Skip to content
তাঞ্জাভুর, গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরম ও দারাসুরমের তিনটি চোল মন্দিরে আজও নিত্যপুজো চলে, ১০১০ সালে প্রথমটির প্রতিষ্ঠার ১,০০০ বছরের বেশি পরেও
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারত

তাঞ্জাভুর, গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরম ও দারাসুরমের তিনটি চোল মন্দিরে আজও নিত্যপুজো চলে, ১০১০ সালে প্রথমটির প্রতিষ্ঠার ১,০০০ বছরের বেশি পরেও

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

ইউনেস্কো ১৯৮৭ সালে তাঞ্জাভুরের বৃহদীশ্বর মন্দিরকে তালিকাভুক্ত করে এবং ২০০৪ সালে গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরম ও দারাসুরমকে যোগ করে, নাম দেয় মহান জীবন্ত চোল মন্দির। প্রথমটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রথম রাজরাজ ১০১০ সালে, দ্বিতীয়টি সম্পূর্ণ হওয়ার সাল ইউনেস্কো দিয়েছে ১০৩৫, আর তৃতীয়টি গড়েন দ্বিতীয় রাজরাজ বারো শতকে। ইউনেস্কো বলছে, তিনটিতেই আরাধনা চলছে প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে ও প্রতি বছর।

· · 8 মিনিটের পাঠ

মহান জীবন্ত চোল মন্দির তামিলনাড়ুর তিনটি শিবমন্দির, যেগুলোকে ইউনেস্কো একটি বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে: ১৯৮৭ সালে তালিকাভুক্ত তাঞ্জাভুরের বৃহদীশ্বর মন্দির, এবং ২০০৪ সালে যোগ হওয়া গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরমের বৃহদীশ্বর মন্দির ও দারাসুরমের ঐরাবতেশ্বর মন্দির। ইউনেস্কোর মূল্যমানের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনটিতেই এক হাজার বছরেরও আগে শুরু হওয়া আরাধনা “প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে ও প্রতি বছর চলছে”।

প্রথমটি গড়েছিলেন প্রথম রাজরাজ, দ্বিতীয়টি তাঁর ছেলে প্রথম রাজেন্দ্র, তৃতীয়টি দ্বিতীয় রাজরাজ। দুই রাজারই নিজস্ব নিবন্ধ আছে, রাজরাজ চোল, সমুদ্রের সম্রাট আর রাজরাজ চোল ও রাজেন্দ্র চোল, তাই এই লেখা থাকছে ভবনগুলো আর যাঁরা সেগুলো দেখভাল করেন তাঁদের নিয়ে।

১৯৮৭ ও ২০০৪ সালে ইউনেস্কো কী তালিকাভুক্ত করেছে

১৯৮৭ সালে ১১তম অধিবেশনে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি তাঞ্জাভুরের বৃহদীশ্বর মন্দিরকে তালিকাভুক্ত করেছিল, মানদণ্ড (ii) ও (iii) অনুযায়ী। সতেরো বছর পরে ২৮তম অধিবেশনে কমিটি গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরম ও দারাসুরম পর্যন্ত সম্প্রসারণ অনুমোদন করে, সম্পত্তির নাম দেয় মহান জীবন্ত চোল মন্দির এবং যোগ করে মানদণ্ড (i) ও (iv)। তালিকাভুক্ত এলাকা ২১.৭৪ হেক্টর, বাফার অঞ্চল ১৬.৭১৫ হেক্টর।

মানদণ্ড (i) তিনটি মন্দিরকে বর্ণনা করেছে “দ্রাবিড় ধরনের মন্দিরের বিশুদ্ধ রূপের স্থাপত্য-পরিকল্পনায় অসামান্য সৃজনশীল কীর্তি” হিসেবে। দ্রাবিড় হল দক্ষিণ ভারতের মন্দির-রীতি, গর্ভগৃহের ওপরে বিমান নামের চূড়া নিয়ে। মানদণ্ড (iii) অনুযায়ী এগুলো চোল সাম্রাজ্যের এবং দক্ষিণ ভারতের তামিল সভ্যতার স্থাপত্যের এক ব্যতিক্রমী সাক্ষ্য।

