলির মধ্যে আছে গোল্ডেন বেল।
অ্যাসিসির সেন্ট ফ্রান্সিসের গির্জা ও কনভেন্টের জন্য ইউনেস্কো দিয়েছে ১৫১৭ সাল, পুনর্নির্মাণ ১৫২১ ও ১৬৬১ সালে, ম্যানুয়েলিন, গথিক ও বারোক উপাদানসহ। গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার ASI-এর ভার্চুয়াল ট্যুর থেকে তৈরি একটি গল্পে বলছে, আটজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসী এটি প্রতিষ্ঠা করেন ১৫১৭ সালে, গির্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬০২ সালে আর বর্তমান ভবনটি ১৬৬১ সালের। সেই গল্পে বর্ণনা আছে সাদামাটা বাইরের রূপ, একটি ম্যানুয়েলিন প্রবেশদ্বার ও বারোক অন্দরসজ্জার, প্রতি পাশে তিনটি চ্যাপেলসহ একটি নেভের, আর সেন্ট ফ্রান্সিসের জীবন দেখানো কাঠের ফলকের। ১৯৬৪ সাল থেকে কনভেন্টে ASI-এর একটি জাদুঘর রয়েছে, যাতে গোয়ার ইতিহাস নিয়ে ছবি, ভাস্কর্য ও অন্যান্য বস্তু আছে। মন্ত্রক বলছে, গির্জাটিতে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় না।
মান্ডোভি নদী আর দিভার দ্বীপের ওপরে, মন্টে সান্টো পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছে রোজারির মাতা মেরির গির্জা। ইউনেস্কো দিয়েছে ১৫৪৯ সাল আর বলেছে, ম্যানুয়েলিন রীতিতে এটিই সবচেয়ে পুরোনো টিকে থাকা গির্জা, আর ASI-এর প্রতিবেদন এটিকে সেই রীতির একক উদাহরণ বলেছে। মন্ত্রকের উপকরণ বলছে, এটি ল্যাটেরাইটে গড়া, চুনের পলেস্তারা দেওয়া, ম্যানুয়েলিন দড়ি-পাকানো খোদাই, দুটি মিনার আর একটি একক গ্রানাইট পাথরে কাটা দীক্ষাস্নানের পাত্রসহ, আর ঐতিহ্য একে জুড়েছে আলবুকার্কের করা একটি শপথের সঙ্গে।
ল্যাটেরাইট, চুন আর একটি ইন্দো-পর্তুগিজ রীতি
আইকোমস স্থাপনাগুলিকে বর্ণনা করেছে ল্যাটেরাইটের ব্লকে (নরম লাল পাথর) গড়া, যার ওপর ভাঙা শামুক-ঝিনুকমেশানো চুনাপাথরের গাঁথনি। ইউনেস্কোর ভাষায়, রীতিগুলি ইউরোপের প্রচলিত ধারা অনুসরণ করেছিল, কিন্তু স্থানীয় উপকরণ ও বস্তু দিয়ে স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছিল, আর তার ফল ইন্দো-পর্তুগিজ রীতির মূল। ASI-এর প্রতিবেদন বলছে, নির্মাতারা ইতালীয় স্থপতিদের দিকে তাকিয়েছিলেন, যাঁদের কয়েকজন গোয়ায় এসেছিলেন। ইউনেস্কো সেন্ট কাজেতানের চ্যাপেলের তারিখ দিয়েছে ১৬৬১ সাল আর বলেছে, এটি রোমের সেন্ট পিটার্সের মূল নকশার আদলে গড়া।
একটি উপকরণকে বর্ণনা করা হয়েছে ভিন্নভাবে। মন্ত্রকের উপকরণ বলছে, বম জেসাসের সম্মুখভাগ কালো গ্রানাইটের আর রাজ্যে এটিই একমাত্র গির্জা যার বাইরের দিকে পলেস্তারা নেই। আইকোমস স্থাপনাগুলিকে একটি গুচ্ছ হিসেবে লিখতে গিয়ে বলেছে চুনের গাঁথনির নিচে ল্যাটেরাইট।
ইউনেস্কো সেন্ট অগাস্টিনের গির্জার তারিখ দিয়েছে ১৬০২ সাল আর বলেছে, তার ঘণ্টা-মিনারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে আছে। আইকোমস মিনারটিকে বলেছে ১৫৭২ সালে গড়া একটি কনভেন্টের একমাত্র অবশেষ। ইউনেস্কো বলছে, স্থানটিতে খননকাজ, যেখানে আছে সেখানেই সংরক্ষণ আর আজুলেজো (রঙিন টালি) আবার বসানোর কাজ ধ্বংসাবশেষের উপকার করেছে, আর পাওয়া বস্তুর মধ্যে আছে জর্জিয়ার সেন্ট কেতেভানের দেহাবশেষ।
কারা এগুলি রক্ষা করে
ASI-এর গোয়া তালিকার ২১টি নামের মধ্যে ১৪টি ওল্ড গোয়ায়, তার মধ্যে ইউনেস্কোর সাতটি স্থাপনার সবকটি, ভাইসরয়ের তোরণ, আদিল শাহের প্রাসাদের তোরণ আর সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের লার্গো (চত্বর)। ইউনেস্কোর বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মারক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও অবশেষ আইন, তার ১৯৫৯ সালের বিধি ও পরবর্তী সংশোধনীগুলি সুরক্ষিত স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণ ও খনন নিষিদ্ধ করে এবং ২০০ মিটারের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৮৯ ও ২০০০ সালের গোয়া সরকারের পরিকল্পনা-বিধি ওল্ড গোয়াসহ সংরক্ষণ অঞ্চল যোগ করেছে, যার তদারকিতে আছে একটি সংরক্ষণ কমিটি। সে ওল্ড গোয়ার পঞ্চায়েত (গ্রাম পরিষদ) ব্যবস্থাপনায় অংশ নেয়। উপাসনাও চলে, ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত করেছে অনুষ্ঠান, বিয়ে, শেষকৃত্য আর ফ্রান্সিস জেভিয়ারের পর্বদিন। দিউয়ের পর্তুগিজ দুর্গ ও গির্জা, যা আলাদা একটি অঞ্চলে ও যার নিজস্ব ASI-সুরক্ষা আছে, তা আছে tuput-এর দিউ দ্বীপের লেখায়।
