দুই চিকিৎসকের বিএমআই ছিল একই, ২২.৩, তবু একজনের শরীরে চর্বি ২১ শতাংশ, অন্যজনের ৯। পুনের এক চিকিৎসক তিন দশক ধরে খুঁজছেন তার কারণ।
সংবাদ

দুই চিকিৎসকের বিএমআই ছিল একই, ২২.৩, তবু একজনের শরীরে চর্বি ২১ শতাংশ, অন্যজনের ৯। পুনের এক চিকিৎসক তিন দশক ধরে খুঁজছেন তার কারণ।

ছবি: StockSnap / Pixabay

বাংলা

২০০৪ সালে দ্য ল্যানসেটে এক চিঠিতে পুনের চিত্তরঞ্জন যাজ্ঞিক আর লন্ডনের জন ইউডকিন নিজেদের শরীর তুলনা করেছিলেন: বিএমআই একই, ২২.৩, অথচ শরীরের চর্বি যাজ্ঞিকের ২১.২ শতাংশ আর ইউডকিনের ৯.১ শতাংশ। এরপর পুনে ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি মা ও শিশুদের অনুসরণ করে দেখতে চেয়েছে, আগের প্রজন্মগুলোর ক্ষুধা এই ফারাকের কিছুটা ব্যাখ্যা করে কি না। মায়ের থেকে সন্তানের দিকে যোগসূত্রের পক্ষে জোরালো প্রমাণ আছে, আর কঙ্কাল দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশীয়দের এই রোগাটে গড়ন ব্রিটিশ রাজের চেয়ে হাজার হাজার বছরের পুরোনো।

tuput সম্পাদকীয় দল · · 12 মিনিটের পাঠ

২০০৪ সালের জানুয়ারিতে দ্য ল্যানসেট “The Y-Y paradox” নামে একটা ছোট চিঠি ছাপে। লেখক ছিলেন পুনের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল (KEM) হাসপাতালের ডায়াবেটিস চিকিৎসক চিত্তরঞ্জন যাজ্ঞিক আর ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জন ইউডকিন, আর প্রমাণ ছিলেন তাঁরা নিজেরাই। দুজনেরই বডি-মাস ইনডেক্স (বিএমআই, কিলোগ্রামে ওজনকে মিটারে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করলে যা পাওয়া যায়) ছিল ২২.৩, যে সংখ্যাকে চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যকর বলে ধরেন। চিঠি থেকে পরে যে সংখ্যা জানানো হয়েছে, সে অনুযায়ী শরীর স্ক্যানে যাজ্ঞিকের ওজনের ২১.২ শতাংশ আর ইউডকিনের ওজনের ৯.১ শতাংশ ছিল চর্বি।

তার আগে প্রায় দশ বছর ধরে যাজ্ঞিকের দল পুনের কাছের গ্রামগুলোতে গর্ভবতী নারীদের, আর তারপর তাঁদের সন্তানদের, মাপজোক করছিল। পুনে ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি শুরু হয় ১৯৯৪ সালে, আর এর ঘোষিত লক্ষ্য ছিল মায়ের খাদ্য ও পুষ্টির অবস্থার সঙ্গে শিশুর জন্ম, এবং পরে শিশুটির কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকির যোগসূত্র খোঁজা। ভারতীয়রা কী খায়, তা আছে এই ধারাবাহিকের আগের লেখায়, আর রান্নাঘরে লঙ্কার আগমনের গল্প আছে ভারতীয় মশলার খোঁজে ইউরোপের অভিযানের কাহিনিতে। এই লেখা অনুসরণ করছে সেই শরীরকে, যে খাবারের মুখোমুখি হয়।

মধুমেহ

শাস্ত্রীয় সংস্কৃত চিকিৎসাগ্রন্থগুলো, ১,৫০০ বছরের বেশি পুরোনো, এই রোগের বর্ণনা আগেই দিয়েছিল এবং এর নাম রেখেছিল মধুমেহ, অর্থাৎ মধুর মতো প্রস্রাব। গবেষকেরা এই গ্রন্থগুলোর কাল নির্ধারণ করেন কয়েক শতকের ব্যবধানে, তাই কোনো একটা শতককে নিশ্চিত বলা যায় না। ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব ডায়াবেটিসে ২০১৬ সালের এক পর্যালোচনায় মারিয়ানা কারামানু ও সহকর্মীরা লিখেছেন, সুশ্রুত সংহিতার রচয়িতা শল্যচিকিৎসক সুশ্রুত লক্ষ করেছিলেন “শুধু প্রস্রাবের মিষ্টি স্বাদই নয়, ছোঁয়ায় তার আঠালো অনুভূতি আর পিঁপড়েকে আকর্ষণ করার ক্ষমতাও।” পর্যালোচনা আরও বলছে, তিনি রোগটাকে ধনী বর্ণগুলোর সঙ্গে এবং “ভাত, শস্য আর মিষ্টির মতো অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের” সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