নামের বানান সূত্রে সূত্রে আলাদা। ইউনেস্কোর তালিকা-পাঠ তাঞ্জাভুরের মন্দিরের জন্য Brihadisvara, দ্বিতীয় মন্দিরের জন্য Gangaikondacholisvaram আর শহরের জন্য Gangaikondacholapuram লিখেছে, এবং ব্রিটানিকা লিখেছে Brihadishvara। ইংরেজিতে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো লেখে Brihadeeswarar, আর তামিলে লেখে பிரகதீஸ்வரர், கங்கைகொண்ட சோழபுரம் ও தஞ்சாவூர். এই লেখা ইউনেস্কোর বানান অনুসরণ করেছে।

তাঞ্জাভুর: ১০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রানাইটের চূড়া

ইউনেস্কো বলছে, প্রথম রাজরাজ সম্ভবত তাঁর রাজত্বের ১৯তম বছরে (১০০৩ থেকে ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ) মন্দিরের কাজ শুরু করেছিলেন এবং ২৫তম বছরে (১০০৯ থেকে ১০১০ খ্রিষ্টাব্দ) নিজের হাতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সহপিডিয়ার একটি প্রবন্ধে এসওএএস-এর শিল্প-ইতিহাসবিদ ক্রিসপিন ব্র্যানফুট তারিখ দিয়েছেন ১০১০ সালের ২২ এপ্রিল। ব্রিটানিকা স্থপতির নাম দিয়েছে কুঞ্জর মল্লন রাজ রাম পেরুন্থচ্চন এবং বলছে রাজা ১০১০ সালে চূড়ায় সোনার পাতমোড়া কলসম বসিয়েছিলেন।

ব্রিটানিকার বিবরণে শিলালিপিতে মন্দিরের নাম দক্ষিণ মেরু, দক্ষিণের মেরু পর্বত, আর প্রথমে রাজার নামে এর নাম ছিল রাজরাজেশ্বরম। ষোলো শতকের মধ্যে তামিলে এটি হয় পেরুবুদাইয়ার কোভিল, আর এখন স্থানীয় প্রচলিত নাম তাঞ্জাই পেরিয়া কোভিল, তাঞ্জাভুরের বড় মন্দির।

আকারের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই) ভেতরের প্রাঙ্গণ দিয়েছে ২৪০.৯ মিটার লম্বা ও ১২২ মিটার চওড়া। ইউনেস্কো বিমানের উচ্চতা ধরেছে ৫৯.৮২ মিটার, অষ্টভুজাকার মুকুটের নিচে ১৩ স্তরে। প্রকাশিত অন্য উচ্চতা আলাদা: ব্রিটানিকায় ২০০ ফুটের বেশি (৬০ মিটার), আর ২০২০ সালের প্রতিষ্ঠা-অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রতিবেদনে ২১৬ ফুট, প্রায় ৬৬ মিটার। ব্রিটানিকা যোগ করেছে, গ্রানাইট এসেছিল কাবেরী নদীর উজানে অন্তত ৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে এবং বসানো হয়েছিল চুনসুরকি ছাড়া।

এএসআই বলছে, চূড়ায় অষ্টভুজাকার শিখর একটি মাত্র গ্রানাইট খণ্ডের ওপর বসে আছে, ৭.৮ মিটারের একটি বর্গ, যার ওজন ৮০ টন। ব্রিটানিকাও কুম্ভম, মাথার ওপরের গম্বুজটি, নিয়ে প্রায় ৮০ টন বলেছে এবং বলছে এটি একটিমাত্র পাথর কেটে গড়া। পাথর তুলতে প্রায় ৬ কিলোমিটার লম্বা একটি ঢালপথের কথা বলা হয়, কিন্তু ব্রিটানিকা একে কিংবদন্তি বলেছে।

বড় নন্দী, শিবের বাহন ষাঁড়, পূর্ব প্রবেশপথের কাছে একটি মণ্ডপে বসে আছে এবং ব্রিটানিকার মতে তার আনুমানিক ওজন ২৫ টন। এটি চোলদের পরের। ব্রিটানিকা বলছে, মণ্ডপটি যোগ হয়েছিল নায়কদের আমলে, যাঁরা চোলদের পর তাঞ্জাভুর শাসন করেন। ব্র্যানফুট বর্তমান মূর্তি ও তার মণ্ডপ দুটিকেই ষোলো শতকের বলে ধরেছেন এবং বলছেন চোল আমলের নন্দীকে সরিয়ে দক্ষিণের প্রাচীরে রাখা হয়েছিল।

