Skip to content
বোগিবিল সেতু ব্রহ্মপুত্রের ৪.৯৪ কিলোমিটার জুড়ে তিন লেনের সড়কের নিচে দুটি রেললাইন বয়ে নিয়ে যায়, আর ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভারতের দীর্ঘতম রেল-কাম-সড়ক সেতু হিসেবে চালু হয়
অর্থনীতি ও পরিকাঠামো

বোগিবিল সেতু ব্রহ্মপুত্রের ৪.৯৪ কিলোমিটার জুড়ে তিন লেনের সড়কের নিচে দুটি রেললাইন বয়ে নিয়ে যায়, আর ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভারতের দীর্ঘতম রেল-কাম-সড়ক সেতু হিসেবে চালু হয়

ছবি: ujjal borah / Wikimedia Commons, CC0 (ছাঁটা)

বাংলা

বোগিবিল সেতু ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরের ডিব্রুগড়কে উত্তর তীরের ধেমাজি জেলার সঙ্গে জুড়েছে। এর ঝালাই করা ইস্পাতের ট্রাস, সব মিলিয়ে ৪১টি গার্ডার, নদীর পাড়ে তৈরি হয়ে স্তম্ভের ওপর দিয়ে টেনে বের করা হয়েছিল। এতে ডিব্রুগড় থেকে নাহারলাগুনের রেলপথ ৭০৫ কিলোমিটার কমেছে।

· · 7 মিনিটের পাঠ

ব্রহ্মপুত্রের ওপর বোগিবিল সেতু ৪.৯৪ কিলোমিটার লম্বা, নিচের তলায় দুটি ব্রড-গেজ রেললাইন আর ওপরের তলায় তিন লেনের সড়ক। এটি দক্ষিণ তীরের ডিব্রুগড়কে উত্তরের ধেমাজি জেলার সঙ্গে জুড়েছে, আর প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) নথিবদ্ধ করেছে যে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর উত্তর তীরের এক জনসভায় এটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়, যেখানে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেনেও সবুজ সংকেত দেখানো হয়। পিটিআই একে বলেছে ভারতের দীর্ঘতম রেল-কাম-সড়ক সেতু। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) এক মুখপাত্র বলেছেন, এতে ডিব্রুগড় থেকে ইটানগরের সড়কপথ ১৫০ কিলোমিটার কমেছে, আর ২০১৯ সালের নভেম্বরে রেল মন্ত্রক রাজ্যসভাকে জানায় যে গুয়াহাটি হয়ে যাওয়ার তুলনায় ডিব্রুগড় থেকে নাহারলাগুনের রেলযাত্রা ৭০৫ কিলোমিটার ছোট হয়েছে।

দুই তীর, এক নদী পারাপার

সেতুর আগে ডিব্রুগড়ের আশপাশে দুই তীরের মধ্যে যাতায়াত মানে ছিল খেয়া। ২০২৬ সালের এপ্রিলে অরুণাচল অবজার্ভারের উদ্ধৃত ধেমাজির বাসিন্দা হিমাক্ষী দাস বর্ণনা করেছেন এক যাত্রা, যাতে জিপ, নৌকা আর বালুচরের ওপর হাঁটা মিলিয়ে চার ঘণ্টা বা তার বেশি লাগত। অটোকার প্রফেশনালের ২০১৮ সালের ব্যাখ্যাপত্রে বলা আছে, সেতু স্থানীয়দের নদীর খেয়া পরিষেবা থেকে রেহাই দিয়েছে।

ইন্ডিয়া টিভির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এনএফআর মুখপাত্রের মতে বোগিবিল ডিব্রুগড় শহরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার ভাটিতে। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলেছে, অঞ্চলটির জোনাল রেলওয়ে এনএফআরকেই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রেলপথে এটি দক্ষিণ তীরের লামডিং থেকে ডিব্রুগড় অংশকে উত্তর তীরের রাঙ্গিয়া থেকে মুরকংসেলেক অংশের সঙ্গে জোড়ে, ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যাগাজিনের বর্ণনা অনুযায়ী। একই মুখপাত্রের মতে ডিব্রুগড় থেকে রাঙ্গিয়ার দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার কমে, আর উত্তর তীর ধরে ডিব্রুগড় থেকে দিল্লি ও কলকাতার একটি ছোট পথও মেলে।

