Skip to content
২০১৪ সাল থেকে ভারতের ইউনেস্কো অস্থায়ী তালিকায় থাকা পদ্মনাভপুরম প্রাসাদ ৬.৫ একরের একটি কাঠের সমষ্টি, তচ্চুশাস্ত্রের নিয়মে গড়া, আছে চালু ঘড়ির মিনার আর উপ্পিরিক্কা মালিকার ওপরতলায় ভিত্তিচিত্র
ভ্রমণ

২০১৪ সাল থেকে ভারতের ইউনেস্কো অস্থায়ী তালিকায় থাকা পদ্মনাভপুরম প্রাসাদ ৬.৫ একরের একটি কাঠের সমষ্টি, তচ্চুশাস্ত্রের নিয়মে গড়া, আছে চালু ঘড়ির মিনার আর উপ্পিরিক্কা মালিকার ওপরতলায় ভিত্তিচিত্র

ছবি: This Photo was taken by Timothy A. Gonsalves . Feel free to use my photos, bu... / Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (ছাঁটা)

বাংলা

পদ্মনাভপুরম প্রাসাদ বেলি পাহাড়ের পাদদেশে ১৮৫ একরের একটি দুর্গের ভেতরে ৬.৫ একর জুড়ে, আর ২০১৪ সালে ভারত ইউনেস্কোকে জানায় এটি কেরলের কাঠের কাজের নিয়ম তচ্চুশাস্ত্র মেনে বানানো। কেরল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর দেখাশোনা করে, আর সপ্তাহে ছয় দিন এটি খোলা থাকে।

· · 7 মিনিটের পাঠ

পদ্মনাভপুরম প্রাসাদ কাঠের হলঘর, প্রাঙ্গণ আর ছাদ-ঢাকা বারান্দার ৬.৫ একর (প্রায় ২.৬ হেক্টর) একটি সমষ্টি, তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলায় থুকালাইয়ের ২ কিলোমিটার পূর্বে বেলি পাহাড়ের পাদদেশে কালকুলামের ১৮৫ একরের দুর্গের ভেতরে। ইউনেস্কোতে ভারতের জমা দেওয়া আবেদন বলছে এটি তচ্চুশাস্ত্রের নিয়ম মেনে বানানো, কাঠের কাজের বিজ্ঞান, যা অনুপাত, মাপ, দিক, অবস্থান আর পদ্ধতি স্থির করে দেয়। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ভারত এটিকে সাংস্কৃতিক মানদণ্ড (iii) আর (iv)-এর অধীনে ইউনেস্কোর অস্থায়ী তালিকায় রাখে। এটি অস্থায়ী তালিকার ভুক্তি, বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নথিভুক্ত নয়।

প্রাসাদটি তামিলনাড়ুতে, কিন্তু চালায় কেরল। ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠনের মীমাংসায় ৬.৫ একরের সমষ্টিটি কেরল সরকারের হেফাজতেই থেকে যায়, আর এটি কেরল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি সংরক্ষিত স্মারক। ইউনেস্কোর ভুক্তিতে তিরুবনন্তপুরমের দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, আর কেরল ট্যুরিজম কন্যাকুমারীর পথে সড়কপথে ৬৪ কিলোমিটার বলেছে। সংখ্যা কেন আলাদা, সূত্রগুলো তা বলেনি।

তচ্চুশাস্ত্র একজন নির্মাতার কাছে কী চায়

ইউনেস্কোর ভুক্তি ত্রিবাঙ্কুর অঞ্চলকে কাঠে সমৃদ্ধ বলে বর্ণনা করেছে, যেখানে ল্যাটেরাইট পাথর কম ব্যবহার হতো ভিত আর কয়েকটি দেয়ালে, আর কাঠের ছাদ-কাঠামোর ওপর মাটির টালি। সেখানকার ভবনগুলো মানত যাকে ভুক্তিটি সূত্র বলেছে, বছরের পর বছর নির্মাণের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা, যা অনুপাত, মাপ, দিক, অবস্থান আর পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে। লেখাটি একে বলেছে “কাঠের স্থাপত্যের একটি জিনগত সংকেত”। এটি যোগ করেছে যে তচ্চুশাস্ত্র হিন্দু ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় নীতি থেকে গড়ে উঠেছিল আর বিশেষ করে কেরলের জন্য বিধান স্থির করেছিল।