ভিত্তিচিত্র, ৮১টি নৃত্যভঙ্গি আর ব্রোঞ্জ মূর্তি

ইউনেস্কো বলছে, মন্দিরের দেয়াল জুড়ে বিস্তৃত ভিত্তিচিত্র, আর ভরতনাট্যমের ১০৮টি করণের, অর্থাৎ ভঙ্গির, মধ্যে ৮১টি গর্ভগৃহ ঘিরে দ্বিতীয় তলার দেয়ালে খোদাই করা। ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস (আইজিএনসিএ) যোগ করেছে যে খোদাই ৮১তম ভঙ্গির পর থেমে গেছে।

ভেতরে এএসআই নিচের প্রদক্ষিণপথের চিত্রগুলোকে চোল ও পরবর্তী কালের সেরা কাজের মধ্যে ধরেছে, এবং বলছে নায়ক আমলের তাঞ্জাভুর চিত্রধারা অনেকাংশে চোল ভিত্তিচিত্রের ওপরেই চাপানো। ব্র্যানফুট জানিয়েছেন, ১১ শতকের ভিত্তিচিত্র ১৯৩১ সালে পাওয়া গিয়েছিল সতেরো শতকের নায়ক চিত্রের নিচে। আইজিএনসিএ-র মতে, গর্ভগৃহ ঘিরে পথে চোল চিত্রগুলো “আজ আমাদের হাতে থাকা চোল চিত্রকলার একমাত্র অবশিষ্ট নমুনা”।

তামিলনাড়ু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন প্রধান আর নাগাস্বামী বলছেন, রাজরাজের আমলের চিত্রে দেখা যায় দক্ষিণামূর্তি, ত্রিপুরান্তক ও কল্যাণসুন্দরকে, সঙ্গে সন্ত সুন্দরমূর্তির জীবন আর রাজা নিজে চিদাম্বরম মন্দিরে যাচ্ছেন।

ইউনেস্কো বলছে, ব্রোঞ্জ ঢালাই তিনটি মন্দিরে দেখা যাওয়া চোল কীর্তির একটি, এবং গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরমের ভোগশক্তি ও সুব্রহ্মণ্যের ব্রোঞ্জ মূর্তিকে সে বলেছে “চোল ধাতু-বিগ্রহের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন”। নাগাস্বামী বলছেন, রাজরাজ ও তাঁর পরিবার তাঞ্জাভুরকে যে ব্রোঞ্জ মূর্তি দিয়েছিলেন, সেগুলোতে শিলালিপি ছিল যা ঠিক করে দিত কোনটি কোথায় দাঁড়াবে, আর প্রতিটির নিত্যপুজো ও নিরাপত্তা দেখার জন্য একজন করে লোক ঠিক করা ছিল। নটরাজ ছাড়া, যেটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে মেরামত করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়, তাঁর কথায় আসল ব্রোঞ্জ মূর্তিগুলো আর সেখানে নেই। গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরমে, তিনি যোগ করেন, একটি সুব্রহ্মণ্য ব্রোঞ্জ এখনও পূজিত হয়।

গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরম: অভিযানের স্মারক হিসেবে গড়া রাজধানী

এএসআই-এর মতে, প্রথম রাজেন্দ্র নতুন সাম্রাজ্যিক রাজধানীর জায়গা বেছেছিলেন, সম্ভবত ১১ শতকের প্রথম চতুর্থাংশে, উত্তরের অঞ্চলগুলো জয়ের স্মরণে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বলছে, শহরটি ২৫০ বছরের বেশি রাজধানী ছিল।

ইউনেস্কো মন্দির সম্পূর্ণ হওয়ার সাল দিয়েছে ১০৩৫, আর ব্রিটানিকার স্থাপত্য-নিবন্ধগুলোতে প্রায় ১০২৫ এবং ১০৩০ থেকে ১০৪০। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বলছে, ২০২৫ সালের উদ্‌যাপন ছিল নির্মাণ শুরুর ১,০০০ বছর পূর্তির।

ইউনেস্কো বলছে, ৫৩ মিটারের বিমানের কোণগুলো ভেতরে ঢোকানো আর ওপরের দিকে সুন্দর বাঁক, তাঞ্জাভুরের সোজা, কঠোর চূড়ার বিপরীতে। ব্র্যানফুট দিয়েছেন প্রায় ৫১ মিটার। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই মন্দিরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজেন্দ্র বাবার তাঞ্জাভুরের মন্দিরের প্রতি শ্রদ্ধায় গোপুরম নিচু করে গড়েছিলেন। ইউনেস্কোর দুটি উচ্চতা, ৫৩ ও ৫৯.৮২ মিটার, দেখায় যে পরের চূড়াটিই নিচু।