চরক সংহিতায় প্রমেহ নিয়ে একটা অধ্যায় আছে। প্রমেহ হলো মূত্রসংক্রান্ত রোগের একটা গোষ্ঠী, যাকে পরবর্তীকালের চিকিৎসকেরা মধুমেহের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। Charaka Samhita Online সাইটের ইংরেজি অনুবাদে কারণগুলোর মধ্যে আছে “অলস জীবনযাপন, অতিরিক্ত ঘুম, দই” এবং “গুড়ের তৈরি খাবার।” একই অধ্যায়ে রোগীদের ভাগ করা হয়েছে “যারা স্থূল ও বলবান” আর “যারা কৃশ ও দুর্বল” এই দুই দলে। এই ভাগকে আধুনিক টাইপ ১ আর টাইপ ২-এর সঙ্গে মেলানো হয়নি, এবং আধুনিক পাঠকেরও গ্রন্থটার হয়ে সেটা করা উচিত নয়।

বংশগতি নিয়ে অনুবাদকেরা গ্রন্থটির বক্তব্য এভাবে দিয়েছেন: প্রমেহী পিতামাতার (বংশগত) সন্তানেরা “তাদের বীজের বিকৃতির কারণে নিরাময়যোগ্য নয়।” বীজ শব্দের অর্থ বীজ, আর অনুবাদকেরা এর ব্যাখ্যায় বলেছেন জিন। আধুনিক অর্থে জিনের কোনো ধারণা চরকের ছিল না। তিনি যা লিখে রেখেছেন, তা হলো রোগটা পরিবারে চলত।

শহুরে মধ্যবিত্তের রোগ

ব্রিটিশ ভারতে রোগটা বেশি দেখা যেত একটা সামাজিক শ্রেণিতে। সোশ্যাল হিস্ট্রি অব মেডিসিনে ডেভিড আর্নল্ডের ২০০৯ সালের প্রবন্ধ শুরু হয় এই রায় দিয়ে: “ডায়াবেটিস মূলত ভারতের শহুরে মধ্যবিত্তের রোগ, আধুনিক ভারতে ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে, অথচ ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে, এমনকি তার পরের দশকগুলোতেও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসাব্যবস্থার মনোযোগ এটা কমই পেয়েছিল।” আর্নল্ড বর্ণনা করেছেন, চিকিৎসকেরা শ্রেণি, বর্ণ, জলবায়ু আর ঔপনিবেশিক আধুনিকতার চাপ দিয়ে রোগটার ব্যাখ্যা দিতেন। তিনি যে উনিশ শতকের গবেষণাগুলোর ওপর ভর করেছেন, সেগুলো আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি, তাই এই লেখায় তার সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়নি।

একই বিএমআই, আলাদা শরীর

Y-Y প্যারাডক্স তারপর বড় সংখ্যায় পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০২১ সালে দ্য ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রাইনোলজিতে রিশি ক্যালেইয়াচেটি ও সহকর্মীরা ইংল্যান্ডের ১৪,৭২,৮১৯ জনের একটা কোহর্ট প্রকাশ করেন। তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, শ্বেতাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কদের বিএমআই ৩০ হলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের যে ঝুঁকি, সমান ঝুঁকি বহন করে কোন বিএমআই। দক্ষিণ এশীয় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উত্তর ছিল ২৩.৯। কৃষ্ণাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৮.১, চীনা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৬.৯ আর আরব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৬.৬।

এই সংখ্যাগুলো ইংল্যান্ডের, এবং সেখানে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের বিষয়ে। এগুলো নাভিদ সাত্তার ও জেসন গিলের ২০১৫ সালের একটা পর্যালোচনার সঙ্গে মেলে, যেখানে তাঁরা লিখেছেন দক্ষিণ এশীয়রা “সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর আগে এবং কম বিএমআইয়ে রোগটায় আক্রান্ত হন।” সাত্তার ও গিল সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন “শরীরের চর্বির উচ্চ শতাংশ এবং গভীর ত্বকের নিচের আর অন্ত্রাবরণীয় চর্বির উচ্চ অনুপাত”, সঙ্গে কম পেশি আর কম ফিটনেস।

রোগা-কিন্তু-চর্বিযুক্ত শিশু

যাজ্ঞিকের দল জন্মের সময়েই এই পার্থক্য খুঁজতে গিয়েছিল। ২০০৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ওবেসিটিতে প্রকাশিত পুনে ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডির প্রথম প্রতিবেদনে তাঁরা পুনের কাছের ছয়টা গ্রামে জন্মানো ৬৩১ জন পূর্ণ-মেয়াদি শিশুর মাপ নেন এবং সাউদাম্পটনের প্রিন্সেস অ্যান হাসপাতালে জন্মানো ৩৩৮ জনের সঙ্গে তুলনা করেন। ভারতীয় মায়েদের গড় ওজন ছিল ৪৪.৬ কিলোগ্রাম আর বিএমআই ১৮.২, সাউদাম্পটনের মায়েদের ৬৩.৬ কিলোগ্রাম আর ২৩.৪। ভারতীয় শিশুদের জন্মের সময় গড় ওজন ছিল ২.৭ কিলোগ্রাম, ইংরেজ শিশুদের ৩.৫।