প্রাসাদের নিজের ইতিহাসের পাতা নিয়মগ্রন্থের জন্য ভিন্ন একটি নাম ব্যবহার করেছে। সেখানে বলা হয়েছে মার্তণ্ড বর্মা বাস্তুশাস্ত্রের, ভারতীয় নির্মাণবিজ্ঞানের, গ্রন্থ থেকে “কঠোর নীতি অনুসরণ করে” বর্তমান কাঠামোর অনেকগুলো সংস্কার ও নির্মাণ করেছিলেন। কেরল ট্যুরিজমও বলছে তাঁর অধীনে বাস্তুশাস্ত্রের নীতি ব্যবহৃত হয়েছিল। দুটি শব্দই সরকারি নথিতে আছে, আর কোনো সূত্রই নির্দিষ্ট গ্রন্থের নাম করেনি।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্থাপত্যের পাতা শৈলীকে জলবায়ুর সঙ্গে জুড়েছে। ভারী বর্ষা আর আর্দ্র গরম খাড়া ছাদ ব্যাখ্যা করে, আর অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণগুলো আলোর কূপের মতো কাজ করে, হাওয়া ও দিনের আলো আনে। ছাদ-ঢাকা বারান্দা আর ওপরের হাঁটাপথ ভবনগুলোকে জুড়েছে। পাতাটি বলছে ভিত আর নিচতলার স্তম্ভে কাছের খনির পাথর গেছে, কাঠ দিয়ে হয়েছে দেয়াল, ছাদ-কাঠামো, স্তম্ভ ও কড়িকাঠ, আর পোড়া ইট আর চুনের মশলা বেশির ভাগ ভেতরের কাঠামোয় ব্যবহৃত হয়েছে। ইউনেস্কোর লেখা কাঠের ওপর জোর দেয়, আর প্রাসাদের পাতা আরও বেশি গাঁথুনির তালিকা দেয়।

সবচেয়ে পুরোনো ভবন আর বাকিগুলো কীভাবে যোগ হলো

কেন্দ্রে আছে থাই কোট্টারম, যাকে মাতৃপ্রাসাদও বলা হয়। ইউনেস্কো একে বর্ণনা করেছে দোতলা নালুকেট্টু হিসেবে, খোলা প্রাঙ্গণের চার দিকে ঘরওয়ালা একটি বাড়ি, মশলাহীন ছেনি-করা গ্র্যানাইটের ভিতের ওপর কাঠের উপরিকাঠামো আর খাড়া কাঠের ছাদসহ। প্রাসাদের পাতা প্রাঙ্গণের চারপাশে নয়টি ঘর গুনেছে, যা সূক্ষ্মভাবে কাটা পাথরে বাঁধানো। ভেতরের বারান্দার পশ্চিম দিকের একটি চোরা দরজা নিয়ে যায় একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষ আর একটি সুড়ঙ্গে, যা একসময় ভবনটিকে চারোদে প্রাসাদের সঙ্গে জুড়েছিল, সেটি এখন আর নেই।

শুরুর তারিখ সূত্রভেদে আলাদা। ইউনেস্কোর ভুক্তি ত্রিবাঙ্কুর শাসকদের প্রাসাদের সময় দিয়েছে প্রায় ১৫৫০ থেকে ১৭৫০ আর পদ্মনাভপুরমকে রাজধানী প্রায় ১৫৫৫ থেকে। প্রাসাদের ইতিহাসের পাতা বলছে মুদালিয়ার নথি ইঙ্গিত দেয় কালকুলাম দুর্গ ১৬০০-এর ঠিক আগে উঠেছিল, ইরবি বর্মা কুলশেখরনের (১৫৯২ থেকে ১৬০৯) রাজত্বে, আর থাই কোট্টারমকে বলেছে ইরবি বর্মা কুলশেখর পেরুমালের ১৬শ শতকের কাজ। ইউনেস্কো কাঠামোগুলোর সময় দিয়েছে ১৫৯০-এর দশক থেকে ১৮০০-র গোড়া।

