Skip to content
কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান যুদ্ধকালীন সংবাদপত্র-বিধির মধ্যেই ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্ট থেকে অনাহারী মানুষের ছবি ছাপে, আর সরকারের নিজের তদন্ত পরে একে জনসেবা বলেছিল
ব্রিটিশ রাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান যুদ্ধকালীন সংবাদপত্র-বিধির মধ্যেই ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্ট থেকে অনাহারী মানুষের ছবি ছাপে, আর সরকারের নিজের তদন্ত পরে একে জনসেবা বলেছিল

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

ইয়ান স্টিফেন্সের কলকাতার দৈনিক ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্ট, রোববার, থেকে শহরের রাস্তায় মরতে থাকা মানুষের ছবি ছাপতে শুরু করে, সেই সময়ে যখন সরকারি বার্তায় দুর্ভিক্ষের জায়গায় লেখা হচ্ছিল ‘খাদ্য পরিস্থিতি’। দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশন বলেছিল পত্রিকাটি জনসেবা করেছে, আর লর্ড ওয়াভেল ভাইসরয় হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে সেনাবাহিনী কলকাতা থেকে সরানো শস্যের পরিমাণ দিনে ৯০০ থেকে ২,০০০ টনে তুলেছিল।

· · 8 মিনিটের পাঠ

কলকাতার দ্য স্টেটসম্যান ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্টের রোববারের সংস্করণে শহরের রাস্তায় অনাহারী মানুষের একটি ছবির সিরিজ ছাপে। ভারত সরকারের নিজের দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশন তার ১৯৪৫ সালের Report on Bengal-এ বলেছিল, দুর্ভিক্ষের শিকারদের বেশিরভাগ ভয়াবহ ছবি তোলা হয়েছিল সেই সপ্তাহগুলোতে যখন নিঃস্ব গ্রামবাসীরা কলকাতার ফুটপাতে পড়ে ছিল, স্টেটসম্যানের ছবি “বিশ্বকে বাংলার দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার সঙ্গে পরিচিত করেছিল”, আর সেগুলো ছেপে পত্রিকাটি “মূল্যবান জনসেবা করেছিল”।

জোয়ানা সিমোনোর ত্রাণ-প্রচেষ্টা বিষয়ক অনলাইন অ্যাটলাস নিবন্ধ অনুযায়ী পত্রিকাটির মালিকানা ছিল ইংরেজদের, সম্পাদক ছিলেন ইয়ান এম. স্টিফেন্স (১৯০৩ থেকে ১৯৮৪)। এই লেখায় আছে সংবাদপত্র কী ছাপতে পারত, স্টেটসম্যান ও ভারতীয় কাগজ কী ছাপল, লন্ডন কীভাবে সাড়া দিল, আর নতুন ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেলের অধীনে সেনাবাহিনীর ত্রাণে নামা নিয়ে নথি কী দেখায়। শস্য ও জাহাজের রেকর্ড আছে সরকারি নথি নিয়ে আমাদের বিবরণে, আর আমাদের ছোট লেখাটি যুক্তিটি সংক্ষেপে দিয়েছে।

সংবাদপত্র যে বিধির অধীনে কাজ করত

১৯৪৩ সালের ৪ নভেম্বর ভারতের সেক্রেটারি অব স্টেট লিও অ্যামেরি কমন্স সভায় আইনি অবস্থান জানান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার প্রেস উপদেষ্টা কমিটিগুলোর সঙ্গে কাজ করে ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোকে “প্রয়োজনীয় যেকোনো বিধিনিষেধ” নিজেরা আরোপ করতে উৎসাহ দেয়, আর ১৯৩১ সালের ভারতীয় সংবাদপত্র (জরুরি ক্ষমতা) আইন এবং ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া রুলসের ৪০ ও ৪১ নম্বর বিধির অধীনে আদেশ জারির ক্ষমতা রাখে। আদেশগুলো প্রদেশ ভেদে আলাদা ছিল এবং সব সময় পর্যালোচনায় ছিল, তাই তিনি বিস্তারিত দিতে পারেননি।