শিশুরা প্রতিটা মাপেই ছোট ছিল, কিন্তু সমান পরিমাণে নয়। পেটের পরিধি সাউদাম্পটনের গড়ের চেয়ে ২.৩৮ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন কম ছিল। কাঁধের হাড়ের নিচের স্কিনফোল্ড কম ছিল মাত্র ০.৫৩, সব মাপের মধ্যে যেটা সবচেয়ে বেশি অটুট ছিল। লেখকেরা সিদ্ধান্তে বলেছেন: “ছোট ভারতীয় শিশুদের পেটের অন্ত্র ছোট আর পেশি কম, কিন্তু মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠার সময় তারা শরীরের চর্বি ধরে রাখে। এই দেহগঠন জন্মের পরেও থেকে যেতে পারে এবং ইনসুলিন-প্রতিরোধী অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”

২০০৮ সালে ডায়াবেটোলজিয়ায় পুনের দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি ৭০০ জন গর্ভবতী নারীকে এবং তারপর তাঁদের সন্তানদের ৬ বছর বয়স পর্যন্ত অনুসরণ করেছিল। মায়েদের দুই-তৃতীয়াংশের ভিটামিন বি১২ কম ছিল, প্রতি লিটারে ১৫০ পিকোমোলের নিচে। লেখকেরা লিখেছেন: “উচ্চ ফোলেট আর নিম্ন ভিটামিন বি১২ ঘনত্বের সমন্বয়ওয়ালা মায়েদের সন্তানেরা সবচেয়ে বেশি ইনসুলিন-প্রতিরোধী ছিল।” পরে পুনেতে হওয়া একটা ট্রায়ালের ডিজাইন-পেপারে বলা হয়েছে, বি১২-এর ঘাটতি “এই জনগোষ্ঠীতে ব্যাপক ছিল, কম খাদ্যগ্রহণের কারণে।”

নবজাতকের এই রোগা-কিন্তু-চর্বিযুক্ত গড়ন নিয়ে বিতর্ক আছে। ২০২০ সালে রেবেকা কুরিয়ানের নেতৃত্বে বেঙ্গালুরুর একটা দল জার্নাল অব নিউট্রিশনে মধ্য-আয়ের মায়েদের ১৫৬ জন সুস্থ পূর্ণ-মেয়াদি শিশুর শরীরের চর্বি সরাসরি মেপেছিল। গড় শরীরের চর্বি ছিল ৯.৮ শতাংশ, যা তাঁরা অন্যত্র প্রকাশিত অনুমানের সঙ্গে তুলনীয় পেয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন: “স্বাভাবিক জন্ম-ওজনের ভারতীয় শিশুদের মধ্যে রোগা-কিন্তু-চর্বিযুক্ত গড়ন দেখা যায়নি।” এই গবেষণায় একটা শহরের স্বাভাবিক ওজনের শিশুদের মাপা হয়েছিল, আর যাজ্ঞিকের আবিষ্কার ছিল গ্রামের ছোট শিশুদের নিয়ে, তাই দুটো ঠিক পরস্পরবিরোধী নয়। গড়নটা জন্মের সময়ই আছে নাকি শৈশবে গড়ে ওঠে, তা কোনোটাই মীমাংসা করে না।

দুর্ভিক্ষ কী রেখে যায়

এই আবিষ্কারগুলোকে যে তত্ত্ব যুক্ত করে, তার সূচনা ১৯৯২ সালে, যখন নিকোলাস হেলস আর ডেভিড বার্কার “থ্রিফটি ফেনোটাইপ” প্রস্তাব করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, খাবারের অভাবে থাকা ভ্রূণকে প্রোগ্রাম করে দেওয়া হয় শক্তি বাঁচিয়ে চলতে, আর পরে খাবার প্রচুর হয়ে গেলে সেই প্রোগ্রামিং ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। যাজ্ঞিক ও কৃষ্ণবেণী এর থেকে গড়ে ওঠা ক্ষেত্রটিকে, অর্থাৎ স্বাস্থ্য ও রোগের বিকাশগত উৎপত্তি, বর্ণনা করেছেন এই প্রস্তাব হিসেবে যে ভ্রূণের বৃদ্ধির সংকটপূর্ণ ধাপগুলোতে পুষ্টি ও অন্যান্য অবস্থা পরবর্তী জীবনে মানুষকে ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অন্য জায়গার দুর্ভিক্ষ এই ধারণাটিকে মানুষের ওপর পরীক্ষার সুযোগ দিয়েছে। ১৯৯৮ সালের দ্য ল্যানসেটের এক প্রবন্ধে র‍্যাভেলি ও সহকর্মীরা ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৫ সালের ডাচ দুর্ভিক্ষের সময়কালে আমস্টারডামে জন্মানো ৭০২ জনকে নিয়ে গবেষণা করেন। যাঁরা মায়ের গর্ভে থাকতে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাঁদের স্ট্যান্ডার্ড গ্লুকোজ পানীয়ের দুই ঘণ্টা পর রক্তে গ্লুকোজ বেশি ছিল। লেখকেরা সিদ্ধান্তে বলেছেন: “গর্ভে খারাপ পুষ্টি ইনসুলিন-গ্লুকোজ বিপাকে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটাতে পারে, এমনকি ভ্রূণের বৃদ্ধিতে প্রভাব ছোট হলেও।”