এর ওপর দিয়ে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন ছিল নিউ তিনসুকিয়া থেকে নাহারলাগুন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নিউজ ভারতী ও সেন্টিনেল অনুযায়ী, আর স্বরাজ্য জানিয়েছে নিয়মিত ইন্টারসিটি চলাচল শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ভারতের সেতু নিয়ে পিআইবির ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পটভূমি-নিবন্ধ বোগিবিলকে, নিউ সরাইঘাট সেতুর সঙ্গে, ব্রহ্মপুত্রের এমন একটি পারাপার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যা সড়ক ও রেল দুটোই বহন করে।

একচল্লিশটি গার্ডারের নিচে বিয়াল্লিশটি কূপ

সেতুর নিচে আছে ৪২টি কূপ-ভিত্তি, প্রতিটি দুটি জোড়া ইংরেজি D অক্ষরের মতো আকারের, ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতে। প্রতিটি কূপের দেয়াল ৩ মিটার পুরু, আর ভিত্তির গভীরতা দেওয়া আছে ৫৮.৬ মিটার, তবে প্রান্তস্তম্ভ ও তীরের কূপ ৪২ মিটার ও ৬৮.৭৫ মিটার। প্রতিটি কূপ থেকে উঠেছে জোড়া ফাঁপা বৃত্তাকার স্তম্ভ, বাইরের দিকে ৫.৩ মিটার চওড়া।

স্তম্ভের ওপর বসানো আছে দ্বিতল ওয়ারেন ট্রাস, ইস্পাতের ত্রিভুজের কাঠামো। ২০১১ সালে ওপরের কাঠামোর ঠিকা দেওয়ার সময় ডোমেইন-বি সড়কতলকে রেললাইনের ১০.৫ মিটার ওপরে বলে বর্ণনা করেছিল। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানিয়েছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে নকশা বদলে গার্ডারের সংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৪১ হয় আর খরচ বাড়ে ৩ বিলিয়ন টাকা (৩০০ কোটি টাকা)। ইন্ডিয়া টিভি আলাদাভাবে জানিয়েছে, প্রথমে পরিকল্পিত ৪.৩১ কিলোমিটার থেকে মোট দৈর্ঘ্য সংশোধন করে ৪.৯৪ কিলোমিটার করা হয়।

নিউজ ভারতী এনএফআরকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ভারতীয় রেলে এই প্রথম একটি গার্ডারে রেললাইনের জন্য ইস্পাতের মেঝে ব্যবস্থা আর সড়কের জন্য কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ডের প্রকল্প-টীকা প্রতিটি ভারী স্প্যানের ওজন প্রায় ১,৭০০ টন বলেছে আর বলেছে স্প্যানপিছু চারটি করে ১৬৪টি গোলাকার বিয়ারিং সেগুলো ধরে আছে। এইচসিসি বলেছে, সেতুটি ম্যাগনিটিউড ৭-এর বেশি ভূমিকম্পের জন্য নকশা করা, আর কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ড স্থানটিকে রেখেছে সিসমিক জোন ৫-এ।

প্রধান ইস্পাত ঠিকাদার এইচসিসি একে বলেছে ভারতের প্রথম পুরোপুরি ঝালাই করা ওয়ারেন ট্রাস গার্ডার ইস্পাত সেতু। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচারের বিবরণ ঝালাইয়ের পাশাপাশি উপকরণের তালিকায় রেখেছে প্রায় ৭,০০,০০০ উচ্চ-শক্তির ঘর্ষণ-আঁট বল্টু। দুটি বক্তব্যই সূত্রগুলোর নিজস্ব।