সিমোনো লিখেছেন, ১৯৩৯ সালের ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া আইন আগে থেকে থাকা সংবাদপত্র-আইনে একটি হাতিয়ার যোগ করে, যা কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধপ্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর মনে হওয়া ছাপা বন্ধ করতে দিত। তাঁর বিবরণে সরকারি বার্তায় “দুর্ভিক্ষ” আর “অনাহার” শব্দ প্রায়ই কেটে “খাদ্য পরিস্থিতি” বসানো হতো। তাঁর উদ্ধৃত স্টিফেন্সের স্মৃতিকথা Monsoon Morning (১৯৬৬) বলছে বার্তায় “খাদ্য সংকট” থাকত।

সেই বছরই ভারতীয় সংবাদপত্রের ওপর বিধিগুলো প্রয়োগ হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের ২১ জানুয়ারি অ্যামেরি কমন্স সভাকে বলেন, অধ্যাপক ভানসালির অনশন নিয়ে বার্তা নিষিদ্ধ করার আদেশের প্রতিবাদে ৬ জানুয়ারি হিন্দু জাতীয়তাবাদী কাগজগুলোর বেশিরভাগ প্রকাশিত হয়নি, যিনি চিমুরে সেনা ও পুলিশের কথিত বাড়াবাড়ির তদন্ত চেয়েছিলেন। এরপর বিধিনিষেধ কিছুটা বদলানো হয়। কংগ্রেস শিবিরের বাইরের কাগজ সহ বেশিরভাগ ভারতীয় কাগজ প্রতিবাদ করেছিল কি না জিজ্ঞেস করা হলে অ্যামেরি উত্তর দেন “হ্যাঁ, স্যার।” কর্ম্যাক ও গ্রাডা যোগ করেছেন, মেদিনীপুরে ১৯৪২ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘূর্ণিঝড়ের খবর বাংলার একজন সিনিয়র মন্ত্রীর কাছে পৌঁছতে প্রায় পনেরো দিন লেগেছিল, আর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (দেখুন ১৯৪২ নিয়ে আমাদের বিবরণ) সমর্থক কাগজগুলোকে সেন্সর করা হয়েছিল বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ও গ্রাডার একই গবেষণাপত্র বলছে, সরকার দুর্ভিক্ষের খবর নিষিদ্ধ করেনি, প্রত্যক্ষভাবে অন্তর্ঘাতমূলক বলে বিবেচিত নয় এমন সংবাদপত্রও নয়। অমৃতবাজার পত্রিকা আর হিন্দুস্তান টাইমস প্রকাশিত হতেই থাকে, তিনি লিখেছেন, যদিও সম্ভবত নিজেরা নিজেদের সেন্সর করত। ২০১৮ সালে ডন-এ পুনর্মুদ্রিত নিখিল ভারত সংবাদপত্র সম্পাদক সম্মেলনের একটি প্রতিবেদন দেখায় বিধি স্বয়ং দুর্ভিক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছিল: স্ট্যান্ডিং কমিটি পত্রিকার দুর্ভিক্ষ বিষয়ক খবর ও প্রবন্ধের আগাম সেন্সরশিপকে “সম্পূর্ণ অনাবশ্যক” বলে, আর বলে সরকার বাংলার প্রেস উপদেষ্টা কমিটির পরামর্শ অগ্রাহ্য করেছে। সংবাদ-ওয়েবসাইট কোডা স্টোরি বলছে জরুরি বিধি “দুর্ভিক্ষ” শব্দটিই সরাসরি নিষিদ্ধ করেছিল। এখানে খোলা সূত্রগুলোর কোনওটিতেই এমন নিষেধাজ্ঞার পাঠ ছাপা নেই।