প্রায় ১৭৫০ সালে, ইতিহাসের পাতা বলছে, মার্তণ্ড বর্মা (রাজত্ব ১৭২৯ থেকে ১৭৫৮), কোলাচেলের যুদ্ধের রাজা, প্রাসাদ আর দুর্গ নতুন করে গড়েন এবং রাজপরিবারের আরাধ্য দেবতা শ্রী পদ্মনাভস্বামীকে উৎসর্গ করেন। তারপর থেকে পুরোনো কালকুলাম প্রাসাদ পরিচিত হয় পদ্মনাভপুরম নামে। তাঁর উত্তরসূরি কার্তিকা তিরুনাল রাম বর্মা (রাজত্ব ১৭৫৮ থেকে ১৭৯৮) একে প্রধান রাজকীয় বাসস্থান হিসেবে ধরতেন।

ইউনেস্কো ১৪টি বিশেষভাবে বানানো কাঠামোর তালিকা দিয়েছে, বসবাসের কক্ষ, ভোজনকক্ষ, অস্ত্রাগার আর নাচের হলঘরসহ। প্রাসাদের নিজের পাতাগুলো বলছে “১৫টিরও বেশি ভবন”।

মন্ত্রণাকক্ষ, ঘড়ি আর ভোজনকক্ষ

মন্ত্রশালা সেই দরবারকক্ষ, যেখানে রাজা মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতেন। এর ছাদে পদ্মের নকশা আর গজলক্ষ্মীর, সমৃদ্ধির দেবী যাঁকে দুটি হাতির সঙ্গে দেখানো হয়, খোদাই করা ফলক আছে, আর প্রাসাদ বলছে বিশ্বাস করা হয় রাজার আসন ছিল ওই ফলকের নিচে। মেঝে কালো আর চকচকে। প্রাসাদ বলছে সঠিক উপকরণ-তালিকা অজানা, তবে বিশ্বাস করা হয় এতে চুন, পোড়া নারকেলের খোল, কচি নারকেলের জল, বালি আর গাছের নির্যাস মেশানো ছিল। একটি বড় ঝুল-বারান্দায় গাঁথা বসার জায়গা আছে, আর আসনের নিচের কাঠের ফলকের আড়ালে ছোট ছোট ভাণ্ডার-কুঠুরি, যা সম্ভবত ভেজা বেনার মূলের আঁটি রাখতে ব্যবহার হতো, যার সুগন্ধ ভেতরে আসা হাওয়াকে ঠান্ডা করত।

ঘড়ির মিনার, মণি মেডা, দাঁড়িয়ে আছে প্রবেশকক্ষ পূমুখমালিকার উত্তর অংশে। প্রাসাদ বলছে ঘড়িটি, যাতে রোমান সংখ্যা আছে আর যা ভারী দোলকে নিয়ন্ত্রিত ওজন ও কপিকলে চলে, অনুমান প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। একটি জনপ্রিয় গল্প কৃতিত্ব দেয় এক স্থানীয় কামারকে, যে স্প্যানিশ পাদ্রিদের কাছে ঘড়ি বানানো শিখেছিল, আর প্রাসাদ জানিয়েছে এর পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক নথি নেই। কেরল ট্যুরিজম বলছে ঘড়িটি এখনো চলে।

পূমুখমালিকার ছাদে ৯০টি ফুলের নকশা আছে, প্রতিটি আলাদা, প্রাসাদ অনুযায়ী। ইউনেস্কো ভোজনকক্ষ ভালিয়া ওট্টুপুরার দুটি তলাকে প্রতিটি ৭২ বাই ৯ মিটার বলেছে এবং বলেছে বিনামূল্যে ভোজনের সময় এখানে ২,০০০ মানুষ ধরত। প্রাসাদ ২,০০০ সংখ্যাটি স্থানীয় সূত্রের বলে উল্লেখ করেছে।

থেক্কে থেরুভু মালিকার পূর্ব প্রান্তে আম্বারি মুখাপ্পু হাতির হাওদার আকারের একটি ঝুল-বারান্দা, পাঁচটি খোলা অংশ আর ঠেকনা হিসেবে খোদাই করা ব্যালি, পৌরাণিক জন্তুসহ।