১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের চীনা দুর্ভিক্ষ ভারতের অভাবের পর প্রাচুর্যের ইতিহাসের সবচেয়ে কাছের সমান্তরাল। চীনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সেফটির লি ও সহকর্মীরা ২০১০ সালে ডায়াবেটিস জার্নালে লিখতে গিয়ে ৭,৮৭৪ জন গ্রামীণ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর গবেষণা করেছিলেন। গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রূণ অবস্থায় দুর্ভিক্ষের সংস্পর্শে আসা মানুষদের হাইপারগ্লাইসেমিয়ার সম্ভাবনা সংস্পর্শে না আসা মানুষদের তুলনায় ৩.৯২ গুণ ছিল। যাঁরা পরে সচ্ছল, পশ্চিমা ধরনের খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হন, তাঁদের মধ্যে এই সম্ভাবনা বেড়ে হয়েছিল ৭.৬৩। লেখকেরা লিখেছেন: “পরবর্তী জীবনে পুষ্টিসমৃদ্ধ পরিবেশ এই সম্পর্ককে আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে হয়।”

বাংলাদেশের মতলবে সারা ফিনার ও সহকর্মীরা ২০১৬ সালে বিএমজে ওপেনে জানিয়েছেন, ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষের সময় গর্ভে থাকা কম-ওজনের তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের গ্লুকোজ পরীক্ষার পর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গিয়েছিল। এগুলো সবই পর্যবেক্ষণভিত্তিক কোহর্টের সম্পর্ক, এর কোনোটাই নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা নয়।

ভারতের নিজের দুর্ভিক্ষের নথি অনেক পাতলা। সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিনে শঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের ২০২৬ সালের একটা গবেষণায় জাতীয় বার্ধক্য-জরিপের তথ্য ব্যবহার করে দেখা গেছে, ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের সংস্পর্শে আসা নারীরা ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার খাটো, আর যাঁরা গর্ভে থাকতে সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের উচ্চতার ঘাটতি প্রায় ৪.২ সেন্টিমিটার। এতে নিজেদের মূল্যায়নে খারাপ স্বাস্থ্যও পাওয়া গেছে। এতে ডায়াবেটিসের কোনো ফল জানানো হয়নি, আর ওই দুর্ভিক্ষের সংস্পর্শে আসা মানুষদের মধ্যে ডায়াবেটিস মেপেছে, এমন কোনো প্রকাশিত গবেষণা আমরা পাইনি।

যাজ্ঞিকের যুক্তি

যাজ্ঞিক ঐতিহাসিক যুক্তিটা নিজেই দিয়েছেন। দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়ায় ২০২৪ সালের একটা প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৮৩০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত দুই শতকে “ইউরোপীয়রা উচ্চতায় ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে, অথচ ভারতীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়রা একেবারেই বাড়েনি, কিংবা উচ্চতা হারিয়েছে।” তিনি আরও লিখেছেন: “এর কিছুটা আরোপ করা হয়েছে ঔপনিবেশিক দখলদারি আর শোষণমূলক নীতির ফল দুর্ভিক্ষের ওপর। এগুলো রোগা-কিন্তু-চর্বিযুক্ত গড়নের বিবর্তনে অবদান রেখেছে, যার কার্ডিওমেটাবলিক রোগের সহনসীমা কম।” এই বাক্যের পেছনের ঐতিহাসিক নথিতে আছে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের দুর্ভিক্ষ এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক নিষ্কাশন।

ওই অংশে যাজ্ঞিকের ক্রিয়াপদ হলো অবদান রেখেছে। একই প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন: “প্রজন্মের পর প্রজন্মে DBM [পুষ্টিহীনতার দ্বৈত বোঝা] বহনকারী জৈব একক হলো মা-শিশুর জুটি।” ২০১৭ সালে তিনি ও জি. ভি. কৃষ্ণবেণী বর্তমান ডায়াবেটিস মহামারিকে বর্ণনা করেছিলেন “দেশে বহু-প্রজন্মের মাতৃ-অপুষ্টির পটভূমিতে” উদ্ভূত বলে।

তাঁর গবেষণাগারের প্রাণীজ প্রমাণও একই দিকে ইঙ্গিত করে। আনন্দ হার্দিকর, যাজ্ঞিক ও সহকর্মীরা ২০১৫ সালে সেল মেটাবলিজমে ৫০ প্রজন্ম ধরে সীমিত খাদ্যে রাখা উইস্টার ইঁদুরের ওপর প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। ইঁদুরগুলোর জন্ম-ওজন কম ছিল, অন্ত্রাবরণীয় চর্বি বেশি ছিল আর ইনসুলিন-প্রতিরোধ ছিল, এবং স্ট্রেপ্টোজোটোসিন, ইনসুলিন-উৎপাদনকারী কোষের ক্ষতি করে এমন একটা রাসায়নিক, দিয়ে ঘটানো ডায়াবেটিসে তাদের প্রবণতা ছিল আটগুণ বেশি। অস্বাভাবিকতাগুলো “দুই প্রজন্ম ধরে বাণিজ্যিক খাবারে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরও উল্টে যায়নি।” এগুলো ছিল ইঁদুর, আর লেখকেরা শুধু এটুকু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে অপুষ্ট মানবগোষ্ঠীতেও একই পরিবর্তন অবদান রাখতে পারে।