মাসের পর মাস সরকারি সুরে

১৯৪৩ সালের নথি ও কাগজ পড়া ও গ্রাডা দেখেছেন, আগস্টের আগে কয়েক মাস স্টেটসম্যান “সরকারি সুরে চলত, স্থানীয় ব্যবসায়ী আর উৎপাদকদের গালমন্দ করত, আর মন্ত্রীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করত”। তিনি পরিবর্তনের তারিখ ধরেছেন জুলাইয়ের শুরু, যখন একটি সম্পাদকীয়তে “আরও বেশি এবং সস্তা খাদ্যের” দাবি তোলা হয়। ১৩ আগস্ট নাগাদ তা লিখছিল “এই দারিদ্র্য আর ভাঙনের মাসের পর মাস আসতে বাকি, তা স্পষ্ট”, এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে সরকারি অভিযানের পেছনে জনসাধারণকে জড়ো হতে বলা বক্তৃতাগুলো নিয়ে অধৈর্য হয়ে ওঠে।

স্টিফেন্স পরে বলেছিলেন পত্রিকা ১৯৪৩ সালের মার্চ থেকেই বিপদের ঘণ্টা বাজাচ্ছিল। ও গ্রাডা একমত নন, তিনি স্মৃতিকথার ১৬৯ থেকে ১৯৭ পৃষ্ঠা এবং পল গ্রিনোর দুর্ভিক্ষ-গবেষণার উল্লেখ করেছেন। তিনি যোগ করেছেন, পত্রিকা পরে স্বীকার করেছিল সেও মিথ্যা আশায় প্রতারিত হয়েছিল।

১৯৪৩ সালের ২২ আগস্ট, রোববার

সিমোনো লিখেছেন, নামী ইংরেজি দৈনিক হিসেবে স্টেটসম্যানের মর্যাদা তাকে সংবাদপত্র-বিধি যাচাই করে দেখার জায়গা দিয়েছিল, আর তার ছবি ছাপা হয় ১৯৪৩ সালের ২২ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৯৪৪ সালের জানুয়ারিতে সেগুলো “Maladministration in Bengal” নামে বিশেষ সংস্করণে পুনর্মুদ্রিত হয়। তাঁর অনলাইন অ্যাটলাস নিবন্ধে তিনি বলেছেন, সমালোচনামূলক সম্পাদকীয় মনোযোগ টানতে ব্যর্থ হওয়ার পর স্টিফেন্স ছবির দিকে যান, জরুরি বিধির ফাঁক ব্যবহার করে। কোডা স্টোরিও একইভাবে বলছে তিনি সেন্সরশিপ-বিধির একটি ফাঁক ব্যবহার করেছিলেন। এখানে খোলা কোনও সূত্র বলে না ফাঁকটি কোন বিধিতে ছিল, বা স্টিফেন্স ও সেন্সরদের মধ্যে চিঠি-চালাচালি ছাপে না, আর Monsoon Morning, যার দুর্ভিক্ষ-সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর নাম “Famine: Preliminary” ও “Famine: A Campaign”, খুলে দেখা যায়নি।

কমিশন অক্টোবরের মাঝামাঝি কলকাতায় নিঃস্ব মানুষের সংখ্যা ধরেছিল প্রায় ১,০০,০০০। ফ্রেন্ডস অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটের জে. আর. সিমন্ডস কে. সন্তানমের ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত একটি সংকলনে লিখেছেন, আগস্টে, “যখন স্টেটসম্যানের জোরালো প্রবন্ধ আর ভয়াবহ ছবি কলকাতার অবস্থা গোটা বিশ্বের সামনে আনল”, শহর জুড়ে বিনামূল্যের রান্নাঘর গজাতে শুরু করে। কমিশন নথিভুক্ত করেছে, সেপ্টেম্বর থেকে যেকোনো নিঃস্ব ব্যক্তি চাইলে রান্না করা খাবারের একটি ছোট দৈনিক বরাদ্দ পেতেন।