ইউনেস্কোর বিবরণ বলছে, বিশ্ব ঐতিহ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেই আর সম্পত্তিটি ASI পরিচালনা করে, এবং ক্ষয়, দেয়াল বেয়ে ওঠা স্যাঁতসেঁতে ভাব আর কাঠের খোদাইয়ে উইপোকাকে ASI-এর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ১৯৯৯ সালে কমিটির ব্যুরো সংরক্ষণের প্রচেষ্টা লক্ষ করে এবং প্রতিটি স্মারকের প্রয়োজনের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা, স্মারকগুলিকে পুরোনো শহরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া একটি স্থান-পরিকল্পনা আর সড়ক নির্মাণে সতর্কতা চায়। সে, বেসিলিকা ও অ্যাসিসির সেন্ট ফ্রান্সিসে স্যাঁতসেঁতে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের ফলকগুলির কথা আলাদা করে বলা হয়েছিল।
ভারতের ২০০২ সালের ডিসেম্বরের প্রতিবেদন, ASI-এর মহানির্দেশকের স্বাক্ষরসহ, ASI আর গোয়া, দমন ও দিউ আর্চডায়োসিসের মধ্যে মালিকানা নিয়ে একটি বিরোধ নথিভুক্ত করেছে, যার একটি রিট আবেদন জেলা আদালতে যুক্তিতর্কের পর্যায়ে ছিল। ফলাফল তাতে বলা নেই। ব্রিটানিকা বলছে, রুপোর পেটিকার সংস্কার শেষ হয়েছে ২০২১ সালে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- UNESCO World Heritage Centre: Churches and Convents of Goa (property page, including the Statement of Outstanding Universal Value, opened 27 October 2026)
- ICOMOS evaluation of the nomination, World Heritage List no. 234 (October 1986), published by UNESCO
- UNESCO World Heritage Committee: Decision 10 COM VIII, Inscription of Churches and Convents of Goa (1986)
- UNESCO World Heritage Committee: Decision 7 COM VIII.30-31, Examination of Nominations: Deferrals (1983)
- UNESCO World Heritage Committee Bureau: Decision 23 BUR IV.B.61, Churches and Convents of Goa (1999)
- Periodic Reporting, Cycle 1, Section II: Churches and Convents of Old Goa, report of the Archaeological Survey of India, December 2002 (published by UNESCO)
- Archaeological Survey of India: Centrally Protected Monuments/Sites, State-wise and Circle-wise list
- Incredible India (Ministry of Tourism): Se Cathedral, Goa
- Incredible India (Ministry of Tourism): Church of Our Lady of Rosary, Goa
- Incredible India (Ministry of Tourism): Church and Convent of St Francis of Assisi, Goa
- Google Arts & Culture, with Incredible India (Ministry of Tourism) and the Archaeological Survey of India: The Churches of Goa, Archives of architecture
- Britannica: Basilica of Bom Jesus
- Britannica: Saint Francis Xavier
- Britannica: Afonso de Albuquerque
- Britannica: Goa
- Catholic Connect: Goa Exposition 2024, the 18th Exposition of the Sacred Relics of St Francis Xavier
- Catholic News Agency, via National Catholic Register (21 November 2024): St. Francis Xavier's relics draw 12,000 in Goa, India, for decennial exposition
- Encyclopaedia of Portuguese Expansion: Tomb of Saint Francis Xavier
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।