কাঠের প্রাসাদে গ্র্যানাইট

নবরাত্রি মণ্ডপম, অনুষ্ঠানের হলঘর, একমাত্র পাথরে গড়া প্রদর্শনী-ভবন। এর একশিলা গ্র্যানাইট স্তম্ভ বিজয়নগর ধাঁচে খোদাই করা (যে সাম্রাজ্য শাসন করত হাম্পি থেকে তার শৈলী) ফুল ও জ্যামিতিক ফিতায়। ইউনেস্কো এটি আর সরস্বতী মন্দিরের সময় দিয়েছে ১৭৪৪। প্রাসাদ বলছে এটি মার্তণ্ড বর্মার রাজত্বে একটি পুরোনো কাঠের হলঘরের জায়গায় তোলা হয়েছিল। ১৯৩৫ সালের সংস্কারের সময়, ত্রিবাঙ্কুর সরকারের শিল্প উপদেষ্টা জে. এইচ. কাজিন্স আর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান আর. বাসুদেব পোদুভালের অধীনে, দেখা যায় হলঘর আর তার ছাদ চুনের অনেক স্তরের নিচে চাপা পড়ে আছে।

উপ্পিরিক্কা মালিকা আর তার ভিত্তিচিত্র

উপ্পিরিক্কা মালিকা থাই কোট্টারমের উত্তর-পশ্চিমে একটি বহুতল ভবন। প্রাসাদের পাতা এর নির্মাণের সময় দিয়েছে ১৭৪৫, মার্তণ্ড বর্মার অধীনে, আর ইউনেস্কো দিয়েছে ১৭৫০। নিচতলায় ছিল ভাণ্ডার আর তার ওপরে রাজার শয়নকক্ষ। দ্বিতীয় তলা ছিল ধ্যান ও উপবাসের হলঘর, আর ওপরতলা প্রভু পদ্মনাভকে উৎসর্গিত, সেখানে একটি প্রদীপের সামনে একটি আনুষ্ঠানিক তলোয়ার রাখা আছে।

ভিত্তিচিত্র আছে ওই ওপরতলার দেয়ালে। ইউনেস্কো এগুলোকে কেরলের সবচেয়ে ভালো সংরক্ষিত বলেছে এবং বলেছে এতে ১৭শ ও ১৮শ শতকের শৈলী দেখা যায়, ধর্মীয় দৃশ্যের সঙ্গে কিছু ধর্মনিরপেক্ষ বিষয়ও। কেরল ট্যুরিজম তালিকা দিয়েছে অনন্তশয়ন (অনন্ত নাগের ওপর শায়িত বিষ্ণু), গোপিনীদের মাঝে বাঁশি বাজানো কৃষ্ণ, আর অর্ধনারীশ্বর রূপে শিব। কেরল ট্যুরিজমের একটি প্রবন্ধ বলছে এগুলো ১৮শ শতকের মাঝামাঝি সময়ের বলে বিশ্বাস করা হয় আর পরে কেরলের অন্যান্য প্রাসাদের ভিত্তিচিত্রকে প্রভাবিত করেছিল, আর কেরল ট্যুরিজমের গন্তব্য-পাতা বলছে ১৭শ শতকের ভিত্তিচিত্র। হেরিটেজ জার্নালে ২০২১ সালের একটি প্রবন্ধ, কাজিন্সের ১৯৪১ সালের বিবরণ উদ্ধৃত করে, বলছে সময় নিয়ে মতভেদ আছে আর ঐতিহাসিক নথি নীরব।

প্রাসাদের পাতা কাজিন্সকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, একজন মার্কিন শিল্প-ইতিহাসবিদ ভিত্তিচিত্রগুলো দেখে বলে উঠেছিলেন, “এই তো তোমাদের অজন্তা!” এটি যোগ করেছে, চিত্রশিল্পী অমৃতা শের-গিল ১৯৩৬ সালে এসে এগুলো অধ্যয়ন করেছিলেন। একই প্রবন্ধ জানিয়েছে ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৭ সালের সংরক্ষণ কর্মসূচিতে ৪৫টিরও বেশি কাজ ছিল, তার মধ্যে ভিত্তিচিত্রের ঘরের ছাদ ও মেঝে মেরামত আর দুটি ফলকের পূর্ণ মাপের রঙিন অনুলিপি। ইউনেস্কোর ভুক্তি বলছে ১৯৯৩ সালে সমষ্টির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি জাদুঘর ভবন চালু হয়েছিল, আর একই প্রবন্ধ এর প্রদর্শনীর মধ্যে দেয়ালচিত্রের অনুলিপির কথা তালিকাভুক্ত করেছে। প্রাসাদ বলছে ওপরতলার ঘরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত।