কমিশনের “প্রথমবারের মতো” কথাটি প্রশ্নসাপেক্ষ। সিমোনোর অ্যাটলাস নিবন্ধ বলছে স্টেটসম্যানের সিরিজের কয়েক মাস আগে থেকেই বাংলার ভারতীয় সংবাদপত্রে দুর্ভিক্ষের ছবি ছাপা হচ্ছিল।

ভারতীয় কাগজ ও আলোকচিত্রীরা

অমৃতবাজার পত্রিকা ১৯৪৩ সালের আগস্টে একটি সম্পাদকীয়তে লিখেছিল, সে বছরের বাংলার দুর্ভিক্ষ স্মরণ করে, ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষের অবস্থা “ইতিমধ্যে আমাদের ওপর এসে পড়েছে”। ১৬ আগস্ট তারা প্রথম পাতায় একটি কার্টুন ছাপে, সমুদ্রতটে কঙ্কালসার মানুষ, দূর সমুদ্রে খাদ্যবাহী জাহাজ, ক্যাপশন “মরীচিকা! মরীচিকা!”। ও গ্রাডা লিখেছেন, আগস্টের শেষে পত্রিকা বেশ কিছু নির্মম ছবির একটি সিরিজও ছাপে, আর সিমোনোর অ্যাটলাস নিবন্ধ ৯ সেপ্টেম্বরের তার একটি ছবির উল্লেখ করেছে।

পত্রিকার সম্পাদক তুষারকান্তি ঘোষ এর লেখাগুলো সংকলন করেন The Bengal Tragedy (১৯৪৪) বইয়ে। তাঁর সংকলিত একটি লেখায় পত্রিকা লিখেছিল, কলকাতার প্রতিদিনের দৃশ্যের বিবরণ স্টেটসম্যানের ছবির অনেক আগে থেকেই দৈনিক কাগজে ছিল, কিন্তু নতুন দিল্লি বা লন্ডনে “খুব একটা ছাপ ফেলেনি”। তারা বলেছিল, কর্মকর্তারা যাকে অতিনাটকীয়তা বলেছিলেন তাতে স্টেটসম্যান নেতৃত্ব নিয়েছিল, আর বইয়ের অন্যত্র তারা স্টেটসম্যানকে উদ্ধৃত করেছিল, যে ভাঙনের দায় “শেষ বিচারে অনিবার্যভাবে বর্তায় ব্রিটেনের কর্তৃপক্ষ এবং এখানে তাদের প্রতিনিধিদের ওপর”। বইটি এও নথিভুক্ত করেছে যে ছবি “কলকাতার সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতেই থাকছে”, এবং ছবি ছাপা কাগজগুলোর একটি হিসেবে হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ডের নাম করেছে। অতিনাটকীয়তার অভিযোগ, পত্রিকা লিখেছিল, এসেছিল ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব কনরান-স্মিথের কাছ থেকে, যিনি কাউন্সিল অব স্টেটে বলেছিলেন বাংলার খাদ্য পরিস্থিতিকে অতিনাটকীয় করে তোলা হচ্ছে।

কমিউনিস্ট পার্টির সাপ্তাহিক পিপলস ওয়ার ছাপে অন্য সুপরিচিত সিরিজটি। ও গ্রাডার টীকা অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালের ১৪ নভেম্বরের সংখ্যায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক পি. সি. জোশীর একটি প্রবন্ধ সুনীল জানার তোলা ছবি সহ ছাপা হয়। ডাউন টু আর্থ বলছে, জোশী তরুণ জানাকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ সফর করেছিলেন, তহবিল তুলতে ছবির পোস্টকার্ড বিদেশে পাঠানো হয়, আর সরকার কমিউনিস্টদের ওপর চাপ শিথিল করেছিল কারণ পার্টি যুদ্ধের সমর্থনে আহ্বান জানাচ্ছিল। শিল্পী চিত্তপ্রসাদের পুস্তিকা Hungry Bengal বেরোয় ১৯৪৩ সালে, আর ডক্যুমেন্টা ১৪ বলছে ৫,০০০ কপির একটি বাদে সব বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়।