এএসআই বলছে, এখানে নকশা তাঞ্জাভুরকে অনুসরণ করেছে, আর স্থপতি তার কিছু ত্রুটি শুধরে নিয়েছেন, যেমন গর্ভগৃহের গাঁথনির ভেতরে কাঠের ভারা রাখার ব্যবস্থা করে। প্রবেশদ্বারগুলোতে ছয় জোড়া একখণ্ড পাথরের দ্বারপাল, প্রবেশপথের রক্ষী মূর্তি, দাঁড়িয়ে আছে। এএসআই যেসব ভাস্কর্যের তালিকা দিয়েছে তার মধ্যে আছে নৃত্যরত গণেশ, অর্ধনারী, দক্ষিণামূর্তি, হরিহর ও নটরাজ, আর গর্ভগৃহের উত্তরের সিঁড়ির পাশের কুলুঙ্গিতে থাকা চণ্ডেশানুগ্রহমূর্তি ও সরস্বতীকে সে সবচেয়ে অসামান্য বলে আলাদা করেছে। ইউনেস্কোর মতে সিংহকূপ, সিংহকেণি, ছিল রাজেন্দ্রের পরিকল্পনার অংশ।

এএসআই লক্ষ করেছে, মন্দিরে রাজেন্দ্রের নিজের কোনো শিলালিপি টিকে নেই। সবচেয়ে প্রাচীনটি তাঁর ছেলের, বাবার দানের বিবরণ সহ। এএসআই লিখেছে, উনিশ শতকে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা কোল্লিডাম নদীতে একটি বাঁধের পাথরের জন্য মন্দিরটিকেই সেরা উৎস বিবেচনা করে ভেঙে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন, আর স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদে তা থেমে যায়।

দারাসুরম: রথ হিসেবে গড়া মণ্ডপ

ইউনেস্কো ও এএসআই-এর মতে দ্বিতীয় রাজরাজ রাজত্ব করেছেন ১১৪৩ থেকে ১১৭৩ পর্যন্ত, আর ব্রিটানিকার মতে ১১৪৬ থেকে ১১৭৩। ব্র্যানফুট বলছেন, ঐরাবতেশ্বর মন্দির ১১৬৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছিল। ২৪ মিটারের বিমান নিয়ে এটি তিনটির মধ্যে সবচেয়ে ছোট, আর এএসআই একে অত্যন্ত অলংকৃত বলেছে।

ইউনেস্কো ও এএসআই বলছে, সামনের মণ্ডপ, শিলালিপিতে যার নাম রাজগম্ভীরন তিরুমণ্ডপম, ভাবা হয়েছিল চাকাওয়ালা রথ হিসেবে। ব্র্যানফুট দক্ষিণ দিকের সিঁড়িকে বর্ণনা করেছেন পাথরের চাকা ও লাফিয়ে ওঠা ঘোড়া সহ। নামফলকওয়ালা ক্ষুদ্র ফ্রিজে ৬৩ জন নায়নারের, শৈব সন্তদের, জীবনের ঘটনা দেখানো আছে, আর এএসআই বলছে রাজা এই মন্দিরে তেবারম, তামিল শৈব স্তোত্র, গাওয়ার জন্য দান করেছিলেন।

ইউনেস্কো বলছে, পুরো চত্বর একসঙ্গে গড়া, পরের কোনো নির্মাণ নেই, আর কিছু পরে গড়া দেবনায়কী আম্মান মন্দির নিজের প্রাঙ্গণে আদি রূপেই দাঁড়িয়ে। এএসআই বলছে, সেখানকার বেশ কিছু ভাস্কর্য, ঋষিপত্নীদের সঙ্গে ভিক্ষাটনের পুরো মূর্তিসমষ্টি সহ, এখন তাঞ্জাভুর আর্ট গ্যালারিতে।

নাগাস্বামী বলছেন, ঐরাবতেশ্বর নামটি পরের কথ্য নাম। তাঁর বিবরণে মন্দিরের আদি নাম ছিল রাজরাজেশ্বরম, যা মুখে মুখে হয় দারাইশ্বরম, তারপর দারাসুরম। ইউনেস্কো ও এএসআই ঐরাবতেশ্বর নাম ব্যবহার করে, এই লেখাও তা-ই করেছে।