রাজের চেয়েও পুরোনো

একটা আবিষ্কার ঔপনিবেশিক যুক্তির সবচেয়ে জোরালো রূপের বিপক্ষে যায়। ২০১৯ সালে এমা পোমেরয়, পুনের ডেকান কলেজের বীণা মুশরিফ-ত্রিপাঠী ও সহকর্মীরা সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে ১১,০০০ বছর জুড়ে ছড়ানো ১৯৭টা দক্ষিণ এশীয় কঙ্কালের বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন, যা তুলনা করা হয়েছিল বিশ্বজুড়ে ২,০০৩টা কঙ্কালের সঙ্গে। দক্ষিণ এশীয় কঙ্কালগুলো গোটা সময় ধরে কম লিন মাস, অর্থাৎ কম পেশি, দেখিয়েছে। লেখকেরা সিদ্ধান্তে বলেছেন, “অন্তত আদি হোলোসিন যুগ থেকে কম লিন মাস দক্ষিণ এশীয়দের বৈশিষ্ট্য,” এবং এটা “দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত অভিযোজন বা নিরপেক্ষ বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।”

লেখকেরা দুর্ভিক্ষগুলোকে উড়িয়ে দেননি। তাঁরা মেনে নিয়েছেন যে উনিশ শতক ও বিশ শতকের গোড়ার বারবার ঘটা দুর্ভিক্ষ “ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতির কারণে আরও খারাপ হয়েছিল,” আর এগুলো হয়তো কম লিন মাসের সঙ্গে যুক্ত জিনকে বেছে নিয়ে থাকতে পারে, কিংবা প্রজন্মের পর প্রজন্মে লিন মাস কমিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু “এই গড়নের প্রাচীনতা বিচার করলে,” তাঁরা লিখেছেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় কম লিন মাসের সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হয় জলবায়ুগত অভিযোজন, নয়তো নিরপেক্ষ বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া বলে মনে হয়।” তাঁরা যোগ করেছেন যে এই গড়ন “স্বল্পমেয়াদে ব্যাপকভাবে বদলানোর সম্ভাবনা কম।”

জিনতত্ত্ব ফাঁকটা ভরাতে পারেনি। ২০১১ সালে জাসপাল কুনার ও সহকর্মীরা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে যুক্ত ছয়টা নতুন জিন-অঞ্চল পান। অথচ সোহানি ও সহকর্মীদের ২০১৪ সালের একটা পর্যালোচনা সিদ্ধান্তে বলেছে: “দক্ষিণ এশীয়দের শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়দের চেয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের বেশি জিনগত ঝুঁকি আছে, এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই।” সাত্তার ও গিলও একইভাবে প্রধান জিনগত অবদানের “কোনো স্পষ্ট প্রমাণ” পাননি।

জনপ্রিয় “থ্রিফটি জিন” ধারণা, যে দুর্ভিক্ষ চর্বি-জমানো জিনকে বেছে নিয়েছিল, ওয়াং ও জন স্পিকম্যানের ২০১৬ সালের একটা পরীক্ষায় ভালো ফল করেনি। তাঁরা ১১৫টা বডি-মাস-ইনডেক্স জিন-বৈকল্পিকের মধ্যে ৯টাতে ইতিবাচক নির্বাচনের লক্ষণ পান, আর সেই ৯টার ৫টাতে যে বৈকল্পিক বেছে নেওয়া হয়েছিল সেটা ছিল রোগা গড়নের।

দুই গবেষণাধারাকে একসঙ্গে পড়লে অবস্থানটা এই দাঁড়ায়। রোগাটে, চর্বি-প্রবণ গড়ন অন্তত ১১,০০০ বছরের পুরোনো, দুর্ভিক্ষ হয়তো তাতে কিছু যোগ করেছে, আর এই গড়ন এখন যে খাদ্যের মুখোমুখি, যার বর্ণনা আগের লেখায় আছে, তা বদলেছে অনেক সাম্প্রতিক কালে।

মায়েদের খাওয়ানোই যথেষ্ট নয়

অপুষ্ট মায়েরা যদি সন্তানকে ঝুঁকি দিয়ে যান, তাহলে মায়েদের খাওয়ালে তা কমার কথা। হায়দরাবাদ নিউট্রিশন ট্রায়াল এটা পরীক্ষা করেছিল। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, হায়দরাবাদের কাছে ২৯টা গ্রামের মধ্যে ১৫টা গ্রামের গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী নারীরা এবং তাঁদের ছয় বছরের কম বয়সী সন্তানেরা দৈনিক প্রোটিন ও ক্যালরির সম্পূরক পেয়েছিল, আর ১৪টা গ্রাম পায়নি। বণ্টন র‍্যান্ডমভাবে করা হয়নি। সঞ্জয় কিনরা ও সহকর্মীরা ২০০৯ থেকে ২০১২ সালে গড়ে ২১.৬ বছর বয়সে ১,৮২৬ জন শিশুকে পরীক্ষা করেন, যা কোহর্টের ৭০ শতাংশ, এবং ২০২০ সালে প্লস মেডিসিনে ফলাফল প্রকাশ করেন।