লন্ডন, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে

সিমোনো ব্রিটিশ সংবাদপত্রে প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের তারিখ দিয়েছেন ১৯৪৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের সানডে পিকটোরিয়াল, একজন ইউনাইটেড প্রেস সংবাদদাতার প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ। পত্রিকাটি তার সঙ্গে স্টেটসম্যান থেকে নেওয়া দুটি ছবি ছাপে। তিনি সেই সংখ্যার তারিখ দিয়েছেন ২৬ সেপ্টেম্বর, আর অনলাইন অ্যাটলাস দিয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর। ক্যাপশনে লেখা ছিল: “এরা গ্রিসে জার্মান ক্রীতদাস নয়। এরা ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নাগরিক।” ১৭ অক্টোবর স্টেটসম্যানের আরও দুটি ছবি ছাপা হয়। ইন্ডিপেনডেন্ট লেবার পার্টির নিউ লিডার এবং গ্রেট ব্রিটেনের ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনসের একটি পুস্তিকা একই ছবি ব্যবহার করে।

লন্ডন কতটা কম জানত, সে নিয়ে স্টেটসম্যানের নিজের মত ছিল। ও গ্রাডার উদ্ধৃত ৫ অক্টোবরের একটি সম্পাদকীয়তে সে বলেছিল, প্রায় এক পক্ষকাল আগে পর্যন্ত যুদ্ধকালীন সেন্সরশিপ “ব্রিটিশ জনসাধারণের কাছ থেকে বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ আছে সেই জ্ঞানই কার্যত আটকে রেখেছিল”।

সেই মাসগুলোতে অ্যামেরির উত্তর বদলে যায়। ১৯৪৩ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি কমন্স সভাকে বলেছিলেন: “দুর্ভিক্ষ নেই, আর তীব্র ঘাটতির কোনও ব্যাপক বিস্তারও নেই।” ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি জানান “শহরে এবং জেলাগুলোতে মর্মান্তিক দৃশ্য”, এবং বাংলা ও অন্য ঘাটতি এলাকা সম্পর্কে বলেন “দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা আছে”। সিমোনো দ্বিতীয় উক্তিটিকে সানডে পিকটোরিয়ালের প্রতিবেদনের কয়েক দিন পরের স্বীকারোক্তি হিসেবে পড়েছেন, এবং জানিয়েছেন সেপ্টেম্বরের শেষে অ্যামেরি দুর্ভিক্ষকে এত গুরুত্ব দিয়ে ছাপার জন্য ব্রিটিশ সংবাদপত্রের সমালোচনা করেছিলেন। ২১ অক্টোবর তিনি কমন্স সভাকে জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কলকাতার হাসপাতালগুলোতে অপুষ্টিতে ভোগা প্রায় ২,০০০ মানুষ মারা গেছেন, আর শহরের মৃত্যুহার স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ। এক সপ্তাহ পরে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে কলকাতায় প্রায় ৮,০০০ মানুষ অপুষ্টির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে মারা গেছেন।

৪ নভেম্বর কমন্স সভা দুর্ভিক্ষ নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাবের বিতর্ক করে। সিমোনো লিখেছেন, নভেম্বরের শুরুর এক শুক্রবার সাতটি ব্রিটিশ ত্রাণ কমিটির প্রতিনিধিরা লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউসে বৈঠক করেন।