জীবন্ত আরাধনা বলতে কী বোঝায়, আর মন্দিরগুলো কারা দেখে রাখে

ইউনেস্কো বলছে, তালিকাভুক্তির পর থেকে তিনটি স্মৃতিসৌধই ভালোভাবে সংরক্ষিত, কোনো বড় হুমকি নেই, আর এএসআই সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করে। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরমে অনুষ্ঠানের সঙ্গে ছিল ওধুবারদের মন্ত্রোচ্চারণ, যাঁরা তামিল স্তোত্রের ঐতিহ্যবাহী গায়ক।

তাঞ্জাভুরে ২৩ বছর পর ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা-অনুষ্ঠান, কুম্ভাভিষেকম, হয়েছে। ম্যাটার্স ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে সোনার পাতমোড়া কলসমে পবিত্র জল ঢালা হয় আর হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসেন। তার আগে নিউজ টুডে-র মতে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে অনুষ্ঠান তামিল ও সংস্কৃত দুই ভাষাতেই করা যাবে এবং অন্য আর্জিগুলো খারিজ করেছিল। দ্য নিউজ মিনিট জানিয়েছে, তামিলনাড়ু হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য দান বিভাগ (এইচআর অ্যান্ড সিই) আদালতকে জানিয়েছিল তারা দুটি ভাষাই ব্যবহার করবে, আর এএসআই ১৫টি শর্তসাপেক্ষে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছিল।

সুরক্ষা এসেছে ধাপে ধাপে। ইউনেস্কো বলছে, এএসআই তিনটি মন্দির সংরক্ষণ করে ১৯২২ (তাঞ্জাভুর), ১৯৪৬ (গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরম) ও ১৯৫৪ (দারাসুরম) সাল থেকে, আর তিনটিই ১৯৫৯ সাল থেকে তামিলনাড়ু হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য দান আইনের আওতায়। কাঠামো, চিত্র ও ভাস্কর্যের সংরক্ষণ একমাত্র এএসআই-এর দায়িত্ব। মন্দির প্রশাসন, অর্থাৎ কর্মী, হিসাব, নথি ও নিয়ম, রাজ্যের এইচআর অ্যান্ড সিই বিভাগের। তাঞ্জাভুর ও দারাসুরমের জন্য দুই সংস্থা প্রাসাদ দেবস্থানমের বংশানুক্রমিক ট্রাস্টির সঙ্গেও পরামর্শ করে, আর সম্প্রসারণের মনোনয়নের সময় তারা একটিই যৌথ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার খসড়া করতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছিল।

ইউনেস্কোর পাঠ অনুযায়ী এখনও আসার বাকি আছে ভবিষ্যৎ কাজের দিশা দেওয়ার জন্য একটি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং একটি পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও ব্যাখ্যা পরিকল্পনা। এও লেখা আছে যে ২০০৩ সালের পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদনে কাঠামোর রাসায়নিক পরিষ্কার ও তাঞ্জাভুর মন্দিরের পুরো মেঝে বদলের কথা আছে, যে হস্তক্ষেপগুলো খাঁটিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

২০১০ ও ২০২৫ সালের বার্ষিকী

ব্রিটানিকা বলছে, ২০১০ সালে তাঞ্জাভুর মন্দিরের ১,০০০তম বছরে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া মন্দিরের ছবিসহ একটি স্মারক ১,০০০ টাকার মুদ্রা বের করেছিল, যে ছবি ১৯৫৪ সালের ১,০০০ টাকার নোটেও আগে এসেছিল। আইজিএনসিএ নথিভুক্ত করেছে ২০১০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর একটি প্রদর্শনী, পেরিয়া কোভিলের এক হাজার বছর উপলক্ষে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রক গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরমে ২৩ থেকে ২৭ জুলাই আদি তিরুবাথিরাই উৎসব করেছিল, প্রথম রাজেন্দ্রের জন্মবার্ষিকী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাঁর সামুদ্রিক অভিযানের ১,০০০ বছর এবং মন্দির নির্মাণ শুরু উপলক্ষে। চোল শৈবধর্ম ও মন্দির স্থাপত্যের প্রদর্শনী, একটি ঐতিহ্য-পদযাত্রা ও পথপ্রদর্শিত ভ্রমণের আয়োজন করেছিল এএসআই। ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উৎসবে ভাষণ দেন, মন্দিরে পূজা করেন এবং প্রথম রাজেন্দ্রকে সম্মান জানিয়ে একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি বলছে, তিনি তামিলনাড়ুতে প্রথম রাজরাজ ও প্রথম রাজেন্দ্রের মূর্তি স্থাপনের কথাও ঘোষণা করেছেন।