পাড়ে ঝালাই, নদী পেরিয়ে টেনে নেওয়া

একটি যৌথ উদ্যোগ ইস্পাতের ওপরের কাঠামো বানিয়েছে: হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (এইচসিসি, ৫১ শতাংশ), জার্মান সংস্থা ডিএসডি ব্রুকেনবাউ (২০ শতাংশ) আর ভিএনআর ইনফ্রাস্ট্রাকচার্স (২৯ শতাংশ), ২০১১ সালের নভেম্বরে এনএফআরের ৯৮৭ কোটি টাকা (৯.৮৭ বিলিয়ন টাকা) মূল্যের কাজের আদেশে। ওই আদেশ শুধু ওপরের কাঠামোর জন্য। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও এনই নাও (দ্য হিন্দুর সারসংক্ষেপে) কূপ-ভিত্তি ও নিচের কাঠামোর কৃতিত্ব দিয়েছে গ্যামন ইন্ডিয়াকে, যার কাজের আদেশ ২০০৮ সালের এপ্রিলে, আর জরিপ, মাটি পরীক্ষা ও নকশার কৃতিত্ব দিয়েছে রাইটসকে।

এইচসিসি নদীর বাঁ তীরে তৈরির, জোড়া লাগানোর আর ঠেলে বসানোর ইয়ার্ড গড়েছিল। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ডের প্রকল্প-টীকা ক্রমটি বর্ণনা করেছে। পাত যন্ত্রে কাটা হয়, গ্যাস মেটাল আর্ক ওয়েল্ডিংয়ে ঝালাই হয়, আর চুম্বকীয় কণা, রঙের অনুপ্রবেশ ও অতিশব্দ পরীক্ষায় যাচাই হয়। তৈরি টুকরোগুলো জুড়ে ট্রাস করা হয়, প্রথম ট্রাসের মাথায় একটি ইস্পাতের নাক লাগানো হয়, আর হাইড্রলিক ও স্ট্র্যান্ড জ্যাক দিয়ে ট্রাসগুলো স্তম্ভের ওপর দিয়ে টেনে বের করা হয়। একটি ১,০০০ টনের জ্যাক ছিল তাদের মধ্যে। ওপরের কাঠামো টানা হয়েছিল চার ধাপে, প্রতি ধাপে প্রায় দশটি স্প্যান। এইচসিসির প্রকৌশলীরা ভাসমান ক্রেনের বদলে এটি বেছেছিলেন, আর টীকা বলছে এতে কাজ নদীর বাইরে থেকেছে এবং ৪.৮ কিলোমিটার চওড়া নদীর দুই পাড়েই বড় স্থাপনা গড়তে হয়নি।

এইচসিসি বলেছে এটি বিশ্বের দীর্ঘতম ধাপে ধাপে ঠেলে বসানো ইস্পাত সেতু, এই দাবি সংস্থাটির ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের বিবৃতিতে এবং পিটিআই তা বহন করেছে। সংস্থাটি আরও বলেছে ইস্পাত তৈরি হয়েছে ইউরো ১০৯০ মানে, ইস্পাত কাঠামোর ইউরোপীয় বিধি, আর ঝালাইকর্মীরা ইউরোপীয় বিধিতে যোগ্যতাপ্রাপ্ত। এইচসিসি প্রকল্প-পরিচালক আর. ভি. আর. কিশোর কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, কাজে ছিলেন প্রায় ৩৫০ যোগ্য ঝালাইকর্মী ও ১২০ প্রকৌশলী। এনই নাওয়ের সারসংক্ষেপে দ্য হিন্দু ঝালাইকর্মীর সংখ্যা দিয়েছে ৩০০।

ইস্পাত এসেছিল তিন কারখানা থেকে

এইচসিসি বলেছে ৮০,০০০ টন ইস্পাতের পাত রেলে ও সড়কে স্থানে পৌঁছেছিল। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ড প্রধান পাত-সরবরাহকারী হিসেবে নাম করেছে জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার, এসার ও এসএআইএল, আর বলেছে বোঝার প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিল অতিরিক্ত মাপের মালপত্র, যার জন্য হাজিরা ও অঙ্গুল থেকে বিশেষ পরিবহন লেগেছিল। এসএআইএলের নিজের বিবৃতি বলছে, তারা প্রায় ৩৫,৪০০ টন টিএমটি রিবার, পাত ও কাঠামোগত ইস্পাত সরবরাহ করেছে, যা সেতুর জন্য সরবরাহ করা ইস্পাতের অর্ধেকের সামান্য বেশি। উদ্বোধনের দিন টাটা স্টিল আইএএনএসকে বলেছে, তারা ১৫,০০০ টন রিবার দিয়েছে, ব্যবহৃত রিবারের ৭৫ শতাংশ। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতে প্রায় ত্রিশ লক্ষ বস্তা সিমেন্ট লেগেছে।