সম্পূরকগুলো “সন্তানেরা তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাদের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির কারণের নিম্নতর মাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছিল না।” মাপগুলোর মধ্যে ছিল রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ধমনির পুরুত্ব আর খালি পেটে ইনসুলিন। লেখকেরা যোগ করেছেন, নীতিনির্ধারকদের উচিত মা ও শিশুর প্রোটিন-ক্যালরি খাদ্য-সম্পূরক কর্মসূচির কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের সুবিধাকে “সীমিত গুরুত্ব দেওয়া।” লেখকেরা গবেষণার সীমাবদ্ধতাগুলোর তালিকা দিয়েছেন, তার মধ্যে র‍্যান্ডমাইজেশনের অভাব আর কোহর্টের যে ৩০ শতাংশকে তাঁরা অনুসরণ করতে পারেননি তাদের থেকে সম্ভাব্য পক্ষপাত।

পুনের দল একটা ভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করছে। PRIYA ট্রায়াল শুরু হয় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে, আর এতে কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন, অন্তত তিন বছর বা তাদের প্রথম সন্তান জন্মানো পর্যন্ত, ভিটামিন বি১২, কিংবা ভিটামিন বি১২ সঙ্গে অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও গুঁড়ো দুধ, কিংবা একটা প্লাসিবো দেওয়া হয়। এর ডিজাইন-পেপারে এই অনুমান বলা হয়েছে যে এটা “তাদের সন্তানদের জন্ম-ওজন ও বি১২-এর অবস্থা উন্নত করবে এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।” ওই সন্তানদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিয়ে কোনো প্রকাশিত ফল আমরা পাইনি।

পরের প্রজন্ম

প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যাগুলো আসছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (ICMR) INDIAB সমীক্ষা থেকে। দ্য ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রাইনোলজিতে এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন ২০০৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা করা ৩১টা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১,১৩,০৪৩ জনকে নিয়ে। এতে প্রাপ্তবয়স্কদের ১১.৪ শতাংশের ডায়াবেটিস আর ১৫.৩ শতাংশের প্রি-ডায়াবেটিস পাওয়া গেছে। লেখকেরা লিখেছেন, মহামারিটা “দেশের অধিক উন্নত রাজ্যগুলোতে স্থিতিশীল হচ্ছে,” কিন্তু “অন্যান্য বেশিরভাগ রাজ্যে এখনও বাড়ছে।” ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ২০২৫ সালের অ্যাটলাস ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যায় ভারতকে চীনের পরে দ্বিতীয় স্থানে রাখে, তাই “বিশ্বের ডায়াবেটিস রাজধানী” কথাটা টেকে না।

তরুণদেরও গোনা হচ্ছে। দক্ষিণ ভারতে ২০০৬ ও ২০১৬ সালের সমীক্ষায় অরুণ নন্দিতা ও সহকর্মীরা দেখেছেন, ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ৪.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৮ শতাংশ হয়েছে। তাঁরা স্থূলতা আর ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাসকে প্রধান কারণ বলেছেন। টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটা ভিন্ন রোগ, যা ওপরের গবেষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করে না। IDF-এর হিসেবে ২০২৪ সালে ২০ বছরের কম বয়সী ৩,০১,০০০ ভারতীয় এটা নিয়ে বাস করছে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, যা প্রথম দেখা দেয় গর্ভাবস্থায়, সেই বিন্দু যেখানে চক্রটা সামনের দিকে চলে। মান্ত্রি ও সহকর্মীদের ২০২৪ সালের ১১০টা ভারতীয় প্রবন্ধের মেটা-বিশ্লেষণে সম্মিলিত প্রাদুর্ভাব দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশ, ৯৫ শতাংশ কনফিডেন্স ইন্টারভ্যাল ৯ থেকে ১৬। INDIAB দলের ২০২৫ সালের জাতীয় বিশ্লেষণে ১,০৩২ জন গর্ভবতী নারীর ওপর ব্রিটিশ NICE মানদণ্ড ব্যবহার করে পাওয়া গেছে ২২.৪ শতাংশ। মধ্য ভারতে পাওয়া গেছে ৩২.৯ শতাংশ আর পশ্চিম ভারতে ১৬ শতাংশ। মান্ত্রির দল এই ব্যবধানের কিছুটা কারণ হিসেবে দেখিয়েছে স্ক্রিনিং ও রোগনির্ণয় নিয়ে ঐকমত্যের অভাবকে।