দর্শনার্থীরা এএসআই-এর পাতায় দেখতে পাবেন তিনটি মন্দিরই প্রতিদিন ০৬:৩০ থেকে ২০:৩০ পর্যন্ত খোলা, প্রবেশ বিনামূল্যে। সেখানে তাঞ্জাভুরকে চেন্নাই থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার, গঙ্গাইকোন্ড চোলপুরমকে প্রায় ২৫০ আর দারাসুরমকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে বলা হয়েছে।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. UNESCO World Heritage Centre: Great Living Chola Temples
  2. UNESCO World Heritage Committee, decision 11 COM VII.A (1987): Inscription of the Brihadisvara Temple, Thanjavur
  3. UNESCO World Heritage Committee, decision 28 COM 14B.32 (2004): Extension to the Great Living Chola Temples
  4. Archaeological Survey of India: Great Living Chola Temples
  5. Press Information Bureau, 27 July 2025: Prime Minister addresses the Aadi Thiruvathirai Festival at Gangaikonda Cholapuram
  6. Press Information Bureau, Chennai, 23 July 2025: Aadi Thiruvadhirai festival at Gangaikonda Cholapuram
  7. Press Information Bureau, 27 July 2025, Tamil edition of the Prime Minister's address
  8. Press Information Bureau, Chennai, 23 July 2025, Tamil edition of the festival release
  9. Indira Gandhi National Centre for the Arts: Tanjavur Brhadisvara Temple
  10. Encyclopaedia Britannica: Brihadishvara Temple
  11. Encyclopaedia Britannica: Gangaikondacolapuram
  12. Sahapedia: The Chola temples (Crispin Branfoot, SOAS University of London)
  13. Sahapedia: In conversation with Dr R. Nagaswamy
  14. The News Minute, 28 January 2020: Thanjavur temple kumbabishekam to be held in Tamil and Sanskrit
  15. News Today, 31 January 2020: Thanjavur big temple consecration, High Court says yes to Tamil and Sanskrit
  16. Matters India, 5 February 2020: Consecration of Thanjavur's Big Temple performed

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#great living chola temples#brihadisvara temple#thanjavur#gangaikonda cholapuram#darasuram#chola architecture#unesco world heritage#tamil nadu

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারত
৪৬ কিলোমিটারের নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে ১,৮৭৭ মিটার উঠে যায়, আর সবচেয়ে খাড়া অংশটুকুর জন্য লাগে একটা দাঁতওয়ালা রেল
উটির ট্রেন চলে ঘণ্টায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার বেগে, কারণ সবচেয়ে খাড়া অংশে লাইনের মাঝখানের দাঁতওয়ালা রেলকে ইঞ্জিনটাকে আঁকড়ে ধরতে হয়। লাইনটা কীভাবে তৈরি হল, কী একে টানে, আর কীভাবে এতে চড়তে হয়, এখানে তা-ই।
কাকতীয় সেনাপতি রেচের্লা রুদ্রের হাতে ১২১৩ সালে শুরু হওয়া পালামপেটের রামাপ্পা মন্দির ২০২১ সালের ২৫ জুলাই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হয়েছে
মুলুগু জেলার ১৩ শতকের একটি শিব মন্দির দাঁড়িয়ে বালির বিছানার ওপর, চূড়া বইছে ছিদ্রযুক্ত ইটে, আর জনপ্রিয়ভাবে তার নাম রামাপ্পার নামে। এর তালিকাভুক্তি, ইউনেস্কো ও এএসআইয়ের নথি এ নিয়ে কী বলে, তা এখানে।
বোধগয়ার মহাবোধি মন্দিরের ৫০ মিটার উঁচু ইটের চূড়া পাঁচ বা ছয় শতকের, দাঁড়িয়ে আছে সেই আসনের ওপর যেখানে বৌদ্ধরা বোধিলাভ হয়েছিল বলে মানেন, আর ২০০২ সাল থেকে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান
অশোকের শিলা-অনুশাসন সম্বোধিতে, এই স্থানের পুরোনো নামে, তাঁর যাওয়ার কথা লিখেছে, আর বৌদ্ধ ঐতিহ্য বুদ্ধের বোধিলাভ এখানকার একটি গাছের নিচে বসিয়েছে। ১৮৮০-র দশকে বেগলার ও কানিংহাম মন্দির মেরামত করেছিলেন, আর বহু দেশের মঠ এখন এটিকে ঘিরে।
← সব লেখা