এইচসিসি বলেছে, ক্ষয় ধীর করতে ওপরের কাঠামোয় তামাযুক্ত ইস্পাতের পাত ব্যবহার করা হয়েছে, আর অঞ্চলটির আর্দ্রতার জন্য বাছা হয়েছে প্রলেপ ব্যবস্থা। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ড ও ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার আনুমানিক আয়ু দিয়েছে প্রায় ১২০ বছর, আর অটোকার প্রফেশনাল একই সংখ্যা আরোপ করেছে এসএআইএলের ওপর। এটি নির্মাতা ও সরবরাহকারীদের অনুমান, পরীক্ষার ফল নয়।

পাঁচ মাসের কাজের মরসুম

এনএফআরের প্রধান প্রকৌশলী মোহিন্দর সিং নিউজ ভারতীকে বলেছেন, আগেভাগে আসা বন্যায় কাজের মরসুম কমে প্রায় পাঁচ মাসে, নভেম্বর থেকে মার্চ, আর ৬০০ থেকে ৯০০ মিটার চওড়া নদীর খাঁড়ি পেরিয়ে কংক্রিট নিয়ে যাওয়াই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলেছে, ভাসমান বয়ার ওপর পাতা একটি পাইপলাইন দিয়ে একাধিক পাম্প সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে কংক্রিট পাম্প করা হয়েছিল।

দক্ষ শ্রমিকের অভাব ছিল অন্য বাধা। কিশোর কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, দূরের একটি এলাকায় ঝালাইকর্মী ও প্রকৌশলীদের থেকে যাওয়ার উৎসাহ ধরে রাখতে হয়েছিল। এনএফআর ২০১৪ সালের এপ্রিলে তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য পরিদর্শন সংস্থা এসজিএসকে নিয়োগ করে, আর ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলেছে এসজিএসের ২১ জন বিশেষজ্ঞের একটি দল সাড়ে চার বছর স্থানে থেকে ঝালাই ও অন্য কাজ পরীক্ষা করেছে।

আসাম চুক্তি থেকে ২০১৮ সালের পরীক্ষামূলক চালনা

নিউজ ভারতী ও কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ল্ড দুটিই প্রকল্পটিকে ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছে। পিটিআই জানিয়েছে এটি অনুমোদিত হয় ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালে, আর প্রথম দশকের বাকি অংশ নিয়ে সূত্রগুলো প্রায় কিছুতেই একমত নয়।

ইন্ডিয়া টিভি ও অরুণাচল অবজার্ভার বলেছে ভিত্তিপ্রস্তর বসানো হয় ১৯৯৭ সালের ২২ জানুয়ারি, আর কাজ শুরু হয় ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার বরং বলেছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি অনুমোদন করে আর ভিত্তিপ্রস্তরের তারিখ দিয়েছে ২০০২ সালের ২২ এপ্রিল। আকাশবাণী, ইন্ডিয়া টিভি ও নিউজ ভারতী তিনটিই কাজ শুরুর তারিখ দিয়েছে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল। সূত্রগুলো একমত নয় কোন ঘটনাটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে গণ্য হবে, তাই এই লেখায় প্রতিটি তারিখ তার সূত্রসহ দেওয়া হয়েছে।

২০০৭ সালে কেন্দ্র বোগিবিলকে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করে, যা ইন্ডিয়া টিভি ও অরুণাচল অবজার্ভারের মতে অর্থের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। ভিত্তির ঠিকা যায় গ্যামন ইন্ডিয়ার কাছে ২০০৮ সালের এপ্রিলে, আর ওপরের কাঠামোর ঠিকা আসে ২০১১ সালের নভেম্বরে, তখন ৪৮ মাস সময় ধরা হয়েছিল, এইচসিসির সভাপতির কথা ডোমেইন-বি যেমন উদ্ধৃত করেছে। আকাশবাণী জানিয়েছে কাজ শুরুর প্রায় ১৩ বছর পর, ২০১৫ সালে, প্রকল্পটি ৭২ শতাংশ বাস্তব অগ্রগতিতে ছিল। ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার বলেছে ২০১৮ সালের অক্টোবরে একটি পরীক্ষামূলক চালনা হয়, আর পিআইবির নথি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর উত্তর তীরের কারেং চাপরিতে এক জনসভায় সেতুটি উৎসর্গ করেন।