মাইসোরের একটা কোহর্ট দেখায় এই সংস্পর্শের ফল কী। জি. ভি. কৃষ্ণবেণী ও সহকর্মীরা ৫১৪ জন শিশুকে অনুসরণ করেছিলেন, তাদের ৩৫ জন ডায়াবেটিক মায়ের সন্তান। ৯.৫ বছর বয়সে ডায়াবেটিক মায়েদের মেয়েদের স্কিনফোল্ড বড় ছিল আর ইনসুলিন-প্রতিরোধ বেশি ছিল, ডায়াবেটিস-নেই এমন বাবা-মায়ের সন্তানদের তুলনায়, আর ছেলেদের ইনসুলিন-প্রতিরোধ বেশি ছিল। লেখকেরা লিখেছেন: “ODM-রা [ডায়াবেটিক মায়েদের সন্তানেরা] যে জরায়ুগত পরিবেশ অনুভব করে, তা জিনগত কারণের চেয়ে বেশি ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বাড়ায়; শৈশবে প্রভাব আরও জোরালো হয়।” নমুনা ছোট ছিল, আর ফলাফল এসেছে একটা শহর থেকে। আগের প্রজন্মগুলোতে অপুষ্টি হয়তো ঝুঁকি সন্তানদের মধ্যে পৌঁছে দিয়েছে, আর এই কোহর্টে মায়ের ডায়াবেটিস এখন তা পৌঁছে দিচ্ছে বলে মনে হয়।

পরিবারের কত খরচ হয়

২০১২ সালে ইন্ডিয়ান CKD রেজিস্ট্রির প্রথম প্রতিবেদনে, নেফ্রোলজি কেন্দ্রগুলোর ৫২,২৭৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে নিয়ে, ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি ছিল দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ, ৩১ শতাংশ। এঁরা সেই রোগী যাঁরা বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছেছেন, তাই সংখ্যাটা বলছে কাদের চিকিৎসা চলছে, গোটা জনসংখ্যার কথা নয়।

নন্দা ও শর্মা স্বাস্থ্য-ব্যয়ের একটা জাতীয় নমুনা সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে ২০২৩ সালে হেলথ কেয়ার সায়েন্সে জানিয়েছেন, ডায়াবেটিক সদস্য আছে এমন পরিবারগুলোর প্রায় ৩৮ শতাংশের তাঁদের ১০ শতাংশ সীমা অনুযায়ী বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য-ব্যয় হয়েছিল। এমন পরিবারগুলোর প্রায় ১০ শতাংশ নিজের পকেট থেকে খরচের কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গিয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪৮.৫ শতাংশ পরিবার টাকা জোগাড় করেছিল সংকটজনক উৎস থেকে।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Yajnik CS and Yudkin JS, The Y-Y paradox, The Lancet 363(9403):163 (2004)
  2. Medical Research Council Lifecourse Epidemiology Centre: The Pune Maternal Nutrition Study
  3. Karamanou M et al., Milestones in the history of diabetes mellitus: the main contributors, World Journal of Diabetes 7(1):1 to 7 (2016)
  4. Charaka Samhita, Chikitsa Sthana: Prameha Chikitsa, Charaka Samhita Online
  5. David Arnold, Diabetes in the Tropics: Race, Place and Class in India, 1880 to 1965, Social History of Medicine 22(2) (2009)
  6. Caleyachetty R et al., Ethnicity-specific BMI cutoffs for obesity based on type 2 diabetes risk in England: a population-based cohort study, The Lancet Diabetes and Endocrinology 9(7):419 to 426 (2021)
  7. Sattar N and Gill JMR, Type 2 diabetes in migrant south Asians: mechanisms, mitigation, and management, The Lancet Diabetes and Endocrinology (2015)
  8. Yajnik CS et al., Neonatal anthropometry: the thin-fat Indian baby. The Pune Maternal Nutrition Study, International Journal of Obesity 27:173 to 180 (2003)
  9. Yajnik CS et al., Vitamin B12 and folate concentrations during pregnancy and insulin resistance in the offspring: the Pune Maternal Nutrition Study, Diabetologia 51:29 to 38 (2008)
  10. Kuriyan R et al., The Thin But Fat Phenotype is Uncommon at Birth in Indian Babies, Journal of Nutrition 150(4):826 to 832 (2020)
  11. Hales CN and Barker DJP, Type 2 (non-insulin-dependent) diabetes mellitus: the thrifty phenotype hypothesis, Diabetologia (1992), reprinted in International Journal of Epidemiology 42(5) (2013)
  12. Ravelli ACJ et al., Glucose tolerance in adults after prenatal exposure to famine, The Lancet 351(9097):173 to 177 (1998)
  13. Li Y et al., Exposure to the Chinese famine in early life and the risk of hyperglycemia and type 2 diabetes in adulthood, Diabetes 59(10):2400 to 2406 (2010)
  14. Finer S et al., Is famine exposure during developmental life in rural Bangladesh associated with a metabolic and epigenetic signature in young adulthood? BMJ Open 6(11):e011768 (2016)
  15. Mukhopadhyay S, Long-term consequences of early-life exposure to Famine: Evidence from the 1943 Bengal Famine, Social Science and Medicine 392 (2026)
  16. Yajnik CS, Early life origins of the epidemic of the double burden of malnutrition: life can only be understood backwards, The Lancet Regional Health Southeast Asia 28:100453 (2024)
  17. Yajnik CS and Krishnaveni GV, Developmental origins of diabetes: an Indian perspective, European Journal of Clinical Nutrition (2017)
  18. Hardikar AA et al., Multigenerational undernutrition increases susceptibility to obesity and diabetes that is not reversed after dietary recuperation, Cell Metabolism 22(2):312 to 319 (2015)
  19. Pomeroy E et al., Ancient origins of low lean mass among South Asians and implications for modern type 2 diabetes susceptibility, Scientific Reports 9:10515 (2019)
  20. Sohani ZN et al., Does genetic heterogeneity account for the divergent risk of type 2 diabetes in South Asian and white European populations? Diabetologia 57(11):2270 to 2281 (2014)
  21. Kooner JS et al., Genome-wide association study in individuals of South Asian ancestry identifies six new type 2 diabetes susceptibility loci, Nature Genetics 43(10):984 to 989 (2011)
  22. Wang G and Speakman JR, Analysis of positive selection at single nucleotide polymorphisms associated with body mass index does not support the thrifty gene hypothesis, Cell Metabolism 24(4):531 to 541 (2016)
  23. Kinra S et al., Effect of supplemental nutrition in pregnancy on offspring's risk of cardiovascular disease in young adulthood: long-term follow-up of a cluster trial from India, PLOS Medicine 17(7):e1003183 (2020)
  24. The Pune Rural Intervention in Young Adolescents (PRIYA) study: design and methods of a randomised controlled trial, BMC Nutrition 3:41 (2017)
  25. Anjana RM et al., Metabolic non-communicable disease health report of India: the ICMR-INDIAB national cross-sectional study (ICMR-INDIAB-17), The Lancet Diabetes and Endocrinology 11(7):474 to 489 (2023)
  26. International Diabetes Federation, IDF Diabetes Atlas, 11th edition (2025): India
  27. Nanditha A et al., The rising prevalence of type 2 diabetes among the youth in southern India: an ancillary analysis of the STRiDE-I study, Journal of Diabetes (2024)
  28. Mantri N et al., National and regional prevalence of gestational diabetes mellitus in India: a systematic review and meta-analysis, BMC Public Health 24:527 (2024)
  29. Mohan V et al., Prevalence of gestational diabetes mellitus in India: the ICMR-INDIAB national study (ICMR-INDIAB-24), Indian Journal of Medical Research 162(4):460 to 469 (2025)
  30. Krishnaveni GV et al., Intrauterine exposure to maternal diabetes is associated with higher adiposity and insulin resistance and clustering of cardiovascular risk markers in Indian children, Diabetes Care 33(2):402 to 404 (2010)
  31. Rajapurkar MM et al., What do we know about chronic kidney disease in India: first report of the Indian CKD registry, BMC Nephrology 13:10 (2012)
  32. Nanda M and Sharma R, Financial burden of seeking diabetes mellitus care in India: evidence from a nationally representative sample survey, Health Care Science (2023)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#diabetes#thin-fat indian#madhumeha#famine#gestational diabetes#icmr-indiab#public health