ওয়াভেল ও সেনাবাহিনী

ওয়াভেল ভাইসরয় হিসেবে শপথ নেন ১৯৪৩ সালের ২০ অক্টোবর। তাঁর রোজনামচা বলছে ২৯ অক্টোবর তিনি কলকাতায় তিন দিন কাটিয়ে ফেরেন, রাতে রাস্তায় ঘুরে দেখেন নিঃস্বরা কীভাবে ঘুমোয় আর দিনে দেখেন তাদের কীভাবে খাওয়ানো হয়, এবং মেদিনীপুরের কাঁথিতে একটি দিন কাটান। তিনি দুর্দশাকে পেয়েছিলেন “কংগ্রেসি কাগজগুলো যতটা ভয়াবহ বলে দেখাবে ততটা নয়, তবু সরকারি আত্মতুষ্টি অবাক করার মতো কঠিন”। তিনি মন্ত্রীদের বলেন নিঃস্বদের কলকাতা থেকে শিবিরে সরাতে, সরবরাহ নাড়াচাড়ায় সাহায্যের জন্য একজন মেজর-জেনারেল ও তাঁর কর্মীদল নিতে, আর রেশনিং এগিয়ে নিতে। ৭ নভেম্বর, পূর্ব কমান্ডের জেনারেল মেইনের সঙ্গে বৈঠকের পর, তিনি লেখেন, সেনাবাহিনী কলকাতা থেকে জেলাগুলোতে শস্যের প্রবাহ দিনে ৯০০ থেকে ২,০০০ টনে তুলেছে। সিমোনো যোগ করেছেন, অক্টোবরের শেষে সেক্রেটারি অব স্টেট, লর্ড মেয়র ও ভারতের হাই কমিশনারের যৌথ আবেদনে ভাইসরয়ের ডিসট্রেস রিলিফ ফান্ড খোলা হয়।

রোজনামচা স্টেটসম্যানের কথা উল্লেখ করে না, আর এখানে খোলা কোনও সূত্র ওয়াভেলের কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয় না। কমিশন পত্রিকাটিকে জনসেবার কৃতিত্ব দিয়েছিল। ত্রাণকর্মী সিমন্ডস ছবিগুলোকে কলকাতায় খোলা রান্নাঘরের সঙ্গে জুড়েছেন। সিমোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ব্রিটেন ও ভারতের প্রচারাভিযান কর্তৃপক্ষের সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল, যে পদক্ষেপ “গুরুতরভাবে বিলম্বিত এবং পরিধিতে সীমিত” হলেও তাঁর বিচারে আরও মৃত্যু ঠেকিয়েছিল, যদিও তিনি সতর্ক করেছেন দুর্ভিক্ষের ছবি আর জনমানসের মধ্যে যোগসূত্র সরল ছিল না। তাঁর অনলাইন অ্যাটলাস নিবন্ধ বলছে ত্রাণ অভিযান শুরু হয় কেবল ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে।

ওয়াভেল নিজে ২১ নভেম্বর লিখেছিলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন “ভারতের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে ইংল্যান্ডে বাংলার দুর্ভিক্ষ নিয়ে বেশি উদ্বেগ আর সহানুভূতি আছে”। ১৯৪৪ সালের ১২ জানুয়ারি স্টেটসম্যান প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে দোষ দেওয়ার জন্য অ্যামেরিকে ভর্ৎসনা করে। তারা বলে, বিপর্যয় যখন এগিয়ে আসছিল তখন লন্ডন, দিল্লি ও কলকাতার কর্তৃপক্ষ আশ্বাসের মোলায়েম কথা শুনিয়েছে, আর উদ্দেশ্য যদি তথ্য লুকানো হয়, তবে এখন জনগণকে সত্য বলা হচ্ছে ভাবার কোনও কারণ নেই। অংশটি শেষ হয়: “সরকার দুই দিকই রাখতে পারে না।”