প্রতিটি সূত্র অনুযায়ী খরচ কত

ইন্ডিয়া টিভি জানিয়েছে ৩,২৩০.০২ কোটি টাকার একটি অনুমোদিত প্রাক্কলন, তখন সেতুটি পরিকল্পিত ছিল ৪.৩১ কিলোমিটার। চূড়ান্ত অঙ্কগুলো সূত্রভেদে আলাদা:

  • অরুণাচল অবজার্ভারের ২০২৬ সালের এপ্রিলের কলাম আর দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন (এনই নাওয়ের সারসংক্ষেপে) দিয়েছে ৪,৮৫৭ কোটি টাকা।
  • ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার দিয়েছে ৫,৬২০ কোটি টাকা (৫৬.২ বিলিয়ন টাকা)।
  • অটোকার প্রফেশনাল বলেছে ৫,৯০০ কোটি টাকা, আর পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে ছিল ৫৯ বিলিয়ন টাকা।
  • আইএএনএস বহনকারী বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দিয়েছে ৫,৯২০ কোটি টাকা।
  • ইন্ডিয়া টিভি জানিয়েছে ৫,৯৬০ কোটি টাকা।
  • নিউজ ভারতী বলেছে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা।

অরুণাচল অবজার্ভারের সেই কলামেই পরের এক অনুচ্ছেদে ৫,৯০০ কোটি টাকাও আছে, তাই একটি সূত্রই দুটি অঙ্ক বহন করতে পারে। খরচবৃদ্ধিও বলা হয়েছে ভিন্নভাবে। ইন্ডিয়া টিভি বলেছে ৮৫ শতাংশ, ইন্ডিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ৭৪ শতাংশ, আর আকাশবাণী বলেছে খরচ বেড়েছে পাঁচ গুণ। তাই জানানো মোট অঙ্ক ৪,৮৫৭ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত, আর অঙ্কগুলো আলাদা আলাদা তারিখ ও কাজের পরিধি প্রতিফলিত করে।

ব্রহ্মপুত্রের সেতুগুলোর মধ্যে

আসামে ৯.১৫ কিলোমিটার ধোলা-সাদিয়া সেতু উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালের ২৬ মে, আর পিআইবি একে বর্ণনা করেছিল ভারতের দীর্ঘতম সেতু বলে। পিআইবির ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের বিবৃতি একে বলেছে দেশের দীর্ঘতম সড়ক সেতু, আর বোগিবিল রেল-ও-সড়কের সেতু। অটোকার প্রফেশনালের ব্যাখ্যাপত্র বলেছে, বোগিবিল বিহারে গঙ্গার ওপর দিঘা-সোনপুর সেতুকে, যার দৈর্ঘ্য ওই লেখায় ৪.৫ কিলোমিটার বলা হয়েছে, ছাড়িয়ে ভারতের দীর্ঘতম রেল-কাম-সড়ক সেতু হয়েছে। আকাশবাণী ও অটোকার প্রফেশনাল একে এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম রেল-কাম-সড়ক সেতুও বলেছে, আর কেউই দীর্ঘতমটির নাম করেনি।