নীরবতার বছর আর দ্বিতীয় জীবন

১৮০৯ সালে, বেলু থাম্পি দলওয়ার নেতৃত্বে বিদ্রোহের সময়, ব্রিটিশ বাহিনী পদ্মনাভপুরম আর উদয়গিরি দুর্গ দখল করে। রাজপরিবার পরে তিরুবনন্তপুরমে বসতি গড়ে, যদিও স্বাতী তিরুনাল রাম বর্মার (১৮১৩ থেকে ১৮৪৬) সময়েও নবরাত্রি উৎসব পদ্মনাভপুরমেই হতো। পাতাটি বলছে ১৮৩৯ সালের পর প্রাসাদের পতন দ্রুত হয়, যখন এটি উৎসবের স্থায়ী স্থান থাকল না, আর স্থানীয়রা বিশ্বাস করতে শুরু করে এটি ভুতুড়ে।

পাতাটি বর্ণনা করেছে ১৮৯৪ সালের ১৮ নভেম্বরের একটি সফর, যে দলে ছিলেন চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মা আর তাঁর ভাই সি. রাজা রাজা বর্মা। ১৯৩৪ সালে, পাতা অনুযায়ী, শেষ মহারাজা শ্রী চিত্তিরা তিরুনাল বালা রাম বর্মা আর রাজমাতা সেতু পার্বতী বাঈয়ের সহায়তায় কাজিন্স ও পোদুভাল সমষ্টিটি “পুনরাবিষ্কার” করেন, আর ১৯৩৫ সালে এটি জাদুঘর-সমষ্টিতে পরিণত হয়। জার্নাল প্রবন্ধ, কাজিন্সকে উদ্ধৃত করে, এর শিল্পমূল্যের পুনরাবিষ্কারের সূচনা বসিয়েছে ১৯৩৫ সালে, রাজমাতার পরামর্শে দেয়ালচিত্রের খোঁজের ফল হিসেবে। ১৯৯৩ সাল থেকে থেক্কে কোট্টারম, মূল সমষ্টির দক্ষিণের একটি আলাদা বাড়ি, গৃহস্থালির জিনিসের একটি ঐতিহ্য-জাদুঘর।

নবরাত্রির শোভাযাত্রা এখনো এখান থেকেই শুরু

প্রাসাদ আজও একটি বার্ষিক শোভাযাত্রার সূচনাস্থল। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর, ইউএনআই জানিয়েছে, উপ্পিরিক্কা মালিকায় ত্রিবাঙ্কুরের মহারাজার তলোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর সরস্বতী, বেলিমলা কুমারস্বামী আর সুচীন্দ্রম মুন্নুট্টিনাঙ্গার মূর্তি তিরুবনন্তপুরমের উদ্দেশে রওনা দেয়, পৌঁছানোর নির্ধারিত দিন ছিল ১১ অক্টোবর। পিটিআই ২৪ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল শোভাযাত্রায় একটি রুপোর ঘোড়া আর প্রাসাদে রাখা তলোয়ারও থাকবে।