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Famine Inquiry Commission, Report on Bengal (Government of India, 1945), Internet Archive
  2. Wavell: The Viceroy's Journal, ed. Penderel Moon (Oxford University Press, 1973), Internet Archive
  3. Hansard, House of Commons, 4 November 1943: Press Censorship
  4. Hansard, House of Commons, 21 January 1943: Press Restrictions
  5. Hansard, House of Commons, 28 January 1943: Food Situation (Relief Measures)
  6. Hansard, House of Commons, 23 September 1943: India (Food Situation)
  7. Hansard, House of Commons, 21 October 1943: Cholera Cases and Famine Deaths
  8. Hansard, House of Commons, 28 October 1943: India (Food Situation)
  9. Hansard, House of Commons, 4 November 1943: India (Food Situation), adjournment debate
  10. Cormac Ó Gráda, 'Sufficiency and Sufficiency and Sufficiency': Revisiting the Bengal Famine of 1943 to 1944, UCD Centre for Economic Research Working Paper WP10/21 (2010)
  11. Joanna Simonow, The Great Bengal Famine in Britain: Metropolitan Campaigning for Food Relief and the End of Empire, 1943 to 1944, Journal of Imperial and Commonwealth History (2019)
  12. Joanna Simonow, Bengal, 1943 to 1944: Famine Relief in Times of War, Online Atlas on the History of Humanitarianism and Human Rights (2017)
  13. Tushar Kanti Ghosh (editor of Amrita Bazar Patrika), The Bengal Tragedy (Hero Publications, Lahore, 1944), Internet Archive
  14. K. Santhanam, The Cry of Distress (The Hindustan Times, New Delhi, 1944), Internet Archive
  15. Down To Earth, A recorder of history (25 June 2012), on Sunil Janah
  16. documenta 14: Chittaprosad
  17. Dawn, From the Past Pages of Dawn: 1943, Editors condemn govt (7 November 2018)
  18. Coda Story, The Unveiling of a Horror

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#bengal famine#the statesman#ian stephens#press censorship#defence of india rules#wavell#sunil janah#1943

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: ব্রিটিশ রাজ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
১৯৪৩ সালের নভেম্বরে বাংলায় ছিল ৬,৬২৫টি দুর্ভিক্ষের রান্নাঘর, আর ভারতীয় ত্রাণ কমিটিগুলো, রামকৃষ্ণ মিশন এবং ৭০,০০০ টনের বেশি খাদ্যশস্য সামলানো একটি সেনাবাহিনী সরকারের পাশে কাজ করছিল
সরকারি রান্নাঘর ছিল কাজের একটা অংশ মাত্র। ১৯৪৩ সালের অক্টোবরে দ্য হিন্দু-র এক সংবাদদাতা সারিশায় রামকৃষ্ণ মিশনের ত্রাণ ঘুরে দেখেছিলেন, আর কমিশনের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছে নভেম্বর থেকে সেনারা কী করেছিল।
অ্যামেরি কমন্সে বলার একদিন পর যে কলকাতায় চালের দাম যুদ্ধের আগের ছয় গুণ, যুদ্ধ মন্ত্রিসভা খাদ্যশস্যের জন্য আরও জাহাজ দিতে অস্বীকার করল
একটা ঘূর্ণিঝড়, একটা যুদ্ধের অর্থনীতি আর একটা দামের পাকচক্র ১৯৪২ আর ১৯৪৩ সালে একসঙ্গে বাংলাকে আঘাত করেছিল। কাগজপত্র দেখায় কে লন্ডনের কাছে খাদ্যশস্য চেয়েছিলেন, কে না বলেছিলেন, আর তর্কের দুই পক্ষ কী প্রমাণ করতে পারে।
অমর্ত্য সেন ছেলেবেলায় ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ দেখেছিলেন, যুক্তি দিয়েছিলেন যে চালের জোগান প্রায় কমেনি, আর মুখোমুখি হয়েছেন এমন সমালোচকদের, যাঁরা ফসলের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মৃতের সংখ্যা ধরেন ১.৫ থেকে ৩ মিলিয়ন
১৯৪৩ সালে শান্তিনিকেতনের স্কুলছাত্র সেন পরে বাংলার চালের সারণির ওপর দুর্ভিক্ষের একটি তত্ত্ব দাঁড় করান। দুই পক্ষের সংখ্যা, কে কার সঙ্গে দ্বিমত করছেন, আর কোন বিষয়গুলো টিকে গেছে, তা এখানে।
← সব লেখা