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: সংবাদ
ICMR ১০১ মিলিয়ন ভারতীয়ের ডায়াবেটিস গুনেছে, আর তার নিজের খাদ্য সমীক্ষা বলছে ভারতীয়দের খাবারের মাত্র ১.৪ শতাংশ জোগায় মিলেটের আটা
ICMR ২০২৩ সালে ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের ১১.৪ শতাংশের ডায়াবেটিস পেয়েছিল, আর ২০২৫ সালে তার খাদ্য সমীক্ষা দেখেছে থালার বেশিরভাগ কার্বোহাইড্রেট আসছে পরিশোধিত চাল আর ময়দা থেকে। এই গবেষণাগুলো নাম করেছে সাদা চাল, পরিশোধিত ময়দা আর চিনির। লঙ্কা, টমেটো আর আলু সেখানে নেই।
ভারতীয় শিশুরা একইসাথে চিকন আর মোটা হয়ে জন্মায়
ভারতীয়রা প্রায় আর সবার চেয়ে কম বয়সে, চিকন অবস্থায় এবং বেশি সংখ্যায় টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। এর সূত্র গর্ভে ফিরে যায়, যদিও ইন্টারনেট সংস্করণ যতটা দাবি করে ততটা দূরে নয়।
ভারত ১০,০০০ ডলারের এইডস ওষুধ বিক্রি করেছিল ৩৫০ ডলারে। ১৯৭০ সালের একটি আইন এটাকে বৈধ করেছিল।
২০০১ সালে প্রমিত এইচআইভি ওষুধের সংমিশ্রণের দাম ছিল বছরে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার। একটি ভারতীয় কোম্পানি সেটা মাত্র ৩৫০ ডলারে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এটা কোনো দাতব্য বা সৌভাগ্য ছিল না। এটা ছিল ১৯৭০ সালে পাস হওয়া এক আইনের ফল, যা বলেছিল ভারত ওষুধের ওপর পেটেন্ট দেবে না।
← সব লেখা