tuput আরও আলোচনা করেছে পাম্বান সেতুর উল্লম্ব-উত্তোলন স্প্যান, চেনাব রেল খিলান আর হাওড়া সেতুর ক্যান্টিলিভার নিয়ে। সেতুটি যে রাজ্যগুলোকে জুড়েছে, তাদের নিজস্ব পরিচিতি আছে: আসাম আর অরুণাচল প্রদেশ।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. PIB: PM dedicates Bogibeel bridge to the nation; flags off first passenger train (25 December 2018)
  2. PIB, Ministry of Railways: Linking Capitals of All North Eastern States by Rail Network (Rajya Sabha reply, 22 November 2019)
  3. PIB: PM inaugurates India's longest bridge in Assam, addresses public meeting at Dhola (26 May 2017)
  4. PIB Backgrounder: Bridges of India, Architecture Against the Odds (20 December 2025)
  5. SAIL: SAIL Steel for Bogibeel Bridge
  6. Akashvani News: PRAGATI helps commissioning of Bogibeel Rail cum Road Bridge project (6 January 2026)
  7. HCC: Railways, major projects (lists Bogibeel Rail-cum-Road Bridge, Assam, 2018)
  8. Indian Infrastructure: Bridging the Brahmaputra (1 January 2019)
  9. Construction World: India's Longest Rail-Road Bridge (HCC project note)
  10. domain-b: HCC JV to build longest bridge over Brahmaputra for Indian Railways (2011)
  11. Business Standard (PTI): Bogibeel bridge world's longest incrementally launched steel bridge, HCC (25 December 2018)
  12. Business Standard (IANS): Tata Steel takes pride in Bogibeel bridge (25 December 2018)
  13. India TV News: PM Modi inaugurates India's longest railroad bridge Bogibeel in Assam (25 December 2018)
  14. News Bharati: PM Modi inaugurates strategically crucial India's longest rail cum road Bogibeel bridge (25 December 2018)
  15. Gulf News (PTI): Modi inaugurates India's longest bridge in Assam (25 December 2018)
  16. Autocar Professional: 3 key facts of India's longest rail-road bridge (26 December 2018)
  17. NE Now: 120 engineers were mobilised to construct Bogibeel Bridge in Assam (24 December 2018, summarising The Hindu)
  18. Arunachal Observer: Bridge over Brahmaputra connects Assam and Arunachal (16 April 2026)
  19. Swarajya: Indian Railways announces two new intercity expresses linking Arunachal and Assam via the Bogibeel bridge (25 December 2018)

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#bogibeel bridge#brahmaputra#assam#arunachal pradesh#northeast frontier railway#rail-cum-road bridge#dibrugarh#civil engineering

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: অর্থনীতি ও পরিকাঠামো
গিনেস মাজুলির আয়তন লিখেছে ৮৮০ বর্গকিলোমিটার, অথচ অসম সরকারের নিজের পাতায় এই একই নদীদ্বীপের জন্য ৪২১, ৪৭৫ আর ৪৮৩
একটাই দ্বীপের চার রকম আয়তন, নদী বেশি উঁচু বা বেশি নিচু হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেরি, আর ঠিকাদার বদলে যাওয়া একটা সেতু। মাজুলি নিয়ে অসমের পাতাগুলো কী বলে, প্রতিটি পড়ার তারিখসহ।
মানস বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ২০১১ সালের ২১ জুন ইউনেস্কোর বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে, আর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ২০২৬ সালের জুলাইয়ের সিদ্ধান্তে এর মূল প্রজাতিগুলোর স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং চাষের নতুন কোনো দখল না থাকার কথা আছে
কাজিরাঙা ও পোবিতোরা থেকে আনা গন্ডার, সড়কপথে সরানো বারাসিঙ্গা, একটি অর্থ তহবিল-সংস্থা, আর ২০২৬ সালের একটি কমিটি-সিদ্ধান্ত যা পরের দুটি সময়সীমা ঠিক করে, ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৭ সালের ১ ডিসেম্বর।
হাওড়া ব্রিজ খুলেছিল ১৯৪৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, ১,৫০০ ফুটের মূল স্প্যান নিয়ে, আর ২৬,৫০০ টন ইস্পাতের ২৩,৫০০ টন এসেছিল টাটা স্টিল থেকে এবং কলকাতায় তৈরি হয়েছিল
প্রথমে পার হল একটি ট্রাম, রাতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝখানে। হুগলির ওপরের রিভেট-জোড়া এই কাঠামো তারপর থেকে দিনে ১,০০,০০০-এরও বেশি যান বয়েছে, আর যাঁরা বানিয়েছিলেন তাঁরা রেখে গেছেন ইঞ্চির ভগ্নাংশে মাপা নথি।
← সব লেখা