দেখতে যাওয়া

প্রাসাদের ওয়েবসাইট আর কেরল ট্যুরিজম, দুটিই ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পড়া, খোলার সময় দিয়েছে সকাল ৯টা থেকে ১২:৩০ আর দুপুর ২টা থেকে ৪:৩০, সোমবার বন্ধ। প্রাসাদের সাইট জাতীয় ও উৎসবের ছুটির একটি তালিকায় বন্ধের কথাও যোগ করেছে। দুটিই ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা আর বিদেশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০০ টাকা দিয়েছে, শিশুদের টিকিট ১০ টাকা ও ১০০ টাকা, যদিও মূল্য বদলাতে পারে। কেরল ট্যুরিজম প্রাসাদকে কন্যাকুমারীর পথে থুকালাইয়ে বসিয়েছে। ক্যামেরা আর স্থির ও ভিডিও সরঞ্জামের জন্য আলাদা ফি আছে, আর সাইট পেশাদার চিত্রগ্রহণের জন্য ১০,০০০ টাকার জামানত তালিকাভুক্ত করেছে।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. UNESCO World Heritage Centre: Padmanabhapuram Palace, Tentative List entry 5897, submitted by India on 15 April 2014 (read 5 November 2026)
  2. Kerala Tourism, Government of Kerala: Padmanabhapuram Palace (read 5 November 2026)
  3. Kerala Tourism, Government of Kerala: Mural heritage of Kerala (Enchanting Kerala newsletter, 2010)
  4. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): History
  5. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Architecture
  6. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Thai Kottaram
  7. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Uppirikka Malika
  8. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Mantrashala
  9. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Mani Meda, the clock tower
  10. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Navarathri Mandapam
  11. Padmanabhapuram Palace (Department of Archaeology, Kerala): Visit the palace, timings and fees (read 5 November 2026)
  12. Sumitha S. S., Protection and Preservation of Monuments: Endeavors of Department of Archaeology, Kerala State, Heritage: Journal of Multidisciplinary Studies in Archaeology 9 (2021-22): 565-581
  13. UNI: Sacred Navaratri procession begins from Padmanabhapuram with royal sword handover (9 October 2026)
  14. PTI via ThePrint: Navaratri procession, Keralam steps up security, traffic arrangements (24 September 2026)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#padmanabhapuram palace#travancore#taccusastra#kerala architecture#uppirikka malika#kerala murals#unesco tentative list#kanyakumari

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ভ্রমণ
শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথস্বামী মন্দির সাত প্রাকারের ভেতরে ১৫৬ একর জুড়ে, ২১টি গোপুরম, বাইরের বলয়ে একটি জনপদ আর ৬৪০-এর বেশি প্রকাশিত শিলালিপিসহ
আধা মন্দির আর আধা নগর শ্রীরঙ্গম, যেখানে আছে চোল রাজাদের নামে প্রাচীর, ১২৫৭ সালে নথিভুক্ত এক হাসপাতাল আর ১৯৮৭ সালে সম্পূর্ণ হওয়া এক মিনার। কিছু গণনায় সূত্রগুলো একমত নয়, আর এই লেখা দেখিয়েছে কে কী বলে।
সিরপুরের ইটের মন্দির, বারাটাংয়ের কাদা-আগ্নেয়গিরি আর ব্যারেন দ্বীপ ও নারকোন্ডামের আগ্নেয়গিরি ভারতের ইউনেস্কো অস্থায়ী তালিকায় যুক্ত হল, যাতে এখন ৮১টি এন্ট্রি
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শতকের নদীতীরের ইটের মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের রাজধানী, ঠান্ডা কাদার চারটি ফোয়ারা-গুচ্ছ আর পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ১৩৮ ও ২৪০ কিলোমিটার দূরের দুটি আগ্নেয় দ্বীপ এখন ভারতের জন্য ইউনেস্কোর অপেক্ষা-তালিকায়।
গুজরাতের মোধেরা সূর্য মন্দিরের কাল ধরা হয় প্রায় ১০২৬ থেকে ১০২৭ সাল, তা পূর্বমুখী, সামনে ১৭৬ বাই ১২০ ফুটের ধাপযুক্ত সূর্যকুণ্ড, আর ২০২২ সাল থেকে এটি ভারতের ইউনেস্কো সাময়িক তালিকায় আছে
পুষ্পবতী নদীর ধারের একটি গ্রামে আছে গুজরাতের সবচেয়ে ভালো টিকে থাকা সোলাঙ্কি মন্দিরগুলোর একটি, প্রায় এক হাজার বছর পরেও তার স্তম্ভযুক্ত মণ্ডপ আর ধাপযুক্ত কুণ্ড দাঁড়িয়ে আছে। এই নির্দেশিকা তারিখযুক্ত পাথরকে কাল নিয়ে আন্দাজ থেকে আলাদা করে, আর বলে সরকারি পর্যটন পাতাগুলো ভ্রমণের জন্য কী জানায়।
← সব লেখা